Razi
August 14, 2010, 01:25 PM
[বাংলা]স্পিনারদের তাহলে কোচের দরকার নেই!
মাসুদ পারভেজ, কালের কণ্ঠ (http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Tourist&pub_no=254&cat_id=1&menu_id=18&news_type_id=1&index=0)
http://www.dailykalerkantho.com/admin/news_images/254/image_254_80730.jpg
ছাত্র নিজেই যখন পড়া বুঝে নিচ্ছে, তখন আর মাস্টারমশাইয়ের কী দরকার! এভাবে স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠা গেলে বাড়তি খরচের কী মানে! বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলেও চাইলে এমন ছাত্র খুঁজে পাওয়া যাবে বেশ কয়েকজনই! যাঁরা কিনা নিজেরাই গড়ে-পিঠে মানুষ হয়ে একেকজন দলের নির্ভরতার প্রতিশব্দও। ব্যাটিং এবং পেস বোলিংয়েও এমন নির্ভর করার মতো কেউ কেউ আছেন। ২০১১-র বিশ্বকাপ সামনে রেখে যাঁদের উপদেশ বিতরণ করতে আসবেন বিশ্ব ক্রিকেটের একগাদা কিংবদন্তিও। অথচ নিজে থেকে পড়া বুঝে নেওয়ার দায়িত্বটা যেন শুধু সাকিব আল হাসান ও আব্দুর রাজ্জাকদেরই!
দেশের মাটিতে খেলা হলে যাঁদের ঘিরেই সেজে ওঠে বাংলাদেশের রণকৌশল। বঞ্চনা ও উপেক্ষায় বাঁ হাতি স্পিনার রাজ্জাকের এ অভিমান তাই মোটেও ফেলনা নয়, 'সব সময় দেখি অ্যাটাক হয় স্পিন দিয়ে। আর কাজ হয় পেস নিয়ে।' শুধু জাতীয় দলের কথাইবা বলা কেন, পুরো বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামোই যেন স্পিন-বিমুখ। এখানে নামি মুঠোফোন সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় 'পেসার হান্ট' হয়। গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির অধীনে একটা পেস ফাউন্ডেশনও আছে। যেখানে সার্বক্ষণিক একজন কোচও দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। কিন্তু গণ্ডায় গণ্ডায় বাঁ হাতি স্পিনার জন্মানো এ উর্বর ভূমিতে একজন লেগস্পিনার কিংবা অফস্পিনার তৈরির কোনো উদ্যোগই নেই।
সেজন্যই বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ অধিনায়ক আমিনুল ইসলামকে আফসোস করে বলতে হয়, 'দুর্জয়ের (বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান) পর আর কোনো ভালো অফস্পিনার আমরা পেলাম না। আমাদের কবে একজন লেগস্পিনার ছিল, সেটা তো দূর অতীত। ওয়াহিদ ভাইয়ের (ওয়াহিদুল গণি) পর কেউ নেই।' ওয়াহিদুল ঘরোয়া ক্রিকেটেরও পাঠ চুকিয়ে ফেলেন সেই ১৯৯৬ সালে। আর ২০০২ সালের ডিসেম্বরে তাঁর ৮ টেস্টের ক্যারিয়ারের সর্বশেষটি খেলা নাঈমুরের বিদায়ের পর থেকে বাঁ হাতি স্পিনাররাই বাংলাদেশের রণসজ্জার মূলে। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে সফল এবং টেস্টে ১০০ উইকেট পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি বোলার মোহাম্মদ রফিকের কণ্ঠে কাল বিকেলেও শোনা গেল দীর্ঘশ্বাস, 'নিজের ভুল তো আর আমার চোখে ধরা পড়বে না। একজন স্পিন কোচ পেলে মনে হয় আমার পারফরম্যান্স আরো ভালো হতো।'
রফিকের ছায়ায় থাকায় একটা সময় উপকৃত হয়েছেন রাজ্জাকরাও। সে সময়টা খুব কাছ থেকে দেখা সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার অন্য অভাবটাই টের পেয়েছেন বেশি, 'আমাদের দলে সবাই ছিল বাঁ হাতি স্পিনার। ভেরিয়েশনের অভাব ভীষণ অনুভব করতাম তখন। এ জন্য একজন লেগস্পিনার কিংবা একজন অফস্পিনারের দরকার ছিল খুব। দলে বেশি স্পিনার থাকলেই শুধু হয় না, বৈচিত্র্য থাকাও জরুরি।' সেই বৈচিত্র্যের সন্ধান কি হয়? মোহাম্মদ আশরাফুল-শাহরিয়ার নাফীসদের 'গুরু' এবং বিসিবির কোচ ওয়াহিদুল গণির কাছ থেকেই একটু শোনা যাক, 'দেশে যখন খেলা হয়, তখন আমরা দুজন, এমনকি তিনজন স্পিনার খেলানোরও চিন্তা করি। অথচ বাস্তবে দেখা যায় স্পিনার তৈরির কোনো প্রোগ্রামই নেই।'
আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ-এপ্রিলে বিশ্বকাপ যেহেতু এই ভারতীয় উপমহাদেশেই, কাজেই অন্য মহাদেশের দলগুলো এখানে স্পিন সামলানোর প্রস্তুতি নিয়েই আসবে। আর নিজেদের চেনা পরিবেশে বাংলাদেশের স্পিনারদেরও তো আরো শানিত হওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে এ দেশের স্পিনারদের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞকে আনার নজির নেই। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন সিরাজ বলতে চাইলেন, 'একাডেমীতে আমরা স্পিন কোচ হিসেবে রুয়ান কালপাগেকে এনেছিলাম। জাতীয় দলেও কাজ করেছেন উনি।' তবে জাতীয় দলে কালপাগের ভিন্ন ভূমিকার কথা সিরাজ নিজেই স্বীকার করেছেন, 'কালপাগে অবশ্য জাতীয় দলে ফিল্ডিং কোচ ছিলেন কিছুদিন।' স্পিনারদের জন্য কোচের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও সেরকম কাউকে আনতে না পারার অক্ষমতা সিরাজ আড়াল করলেন এই বলে, 'আমাদের সাকিব দেখুন, র্যাংকিংয়ে অনেক ওপরের দিকে থাকা একজন বোলার। কোচ ছাড়াই যদি এতো ভালো করতে পারে, তাহলে কোচ পেলে নিশ্চয়ই আরো ভালো করত। কিন্তু স্পিনের জন্য তেমন ভালো কোচ তো আমরা পাচ্ছি না।'
কিন্তু এরই মধ্যে পেস বোলারদের জন্য ল্যান্স ক্লুজনারকে নিশ্চিত করা গেছে। উপদেষ্টা হিসেবে আসার কথা আছে ওয়াসিম আকরামেরও। ২০১১-র বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিল্ডিং কোচ জুলিয়েন ফাউন্টেন। কয়েক সপ্তাহের জন্য আসতে সম্মত হয়েছেন জন্টি রোডসও। ব্যাটিংয়ের জন্য হেড কোচ জেমি সিডন্স তো আছেনই। এর বাইরেও ব্যাটিং উপদেষ্টা হিসেবে আসার কথা জাভেদ মিয়াঁদাদ ও সৌরভ গাঙ্গুলীর। সবার সব কিছু হলো, হলো না কেবল স্পিনারদেরই। যা রাজ্জাকদের হাপিত্যেশ বাড়াবে বৈ কমাবে না, 'পরিণত হতে গেলে একজন ভালো কোচের পরামর্শ অবশ্যই দরকার। দেখি, পেস বোলিং গ্রুপ নিয়ে আলাদা কাজ হয়। ব্যাটসম্যানদের নিয়ে আলাদা কাজ হয়। তখন স্পিনার হিসেবে নিজেকে খুব একা মনে হয়।' এই একাকিত্ব তাঁকে বোঝায়, 'তুমি নিজেই তোমার কোচ।'
মাস্টারমশাই ছাড়া পড়া বুঝতে পারা ছাত্র![/বাংলা]
মাসুদ পারভেজ, কালের কণ্ঠ (http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Tourist&pub_no=254&cat_id=1&menu_id=18&news_type_id=1&index=0)
http://www.dailykalerkantho.com/admin/news_images/254/image_254_80730.jpg
ছাত্র নিজেই যখন পড়া বুঝে নিচ্ছে, তখন আর মাস্টারমশাইয়ের কী দরকার! এভাবে স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠা গেলে বাড়তি খরচের কী মানে! বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলেও চাইলে এমন ছাত্র খুঁজে পাওয়া যাবে বেশ কয়েকজনই! যাঁরা কিনা নিজেরাই গড়ে-পিঠে মানুষ হয়ে একেকজন দলের নির্ভরতার প্রতিশব্দও। ব্যাটিং এবং পেস বোলিংয়েও এমন নির্ভর করার মতো কেউ কেউ আছেন। ২০১১-র বিশ্বকাপ সামনে রেখে যাঁদের উপদেশ বিতরণ করতে আসবেন বিশ্ব ক্রিকেটের একগাদা কিংবদন্তিও। অথচ নিজে থেকে পড়া বুঝে নেওয়ার দায়িত্বটা যেন শুধু সাকিব আল হাসান ও আব্দুর রাজ্জাকদেরই!
দেশের মাটিতে খেলা হলে যাঁদের ঘিরেই সেজে ওঠে বাংলাদেশের রণকৌশল। বঞ্চনা ও উপেক্ষায় বাঁ হাতি স্পিনার রাজ্জাকের এ অভিমান তাই মোটেও ফেলনা নয়, 'সব সময় দেখি অ্যাটাক হয় স্পিন দিয়ে। আর কাজ হয় পেস নিয়ে।' শুধু জাতীয় দলের কথাইবা বলা কেন, পুরো বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামোই যেন স্পিন-বিমুখ। এখানে নামি মুঠোফোন সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় 'পেসার হান্ট' হয়। গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির অধীনে একটা পেস ফাউন্ডেশনও আছে। যেখানে সার্বক্ষণিক একজন কোচও দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। কিন্তু গণ্ডায় গণ্ডায় বাঁ হাতি স্পিনার জন্মানো এ উর্বর ভূমিতে একজন লেগস্পিনার কিংবা অফস্পিনার তৈরির কোনো উদ্যোগই নেই।
সেজন্যই বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ অধিনায়ক আমিনুল ইসলামকে আফসোস করে বলতে হয়, 'দুর্জয়ের (বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান) পর আর কোনো ভালো অফস্পিনার আমরা পেলাম না। আমাদের কবে একজন লেগস্পিনার ছিল, সেটা তো দূর অতীত। ওয়াহিদ ভাইয়ের (ওয়াহিদুল গণি) পর কেউ নেই।' ওয়াহিদুল ঘরোয়া ক্রিকেটেরও পাঠ চুকিয়ে ফেলেন সেই ১৯৯৬ সালে। আর ২০০২ সালের ডিসেম্বরে তাঁর ৮ টেস্টের ক্যারিয়ারের সর্বশেষটি খেলা নাঈমুরের বিদায়ের পর থেকে বাঁ হাতি স্পিনাররাই বাংলাদেশের রণসজ্জার মূলে। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে সফল এবং টেস্টে ১০০ উইকেট পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি বোলার মোহাম্মদ রফিকের কণ্ঠে কাল বিকেলেও শোনা গেল দীর্ঘশ্বাস, 'নিজের ভুল তো আর আমার চোখে ধরা পড়বে না। একজন স্পিন কোচ পেলে মনে হয় আমার পারফরম্যান্স আরো ভালো হতো।'
রফিকের ছায়ায় থাকায় একটা সময় উপকৃত হয়েছেন রাজ্জাকরাও। সে সময়টা খুব কাছ থেকে দেখা সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার অন্য অভাবটাই টের পেয়েছেন বেশি, 'আমাদের দলে সবাই ছিল বাঁ হাতি স্পিনার। ভেরিয়েশনের অভাব ভীষণ অনুভব করতাম তখন। এ জন্য একজন লেগস্পিনার কিংবা একজন অফস্পিনারের দরকার ছিল খুব। দলে বেশি স্পিনার থাকলেই শুধু হয় না, বৈচিত্র্য থাকাও জরুরি।' সেই বৈচিত্র্যের সন্ধান কি হয়? মোহাম্মদ আশরাফুল-শাহরিয়ার নাফীসদের 'গুরু' এবং বিসিবির কোচ ওয়াহিদুল গণির কাছ থেকেই একটু শোনা যাক, 'দেশে যখন খেলা হয়, তখন আমরা দুজন, এমনকি তিনজন স্পিনার খেলানোরও চিন্তা করি। অথচ বাস্তবে দেখা যায় স্পিনার তৈরির কোনো প্রোগ্রামই নেই।'
আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ-এপ্রিলে বিশ্বকাপ যেহেতু এই ভারতীয় উপমহাদেশেই, কাজেই অন্য মহাদেশের দলগুলো এখানে স্পিন সামলানোর প্রস্তুতি নিয়েই আসবে। আর নিজেদের চেনা পরিবেশে বাংলাদেশের স্পিনারদেরও তো আরো শানিত হওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে এ দেশের স্পিনারদের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞকে আনার নজির নেই। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন সিরাজ বলতে চাইলেন, 'একাডেমীতে আমরা স্পিন কোচ হিসেবে রুয়ান কালপাগেকে এনেছিলাম। জাতীয় দলেও কাজ করেছেন উনি।' তবে জাতীয় দলে কালপাগের ভিন্ন ভূমিকার কথা সিরাজ নিজেই স্বীকার করেছেন, 'কালপাগে অবশ্য জাতীয় দলে ফিল্ডিং কোচ ছিলেন কিছুদিন।' স্পিনারদের জন্য কোচের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও সেরকম কাউকে আনতে না পারার অক্ষমতা সিরাজ আড়াল করলেন এই বলে, 'আমাদের সাকিব দেখুন, র্যাংকিংয়ে অনেক ওপরের দিকে থাকা একজন বোলার। কোচ ছাড়াই যদি এতো ভালো করতে পারে, তাহলে কোচ পেলে নিশ্চয়ই আরো ভালো করত। কিন্তু স্পিনের জন্য তেমন ভালো কোচ তো আমরা পাচ্ছি না।'
কিন্তু এরই মধ্যে পেস বোলারদের জন্য ল্যান্স ক্লুজনারকে নিশ্চিত করা গেছে। উপদেষ্টা হিসেবে আসার কথা আছে ওয়াসিম আকরামেরও। ২০১১-র বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিল্ডিং কোচ জুলিয়েন ফাউন্টেন। কয়েক সপ্তাহের জন্য আসতে সম্মত হয়েছেন জন্টি রোডসও। ব্যাটিংয়ের জন্য হেড কোচ জেমি সিডন্স তো আছেনই। এর বাইরেও ব্যাটিং উপদেষ্টা হিসেবে আসার কথা জাভেদ মিয়াঁদাদ ও সৌরভ গাঙ্গুলীর। সবার সব কিছু হলো, হলো না কেবল স্পিনারদেরই। যা রাজ্জাকদের হাপিত্যেশ বাড়াবে বৈ কমাবে না, 'পরিণত হতে গেলে একজন ভালো কোচের পরামর্শ অবশ্যই দরকার। দেখি, পেস বোলিং গ্রুপ নিয়ে আলাদা কাজ হয়। ব্যাটসম্যানদের নিয়ে আলাদা কাজ হয়। তখন স্পিনার হিসেবে নিজেকে খুব একা মনে হয়।' এই একাকিত্ব তাঁকে বোঝায়, 'তুমি নিজেই তোমার কোচ।'
মাস্টারমশাই ছাড়া পড়া বুঝতে পারা ছাত্র![/বাংলা]