nadim 98
December 9, 2010, 04:13 PM
http://i52.tinypic.com/214tfr.jpg
[বাংলা]বোলিং অ্যাকশনে মিল আছে, তার ওপর লাসিথ মালিঙ্গার আবিষ্কারক চম্পকা রমানায়েকের ছাত্র। তাঁর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘বাংলাদেশের মালিঙ্গা’! সেই ‘রুবেল হোসেন’ এখন নিজের পরিচয়েই পরিচিত। তার পরও তাঁর বোলিং দেখে যদি কারও ‘মালিঙ্গা’র বোলিং মনে হয়, সেই দিনও বোধ হয় এবার শেষ। বোলিং কোচ ইয়ান পন্টের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে রুবেলের ‘মালিঙ্গা অ্যাকশন’।
বৃষ্টিতে আজকের ম্যাচের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কালই। তবে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত হলেও চোটের জের আর মাশরাফি বিন মুর্তজার ফর্মে ফেরা মিলে এ ম্যাচেও দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে রুবেলকে। বদলে যাওয়া ‘মালিঙ্গা’কে নয়তো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই চার ম্যাচেই চোখে পড়ে যেত সবার।
চম্পকার ক্লাসে আসার আগে রুবেলের মূল সমস্যা ছিল ফলো থ্রুতে। বল ছাড়ার পর সোজা না গিয়ে কৌণিক পথে উইকেট থেকে বেরিয়ে গিয়েই থেমে যেতেন। পায়ে পায়ে বাড়িও লাগত কখনো কখনো। এতে চোট-টোট পাওয়া অবধারিতই ছিল, রুবেলকেও পড়তে হয়েছিল কুঁচকির ইনজুরিতে। চম্পকা সেই ফলো থ্রু বদলে দেওয়ার পর রানআপটা অনেক মসৃণ হয়ে যায়, কমে আসে চোটের আশঙ্কাও।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা খেলোয়াড়দের প্রকৃতিদত্ত বৈশিষ্ট্য বদলানোর পক্ষে নয়। ফলো থ্রু নিয়ে কাজ করলেও চম্পকা রমানায়েকে হয়তো সে কারণেই রুবেলের বোলিং অ্যাকশনে হাত দেননি। হয়তো সত্যিকার অর্থেই লাসিথ মালিঙ্গার ছায়া দেখেছিলেন তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্রুততম বোলারের মধ্যে। কিন্তু শুদ্ধ ক্রিকেটের দেশ থেকে আসা ইয়ান পন্টের দর্শন ভিন্ন। বাংলাদেশের গতিপ্রেমী নতুন ইংলিশ বোলিং কোচ পন্ট চম্পকার ফলো থ্রু ঠিক রেখেই রুবেলের বলের গতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। বল ছাড়ার মুহূর্তে পা-টা ঘুরে না গিয়ে যেন সোজা থাকে, সেই টেকনিক শেখাচ্ছেন তিনি রুবেলকে। কোচের পরামর্শ মেনে রুবেলও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বল ডেলিভারির সময় শরীরটা যেন মালিঙ্গার মতো বেঁকে না গিয়ে সোজা থাকে। ‘কোচ বলেছেন শরীর সোজা রেখে বল ছাড়তে, সেজন্য পা-ও সোজা রাখতে হয়। এতে নাকি বলের গতি আরও বাড়বে। আমিও অনেকটাই সোজা করে এনেছি পা আর শরীর। এই পরিবর্তনে বলের লাইন-লেংথ আরও ভালো হচ্ছে’—বদলে ফেলা বোলিং অ্যাকশন সম্পর্কে বললেন রুবেল।
কিন্তু জিম্বাবুয়ে সিরিজের ঠিক আগে আগে মেরুদণ্ডের চোট ওই অ্যাকশন বদলানোর পার্শ্বপ্রতিক্রি া নয়তো? রুবেল উড়িয়ে দিলেন প্রশ্নটা, ‘না না, একদিন ঘুম থেকেই উঠেই হঠাৎ টের পেলাম পিঠব্যথা করছে।’ বোলিং কোচ ইয়ান পন্ট এ বিষয়ে বিশদ বলতে চাইলেন না, ‘অ্যাকশনের পরিবর্তনটা খুবই সামান্য, ওর ভালোর জন্যই এটা করতে চাচ্ছি।’ কিন্তু পরিবর্তন যদি এত অল্পই হবে, সেটার আর কী-ই বা প্রভাব পড়বে বোলিংয়ে? ‘ছোট চাবি দিয়েও কিন্তু অনেক বড় তালা খোলা যায়’—ড্রেসিংরুমে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে পন্টের দার্শনিকতায় মাখা উত্তর।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ১৪৮ কিলোমিটার গতির একটা বলই এখন পর্যন্ত রুবেলের সর্বোচ্চ গতির উদাহরণ। মিরপুরে সবচেয়ে বেশি, ১৪৪ কিমি গতির বল করেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত সিরিজে। উইকেট বা কন্ডিশন অবশ্যই একটা ব্যাপার, কিন্তু রুবেলের কাছে জোরে বল করার অদ্ভুত এক ব্যাখ্যা আছে, ‘জোরে বল করা তো আসলে মনের ব্যাপার। আমি চাইলেই জোরে বল করতে পারি। ইচ্ছা করলেই হয়। তবে সবার বেলায় এটা না-ও হতে পারে।’
বলে গতিটা যেহেতু প্রকৃতিদত্ত উপহার, রুবেল এমন বলতেই পারেন। তবে ‘চাইলেই জোরে বল করা যায়’ কথাটার হাত ধরেই আসে প্রশ্নটা। সব সময় তা চান না কেন রুবেল—সব সময় যত জোরে সম্ভব বল করার চেষ্টার মধ্যেই ইনজুরির চোখরাঙানি লুকিয়ে থাকে বলে? জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলতি সিরিজ তো সেই সতর্কবার্তাই শোনাল রুবেলকে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অমন দুর্দান্ত বোলিং করলেন, শেষ ম্যাচে তো ৪ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়কও। অথচ এমন ফর্মে থাকা রুবেলকে বাইরে বসিয়ে রাখল মেরুদণ্ডের চোট। এখন খেলার মতো ফিট, কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে মাশরাফি-শফিউল এমনই দারুণ বোলিং করেছেন যে, চতুর্থ ম্যাচেও ফিরতে পারছেন না দলে। রুবেল অবশ্য এ নিয়ে হা-হুতাশ করছেন না, ভুগছেন না ইনজুরি নিয়ে অকারণ আতঙ্কেও, ‘ইনজুরি থেকে দূরে থাকতে ফিটনেসটাই বড় কথা। ফিটনেস ঠিক রাখার কাজগুলো যেহেতু আমি ঠিকঠাকভাবে করি, আশা করি দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারব।’
মালিঙ্গার ছায়া থেকে বেরিয়ে আসা রুবেল হোসেনকে দেখা যাবে তখনই। বাংলাদেশ আজ সিরিজ জিতে গেলে হয়তো পঞ্চম ম্যাচেই।
[/বাংলা]
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-12-10/news/114732
:waiting:
[বাংলা]বোলিং অ্যাকশনে মিল আছে, তার ওপর লাসিথ মালিঙ্গার আবিষ্কারক চম্পকা রমানায়েকের ছাত্র। তাঁর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘বাংলাদেশের মালিঙ্গা’! সেই ‘রুবেল হোসেন’ এখন নিজের পরিচয়েই পরিচিত। তার পরও তাঁর বোলিং দেখে যদি কারও ‘মালিঙ্গা’র বোলিং মনে হয়, সেই দিনও বোধ হয় এবার শেষ। বোলিং কোচ ইয়ান পন্টের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে রুবেলের ‘মালিঙ্গা অ্যাকশন’।
বৃষ্টিতে আজকের ম্যাচের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কালই। তবে ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত হলেও চোটের জের আর মাশরাফি বিন মুর্তজার ফর্মে ফেরা মিলে এ ম্যাচেও দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে রুবেলকে। বদলে যাওয়া ‘মালিঙ্গা’কে নয়তো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই চার ম্যাচেই চোখে পড়ে যেত সবার।
চম্পকার ক্লাসে আসার আগে রুবেলের মূল সমস্যা ছিল ফলো থ্রুতে। বল ছাড়ার পর সোজা না গিয়ে কৌণিক পথে উইকেট থেকে বেরিয়ে গিয়েই থেমে যেতেন। পায়ে পায়ে বাড়িও লাগত কখনো কখনো। এতে চোট-টোট পাওয়া অবধারিতই ছিল, রুবেলকেও পড়তে হয়েছিল কুঁচকির ইনজুরিতে। চম্পকা সেই ফলো থ্রু বদলে দেওয়ার পর রানআপটা অনেক মসৃণ হয়ে যায়, কমে আসে চোটের আশঙ্কাও।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা খেলোয়াড়দের প্রকৃতিদত্ত বৈশিষ্ট্য বদলানোর পক্ষে নয়। ফলো থ্রু নিয়ে কাজ করলেও চম্পকা রমানায়েকে হয়তো সে কারণেই রুবেলের বোলিং অ্যাকশনে হাত দেননি। হয়তো সত্যিকার অর্থেই লাসিথ মালিঙ্গার ছায়া দেখেছিলেন তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্রুততম বোলারের মধ্যে। কিন্তু শুদ্ধ ক্রিকেটের দেশ থেকে আসা ইয়ান পন্টের দর্শন ভিন্ন। বাংলাদেশের গতিপ্রেমী নতুন ইংলিশ বোলিং কোচ পন্ট চম্পকার ফলো থ্রু ঠিক রেখেই রুবেলের বলের গতি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। বল ছাড়ার মুহূর্তে পা-টা ঘুরে না গিয়ে যেন সোজা থাকে, সেই টেকনিক শেখাচ্ছেন তিনি রুবেলকে। কোচের পরামর্শ মেনে রুবেলও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বল ডেলিভারির সময় শরীরটা যেন মালিঙ্গার মতো বেঁকে না গিয়ে সোজা থাকে। ‘কোচ বলেছেন শরীর সোজা রেখে বল ছাড়তে, সেজন্য পা-ও সোজা রাখতে হয়। এতে নাকি বলের গতি আরও বাড়বে। আমিও অনেকটাই সোজা করে এনেছি পা আর শরীর। এই পরিবর্তনে বলের লাইন-লেংথ আরও ভালো হচ্ছে’—বদলে ফেলা বোলিং অ্যাকশন সম্পর্কে বললেন রুবেল।
কিন্তু জিম্বাবুয়ে সিরিজের ঠিক আগে আগে মেরুদণ্ডের চোট ওই অ্যাকশন বদলানোর পার্শ্বপ্রতিক্রি া নয়তো? রুবেল উড়িয়ে দিলেন প্রশ্নটা, ‘না না, একদিন ঘুম থেকেই উঠেই হঠাৎ টের পেলাম পিঠব্যথা করছে।’ বোলিং কোচ ইয়ান পন্ট এ বিষয়ে বিশদ বলতে চাইলেন না, ‘অ্যাকশনের পরিবর্তনটা খুবই সামান্য, ওর ভালোর জন্যই এটা করতে চাচ্ছি।’ কিন্তু পরিবর্তন যদি এত অল্পই হবে, সেটার আর কী-ই বা প্রভাব পড়বে বোলিংয়ে? ‘ছোট চাবি দিয়েও কিন্তু অনেক বড় তালা খোলা যায়’—ড্রেসিংরুমে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে পন্টের দার্শনিকতায় মাখা উত্তর।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ১৪৮ কিলোমিটার গতির একটা বলই এখন পর্যন্ত রুবেলের সর্বোচ্চ গতির উদাহরণ। মিরপুরে সবচেয়ে বেশি, ১৪৪ কিমি গতির বল করেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত সিরিজে। উইকেট বা কন্ডিশন অবশ্যই একটা ব্যাপার, কিন্তু রুবেলের কাছে জোরে বল করার অদ্ভুত এক ব্যাখ্যা আছে, ‘জোরে বল করা তো আসলে মনের ব্যাপার। আমি চাইলেই জোরে বল করতে পারি। ইচ্ছা করলেই হয়। তবে সবার বেলায় এটা না-ও হতে পারে।’
বলে গতিটা যেহেতু প্রকৃতিদত্ত উপহার, রুবেল এমন বলতেই পারেন। তবে ‘চাইলেই জোরে বল করা যায়’ কথাটার হাত ধরেই আসে প্রশ্নটা। সব সময় তা চান না কেন রুবেল—সব সময় যত জোরে সম্ভব বল করার চেষ্টার মধ্যেই ইনজুরির চোখরাঙানি লুকিয়ে থাকে বলে? জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলতি সিরিজ তো সেই সতর্কবার্তাই শোনাল রুবেলকে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অমন দুর্দান্ত বোলিং করলেন, শেষ ম্যাচে তো ৪ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়কও। অথচ এমন ফর্মে থাকা রুবেলকে বাইরে বসিয়ে রাখল মেরুদণ্ডের চোট। এখন খেলার মতো ফিট, কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে মাশরাফি-শফিউল এমনই দারুণ বোলিং করেছেন যে, চতুর্থ ম্যাচেও ফিরতে পারছেন না দলে। রুবেল অবশ্য এ নিয়ে হা-হুতাশ করছেন না, ভুগছেন না ইনজুরি নিয়ে অকারণ আতঙ্কেও, ‘ইনজুরি থেকে দূরে থাকতে ফিটনেসটাই বড় কথা। ফিটনেস ঠিক রাখার কাজগুলো যেহেতু আমি ঠিকঠাকভাবে করি, আশা করি দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারব।’
মালিঙ্গার ছায়া থেকে বেরিয়ে আসা রুবেল হোসেনকে দেখা যাবে তখনই। বাংলাদেশ আজ সিরিজ জিতে গেলে হয়তো পঞ্চম ম্যাচেই।
[/বাংলা]
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-12-10/news/114732
:waiting: