Murad
October 10, 2009, 07:13 PM
[বাংলা]‘আমি কখনো লক্ষ্য স্থির করি না’
এক অর্থে নতুন জীবনই শুরু করলেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে নতুন চুক্তি করছেন ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। সঙ্গিনী কিম আর নবজাত কন্যা স্টেলাও তাই এখন ঢাকাবাসী।
তারেক মাহমুদকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ জেমি সিডন্সAজানালেন নতুন জীবনে নতুন লক্ষ্যের কথা
বাংলাদেশে ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত থেকে যাচ্ছেন। আপনিও এটাই চাচ্ছিলেন। চুক্তি বাড়ার পর প্রতিক্রিয়া কী?
জেমি সিডন্স: জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্য দুই বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করছি আমি। দলের উন্নতিতে তাই আমি খুব খুশি। আমাদের এখন এমন ক্রিকেটারও আছে যারা বড় বড় দলের অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। আমার খুবই ভালো লাগছে যে, চাইলেই আমি এখানে কোচ হিসেবে থেকে যেতে পারছি, দেখে যেতে পারব আমার চেষ্টা আগামী দুই বছরে এই ক্রিকেটারদের কোথায় নিয়ে যায়।
চুক্তিতে নতুন কোনো শর্ত কি যোগ হয়েছে? হলে কি আপনি সন্তুষ্ট তাতে?
সিডন্স: চুক্তিটা একান্তই ব্যক্তিগত। কাজেই আমি কেবল এটুকুই বলব, খুব ছোটখাটো কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে একমত হতেই হবে এমন কোনো ব্যাপার নেই।
২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?
সিডন্স: আমি কখনো লক্ষ্য স্থির করি না। এসব ফালতু ব্যাপার। আর এসব নিয়ে কথা বলে কিছু পাওয়াও যায় না। আমার লক্ষ্য হলো প্রতিটি খেলোয়াড়ের দক্ষতা বাড়ানো, তাদের পথ দেখানো এবং আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব তাদের শেখানো যাতে ২০১১ বিশ্বকাপের আগেই তারা তাদের সেরা খেলাটা খেলতে শুরু করে। তারা যদি এটা করতে পারে, তাহলেই আমি খুশি হব। যেসব খেলোয়াড়কে নিয়ে কাজ করছি, তাদের খেলায় উন্নতি আনাই আমার কোচিংয়ের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ মেয়াদে সেটাই দলের জন্য ভালো।
আগামী বিশ্বকাপটা তো আপনার জন্যও একটা চ্যালেঞ্জ। এই প্রথম প্রধান কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে কোনো দলের সঙ্গে থাকবেন...
সিডন্স: কোনো টুর্নামেন্ট বা সিরিজই আমার কাছে অন্য আরেকটা সিরিজ বা টুর্নামেন্টের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং নয়। আমাদের দলের কাছে অন্যদের যা প্রত্যাশা, সেটা একটু বাড়াবাড়ি রকমের। তবে এই দলের ক্রিকেটারদের সামর্থ্য এবং সম্ভাবনা আমি খুব ভালো বুঝি। তারা যদি আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী না খেলে তাহলেই কেবল আমি হতাশ হব।
আপনার সঙ্গিনী কিম আর নবজাত কন্যা স্টেলা তো এখন আপনার সঙ্গে ঢাকাতেই থাকছে। কেমন লাগছে নতুন জীবন?
সিডন্স: খুবই ক্লান্তিকর! আমার মেয়ে স্টেলা এখন বাংলাদেশেই থাকছে এবং আমাদের মতো সেও নতুন এই জীবনটাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। আমি খুবই আনন্দিত যে, আমরা সবাই এখন একসঙ্গে থাকতে পারছি। এতে আমি তাদের ওপর এবং বাংলাদেশ দলের ওপরও খুব সহজে পুরো মনোযোগ দিতে পারছি।
ঢাকার জীবন কতটা উপভোগ্য তাদের কাছে?
সিডন্স: দুই বছর ধরে আমার আর আমার সঙ্গিনী দুজনেরই এখানে ভালো সময় কাটছে। সবচেয়ে মজার হলো রাস্তায় একসঙ্গে হাঁটা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা। সবাই ক্রিকেট ভালোবাসে এবং আমি কে সেটাও খুব ভালো করে জানে সবাই! এটা হয়তো আমার গায়ের রং আর ‘হেয়ার কাটের’ কারণেই!
বাংলাদেশ দলটাকে শুরুতে যে অবস্থায় পেয়েছিলেন, এখন তার সঙ্গে কী পার্থক্য?
সিডন্স: উন্নতির জায়গাগুলো নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। আলাদা আলাদা জায়গায় উন্নতি সবার মধ্যেই আছে। আমি বুঝতে পারছি, অভিজ্ঞতা আর বেশি বেশি খেলার কারণে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে দলটার মধ্যে। এটা ঠিক, একটা তরুণ দল হিসেবে এখনো আমাদের কিছু দুর্বলতা আছে। দুই-একটা বাজে ম্যাচ তাই আসতেই পারে। তবে সব মিলিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী—এখন থেকে যত ম্যাচ আমরা খেলব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারব। উন্নতির কথা যদি নির্দিষ্ট করে বলতেই হয়, আমাদের খেলোয়াড়েরা এখন শর্ট পিচ বল ভালো খেলতে পারে। আর অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছাড়াটা..., বিশেষ করে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচে। আমাদের এক বা দুই...হয়তো তিনজন ক্রিকেটারই আছে যারা সত্যিকার অর্থেই ম্যাচ জেতাতে পারে এবং তারা আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার হিসেবেও দাঁড়িয়ে গেছে। তবে আমি মনে করি, উন্নতির একমাত্র মাপকাঠি হলো ফলাফল এবং আমার বিশ্বাস, দল হিসেবে প্রতিটি পারফরম্যান্স-ভিত্তিক ফলাফলেই আমরা উন্নতি দেখিয়েছি।
বিশ্বকাপের আগে আর কোথায় কোথায় উন্নতির দরকার আছে বলে মনে করেন?
সিডন্স: অনেক জায়গাতেই উন্নতি করতে হবে। প্রতিটি খেলোয়াড়েরই নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন আছে। আসলে কেউই বলতে পারবে না যে, দল হিসেবে আমাদের এই জায়গা বা ওই জায়গায় উন্নতির দরকার আছে। কোথায় উন্নতি দরকার সেটা প্রত্যেকের আলাদা আলাদা দুর্বলতা থেকেই বেরিয়ে আসে। এখন যেমন অনেকেই বলে দিচ্ছে, ‘ফিল্ডিংয়ে আমাদের উন্নতি আনতেই হবে।’ কিন্তু আমি বলব, আমাদের দলে বেশ কয়েকজন দুর্দান্ত ফিল্ডার আছে। সার্বিকভাবে আমাদের ফিল্ডিং খুব ভালো এবং আরও ভালো হচ্ছে। আবার এটাও ঠিক, আমাদের কিছু দুর্বল খেলোয়াড় আছে, ফিল্ডিংয়ে যারা আসলেই খারাপ। ফিল্ডিংটাকে তারাই মাঝেমধ্যে খুব সাধারণ মানে নামিয়ে আনে। নির্দিষ্ট এই কয়জনের ফিল্ডিং ভালো করার চেষ্টা আমাদের অবশ্যই করতে হবে। অথবা নতুন খেলোয়াড় খুঁজতে হবে, যারা ভালো ফিল্ডার। [/বাংলা]
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2009-10-11/news/11461
এক অর্থে নতুন জীবনই শুরু করলেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে নতুন চুক্তি করছেন ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। সঙ্গিনী কিম আর নবজাত কন্যা স্টেলাও তাই এখন ঢাকাবাসী।
তারেক মাহমুদকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ জেমি সিডন্সAজানালেন নতুন জীবনে নতুন লক্ষ্যের কথা
বাংলাদেশে ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত থেকে যাচ্ছেন। আপনিও এটাই চাচ্ছিলেন। চুক্তি বাড়ার পর প্রতিক্রিয়া কী?
জেমি সিডন্স: জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্য দুই বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করছি আমি। দলের উন্নতিতে তাই আমি খুব খুশি। আমাদের এখন এমন ক্রিকেটারও আছে যারা বড় বড় দলের অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। আমার খুবই ভালো লাগছে যে, চাইলেই আমি এখানে কোচ হিসেবে থেকে যেতে পারছি, দেখে যেতে পারব আমার চেষ্টা আগামী দুই বছরে এই ক্রিকেটারদের কোথায় নিয়ে যায়।
চুক্তিতে নতুন কোনো শর্ত কি যোগ হয়েছে? হলে কি আপনি সন্তুষ্ট তাতে?
সিডন্স: চুক্তিটা একান্তই ব্যক্তিগত। কাজেই আমি কেবল এটুকুই বলব, খুব ছোটখাটো কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে একমত হতেই হবে এমন কোনো ব্যাপার নেই।
২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত?
সিডন্স: আমি কখনো লক্ষ্য স্থির করি না। এসব ফালতু ব্যাপার। আর এসব নিয়ে কথা বলে কিছু পাওয়াও যায় না। আমার লক্ষ্য হলো প্রতিটি খেলোয়াড়ের দক্ষতা বাড়ানো, তাদের পথ দেখানো এবং আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব তাদের শেখানো যাতে ২০১১ বিশ্বকাপের আগেই তারা তাদের সেরা খেলাটা খেলতে শুরু করে। তারা যদি এটা করতে পারে, তাহলেই আমি খুশি হব। যেসব খেলোয়াড়কে নিয়ে কাজ করছি, তাদের খেলায় উন্নতি আনাই আমার কোচিংয়ের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ মেয়াদে সেটাই দলের জন্য ভালো।
আগামী বিশ্বকাপটা তো আপনার জন্যও একটা চ্যালেঞ্জ। এই প্রথম প্রধান কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে কোনো দলের সঙ্গে থাকবেন...
সিডন্স: কোনো টুর্নামেন্ট বা সিরিজই আমার কাছে অন্য আরেকটা সিরিজ বা টুর্নামেন্টের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং নয়। আমাদের দলের কাছে অন্যদের যা প্রত্যাশা, সেটা একটু বাড়াবাড়ি রকমের। তবে এই দলের ক্রিকেটারদের সামর্থ্য এবং সম্ভাবনা আমি খুব ভালো বুঝি। তারা যদি আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী না খেলে তাহলেই কেবল আমি হতাশ হব।
আপনার সঙ্গিনী কিম আর নবজাত কন্যা স্টেলা তো এখন আপনার সঙ্গে ঢাকাতেই থাকছে। কেমন লাগছে নতুন জীবন?
সিডন্স: খুবই ক্লান্তিকর! আমার মেয়ে স্টেলা এখন বাংলাদেশেই থাকছে এবং আমাদের মতো সেও নতুন এই জীবনটাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। আমি খুবই আনন্দিত যে, আমরা সবাই এখন একসঙ্গে থাকতে পারছি। এতে আমি তাদের ওপর এবং বাংলাদেশ দলের ওপরও খুব সহজে পুরো মনোযোগ দিতে পারছি।
ঢাকার জীবন কতটা উপভোগ্য তাদের কাছে?
সিডন্স: দুই বছর ধরে আমার আর আমার সঙ্গিনী দুজনেরই এখানে ভালো সময় কাটছে। সবচেয়ে মজার হলো রাস্তায় একসঙ্গে হাঁটা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা। সবাই ক্রিকেট ভালোবাসে এবং আমি কে সেটাও খুব ভালো করে জানে সবাই! এটা হয়তো আমার গায়ের রং আর ‘হেয়ার কাটের’ কারণেই!
বাংলাদেশ দলটাকে শুরুতে যে অবস্থায় পেয়েছিলেন, এখন তার সঙ্গে কী পার্থক্য?
সিডন্স: উন্নতির জায়গাগুলো নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। আলাদা আলাদা জায়গায় উন্নতি সবার মধ্যেই আছে। আমি বুঝতে পারছি, অভিজ্ঞতা আর বেশি বেশি খেলার কারণে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে দলটার মধ্যে। এটা ঠিক, একটা তরুণ দল হিসেবে এখনো আমাদের কিছু দুর্বলতা আছে। দুই-একটা বাজে ম্যাচ তাই আসতেই পারে। তবে সব মিলিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী—এখন থেকে যত ম্যাচ আমরা খেলব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারব। উন্নতির কথা যদি নির্দিষ্ট করে বলতেই হয়, আমাদের খেলোয়াড়েরা এখন শর্ট পিচ বল ভালো খেলতে পারে। আর অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছাড়াটা..., বিশেষ করে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচে। আমাদের এক বা দুই...হয়তো তিনজন ক্রিকেটারই আছে যারা সত্যিকার অর্থেই ম্যাচ জেতাতে পারে এবং তারা আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার হিসেবেও দাঁড়িয়ে গেছে। তবে আমি মনে করি, উন্নতির একমাত্র মাপকাঠি হলো ফলাফল এবং আমার বিশ্বাস, দল হিসেবে প্রতিটি পারফরম্যান্স-ভিত্তিক ফলাফলেই আমরা উন্নতি দেখিয়েছি।
বিশ্বকাপের আগে আর কোথায় কোথায় উন্নতির দরকার আছে বলে মনে করেন?
সিডন্স: অনেক জায়গাতেই উন্নতি করতে হবে। প্রতিটি খেলোয়াড়েরই নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন আছে। আসলে কেউই বলতে পারবে না যে, দল হিসেবে আমাদের এই জায়গা বা ওই জায়গায় উন্নতির দরকার আছে। কোথায় উন্নতি দরকার সেটা প্রত্যেকের আলাদা আলাদা দুর্বলতা থেকেই বেরিয়ে আসে। এখন যেমন অনেকেই বলে দিচ্ছে, ‘ফিল্ডিংয়ে আমাদের উন্নতি আনতেই হবে।’ কিন্তু আমি বলব, আমাদের দলে বেশ কয়েকজন দুর্দান্ত ফিল্ডার আছে। সার্বিকভাবে আমাদের ফিল্ডিং খুব ভালো এবং আরও ভালো হচ্ছে। আবার এটাও ঠিক, আমাদের কিছু দুর্বল খেলোয়াড় আছে, ফিল্ডিংয়ে যারা আসলেই খারাপ। ফিল্ডিংটাকে তারাই মাঝেমধ্যে খুব সাধারণ মানে নামিয়ে আনে। নির্দিষ্ট এই কয়জনের ফিল্ডিং ভালো করার চেষ্টা আমাদের অবশ্যই করতে হবে। অথবা নতুন খেলোয়াড় খুঁজতে হবে, যারা ভালো ফিল্ডার। [/বাংলা]
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2009-10-11/news/11461