Nafis 1718
September 8, 2010, 03:15 AM
—সানগ্লাস পরা প্লেয়ারটা কে রে?
—রিয়াদরে চিনস না! তরে এহানে ঢুকতে দিছে কে...?
কুর্মিটোলা গলফ কোর্সের পার্টিং সাইডে দাঁড়ানো দুই বলবয়ের কথোপকথন কৌতূহল জাগাল। আসলেই তো, খেলাধুলার মানুষ হয়েও জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহকে (রিয়াদ) না চেনার কী কারণ? কারণ হয়তো একটাই—গলফের বলবয়-ক্যাডিদের কাছে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকুর রহিমদের চেয়েও যে বড় তারকা সিদ্দিকুর রহমান!
ইউরোপিয়ান ট্যুরে অভিষিক্ত হয়ে দেশে ফিরে পরশু রাতেই আবার সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশের গলফের সবচেয়ে বড় তারকা সিদ্দিকুর। সিদ্দিকুর থাকলে কাল সকালে কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে ক্রিকেটারদের আনন্দ ভ্রমণে বাড়তি রং চড়তে পারত। তবে সিদ্দিকুর নেই বলে যে ব্যাপারটা খুব বিবর্ণ হয়ে গেছে, তা নয়। মোহাম্মদ আশরাফুল-মুশফিকুর রহিমরা পাক্কা দুই ঘন্টা যেভাবে গলফ কোর্স দাপিয়ে বেড়ালেন, তাঁদের কিন্তু একদমই ক্রিকেটার মনে হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, একেকজন সত্যিকারের গলফার!
তা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের অনুশীলন ছেড়ে ক্রিকেটাররা হঠাৎ কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে কেন? আইডিয়াটা কুর্মিটোলায় প্রায়ই গলফ খেলতে যাওয়া কোচ জেমি সিডন্সের, ব্যাখ্যাটাও তাঁর কাছ থেকেই শোনা যাক, ‘শুধুই মজা করার জন্য। টানা প্র্যাকটিসের একঘেঁয়েমি থেকে বের করে আনতে চেয়েছি ক্রিকেটারদের। দুই বছরের বেশি হয়ে গেছে আমি বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করছি, খেলা-টেলা ছাড়া কখনোই ছেলেদের নিয়ে কোথাও যাইনি। ভাবলাম, এখানে এলে সবাই মজা করতে পারবে, কাজও হবে।’
হ্যাঁ, মজার আড়ালে একটা ‘কাজ’ও লুকিয়ে রেখেছিলেন সিডন্স। ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের ভালো ব্যাটিংয়ের জন্য ব্যাট সুইং খুব গুরুত্বপূর্ণ। গলফেও নাকি ড্রাইভ করার সময় ক্লাব ওপর থেকে নামিয়ে এনে বলে জুতসই হিট করার সঙ্গে মিশে আছে সুইং ব্যাপারটা। কাজেই গলফে যে ভালো ড্রাইভ মারতে পারবে, ক্রিকেট ব্যাট হাতে তার ব্যাট সুইংও তত ভালো হওয়ার কথা।
কিছুক্ষণ ড্রাইভ অনুশীলনের পর মোহাম্মদ আশরাফুল মানলেন সত্যিটা, ‘ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আসলেই কিছু মিল আছে গলফের। ব্যাট সুইং দুই জায়গায়ই একই রকম।’ এই পর্যন্তই, নইলে ছুটির মতো দিনটাতে ক্রিকেটাররা তত্ত্বকথা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামালেন না। জেমি সিডন্সও স্কুলমাস্টারের মতো গলফ কোর্সে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট শেখাতে গেলেন না কাউকে। আসলে কারও জন্যই ধরাবাঁধা কিছু ছিল না কালকের গলফ-অভিযানে। ড্রাইভিং রেঞ্জ আর পার্টিং সাইডে ছড়িয়ে পড়ে পিকনিক-গলফের মজাটাই নিলেন ক্রিকেটার আর কোচিং স্টাফের সদস্যরা।
ভিড় প্রথমে ড্রাইভিং রেঞ্জেই বেশি ছিল। কুর্মিটোলার সবুজ সমারোহের মাঝে বিশাল জালে ঘেরা জায়গাটা ড্রাইভ অনুশীলনের জন্য। ক্রিকেটারদের মধ্যে সেখানেই হয়ে গেল ‘কে কত দূরে নিতে পারে’র প্রতিযোগিতা। অধিনায়ক মাশরাফি দুবারই বল জাল পার করে ফেললেন। ড্রাইভ করার সময় ডান পায়ের হাঁটুতে টান লাগছিল বলে এটা আর বেশি করতে গেলেন না। অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে শুনেছিলেন, টাইগার উডসেরও নাকি হাঁটুতে তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। সে কারণেই বাড়তি সতর্কতা। তবে বলার সময় মজা করে বললেন, ‘চারবারের মধ্যে দুবারই জাল পার করেছি। এখানে আর আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।’
মুশফিকুরকে অবশ্য অনেক বেশি সিরিয়াস মনে হলো গলফ নিয়ে। মাথায় সাদা ক্যাপ। পায়ে সাদা কেডস। পরনে কালো টি-শার্ট আর ঘিয়া রঙের শটস—পুরোদস্তুর গলফারের সাজে বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার ভবিষ্যতে ক্রিকেট ছেড়ে গলফেই নাম লেখান কি না, কে জানে! প্রতিটা ড্রাইভ করার আগে ক্যাডির কাছ থেকে বুঝে নিচ্ছিলেন ক্লাব কীভাবে ধরলে ভালো হবে, দাঁড়ানোর সময় দুই পায়ের ব্যবধান আরও কতটা বাড়ানো দরকার ইত্যাদি ইত্যাদি। পরে পার্টিং সাইডের ছিদ্রান্বেষী খেলায়ও তাঁকেই দেখা গেল সবচেয়ে বেশি সিরিয়াস। ক্লাব দিয়ে ঠেলে বল গর্তে ফেলায় ক্রিকেটারদের উৎসাহ দেখে সিডন্স ছোটখাটো একটা প্রতিযোগিতারও আয়োজন করে ফেললেন। কে কত কম শটে চারটা গর্তেই বল ফেলতে পারেন, তার প্রতিযোগিতা। ১০ শটে কাজটা করে ‘চ্যাম্পিয়ন’ মুশফিকুর সাফল্যের আনন্দে দারুণ উল্লসিত। কুর্মিটোলার বলবয়-ক্যাডিরা জানালেন অকৃপণ অভিনন্দন।
ক্রিকেটের সঙ্গে গলফের সম্পর্ক খোঁজার কি আর দরকার আছে? কেবল নির্মল বিনোদনের জন্যও যে মাঝেমধ্যে এমন বাধাহীন দিন দরকার ক্রিকেটারদের জীবনে, কুর্মিটোলা গলফ কোর্সের কালকের সকালটা যেন তারই বিজ্ঞাপন।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-09-08/news/92848
—রিয়াদরে চিনস না! তরে এহানে ঢুকতে দিছে কে...?
কুর্মিটোলা গলফ কোর্সের পার্টিং সাইডে দাঁড়ানো দুই বলবয়ের কথোপকথন কৌতূহল জাগাল। আসলেই তো, খেলাধুলার মানুষ হয়েও জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহকে (রিয়াদ) না চেনার কী কারণ? কারণ হয়তো একটাই—গলফের বলবয়-ক্যাডিদের কাছে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকুর রহিমদের চেয়েও যে বড় তারকা সিদ্দিকুর রহমান!
ইউরোপিয়ান ট্যুরে অভিষিক্ত হয়ে দেশে ফিরে পরশু রাতেই আবার সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশের গলফের সবচেয়ে বড় তারকা সিদ্দিকুর। সিদ্দিকুর থাকলে কাল সকালে কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে ক্রিকেটারদের আনন্দ ভ্রমণে বাড়তি রং চড়তে পারত। তবে সিদ্দিকুর নেই বলে যে ব্যাপারটা খুব বিবর্ণ হয়ে গেছে, তা নয়। মোহাম্মদ আশরাফুল-মুশফিকুর রহিমরা পাক্কা দুই ঘন্টা যেভাবে গলফ কোর্স দাপিয়ে বেড়ালেন, তাঁদের কিন্তু একদমই ক্রিকেটার মনে হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, একেকজন সত্যিকারের গলফার!
তা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের অনুশীলন ছেড়ে ক্রিকেটাররা হঠাৎ কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে কেন? আইডিয়াটা কুর্মিটোলায় প্রায়ই গলফ খেলতে যাওয়া কোচ জেমি সিডন্সের, ব্যাখ্যাটাও তাঁর কাছ থেকেই শোনা যাক, ‘শুধুই মজা করার জন্য। টানা প্র্যাকটিসের একঘেঁয়েমি থেকে বের করে আনতে চেয়েছি ক্রিকেটারদের। দুই বছরের বেশি হয়ে গেছে আমি বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করছি, খেলা-টেলা ছাড়া কখনোই ছেলেদের নিয়ে কোথাও যাইনি। ভাবলাম, এখানে এলে সবাই মজা করতে পারবে, কাজও হবে।’
হ্যাঁ, মজার আড়ালে একটা ‘কাজ’ও লুকিয়ে রেখেছিলেন সিডন্স। ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের ভালো ব্যাটিংয়ের জন্য ব্যাট সুইং খুব গুরুত্বপূর্ণ। গলফেও নাকি ড্রাইভ করার সময় ক্লাব ওপর থেকে নামিয়ে এনে বলে জুতসই হিট করার সঙ্গে মিশে আছে সুইং ব্যাপারটা। কাজেই গলফে যে ভালো ড্রাইভ মারতে পারবে, ক্রিকেট ব্যাট হাতে তার ব্যাট সুইংও তত ভালো হওয়ার কথা।
কিছুক্ষণ ড্রাইভ অনুশীলনের পর মোহাম্মদ আশরাফুল মানলেন সত্যিটা, ‘ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আসলেই কিছু মিল আছে গলফের। ব্যাট সুইং দুই জায়গায়ই একই রকম।’ এই পর্যন্তই, নইলে ছুটির মতো দিনটাতে ক্রিকেটাররা তত্ত্বকথা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামালেন না। জেমি সিডন্সও স্কুলমাস্টারের মতো গলফ কোর্সে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট শেখাতে গেলেন না কাউকে। আসলে কারও জন্যই ধরাবাঁধা কিছু ছিল না কালকের গলফ-অভিযানে। ড্রাইভিং রেঞ্জ আর পার্টিং সাইডে ছড়িয়ে পড়ে পিকনিক-গলফের মজাটাই নিলেন ক্রিকেটার আর কোচিং স্টাফের সদস্যরা।
ভিড় প্রথমে ড্রাইভিং রেঞ্জেই বেশি ছিল। কুর্মিটোলার সবুজ সমারোহের মাঝে বিশাল জালে ঘেরা জায়গাটা ড্রাইভ অনুশীলনের জন্য। ক্রিকেটারদের মধ্যে সেখানেই হয়ে গেল ‘কে কত দূরে নিতে পারে’র প্রতিযোগিতা। অধিনায়ক মাশরাফি দুবারই বল জাল পার করে ফেললেন। ড্রাইভ করার সময় ডান পায়ের হাঁটুতে টান লাগছিল বলে এটা আর বেশি করতে গেলেন না। অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে শুনেছিলেন, টাইগার উডসেরও নাকি হাঁটুতে তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। সে কারণেই বাড়তি সতর্কতা। তবে বলার সময় মজা করে বললেন, ‘চারবারের মধ্যে দুবারই জাল পার করেছি। এখানে আর আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।’
মুশফিকুরকে অবশ্য অনেক বেশি সিরিয়াস মনে হলো গলফ নিয়ে। মাথায় সাদা ক্যাপ। পায়ে সাদা কেডস। পরনে কালো টি-শার্ট আর ঘিয়া রঙের শটস—পুরোদস্তুর গলফারের সাজে বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার ভবিষ্যতে ক্রিকেট ছেড়ে গলফেই নাম লেখান কি না, কে জানে! প্রতিটা ড্রাইভ করার আগে ক্যাডির কাছ থেকে বুঝে নিচ্ছিলেন ক্লাব কীভাবে ধরলে ভালো হবে, দাঁড়ানোর সময় দুই পায়ের ব্যবধান আরও কতটা বাড়ানো দরকার ইত্যাদি ইত্যাদি। পরে পার্টিং সাইডের ছিদ্রান্বেষী খেলায়ও তাঁকেই দেখা গেল সবচেয়ে বেশি সিরিয়াস। ক্লাব দিয়ে ঠেলে বল গর্তে ফেলায় ক্রিকেটারদের উৎসাহ দেখে সিডন্স ছোটখাটো একটা প্রতিযোগিতারও আয়োজন করে ফেললেন। কে কত কম শটে চারটা গর্তেই বল ফেলতে পারেন, তার প্রতিযোগিতা। ১০ শটে কাজটা করে ‘চ্যাম্পিয়ন’ মুশফিকুর সাফল্যের আনন্দে দারুণ উল্লসিত। কুর্মিটোলার বলবয়-ক্যাডিরা জানালেন অকৃপণ অভিনন্দন।
ক্রিকেটের সঙ্গে গলফের সম্পর্ক খোঁজার কি আর দরকার আছে? কেবল নির্মল বিনোদনের জন্যও যে মাঝেমধ্যে এমন বাধাহীন দিন দরকার ক্রিকেটারদের জীবনে, কুর্মিটোলা গলফ কোর্সের কালকের সকালটা যেন তারই বিজ্ঞাপন।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-09-08/news/92848