Nocturnal
April 25, 2008, 02:42 AM
[বাংলা]এই গল্পটা শেয়ার না করে পারলাম না। সচলায়তন থেকে নেয়া, আজকেই পড়লাম - আমার লেখা না। :lol::lol:
__________________________________________________ _________
আশরাফুল ও মাশরাফিদের সাথে একদিন!!! -------- রেনেট
এক
বাংলাদেশ জাতীয় দলে এভাবে চান্স পেয়ে যাব, কখনও কল্পনাও করিনি। বাস্তব কখনও কখনও কল্পনাকে হার মানায়, তা শুনেছি বৈকি, কিন্তু এখন তা সত্যি বলেই মনে হচ্ছে।
তাহলে ঘটনা কিভাবে ঘটল, তা আগে বলে নিই।
মাস দুয়েক আগের কথা। আই ই এল টি এস পরীক্ষা দিয়েছি, হাতে অফুরন্ত সময়, কিছু করার নেই। বাসার ছাদে গিয়ে টাংকি মারব কিনা চিন্তা করছি, এমন সময় উপরতলার রনি এসে হাজির। সাথে আব্দুর রাজ্জাক। হ্যাঁ, জাতীয় দলের রাজ্জাক। রনির খালাত ভাই হয়। জিজ্ঞেস করল ক্রিকেট খেলব কিনা। আমি তো রাজি। সাথে ছোট ভাই তপু কে ও নিলাম। খেলা হবে বরাবরের মত ছাদে। ছাদে যাওয়ার পথে খালেদ, শফি আর মামুনকেও ডেকে নিলাম। খেললাম বেশ অনেকক্ষণ। রাজ্জাক ভাইকে এক মাত্র আমিই ছক্কা মেরে বল ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিলাম ২ বার। অবশ্য ২ বারই আমাকে নিচে গিয়ে বল নিয়ে আসতে হল। এজন্য মেজাজ খারাপ করে আর ছক্কাই মারলাম না।
খেলা শেষ করে রাজ্জাক ভাই আমার পিঠ চাপড়ে দিলেন, তারপর কিছুক্ষণ আড্ডা মেরে চলে গেলেন।
এরপর বেশ কিছুদিন চলে গেল। আমি আই ই এল টি এস -এ ভালো স্কোর করলাম, অস্ট্রেলিয়ায় একটা ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করলাম, ভিসা ও পেয়ে গেলাম, প্লেনের টিকেট ও কিনে ফেললাম।
এখন শুধু উড়াল দেওয়ার পালা।
এমনি সময় একদিন রাজ্জাক ভাই এসে হাজির।
দুই
রাজ্জাক ভাই বললেন, রেনেট, তোর জন্য সুখবর আছে। বলেই একটা রহস্যজনক হাসি দিলেন। আমি জিজ্ঞাস করলাম, কি সুখবর?
রাজ্জাক ভাই বললেন, জাতীয় দলে খেলতে চাস?
আমি বুঝলাম, রাজ্জাক ভাই মস্করা করছেন।
বললাম, কেন, জাতীয় দলে কি প্লেয়ার এর আকাল পড়েছে?
রাজ্জাক ভাই আবার একটু হেসে বললেন, খেলতে চাস কিনা বল।
আমি বললাম, আমার মুখের কথায় যদি খেলতে পারতাম, তাহলে তো কবেই খেলতাম!
রাজ্জাক ভাই বললেন, সেটা নিয়ে তোকে চিন্তা করতে হবে না। আমাকে যেদিন ছক্কা মেরেছিলি, সেদিনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম, তোর মধ্যে অনেক প্রতিভা।
আমি লজ্জার একটা হাসি দিলাম।
রাজ্জাক ভাই আবার বললেন, জুনায়েদ নাকি বিয়ে করবে আগামী মাসে, তাই ও অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে চাচ্ছে না। আর আজকাল জাতীয় দলের যে অবস্থা, স্ট্যান্ডবাই প্লেয়ার ও কেউ খেলতে চাচ্ছে না, কখন কোন দর্শক পচা ডিম ছুড়ে মারে এই ভয়ে। আর আমি ও রনির কাছ থেকে শুনেছি, আগামী মাসে তুই নাকি এমনিতেই অস্ট্রেলিয়া চলে যাচ্ছিস, প্লেনের টিকেট ও কাটা হয়ে গেছে। তাই ফারুক ভাইকে যখন বললাম যে তুই একদিন আমাকে ২ টা ছক্কা মেরেছিলি, আর তুই এমনিতেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছিস, তোর জন্য ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে না, টিকেট কিনতে হবে না, তখন ফারুক ভাইয়ের ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো। তাই আমাকে পাঠিয়ে দিল তোকে খবরটা জানানোর জন্য। কি রাজি?
রাজি না মানে??
উত্তেজনায় আমার শরীর কাঁপতে লাগল।
তিন
পরের মাসে আমরা ১৫ জন খেলোয়াড়, ২ জন কর্মকর্তা, কোচ, সহকারী কোচ, ট্রেনার মিলিয়ে ২০ জন অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।
এর মধ্যে মোটামুটি সবার সাথে পরিচয় হয়ে গেছে। সবাই বয়সে আমার প্রায় কাছাকাছি হলে ও দলে আমার সিনিয়র বলে সবাইকে ভাই বলে ডাকতে হয়। এটাই নিয়ম।
সবচেয়ে পছন্দ হল মাশরাফিকে। সারাক্ষণ একটা না একটা দুষ্টামী করেই যাচ্ছে। আমার সাথে ও ভালো খাতির হয়ে গেল।
যাওয়ার পথে প্লেনে আমাই আর মাশরাফি পাশাপাশি বসলাম। মাশরাফি একটু পরে পরেই আমার কাছে বিভিন্ন দুষ্টু শব্দের ইংরেজি জানতে চাচ্ছে। বেশির ভাগের ইংরেজি জানা থাকলে ও আমি বললাম না, লজ্জা লাগে।
আমার মনোভাব বুঝতে পেরেই মাশরাফি বললো, আরে আমি তো এগুলা জানতে চাচ্ছি অস্ট্রেলিয়ান প্লেয়ার গুলারে গালি দিব বলে। লজ্জার কিছু নাই ছোটভাই, বলে ফেল।
আমি ও অভয় পেয়ে উজাড় করে দিলাম আমার জ্ঞান ভান্ডাড়।
চার
অস্ট্রেলিয়ার সাথে ৫ টা ওয়ানডে হলে ও আমাকে প্রথম ৪ ওয়ানডেতে দলে নেয়া হল না। ড্রিঙ্কস নিয়ে দৌড়া দৌড়ি করেই কাটালাম কয়েকটা দিন।
অবশেষে ৫ম ওয়ানডের আগে আমার কপাল খুলে গেল। খেলার আগের দিন আফতাব এসে সিডন্স কে বলল, সে পরের দিন সিনেমা দেখতে যেতে চায়। আমেরিকান পাইয়ের নতুন একটা মুভি নাকি এসেছে। দেশে নাকি সব দৃশ্য দেখা যায় না, সেন্সর করে দেয়, তাই ও অস্ট্রেলিয়ার সিনেমা হলে গিয়ে আনরেটেড সিনেমা দেখতে চায়। সাথে করে সহকারী কোচ শন উইলিয়ামস কে ও নিয়ে এসেছে, সে ও নাকি যাবে আফতাব এর সাথে। অতঃপর তাদের ২ জন এর ছুটি মঞ্জুর হল। আমাকে দলে নেয়া হল। পত্রিকায় ব্রিফিং দেয়া হল, রেনেটের মধ্যে লুকিয়ে আছে অসামান্য প্রতিভা। ২০১১ সালের বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই রেনেটকে স্কোয়াডে নেয়া হয়েছিল। আর এখন ওকে একটু বাজিয়ে দেখতে সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আর তাছাড়া আফতাবের ফর্ম ও বেশ কয়েক দিন ধরে ভালো যাচ্ছিল না, তাই তাকে বিশ্রাম দেয়া হচ্ছে। যাহোক, আমি মূল দলে ঢুকে গেলাম।
পাঁচ
পরের দিন খেলা শুরু হল। আশরাফুল টসে জিতেছে, আমরা আগে ব্যাটিং করব। তামিম আর নাফিস ওপেন করবে। তারপর আশরাফুল, আমি, সাকিব, রিয়াদ আর অন্যরা। আমার কেমন যেন একটু একটু ভয় করছে। বাসার ছাদে ক্রিকেট খেলেছি, পাড়ায় গলিতে ও খেলেছি, কিন্তু এর বাইরে কখন ও খেলিনি।
যাহোক, ওপেনাররা মাঠে যাওয়ার সাথে সাথেই আশরাফুল ভাই প্যাড পড়লেন, আমাকে ও রেডি হতে বললেন। দুজনে রেডি হয়ে বসে রইলাম।
বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না, নাফিস তৃতীয় বলেই ঝাড়ু মেরে আউট হয়ে ফিরল। আশরাফুল ভাই চলে গেলেন। এরপর আমার পালা। আমি মোটামুটি নার্ভাস।
তামিম হতচ্ছাড়াটা আমাকে একটু স্থির হওয়ার ও সময় দিল না। একটু পরেই আউট হয়ে ফিরল।
আমি মাঠে নেমে গেলাম।
ছয়
ক্রিজে গেলাম মতই আশরাফুল ভাই এগিয়ে এলেন। বেশ একটা ভাব নিয়ে আমাকে বিভিন্ন উপদেশ দিতে লাগলেন। বেশির ভাগ কথাই উনি একটু আগে আমাকে ড্রেসিং রুমে বলেছেন, এখন আবার একই কথা বলছেন কেন বুঝলাম না। টিভি তে দেখাচ্ছে বলেই মনে হয় একটু ভাব দেখাচ্ছে। যাহোক, আমাকে ২/৩ কথা বলে পিঠ চাপড়ে দিয়ে চলে গেল।
আমার স্ট্রাইক। বল করছে ব্র্যাকেন। ঠেকালাম প্রথম ৪ বল। ৫ম বলে একটা সিঙ্গেল নিলাম।
আশরাফুল ভাই এর স্ট্রাইক। তিনি কোন রান নিলেন না।
পরের ওভার ব্রেট লীর। আমার স্ট্রাইক। মনে মনে দোয়া পড়তে লাগলাম। আশ রাফুল ভাই আমাকে সাহস দেয়ার চেষ্টা করলেন। ভয়ের কিছু নেই। চোখ বন্ধ করে চালাবি। যা আছে কপালে।
যা হোক, মনে একটু সাহস সঞ্চয় করে রেডি হলাম।
ব্রেট লী দৌড়ে আসছে, বল করল, কিন্তু বল আর দেখার সময় পেলাম না। এর আগেই দেখি গিলক্রিষ্ট বল হাতে নিয়ে হৈ হৈ করছে।
দ্বিতীয় বল। ওহ বাবা! এই বল চোখে দেখা যায় নাকি! শুধু টের পেলাম কানের পাশ দিয়ে সাই করে কি যেন বেরিয়ে গেল। যা হোক, আউট তো হইনি! এতেই আমি খুশি।
এরকম টুকিয়ে টুকিয়ে পার করে দিলাম আরো ২ ওভার। রান ও করলাম আরো ১ টা। ১৬ বলে ২।
আশরাফুল ভাই আমাকে বললেন, ভাল হচ্ছে ব্যাটিং, চালিয়ে যা।
এর পর আর ২ ওভার খেলা হল। কাটিয়ে দিলাম কোন মতে। হঠাত আশরাফুল ভাই এসে বলে, তার পেট নাকি কেমন করছে। সকালে ডিমের ওমলেট খেয়েছিল, এখন পেট গুড়্গুড় করছে।অতি সত্বর টয়লেটে যাওয়া দরকার। গিল ক্রিস্ট ও নাকি উইকেটের পিছন থেকে আশরাফুল ভাই কে কয়েকবার গালি দিয়েছে, দুর্গন্ধ ছড়ানোর জন্য।
আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি আউট হয়ে গেলে আমি আরো ১০ ওভার ব্যাটিং করতে পারব কিনা। যদি আমি অভয় দিই, তাহলে তিনি অতি শীঘ্রি আউট হওয়ার চেষ্টা করবেন। আর পারছেন না চেপে রাখতে।
বেচারার অবস্থা দেখে মায়া হল। তাই বললাম, জ্বি ভাইয়া পারব। আপনি নিশ্চিন্তে আউট হইয়া যান।
আমার কাছ থেকে ভরসা পেয়ে আশরাফুল ভাই পরের ওভারে আউট হয়ে গেলেন।
বেচারা ঠিক ভাবে প্যাভিলিয়নে পৌছাতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে আমার টেনশন হল।
আশরাফুল ভাই চলে যাওয়ার কারণেই কিনা, আমার আর খেলায় মন বসল না। সাকিব ভাই মাঠে নামল, কিন্তু নেমেই বলল, তার নাকি কেনাকাটা করা হয় নি কিছুই, অথচ কালকে চলে যেতে হবে। যাওয়ার আগে বউয়ের দেয়া লিস্ট অনুযায়ী কেনাকাটা না করলে ঢাকায় ফিরে বউয়ের ঝাড়ি খেতে হবে। তাই আজকে তার একটু তাড়া আছে। আর গত ম্যাচেই তো সে সেঞ্চুরী করেছে। তাই আজকে আগে আগে আউট হলে ও কোন সমস্যা নেই। অতঃপর সাকিব ভাই ও চলে গেল আউট হয়ে।
এরপর মাঠে নামল মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ। নেমেই আমাকে ঝাড়ি মারা শুরু করল। আমার ও মেজাজ গেল খারাপ হয়ে। যাহ, তোর সাথে ব্যাটিংই করব না। তাই আমি ও আউট হয়ে গেলাম পরের ওভারে।
প্যাভিলিয়নে ফিরে মনের সুখে একটু পেপসি কোলা খাচ্ছি, এর মধ্যেই দেখতে দেখতে দল অল আউট হয়ে গেল।
৩৫ ওভারেই অলআউট। তাই ১০ মিনিটের মধ্যেই আবার মাঠে নামতে হবে। মেজাজটাই গেল খারাপ হয়ে। মাত্রই না ফিরলাম। একটা পেপসি শেষ করে কেবল দুই নাম্বারটা ধরেছি, তখনই আবার নামার হুকুম। আগে জানলে কি আর খেলতে আসি?
সাত
ব্যাটিং খারাপ হলে ও আমাদের বোলিং টা বেশ ভালো হচ্ছে। আমি ফিল্ডিং করছি বাউন্ডারীর কাছাকাছি জায়গায়। মাশরাফি প্রথম ৪ ওভারে ২ উইকেট ফেলে দিল। কিন্তু রিকি পন্টিং নেমেই পিটানো শুরু করে দিল। ওর ও টয়লেট ধরেছে কিনা চিন্তা করছি। ফিল্ডিং এ ভালো না দেখে আশরাফুল ভাই আমাকে এখানে ফিল্ডিং করতে দিয়েছেন।
মাঝে মাঝে আমার আশ পাশ দিয়ে ২/১ টা বল যায়, আমি ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু একটা বল ও আমার সোজা সুজি আসে না। ডানে বামে এত দৌড়া দৌড়ি করে ওসব বল ধরা যায় নাকি!
তার চেয়ে হোক না, ২/১ টা বাউন্ডারী। আমরা তো ব্যাটিংই করতে পারলাম না। ওরা করতে চাচ্ছে করুক না! আর দর্শক রা ও এত আশা নিয়ে খেলা দেখতে এসেছে, চার ছয় না হলে ব্যাপারটা ভালো হয় না। তাই আমি ও বেশি একটা চেষ্টা করলাম না বল ধরার জন্য। তার চেয়ে গ্যালারি তে বেশ কয়েক টা সেইরকম মেয়ে দেখা যাচ্ছে, মিনি স্কার্ট পড়া। আমি ওদের দেখায় মন দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করলাম।
এর মধ্যে আশরাফুল ভাই এসে বলল, এগুলা কি ফিল্ডিং করছিস? নে, অনেক হয়েছে, এবার বোলিং কর। কি, পারবি না?
পারবো না মানে! খুব পারবো! বোলিং করাটা একটা ব্যাপার হল নাকি!
গেলাম বোলিং করতে। আম্পায়ার জিজ্ঞেস করল, কি বোলিং করব? আমি মনে মনে হিসাব করে দেখলাম, আমার বলের গতি যা, তা স্পিনের চেয়ে ও কম, কিন্তু স্পিন না, বল ঘুরে না। তাই কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললাম, মিডিয়াম স্লো।
যা হোক, বোলিং শুরু করলাম। প্রথম বলটা লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে গেল। উইকেট কীপার আহম্মকটা ধরতে পারলো না। ওর উপর বেজায় রাগ হল। আরে মোখলেস, বল ই যদি আটকাতে না পারলি, তাহলে উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আমার মত বাউন্ডারী লাইনে চলে যা। পাইলট ভাই থাকলে ওটা কোন দিনও চার হত না।
আর আম্পায়ার ব্যাটা টা ও কেমন। আমার পরের ২ টা বল ওয়াইড ডাকলো। অথচ দুটা বলই অফ সাইডে ছিল, একটু বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। তা পন্টিং একটু চেষ্টা করলেই ব্যাট লাগাতে পারতো। তাই বলে ওয়াইড ডাকতে হবে? মনে হচ্ছিল, আম্পায়ারকে বল করে দেখাতে বলি। করে দেখুক না, বল একটু ডান বাম দিক দিয়ে যাবেই। করার কিছু নেই। কিন্তু সে ব্যাটাকে এটা বোঝায় কে?
আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। আম্পায়ারকে বসিয়ে দিব নাকি দুয়েক ঘা চিন্তা করছি, এসময় আম্পায়ার বলে, ম্যাচ শেষ!
যা বাবা, আজকের মত বেঁচে গেলি। আরেক দিন পেয়ে নিই তোকে, দেখাব মজা।
শেষ
গল্পের লিংক (http://www.sachalayatan.com/guest_writer/14606) [/বাংলা]
__________________________________________________ _________
আশরাফুল ও মাশরাফিদের সাথে একদিন!!! -------- রেনেট
এক
বাংলাদেশ জাতীয় দলে এভাবে চান্স পেয়ে যাব, কখনও কল্পনাও করিনি। বাস্তব কখনও কখনও কল্পনাকে হার মানায়, তা শুনেছি বৈকি, কিন্তু এখন তা সত্যি বলেই মনে হচ্ছে।
তাহলে ঘটনা কিভাবে ঘটল, তা আগে বলে নিই।
মাস দুয়েক আগের কথা। আই ই এল টি এস পরীক্ষা দিয়েছি, হাতে অফুরন্ত সময়, কিছু করার নেই। বাসার ছাদে গিয়ে টাংকি মারব কিনা চিন্তা করছি, এমন সময় উপরতলার রনি এসে হাজির। সাথে আব্দুর রাজ্জাক। হ্যাঁ, জাতীয় দলের রাজ্জাক। রনির খালাত ভাই হয়। জিজ্ঞেস করল ক্রিকেট খেলব কিনা। আমি তো রাজি। সাথে ছোট ভাই তপু কে ও নিলাম। খেলা হবে বরাবরের মত ছাদে। ছাদে যাওয়ার পথে খালেদ, শফি আর মামুনকেও ডেকে নিলাম। খেললাম বেশ অনেকক্ষণ। রাজ্জাক ভাইকে এক মাত্র আমিই ছক্কা মেরে বল ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিলাম ২ বার। অবশ্য ২ বারই আমাকে নিচে গিয়ে বল নিয়ে আসতে হল। এজন্য মেজাজ খারাপ করে আর ছক্কাই মারলাম না।
খেলা শেষ করে রাজ্জাক ভাই আমার পিঠ চাপড়ে দিলেন, তারপর কিছুক্ষণ আড্ডা মেরে চলে গেলেন।
এরপর বেশ কিছুদিন চলে গেল। আমি আই ই এল টি এস -এ ভালো স্কোর করলাম, অস্ট্রেলিয়ায় একটা ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করলাম, ভিসা ও পেয়ে গেলাম, প্লেনের টিকেট ও কিনে ফেললাম।
এখন শুধু উড়াল দেওয়ার পালা।
এমনি সময় একদিন রাজ্জাক ভাই এসে হাজির।
দুই
রাজ্জাক ভাই বললেন, রেনেট, তোর জন্য সুখবর আছে। বলেই একটা রহস্যজনক হাসি দিলেন। আমি জিজ্ঞাস করলাম, কি সুখবর?
রাজ্জাক ভাই বললেন, জাতীয় দলে খেলতে চাস?
আমি বুঝলাম, রাজ্জাক ভাই মস্করা করছেন।
বললাম, কেন, জাতীয় দলে কি প্লেয়ার এর আকাল পড়েছে?
রাজ্জাক ভাই আবার একটু হেসে বললেন, খেলতে চাস কিনা বল।
আমি বললাম, আমার মুখের কথায় যদি খেলতে পারতাম, তাহলে তো কবেই খেলতাম!
রাজ্জাক ভাই বললেন, সেটা নিয়ে তোকে চিন্তা করতে হবে না। আমাকে যেদিন ছক্কা মেরেছিলি, সেদিনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম, তোর মধ্যে অনেক প্রতিভা।
আমি লজ্জার একটা হাসি দিলাম।
রাজ্জাক ভাই আবার বললেন, জুনায়েদ নাকি বিয়ে করবে আগামী মাসে, তাই ও অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে চাচ্ছে না। আর আজকাল জাতীয় দলের যে অবস্থা, স্ট্যান্ডবাই প্লেয়ার ও কেউ খেলতে চাচ্ছে না, কখন কোন দর্শক পচা ডিম ছুড়ে মারে এই ভয়ে। আর আমি ও রনির কাছ থেকে শুনেছি, আগামী মাসে তুই নাকি এমনিতেই অস্ট্রেলিয়া চলে যাচ্ছিস, প্লেনের টিকেট ও কাটা হয়ে গেছে। তাই ফারুক ভাইকে যখন বললাম যে তুই একদিন আমাকে ২ টা ছক্কা মেরেছিলি, আর তুই এমনিতেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছিস, তোর জন্য ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে না, টিকেট কিনতে হবে না, তখন ফারুক ভাইয়ের ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো। তাই আমাকে পাঠিয়ে দিল তোকে খবরটা জানানোর জন্য। কি রাজি?
রাজি না মানে??
উত্তেজনায় আমার শরীর কাঁপতে লাগল।
তিন
পরের মাসে আমরা ১৫ জন খেলোয়াড়, ২ জন কর্মকর্তা, কোচ, সহকারী কোচ, ট্রেনার মিলিয়ে ২০ জন অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।
এর মধ্যে মোটামুটি সবার সাথে পরিচয় হয়ে গেছে। সবাই বয়সে আমার প্রায় কাছাকাছি হলে ও দলে আমার সিনিয়র বলে সবাইকে ভাই বলে ডাকতে হয়। এটাই নিয়ম।
সবচেয়ে পছন্দ হল মাশরাফিকে। সারাক্ষণ একটা না একটা দুষ্টামী করেই যাচ্ছে। আমার সাথে ও ভালো খাতির হয়ে গেল।
যাওয়ার পথে প্লেনে আমাই আর মাশরাফি পাশাপাশি বসলাম। মাশরাফি একটু পরে পরেই আমার কাছে বিভিন্ন দুষ্টু শব্দের ইংরেজি জানতে চাচ্ছে। বেশির ভাগের ইংরেজি জানা থাকলে ও আমি বললাম না, লজ্জা লাগে।
আমার মনোভাব বুঝতে পেরেই মাশরাফি বললো, আরে আমি তো এগুলা জানতে চাচ্ছি অস্ট্রেলিয়ান প্লেয়ার গুলারে গালি দিব বলে। লজ্জার কিছু নাই ছোটভাই, বলে ফেল।
আমি ও অভয় পেয়ে উজাড় করে দিলাম আমার জ্ঞান ভান্ডাড়।
চার
অস্ট্রেলিয়ার সাথে ৫ টা ওয়ানডে হলে ও আমাকে প্রথম ৪ ওয়ানডেতে দলে নেয়া হল না। ড্রিঙ্কস নিয়ে দৌড়া দৌড়ি করেই কাটালাম কয়েকটা দিন।
অবশেষে ৫ম ওয়ানডের আগে আমার কপাল খুলে গেল। খেলার আগের দিন আফতাব এসে সিডন্স কে বলল, সে পরের দিন সিনেমা দেখতে যেতে চায়। আমেরিকান পাইয়ের নতুন একটা মুভি নাকি এসেছে। দেশে নাকি সব দৃশ্য দেখা যায় না, সেন্সর করে দেয়, তাই ও অস্ট্রেলিয়ার সিনেমা হলে গিয়ে আনরেটেড সিনেমা দেখতে চায়। সাথে করে সহকারী কোচ শন উইলিয়ামস কে ও নিয়ে এসেছে, সে ও নাকি যাবে আফতাব এর সাথে। অতঃপর তাদের ২ জন এর ছুটি মঞ্জুর হল। আমাকে দলে নেয়া হল। পত্রিকায় ব্রিফিং দেয়া হল, রেনেটের মধ্যে লুকিয়ে আছে অসামান্য প্রতিভা। ২০১১ সালের বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই রেনেটকে স্কোয়াডে নেয়া হয়েছিল। আর এখন ওকে একটু বাজিয়ে দেখতে সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আর তাছাড়া আফতাবের ফর্ম ও বেশ কয়েক দিন ধরে ভালো যাচ্ছিল না, তাই তাকে বিশ্রাম দেয়া হচ্ছে। যাহোক, আমি মূল দলে ঢুকে গেলাম।
পাঁচ
পরের দিন খেলা শুরু হল। আশরাফুল টসে জিতেছে, আমরা আগে ব্যাটিং করব। তামিম আর নাফিস ওপেন করবে। তারপর আশরাফুল, আমি, সাকিব, রিয়াদ আর অন্যরা। আমার কেমন যেন একটু একটু ভয় করছে। বাসার ছাদে ক্রিকেট খেলেছি, পাড়ায় গলিতে ও খেলেছি, কিন্তু এর বাইরে কখন ও খেলিনি।
যাহোক, ওপেনাররা মাঠে যাওয়ার সাথে সাথেই আশরাফুল ভাই প্যাড পড়লেন, আমাকে ও রেডি হতে বললেন। দুজনে রেডি হয়ে বসে রইলাম।
বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না, নাফিস তৃতীয় বলেই ঝাড়ু মেরে আউট হয়ে ফিরল। আশরাফুল ভাই চলে গেলেন। এরপর আমার পালা। আমি মোটামুটি নার্ভাস।
তামিম হতচ্ছাড়াটা আমাকে একটু স্থির হওয়ার ও সময় দিল না। একটু পরেই আউট হয়ে ফিরল।
আমি মাঠে নেমে গেলাম।
ছয়
ক্রিজে গেলাম মতই আশরাফুল ভাই এগিয়ে এলেন। বেশ একটা ভাব নিয়ে আমাকে বিভিন্ন উপদেশ দিতে লাগলেন। বেশির ভাগ কথাই উনি একটু আগে আমাকে ড্রেসিং রুমে বলেছেন, এখন আবার একই কথা বলছেন কেন বুঝলাম না। টিভি তে দেখাচ্ছে বলেই মনে হয় একটু ভাব দেখাচ্ছে। যাহোক, আমাকে ২/৩ কথা বলে পিঠ চাপড়ে দিয়ে চলে গেল।
আমার স্ট্রাইক। বল করছে ব্র্যাকেন। ঠেকালাম প্রথম ৪ বল। ৫ম বলে একটা সিঙ্গেল নিলাম।
আশরাফুল ভাই এর স্ট্রাইক। তিনি কোন রান নিলেন না।
পরের ওভার ব্রেট লীর। আমার স্ট্রাইক। মনে মনে দোয়া পড়তে লাগলাম। আশ রাফুল ভাই আমাকে সাহস দেয়ার চেষ্টা করলেন। ভয়ের কিছু নেই। চোখ বন্ধ করে চালাবি। যা আছে কপালে।
যা হোক, মনে একটু সাহস সঞ্চয় করে রেডি হলাম।
ব্রেট লী দৌড়ে আসছে, বল করল, কিন্তু বল আর দেখার সময় পেলাম না। এর আগেই দেখি গিলক্রিষ্ট বল হাতে নিয়ে হৈ হৈ করছে।
দ্বিতীয় বল। ওহ বাবা! এই বল চোখে দেখা যায় নাকি! শুধু টের পেলাম কানের পাশ দিয়ে সাই করে কি যেন বেরিয়ে গেল। যা হোক, আউট তো হইনি! এতেই আমি খুশি।
এরকম টুকিয়ে টুকিয়ে পার করে দিলাম আরো ২ ওভার। রান ও করলাম আরো ১ টা। ১৬ বলে ২।
আশরাফুল ভাই আমাকে বললেন, ভাল হচ্ছে ব্যাটিং, চালিয়ে যা।
এর পর আর ২ ওভার খেলা হল। কাটিয়ে দিলাম কোন মতে। হঠাত আশরাফুল ভাই এসে বলে, তার পেট নাকি কেমন করছে। সকালে ডিমের ওমলেট খেয়েছিল, এখন পেট গুড়্গুড় করছে।অতি সত্বর টয়লেটে যাওয়া দরকার। গিল ক্রিস্ট ও নাকি উইকেটের পিছন থেকে আশরাফুল ভাই কে কয়েকবার গালি দিয়েছে, দুর্গন্ধ ছড়ানোর জন্য।
আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি আউট হয়ে গেলে আমি আরো ১০ ওভার ব্যাটিং করতে পারব কিনা। যদি আমি অভয় দিই, তাহলে তিনি অতি শীঘ্রি আউট হওয়ার চেষ্টা করবেন। আর পারছেন না চেপে রাখতে।
বেচারার অবস্থা দেখে মায়া হল। তাই বললাম, জ্বি ভাইয়া পারব। আপনি নিশ্চিন্তে আউট হইয়া যান।
আমার কাছ থেকে ভরসা পেয়ে আশরাফুল ভাই পরের ওভারে আউট হয়ে গেলেন।
বেচারা ঠিক ভাবে প্যাভিলিয়নে পৌছাতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে আমার টেনশন হল।
আশরাফুল ভাই চলে যাওয়ার কারণেই কিনা, আমার আর খেলায় মন বসল না। সাকিব ভাই মাঠে নামল, কিন্তু নেমেই বলল, তার নাকি কেনাকাটা করা হয় নি কিছুই, অথচ কালকে চলে যেতে হবে। যাওয়ার আগে বউয়ের দেয়া লিস্ট অনুযায়ী কেনাকাটা না করলে ঢাকায় ফিরে বউয়ের ঝাড়ি খেতে হবে। তাই আজকে তার একটু তাড়া আছে। আর গত ম্যাচেই তো সে সেঞ্চুরী করেছে। তাই আজকে আগে আগে আউট হলে ও কোন সমস্যা নেই। অতঃপর সাকিব ভাই ও চলে গেল আউট হয়ে।
এরপর মাঠে নামল মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ। নেমেই আমাকে ঝাড়ি মারা শুরু করল। আমার ও মেজাজ গেল খারাপ হয়ে। যাহ, তোর সাথে ব্যাটিংই করব না। তাই আমি ও আউট হয়ে গেলাম পরের ওভারে।
প্যাভিলিয়নে ফিরে মনের সুখে একটু পেপসি কোলা খাচ্ছি, এর মধ্যেই দেখতে দেখতে দল অল আউট হয়ে গেল।
৩৫ ওভারেই অলআউট। তাই ১০ মিনিটের মধ্যেই আবার মাঠে নামতে হবে। মেজাজটাই গেল খারাপ হয়ে। মাত্রই না ফিরলাম। একটা পেপসি শেষ করে কেবল দুই নাম্বারটা ধরেছি, তখনই আবার নামার হুকুম। আগে জানলে কি আর খেলতে আসি?
সাত
ব্যাটিং খারাপ হলে ও আমাদের বোলিং টা বেশ ভালো হচ্ছে। আমি ফিল্ডিং করছি বাউন্ডারীর কাছাকাছি জায়গায়। মাশরাফি প্রথম ৪ ওভারে ২ উইকেট ফেলে দিল। কিন্তু রিকি পন্টিং নেমেই পিটানো শুরু করে দিল। ওর ও টয়লেট ধরেছে কিনা চিন্তা করছি। ফিল্ডিং এ ভালো না দেখে আশরাফুল ভাই আমাকে এখানে ফিল্ডিং করতে দিয়েছেন।
মাঝে মাঝে আমার আশ পাশ দিয়ে ২/১ টা বল যায়, আমি ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু একটা বল ও আমার সোজা সুজি আসে না। ডানে বামে এত দৌড়া দৌড়ি করে ওসব বল ধরা যায় নাকি!
তার চেয়ে হোক না, ২/১ টা বাউন্ডারী। আমরা তো ব্যাটিংই করতে পারলাম না। ওরা করতে চাচ্ছে করুক না! আর দর্শক রা ও এত আশা নিয়ে খেলা দেখতে এসেছে, চার ছয় না হলে ব্যাপারটা ভালো হয় না। তাই আমি ও বেশি একটা চেষ্টা করলাম না বল ধরার জন্য। তার চেয়ে গ্যালারি তে বেশ কয়েক টা সেইরকম মেয়ে দেখা যাচ্ছে, মিনি স্কার্ট পড়া। আমি ওদের দেখায় মন দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করলাম।
এর মধ্যে আশরাফুল ভাই এসে বলল, এগুলা কি ফিল্ডিং করছিস? নে, অনেক হয়েছে, এবার বোলিং কর। কি, পারবি না?
পারবো না মানে! খুব পারবো! বোলিং করাটা একটা ব্যাপার হল নাকি!
গেলাম বোলিং করতে। আম্পায়ার জিজ্ঞেস করল, কি বোলিং করব? আমি মনে মনে হিসাব করে দেখলাম, আমার বলের গতি যা, তা স্পিনের চেয়ে ও কম, কিন্তু স্পিন না, বল ঘুরে না। তাই কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললাম, মিডিয়াম স্লো।
যা হোক, বোলিং শুরু করলাম। প্রথম বলটা লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে গেল। উইকেট কীপার আহম্মকটা ধরতে পারলো না। ওর উপর বেজায় রাগ হল। আরে মোখলেস, বল ই যদি আটকাতে না পারলি, তাহলে উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আমার মত বাউন্ডারী লাইনে চলে যা। পাইলট ভাই থাকলে ওটা কোন দিনও চার হত না।
আর আম্পায়ার ব্যাটা টা ও কেমন। আমার পরের ২ টা বল ওয়াইড ডাকলো। অথচ দুটা বলই অফ সাইডে ছিল, একটু বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। তা পন্টিং একটু চেষ্টা করলেই ব্যাট লাগাতে পারতো। তাই বলে ওয়াইড ডাকতে হবে? মনে হচ্ছিল, আম্পায়ারকে বল করে দেখাতে বলি। করে দেখুক না, বল একটু ডান বাম দিক দিয়ে যাবেই। করার কিছু নেই। কিন্তু সে ব্যাটাকে এটা বোঝায় কে?
আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। আম্পায়ারকে বসিয়ে দিব নাকি দুয়েক ঘা চিন্তা করছি, এসময় আম্পায়ার বলে, ম্যাচ শেষ!
যা বাবা, আজকের মত বেঁচে গেলি। আরেক দিন পেয়ে নিই তোকে, দেখাব মজা।
শেষ
গল্পের লিংক (http://www.sachalayatan.com/guest_writer/14606) [/বাংলা]