reverse_swing
April 9, 2006, 06:17 PM
http://www.ajkerkagoj.com/2006/April10/images/03.jpg
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা দিন!
মহিউদ্দিন পলাশ:
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য আকাশ আর পাতালে। যার সঠিক ব্যবধান নিরূপণ করা এক কথায় দুঃসাধ্য। সেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লাঞ্চের সময় বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ১৫০ বলে (২৫ ওভারে) ১৪৪ রান। তাও একদিনের ম্যাচে নয়, টেস্ট ক্রিকেটে। এমন দৃশ্য শুধুই দু’চোখ বুঝে কল্পনাই করা যায়। কল্পনারও একটা সীমা থাকে। কিন্তু এমন কল্পনা করা দুঃসাহসই বটে! কারণ শক্তির বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ার সামনে বাংলাদেশ নিতান্তই দুগ্ধ শিশু। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সমশক্তি বলে যে সব দেশকে মনে করা হয়ে থাকে তারাও কখনও এমন কল্পনা করেননি। কিন্তু বাংলাদেশ সব হিসেব-নিকেশকে পাল্টে দিয়ে তাই করেছে। এটা এখন ধ্রুব সত্য। সত্য এখানেই থেমে থাকেনি। দিন শেষে বাংলাদেশ তাদের সংগ্রহশালা সমৃদ্ধ করেছে ৫ উইকেটে ৩৫৫ রান করে। যা ছিল বাংলাদেশের প্রথম দিনে যে কোনও দেশের বিপক্ষেও সেরা সংগ্রহ।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশ কাল কাটিয়েছে তাদের সেরা দিন। পুনশ্চ উল্লেখ তাও আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে! সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ খুবই ভালো খেলছিল। তা অবশ্য একদিনের ম্যাচে। কিন্তু সেই সাফল্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে তারা এভাবে গর্জে উঠবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তা হয়ত বাংলাদেশের হয়ে ভুলেও কেউ ভাবেননি। যেমনটি ভাবেননি অধিনায়ক হাবিবুল বাশার নিজেও। প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩৫৫ রান তা কি ভাববার বিষয়? ক্রিকেট বুঝেন এমন কোনও শিশুও তা ভাববার সাহস করবে না। তবে সব কিছুই এখন হিসেবের ঊর্ধ্বে।
ম্যাচের পরিধি এখনও অনেক বিস্তৃত। বাংলাদেশ ভালো একটি দিন পার করেছে মাত্র। খেলায় নিজেদের অবস্থানকে এখনও মজবুত করতে পারেনি তারা। তবে তা নির্মাণের চেষ্টা করছে। সেখানে তারা কতটুকু সফল হবে তা অনেক হিসেব-নিকেশের বাকি। কারণ দলটি অস্ট্রেলিয়া বলে তারা যে কোনও মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াবার ক্ষমতা রাখে। লন্ডভন্ড করে দিতে পারে প্রতিপক্ষকে। তাই বাংলাদেশকে লড়তে হবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। অধিনায়ক হাবিবুল বাশার মনে করেন তা করার জন্য তাদের প্রয়োজন অন্তত আজ চা বিরতি পর্যন্ত ব্যাট করা।
ফতুল্লা স্টেডিয়াম বাংলাদেশের জন্য সাফল্যোর ডালি সাজিয়ে বসেছে। কেনিয়ার বিপক্ষে একদিনের দু’টো ম্যাচে তারা যে শুধু জয়ী হয়েছে তা কিন্তু নয়। সেখানে রানের মাঝে ফিরেছেন অফ ফর্মের রাজিন সালেহ। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় প্রথম দিনে উপহার দিয়েছে একগাদা উপহার।
শাহরিয়ার নাফিস যেমন পেয়েছেন তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। তেমনি অধিনায়ক হাবিবুল বাশরাকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গড়েছেন যে কোনও জুটিতে রেকর্ড ১৮৭ রান। আগের রেকর্ড ছিল এ দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬৭ রানের। সেখানে ছিলেন হাবিবুল আর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন জাভেদ ওমর। তবে এসবকে ছাড়িয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার মত দলের বিপক্ষে একদিনেই ৩৫৫ রান সংগ্রহ করা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এর আগের হোম সিরিজে চট্টগ্রামে ঌ উইকেটে করেছিল ৩১৫ রান। তবে তার আগের রেকর্ডও ছিল বাংলাদেশের এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই তাদের মাটিতে। ২০০৩ সালে কেয়ানর্সে তারা ৮ উইকেটে ২৮ঌ রান করেছিল।
কাল বাংলাদেশের ইনিংসে বিশেষভাবে উল্লেখ্য ছিল লাঞ্চের আগে মাত্র ১ উইকেটে ১৫০ বলে ১৪৪ রান করা। যা শুধু বাংলাদেশের ইনিংসকে পেট মোটা করতে ইন্ধন যোগায়নি। বুকের স্পর্ধাও বাড়িয়ে দিয়েছিল অনেক। যার ওপর দাঁড়িয়ে শাহরিয়ার নাফিস করেন ১৩৮ রান। মি. ফিফটি খ্যাত হাবিবুল বাশার ব্যাট থেকে আসে ৭৬ রান। আরেকটি ভালো এবং বড় ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিয়ে হাবিবুল তিনি তার মত করেই আউট হয়ে যাননি বলে বলা উচিত উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন চা বিরতির ২ বল আগে ম্যাকগিলের বলে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও পুল করতে গিয়ে মিডঅনে ব্রেট লির হাতে ক্যাচ দিয়ে। আশরাফুল এসেই ছটফট শুরু করেন। হয়ত তার মনের কোণে ভিড় করেছিল, দলে আমি সব থেকে বেশি স্ট্রোক খেলে থাকি। তারা পারলে আমি পারব না কেন? ব্যাস, এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে তিনি শুরু করেন মারমুখী ইনিংস। আউট হওয়ার আগে মোটামুটি সফলও হয়েছেন ২৮ বলে ২ঌ রান করে। গিলেস্পিকে কাট করতে গিয়ে পরাস্ত হলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান। তবে একটু দেখে খেললে তা দলেরই ভালো হতো। টেস্ট খেলার অযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার পর আফতাব ছিলেন অনেক সংযমী। আশরাফুলের সমান রান করতে বলের ব্যবহার ছিল অনেক বেশি ৫৪টি। তবে আউট হয়েছেন সেই স্ট্রোক খেলতে গিয়ে। দিনের শেষ ভাগে টিকে থাকার পরিবর্তে ম্যাকগিলকে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে হেইডেনের হাতে ধরা পড়েন।
ইদানিং প্রায়ই মুদ্রা ভাগ্য হাবিবুলের দিকে হাসছে। কালও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যা তাকে দিনান্তে উপহার দিয়েছে সুখের অভয়ারণ্য। সেই সঙ্গে হাসিয়েছে দেশবাসীকে। সে হাসিকে আজ আবার টেনে নিয়ে যেতে নামবেন রাজিন সালেহ ৩৫ এবং খালেদ মাসুদ ২ রান নিয়ে। পরে এসে একে একে যোগ দেবেন রফিক, মাশরাফি, শাহদাত ও এনামুল জুনিয়র।
উৎস:আজকের কাগজ (http://www.ajkerkagoj.com/2006/April10/1st_page.html#4)
Edited on, April 9, 2006, 11:18 PM GMT, by reverse_swing.
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা দিন!
মহিউদ্দিন পলাশ:
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য আকাশ আর পাতালে। যার সঠিক ব্যবধান নিরূপণ করা এক কথায় দুঃসাধ্য। সেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লাঞ্চের সময় বাংলাদেশের স্কোর ১ উইকেটে ১৫০ বলে (২৫ ওভারে) ১৪৪ রান। তাও একদিনের ম্যাচে নয়, টেস্ট ক্রিকেটে। এমন দৃশ্য শুধুই দু’চোখ বুঝে কল্পনাই করা যায়। কল্পনারও একটা সীমা থাকে। কিন্তু এমন কল্পনা করা দুঃসাহসই বটে! কারণ শক্তির বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ার সামনে বাংলাদেশ নিতান্তই দুগ্ধ শিশু। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সমশক্তি বলে যে সব দেশকে মনে করা হয়ে থাকে তারাও কখনও এমন কল্পনা করেননি। কিন্তু বাংলাদেশ সব হিসেব-নিকেশকে পাল্টে দিয়ে তাই করেছে। এটা এখন ধ্রুব সত্য। সত্য এখানেই থেমে থাকেনি। দিন শেষে বাংলাদেশ তাদের সংগ্রহশালা সমৃদ্ধ করেছে ৫ উইকেটে ৩৫৫ রান করে। যা ছিল বাংলাদেশের প্রথম দিনে যে কোনও দেশের বিপক্ষেও সেরা সংগ্রহ।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশ কাল কাটিয়েছে তাদের সেরা দিন। পুনশ্চ উল্লেখ তাও আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে! সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ খুবই ভালো খেলছিল। তা অবশ্য একদিনের ম্যাচে। কিন্তু সেই সাফল্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে তারা এভাবে গর্জে উঠবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তা হয়ত বাংলাদেশের হয়ে ভুলেও কেউ ভাবেননি। যেমনটি ভাবেননি অধিনায়ক হাবিবুল বাশার নিজেও। প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩৫৫ রান তা কি ভাববার বিষয়? ক্রিকেট বুঝেন এমন কোনও শিশুও তা ভাববার সাহস করবে না। তবে সব কিছুই এখন হিসেবের ঊর্ধ্বে।
ম্যাচের পরিধি এখনও অনেক বিস্তৃত। বাংলাদেশ ভালো একটি দিন পার করেছে মাত্র। খেলায় নিজেদের অবস্থানকে এখনও মজবুত করতে পারেনি তারা। তবে তা নির্মাণের চেষ্টা করছে। সেখানে তারা কতটুকু সফল হবে তা অনেক হিসেব-নিকেশের বাকি। কারণ দলটি অস্ট্রেলিয়া বলে তারা যে কোনও মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াবার ক্ষমতা রাখে। লন্ডভন্ড করে দিতে পারে প্রতিপক্ষকে। তাই বাংলাদেশকে লড়তে হবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। অধিনায়ক হাবিবুল বাশার মনে করেন তা করার জন্য তাদের প্রয়োজন অন্তত আজ চা বিরতি পর্যন্ত ব্যাট করা।
ফতুল্লা স্টেডিয়াম বাংলাদেশের জন্য সাফল্যোর ডালি সাজিয়ে বসেছে। কেনিয়ার বিপক্ষে একদিনের দু’টো ম্যাচে তারা যে শুধু জয়ী হয়েছে তা কিন্তু নয়। সেখানে রানের মাঝে ফিরেছেন অফ ফর্মের রাজিন সালেহ। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় প্রথম দিনে উপহার দিয়েছে একগাদা উপহার।
শাহরিয়ার নাফিস যেমন পেয়েছেন তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। তেমনি অধিনায়ক হাবিবুল বাশরাকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গড়েছেন যে কোনও জুটিতে রেকর্ড ১৮৭ রান। আগের রেকর্ড ছিল এ দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬৭ রানের। সেখানে ছিলেন হাবিবুল আর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন জাভেদ ওমর। তবে এসবকে ছাড়িয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার মত দলের বিপক্ষে একদিনেই ৩৫৫ রান সংগ্রহ করা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এর আগের হোম সিরিজে চট্টগ্রামে ঌ উইকেটে করেছিল ৩১৫ রান। তবে তার আগের রেকর্ডও ছিল বাংলাদেশের এ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই তাদের মাটিতে। ২০০৩ সালে কেয়ানর্সে তারা ৮ উইকেটে ২৮ঌ রান করেছিল।
কাল বাংলাদেশের ইনিংসে বিশেষভাবে উল্লেখ্য ছিল লাঞ্চের আগে মাত্র ১ উইকেটে ১৫০ বলে ১৪৪ রান করা। যা শুধু বাংলাদেশের ইনিংসকে পেট মোটা করতে ইন্ধন যোগায়নি। বুকের স্পর্ধাও বাড়িয়ে দিয়েছিল অনেক। যার ওপর দাঁড়িয়ে শাহরিয়ার নাফিস করেন ১৩৮ রান। মি. ফিফটি খ্যাত হাবিবুল বাশার ব্যাট থেকে আসে ৭৬ রান। আরেকটি ভালো এবং বড় ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিয়ে হাবিবুল তিনি তার মত করেই আউট হয়ে যাননি বলে বলা উচিত উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন চা বিরতির ২ বল আগে ম্যাকগিলের বলে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও পুল করতে গিয়ে মিডঅনে ব্রেট লির হাতে ক্যাচ দিয়ে। আশরাফুল এসেই ছটফট শুরু করেন। হয়ত তার মনের কোণে ভিড় করেছিল, দলে আমি সব থেকে বেশি স্ট্রোক খেলে থাকি। তারা পারলে আমি পারব না কেন? ব্যাস, এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে তিনি শুরু করেন মারমুখী ইনিংস। আউট হওয়ার আগে মোটামুটি সফলও হয়েছেন ২৮ বলে ২ঌ রান করে। গিলেস্পিকে কাট করতে গিয়ে পরাস্ত হলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান। তবে একটু দেখে খেললে তা দলেরই ভালো হতো। টেস্ট খেলার অযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার পর আফতাব ছিলেন অনেক সংযমী। আশরাফুলের সমান রান করতে বলের ব্যবহার ছিল অনেক বেশি ৫৪টি। তবে আউট হয়েছেন সেই স্ট্রোক খেলতে গিয়ে। দিনের শেষ ভাগে টিকে থাকার পরিবর্তে ম্যাকগিলকে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে হেইডেনের হাতে ধরা পড়েন।
ইদানিং প্রায়ই মুদ্রা ভাগ্য হাবিবুলের দিকে হাসছে। কালও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যা তাকে দিনান্তে উপহার দিয়েছে সুখের অভয়ারণ্য। সেই সঙ্গে হাসিয়েছে দেশবাসীকে। সে হাসিকে আজ আবার টেনে নিয়ে যেতে নামবেন রাজিন সালেহ ৩৫ এবং খালেদ মাসুদ ২ রান নিয়ে। পরে এসে একে একে যোগ দেবেন রফিক, মাশরাফি, শাহদাত ও এনামুল জুনিয়র।
উৎস:আজকের কাগজ (http://www.ajkerkagoj.com/2006/April10/1st_page.html#4)
Edited on, April 9, 2006, 11:18 PM GMT, by reverse_swing.