babubangla
May 30, 2007, 11:08 AM
[বাংলা]গত ২৮শে মে ২০০৭ সোমবার ভারতীয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকাকে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন মাশরাফি মোর্তাজা। পরদিন ২৯শে মের সংখ্যাতে প্রকাশিত এই সাক্ষাতকারে মাশরাফি বলেছেন তার জীবনে বন্ধুদের প্রভাব, ব্যাটিংয়ে উন্নতির বিষয়ে তাঁর ভাবনা ও ভারতের সাথে সদ্যসমাপ্ত সিরিজ সম্পর্কে নানা কথা। আরো জানিয়েছেন, ঘুমিয়ে ছিলেন বলে আশরাফুলের ৪১-বলে ৬৭-রানের দুর্দান্ত ঝড়ো ইনিংসটি তার দেখা হয়ে উঠেনি। সাক্ষাতকার এর সাথে ছাপা তাঁর ছবিটির ক্যাপশন ছিলো “মাশরাফি মোর্তাজাঃ বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন সম্পদ”।[/বাংলা]
[বাংলা]আনন্দবাজার পত্রিকার সাথে সাক্ষাতকারে মাশরাফি [/বাংলা]
http://www.anandabazar.com/archive/1070529/29khela5.jpg
[বাংলা]মাশরাফিঃ বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন সম্পদ[/বাংলা]
[বাংলা]
দেশের লোকের বাড়তি আকুলতা ছেড়ে দিচ্ছি। ভারতীয় সাংবাদিকেরাও কেউ কেউ মাশরাফি মোর্তাজার জার্সিতে ওর সই করিয়ে দেশে ফিরেছেন। এমনই ক্রেজ এখন তিনি। গৌতম ভট্টাচার্য সোমবার তার সাথে কথা বললেন একান্তে। সামান্য ভুল হল, একান্তে নয়। মাশরাফির এক বন্ধু ছিলেন পাশে।
আনন্দবাজারঃ বন্ধু ব্যাপারটাকে নাকি আপনি দারুন গুরুত্ব দেন?
মাশরাফিঃ ঠিক শুনেছেন। বন্ধুরা আমার জীবনে একটা বিশাল ব্যাপার। আমি যখন চোট নিয়ে দু’বছর বাড়িতে বসা, আমার পরিবারও আমার উপর আশা হারিয়ে ফেলেছিল। আব্বাকে তখন রাস্তায় কত লোকে কত কিছু বলতো। কিন্তু বন্ধুরা আমায় ছাড়েনি। অসুস্থ আমাকে তুলে ওরা গোসল করাতে পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে।
আনন্দবাজারঃ আপনার নাকি ত্রিশজন বন্ধু?
মাশরাফিঃ ভুল শুনেছেন। ত্রিশের আরো বেশি।
আনন্দবাজারঃ দুটো ইনিংসে এতো ভালো ব্যাট করলেন। এবার কপিল দেবের মতো হতে ইচ্ছে করছে?
মাশরাফিঃ না, এখন ব্যাটিংয়ে মন দেওয়ার সময় নয়। আমার কনসেন্ট্রেশনটা বোলিংয়ে রাখতে চাই। বলটা আরো ভাল করতে হবে।
আনন্দবাজারঃ কেন? প্রিয় বন্ধু ইরফান পাঠানের দশা দেখে ভয়?
মাশরাফিঃ ইরফানের জন্য নয়। এমনিতেই বোলিংয়ে আমার অনেক কিছু শেখার বাকি রয়েছে।
আনন্দবাজারঃ আপনি ফাস্ট বোলার। কিন্তু ব্যাটসম্যান পরাস্ত হলেও তার দিকে রক্তগরম চাহনি দেন না তো?
মাশরাফিঃ একটা সময় মনে হতো ফাস্ট বোলার হতে গেলে ওগুলো করতে হয়। কড়া চোখে তাকাতে হয় ব্যাটসম্যানের দিকে। তারপর যখন পোলক, ম্যাকগ্রা বা ওয়ালশকে ভাল করে দেখলাম, তখন বুঝতে শিখেছি ভাল বল করাটাই যথেস্ট। ওটা ঠিক থাকলে আর চাহনির দরকার নেই।
আনন্দবাজারঃ বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনুর থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের বয়, সবাই আপনার ফ্যান। কী করে ধরে রাখবেন এই জনপ্রিয়তা?
মাশরাফিঃ ভাল অবস্থাটাকে শুধু উপভোগ নয়, ধরে রাখার জন্য খাটতেও হবে। আমি তো আর ব্রায়ান লারা নই।
আনন্দবাজারঃ কেন, লারা খাটেননি বুঝি?
মাশরাফিঃ লারা খাটলে কুড়ি হাজার রান করতে পারতো। সচিনের মতো শৃঙ্খলা কোথায় ছিল ওর?
আনন্দবাজারঃ সচিন যেভাবে স্লো ব্যাটিং করলেন তা নিয়ে সমালোচনা হচ্চে খুব।
মাশরাফিঃ যারা সচিনকে নিয়ে কথা বলে তাদের আমি একটু চুপ থাকতে অনুরোধ করছি। সচিন সচিন-ই। ঠিক-ই খেলেছে আমাদের সঙ্গে ইনিংসটা।
আনন্দবাজারঃ কেন বলছেন একথা?
মাশরাফিঃ যেহেতু ইদানিং রানের মধ্যে নেই, তাই কনফিডেন্সটা কম ছিলো। রগড়ে রগড়ে উইকেটে পড়ে থেকে স্ট্রোক-প্লের কনফিডেন্সটা করে নিল। এবার তার মূল্য বুঝবে অন্য দল।
আনন্দবাজারঃ আশরাফুলের ইনিংস কেমন লাগলো?
মাশরাফিঃ তখন ঘুমায়ে ছিলাম। উঠার পর সবাই বললো খুব নাকি ভাল খেলেছে।
আনন্দবাজারঃ তিন দিনে ম্যাচ হেরে এই যে বাংলাদেশ সমর্থকেরা ভেঙ্গে পড়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে কি বলবেন?
মাশরাফিঃ আমরা অনেকদিন পর টেস্ট খেলছিলাম। তবে অনেক কিছু শিখেছি এই ম্যাচ থেকে। ভবিষ্যতে আরো খাটবো, আরো জানবো।
আনন্দবাজারঃ হোয়াটমোর চলে যাওয়াতে ক্ষতি হলো?
মাশরাফিঃ একজন চলে যাবে, আরেকজন আসবে এটাই তো নিয়ম।
আনন্দবাজারঃ জনপ্রিয়তার জোয়ারে বন্ধুরা চলে যায়নিতো পাশ থেকে?
মাশরাফিঃ ওরা যদি সরে যায়, তবে আমাকে ওদের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমার উচিত হবে সব সময় ওদের ধরে রাখা। ওরা না থাকলে আমি কি আজ এই মাশরাফি হতাম নাকি?
(পাশে বসা বন্ধু এবার বললেন, “হবে, এবার ওর ব্যাটিংটাও হবে। এবার বন্ধুরা আমরা ওটার দিকেও মন দিবো”)
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৯শে মে ২০০৭ (http://www.anandabazar.com/archive/1070529/29khela5.htm)
[/বাংলা]
[বাংলা]আনন্দবাজার পত্রিকার সাথে সাক্ষাতকারে মাশরাফি [/বাংলা]
http://www.anandabazar.com/archive/1070529/29khela5.jpg
[বাংলা]মাশরাফিঃ বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন সম্পদ[/বাংলা]
[বাংলা]
দেশের লোকের বাড়তি আকুলতা ছেড়ে দিচ্ছি। ভারতীয় সাংবাদিকেরাও কেউ কেউ মাশরাফি মোর্তাজার জার্সিতে ওর সই করিয়ে দেশে ফিরেছেন। এমনই ক্রেজ এখন তিনি। গৌতম ভট্টাচার্য সোমবার তার সাথে কথা বললেন একান্তে। সামান্য ভুল হল, একান্তে নয়। মাশরাফির এক বন্ধু ছিলেন পাশে।
আনন্দবাজারঃ বন্ধু ব্যাপারটাকে নাকি আপনি দারুন গুরুত্ব দেন?
মাশরাফিঃ ঠিক শুনেছেন। বন্ধুরা আমার জীবনে একটা বিশাল ব্যাপার। আমি যখন চোট নিয়ে দু’বছর বাড়িতে বসা, আমার পরিবারও আমার উপর আশা হারিয়ে ফেলেছিল। আব্বাকে তখন রাস্তায় কত লোকে কত কিছু বলতো। কিন্তু বন্ধুরা আমায় ছাড়েনি। অসুস্থ আমাকে তুলে ওরা গোসল করাতে পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে।
আনন্দবাজারঃ আপনার নাকি ত্রিশজন বন্ধু?
মাশরাফিঃ ভুল শুনেছেন। ত্রিশের আরো বেশি।
আনন্দবাজারঃ দুটো ইনিংসে এতো ভালো ব্যাট করলেন। এবার কপিল দেবের মতো হতে ইচ্ছে করছে?
মাশরাফিঃ না, এখন ব্যাটিংয়ে মন দেওয়ার সময় নয়। আমার কনসেন্ট্রেশনটা বোলিংয়ে রাখতে চাই। বলটা আরো ভাল করতে হবে।
আনন্দবাজারঃ কেন? প্রিয় বন্ধু ইরফান পাঠানের দশা দেখে ভয়?
মাশরাফিঃ ইরফানের জন্য নয়। এমনিতেই বোলিংয়ে আমার অনেক কিছু শেখার বাকি রয়েছে।
আনন্দবাজারঃ আপনি ফাস্ট বোলার। কিন্তু ব্যাটসম্যান পরাস্ত হলেও তার দিকে রক্তগরম চাহনি দেন না তো?
মাশরাফিঃ একটা সময় মনে হতো ফাস্ট বোলার হতে গেলে ওগুলো করতে হয়। কড়া চোখে তাকাতে হয় ব্যাটসম্যানের দিকে। তারপর যখন পোলক, ম্যাকগ্রা বা ওয়ালশকে ভাল করে দেখলাম, তখন বুঝতে শিখেছি ভাল বল করাটাই যথেস্ট। ওটা ঠিক থাকলে আর চাহনির দরকার নেই।
আনন্দবাজারঃ বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনুর থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের বয়, সবাই আপনার ফ্যান। কী করে ধরে রাখবেন এই জনপ্রিয়তা?
মাশরাফিঃ ভাল অবস্থাটাকে শুধু উপভোগ নয়, ধরে রাখার জন্য খাটতেও হবে। আমি তো আর ব্রায়ান লারা নই।
আনন্দবাজারঃ কেন, লারা খাটেননি বুঝি?
মাশরাফিঃ লারা খাটলে কুড়ি হাজার রান করতে পারতো। সচিনের মতো শৃঙ্খলা কোথায় ছিল ওর?
আনন্দবাজারঃ সচিন যেভাবে স্লো ব্যাটিং করলেন তা নিয়ে সমালোচনা হচ্চে খুব।
মাশরাফিঃ যারা সচিনকে নিয়ে কথা বলে তাদের আমি একটু চুপ থাকতে অনুরোধ করছি। সচিন সচিন-ই। ঠিক-ই খেলেছে আমাদের সঙ্গে ইনিংসটা।
আনন্দবাজারঃ কেন বলছেন একথা?
মাশরাফিঃ যেহেতু ইদানিং রানের মধ্যে নেই, তাই কনফিডেন্সটা কম ছিলো। রগড়ে রগড়ে উইকেটে পড়ে থেকে স্ট্রোক-প্লের কনফিডেন্সটা করে নিল। এবার তার মূল্য বুঝবে অন্য দল।
আনন্দবাজারঃ আশরাফুলের ইনিংস কেমন লাগলো?
মাশরাফিঃ তখন ঘুমায়ে ছিলাম। উঠার পর সবাই বললো খুব নাকি ভাল খেলেছে।
আনন্দবাজারঃ তিন দিনে ম্যাচ হেরে এই যে বাংলাদেশ সমর্থকেরা ভেঙ্গে পড়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে কি বলবেন?
মাশরাফিঃ আমরা অনেকদিন পর টেস্ট খেলছিলাম। তবে অনেক কিছু শিখেছি এই ম্যাচ থেকে। ভবিষ্যতে আরো খাটবো, আরো জানবো।
আনন্দবাজারঃ হোয়াটমোর চলে যাওয়াতে ক্ষতি হলো?
মাশরাফিঃ একজন চলে যাবে, আরেকজন আসবে এটাই তো নিয়ম।
আনন্দবাজারঃ জনপ্রিয়তার জোয়ারে বন্ধুরা চলে যায়নিতো পাশ থেকে?
মাশরাফিঃ ওরা যদি সরে যায়, তবে আমাকে ওদের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমার উচিত হবে সব সময় ওদের ধরে রাখা। ওরা না থাকলে আমি কি আজ এই মাশরাফি হতাম নাকি?
(পাশে বসা বন্ধু এবার বললেন, “হবে, এবার ওর ব্যাটিংটাও হবে। এবার বন্ধুরা আমরা ওটার দিকেও মন দিবো”)
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৯শে মে ২০০৭ (http://www.anandabazar.com/archive/1070529/29khela5.htm)
[/বাংলা]