al-Sagar
August 22, 2010, 11:20 PM
উজ্জ্বল আগামীর নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি (http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Car&pub_no=263&cat_id=1&menu_id=18&news_type_id=1&index=1)
মাসুদ পারভেজ
বাবা মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন ফুটবলার মোনেম মুন্নার পাঁড় ভক্ত। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে জন্ম নেওয়া ছেলের ডাকনাম তাই রাখলেন মুন্না। আর নানির রাখা ভালো নামটাও সে সময়ের খুব আলোচিত। তিনি অবশ্য অত কিছু ভেবে নামটা রাখেননি। তবে সেটি এক বিপ্লবীর নাম, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেন। সেদিনের সেই নবজাতক, এখন বছর বিশেকের তরুণ নূর হোসেন মুন্নার সঙ্গেও কিন্তু 'বিপ্লব' শব্দটা মানানসই। তাঁর মধ্যেই যে বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায় লেগ স্পিন চর্চায় বিপ্লবের সূচনা দেখতে পাচ্ছেন অনেকে।
ওয়াহিদুল গণির পর আর সেই মানের কোনো লেগ স্পিনার এ দেশ পেল না, বাংলাদেশের ক্রিকেটে কান পাতলেই শোনা যায় এ দীর্ঘশ্বাস। জাতীয় দলে শুধুই লেগ স্পিনার হিসেবে কারো সুযোগ পাওয়ার সর্বশেষ ঘটনাও তো এক যুগের বেশি আগের। মোসাদ্দেক হোসেন রুবেলের পর আর কেউ নন। এখন যে দেশে বাঁহাতি স্পিনারের কোনো অভাব নেই, জাতীয় দলের হয়ে এ ধরনের বোলারের সাফল্যই এর কারণ। অথচ লেগ স্পিনার হওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহী করে তোলার মতো সে রকম কোনো 'নায়ক' এখনো নেই। নূর হোসেন মুন্নার মধ্যে তেমনই এক নায়কের ছবি দেখতে পাচ্ছেন সাবেক লেগ স্পিনার ওয়াহিদুল।
এটা সত্যি হলে আবারও সংবাদের শিরোনামে আসবেন মোহাম্মদ আশরাফুল আর শাহরিয়ার নাফীসদের গুরু। ২০০২ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৩ দল নিয়ে গেলেন শিলিগুড়ি সফরে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সামান্য লেগ স্পিন করতে জানা এক বালকের পেছনে তখন থেকেই লেগে থাকলেন। এরপর অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭ ও ১৯ হয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়েও খেলা মুন্নার বর্তমান অবস্থা ওয়াহিদুল বিশ্লেষণ করলেন এভাবে, 'ও বিগ টার্নার। স্পিন বোলারের সবচেয়ে বড় গুণ এটাই। বোলিংয়ের বৈচিত্র্যও দারুণ। গুগলি, টপ স্পিন, ফ্লিপার_সবই করতে পারে।'
যার ভিত্তিতে ওয়াহিদুল একটা সিদ্ধান্তেও পেঁৗছে যেতে পারছেন, 'হাত-পা একটু বেশি ছোড়ে। অ্যাকশনের এ সমস্যাটা ঠিক করে ফেললে ওর বোলিংয়ের ধার আরো বাড়বে। এভাবে এগোতে থাকলে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে মুন্না বাংলাদেশের স্ট্রাইক বোলার হয়ে যাবে।' গুরুসুলভ স্নেহবাৎসল্য থেকে বলা কথাও মনে হতে পারে কারো কারো। কিন্তু প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম ভবিষ্যতের জাতীয় দলে যাঁদের দেখতে পান, তাঁদের মধ্যে মুন্নাও তো আছেন, 'একজন ভালো লেগ স্পিনারের সব গুণাবলিই ওর আছে। তবে আরো সময় লাগবে।' সময়ে এমন আরো বেশ কয়েকজনেরই পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় আছেন দুই সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন ও খালেদ মাহমুদ।
মিনহাজুল যেমন ক্ষণিকের দেখায় একজনের ব্যাটিংয়ে রীতিমতো বুঁদ হয়ে গিয়েছিলেন, 'প্রথম বিভাগের এক ম্যাচে সাত-আট ওভার ব্যাটিং দেখেছিলাম ওর। তাতেই ও আমার মন জয় করে ফেলেছিল। পরে দেখলাম, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করছে। পরিচর্যা পেলে এ ছেলেটা দেশকে খুব ভালো সার্ভিস দেবে।' সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের সেন্টার অব অ্যাক্সিলেন্স থেকে মুন্নার সঙ্গেই উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা শুভাগত হোম নামের সেই ছেলেটায় মুগ্ধ জাতীয় দলের সহকারী কোচ মাহমুদও, 'পাওয়ারফুল হিটার অব দ্য বল। ভীষণ অ্যাটাকিং ব্যাটসম্যান। ওকে নিয়ে কাজ করার আছে। আগামী দুই বছরের মধ্যেই জাতীয় দলে আসতে পারে।'
জাতীয় দল যে শুভাগতের দৃষ্টিসীমায়ই, সেটা আরো স্পষ্ট হয় প্রধান নির্বাচকের কথায়, 'সব ধরনের শট খেলতে পারে। বড় ইনিংস খেলারও ক্ষমতা আছে। একজন পরিপূর্ণ ব্যাটসম্যান হওয়ার পথেই আছে ও।' আগামীতে চোখ রেখে পরিপূর্ণ অলরাউন্ডারও দেখতে পাচ্ছেন এ সাবেক ক্রিকেটাররা। সেই চৌকসদের মধ্যে অন্যতম সাবি্বর রহমান রোমান সম্পর্কে ওয়াহিদুলের বক্তব্য শুনুন, 'সব ধরনের শট খেলতে জানে। দুর্দান্ত ফিল্ডার। প্লাস পয়েন্ট ওর লেগ স্পিন। দলে ঢুকে আবার হারিয়ে যাওয়ার মতো ক্রিকেটার ও নয়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উপযুক্ত হতে আরো তিন-চার বছর লাগবে ওর।' অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে তাঁকে কাছ থেকে দেখা মিনহাজুল অবশ্য বলেছেন, 'এখন যে অবস্থায় আছে, সেটা ধরে রাখতে পারলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই জাতীয় দলে আসবে রোমান।'
গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান লিমনকে নিয়েও তেমনই উচ্ছ্বসিত মিনহাজুল, 'দেশে ভালো মানের অফ স্পিনারের সংকটের মধ্যেই ও ধারাবাহিকভাবে ভালো করে যাচ্ছে। প্লাস পয়েন্ট, ও দুর্দান্ত মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানও। দুয়ে মিলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মান ওর আছে।' প্রধান নির্বাচক রফিকুল তো এককথায়ই সব বলে দিতে চাইলেন, 'ভেরি গুড ক্রিকেট ব্রেইন।'
সামর্থ্যের ঝলক দেখে যেমন মাহমুদের মস্তিষ্কেই ঢুকে গেছে আবুল হাসান রাজুর নাম, 'ওর মধ্যে ভবিষ্যতের অনেক বড় এক পেস বোলারকে দেখি আমি।' ২০০৮-০৯ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে তাঁর দল ওল্ড ডিওএইচএস সুপার লিগেই ওঠেনি, অথচ রাজু মাত্র ১০ ম্যাচ খেলেই সেবারের সর্বাধিক উইকেটশিকারি (২৯ উইকেট)। এ পেসারের মধ্যে দরকারি সব গুণাবলিই দেখেন মিনহাজুল, 'তরুণ ফাস্ট বোলারদের মধ্যে ওর বেসিকই সবচেয়ে ভালো। সবচেয়ে ভালো সুইং করাতে জানে। সিমটা খুব ভালো ব্যবহার করে। পেসের চেয়ে ওর সুইং করানোর ক্ষমতাই আমাকে বেশি টানে।'
রাজু যেমন বোলিং দিয়ে, তেমনি ব্যাটিং দিয়ে মিনহাজুলের নজরে পড়েছেন আনামুল হক বিজয়, 'অল্প বয়সে এত স্ট্রোক খেলা কাউকে আমাদের সময় অন্তত পাইনি। এর সঙ্গে উইকেটকিপিংটা ওর বাড়তি গুণ।' মাহমুদের চোখে যাঁর ব্যাটিং 'ভয়ডরহীন'। তবে উইকেটকিপিং ও ব্যাটিং_দুটিই বেশ ভালো করতে জানেন বলে ভবিষ্যতের জাতীয় দলে নুরুল হাসান সোহানকেই উইকেট আগলাতে দেখেন ওয়াহিদুল গণি, 'উইকেটকিপার বাছতে গেলে আমরা আগে দেখি ব্যাটিং পারে কি না। ও ব্যাটিং তো পারেই, নতুন প্রজন্মের কিপারদের সবার চেয়ে এগিয়েও। ওকে মুশফিকের চেয়েও এগিয়ে রাখি আমি। তিন-চার বছরের মধ্যে ও আরো পরিণত হয়ে জাতীয় দলে আসবে বলে আশা রাখি।' একই আশা মাহমুদেরও, 'অনেক দিন পর এমন একজন উইকেটকিপার দেখলাম। মুশফিকের পর যদি কারো কথা ভাবা হয়, তাহলে ওর কথাই ভাবা যেতে পারে।'
জানুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে কোচ মিনহাজুল বলেছিলেন, 'আমার দলে এমন দুজন আছে, যারা কিনা এখনই জাতীয় দলে খেলতে পারে।' তাঁদেরই একজন বাঁহাতি স্পিনার শাকের চৌধুরীকে অবশ্য ওয়াহিদুল আরো সময় দিতে চান, 'টার্ন করানোর ক্ষমতা আছে। লুপ খুব ভালো। দারুণ ছন্দোময় অ্যাকশন। দ্রুত শেখে। বাড়তি গুণ ভালো ফিল্ডার ও লোয়ার অর্ডারে ব্যাট চালাতে পারে। তবে আরেকটু সময় লাগবে। আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে জেনুইন স্পিনার হিসেবেই জাতীয় দলে আসতে পারে ও।'
জাতীয় দলে শাকেরের আদর্শ সাকিব আল হাসান। কিন্তু লেগ স্পিনারদের জন্য তেমন কেউ হতে গেলে রীতিমতো বিপ্লবই ঘটাতে হবে নূর হোসেন মুন্নাকে!
মাসুদ পারভেজ
বাবা মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন ফুটবলার মোনেম মুন্নার পাঁড় ভক্ত। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে জন্ম নেওয়া ছেলের ডাকনাম তাই রাখলেন মুন্না। আর নানির রাখা ভালো নামটাও সে সময়ের খুব আলোচিত। তিনি অবশ্য অত কিছু ভেবে নামটা রাখেননি। তবে সেটি এক বিপ্লবীর নাম, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেন। সেদিনের সেই নবজাতক, এখন বছর বিশেকের তরুণ নূর হোসেন মুন্নার সঙ্গেও কিন্তু 'বিপ্লব' শব্দটা মানানসই। তাঁর মধ্যেই যে বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায় লেগ স্পিন চর্চায় বিপ্লবের সূচনা দেখতে পাচ্ছেন অনেকে।
ওয়াহিদুল গণির পর আর সেই মানের কোনো লেগ স্পিনার এ দেশ পেল না, বাংলাদেশের ক্রিকেটে কান পাতলেই শোনা যায় এ দীর্ঘশ্বাস। জাতীয় দলে শুধুই লেগ স্পিনার হিসেবে কারো সুযোগ পাওয়ার সর্বশেষ ঘটনাও তো এক যুগের বেশি আগের। মোসাদ্দেক হোসেন রুবেলের পর আর কেউ নন। এখন যে দেশে বাঁহাতি স্পিনারের কোনো অভাব নেই, জাতীয় দলের হয়ে এ ধরনের বোলারের সাফল্যই এর কারণ। অথচ লেগ স্পিনার হওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহী করে তোলার মতো সে রকম কোনো 'নায়ক' এখনো নেই। নূর হোসেন মুন্নার মধ্যে তেমনই এক নায়কের ছবি দেখতে পাচ্ছেন সাবেক লেগ স্পিনার ওয়াহিদুল।
এটা সত্যি হলে আবারও সংবাদের শিরোনামে আসবেন মোহাম্মদ আশরাফুল আর শাহরিয়ার নাফীসদের গুরু। ২০০২ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৩ দল নিয়ে গেলেন শিলিগুড়ি সফরে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সামান্য লেগ স্পিন করতে জানা এক বালকের পেছনে তখন থেকেই লেগে থাকলেন। এরপর অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭ ও ১৯ হয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়েও খেলা মুন্নার বর্তমান অবস্থা ওয়াহিদুল বিশ্লেষণ করলেন এভাবে, 'ও বিগ টার্নার। স্পিন বোলারের সবচেয়ে বড় গুণ এটাই। বোলিংয়ের বৈচিত্র্যও দারুণ। গুগলি, টপ স্পিন, ফ্লিপার_সবই করতে পারে।'
যার ভিত্তিতে ওয়াহিদুল একটা সিদ্ধান্তেও পেঁৗছে যেতে পারছেন, 'হাত-পা একটু বেশি ছোড়ে। অ্যাকশনের এ সমস্যাটা ঠিক করে ফেললে ওর বোলিংয়ের ধার আরো বাড়বে। এভাবে এগোতে থাকলে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে মুন্না বাংলাদেশের স্ট্রাইক বোলার হয়ে যাবে।' গুরুসুলভ স্নেহবাৎসল্য থেকে বলা কথাও মনে হতে পারে কারো কারো। কিন্তু প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম ভবিষ্যতের জাতীয় দলে যাঁদের দেখতে পান, তাঁদের মধ্যে মুন্নাও তো আছেন, 'একজন ভালো লেগ স্পিনারের সব গুণাবলিই ওর আছে। তবে আরো সময় লাগবে।' সময়ে এমন আরো বেশ কয়েকজনেরই পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় আছেন দুই সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন ও খালেদ মাহমুদ।
মিনহাজুল যেমন ক্ষণিকের দেখায় একজনের ব্যাটিংয়ে রীতিমতো বুঁদ হয়ে গিয়েছিলেন, 'প্রথম বিভাগের এক ম্যাচে সাত-আট ওভার ব্যাটিং দেখেছিলাম ওর। তাতেই ও আমার মন জয় করে ফেলেছিল। পরে দেখলাম, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করছে। পরিচর্যা পেলে এ ছেলেটা দেশকে খুব ভালো সার্ভিস দেবে।' সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের সেন্টার অব অ্যাক্সিলেন্স থেকে মুন্নার সঙ্গেই উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা শুভাগত হোম নামের সেই ছেলেটায় মুগ্ধ জাতীয় দলের সহকারী কোচ মাহমুদও, 'পাওয়ারফুল হিটার অব দ্য বল। ভীষণ অ্যাটাকিং ব্যাটসম্যান। ওকে নিয়ে কাজ করার আছে। আগামী দুই বছরের মধ্যেই জাতীয় দলে আসতে পারে।'
জাতীয় দল যে শুভাগতের দৃষ্টিসীমায়ই, সেটা আরো স্পষ্ট হয় প্রধান নির্বাচকের কথায়, 'সব ধরনের শট খেলতে পারে। বড় ইনিংস খেলারও ক্ষমতা আছে। একজন পরিপূর্ণ ব্যাটসম্যান হওয়ার পথেই আছে ও।' আগামীতে চোখ রেখে পরিপূর্ণ অলরাউন্ডারও দেখতে পাচ্ছেন এ সাবেক ক্রিকেটাররা। সেই চৌকসদের মধ্যে অন্যতম সাবি্বর রহমান রোমান সম্পর্কে ওয়াহিদুলের বক্তব্য শুনুন, 'সব ধরনের শট খেলতে জানে। দুর্দান্ত ফিল্ডার। প্লাস পয়েন্ট ওর লেগ স্পিন। দলে ঢুকে আবার হারিয়ে যাওয়ার মতো ক্রিকেটার ও নয়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উপযুক্ত হতে আরো তিন-চার বছর লাগবে ওর।' অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে তাঁকে কাছ থেকে দেখা মিনহাজুল অবশ্য বলেছেন, 'এখন যে অবস্থায় আছে, সেটা ধরে রাখতে পারলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই জাতীয় দলে আসবে রোমান।'
গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান লিমনকে নিয়েও তেমনই উচ্ছ্বসিত মিনহাজুল, 'দেশে ভালো মানের অফ স্পিনারের সংকটের মধ্যেই ও ধারাবাহিকভাবে ভালো করে যাচ্ছে। প্লাস পয়েন্ট, ও দুর্দান্ত মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানও। দুয়ে মিলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার মান ওর আছে।' প্রধান নির্বাচক রফিকুল তো এককথায়ই সব বলে দিতে চাইলেন, 'ভেরি গুড ক্রিকেট ব্রেইন।'
সামর্থ্যের ঝলক দেখে যেমন মাহমুদের মস্তিষ্কেই ঢুকে গেছে আবুল হাসান রাজুর নাম, 'ওর মধ্যে ভবিষ্যতের অনেক বড় এক পেস বোলারকে দেখি আমি।' ২০০৮-০৯ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে তাঁর দল ওল্ড ডিওএইচএস সুপার লিগেই ওঠেনি, অথচ রাজু মাত্র ১০ ম্যাচ খেলেই সেবারের সর্বাধিক উইকেটশিকারি (২৯ উইকেট)। এ পেসারের মধ্যে দরকারি সব গুণাবলিই দেখেন মিনহাজুল, 'তরুণ ফাস্ট বোলারদের মধ্যে ওর বেসিকই সবচেয়ে ভালো। সবচেয়ে ভালো সুইং করাতে জানে। সিমটা খুব ভালো ব্যবহার করে। পেসের চেয়ে ওর সুইং করানোর ক্ষমতাই আমাকে বেশি টানে।'
রাজু যেমন বোলিং দিয়ে, তেমনি ব্যাটিং দিয়ে মিনহাজুলের নজরে পড়েছেন আনামুল হক বিজয়, 'অল্প বয়সে এত স্ট্রোক খেলা কাউকে আমাদের সময় অন্তত পাইনি। এর সঙ্গে উইকেটকিপিংটা ওর বাড়তি গুণ।' মাহমুদের চোখে যাঁর ব্যাটিং 'ভয়ডরহীন'। তবে উইকেটকিপিং ও ব্যাটিং_দুটিই বেশ ভালো করতে জানেন বলে ভবিষ্যতের জাতীয় দলে নুরুল হাসান সোহানকেই উইকেট আগলাতে দেখেন ওয়াহিদুল গণি, 'উইকেটকিপার বাছতে গেলে আমরা আগে দেখি ব্যাটিং পারে কি না। ও ব্যাটিং তো পারেই, নতুন প্রজন্মের কিপারদের সবার চেয়ে এগিয়েও। ওকে মুশফিকের চেয়েও এগিয়ে রাখি আমি। তিন-চার বছরের মধ্যে ও আরো পরিণত হয়ে জাতীয় দলে আসবে বলে আশা রাখি।' একই আশা মাহমুদেরও, 'অনেক দিন পর এমন একজন উইকেটকিপার দেখলাম। মুশফিকের পর যদি কারো কথা ভাবা হয়, তাহলে ওর কথাই ভাবা যেতে পারে।'
জানুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে কোচ মিনহাজুল বলেছিলেন, 'আমার দলে এমন দুজন আছে, যারা কিনা এখনই জাতীয় দলে খেলতে পারে।' তাঁদেরই একজন বাঁহাতি স্পিনার শাকের চৌধুরীকে অবশ্য ওয়াহিদুল আরো সময় দিতে চান, 'টার্ন করানোর ক্ষমতা আছে। লুপ খুব ভালো। দারুণ ছন্দোময় অ্যাকশন। দ্রুত শেখে। বাড়তি গুণ ভালো ফিল্ডার ও লোয়ার অর্ডারে ব্যাট চালাতে পারে। তবে আরেকটু সময় লাগবে। আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে জেনুইন স্পিনার হিসেবেই জাতীয় দলে আসতে পারে ও।'
জাতীয় দলে শাকেরের আদর্শ সাকিব আল হাসান। কিন্তু লেগ স্পিনারদের জন্য তেমন কেউ হতে গেলে রীতিমতো বিপ্লবই ঘটাতে হবে নূর হোসেন মুন্নাকে!