PDA

View Full Version : This Story made My Day!!!


idrinkh2O
May 16, 2011, 07:54 PM
I couldn't find any proper thread to post the stories. Mod if there is any, can you please merge it. Thanks!
------------------------------------------------------------------------------------------

[বাংলা]এসএসসি ’১১: অদম্য মেধাবী
শ্রমে অধ্যবসায়ে অনন্য ওরা

বিশাল বাংলা ডেস্ক | তারিখ: ১৭-০৫-২০১১

http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/images/images/image.php/uploads/media/2011-05-16-17-47-08-023696600-4.jpg?width=340&&image=http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/uploads/media/2011-05-16-17-47-08-023696600-4.jpg

হামিম মোল্যা,রানা সরকার, মরিয়ম জাহান ও সুমন সরকার

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই সচ্ছল পরিবারের সন্তান। মা-বাবার আদর পেয়ে এবং প্রাইভেট পড়ে ভালো ফল করেছে তারা। তবে এসব কৃতী শিক্ষার্থীর মধ্যে কারও কারও সাফল্য মনে দাগ কেটে যাওয়ার মতো। কারণ, তারা প্রাইভেট পড়তে ও কোচিং করতে পারেনি। ভালো কাপড় গায়ে ওঠেনি। অনেককে অর্থ উপার্জন করে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে। শত বাধা ও কষ্টের মধ্যেও তারা পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় ফল করেছে।
কখনো শ্রমিক, কখনো ভ্যানচালক: আড়াই শতক জমির ওপর পাটকাঠির বেড়ার ছোট্ট ঘর। বৃষ্টি হলেই ঘরের সবকিছু ভিজে যায়। মা রেবেকা খাতুন পঙ্গু। বাবা আহাদ আলী (৫৮) দিনমজুর। বয়স বেশি হওয়ায় আয় কমে গেছে। তাই কখনো অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে, আবার কখনো ভ্যান চালাতে হয়েছে তাকে। সব কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে লেখাপড়া করত সে। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি। সব সময় দুবেলা খেতেও পারেনি। এভাবে ঘাম ঝরিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। এই কৃতী ছাত্রের নাম হামিম মোল্যা। বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল গ্রামে। সে উপজেলার বড়দিয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান জানান, হামিম প্রাইভেটও পড়তে পারেনি। পরিবারের প্রয়োজনে সে ভ্যান চালিয়েছে এবং কৃষিশ্রমিকের কাজ করেছে।
বাদাম বিক্রি করে লেখাপড়া: বাবা ইউনুস আলী কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ। মা সুফিয়া খাতুন অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। সাত ভাইবোনের সংসারের অভাব দূর করতে পঞ্চম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় বাদাম বিক্রি শুরু করে সে। এভাবে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সারা দিন লেখাপড়া করে সন্ধ্যার পর বাদাম বিক্রি করত, রাতে এসে আবার লেখাপড়াও করত। এভাবে নানা বাধা পেরিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তার নাম রানা সরকার। বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সুমারুভিম শীতলাহাজীপাড়া গ্রামে। সে উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। রানা জানায়, পরীক্ষা দিয়েই কাজের উদ্দেশ্যে সে ঢাকার গাজীপুরে চলে যায়। সেখানে ইটভাটায় মাটি কাটার কাজ করার সময় পরীক্ষার ফল জানতে পেরে আনন্দে কেঁদে ফেলে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রানা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। আমরা তাকে সহযোগিতা করেছি মাত্র।’
মায়ের সঙ্গে সেলাইয়ের কাজ করত সুমি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা শহরের নাচনপাড়া এলাকায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস। বাবা মোজাম্মেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। মা তাছলিমা বেগম কাপড় ও কাঁথা সেলাই করে সংসার চালান। এ কাজে তাঁকে সহায়তা করে মেয়ে মরিয়ম জাহান সুমি। দুবেলা খাবার জোটে না তাদের। এত কষ্টের মধ্যেও পড়ালেখা চালিয়ে গেছে সুমি। কষ্ট করার ঈর্ষণীয় ফল সে পেয়েছে। খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শামসুল হুদা বলেন, ‘ও মেধাবী। তবে বাবার অসুস্থতা তাঁকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল। তার পরও পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতার কারণে সে ভালো ফল করতে পেরেছে।’
কাজের ফাঁকে লেখাপড়া: ‘দোকান কর্মচারীর পরিচয় ভুইল্লা যাইয়া কিছু সময়ের লাইগ্যা ছাত্র হওয়ার স্বাদ পাইলাম। সবাই যহন কয়, তুই ভালো রেজাল্ট করছোস, তহন কান্না আয়। হগোলডির চাইতে বেশি খুশি মোর বাবা ও মা। মুইও খুশি।’ জিপিএ-৫ পাওয়ার পর এভাবেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দোনারকান্দি গ্রামের জগদীশ সরকারের ছেলে সুমন সরকার। সে বাকাই নিরঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। স্থানীয়রা জানায়, সুমনের বাবা ও মা দিনমজুরির কাজ করেন। অভাবের কারণে সপ্তম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় সে বাকাই বন্দরের একটি মুদি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করে। ওই দোকানের মালিক শাহজাহান মিয়া জানান, সুমন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে কাজ করে। সন্ধ্যার পর সে বাড়িতে গিয়ে লেখাপড়া করত। বাকাই নিরঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরুলক্ষ্ম নাথ নাগ জানান, ‘নিয়মিত ক্লাসে আসতে না পারলেও লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল তার। সে কোনোদিন প্রাইভেটও পড়েনি।’
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন সফি খান, কুড়িগ্রাম; কার্ত্তিক দাস, নড়াইল; জহুরুল ইসলাম, গৌরনদী (বরিশাল) ও নেছারউদ্দিন আহমেদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)]
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-05-17/news/154849)[/বাংলা]

idrinkh2O
May 16, 2011, 08:07 PM

গণিত থেকে গন্তব্যে

ইমাম হাসান | তারিখ: ১১-০৫-২০১১

http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/images/images/image.php/uploads/media/2011-05-10-15-15-49-082469100-4.jpg?width=340&&image=http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/uploads/media/2011-05-10-15-15-49-082469100-4.jpg
দুই বন্ধু ইশফাক ও দীপাঞ্জন

দীপাঞ্জন রায় ও হক মোহাম্মাদ ইশফাক, দুই বন্ধু। পরিচয় সেই স্কুলে পড়ার সময় থেকে। ইশফাক পড়তেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে আর দীপাঞ্জন ঢাকার সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে। অবাক লাগছে, তাই না? আসলে দুজন দুই জায়গায় পড়লেও দুজনের প্রেম ছিল একদিকেই। এ প্রেম গণিতের। প্রতিবছর গণিত উৎসবের জন্য তাই অন্য সবার মতো উন্মুখ হয়ে বসে থাকতেন তাঁরা। এই উৎসবেই বন্ধুত্ব। তারপর প্রতিবছর ক্যাম্পে থাকা, সব ছিল অনেক মজার।
‘গণিতের সঙ্গে ভালো লাগতে থাকে পদার্থ ও রসায়নবিদ্যাও। গণিত ক্যাম্পের দিনগুলোয় মাহবুব মজুমদার, মুনির হাসান, জাফর ইকবাল, কায়কোবাদ স্যারের মুখে বিজ্ঞানের বড় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনে ইচ্ছা করত পড়তে যাব। পরক্ষণে আবার ভয়ও লাগত, পারব তো? শেষে কখন যেন আস্থা ফিরে পেলাম, পারব।’ বলছিলেন ইশফাক। ২০০৯ সালে দীপাঞ্জন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের শ্রেষ্ঠ হওয়ার খেতাব অর্জন করেন। আর ইশফাক বাংলাদেশ গণিত দলের সঙ্গে ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে ঘুরে এসেছেন স্পেন, জার্মানি, কাজাখস্তান। ২০০৯ ও ২০১০ সালে অর্জন ছিল অনারেবল ম্যানশন। ২০১০ সালে এইচএসসিতে সব বিষয়ে এ+সহ দুজনেই অর্জন করেন জিপিএ-৫। আবেদন করেন বিশ্বের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতাপূর্ণ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া বেশ কষ্টকর। তার পরও তাঁরা চান্স পেয়েছেন চারটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইশফাক চান্স পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় আর ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় চাহিদা পরিমাণ (শতভাগ বা তার কাছাকাছি) বৃত্তি দিয়ে তাঁকে ভর্তির সুযোগ দিয়েছে।
ইশফাক বলেন, ‘তবে আমার পছন্দ স্টানফোর্ড। কারণ, ওখানে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাথ, ফিজিক্সও অনেক বেশি স্ট্রং। পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্রিং থিউরির অন্যতম প্রবক্তা অধ্যাপক লিওনাড সাসকিন্ড, যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।’
ইশফাকের কাছ থেকেই জানা গেল ১৯৯৭-৯৮ সালে ফিজিক্সে নোবেল পাওয়া অধ্যাপক ববলাফলিন ও অধ্যাপক অসেররফও হবেন তাঁর শিক্ষক। চার বছরের এই স্নাতকে তিনি ম্যাথ ও ফিজিক্স একসঙ্গে পড়তে চান। স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছে গুগল বা ইয়াহুর মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান। ইয়েল, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ও ইশফাকের চাওয়া মতো বৃত্তি দিতে রাজি। ইশফাক বলেন, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে ফিজিক্সে নোবেল পেয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৮৮ জন নোবেল পেয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
এত কিছুর পরও ইশফাক বেছে নিয়েছেন স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
আর দীপাঞ্জন রায় সুযোগ পেয়েছেন আমেরিকার পারডু বিশ্ববিদ্যালয় ও কার্লটন কলেজে এবং কানাডার ম্যাকগিল ও ওয়াটার লু বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে দীপাঞ্জন বেছে নিয়েছেন ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়কেই কারণ, তাঁর ইচ্ছা কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ। এ ছাড়া সেখানে আন্ডারগ্র্যাজুয়ে দের জন্য বেশি সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। দীপাঞ্জন বলেন, ‘ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার কারণ বায়োলজিক্যাল ফিল্ডে এদের বেশ সুনাম। তা ছাড়া আমারও কম্পিউটার পড়ে এই সাইটে কাজ করার ইচ্ছা।’
নতুনদের জন্য
যাঁরা ইশফাক বা দীপাঞ্জনের মতো উচ্চশিক্ষায় বাইরে যেতে চান, তাঁদের উদ্দেশে দুজনের মন্তব্য এ রকম—স্যাট আর টোয়েফলে মোটামুটি ভালো একটা স্কোর। নেট থেকে ফর্ম নামিয়ে তা বেশ যত্ন নিয়ে পূরণ করতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসি সনদ পাঠাতে হবে প্রিন্সিপালের স্বাক্ষর ও সিলসহ। আর রেজাল্ট থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তোমার ফর্মে লেখা বিভিন্ন রচনা কিংবা কোনো বিশেষ গুণ, যার স্বীকৃতি তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলবে। আবেদন করতে হবে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে, ফলাফল হয় মার্চ-এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে। তবে অবশ্যই এক বছর আগে থেকে মন স্থির করে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। আবেদনের সময় সুপারিশ চিঠিটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সুপারিশ দিয়ে আবেদন করা উচিত।
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-05-17/news/153241)

idrinkh2O
May 16, 2011, 08:18 PM
এসএসসি ’১১: সে রা যা রা

হার না মানা মেধাবীদের গল্প

বিশাল বাংলা ডেস্ক | তারিখ: ১৪-০৫-২০১১

http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/images/images/image.php/uploads/media/2011-05-13-18-48-05-065481100-4.jpg?width=340&&image=http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/uploads/media/2011-05-13-18-48-05-065481100-4.jpg
শাহজাহান ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, নাসির উদ্দিন, গোপাল চন্দ্র পাল

গরিব ঘরে জন্ম ওদের। ছোট্ট, কোমল হাতে কারও উঠেছে কাস্তে-কোদাল, কেউ ধরেছে ভ্যানগাড়ির হাতল। ভোরে ভ্যান নিয়ে বেরিয়েছে, ফের সকাল ১০টায় বই-খাতা হাতে হাজির হয়েছে স্কুলে। কেউ কেউ দিনমান মজুরি খেটেছে, রাতে বসেছে পড়তে। এত কষ্টেও দমেনি ওরা। সাধনা করে গেছে। পা রেখেছে সাফল্যের প্রথম সোপানে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছে জিপিএ-৫। দারিদ্র্যের কাছে হার না মানা সেই সব অদম্য মেধাবীর জীবনের গল্পটা শুনি চলুন।
মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে চায় শাহজাহান: ‘পরীক্ষার সময় মানুষ ছেলেমেয়েদের ভালো-মন্দ কত কিছু খাওয়ায়। অথচ ছেলেডারে দুই মুঠা ভাত দিতে পারি নাই।’ আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে কথাগুলো বললেন নীলফামারী শহরের বাবুপাড়া মহল্লার সায়মেনা খাতুন। তাঁর ছেলে মো. শাহজাহান ইসলাম এবার নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে, অষ্টম শ্রেণীতে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পায় সে।
শাহজাহান জানায়, তার বাবা মারা গেছেন ১১ বছর আগে। নানার দেওয়া পাঁচ শতাংশ জমির ওপর তাদের বাড়ি। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে ছোট। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ভাই বিয়ে করে পরিবার নিয়ে আছেন। মেজো ভাই বেকার। তারা দুই ভাই মায়ের সঙ্গে থাকে। মা সায়মেনা বাড়ি বাড়ি ফেরি করে শাড়ি-কাপড় বেচেন। যে আয় হয়, তা দিয়ে ঋণের কিস্তি দেন, সংসার চালান। অর্ধাহারে-অনাহারে কাটে তাদের দিন। ‘মা কখনো কাজ করতে দিত না আমায়। তার ইচ্ছা আমি লেখাপড়া করে ব্যাংকের ম্যানেজার হই। মায়ের ইচ্ছাটা পূরণ করতে চাই।’ বলছিল শাহজাহান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা শিক্ষকেরা তাকে বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়িয়েছি। অনেক সময় খাতা-কলম কিনে দিয়েছি।’
মোস্তাফিজের ঘামঝরানো সাফল্য: তিন শতক জমির ওপর ছোট একটি টিনের ঘর। সে ঘরেই তিন ভাই, দুই বোন ও বাবা-মাসহ সাতজনের সংসার মোস্তাফিজদের। বাবা মজিবার রহমান (৬৫) বয়সের ভারে ন্যুব্জ। অন্যের বাড়ি কাজ করে মা মোমেনা বেগম যা পেতেন, তা দিয়ে সংসার চলত না। বাধ্য হয়ে অন্যের জমিতে শ্রম দিতে যেত সবার বড় মোস্তাফিজ। বন্ধুদের দেওয়া পুরোনো জামা গায়ে চড়িয়ে একটুও মন খারাপ হতো না। বহুদিন অভুক্ত থেকে পড়াশোনা করেছে। কিন্তু জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সমস্ত কষ্টের গ্লানি।
মোস্তাফিজুর রহমান এবার রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কাশিয়াবাড়ী উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের বাড়ি উপজেলার দামোদরপুর সর্দারপাড়া গ্রামে। কাশিয়াবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন, ‘ছেলেটার পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ। ওর কাছ থেকে স্কুলের বেতন, ফরম পূরণের টাকা নেওয়া হয়নি।’
ভ্যান চালিয়েও অনন্য নাসির: ‘রইদে পুইড়া, বিষ্টিত ভিজা, ভ্যান চালাইয়া ছাওয়ালডা আমার কাহিল হইয়া যাইত। সারা রাইত জাইগা পইড়ছে। ইস্কুল কামাই করে নাই। হুগুল্লি (সবাই) কইতাছে, নাসির আমার পেলাস (প্লাস) পাইছে।’ কথাগুলো সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এনায়েতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা হালিমা খাতুনের। তাঁর ছেলে নাসির উদ্দিন এবার উল্লাপাড়া মার্চেন্টস পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা আবদুস সালামও ভ্যানচালক। নাসিরের একটি ছোট ভাই আছে। আবদুস সালাম জানান, নাসির তিন বছর ধরে ভাড়ায় ভ্যান চালায়। ভোর পাঁচটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত ভ্যান চালিয়ে পরে স্কুলে যেত সে।
অধ্যক্ষ মীর আবদুল হান্নান জানান, নাসির বরাবরই ক্লাসে প্রথম বা দ্বিতীয় হতো। ভালো ব্যবহারের জন্য সবাই তাকে ভালোবাসে। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে নাসির।
সাফল্যের পরও গোপালের মুখ ভার: বাড়িটা পৌরসভার মধ্যে। কিন্তু গোপালদের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়ার সামর্থও নেই দিনমজুর বাবার। হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করে এসেছে গোপাল। মা ফুলকুমারী পাল অন্যের বাড়িতে মাটির হাঁড়ি-পাতিল বানানোর কাজ করেন। মায়ের সঙ্গে সেও কাজে হাত লাগায়।
এমন টানাটানির সংসারে জিপিএ-৫ পেয়ে সবার নজর কেড়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার গোপাল চন্দ্র পাল। সে এবার ধানগড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে এই সাফল্য পেয়েছে। রায়গঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ায় তাদের বাড়ি। ভালো ফলের পরও গোপালের মুখে হাসি নেই। কলেজে পড়ার খরচ জোগাবে কোথা থেকে?
ধানগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন খন্দকার বলেন, ‘গোপালের মতো মেধাবী ছাত্রদের আমরা সামর্থ অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করি।’
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন মীর মাহমুদুল হাসান, নীলফামারী; রহিদুল মিয়া, তারাগঞ্জ (রংপুর); কল্যাণ ভৌমিক, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) ও সাজেদুল আলম, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)]
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-05-14/news/154083)

Alchemist
May 16, 2011, 08:20 PM
Wonderful! It's feels really great to read these kind of success stories. Thanks for sharing.

BC could be a great platform to offer some kind of help to these young fighters who're not from privileged background.

Zunaid boss, can't we seriously do something for a education and cricket revolution in Bangladesh?

idrinkh2O
May 16, 2011, 08:30 PM
চাঁদের মাটি সংগ্রহে সক্ষম রোবট নিয়ে নাসার প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে বাংলাদেশ

--------------------------------------------------------------------------------
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011May/brac-uni-bg20110515211921.jpg

ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল/বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম

ঢাকা: চাঁদে মাটি সংগ্রহ করতে পারবে এমন রোবট বানিয়ে নাসার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বানিয়েছেন এই রোবট। তাদের বিশ্বাস চাঁদে পাঠালে এটি অসমান চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ধুলোমাটি (লুনার ডাস্ট) সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

আগামী ২৩-২৮ মে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টারে নাসা (ন্যাশনাল অ্যারোনোটিক অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশ ) আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্থান পাচ্ছে এই রোবট।

এ উপলক্ষে রোববার বিকেলে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আইনূন নিশাতের সভাপতিত্¦ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাকের চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

লুনার ডাস্ট সংগ্রহ করার এই প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

টানা ১৫ মিনিটে যে রোবট সবচেয়ে বেশি ডাস্ট সংগ্রহ করবে সেটিই হবে প্রথম।

ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ সদস্যের রোবোটিক দল এরই মধ্যে নাসার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিটা সেরে ফেলেছে ।

দলে রয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড.খলিলুর রহমান ও শিক্ষার্থী শিবলী ইমতিয়াজ হাসান, জুনায়েদ হোসেন, মাহমুদুল হাসান অয়ন, কাজী মো. রাজিন, ইমরান বিন জাফর, ইফতেখার করিম, নির্ঝর রউফ।

এরা সবাই ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র।

ড.খলিলুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে প্রতিবছর নাসা অ্যানুয়াল লুনাবোটিকস মাইনিং কম্পিটিশন নামের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এ বছর বিশ্বের ৪৩ টি বিশ্ববিদ্যালয় এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র দল হিসেবে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটিই অংশ নেবে।

রোবটটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, ‘আমরা সবাই নাসা অ্যানুয়াল লুনাবোটিকস মাইনিং কম্পিটিশনে বাংলাদেশ টিমের শুভকামনা করি। আমরা আশাবাদী । তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় যে কোনও সৃষ্টিশীল কাজের সাথে থাকবে বলেও তিনি জানান।

টিমের অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের টিম লিডার শিবলী ইমতিয়াজ হাসান বলেন, আমরা ২১ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বো। আমরা কয়েক বছর এ প্রজেক্টে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আশা করছি, একটি ভালো ফল দেশের জন্য বয়ে আনতে পারবো।

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সার্বিক ব্যয়ভার বহন করবে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ সময়: ২১০০ঘণ্টা, মে ১৫, ২০১১

(Source: http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=0dc37dbfb671e83342895a9ffc8fe d89&nttl=2011051640398)

idrinkh2O
May 16, 2011, 08:41 PM
This is an old article...a good reading!!!
---------------------------------------------------------------------------------------------

এক বেলা শিক্ষকতা অন্য বেলা দিনমজুরি

মীর মাহমুদুল হাসান, নীলফামারী | তারিখ: ০৯-০৩-২০১১

http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/images/images/image.php/uploads/media/2011-03-08-18-09-15-068687800-8.jpg?width=340&&image=http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/uploads/media/2011-03-08-18-09-15-068687800-8.jpg

রঞ্জিত কুমার রায় দিনের এক বেলা দিনমজুরি, আরেক বেলায় শিক্ষকতা করেন

ছবি: প্রথম আলো

রোদটা বড্ড তেতে উঠেছে। দরদর করে ঘামছেন রঞ্জিত। ইটের ভারী বোঝায় টন টন করছে কাঁধটা। মাথা তুলে একবার ওপরের দিকে তাকালেন। সূর্য তখন মধ্য আকাশে। ফেরার সময় হয়ে এসেছে তাঁর। শেষ বোঝাটা নামিয়ে ভাটা-ব্যবস্থাপকের কাছে গেলেন। আধাবেলার মজুরি বুঝে নিয়ে ইটভাটার এক কোণে রাখা সাইকেলটার দিকে এগোলেন। ধুলোয় ভরা পরনের ছেঁড়া গেঞ্জিটা খুলে ব্যাগ থেকে ধোয়া জামাটা বের করে গায়ে চড়ালেন। দ্রুত প্যাডেল মেরে পথ চলতে শুরু করলেন। তাঁকে যেতে হবে ১৫ কিলোমিটার দূরে।
একসময় একটি মাদ্রাসার আঙিনায় এসে থামলেন রঞ্জিত। ঢুকলেন শ্রেণীকক্ষে। ছেলেমেয়েরা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানাল।
একটু আগে যিনি ছিলেন ইটভাটার মজুর, তিনি এই মাদ্রাসার শিক্ষক।
মানুষটার পুরো নাম রঞ্জিত কুমার রায়। বয়স ৩৬। নীলফামারী সদর উপজেলার বেরাকুটি বরুয়া দাখিল মাদ্রাসায় বাংলা আর ইংরেজি পড়ান। কোনো মাইনে পান না। সংসার চালাতে তাঁকে দিনমজুরি খাটতে হয়। ঘামে ভেজা সেই টাকায় চলে সংসার।
রঞ্জিতের বাড়ি মাদ্রাসা থেকে এক কিলোমিটার দূরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ডুবুলিয়া গ্রামে। ঘরে তাঁর স্ত্রী ও দুটি ছেলেমেয়ে।
প্রায় এক বছর রঞ্জিত কাজ করছেন সৈয়দপুরের এবিএল (২) ইটভাটায়। ইটভাটায় গিয়ে সম্প্রতি কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কোনো দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইটভাটায় কাজ করি। বিকেলে মাদ্রাসায় পড়াই। কোনো দিন বিকেলে কাজ করি, সকালে পড়াই। আধাবেলার মজুরি ১০০ টাকা পাই। ছুটির দিনে পুরো বেলা কাজ করি।’
রঞ্জিত রায় ১৯৯৫ সালে দিনাজপুর কেবিএম কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন। ২০০০ সালে এ মাদ্রাসায় যোগ দেন। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১৫ শতাংশ আবাদি জমি বিক্রি করে সেই টাকা দেন মাদ্রাসার উন্নয়ন খাতে। কিন্তু যোগদানের ১১ বছরেও সেখান থেকে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। কারণ মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়নি। এত দিন বহু কষ্টে সংসার চালিয়েছেন। এখন যেন আর চলে না।
গৃহশিক্ষকের কাজ করলে তো পারেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রঞ্জিত বলেন, ‘এটি দরিদ্র এলাকা। যাঁরা একটু সচ্ছল, তাঁদের ছেলেমেয়েরা পড়ে শহরের স্কুল-কলেজে। তা ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক হওয়ায় আমার কাছে কেউ পড়তে আসে না।’ ‘রঞ্জিত কখনো ক্লাস ফাঁকি দেন না।’ জানালেন মাদ্রাসার সুপার মো. মোস্তফা কামাল।
১৯৯৯ সালে ৮১ শতাংশ জমির ওপর মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১০ কিলোমিটারের মধ্যে আর মাদ্রাসা নেই। সাড়ে ৩০০ ছেলেমেয়ে পড়ে এখানে। এবতেদায়ী শাখায় চারজন ও দাখিল শাখায় নয়জন শিক্ষক এবং তিনজন কর্মচারী আছেন। দাখিল ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়ও (জেএসসি) ভালো ফল করেছে মাদ্রাসাটি।
ডুবুলিয়া গ্রামে গিয়ে রঞ্জিতের খোঁজ করলে একজন বাড়িটি দেখিয়ে দেন। বাঁশের বেড়ার ওপর খড়ের ছাউনি দেওয়া ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর। সামনে গিয়ে ডাক দিতেই বেরিয়ে আসেন তিনি।
স্ত্রী শৈব্যা রায় বলেন, ‘আমার স্বামী আমাদের জন্য যে কষ্ট করছেন, তা বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের কষ্ট যেন শেষই হয় না। ছেলেটা বাবার কষ্ট বোঝে। তাই কখনো আবদার করে না।’
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও রঞ্জিতের প্রতিবেশী মো. জালাল উদ্দিন জানান, রঞ্জিত ছেলেটা শান্ত। ওঁরা চার ভাই। বড় ভাই মারা গেছেন। অন্য ভাইয়েরা মোটামুটি সচ্ছল। কিন্তু রঞ্জিতকে খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে।
এবিএল (২) ইটভাটার ব্যবস্থাপক গৌরাঙ্গ সরকার বলেন, ‘উনি (রঞ্জিত) বেশ সহজসরল। পরে জেনেছি, তিনি শিক্ষকতাও করেন।’
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) নীলফামারী জেলা কমিটির আহ্বায়ক নরেশ চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন শিক্ষককে দিনমজুরি করে বাঁচতে হবে, এটা অবিচার এবং অমানবিক।’ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়া দরকার।’
জানতে চাইলে নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাদ্রাসাটা আমাদের বিবেচনায় আছে। আগামীতে এমপিওভুক্ত করতে চেষ্টা করব।’
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-09/news/137054)
------------------------------------------------------------------------------------------
Update:
প্রথম আলো কার্যালয়ে শিক্ষক রঞ্জিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৬-০৩-২০১১

http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/images/images/image.php/uploads/media/2011-03-15-18-40-47-045049800-6.jpg?width=340&&image=http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/uploads/media/2011-03-15-18-40-47-045049800-6.jpg
রঞ্জিত কুমার রায়

নীলফামারীর আলোচিত শিক্ষক রঞ্জিত কুমার রায় গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলো কার্যালয়ে আসেন। রঞ্জিত জানান, তাঁর কষ্টগাথা প্রথম আলোয় ছাপানোর পর থেকে জীবনযাত্রা পাল্টে গেছে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য হূদয়বান মানুষ তাঁর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখনো অনেকে তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নৈতিকতা ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। এ জন্য তিনি প্রথম আলোর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় রঞ্জিতের সঙ্গে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মেরাজ উদ্দিন ছিলেন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রঞ্জিত বলেন, ‘মাদ্রাসাটির গতি না হওয়া পর্যন্ত মনে শান্তি পাচ্ছি না।’ এ সময় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান মাদ্রাসার অবকাঠামো নির্মাণ ও তাঁর (রঞ্জিত) পরিবারের জন্য ঘর তৈরি করে দিতে প্রথম আলোর উদ্যোগের কথা জানান।
১১ বছর ধরে নীলফামারী সদর উপজেলার বেরাকুটি বরুয়া দাখিল মাদ্রাসায় বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন রঞ্জিত। কিন্তু মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকতার পাশাপাশি দিনমজুরি করছিলেন তিনি। এ নিয়ে ৯ মার্চ প্রথম আলোতে ‘এক বেলা শিক্ষকতা, অন্য বেলা দিনমজুরি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পাঠক টেলিফোন করেন প্রথম আলো কার্যালয়ে। পাঠকেরা রঞ্জিতের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনেকে ইতিমধ্যে রঞ্জিতকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। গত সোমবার এক পুলিশ কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) রঞ্জিতকে এক লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছেন।
মাদ্রাসার অবকাঠামো নির্মাণে ও শিক্ষক রঞ্জিতের সহায়তায় প্রথম আলোর উদ্যোগে যে কেউ শরিক হতে পারবেন। আগ্রহী ব্যক্তিরা প্রথম আলোর কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-16/news/138861)

iDumb
May 16, 2011, 08:44 PM
Guys I can totally relate to the stories above. I too am from a very poor family. People think outside bangaldesh means wealthy but no not us. Our family used food stamps for our bi-weekly groceries. It wasn't enough for 4 of us. I was always hungry. One thing that kept me alive were books. I got into college and worked part time sweeping cafeteria floors - trying to pay for my meal plan. But I successfully made it through college with a GPA of 3.9. I graduated. But now there is no job. I worked so hard to be educated but it is worthless now.

I need help financially and emotionally. I appealed to many people for help but they can't relate to me. I am a brown guy. Brown guys are wealthy but cheap - they think it's my fault that I am poor. Non-brown ppl can't relate to me at all... they give money to the drug addicts but not me.

I am responsible for my 2 little brothers and 1 little sister. I worry about their future.

Just venting my frustration in this thread about this cruel world.

Alchemist
May 16, 2011, 08:57 PM
iDumb

Be a MAN, pay respect where it’s due and please stop posting this kind of nonsense.

Everyone in BC knows how wealthy you really are. Time to shut up and share some of these wealths to the not so privileged in BD!

Zeeshan
May 16, 2011, 09:03 PM
People's mileage vary. While these stories make me humbly reflect back from the start of the path where I came from, the news that made MY day:

http://l.yimg.com/a/p/us/news/editorial/e/d3/ed328343ffd2e683536b5185f51eb44d.jpeg
The mystery hero (http://us.lrd.yahoo.com/SIG=10qhmtbj1/**http%3A//wapo.st/l9Tuqi)
Who shot bin Laden? Former SEALs fill in the blanks.
» More from Washington Post (http://us.lrd.yahoo.com/_ylt=Al4_KGKFzBMcqd4UdGnXjRJH2ocA;_ylu=X3oDMTE3cTV mNWs2BHBvcwMxNQRzZWMDeW5fZmVhdHVyZWQEc2xrA3JhcXVvb W9yZWZybw--/SIG=10q9e5ngc/**http%3A//wapo.st/9jrtud)

“This is playing in the Super Bowl and getting the Oscar all in one breath. He wants credit,” Marcinko supposes of the shooter who felled bin Laden. “But only among his peers.” Many SEALs consider themselves “humble warriors,” Greitens says. Full story

Note: Mueller (http://news.yahoo.com/nphotos/3D-Street-Art-Edgar-Mueller/ss/events/wl/0513113dstreetart), I found a little 'boring'.

Bancan
May 16, 2011, 09:04 PM
iDumb

Be a MAN, pay respect where it’s due and please stop posting this kind of nonsense.

Everyone in BC knows how wealthy you really are. Time to shut up and share some of these wealths to the not so privileged in BD!

How do you know hes wealthy?

Alchemist
May 16, 2011, 09:14 PM
How do you know hes wealthy?

From his posts from this thread:
http://www.banglacricket.com/alochona/showthread.php?t=37356

iDumb
May 16, 2011, 09:32 PM
From his posts from this thread:
http://www.banglacricket.com/alochona/showthread.php?t=37356

That's Blah who is rich. My knowledge of financial world hardly dictates money in my pocket. Knowledge /= money. And that land case was a case of a friend of mine who is seeking my advice. My point is if you gonna help somebody out, you should help somebody local like ME.

anyways, not to divert this topic. I just shared my story - that's all! Please forgive me chemist bhai.

idrinkh2O
May 17, 2011, 02:05 AM
Wonderful! It's feels really great to read these kind of success stories. Thanks for sharing.

BC could be a great platform to offer some kind of help to these young fighters who're not from privileged background.

Zunaid boss, can't we seriously do something for a education and cricket revolution in Bangladesh?

Thank you and Jazak Allahu Khair!!!

Isnaad
May 17, 2011, 02:49 AM
I consider myself very privileged reading this piece here. Alhamdulillah...ki shanti tei na exam disi...:)

idrinkh2O
May 17, 2011, 03:56 PM
এসএসসি ’১১: অদম্য মেধাবী
নিজের রোজগারে পড়েছে ওরা

বিশাল বাংলা ডেস্ক | তারিখ: ১৮-০৫-২০১১

http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/images/images/image.php/uploads/media/2011-05-17-17-55-01-042300400-5.jpg?width=340&&image=http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/uploads/media/2011-05-17-17-55-01-042300400-5.jpg

নূর মোহাম্মদ,ফাবিয়া রাইয়ান, মোস্তাফিজুর রহমান ও আলী হোসেন

জন্ম দরিদ্র পরিবারে। তাই সকালবেলা নাশতা খেয়ে বই নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি বললেই চলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারকে সহায়তা করতে শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে। ফাঁকে পড়ালেখা চালাতে হয়েছে, তাও নিজের রোজগারে। তার পরও থেমে থাকেনি ওরা। মেধা ও অধ্যবসায় তাদের অনন্য করে তুলেছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছে জিপিএ-৫। স্বপ্ন এখন আলোকিত ভবিষ্যতের।
দাদন নিয়ে ফরম পূরণ করেছিল নূর মোহাম্মদ
কখনো দিনমজুর বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ, কখনো টিউশনি করে সংসারে সহযোগিতা করতে হয়েছে। কিন্তু পথচলা থেমে থাকেনি নূর মোহাম্মদের। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখা থেকে সে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের দাশেরডাঙ্গা গ্রামের আকবর মোল্যা ও মা জরিনা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ও তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়। পাটকাঠির বেড়াঘেরা ছোট্ট একটি ঘরে তাদের বসবাস।
নূর মোহাম্মদ জানায়, দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে হয়েছিল তাকে। সেই টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়ে ওঠেনি। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও কলেজে লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য নেই তাঁর বাবার। লক্ষ্মীপাশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মুরাদ উদেদৗলা বলেন, ‘নূর মোহাম্মদ অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। কিন্তু অর্থের অভাবে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।’
নানার পেনশনের টাকায় পড়ালেখা করেছে ফারিয়া
‘আমি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হতে চাই। একজন শিক্ষকই শিক্ষার্থীর সুপ্ত আগুন জ্বালিয়ে তাকে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।’ কথাগুলো ফরিদপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ফারিয়া রাইয়ানের। মা আম্মারা বেগম বলেন, ১৩ বছর আগে যৌতুকের কারণে ফারিয়ার বাবার সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ‘পরে মেয়েকে নিয়ে চলে আসি ফরিদপুর শহরের লাহেড়ীপাড়ায় বাবার বাড়িতে। বাবার পেনশনের সামান্য টাকায় চলে ফারিয়ার পড়াশোনা।’ নানার মৃত্যুর পর মামা আব্দুল মুমিন ফারিয়ার পড়াশোনার দায়িত্ব নেন।
ফারিয়া বলে, ‘অভাবের মধ্যেই আমি বেড়ে উঠেছি। অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি। ঢাকায় গিয়ে ভালো কলেজে পড়ার ইচ্ছে থাকলেও তা হবে না। তাই ফরিদপুরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজেই ভর্তি হতে হবে।’ ফারিয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলা রানী সরকার জানান, ফারিয়া প্রকৃত অর্থে একজন মেধাবী ছাত্রী। ওর ভেতরের শক্তিতেই ও এগিয়ে যাচ্ছে।
নিয়মিত ক্লাসও করতে পারত না মোস্তাফিজ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কিশামত মালতীবাড়ী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান এবারের দাখিল পরীক্ষায় ধরণীবাড়ী লতিফ রাজিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েও চোখেমুখে অন্ধকার দেখছে। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় এত দিন পড়ার খরচ জোগাতে মাঝেমধ্যেই মাঠে দিনমজুরের কাজ করত। রাতে পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে কেরোসিন ধার নিয়ে পড়াশোনা করত। বাবা-মায়ের ইচ্ছা, মোস্তাফিজ প্রকৌশলী হবে। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক অসামর্থ্য। গ্রাম পুলিশ বাবা আব্দুল মালেকের আয় বলতে মাসিক বেতনের ৮০০ টাকা। এ দিয়ে সংসারের খরচই চলে না। মাদ্রাসার শিক্ষক হামিদুর রহমান ও অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম বলেন, ‘ছেলেটি হতদরিদ্র হওয়ায় আমরাই ফরম পূরণসহ যাবতীয় খরচ বহন করেছি। উচ্চশিক্ষার প্রতি তার অনেক আগ্রহ।’
কাজের ফাঁকে পড়াশোনা করেছে আলী হোসেন
সংসারে দুই বেলা অন্নের নিশ্চয়তা যেখানে নেই, সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আলী হোসেনের কাছে ছিল স্বপ্নের মতোই। সেই স্বপ্ন সফল করতে অন্যের পানের বরজে নিয়মিত শ্রম বিক্রি করেছে। কাজের ফাঁকে পড়াশোনা করেই আলী হোসেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আলমডাঙ্গার কেদারনগর গ্রামের আলাউদ্দিন ও সুফিয়া বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় আলী হোসেনের পড়াশোনা ষষ্ঠ শ্রেণীর পর থেমে গিয়েছিল। এরপর সে চলে যায় মামার বাড়ি একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। মামারাও তেমন স্বচ্ছল ছিলেন না। তাই দিনের বেলা মাঠে কাজ ও রাতে মামাতো ভাইদের বই নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। ভাগ্নের আগ্রহ দেখে মামা মনিরুল ইসলাম তাকে মুন্সীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। এসএসসি পরীক্ষার কয়েক মাস আগে মামা মারা যান। এরপর সে পুরোদমে পানের বরজে শ্রমিক হিসেবে কাজ ও উপার্জনের টাকা দিয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ করে। কয়েকজন শিক্ষক নিখরচায় তাকে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আলী হোসেন এখন আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অর্থাভাব তার এই স্বপ্ন কি পূরণ হতে দেবে?
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন মারুফ সামদানী, লোহাগড়া (নড়াইল); পান্না বালা, ফরিদপুর; মঞ্জুরুল হান্নান, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) এবং শাহ আলম, চুয়াডাঙ্গা]
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-05-18/news/155125)

idrinkh2O
May 17, 2011, 04:19 PM
Wednesday, May 18, 2011
Front Page
Gates to help Bangladesh attain MDGs

http://www.thedailystar.net/photo/2011/05/18/2011-05-18__f03.jpg
Bill GatesUnb, Geneva

Microsoft Chairman William Henry Bill Gates has expressed keen interest to work together with Bangladesh to help it attain the Millennium Development Goals (MDGs).

Bill Gates, also co-chair of Bill and Milinda Gates Foundation, showed the interest during a courtesy call on Prime Minister Sheikh Hasina at her hotel suite in the Swiss city on Monday evening, PM's Press Secretary Abul Kalam Azad said.

During the discussion, the Microsoft chairman hoped that Hasina's modern and prudent leadership would take the country into a new height of development.

He further appreciated the present government's development programmes in the field of women empowerment, agriculture and health sector.

The prime minister and the Microsoft chairman also discussed scope of cooperation in vaccination programmes.

Thanking Bill Gates for his commitment and efforts towards people's development, the PM said her government is highly committed to ensure women's empowerment in all spheres of the society to establish their rights.

Besides, the premier told Bill Gates her government's various programmes to reduce child and maternal mortality rate.

The Microsoft chairman congratulated Hasina for Bangladesh's achievement of MDG-4 award.

The PM also said her government is relentlessly working to achieve the other MDGs.

Health Minister AFM Ruhal Haque, Foreign Minister Dipu Moni, State Minister for Forest and Environment Hasan Mahmud, among others, were present.

Meanwhile, Supachai Panitchpakdi, secretary general of Unctad, in a meeting invited the PM to attend the UN Conference on Trade and Development (Unctad) to be held in Doha next year.

In another meeting, UNAIDS Executive Director Michel Sidibé appreciated the premier for Bangladesh's success in controlling the HIV/AIDS diseases.

Later, WHO Director Shekhar Saxena paid a courtesy call on the PM at her hotel in the evening.

During the meeting, Hasina informed the WHO director that her daughter Saima Wazed Hossain, a psychologist, is arranging a regional conference on autism next July.
(Source: http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=186196)

idrinkh2O
May 17, 2011, 04:22 PM
Tuesday, May 17, 2011
Science & Life
Cosmic quirk in microcosm
http://www.thedailystar.net/photo/2011/05/17/2011-05-17__sc01.jpg
A phenomenon called the Doppler effect causes the frequency of sound waves to shift when their source is moving. Now this effect has been seen on a smaller scale than ever before.

Scientists have detected the Doppler effect a quirk of physics that makes an ambulance's siren change pitch as it drives by on the scale of a single molecule.

The Doppler effecthas been understood since 1842 and is used to help astronomers find faraway planets, but it never before has it been demonstrated on such a small scale.

The idea behind the Doppler effect is simple: When a moving object emits either sound orlight waves, the motion of the source causes the frequency of those waves to change. [The Coolest Little Particles in Nature]

When an object moves toward you, for example, the waves bunch together because that object's motion closes the gap between successive waves (like an accordion). This bunching means the distance between waves is shrunk and their frequency is higher than if the object were sitting still.

In sound waves, an increase in frequency (equivalent to a decrease in wavelength) corresponds to higher pitch. In light waves, the frequency determines the color: blue light has a higher frequency than red light, for example.

When an object moves away from you, the opposite occurs. As the source recedes, its waves space out as it puts more distance between the waves.

"Have you ever been caught in a speed trap? You know what the Doppler shift is then," said T. Darrah Thomas, a professor emeritus of chemistry at Oregon State University. "When light or any radiation is either reflected off of, or transmitted from, a moving object, it gets its wavelength shifted. That's how the speed trap works."

Thomas led a team of researchers who observed this effect created by the rotational motion of a molecule of nitrogen.

"There is plenty of evidence of the rotational Doppler effect in large bodies, such as a spinning planet or galaxy," Thomas said. "When a planet rotates, the light coming from it shifts to a higher frequency on the side spinning toward you and a lower frequency on the side spinning away from you." The effect can also be measured when a star wobbles to and fro, revealing the presence of an otherwise unseen planet tugging the star this way and that as it orbits around. "But this same basic force is at work even on the molecular level."

The scientists blasted high-energy photons into molecules of nitrogen. When hit, the molecules were jolted with energy, which caused them to release electrons. [Twisted Physics: 7 Mind-Blowing Findings]

By carefully measuring the energies of the electrons, the researchers found that electrons released when the molecule was rotating toward the detector had a higher energy than electrons released from molecules rotating away from the detector.

Now that scientific instruments are advanced enough to detect this change, Thomas said, scientists are going to have to start accounting for it in their measurements of particles in high-energy experiments.

"I don't think anybody asked the question particularly" before now, Thomas told LiveScience. "It's just one of those things that nobody thought to look for."

The research was conducted at laboratories in Japan, Sweden and France, and is described in a paper published in the May 13 issue of the journal Physical Review Letters.

Source: LiveScience
(Source: http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=185975)

idrinkh2O
May 18, 2011, 08:14 PM
Well, I find this interesting!
--------------------------------------
পরকাল, মৃত্যু নিয়ে স্টিফেন হকিং
@ http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=ca72065eb8b2cb3c2b280e46b8812 03b&nttl=2011051940495

idrinkh2O
May 18, 2011, 08:16 PM
18 May 2011 05:36:14 AM Wednesday BdST
বিশ্বের প্রথম নক্ষত্র উদ্যান হচ্ছে রাশিয়ায়
--------------------------------------------------------------------------------
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম
http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011May/Star-Cluster-bg20110518154824.jpg
ঢাকা: বিশ্বে প্রথম নক্ষত্র উদ্যান হচ্ছে রাশিয়ার কাজান শহরের উপকণ্ঠে। শহরের ভি. আই. এঙ্গেলগার্ট মানমন্দিরের ভূখণ্ডে উদ্যানটি নির্মাণ করা হবে। ২০১৩ সাল নাগাদ কেন্দ্রটি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বহুমুখী উদ্যান ভবনটি রাশিয়ার প্রজাতন্ত্র তাতারস্তানের রাজধানী কাজানের পাশেই নির্মাণ করা হচ্ছে। এর প্রধান অংশে মহাকাশ জ্যোতির্বিদ্যার নানা উপগ্রহ যন্ত্রপাতির পরীক্ষা করা হবে। রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ কর্মসূচির কার্যক্রম এখানে চলবে। এছাড়া রুশ সরকারের মহাকাশ সংস্থা গ্লোনাস এখানে স্থাপিত করা হবে। কেবল বিজ্ঞানীদের জন্যই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্র, স্কুলপড়ুয়া ও জ্যোতির্বিদ্যায় আগ্রহী সবার জন্যই এটি খোলা থাকবে।

এ প্রসঙ্গে এঙ্গেলগার্ট মানমন্দিরের ইউরি নেফেদিয়েভ বলেন, ‘এই কেন্দ্রে থাকবে নক্ষত্রশালা (প্ল্যানেটারিয়াম), বিনোদন উদ্যান এবং মহাকাশ জরিপ ও জ্যোতির্বিদ্যার ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য একটি অংশ থাকবে। উন্নতমানের টেলিস্কোপ ও এসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি মানমন্দিরে স্থাপন করা হবে।’

এই মহাকাশ উদ্যানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে চলতি বছরের আগস্ট মাসে। এখানে এই সময়ে বিশ্ব জ্যোতির্বিদ্যা সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। গ্যাগারিনের মহাকাশ ভ্রমণের পঞ্চাশ বছর ও রুশ মহাকাশ বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক মিস্তিসøাভ কেলদীশের জন্ম শত বর্ষ উপলক্ষে এই আয়োজন।

মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর বলেন, ‘উদ্যানের অভ্যন্তরে জ্যোতির্বিদ্যায় অবদান রাখা মহান ব্যক্তিদের নাম, ছবি খোদাই করা থাকবে। আছে আরও চমক: প্রথমবারের মতো আকাশকে মাটিতে নামিয়ে আনা হবে।’

তিনি আরও জানান, উন্নত মানের প্রোজেক্টর দিয়ে আকাশ, নক্ষত্রের বাস্তব ছবি বিশেষ এক স্থানে প্রতিফলিত করে তা দেখানো হবে। এখানে একজন দর্শক উঁচু বারান্দায় দাঁড়িয়ে তার প্রিয় নক্ষত্রটি খুব কাছ থেকে দেখবেন এবং আকাশে যা দেখেন তার সঙ্গে তুলনা করবেন। আরও দেখা যাবে অ্যান্ড্রোমিদা নক্ষত্রপুঞ্জের ঝাপসাভাব।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৭ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০১১
(Source: http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=9f11e692a2a53a8382be86ee97137 63c&nttl=2011051940689)

idrinkh2O
May 21, 2011, 05:08 PM
Pabitra Kundu's touching farewell letter to his late friend and colleague Al Musabbir Sadi Pommel...

পামেলকে শেষ চিঠি
তারিখ: ২১-০৫-২০১১
http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/images/images/image.php/uploads/media/2011-05-20-17-21-01-015154700-2.jpg?width=340&&image=http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/uploads/media/2011-05-20-17-21-01-015154700-2.jpg
স্মৃতির ফ্রেমে আল মুসাব্বির সাদী (পামেল): ২০০৩ অস্ট্রেলিয়া সফরে

প্রিয় পামেল,
স্কয়ার হাসপাতালের ১৪০৭ নম্বর কেবিনের শুভ্র বিছানায় যন্ত্রণাকাতর মুখে হাসি ফুটিয়ে বলেছিলে, তোমার অসম্ভব মনের জোরটা দিয়ে লড়াইটা চালিয়ে যাবে। কিছুতেই হার স্বীকার করবে না। তুমি কথা রাখতে পারলে না পামেল! মৃত্যুর কাছে শেষ পর্যন্ত হেরেই গেলে। যে ক্যানসার তোমার পাকস্থলীতে বাসা বেঁধেছিল অজ্ঞাতে, সেটাই তোমাকে শেষ করে দিয়ে গেল।
এমন তো নয়, বার্সেলোনার সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ‘যুদ্ধ’, ডন ব্র্যাডম্যানের সঙ্গে হ্যারল্ড লারউডের, কিংবা ইভান্ডার হলিফিল্ডের সঙ্গে মাইক টাইসনের লড়াই। এটা ক্যানসার, একেবারে অব্যর্থ ঘাতক। তুমি পারলে না। মাত্র অল্প কদিনের ‘প্রস্তুতি’তে তুমি লড়াইয়ের ইঞ্চি কয়েক জমিই বের করতে পারলে না। এই তো গত মার্চ মাসে তুমি জানতে পারলে, ক্যানসার তোমার সামনে এসে গেছে। পর পরই গেলে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে। সেখানে ‘কেমো’ দেওয়া হলো দুই দফা। ফিরে এলে ঢাকায়, স্কয়ার হাসপাতালে। কথা ছিল শরীরে একটু শক্তি সঞ্চয় করে আবার যাবে সিঙ্গাপুরে। শরীরটাই আর শক্ত হয়ে উঠতে পারল না।
তোমার সেই দীর্ঘ সুদর্শন শরীরটাকে আঘাতে আঘাতে শিউরে ওঠার মতো জর্জরিত করে দিয়েছিল ক্যানসার। তবু তোমার মনের জোর ছিল, হ্যাঁ, সংশয়ও অবশ্য ছিল, তুমি নিজেই যেমন বলেছিলে ‘যদি ঠিকমতো খেতে পারতাম...।’ তুমি ঠিকমতো খেতেই পারোনি! অথচ তোমার সঙ্গী হিসেবে কয়েকটি সফরে গিয়ে জানি, নানা রকম খাবারের মধ্যে নতুন আবিষ্কারের আনন্দে মেতে উঠতে তুমি।
সবকিছুতেই তোমার আনন্দ ছিল। আনন্দ খুঁজে নিতে জানতে। তবে চির-আনন্দের উৎস খুঁজে পেয়েছিলে খেলার মধ্যে। ফুটবল, ক্রিকেটে—বিশেষ করে ফুটবলে। তোমার কাছের বন্ধুরা যেমন বলে, বরিশাল মেডিকেল কলেজে প্রথম বর্ষের পাঠ ছেড়ে ঢাকায় ফিরে আসাও ছিল ওই খেলারই টানে। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে নিয়েছ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। অন্য কোনো চাকরি জোগাড় করারও চেষ্টা করোনি। খেলার কাছে থাকতে পারবে বলে ক্রীড়া সাংবাদিক হয়েছ। দৈনিক ইনডিপেন্ডেন্ট-এ শুরু ১৯৯৫ সালে, সেখানে টানা ১০ বছর কাটিয়ে যোগ দিয়েছ ডেইলি স্টার-এ। তারপর হঠাৎই যুক্ত হয়েছ ফুটবল ফেডারেশনে। তোমার প্রিয় ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন বাফুফের সভাপতি হলেন, তোমার ফুটবল-প্রজ্ঞা দেখে তিনি ডাক দিলেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তুমি যোগ দিলে বাফুফের বৈতনিক সাধারণ সম্পাদক পদে। দেশের ফুটবলের অচলায়তন ভাঙতে সালাউদ্দিন চেয়েছিলেন একটা তরুণ চিন্তাশীল প্রজন্ম ফুটবলের প্রশাসনে আসুক। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে গিয়েছিল। কিন্তু জীবনের কঠিন অঙ্কটাই তোমার মিলল না পামেল! না হলে কেন এই ৪৪ বছর বয়সে, খেলার মাঝমাঠে থাকতে কিংবা হাফটাইমে মৃত্যু তোমার শিয়রে এসে দাঁড়াবে?
তুমি সবাইকে আপন করে নিতে জানতে। সবার প্রিয় ছিলে তুমি। কতটা তুমি জানো না। কাল ভোরের আলো ফুটতেই চিকিৎসকেরা চিরদিনের মতো তোমার ছুটি ঘোষণা করে দিলেন, আর দুপুরে যখন আলিফ মেডিকেলের লাশবাহী গাড়িতে বরফের চাইয়ের মধ্যে কফিনে শুয়ে এলে মধুবাগে তোমার পৈতৃক বাড়ির সামনে, সেখানে অজস্র লোক তোমার মুখটা একবার দেখবে বলে কী ব্যাকুল হয়ে ছিল! সেখানে ছিল তোমার সহপাঠীরা, ছিল তোমার ক্রীড়া সাংবাদিক সতীর্থরা। তোমার জানাজা হলো মধুবাগ মসজিদের সামনে। লোকে লোকারণ্য!
আজ দুপুরে শেষবারের মতো তোমার জানাজা হবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। তারপর চলে যাবে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে, যেখানে নেবে শেষশয্যা। তার আগে তোমার ‘আইডল’ তোমার চিকিৎসক বড় ভাই আল মুতাফি সাদী (অ্যাঞ্জেল) আসবেন কানাডা থেকে। তাঁর সঙ্গে দেখা না করে তো তুমি শেষশয্যা নিতে পারো না!
তোমার প্রয়াত বাবা আবদুল কুদ্দুস সাদী ছিলেন লেখক, পুস্তক প্রকাশক। মা ছিলেন শিক্ষিকা। অন্তরটা তোমার আলোকিত হয়েছে অনেকটা সেই সূত্রেই। তুমি ছিলে আমার দেখা অন্যতম আলোকিত তরুণ। আর সেই তুমিই কিনা আজ এক অচেনা অন্ধকারে ঢুকে যাবে? তোমার দুই ছেলে নয় বছরের আরিয়ান আর সাড়ে তিন বছরের আরহান অবশ্য তোমাকে আলোর দিশারী হিসেবেই খুঁজে পাবে। তোমার চিকিৎসক স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্না নিশ্চয়ই তোমার চেনানো রাস্তাটা তাদের দেখিয়ে দেবেন।
ওরা হয়তো তোমাকে সশরীরে পাবে না। তোমার কিছু উজ্জ্বল স্মৃতি সঙ্গী হবে তাদের। প্রথম আলোয় লেখা তোমার কয়েকটি অনুবাদ গ্রন্থের অক্ষরে অনুভব করবে তোমায়। আর আমাদের কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে তোমার কিছু সঙ্গসুধা।
কিন্তু সবশেষে বলি, তুমি কথা রাখোনি। এই অবেলায় আমাদের ছেড়ে গেলে। পৃথিবীর সেরা চিকিৎসকও যদি বলতেন কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে তোমাকে সুস্থ করে তোলা যাবে, আমরা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার পেছনে ছুটতাম। তোমাকে যেতে দিতামই না!
তোমার নিত্য শুভার্থী
পবিত্র কুন্ডু
Source (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-05-21/news/155925)

idrinkh2O
May 21, 2011, 05:10 PM
Al Musabbir Sadi: 1967-2011
http://www.thedailystar.net/photo/2011/05/22/2011-05-22__sp02.jpg
EVER SMILING: This picture of the late Al Musabbir Sadi was taken during a trip to the Maldives last year.

Eminent sports journalist and incumbent general secretary of the Bangladesh Football Federation (BFF), Al Musabbir Sadi passed away at 5:00 am on Friday following a brief battle with cancer. He was 44. He left behind his wife, two children, his mother, a brother and a sister along with a legion of friends and well wishers to whom he was known simply as "Pommel".

The son of Abdul Kuddus Sadi, a writer and a journalist, Sadi was born in the city's Hatkhola area on January 17, 1967. A sports enthusiast even in his early years, Sadi was also an avid reader, regaling himself with stories of the famous Masud Rana and other notable Cold War spy novels in his youth. He was also a talented student and finished his SSC with flying colours from the city's eminent Government Laboratory School in 1982. He completed his HSC from Dhaka College in 1984 and managed to land a spot to study medicine at the Barisal Medical College in 1985.

The confines of medical school did not agree with his free spirit and liberal outlook on life. He left after a single year and enrolled in the Department of Sociology in Dhaka University in 1986. It was here that he blossomed into the humble, free-thinking individual that he matured into later in life. He listened to The Doors and Dire Straits, idolised Jim Morrison and Mark Knopfler, fell in love with the remnants of Tele Santana's famous Brazil squad and King Kenny's Liverpool before early in the 90s spotting a young Indian cricketer whose fortunes he would track for the rest of his life.

And even as Sachin Tendulkar's star grew and Dunga lifted the World Cup in the New World, Sadi graduated from Dhaka University in 1993 and after some dithering decided to follow in the footsteps of his father and become a journalist. Sport was his first love and true to character, he defied conventional wisdom and started his journalism career with the then up and coming English-language daily, the Independent.

In his near 15-year journalism career, Sadi was always primarily a football reporter even as his beloved sport waned and disappeared from the public eye. His efforts to bring football back to the public eye were ceaseless and it finally culminated in him taking over the mantle of general secretary of the BFF in April 2009.

But in that decade and a half, Sadi stood out in the community as a trail-blazer whose greatest quality was that he always had time for a word with his colleagues, however young or old they were. His career at the Independent lasted nine years before he switched to The Daily Star in 2004. In the five years that he spent here, Sadi set himself apart with his exhaustive knowledge of football, his quick eye for talent, his management skill and his varied interests in activities beyond sport. He became a published author; his Bangla serialisation of Brian Lara's autobiography, "Beating the Field" for Bengali daily Prothom Alo catching the eye of publishers Annanya who released it as a full-fledged book.

In a life spent challenging himself to reach greater heights, Sadi left The Daily Star in 2009 to start a new phase in his life. BFF president Kazi Salahuddin thought so highly of him that he was made the first ever paid general secretary when he joined the football governing body in April of that year. All his life Sadi had worked ceaselessly from behind the line. This was his chance to prove himself in a capacity with greater responsibility. As usual, it was a task he took to like a fish to water and until he was diagnosed with cancer in March 2011 he continued to serve the federation with excellence and integrity.

The cancer spread swiftly moving from stomach to bone to brain and even a ceaseless fighter like Sadi who had continued to defy odds all through his life could not cope. It took his life but it failed to break his spirit, which will live on through his family, friends and thousands of well-wishers.

Sadi's passing will leave a gaping hole in the lives of his two young children and his wife, and while their pain cannot be shared, it will also be felt by the countless people who knew him.

His intelligence, wit, sense of humour and serene quality had always set him apart from his peers but most of all what defined Sadi was his sense of humility; his self-effacing demeanour which meant he was always first to credit others even in his own success. So humble was he that if he were alive and reading this now, it is almost certain he would balk at being described in such terms as anything but ordinary. But to those who knew him, he will always be exactly that, a man who was 'anything but ordinary'.
Source (http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=186742)

idrinkh2O
May 27, 2011, 04:07 PM
Wow!!! Sometimes people like me just take everything for granted! Alhamdulillah for all the privileges God has given me!
-----------------
‘এবার মামা শু কিনে দিয়েছেন’

ক্রীড়া প্রতিবেদক | তারিখ: ২৮-০৫-২০১১
http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/images/images/image.php/uploads/media/2011-05-27-18-05-40-044113400-7.jpg?width=340&&image=http://paloadmin.prothom-aloblog.com:8088/uploads/media/2011-05-27-18-05-40-044113400-7.jpg
আরিফুল ইসলাম (অরেঞ্জ)

গতবার রানিং শু ছিল না। খালি পায়ে দৌড়ে তৃতীয়। এবার মামার দেওয়া শু নিয়ে দৌড়ে প্রথম হয়েছে কুড়িগ্রামের তরুণ আরিফুল ইসলাম (অরেঞ্জ)। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসের দ্রুততম মানব বলল তার আশা আর স্বপ্নের কথা

 একটু আগে প্রথম হওয়ার পর তুমি কাঁদছিলে। বিশেষ কিছু মনে পড়েছিল?
আরিফুল ইসলাম: ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, কী বলব। এত ভালো লাগছে, গুছিয়ে বলা কঠিন। আসলে আমি অনেক কষ্ট করে আজকের এই জায়গায় এসেছি তো, তাই আনন্দে কেঁদে ফেলেছি।
 অনেক কষ্ট করে এই জায়গায় এসেছ বললে। কী ধরনের কষ্ট?
আরিফুল: আমাদের পরিবারের অবস্থা বেশি ভালো নয়। চার ভাইয়ের মধ্যে আমি দ্বিতীয়। বড় ভাই অনার্সে, তারপর আমি এসএসসি পাস করেছি, সেজো ভাই নাইনে, ছোটটি কেজিতে পড়ে। বাবা রেলে চাকরি করেন। বেতন পান সাত হাজার টাকা। গতবার অভাবের কারণে একটা শু পর্যন্ত ছিল না আমার। এটা অনেক দুঃখের ব্যাপার।
 এবার তো শু আছে। এটা কে দিয়েছে?
আরিফুল: ৫০০ টাকা দিয়ে এবার আমার মামা নুরন্নবী সরকার শু কিনে দিয়েছেন। তিনি আমাকে অনেক হেল্প করেছেন। মামা আগে খেলোয়াড় ছিলেন। তাই খেলা সম্পর্কে জানেন। আমাকে অনেক কিছু শেখান।
 তুমি অ্যাথলেটিকসে এলে কীভাবে?
আরিফুল: এমনিতে ফুটবলের পাশাপাশি টুকটাক অ্যাথলেটিকস করতাম। ইন্টার স্কুলে খেলেছি। স্থানীয় বাবু ভাই আমাকে অ্যাথলেটিকসে নিয়ে এসেছেন গত বছর। বলতে পারেন, বাসা থেকে ধরে এনেছেন বাবু ভাই।
 ফৌজিয়া হুদা জুঁইকে চেনো? কুড়িগ্রামের বিখ্যাত মেয়ে...
আরিফুল: চিনব না আবার! তাঁর (এসএ গেমসে লং জাম্পে রুপাজয়ী) কাছে আমি মাস খানেক প্র্যাকটিস করেছি। কুড়িগ্রাম সদরের দালালিপাড়ায় আমাদের বাড়ির পাশেই তাঁর বাড়ি। উনি আমার আদর্শ। আমার প্রিয় অ্যাথলেট।
 তোমার ভবিষ্যৎ ইচ্ছা কী?
আরিফুল: জুঁই আপার মতো বড় অ্যাথলেট হওয়ার স্বপ্ন দেখি। হানড্রেড মিটারে দেশের সেরা হয়ে কুড়িগ্রামের মুখ উজ্জ্বল করার স্বপ্নও আছে। বিজেএমসিতে একটা চাকরি চাই এবং তাদের হয়ে খেলার ইচ্ছা আমার।
 বিজেএমসিতে যাওয়ার আগ্রহটা কেন?
আরিফুল: বিজেএমসির কোচ ফরিদ খান চৌধুরী আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। বিজেএমসিতে এর আগে আমি গিয়েছিলাম। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার জন্য গ্যাপ যাওয়ায় সেখানে আমার চাকরিটা হয়নি। আমাদের পরিবারের অভাব-অনটন থাকায় বিজেএমসিতে চাকরিটা পেলে খুবই উপকার হবে। আমার খেলাধুলার জন্যও এটা ভালো হবে।
 গতবার এই প্রতিযোগিতায় খেলেছ। এবার এসে কেমন লাগছে?
আরিফুল: গতবার আনন্দটা বেশি ছিল। এবার একটু কম। তবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে আবার দৌড়াতে পারা অনেক বড় প্রাপ্তি আমার জন্য।
 এ দেশে তো অনেক সমস্যা। পারবে সব বাধা এড়িয়ে এগিয়ে যেতে?
আরিফুল: সব বাধা পেরিয়েই এগিয়ে যাব। আমি পারব। আমি নিজের আগ্রহেই কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে অনুশীলন করি। সাতসকালে যখন স্টেডিয়ামে যাই, কেউ থাকে না। দারোয়ানকে স্যাররা বলে দিয়েছেন, আমি এলে যেন গেট খুলে দেয়।
Source (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-05-28/news/157841)

idrinkh2O
May 31, 2011, 04:34 PM
Freedom fighters fought for our independence and now it's up to us, the youth, to take our country forward inshallah!!! Thank you and Jazak Allahu Khair Akbar Ali for :fanflag: taking our country forward by educating one person at a time...------------------------------------------------------------------------------------------
আকবর আলীর প্রজন্ম নাইট স্কুল...
তপু আহম্মেদ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011May/pro-Bg-220110531173050.jpg

অর্থের অভাবে নিজে লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে কী স্বপ্ন থেমে থাকতে পারে! চেষ্টা থাকলে পৃথিবীও যে জয় করে নেয়া যায়! এমনটাই প্রমাণ করলেন টাঙ্গাইলের আকবর আলী ওরফে আশা। দীর্ঘ তেরো বছর ধরে তিনি নিজের চেষ্টায় শিক্ষার আলো বিতরণ করে চলেছেন গ্রামের নিরক্ষর মানুষদের মাঝে।

কেনো এ ধরনের উদ্যোগ নিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে আকবর বলেন, ‘সবাই দেশ নিয়ে কথা বলে। দেশ আমাদের কী দিয়েছে? এই ধরনের প্রশ্ন শুনলে মনে আঘাত পাই। আমি মনে করি- দেশ আমাকে কী দিয়েছে সেটি বড় নয়, আমি দেশের জন্য কী করতে পেরেছি সেটাই বড়। আর এই চিন্তা থেকেই নিজ বাড়িতে ‘‘প্রজন্ম নাইট স্কুল’’ স্থাপন করি নিরক্ষর মানুষদের লেখাপড়া শেখাবো বলে।’

গ্রাম ঘুরে দেখি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের আকবর আলীর স্কুলের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ বল্লা গ্রাম। এই গ্রামে ঢুকলেই তাঁতের খট্খট্ শব্দ জানিয়ে দেয় সবাই কতটা ব্যস্ত। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ লেখাপড়া জানেন না। তাছাড়া প্রচুর তাঁত শ্রমিক কাজ করতে আসে বাইরে জেলাগুলো থেকে। তাদেরও প্রায় সবাই নিরক্ষর। এসব মানুষদের অনেকেই আকবর আলীর প্রজন্ম নাইট স্কুলে পড়ে স্বাক্ষরজ্ঞান লাভ করেছেন।

নিজে পড়াশোনা করতে পারেননি। তাও এই ধরনের উদ্যোগকে কেউ কী নিরুৎসাহিত করেছে কিনা এই প্রশ্ন করলে আকবর আলী হাসতে হাসতে বলেন, ‘প্রথম দিকে এলাকার অনেকেই এই কাজকে ‘পাগলামি’ আর ছেলে মানুষী বললেও এখন সবাই মুগ্ধ। আমার পাশে সবাই আছেন। আমাকে সহযোগিতা করে গ্রামের সব মানুষ।’


স্বপ্ন দেখার পরে বাস্তবায়নের পথে যেভাবে যাত্রা শুরু:
বল্লা দক্ষিণ পাড়ার মৃত আব্দুল হালিমের আট ছেলে এক মেয়ের মধ্যে আকবর আলীর অবস্থান সপ্তম। তাঁত শ্রমিক পিতার টানাটানির সংসারে লেখাপড়ার খরচ যোগাতে আকবরকে স্কুলে পড়ার সময় থেকেই কাজ করতে হতো। এই এলাকার অধিকাংশ ছেলেরাই পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁতের কাজ করে থাকে।

আকবর জানালেন, ‘অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় একদিন সকালে বাড়ির কাছে দোকানের সামনে বসে ছিলেন। তখন একটি ছোট শিশু এক টাকা নিয়ে এসে একটি পাউরুটি কিনে খুশিতে লাফাতে লাফাতে বাড়ি চলে যায়। কিছুক্ষণ পরেই শিশুটিকে তার বাবা কান ধরে দোকানের সামনে নিয়ে আসেন। দোকানিকে বলেন ‘ওকে বিড়ি আনতে পাঠিয়েছিলাম কিন্তু পাউরুটি কিনে নিয়ে গেছে।’ পরে পাউরুটি ফেরত দিয়ে বিড়ি নিয়ে লোকটি বাড়ির দিকে রওনা হন। শিশুটিও কাঁদতে কাঁদতে বাবার পিছু পিছু চলে যায়।’

এ ঘটনা দেখার পর আকবরের মনে দারুন প্রতিক্রিয়া হয়।

আকবর বলেন, ‘সেদিনই আমার মনে হয় লেখাপড়া জানেনা বলেই আজ এ অবস্থা। ছেলের হাতের পাউরুটি ফেরত দিয়ে বিড়ি কিনে খাচ্ছে। সেদিনই মনে মনে সংকল্প করি এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হলে গ্রামের লোকদের লেখাপড়া শেখাতে হবে।’ তাই ৯৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই আকবর আলী শুরু করেন নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম। প্রথমে এলাকার নিরক্ষর মানুষদের কোনো এক বাড়িতে জড়ো করে নাম লেখা, চিঠি পড়া ইত্যাদি শেখাতেন। কয়েক বছর এভাবে কাজ করার পর অনেকেই যখন লিখতে পড়তে শিখে ফেলে তখন আস্থা আসে আকবর আলীর প্রতি। বাড়তে থাকে শিক্ষার্থী। ৯৮ সালে নিজ বাড়ির একটি কক্ষে চালু করেন প্রজন্ম নাইট স্কুল।

প্রজন্ম নাইট স্কুলে একদিন:
গত সপ্তাহে এক সন্ধ্যায় আকবর আলীর প্রজন্ম নাইট স্কুলে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যুৎ নেই। মোমবাতি জালিয়ে লেখাপড়া শিখছে বিভিন্ন বয়সের ১৭-১৮ জন শিক্ষার্থী। ঘরের বেড়া জুড়ে টাঙানো রয়েছে শিক্ষার নানা উপকরণ। আকবর আলীর সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা উচ্চারণ করছে অ, আ, ই, ঈ।

আলাপকালে আকবর আলী জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনটি শিফটে ক্লাস নেয়া হয়। প্রথম শিফটে যারা অক্ষর চেনেন না তাদের অক্ষর পরিচিতি ও নাম লেখা শেখানো হয়। দ্বিতীয় শিফটে যারা অক্ষর চেনেন এবং কোনো মতে নাম লিখতে পারেন তাদের নাম ঠিকানা, মাস, বারের নাম ইত্যাদি শেখানো হয়। আর তৃতীয় শিফটে শিক্ষার্থীদের চিঠি লেখা, পত্রিকা পড়া এবং যোগ-বিয়োগসহ প্রাথমিক হিসাব যাতে করতে পারে তা শেখানো হয়।

প্রজন্ম নাইট স্কুলের শিক্ষার্থী সুজন মিয়া জানান, ‘তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায়। বছর খানেক আগে এ এলাকায় তাঁত শ্রমিক হিসেবে এসেছেন। লেখাপড়া জানেন না শুনে আকবর আলী তাকে এই স্কুলে এনে পড়াচ্ছেন।’ অপর শ্রমিক লালমনির হাটের আইয়ুব আলী বলেন, ‘আকবর স্যারের কারণেই আজ লিখতে পড়তে পারছি।’

মাসুদ মিয়া নামক এক শিক্ষার্থী জানালেন আকবর আলী তার নাইট স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই খাতাও দিয়ে থাকেন। আকবর আলী জানালেন, ‘সারাদিন টিউশনি এবং তাঁতের সুতা কাটার কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনো মতে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে দিন চলে যায়। উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে এই স্কুল পরিচালনা করেন।

পরিবার ও এলাকার লোকজন যা বললেন :
আকবর আলীর স্ত্রী খাদিজা আক্তার মলি বলেন, ‘প্রথম প্রথম তাঁর এই কাজ ভাল লাগতো না। কিন্তু পরে যখন দেখলাম ওনার পরিশ্রমে অনেক মানুষ লিখতে পড়তে পারছে তখন আমি নিজেও উৎসাহিত হই। তার এই কর্মকান্ড নিয়ে গর্ব করি।’

বল্লা মাদ্রাসা দারুল ইসলাম মোহাম্মদিয়ার (আলিম মাদ্রাসা) অধ্যক্ষ মো: লুৎফর রহমান বলেন, ‘আকবর আলী প্রজন্ম নাইট স্কুলের মাধ্যমে এলাকার নিরক্ষরতা দূর করার কাজ করছে। তার স্কুলের কারণে অনেকেই লিখতে পড়তে শিখেছে। আমরা সব সময় তাকে উৎসাহিত করি।’

অন্যদিকে বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আশরাফি বলেন, ‘আমরা তথাকথিত সমাজপতিরা যা করতে পারিনি আকবর তা করে আমাদের দেখিয়েছে। সে আমাদের মাঝে আশার সঞ্চার করছে। শত প্রতিকূলতার মধ্যে এলাকাকে নিরক্ষর মুক্ত করণের কাজ করে যাচ্ছে।’

অন্যান্য এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ছে এর আলো:
আকবর আলীর প্রজন্ম নাইট স্কুলের সুনাম এখন শুধু বল্লা গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তার আলো ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের এলাকা এবং অন্য উপজেলাতেও। ইতঃমধ্যে বল্লার পার্শ্ববর্তী টেংগুরিয়া গ্রামে আকবর আলী নিরক্ষর নারীদের জন্য একটি শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। এছাড়াও ভাঙ্গাবাড়ি ও ডাবাইল গ্রামে চলছে কার্যক্রম। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কিছু যুবক বল্লা প্রজন্ম নাইট স্কুল দেখে উৎসাহিত হয়েছেন। তারা আকবরের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে নিজ এলাকায় এ ধরনের স্কুল চালু করেছেন।

আকবর আলী বলেন, ‘১৩ বছরে প্রায় ছয় হাজার লোককে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করে তুলেছি। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমাকে এই স্কুল চালাতে হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ আমাকে খুব উৎসাহ দেয়। আমার স্বপ্ন হলো, একদিন আমার এলাকার প্রত্যেকটি মানুষকে নিরক্ষরতার হাত থেকে মুক্ত হবে।’source (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=71305367b64c7be0afa9294b3c572 66f&nttl=2011053142574&toppos=1)

idrinkh2O
May 31, 2011, 04:52 PM
ইচ্ছেশক্তির জোরে এগুতে থাকা ফাল্গুনী...
গোফরান পলাশ, গলাচিপা থেকে ফিরে

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011May/Falguni-bg20110519163110.jpg

কোন বাধাই দমিয়ে রাখতে পারেনি ফাল্গুনীকে। পঙ্গু দু’হাত নিয়েই প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে অংশ নিলেন এবারের এসএসসি পরীক্ষায়। এরপর তো সেই স্মরণীয় ফলাফল। গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বরিশাল বোর্ডের অধীনে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ফাল্গুনী।

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলা এলাকার দরিদ্র জগদীশ চন্দ্র সাহা ও ভারতী সাহা দম্পতির মেয়ে ফাল্গুনী চার বোনের মধ্যে তৃতীয়। বাবা জগদীশ চন্দ্র সাহা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সীমিত রোজগার দিয়ে ৬ জনের সংসারে যেন তাল মেলাতে পারছিলেন না তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর অন্য তিন মেয়েদের চেয়ে ফাল্গুনী একটু আলাদা হওয়ায় বাবার স্বপ্ন ছিল তাকে ঘিরে। অভাবের তাড়নায় অন্য মেয়েদের পড়ালেখা চুকিয়ে দিলেও ফাল্গুনীর বেলায় ছিল ভিন্নরূপ। হঠাৎ এক ট্র্যাজেডি ফাল্গুনী ও তার বাবার স্বপ্নকে ম্লান করে দেয়।

ঘটনাটা ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি’র দিকে। ফাল্গুনী তখন মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। সে সময়ের এক বিকেলে পাশের বাড়ির ছাদে সমবয়সীদের সাথে খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে তার দু’হাতের অর্ধেক অংশই ঝলসে যায়।

দেশের চিকিৎসা কাজে দিচ্ছিল না। তাই ফাল্গুনীকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতে। সেখানে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে তার দুটি হাত কেটে ফেলা হয়। এদিকে চিকিৎসার খরচ টানতে গিয়ে ফাল্গুনীর বাবা জগদীশ সাহা সর্বস্ব খুইয়েছেন। মা ভারতী সাহারও চিন্তার শেষ নেই। মেয়ের নিশ্চয় পড়াশোনাটা আর হলো না।

এদিকে মায়ের চিন্তার দিকে খুব একটা মন নেই ফাল্গুনীর। সে অন্যকে দেখে। তার মনে নানান প্রশ্ন। হাত ছাড়া লেখা যাবে না? পৃথিবীতে কিছুই তো অসম্ভব না। তবে এটা কেনো অসম্ভব হবে?

তবে ফাল্গুনীর কলম দেখলে খারাপ লাগতো। মন খারাপ হয়ে যেতো। এই মন খারাপের সময় ফাল্গুনীর জেঠুমণী মাঝে মাঝে বলতো, একটু চেষ্টা করে দেখতো লিখতে পারিস্ কিনা!

ফাল্গুনী একদিন সাহস করে কলমকে কামড় দিয়ে ধরলো। শুরু হলো চেষ্টা। আবার একদিন কাটা হাতের অংশ দিয়ে কলম ধরে লেখার চেষ্টা শুরু করলো। এভাবে একদিন-দুইদিন-তিনদিন। ব্যাস, হয়ে গেলো। কয়েক মাস পর ঠিকই লিখতে শুরু করলো ফাল্গুনী।

পঙ্গুত্বই পরাজয় বরণ করলো ফাল্গুনীর কাছে। আবার শুরু হলো স্কুলে যাওয়া।

পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পাওয়া। ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভালো ফলাফল নিয়ে গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। এবং সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ নিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিলো ফাল্গুনী। পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় ইচ্ছে শক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় ফাল্গুনীকে প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তার সফলতার নেপথ্যের ইচ্ছে শক্তির কথা বলতে হচ্ছে।

ফাল্গুনীকে দেখলে সত্যিই মনে হয়, মানুষ চাইলে সবই পারে!

ফাল্গুনীর বাবা জগদীশ চন্দ্র সাহা বলেন, সংসারের প্রতিদিনের খরচ জোগাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় কীভাবে বহন করবেন তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। অন্যদিকে গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহআলম জানান, ‘ওর সাফল্যে আমরা গর্বিত। আমরা বিশ্বাস করি আত্মবিশ্বাসী ফাল্গুনী শত বাধা পেরিয়ে তার লক্ষ্যে পৌঁছবেই’।

তবে ফাল্গুনী এতো চিন্তা করছে না। সে এখন ভাবছে ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে একজন সরকারী উচ্চ পদস্থ প্রশানিক কর্মকর্তা কীভাবে হওয়া যায়।

ফাল্গুনীর ভাষাতেই, আমাকে অনেক এগিয়ে যেতে হবে। অনেক অনেক এগিয়ে যেতে হবে। সব দুঃখকে ছাপিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
source (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=a0097122646b4c5ff8de96d593cc5 de5&nttl=2011053140897)

idrinkh2O
May 31, 2011, 04:54 PM
[বাংলা]প্রকৌশলী হওয়াটা বড় নয় ভালো মানুষ হওয়াটাই সবচাইতে বড়!!!

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011May/dr_anwer-BG-220110531210054.jpg

অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক এবং পরবর্তীতে ১৯৮৩-১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এরিজনা ষ্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকত্তর; একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে পিএইচডি সম্মান অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সের প্রধান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেছেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রকৌশল বিভাগে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল র মান প্রসঙ্গে।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- শেরিফ আল সায়ার

১. বাংলাদেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল র মান নিয়ে কিছু বলুন।

** এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে শুরুতেই আপনাকে একটু পেছনে যেতে হবে। প্রথমত হলো, বাংলাদেশে কেনো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তরটা শুরুতে জানতে হবে। উত্তরটি খুব সরাসরি বলি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুল তে আমাদের দেশের মেধাবী ছেলে-মেয়েরা ভর্তি হয়। সেসময় তাদের বুকে থাকে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন। অথচ সেশন জট থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সমস্যাগুলো তাদের সেই স্বপ্নকে ধুলোর সাথে মিশিয়ে দেয়। দেখা যায়, চার বছরের অনার্স কোর্স শেষ করতে তাদের সময় লেগে যায় ছয় থেকে সাত বছর। চাকরীর বাজারে এতে করে তারা অনেক পিছিয়েও পড়তে শুরু করে। এটা ছিল প্রথম কারণ। দ্বিতীয় কারণটি হলো, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে সেখানে পড়ার সুযোগ হারায়। ফলে ঘটে স্বপ্নের বিপর্যয়। মূলত এই দুটি কারণ বিবেচনা করেই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এবার আসি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল র মান নিয়ে। মানের দিক থেকে বর্তমানে সব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে আছে আমি তা বলব না। অনেকেরই অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু সকলেই সীমাবদ্ধতা কাটানোর চেষ্টা করছে। তবে তা অবশ্যই পড়াশুনার মান অক্ষুন্ন রাখার জন্য। অভিজ্ঞ শিক্ষক, মান সম্পন্ন ক্লাসরুম, কম্পিউটার ল্যাব, এই সকল সুযোগ-সুবিধা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল শিক্ষার্থীদের দিচ্ছে। আর সময়মতো পড়াশোনা শেষ করে চাকরীর বাজারে ঢুকে যাওয়াটা তাদের সময়কে অনেকটাই বাঁচিয়ে দিচ্ছে বলে আমি মনে করি। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুল র বয়স আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুল র বয়সও তো আপনাকে বিবেচনায় আনতে হবে। তবে ধীরে ধীরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দক্ষ-জনবল দিতে পারছে বলে আমি মনে করি।

২. বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা কতটা মান সম্পন্ন?

** আমি শুরুতেই বলেছি, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুল তে সুযোগ পায় না। অথচ তারা বুকে লালন করছে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন। তাদের সেই স্বপ্ন অনেকটাই এখন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল পূরণ করছে। তারা মানের দিক থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। আমাদের শিক্ষকরা তাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করে থাকে। আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছি; আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, আমি সব সময় আমার শিক্ষার্থীদের যে কোনো সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত থাকি। শুধু আমি কেন! আমার অন্যান্য কলিগরাও তাদের পাশে থাকে। আর সহযোগিতা না দেবার তো কোনো প্রশ্নই আসে না। ছেলে-মেয়েরা এখানে পড়ছে টাকা দিয়ে। আমরা তাদের সকল অসুবিধার কথা শুনতে এবং সমস্যার সমাধান দিতে বাধ্য।

৩. আপনি যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন সেখানে কি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছে?

** শুরুতেই আপনাকে বুঝতে হবে সুযোগ-সুবিধা বলতে কি বোঝায়। একটি প্রকৌশল বিভাগের সর্বোচ্চ গুরুত্ব হচ্ছে, ব্যবহারিক ল্যাব। এবং সেই ল্যাবে কাজ করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ যন্ত্রপাতি। যা আমরা দিতে সক্ষম। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আমাদের পৃথক পৃথক ল্যাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ল্যাবের জন্য আমাদের শিক্ষকও নিয়োগ করা আছে। তাদের কাজই হচ্ছে শিক্ষার্থীরা ল্যাবে কাজ করলে সহযোগিতা করা। এছাড়াও আমাদের আছে গবেষণাগার। উদ্ভাবনী মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা গবেষণাগারে কাজ করে থাকে। এছাড়াও কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তো যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাধ্যতামূলক বলে মনে আমি মনে করি।

৪. বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল র শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতা নিয়ে কিছু বলুন।

** আমি বিশ্বাস করি, একজন শিক্ষার্থীর কাছে পড়াশোনাটাই বড় বিষয় নয়। আর সৃষ্টিশীল জাতি বলতে শুধু বিজ্ঞানের বিষয়েই সৃষ্টি করে যাবে তাও কিন্তু নয়। জীবনকে অনুভব করতে হবে। আমি সবসময় আমার ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ দেই শিল্পমাধ্যম নিয়ে কাজ করবার। আর তারা উৎসাহ পাচ্ছেও। আমরা বছরে বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ কাজ করে থাকি। সেখানে তারা যা শিখতে পায় তা হাজার বই পড়েও শেখা সম্ভব নয়। যে কোন জায়গায় চাকরী বলেন আর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কথা বলেন; প্রয়োজন হয় টিম ওয়ার্কের। আর সেই টিম ওয়ার্ক তারা শিখবে বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজ করতে গিয়ে। এই কাজগুলো করতে গেলে তাদের ভেতরকার সৃষ্টিশীলতা তারা নিজেরাই আবিস্কার করবে।

৫. খুদে প্রকৌশলীদের প্রতি অর্থাৎ যারা প্রকৌশল বিভাগে পড়তে চায় তাদের প্রতি আপনার কোন পরামর্শ আছে কি?

** পরামর্শ একটাই- সব বিষয়ে পড়াশোনা করো। এবং পড়ার সীমাবদ্ধতা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই রেখো না। পৃথিবীতে জানার অনেক কিছু আছে। পৃথিবীর প্রতিটি শিল্পকে বিজ্ঞানের সাথে মিলিয়ে দেয়া যায়। বিজ্ঞান ছাড়া এ পৃথিবী কখনও এগিয়ে যেতে পারবে না। বলতে হয়, ভবিষ্যত পৃথিবী তোমাদের উপরই নির্ভর করছে। আর তাই নিজেদের গড়তে হবে সেভাবেই। মনের দুয়ারটাকে খুলে ফেলো। মানুষকে ভালোবাসো। দেশকে ভালোবাসো। দেশের জন্য কিছুর করার অভিপ্রায় নিয়ে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে। এটাকে আমার পরামর্শ কিংবা ভবিষ্যত প্রকৌশলীদের প্রতি চাওয়াও বলতে পারেন। কারণ, প্রকৌশলী হওয়াটা বড় নয় ভালো মানুষ হওয়টাই সবচাইতে বড়।
source (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=b04f5f73d6b998d82b2a855eaad77 fad&nttl=2011053142626)[/বাংলা]

Zeeshan
May 31, 2011, 08:58 PM
Keep them coming. Pity they are all in Bangla and it's hard to read the small fonts. Or else every one of them is noteworthy.

Naimul_Hd
May 31, 2011, 09:26 PM
some of the stories are really inspiring. Sometimes i wonder myself, what have i done in my life ?! :(

idrinkh2O
June 4, 2011, 02:23 AM
প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষার্থে ‘দাঁড়িয়েছেন‘ দুলা খুড়া. (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=3efcdd8c4998017c9578b28a059f7 2e4&nttl=2011060443105)..

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011June/SM/Mujibnagar--SM-120110604123020.jpg

মেহেরপুর: দু’পায়ে দাঁড়ানোর সামর্থ তার নেই- তারপরও লোকজন বলছে তিনি দাঁড়িয়েছেন। হ্যাঁ, তিনি এবার ‘ভোটে দাঁড়িয়েছেন’।

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী শহিদুলাহ ওরফে দুলা খুড়াকে নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে তাই বেশ আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি তার ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সদস্য পদে দাঁড়িয়েছেন।

এলাকার বেশ কিছু যুবক তাকে উৎসাহ দিয়ে ভোটে দাঁড় করিয়েছেন বলে বাংলানিউজকে জানালেন। নির্বাচনে তার পদে মোট ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনিই জয়ী হবেন বলে আশাবাদী দুলা।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার মৃত দাউদ কারিগরের ছেলে শহিদুলাহ এক বছর বয়সে অসুস্থ (পেলিও) হলে তার পা দু’টি অচল হয়ে যায়। সোজা হয়ে হাঁটার ক্ষমতা হারান তখন থেকেই। দু’হাতে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলাফেরা করেন তিনি।

নিজের জায়গা-জমি বলতে কিছু নেই। চা বিক্রি করে পেট পালতে হয়। ব্যক্তিজীবনে একটি দুঃখ তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় খুব। তা হলো- যুবক বয়সে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান।

নিজের ভরণ পোষণ নিজেকেই করতে হয়। প্রতিবন্ধী হলেও সরকারি-বেসরকারি কোনও মহল থেকে কোনও ধরনের ভাতা পান না।

মনের এসব দুঃখকে সঙ্গী করে এবং প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষার্থে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে হাসিমুখে জানালেন শহীদুল্লাহ ওরফে দুলা খুড়া।

idrinkh2O
June 13, 2011, 07:40 PM
Bangladesh teenagers drive outsourcing growth! (http://www.google.com/hostednews/afp/article/ALeqM5gh1bC3I61ELl0jRpMHalqLE2q74g?docId=CNG.775f0 1f4c24a2ae29a4fd3c7a882649a.e1)

http://www.google.com/hostednews/afp/media/ALeqM5j0MjckGD_X-miesvMnvz6rkB9adg?docId=photo_1307510152831-1-0&size=

Bangladeshi computer programmer Abdullah Al Zahid works on his computer at his house in Dhaka
http://www.google.com/hostednews/afp/media/ALeqM5hbmPisiElBhhtI5BsIf6sHjnLQ0g?
Bangladeshi programmers work in a software firm in Dhaka

DHAKA — Like many teenagers, Abdullah Al Zahid spends most of his time holed up in his bedroom in his family's modest Dhaka apartment glued to his computer.

But Zahid, 16, is not checking Facebook or chatting to friends -- he's working as a freelance web developer, part of a new wave of young, tech-savvy Bangladeshis who are transforming their country's nascent outsourcing sector.

"There is so much demand for outsourcing, I am struggling to cope. I have to turn down many, many job offers," said Zahid, who earns around $1,000 a month from several outsourcing contracts and is his family's main breadwinner.

"Many of my friends are interested in this work. I hope to set up my own office one day and hire other people like me to do more outsourcing," said Zahid, who is still at school and wants to go on to university.

The Bangladesh Association of Software and Information Services (BASIS) estimates there are some 15,000 freelancers like Zahid in Bangladesh doing outsourced work for technology companies from across the globe.

The country also has some 500 registered IT outsourcing companies which collectively employ an additional 20,000 workers.

Compared to neighbouring India, which accounts for around 55 percent of the $3.4 trillion global market and employs 2.54 million people directly in the sector, Bangladesh is an outsourcing minnow.

But as outsourcing costs rise in other countries like India, China and the Philippines, impoverished Bangladesh, currently better known for cheap garment exports for top Western brands, may be able to cash in.

"New companies are approaching with new orders now and that's what we need to boost the industry as global IT spending is expected to rise over the next few years," BASIS president Mahboob Zaman told AFP.

"We are just getting entry into the global industry but we have real potential," he said, adding that Bangladesh's low cost labour pool was a key competitive advantage.

The average wage of an outsourced IT sector employee is around $8 per hour in Bangladesh compared to $20 per hour in India and $10 to $15 an hour in the Philippines.

Moreover, Bangladesh has one of the largest and youngest populations in Asia, with 150 million people of whom some 65 percent are under 25, Zaman said.

Last December, leading technology research company Gartner ranked Bangladesh for the first time in its annual list as one of its top 30 countries for IT services outsourcing in 2010 thanks to its low costs and huge labour pool.

Bangladesh began developing an outsourcing sector in 2004 and it is now worth around $120 million. The country exported some $36 million worth of IT services last year, according to BASIS figures.

The government has declared developing the IT outsourcing industry to be a key priority, which fits with their ongoing campaign to create a "Digital Bangladesh" by 2020.

But there are major challenges which must be addressed before the industry can flourish: Gartner gave Bangladesh a "poor" rating in three vital areas -- infrastructure, language skills and data, and intellectual property security.

Poor infrastructure, including frequent power crises and slow and unreliable Internet connections are the most immediate problems for Ahmadul Hoq, president of the Bangladesh Association of Call Centre and Outsourcing (BACCO).

"We have told the government that we need an uninterrupted power supply and a second connection with high bandwidth," Hoq told AFP, adding that progress on these issues was slow.

Bangladesh's businesses have long suffered from an acute power crisis, as plants generate only around 5,000 megawatts of electricity a day, but demand is over 6,000 megawatts and growing at a rate of 500 megawatts a year.

The country has only one submarine Internet cable and desperately needs a second line to prevent frequent disruptions, Hoq said.

"We are connected to submarine cable network SEA-ME-WE-4, which provides an Internet bandwidth of 24 gigabytes, but more speed needed and an alternative connection is essential to woo overseas clients," Hoq said.

The government should also set up IT software parks in the capital Dhaka and at universities across the country to attract more graduates to the sector and ensure the right skills training is available, Hoq said.

For BASIS president Zaman, Bangladesh should aim for its outsourcing service industry to export $500 million worth of services by 2014, a goal he said was within reach.

"Two decades ago, many people could not imagine Bangladesh's garment industry would become the country's highest export earner -- but it did. I believe the outsourcing industry has the same potential," Zaman said.

Bangladesh's garment industry accounts for 80 percent of the country's $16-billion-plus of export earnings and employs over three million workers, mostly women.

The country's biggest advantage in terms of outsourcing, Zaman said, is its people -- particularly the younger tech-savvy generation who are already helping the sector to take off without any government support.

"Young men like Zahid (the freelance web developer) adapt to new technologies quickly and it is going to be them who will drive the outsourcing industry forward," he said.

idrinkh2O
June 13, 2011, 07:42 PM
I read the Holy Quran everyday: Tony Blair (http://tribune.com.pk/story/188297/i-read-the-holy-quran-everyday-former-british-pm-tony-blair/)

http://i1.tribune.com.pk/wp-content/uploads/2011/06/Tony_Blair-640x480.jpg
Former British Premier, Blair reads the quran everday to stay "faith literate".

LONDON: In a startling revelation during an interview to The Observer magazine, the former British Prime Minister Tony Blair confessed to reading the Holy Quran, the holy scripture for the 1.5 billion global Muslim population, as reported by the Daily Mail.

Blair, who was famously reluctant to discuss his faith during his time in office, converted to Catholicism months after leaving 10 Downing Street in 2007, and set up the ‘Tony Blair Faith Foundation’, to promote respect and understanding between the major religions.

In the interview, he said “I read the Bible every day. I read the Quran every day, partly to understand some of the things happening in the world, but mainly just because it is immensely instructive.”

Reading Islam’s holy book ensured he remained ‘faith-literate’ said Blair, adding that he believes being faith-literate is crucial in today’s globalised world.

Blair believes that knowledge of Islam informs his current role as Middle East envoy for the Quartet of the United Nations, United States, European Union and Russia.

This isn’t the first time that the former British Premier had spoken so highly of the religion. In 2006 he said the Quran was a ‘reforming book, it is inclusive. It extols science and knowledge and abhors superstition. It is practical and way ahead of its time in attitudes to marriage, women and governance’.

He praised the Muslim faith as being ‘beautiful’ and that the Prophet Mohammed (PBUH) as being ‘an enormously civilizing force’.

Last October, Blair’s sister-in-law Lauren Booth raised eyebrows after announcing that she had converted to Islam after what she described as a ‘holy experience’ during a visit to a shrine in Iran.

idrinkh2O
June 13, 2011, 07:44 PM
[B]নিয়মিত কোরআন পড়ছেন ব্লেয়ার...[/ (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=5a4ee76ea576a5660d69935af1f58 2b5&nttl=2011061444653)B]

লন্ডন: সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ধর্মের গুরুত্ব সম্পর্কে আরো বেশি খোলামেলাভাবে কথা বলতে শুরু করেছেন। এমনকি ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে তিনি নিয়মিত কোরআন পড়ছেন।

ধর্মের ব্যাপারে কোনো আগ্রহ নেই এ কথা বলে বেড়ালেও ২০০৭ সালে নির্বাচনে হেরে ক্ষমতা ছাড়ার পরই তিনি ধর্মের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে বাড়ি ছাড়ার পরই তিনি প্রথম যে কাজটি করেন তা হলো ক্যাথোলিক মতবাদে দীক্ষা নেওয়া।

লেবার পার্টির সাবেক এই নেতা ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে নিয়মিত কোরআন পড়ছেন। তিনি বলছেন, ইসলামের এই পবিত্র গ্রন্থটি পড়ে তিনি নিশ্চিত হতে পারছেন যে তিনি ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি।

বিশ্বায়নের এই যুগে ধর্মের জ্ঞান থাকা সবার জন্যই জরুরি বলে তার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন কোরআন পড়ি। এর কিছু অংশ পৃথিবীতে ঘটমান বিষয় বোঝার জন্য। তবে বেশিরভাগই শিক্ষামূলক।’

এছাড়া, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়া এই চতুষ্টয়ের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করতে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের জ্ঞান তার জন্য খুবই দরকারি বলে বর্ণনা করেন ব্লেয়ার।

ব্লেয়ার মুসলিমদের ধর্মকে ‘চমৎকার’ আখ্যায়িত করে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানুষকে সৎপথে পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামের নবী মহম্মদের অসাধারণ ক্ষমতা ছিল।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরআন একটি ‘সংস্কারক গ্রন্থ’ এবং এটি সর্বব্যাপী। এটি জ্ঞান ও বিজ্ঞানের প্রশংসা করে আর অন্ধ বিশ্বাসকে ঘৃনা করে। এটি বাস্তবভিত্তিক এবং বিবাহ প্রথা , নারী ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি ছিলো এর সময়ের চেয়েও অগ্রসর।

idrinkh2O
June 14, 2011, 12:10 AM
Driving from Bangladesh to England in a classic Rolls Royce (http://www.gadling.com/2011/06/12/driving-from-bangladesh-to-englad-in-classic-rolls-royce/)

http://www.blogcdn.com/www.gadling.com/media/2011/06/page1.jpg

Rupert Grey and his wife Jan are preparing to make an epic road trip this September. The kind of road trip that we all dream about during which we leave our normal, mundane, lives behind in favor of the open road and untold adventures. In this case, our two intrepid travelers will begin their journey in Bangladesh and eventually end up back in their native England, covering thousands of miles in between. But Rupert and Jan aren't content with just making that journey in just any old vehicle, which is why they'll be driving their classic 1936 Rolls Royce along the way.

While the start of their adventure is still a few months off, the couple are making preparations for what will likely be a fantastic journey. They will be shipping their car to Chittagong, Bangladesh, where they will set out to drive through Bhutan, Nepal, and India before arriving at the Arabian Sea. From there, they'll board a ship bound for Iran, where they'll once again hit the open road, crossing into Turkey and eventually Europe, before returning back to the U.K.

Intrigued by this unique road trip, an independent film company hopes to make a documentary of Rupert and Jan's journey. Rover Films is currently seeking funding for the project, and have already tentatively named their film A Sense of Adventure. You can check out the teaser trailer for it below.

Reading about this story left me to wondering. If you could take any road trip in any vehicle, where would you go and what would you drive? For me personally, I'd love to go from Cairo, Egypt to Cape Town, South Africa, in a classic Land Rover Defender. Say circa 1985 or so.

How about you?

idrinkh2O
June 14, 2011, 12:14 AM
উভচর গাড়ি (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=34718c45c1d3d4dfa6c1947397107 bb1&nttl=2011061444651)
http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011June/SM/car20110614052325.jpg
ঢাকা: হাঁসের মতো স্থলেও চরবে আবার জলেও ভাসবে আগামী দিনের উভচর কার ভলক্সওয়াগন অ্যাকুয়া।

শুধু তাই নয় ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিসীমার এ কার একই গতিতে অনায়াসে চলাচল করবে সড়কে, জলে, বরফে ও বালিতে।

চীনা বংশোদ্ভূত ২১ বছর বয়সী ইউহান জেং সম্প্রতি একটি জার্মান গাড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় এক প্রতিযোগিতায় উপস্থাপন করেন এ উভচর কারের নকশা।

সাধারণ মসৃন রাস্তা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে এমন যানের নকশার তৈরির প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে জেং এ উভচর গাড়ির নকশাটি প্রদর্শন করেন।

নকশা অনুযায়ী গড়িটি দেখতে অনেকটা স্পোর্টস কারের মতো। পানিতে চলার জন্য এতে ব্যবহার করা হবে চারটি শক্তিশালী ফ্যান। এছাড়াও এর দুই পাশে দুইটি বায়ুথলি থাকবে যা গাড়িটিকে প্রয়োজনে উপরে উঠতে সহায়তা করবে।

এর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে হাইড্রোজেন গ্যাস যা সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব।

গাড়িটিতে রয়েছে দুইটি মটর যার একটি নিয়ন্ত্রণ করবে এর গতিবেগ এবং অপরটি কাজ করবে জল, স্থল, বরফ ও বালিতে চলার কাজে ব্যবহৃত ভিন্ন ভিন্ন যন্ত্রাংশ।

প্রদর্শনীর সময় এর নকশা প্রণেতা ইউহান জেং অতি শিগগিরি এ সুপার কারটি সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসার আশা প্রকাশ করেন।
---------------------------------------------------------------------------------------------------
Now, a car that moves on water (http://www.hindustantimes.com/Now-a-car-that-moves-on-water/Article1-708828.aspx)

In what has come as China’s reply to Japan’s levitating locomotive, the ‘Volkswagen Aqua’ born to the thoughts of 21-year-old designer Yuhan Zhang, can drive on roads, sand, ice - and even water. The all-terrain vehicle, which has a top speed of 62mph and works like a hovercraft, can move seamlessl y over different surfaces.

Created for a competition sponsored by the German car manufacturer, the vehicle's sleek sportscar-like design incorporates four high-powered fans and integrated airbags that inflate to lift it from the ground.

A large windscreen stretches above the front seats to give a panoramic view of the landscape ahead.

Based on technology that is currently available, the Aqua uses a hydrogen fuel cell to power two motors - with zero carbon emissions.

One motor inflates the skirt around the vehicle to make it hover, while the second drives it forwards and controls its direction.

“There is no better form of transport than an air cushion vehicle because it travels equally well over land, ice, and water,” the Daily Mail quoted Yuhan as saying.

“I hope Aqua will become an affordable supercar that is available to the general public one day,” he added.

The competition asked designers to come up with a 'Chinese off-road vehicle'.

Naimul_Hd
June 29, 2011, 09:05 PM
Attitude overcomes more obstacles than you think

<object style="height: 390px; width: 640px;">


<embed src="https://www.youtube.com/v/ngzyhnkT_jY?version=3" type="application/x-shockwave-flash" allowfullscreen="true" allowscriptaccess="always" width="640" height="390"></object>

Naimul_Hd
June 30, 2011, 01:35 AM
Here is the Aljajera news on Abdullah who is a young guy earning money as freelance IT.

<object style="height: 390px; width: 640px"><param name="movie" value="https://www.youtube.com/v/Lnkq_H0d2zI?version=3"><param name="allowFullScreen" value="true"><param name="allowScriptAccess" value="always"><embed src="https://www.youtube.com/v/Lnkq_H0d2zI?version=3" type="application/x-shockwave-flash" allowfullscreen="true" allowScriptAccess="always" width="640" height="390"></object>

Rabz
June 30, 2011, 02:07 AM
^^ Thanks for sharing.
Positive news about Bangladesh is always good to see.

roman
August 18, 2011, 11:45 AM
[বাংলা] শরীফের আশ্চর্য আবিষ্কার![/বাংলা][বাংলা]


<HR style="BORDER-BOTTOM: #d6d6d6 1px solid; BORDER-LEFT: #d6d6d6 1px solid; BORDER-TOP: #d6d6d6 1px solid; BORDER-RIGHT: #d6d6d6 1px solid" color=#ffffff width="100%">শরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম
<TABLE border=0 cellSpacing=0 cellPadding=5 align=right><TBODY><TR><TD>http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011August/sharif-pic-bg20110818221546.jpg</TD></TR></TBODY></TABLE>

সারা জীবন বই পড়ে জেনে এসেছি তেল, গ্যাস, পানি, কয়লা আর বাতাস ও সৌরশক্তিই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উপাদান। কিন্তু এগুলো ছাড়াও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়! অসম্ভব। হ্যাঁ আমিও আপনার মতো প্রথমেই এই শব্দটি উচ্চারণ করেছিলাম। কিন্তু বিদেশ-বিভুঁইয়ে নয়, খোদ বাংলাদেশের এক তরুণ উদ্ভাবক এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। একাগ্র সাধনা আর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা দিয়ে এই অসম্ভবকে জয় করার দাবি করেছেন টাঙ্গাইলের শরীফুল ইসলাম।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চান্দুলিয়া গ্রামের ছোরত আলী ও ফুলখাতুন বেগমের সন্তান শরীফুল ইসলাম। ছয় ভাই আর তিন বোনের মধ্যে তিনি অষ্টম। স্কুলজীবন থেকে বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিকল্প জ্বালানি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু। ২০০৭ সালে দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়ে প্রাথমিক ধারণা এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে বিকল্প জ্বালানি উদ্ভাবনের জন্য একটা যন্ত্রের মডেল উদ্ভাবন। নিজের নাম অনুসারে তিনি যন্ত্রটির নাম দিয়েছেন ‘শরীফুয়েল্লেস এনার্জি’।

নিজের উদ্ভাবিত যন্ত্রের প্রচার ও সবাইকে বিষয়টি অবহিত করতে দুরুদুরু বুকে ৯ জুলাই ২০১১ জাতীয় প্রেসক্লাবে হাজির হন শরীফ। সঙ্গে বন্ধু ও খালাত ভাই। হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিকের অব্যাহত প্রশ্নে শুরুতেই অসহায় আত্মসমর্পণ সদ্য গ্রাম থেকে উঠে আসা শরীফের। তারপরও জোরালো কণ্ঠে তার দাবি, আমি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে পারি আমার যন্ত্র সম্পূর্ণ সঠিক।

অনুষ্ঠান শেষে কথা হচ্ছিল শরীফুলের সাথে তার আবিষ্কৃত যন্ত্রটি নিয়ে। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে আমি তেল, গ্যাস, পানি, কয়লা, বাতাস বা সৌরশক্তি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম চালাই এবং আমার উদ্ভাবিত যন্ত্র দিয়ে ৩.৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হই। আমি আরো গবেষণা চলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, আমার উদ্ভাবিত ইঞ্জিনের জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা হবে অফুরন্ত ও শক্তিশালী।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুরুতে আমার উদ্ভাবিত যন্ত্রের উৎপাদনক্ষমতা কম ছিল। প্রতিদিন আমি এ যন্ত্রের শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছি। এখন আমার উদ্ভাবিত যন্ত্রের শক্তি সম্পর্কে সংশয় ছাড়াই বলতে পারি যে, এর শক্তি অফুরন্ত। শুধু তাই নয়, আমি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে পারি আমার এ যন্ত্রের শক্তি সম্পর্কে কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারবেন না।’

যন্ত্রের শক্তি সম্পর্কে উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার উদ্ভাবিত এ যন্ত্র দিয়ে আমার পরিবারের বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে আমি পাশের বাসায় সরবরাহ করেছি। এই যন্ত্রে এখন যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে তা দিয়ে ২০টি ফ্যান ও ১০০টি ১০০ ওয়াটের লাইট জ্বালানো সম্ভব।

তবে যন্ত্রটি তিনি কী কী উপাদান দিয়ে তৈরি করেছেন এবং এটি কীভাবে কাজ করে এ সম্পর্কে কোনো কিছুই বলতে নারাজ শরীফ। তার শঙ্কা, এতে করে তার অনেক দিনের সাধনার অর্জন চুরি হয়ে যেতে পারে।

সরকারের কাছে সহায়তা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, সরকার যদি আমাকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেয় তবে আমি যন্ত্রটিকে আধুনিক করে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাব যে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে আরো উদ্বৃত্ত থাকবে। সারা দেশে এরকম শত শত যন্ত্র ছড়িয়ে দিতে পারলে আমদানি নয়, বরং সরকার বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু বিদ্যুৎ আবিষ্কার নয়, আমি এ যন্ত্রটিকে এমনভাবে তৈরি করেছি যে, কোনো ধরনের জ্বালানি ছাড়া গাড়িতেও এটি ব্যবহার করা যাবে। আমার দরকার পর্যাপ্ত সহায়তা।’

এই যন্ত্র আবিষ্কারে কার বেশি অনুপ্রেরণা ও সহায়তা ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, যন্ত্র আবিষ্কারের পেছনে আমার আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে আমাদের ধানি জমি বন্ধক রাখতে হয়েছে। তারপরও কেউ সহায়তা করেননি। তবে স্থানীয় পত্রিকায় যন্ত্র আবিষ্কারের প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর টাঙ্গাইল ৭ আসনের সাংসদ একাব্বর হোসেন ১ টন চাল পুরস্কার দিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের তৎকালীন ইউএনও জান্নাত রেহানা তার প্রকৌশলী ভাইকে নিয়ে এসেছিলেন আমার যন্ত্রটি কীভাবে কাজ করে জানতে। আমি তাদের বলিনি।’

বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া আবিষ্কারের স্বীকৃতি আসবে না বলে জানালে শরীফ বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। আমার পেছনে কোনো সহায়তা নেই। যে কেউ এসে এই ফর্মুলাটা জেনে নিয়ে নিজের আবিষ্কার বলে জাহির করবেন। তাই আমি চাই সরকারই এগিয়ে আসুক এবং আমার নামেই যন্ত্রটির প্রসার হোক। সরকার এগিয়ে এলে আমি নিজেই সবার সামনে এই যন্ত্রের ফর্মুলা প্রকাশ করবো।’

[/বাংলা]

akabir77
August 18, 2011, 02:26 PM
another one of these inventors what happen to last one who invented never ending energy or something?

mac
August 18, 2011, 03:17 PM
A real KDPP thing!
<br />Posted via BC Mobile Edition (Android)

banfan2
August 18, 2011, 04:56 PM
etaki shotti!!!

Zeeshan
September 13, 2011, 09:39 PM
<iframe width="560" height="345" src="http://www.youtube.com/embed/RwEYYI-AGWs" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

Backstory:

http://improveverywhere.com/2011/08/22/say-something-nice/

nycpro96
September 13, 2011, 09:44 PM
This was great!

idrinkh2O
September 15, 2011, 02:18 PM
http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=7f952f62bb69736f71ff3f04a99c0 709&nttl=2011091201295757316&toppos=1

HereWeGo
September 16, 2011, 01:20 PM
http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=7f952f62bb69736f71ff3f04a99c0 709&nttl=2011091201295757316&toppos=1

You cannot produce something out of nothing!! only God can do that!! What I really wanna know is how the battery is getting charged continuously? There must be some kind of power source!! :S

Nasif
September 16, 2011, 01:40 PM
http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=7f952f62bb69736f71ff3f04a99c0 709&nttl=2011091201295757316&toppos=1

Not again! Violates too many laws.... never forget Mr. Ohms' R

http://upload.wikimedia.org/math/f/0/8/f080423b9e5e00f71b5397750b6e780f.png

Unless ofcourse these two invented super-conductor in their village!

idrinkh2O
November 4, 2011, 02:37 PM
নো ফ্রি লাঞ্চ (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-02/news/198679)
হুমায়ূন আহমেদ, নিউইয়র্ক থেকে | তারিখ: ০২-১১-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2011-11-01-18-46-14-065948000-untitled-8.jpg

‘নো ফ্রি লাঞ্চ’—একটি আমেরিকান বাক্য। এই বাক্যটা বলে তারা এক ধরনের শ্লাঘা অনুভব করে। তারা সবাইকে জানাতে পছন্দ করে যে তারা কাজের বিনিময়ে খাদ্যে বিশ্বাসী।

এই ধরনের বাক্য বাংলা ভাষাতেও আছে—‘ফেলো কড়ি মাখো তেল’। গায়ে তেল মাখতে হলে কড়ি ফেলতে হবে। আরামের বিনিময়মূল্য লাগবে। যা-ই হোক, ফ্রি লাঞ্চে ফিরে যাই। নো ফ্রি লাঞ্চের দেশে চিকিৎসা করতে ব্যাগ ভর্তি ডলার নিয়ে যেতে হবে, এই তথ্য আমি জানি। তবে বিকল্প ব্যবস্থাও আছে। বুকে প্রচণ্ড ব্যথা বলে যেকোনো হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যেতে হবে। বুকে ব্যথা মানে হার্ট অ্যাটাক। হাসপাতাল হেলথ ইনস্যুরেন্স আছে কি নেই তা না দেখেই রোগী ভর্তি করবে। চিকিৎসা শুরু হবে। চিকিৎসার একপর্যায়ে ধরা পড়বে রোগীর হয়েছে ক্যানসার। হাসপাতাল তখন ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু করবে। রোগীকে ধাক্কা দিয়ে হাসপাতালের ফুটপাতে ফেলে দেবে না। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর বলতে হবে, আমি কপর্দকশূন্য। এক মিলিয়ন ডলার বিল আমি দেব, তবে একসঙ্গে দিতে পারব না। ভেঙে ভেঙে দেব। প্রতি মাসে পাঁচ ডলার করে। এই প্রস্তাবে রাজি হওয়া ছাড়া হাসপাতালের তখন আর করার কিছু থাকে না। বাংলাদেশিদের কাছে এই বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থা সংগত কারণেই বেশ জনপ্রিয়।

বাঙালি ব্যবস্থায় আমি চিকিৎসা শুরু করব, এই প্রশ্নই ওঠে না। সমস্যা হচ্ছে, বিপুল অঙ্কের অর্থও তো আমার নেই।

আমার দুটো গাড়ি। দুটোই বিক্রির জন্য পাঠানো হলো। একটা বিক্রি হলো। দখিন হাওয়ার যে ফ্ল্যাটে থাকি, সেটা বিক্রির চেষ্টা করলাম। পারলাম না, ফ্ল্যাটবাড়ি নিয়ে কিছু আইনগত জটিলতা আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে উত্তরায় পাঁচ কাঠার একটা জমি পেয়েছিলাম। সেই জমি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিলাম। লাভ হলো না। বাকি থাকল নুহাশ পল্লী। অর্থ সংগ্রহের ছোটাছুটির একপর্যায়ে অন্যপ্রকাশের মাজহার বলল, আপনি কেন অস্থির হচ্ছেন? আমি তো আপনার সঙ্গে যাচ্ছি। আপনার চিকিৎসার অর্থ কীভাবে আসবে, কোত্থেকে আসবে তা দেখার দায়িত্ব আমার। আপনার না।
আমি বললাম, টাকা কীভাবে জোগাড় করবে? ভিক্ষাবৃত্তি? চাঁদা তুলবে?
মাজহার বলল, না। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, কারও কাছ থেকে এক ডলার সাহায্য নেব না। এই মুহূর্তে আমার হাতে ৫০ হাজার আমেরিকান ডলার আছে।
আমি বললাম, দেখাও।
মাজহার বলল, দেখাতে পারব না। ৫০ হাজার ডলার নিউইয়র্কে আপনার জন্য আলাদা করা। চ্যানেল আইয়ের সাগর ভাই আপনার জন্য আলাদা করে রেখেছেন। সাহায্য না, ঋণ। পরে শোধ দেবেন।
আমি খানিকটা ভরসা পেলাম। চ্যানেল আইয়ের সাগরের অনেক বদভ্যাসের (!) একটি হলো শিল্প-সাহিত্যের কেউ বিপদে পড়লে তাকে উদ্ধারের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া। এই কাজ অতীতেও সে অনেকবার করেছে। এখনো করছে। ভবিষ্যতেও করবে কি না জানি না। ইতিমধ্যে তার উচিত শিক্ষা হয়ে যাওয়ার কথা।

আমেরিকায় অর্থ ব্যয়ের একটি নমুনা দেওয়া যেতে পারে। হিসাবটা বাংলাদেশি টাকায় দিই।
স্লোয়ান কেটারিং মেমোরিয়ালের ডাক্তাররা আমার কাগজপত্র দেখবেন। রোগ নিয়ে কথাবার্তা বলবেন। শুধু এই জন্য তিন লাখ টাকা জমা দিতে হলো।

ডাক্তার শরীরে মেডিপোর্ট বসানোর জন্য Radio ল্যাবে পাঠালেন। (মেডিপোর্টের মাধ্যমে কেমোথেরাপি শুরু হবে) মেডিপোর্ট বসানোর খরচ হিসেবে জমা দিতে হলো আট লাখ টাকা।
মেডিপোর্ট বসানোর পরদিন কেমো শুরু হবে। আটটি কেমোর পুরো খরচ একসঙ্গে দিতে হবে। টাকার পরিমাণ এক কোটি টাকা। ভাগে ভাগে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।

শাওন ও মাজহার দুজনেরই দেখি মুখ শুকনো। নিশ্চয়ই কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। যেহেতু তারা আমাকে বলেছে, টাকা-পয়সার বিষয় নিয়ে আমি যেন চিন্তা না করি, আমি তাই চিন্তা করছি না।
কেমোথেরাপি দিতে এসেছি। কেমোথেরাপির ডাক পড়বে, ভেতরে যাব। ডাক পড়ছে না। একা বসে আছি। শাওন আমার সঙ্গে নেই। সে মাজহারের সঙ্গে ছোটাছুটি করছে। শাওন চোখ লাল করে কিছুক্ষণ পরপর আসছে, আবার চলে যাচ্ছে।

একটা পর্যায়ে শাওন ও মাজহার দুজনকে ডেকে বললাম, ‘মার্ফিস ল’ বলে একটি অদ্ভুত আইন আছে। মার্ফিস ল বলে—If any thing can go wrong, it will go wrong. আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি, কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। সমস্যাটা বলো। টাকা কম পড়েছে?
মাজহার বলল, হ্যাঁ। চ্যানেল আইয়ের টাকাটা এই মুহূর্তে পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালে আমরা অর্ধেক, অর্থাৎ ৫০ লাখ টাকা দিতে চাই, ওরা নেবে না। হাসপাতাল বলছে, পুরো টাকা নিয়ে আসো, তারপর চিকিৎসা শুরু হবে। আমি বললাম, চলো, ফিরে যাই। টাকা জোগাড় করে চিকিৎসার জন্য আসব।
শাওন বলল, তোমার চিকিৎসা আজই শুরু হবে। কীভাবে হবে আমি জানি না, কিন্তু আজই হবে।
শাওন বাচ্চাদের মতো কাঁদতে শুরু করল। আমি বললাম, তুমি সবার সামনে কাঁদছ। বাথরুমে যাও। বাথরুমে দরজা বন্ধ করে কাঁদো।

সে আমার সামনে থেকে উঠে বাথরুমে ঢুকে গেল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার ডাক পড়ল, কেমোথেরাপি শুরু হবে। টাকা বাকি থাকতেই শুরু হবে।

সমস্যার সমাধান করলেন পূরবী দত্ত। তিনি হাসপাতালকে বোঝাতে সমর্থ হলেন যে হুমায়ূন আহমেদ নামের মানুষটি চিকিৎসা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার মানুষ না। তিনি অবশ্যই প্রতিটি পাই-পয়সা শোধ করবেন।

হাসপাতাল চিকিৎসার পুরো টাকা শুরুতেই কেন নিয়ে নেয় তা ব্যাখ্যা করি। অনেক রোগী একটি কেমোর টাকা জোগাড় করে কেমো নিয়ে হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করে দেয়। সে বলে, আমার আর টাকা নেই বলে কেমো নিতে পারছি না। আমার চিকিৎসা অসম্পূর্ণ। আমেরিকান হাসপাতাল চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রাখতে পারে না।

পাদটীকা

সর্বাধুনিক, বিশ্বমানের একটি ক্যানসার হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্র কি বাংলাদেশে হওয়া সম্ভব না? অতি বিত্তবান মানুষের অভাব তো বাংলাদেশে নেই। তাঁদের মধ্যে কেউ কেন স্লোয়ান বা কেটারিং হবেন না? বিত্তবানদের মনে রাখা উচিত, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ব্যাংকে জমা রেখে তাঁদের একদিন শূন্য হাতেই চলে যেতে হবে। বাংলাদেশের কেউ তাঁদের নামও উচ্চারণ করবে না। অন্যদিকে আমেরিকার দুই ইঞ্জিনিয়ার স্লোয়ান ও কেটারিংয়ের নাম তাঁদের মৃত্যুর অনেক পরেও আদর-ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সমস্ত পৃথিবীতে স্মরণ করা হয়।

আমি কেন জানি আমেরিকায় আসার পর থেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি, হতদরিদ্র বাংলাদেশ হবে এশিয়ায় ক্যানসার চিকিৎসার পীঠস্থান।

যদি বেঁচে দেশে ফিরি, আমি এই চেষ্টা শুরু করব। আমি হাত পাতব সাধারণ মানুষের কাছে।

----------------------------------------------------------------------------------------------

04 Nov 2011 11:40:26 AM Friday BdST
আমি রাজী, আপনারা? (http://www.banglanews24.com/news.php?nssl=67128)
আবিদ রহমান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011October/SM/Humayun-Ahmed20111104114027.jpg

সৎ ও আন্তরিক যেকোনও উচ্চারণ হৃদয়গ্রাহী হয়। পাঠকের চিত্তাকর্ষণ করে। ইদানিং সম্ভবতঃ একারণেই সুখপাঠ্য লেখক হুমায়ূন আহমদের লেখাগুলোর ’প্রেমে’ পড়ে যাচ্ছি। নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন হুমায়ূনের লেখাগুলো একার্থে মাইন্ড ব্লোয়িং।ভেতরটা ভাসিয়ে দিয়ে যায় বেদনার অদ্ভুত প্লাবনে! নিজেকে কেন জানি না অজানা কারণেই গিল্টি বোধ করি। মৃত্যুকে মালুম হয় ‘ফাজিল’ এক উপদ্রব বলে। আগে মৃত্যুভীতিতে কাতর হতাম। এখন সেই ভীতিটা দিব্যি উধাও। মৃত্যুর আলিঙ্গন-অপেক্ষাকে মনে হয় অতি পরিচিত কোনো প্রতীক্ষা!

নিজ মৃত্যুকে নিয়ে ব্যঙ্গ করার জন্যে চাই জোর মানসিক শক্তি। অবিশ্বাস্য সততা। হুমায়ূনের রসবোধ সর্বজনস্বীকৃত। অসুস্হ অবস্হায় এই রসবোধ আরো বেড়েছে জীবনের নির্মম সত্যের মুখোমূখি হবার কারণে। হাজারো ব্যঙ্গবিদ্রুপের মাঝে হুমায়ূন আক্ষেপ জানিয়েছেন, জন্মভূমি বাংলাদেশে কেন আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার হাসপাতাল নেই? অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত এই আক্ষেপ ও জিজ্ঞাসা। বাংলাদেশের ভেজাল খাবার, বসবাস-অযোগ্য পরিবেশ আর আত্মঘাতী লাইফস্টাইল ক্যান্সারের বিস্তারে রাখছে প্রলয়ংকরী অবদান। ফি বছর ক্যান্সার চিকিৎসার জন্যে সামর্থ্যবান মানুষেরা মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খর্চা করে ছোটেন বিদেশে। সামর্থ্যহীনেরা বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের কাছে পাতেন হাত। ঋণ নিয়ে কাছাকাছির কলকাতাও হলেও সান্ত্বনার অন্তিমযাত্রায় ছোটেন।

টাকার অংকে আরোগ্যলাভের ক্ষীণ সম্ভাবনার মরণঘাতী এই চিকিৎসার হুন্ডি ব্যয় বছরে হাজার কোটি টাকারও বেশী। সঙ্গে আছে যাতায়ত ও সহায়তাকারীদের আনুষঙ্গিক খর্চা। সেই অংকটাও হেলার নয়। সব মিলিয়ে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার জমজমাট হুন্ডি বাণিজ্যে ক্যান্সার চিকিৎসা প্রদানকারী দেশগুলো দিব্যি আরাম আয়েশে থাকে। দু’হাজার এক সালে ব্যাংককে বাঙালি পর্যটকেরা ছিলেন ব্যয়ের তালিকার দ্বিতীয়। শীর্ষ স্হানের জাপানীরা ব্যাংককে আসতেন নিছক পর্যটনের মানসিকতায় আর বাঙালিরা টুরিস্ট ভিসায় যেতেন চিকিৎসায়।

হালে দেশে অনেক নামীদামী হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। তবে সেগুলোর খায়-খর্চা ব্যাংকক-চেন্নাই-দিল্লীর বিলের দ্বিগুণ ছাড়ানো আর্থিক যাতনা। কিন্তু বিপরীতে চিকিৎসা ও সেবার মান প্রশ্নাতীত হয়নি। হুমায়ূন আহমেদ দেশে একটা আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। হুমায়ূনতো রাজনীতিবিদ কিংবা দেশের নীতি নির্ধারক নন। যারা রাজনীবিদ তাদের ট্যাঁকের জোর অনেক। সামান্য সর্দি-কাশিতে ওনারা উড়াল দেন বিদেশে। ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী ব্যাধিতে নীতি নির্ধারকেরা অবলীলায় বিদেশে বাড়ি-ঘর কিনে থিতু হয়ে চিকিৎসা সারবেন। সেকারণেই দেশে একটা ক্যান্সার হাসপাতাল তাদের ’পঞ্চবার্ষিকীতে’ নেই। যদি থাকতোও তাহলে আলোর মুখ দেখতে লেগে যেতো দীর্ঘ সময়। এক সরকার নিজের দলের প্রধান বা নেতার নামে গড়তেন হাসপাতাল। অন্য দল ক্ষমতায় এসে সেই নামকরণের ’অপরাধে’ সেই হাসপাতালকে করতেন বেমালুম অবজ্ঞা।

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের বর্তমান পর্যায় কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠি ও প্রতিষ্ঠানের একক ও সম্মিলিত উদ্যোগের অবদান। আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার হাসপাতালও হতে পারে সেই ধরণের কোনো ব্যক্তি উদ্যোগে। ’শুঁটকির’ শেয়ারবাজারে `বিড়ালের’ পাহারাদারির কারণে শেয়ার বাজারের মাধ্যমে টাকা তোলার দাবি জানাই না; টাকা তোলার ভিন্ন পন্হার প্রস্তাব পেশ করতে চাই।

কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে এখন পাওয়ার টিলারের রাজত্ব। গৃহস্হদের আংগিনা এখন গবাদিশুন্য। শিশুখাদ্য দুধ এখন ব্যয়বহুল এক বিলাসী পণ্য। এর মাঝে মুসলমানরা ফি বছর লাখ কুড়ি গরু-ছাগল ছুরির নীচে ফেলেন পবিত্র কোরবানির নামে। প্রায় এক কোটি মানুষ কোরবানি দেন। সংকট সমাধানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে ’সুন্নতি’ উট। ’হিন্দু-বিদ্বেষীরা’ প্রতিবেশী ভারত থেকে চোরাই পথে রাতের আঁধারে আনেন ’বিধর্মী’ গরু। আর অধিকাংশ ক্রেতাই ঘুষ-লুটপাট-চোরা কারবারীর টাকায় ধর্মীয় ’কমিনটমেন্ট’ মেটান। পুরো প্রক্রিয়াটই এখন ধর্মীয় দায়-দায়িত্বের সীমানা পেরিয়ে সামাজিক স্ট্যাটাসে পরিণত হয়েছে। পাল্লা দিয়ে চলে আকাশচুম্বী দামের গরু-ছাগলের জবাই। এটিকে কোরবানি ভাবতে দিলে সায় দেয় না। কোরবানির টাকাটা সৎ উপার্জনের হতে হয়।

গেল কোরবানীর ঈদে আমি পশুর বদলে লোভ-লালসা ও অন্যায়কে কোরবান দেবার আহ্বান জানিয়েছিলাম। সেই আহ্বান-অনুরোধ অরণ্যে রোদন হয়েছে। এবার আমি থাকছি হুমায়ূনের আহ্বানের সাথে। আমার পরিবারে তিন নামের কোরবানি হয়। সব মিলিয়ে গেলো বছর লেগেছিলো প্রায় তিরিশ হাজার। এবার আরেকটু বেশী লাগবে নির্ঘাৎ। আমার স্ত্রী-পুত্রের কোরবানী দেওয়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমি নিতে অক্ষম। এই অধিকারটুকু আমার নেই। তবে নিজের কোরবানির ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত নেবার পূর্ণ অধিকার আছে। ঠিক করেছি এবছর আমি কোরবানি দেবো না। আমার কোরবানির পনেরো হাজার টাকা আমি রেখে দিলাম হুমায়ূনের প্রস্তাবিত ক্যান্সার হাসপাতালের জন্যে। যতদিন বাঁচি ততোদিন আর কোরবানি না দিয়ে সেই টাকা দান করবো হুমায়ূনের স্বপ্ন দেখা ক্যান্সার হাসপাতালের জন্যে।

প্রত্যাশা করি মাত্র একলাখ মানুষ যদি চলতি বছর কোরবানির মাংস খাওয়ার লোভ কিংবা সামাজিক লজ্জ্বার ধিক্কার সামাল দিতে পারেন তাহলে অনায়াসে দেড়শ’ থেকে দুই শত কোটি টাকা যোগাড় হয়ে যায়। দিব্যি কাজ শুরু করা যেতে পারে এই টাকায়। ন্যূনতম পাঁচ বছর লাগবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে। এর মাঝে নিঃসন্দেহে যোগাড় হয়ে যাবে হাজার কোটি টাকা। হুমায়ূন আপনার ফেরার চাতকী অপেক্ষায় থাকলাম। প্রত্যাশা করি স্বপ্ন পূরণের বাদবাকী দায়িত্বটুকুও আপনি স্কন্ধে নেবেন স্বেচ্ছায়।

মহৎ একটা উদ্যোগের জন্যে যদি কোরবানি না-দেবার ধর্মীয় ’গুনাহ’র ভাগীদার হতে হয়, আমি রাজী। আপনারা ?

ইমেলঃ abid.rahman@ymail.com

idrinkh2O
November 4, 2011, 02:40 PM
সাফল্য কথায় ‘আমার দেশ আমার গ্রাম’ (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=662d13c3c1a75ac1050059592c46b acd&nttl=2011100304304161004&toppos=1)
শেরিফ আল সায়ার

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011September/Ama-Desh-220111003163353.jpg

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2011September/Ama-Desh-320111003163051.jpg

গল্পের শুরু ২০০৬ সালে লন্ডনে। আতাউর রহমান ও সাদিকা হাসান সেজুতি সহ আরও কয়েকজন বন্ধু মিলে লন্ডনে শুরু করে ই-কর্মাস নির্ভর একটি প্রতিষ্ঠান। নাম দেওয়া হয় ‘ফিউচার সলিউশন ফর বিজনেস’। সেখানে সফলতার সাথে ব্যবসাকে দাঁড় করিয়ে ফেলেন। ইন্টারনেট ব্যবহার করে তারা পণ্য বেচা-কেনার কাজ শুরু করেন। খুব কম সময়ে সাফল্য পান।

কিন্তু হঠাৎ দেশের জন্য কিছু করার আগ্রহ দেখা দেয়। বিদেশে বসে বসে টাকা উপার্জনের চেয়ে দেশের জন্য কিছু করার আকাঙ্খাই মুখ্য হয়ে ওঠে। যেমন কথা, তেমন কাজ। দেশে ফিরে আসলেন। তারপরের গল্পটি ‘এলেন দেখলেন জয় করলেন’ এর মতোই। আতাউর-সাদিকার নেওয়া ই-কমার্সভিত্তিক ‘আমার দেশ আমার গ্রাম’ প্রকল্প কেবল সাফল্য পেয়েই ক্ষান্ত হয়নি। পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। জাতিসংঘের যুব পুরস্কার পেয়েছে এই ‘আমার দেশ আমার গ্রাম’ প্রকল্প।

সেখানেও প্রতিযোগিতা কম ছিলো না। বিশ্বের ৯৯টি দেশের ৭০০ টি প্রকল্প জমা পড়েছিল। সেখান থেকে ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ ‘আমার দেশ আমার গ্রাম’ কে রানারআপ ঘোষণা করা হয় ‘পাওয়ার টু ওমেন’ বিভাগের আওতায়।

৭টি উপজেলায় সফলভাবে এ প্রকল্পটি বাংলাদেশে ই-কমার্সের মাধ্যমে যে কোন পণ্য ন্যায্য মূল্যে বেচা-কেনা করে সফলতার মুখ দেখেছে বলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। আতাউর-সাদিকার জানালেন তাদের সাফল্যের পথে হেটে চলার কথা।

বললেন, ‘বাংলাদেশে এসে দেখি সবকিছুই শহর নির্ভর। তাই শহরের বাইরে কিছু করার তাগিদ অনুভব করলাম। কি করবো? চিন্তা করতেই সেই পুরানো প্রকল্পটিই এদেশে চালু করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু ই-কর্মাস শুরু করার জন্য শুধু শহরে বসে থাকলে হবে না। গোটা দেশে চালাতে হবে অভিযান। লন্ডনের প্রতিষ্ঠানটির নাম দিয়েই দেশে ২০০৯ সালে শুরু করলাম ই-কর্মাস প্রকল্প।’

শুরু করেন চারজন মিলে। এরা হচ্ছেন- নরুল রহমান খান, সাদিকা হাসান সেজুতি, আতাউর রহমান এবং শরীফুন হাসান। তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর যে কোনো কাজ শুরু করার আগে প্রয়োজন সুবিধামত জায়গা এবং কম্পিউটার। নিজের পয়সা দিয়েই মংলায় পরীক্ষামূলকভাবে ই-সেন্টার শুরু করেন। ওয়েব সাইটের নাম দেন ( www.amardesheshop.com )। জানান সেজুতি।

তবে এক্ষেত্রে প্রয়োজন স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ। সেটা নিশ্চিত করতে সবাই একসঙ্গে কাজও শুরু করেন। কাজগুলোকে ভাগ করে নেন। পাশাপাশি স্থানীয় কিছু তরুণদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যাতে করে তারাই ইন্টারনেটের মাধ্যমে বেচা-কেনা করতে পারে।

প্রকল্পটির অন্যতম সাদিকা হাসান সেজুতি বলেন, ‘শুরুতে একটু ভয় ছিল। কিন্তু স্থানীয় মানুষগুলো আগ্রহ নিয়েই আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়; তাই খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।’ তিনি আরও জানান, ‘আমরা খেয়াল করলাম- মংলার অধিকাংশ নারীরাই নকশীকাঁথা সেলাই করে। আমরা তখন নকশীকাঁথার ছবি তুলে একটা দাম নির্ধারণ করে ওয়েবসাইটে তুলে দেই। দামের ক্ষেত্রে বেশকিছু বিষয় যোগ হয়; যেমন, গ্রাহকের সুন্দরবন সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠালে সেটার দাম ধরা হয় এবং মূল দামের ১৫% অর্থ বেশি নেওয়া হয়। কারণ, সেখানে বসে যেসব ছেলে-মেয়েরা কাজগুলো করবে তাদের জন্য সম্মানি থাকে। এতে করে কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে।’

পরীক্ষামূলক প্রকল্পটির সফলতা পেতে খুব বেশি দেরি হয়নি। মংলা উপজেলার মানুষজন উৎসাহিত হয়েই অংশ নেয়। তারা দেখতে পায় পণ্যের অর্থ তাদের কাছে সঠিকভাবেই পৌঁছাচ্ছে। যা আগে ছিল কল্পনারও বাইরে। এগুলো জানায় সেজুতি।

এভাবেই প্রকল্পটি বেড়ে ওঠে। নরসিংদী উপজেলায় কৃষকের সবজি কেনা-বেচার কাজটি পরীক্ষামূলকভাবে দেখেন। সেটাও সফল হয়। এভাবেই বর্তমানে বাংলাদেশের ৭টি উপজেলায় ‘আমার দেশ আমার গ্রাম’ প্রকল্পটির ই-শপ চালু হয়েছে। এসব ই-শপগুলো চলছে স্থানীয়দের সহায়তায়। এমনকি ই-শপের জন্য যে জায়গা প্রয়োজন হয়; সেটাও স্থানীয়রা দিয়েছেন।

ওয়ার্ল্ড সামিট ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ড :

পৃথিবীতে যারা ই-কনটেন্ট নিয়ে কাজ করে; তারাই মূলত এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিজের দেশকে বদলে দেওয়ার চেষ্টা যারা করে; তাদের দিকেই নজর থাকে ওয়ার্ল্ড সামিট কমিউনিটির বিচারকদের।

জাতিসংঘ সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন বিভাগে প্রকল্প চাওয়া হয়। যেমন, দরিদ্র মানুষের সহযোগিতা করতে পারে এমন প্রকল্প, শিক্ষা ক্ষাতে, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, শিশুদের সহযোগিতা ইত্যাদি।

নিজের দেশের উন্নতিতে অবদান রাখছে এমনসব প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকেই গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয় ‘আমার দেশ আমার গ্রাম’ প্রকল্পটি রানারআপ হয়েছে।

প্রকল্পটির উদ্যোক্তাদের অন্যতম সাদিকা হাসান সেজুতি জানায়, ‘এ পুরস্কার আমাদের কাজটাকে স্বীকৃতি দিলো। আমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ৪৮০টি উপজেলায় প্রকল্পটি কার্যকর করার স্বপ্ন দেখছি। এতে করে, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সেই সাথে কৃষকরাও তাদের ন্যায্য মূল্য পাবে। তারাও দেখতে পাবে বাজারে তাদের পণ্য কত দামে বিক্রি হচ্ছে। মোট কথা ‘স্বচ্ছতা’ থাকবে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সব জায়গায় পৌঁছাতে হলে প্রয়োজন স্থানীয়দের সরাসরি অংশগ্রহণ। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া তো সম্ভব না। তাই স্থানীয় এমপি , চেয়ারম্যানেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। কেউ যদি আমাদের সাথে একসঙ্গে কাজ করতে চায়; তাহলে আমাদের এ উদ্যোগটি আরও বেগবান হবে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা বাংলাদেশে ইন্টারনেটের একটা বাজার তৈরি করে ফেলতে পারবো।

আগমী ১০-১৩ নভেম্বর অস্ট্রিয়াতে এ পুরস্কার তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

idrinkh2O
November 4, 2011, 02:49 PM
সাদাসিধে কথা
ঘুরে দাঁড়ানোর সময় (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-08-26/news/181190)
মুহম্মদ জাফর ইকবাল | তারিখ: ২৬-০৮-২০১১

সাধারণত এসব দুর্ঘটনায় সাধারণ খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ মারা যায়

আমি সিলেটে থাকি, মাঝে মাঝেই ঢাকায় যেতে হয়। পুরোনো একটা লক্কড়ঝক্কড় মাইক্রোবাসে আমি ঢাকায় যাই। আমার ড্রাইভার, যে এখন আমার পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গেছে, খুব সাবধানে গাড়ি চালায়, কখনো কোনো ঝুঁকি নেয় না। তার পরও আমি সবিস্ময়ে আবিষ্কার করি, বিশাল দৈত্যের মতো বাস-ট্রাক প্রতিমুহূর্তে অন্য গাড়িকে ওভারটেক করার জন্য আমাদের লেনে চলে আসছে, আর মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য আমাদের নিজের লেন ছেড়ে রাস্তার পাশে নেমে যেতে হচ্ছে। একবার-দুবার নয়, অসংখ্যবার। ঢাকা পৌঁছানোর পর কিংবা ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছানোর পর আমি আমার মাকে ফোন করে বলি, নিরাপদে পৌঁছেছি। আমার মা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ঘুমাতে যান।
অনেক দিন ভেবেছি, ব্যাপারটা নিয়ে কিছু একটা লিখি। তারপরই মনে হয়েছে, লিখে কী হবে। আমার মতো মানুষেরা, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি, তাদের নিয়ে দেশের বড় বড় হর্তাকর্তার কতটুকু মাথাব্যথা আছে? দেশের মন্ত্রী আগে-পিছে পুলিশের গাড়ি নিয়ে সাইরেন বাজাতে বাজাতে যখন এই পথ দিয়ে যান, তাঁরা কি কখনো কল্পনা করতে পারেন দেশের এই রাস্তা কত বিপজ্জনক? একটিবার, শুধু একটিবার যদি আমি কোনো একজন মন্ত্রীকে আমার লক্কড়ঝক্কড় মাইক্রোবাসে বসিয়ে ঢাকা থেকে সিলেট কিংবা সিলেট থেকে ঢাকায় আনতে পারতাম, তাহলেই সবকিছু অন্য রকম হতে পারে!

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে গণিত অলিম্পিয়াডে সিলেট থেকে কুমিল্লায় যাচ্ছি। ভাড়া গাড়ি, ড্রাইভার অপরিচিত, আমি খুব সতর্ক হয়ে ড্রাইভারের প্রতিটি ওভারটেক, প্রতিটি মোড় লক্ষ করছি। কিছু বোঝার আগে হঠাৎ করে সে সামনে আরেকটি বাস কিংবা ট্রাককে মেরে বসল। গাড়ি টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আমার একজন সহকর্মী নিজের সিট থেকে উড়ে গিয়ে জানালার কাচে পড়েছেন। মাথা ফেটে রক্ত পড়ছে। আমরা গাড়ি থেকে নেমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনো একটা গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছি আমাদের আহত সহকর্মীকে বাঁচানোর জন্য। দামি পাজেরো গাড়ি গতি কমিয়ে দুর্ঘটনায় টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া গাড়িটাকে একনজর দেখে হুশ করে বের হয়ে যায়, থামে না। শেষ পর্যন্ত থামল একটা ট্রাক। ট্রাক ড্রাইভারের পাশে বসিয়ে রক্তাক্ত সহকর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। তখন একবার ভেবেছিলাম কিছু একটা লিখি। পরে মনে হলো, কী হবে লিখে? প্রতিদিন কত মানুষ দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, আমরা তো শুধু আহত হয়েছি!

গত বছর জুলাইয়ের শেষে আরিচার রাস্তায় দুর্ঘটনায় রিজিয়া বেগম আর সিদ্দিকুর রহমান মারা গেলেন। দুজনই অত্যন্ত উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। সিদ্দিকুর রহমান আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। মাত্র কিছুদিন আগে আরেকটা দুর্ঘটনায় তাঁর দুজন মেয়ে মারা গিয়েছিল। রিজিয়া বেগমকে আমি অনেক দিন থেকে চিনি। গণিত অলিম্পিয়াড যখন শুরু হয়, তখন রাজবাড়ীতে একটা অলিম্পিয়াডে তিনি এসেছিলেন। বিটিসিএলের বোর্ড মিটিংয়ে তাঁর সঙ্গে অনেক মিটিং করেছি। যখন শুনতে পেয়েছিলাম একজন রিজিয়া বেগম মারা গেছেন, তখন মনে মনে দোয়া করেছি যেন অন্য কোনো রিজিয়া বেগম হয়। কিন্তু আমার দোয়া কাজ করেনি। খবরের কাগজে তাঁর ছবি দেখে বুকটা ভেঙে গিয়েছিল। কী ভয়ংকর একটি দুর্ঘটনা! মনে হলো, খবরের কাগজে একটু লিখি। তারপরই দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে বলেছি, কী হবে লিখে? আমি এই দুজনকে চিনি বলে কষ্ট পেয়েছি। প্রতিদিন যে কত শত মানুষ মারা যাচ্ছে, তাদের আপনজনেরা কষ্ট পাচ্ছে, তখন কি আমি তাদের নিয়ে কিছু লিখেছি? সেই মৃত্যুগুলো কি শুধু একটা পরিসংখ্যান নয়?

জুলাই মাসের ১১ তারিখে মিরসরাইয়ে ট্রাক উল্টে ৪০ জনের বেশি বাচ্চা মারা গেল। কোনো মৃত্যুকেই কেউ কখনো গ্রহণ করতে পারে না, আর সেই মৃত্যু যখন হয় একটি শিশু কিংবা কিশোরের—তখন সেটি মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে যায়। আর সে রকম মৃত্যু একটি-দুটি নয়, ৪০টির বেশি। আমার অনেক বড় সৌভাগ্য, আমার টেলিভিশন নেই! যদি থাকত তাহলে টেলিভিশনে স্বজন হারানো কান্না দেখে, ফুটফুটে বাচ্চাগুলোর নিথর দেহ দেখে আমি নিশ্চয়ই অস্থির হয়ে যেতাম। খবরের কাগজের পৃষ্ঠাগুলো দেখে আমার বুক ভেঙে গেছে। আমার মনে হয়েছে, পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশ হলে সেই দেশের যোগাযোগমন্ত্রী নিশ্চয়ই পদত্যাগ করতেন। সরকার টালমাটাল হয়ে যেত। আমাদের দেশে কিছুই হলো না। এই দেশ ৪০টি কিশোরকে ধীরে ধীরে ভুলে গেল। ভাবলাম, পত্রিকায় নিজের ক্ষোভটা লিখি—তার পরই মনে হলো, কী হবে লিখে?

আগস্টের ২ তারিখ ভোরবেলা আমার ফোন বেজে উঠেছে, আমার একজন সহকর্মী নরসিংদী বাস অ্যাকসিডেন্টের ভেতর থেকে ফোন করেছে। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলছে, ‘স্যার, চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ!’ না, কোনো শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, একজন রিকশাওয়ালা আমার সহকর্মীকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে বের করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। তাকে বসিয়ে বলেছে, আমি যাই, অন্যদের নিয়ে আসি।’ আমাদের যোগাযোগমন্ত্রীদে দেখে (কিংবা নৌপরিবহনমন্ত্রী কিংবা অন্য মন্ত্রী) যখন আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেলি, ঠিক তখনই আমরা দেখি, এই রিকশাওয়ালার মতো মানুষজন চারপাশে আছে বলেই দেশটি টিকে আছে। মন্ত্রী মহোদয়রা এই দেশটিকে ধরে রাখেন না—এই রিকশাওয়ালার মতো মানুষেরা দেশটাকে বুক আগলে ধরে রাখেন। আমার সহকর্মীকে ঢাকার হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করার সময় খবর পেলাম ১৬ জন মারা গেছে। অন্য সব দুর্ঘটনার মতো এটাও মুখোমুখি সংঘর্ষ। আমার মনে হলো, কিছু একটা লিখি। আবার মনে হলো, কী হবে লিখে? সেই একই দিনে একই রাস্তায় অন্য একটি দুর্ঘটনায় আরও একটি পরিবার শেষ হয়ে গেছে, আমি কি তাদের নিয়ে দুর্ভাবনা করেছি? করিনি। স্বার্থপরের মতো শুধু নিজের আপনজনের কথা লিখব?

আগস্টের ১৩ তারিখ একটা আনন্দানুষ্ঠানে বসে আছি। তখন একটা এসএমএস এল, গাড়ি দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ মারা গেছেন। দুর্ঘটনায় আহত হলে যত কমই হোক, কিছু একটা আশা থাকে—‘মারা গেছে’ কথাটি এত নিষ্ঠুর, সবকিছু শেষ। আমার পাশে আমার স্ত্রী বসে ছিল। তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ আমাদের বহুদিনের পরিচিত, সেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসজীবন থেকে। তাকে খবরটা দিতে হবে—আমি তবু চুপচাপ বসে রইলাম। যদি পাঁচ মিনিট পরও দিই, তাহলে সে মানুষ পাঁচ মিনিট পরে কষ্ট পাবে!

আমি প্রতিদিন অনেকগুলো খবরের কাগজ পড়ি। তারেক মাসুদের মৃত্যুর পরের দিন আমি খবরের কাগজগুলো পড়তে পারিনি। ভাঁজ করে সরিয়ে রেখেছি। যেন খবরের কাগজ সরিয়ে রাখলেই কষ্টটা সরিয়ে রাখা যায়। আমার মনে হলো, কিছু একটা লিখি। প্রথমবার আমি লিখতে বসেছি—কী লিখব? একটি কথাই লেখার আছে, যদিও আমি প্রতিটি ঘটনার সময় ‘দুর্ঘটনা’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। আসলে এর একটিও কিন্তু দুর্ঘটনা নয়, প্রতিটি একধরনের হত্যাকাণ্ড।

২.
আমরা যে পাকিস্তানকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে নিজের দেশকে স্বাধীন করেছি, সেটা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি প্রতিদিন যখন খবরের কাগজ খুলি, তখন চোখে পড়ে পাকিস্তানের কোথাও না কোথাও কোনো জঙ্গি, কোনো তালেবান বোমা মেরে ৩০-৪০ জন মানুষকে মেরে ফেলেছে। পাকিস্তান নামক এই দুর্ভাগা দেশটিকে দেখে এখন আমার করুণা হয়।
আমাদের দেশে জঙ্গিদের উৎপাত নেই। খবরের কাগজে জঙ্গিদের খবর আসে না তা নয়; কিন্তু সেগুলো হচ্ছে তাদের ধরার খবর। এই দেশের মানুষ জঙ্গি বা মৌলবাদকে কখনো প্রশ্রয় দেয়নি, কখনো দেবে না। এই দেশে জঙ্গিদের হাতে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন মানুষ নৃশংসভাবে মারা যায় না।
কিন্তু প্রতিদিন দুর্ঘটনায় ৩০-৪০ জন মারা যায়। তাহলে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কী থাকল? খবরের কাগজে মৃত্যুর খবরটা পরিসংখ্যান হিসেবে দেখে দেখে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কখনো খেয়াল করি না যে প্রতিটা মৃত্যুই আসলে কোনো না কোনো পরিবারের আপনজন হারানোর হাহাকার। সেই হাহাকারগুলো কত মর্মন্তুদ হতে পারে, সেটা আমরা তারেক মাসুদ কিংবা মিশুক মুনীরের মৃত্যু দিয়ে বুঝতে পারি। দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মারা যায় দেশের সাধারণ মানুষ। একেকটি মৃত্যুতে একেকটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। যারা আহত হয়ে বেঁচে থাকে, তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে গিয়ে একেকটি পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। এই দেশের অর্থনীতির ওপর এর চাপ নিয়ে আলোচনা হয়, কিন্তু মানবিক বিপর্যয়ের কথাটি কি কেউ ভেবে দেখবে না?

৩.
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান কিছুদিন আগে কোনো রকম পরীক্ষা ছাড়াই ২৪ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স চেয়েছেন। তিনি নৌপরিবহনমন্ত্রী, যদি লঞ্চের সারেং চাইতেন, আমি বুঝতে পারতাম। রাস্তায় গাড়ি চালানোর ড্রাইভার চাওয়ার অধিকার তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন, আমি সেটা বুঝতে পারছি না। বিষয়টা অনেকটা অশিক্ষিত ২৪ হাজার মানুষকে স্কুলের মাস্টার করে দেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবদার করার মতো। (তিনি সম্ভবত যুক্তি দিতে পারতেন, মাস্টারদের লেখাপড়া জানতে হবে কে বলেছে? বইয়েই তো সব লেখা আছে, মাস্টাররা ছাত্রদের পেটাবে, ছাত্ররা পড়বে!)
নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের কথায় দেশের মানুষ অসম্ভব বিরক্ত হয়েছে—পত্রপত্রিক খুললে কিংবা কম্পিউটার স্পর্শ করলেই সেটা বোঝা যায়। আমি কিন্তু তাঁর কথায় খুব খুশি হয়েছি দুই কারণে। প্রথম কারণটি হচ্ছে, যে কথাটা দেশের মানুষকে বোঝাতে আমাদের জান বের হয়ে যেত, সেই কাজটি মন্ত্রী মহোদয় আমাদের জন্য খুব সহজ করে দিয়েছেন। আমরা এখন তাঁর দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে বলতে পারি, এটাই হচ্ছে সমস্যা! একজন মন্ত্রী যদি বিশ্বাস করেন যে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে গাড়িকে ডানে-বাঁয়ে নিতে পারাটাই হচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার একমাত্র যোগ্যতা, তাকে নিয়মকানুন কিছুই জানতে হবে না, গরু ও ছাগলের পার্থক্যটা জানলেই হবে, তাহলে আমরা কেন রাস্তাঘাটের বাস-ট্রাকের ড্রাইভারদের দোষ দিই? তাদের বেশির ভাগই তো গাড়িটা চালাতে পারে, ট্রাফিক আইন কী, সেটা কেন মানতে হবে তার বিন্দুবিসর্গ জানে না, জানার প্রয়োজন আছে, সেটাও জানে না। যারা জানত তাদেরও মন্ত্রী মহোদয় বলে দিয়েছেন, আর জানার প্রয়োজন নেই।
বেশ কিছুদিন আগে আমি নামীদামি একটা বাস কোম্পানির দামি ভলভো বাসে করে যাচ্ছি। দেখতে পেলাম, বাস ড্রাইভার অন্য গাড়ি ওভারটেক করার জন্য একটু পর পর পাশের লেনে উঠে সামনের দিক থেকে ছুটে আসা গাড়িকে সরে যেতে বাধ্য করছে। কিছুক্ষণ পর ব্যাপারটা আমার আর সহ্য হলো না, আমি ড্রাইভারের কাছে গিয়ে বললাম, ‘এই বাম দিকের লেনটি আপনার, আপনি এই লেন দিয়ে যাবেন। ডান দিকের লেনটি যারা আসছে তাদের জন্য। কাউকে ওভারটেক করার জন্য আপনি ডান দিকের লেনে উঠতে পারবেন শুধু যখন এটা ফাঁকা থাকবে তখন। এই লেনে যদি একটা মোটরসাইকেলও থাকে, আপনি তখন ওখানে উঠতে পারবেন না। বুঝেছেন?’
বাসের ড্রাইভার কিছুক্ষণ আমার দিকে হতভম্বের মতো তাকিয়ে রইল; তারপর বলল, ‘স্যার, আমি এত বছর থেকে বাস চালাই, আপনার আগে আমাকে কেউ এই কথা বলে নাই!’
আমি এবার ড্রাইভারের দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলাম। শুনে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু এই হচ্ছে অবস্থা। আমাদের দেশে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ জন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। সৃষ্টিকর্তার এই দেশের জন্য একধরনের মায়া আছে, সেই জন্য সংখ্যাটি মাত্র ৩০ থেকে ৫০। প্রকৃত সংখ্যাটি হওয়ার কথা তার থেকে ১০ গুণ বা ১০০ গুণ বেশি। এই দেশে প্রতিমুহূর্তে কোনো না কোনো রাস্তায় দুটি গাড়ি মুখোমুখি ছুটে আসতে আসতে শেষ মুহূর্তে একেবারে এক সুতো ব্যবধানে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে—পৃথিবীর আর কোথাও এত ভয়ংকরভাবে গাড়ি চালানো হয় না।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, ড্রাইভারদের লেখাপড়া জানার দরকার নেই, গরু ও ছাগলের পার্থক্য জানলেই হবে! (কেন গরু আর ছাগল বলেছেন, সেটি এখনো রহস্য, যদি বলতেন বাস আর ট্রাকের পার্থক্য জানলেই হবে কিংবা ক্যাব আর টেম্পোর পার্থক্য জানলেই হবে, কিংবা রিকশা আর স্কুটারের পার্থক্যটা জানলেই হবে—তাহলেও একটা কথা ছিল।) মন্ত্রী মহোদয় নিশ্চয়ই জানেন না গাড়ি চালানোর অন্তত দুই ডজন নিয়ম আছে, যেগুলো পড়ে শিখতে হয় (রাস্তায় কোন ধরনের চিহ্ন থাকলে কোন দিকে যেতে হয় ইত্যাদি)। অন্তত ৩০টা জরুরি আইন আছে, গতিসীমা লিখে দেওয়ার ব্যাপার আছে। যে মানুষটি লেখাপড়া জানে না এবং এই বিষয়গুলো না জেনে একটা ড্রাইভারস লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে একজন সন্ত্রাসীর হাতে একটা ধারালো কিরিচ তুলে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? আমি এই কথাগুলো লিখছি এবং ভাবছি, কী বিচিত্র এই দেশ: একজন মন্ত্রী সম্পূর্ণ বেআইনি একটা বিষয়ের আবেদন করছেন এবং কেন তিনি সেটা করতে পারেন না, আমাকে সেটা লিখতে হচ্ছে! বেআইনি কাজ করা যদি অপরাধ হয়, তাহলে বেআইনি কাজ করার জন্য প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া কি অপরাধ নয়?
আমি বলেছিলাম নৌপরিবহনমন্ত্রীর এই বেআইনি আবদার শুনে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম দুটি কারণে। প্রথম কারণটি বলা হয়েছে, দ্বিতীয় কারণটি খুবই সহজ। এই মুহূর্তে নানা কিছু মিলিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার খুব ঝামেলার মধ্যে আছে। গায়ে পড়ে আদিবাসী বিতর্কটা উসকে দিয়েছে, রাস্তাঘাট ভাঙা, ঈদে বাড়ি যাওয়ার কোনো উপায় নেই, সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের প্রিয় মানুষগুলোর মৃত্যু—সেই অবস্থায় নৌপরিবহনমন্ত্রীর উদ্ভট বক্তব্য। এই সরকার নিশ্চয়ই এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে চাইছে—অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও দেশের মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে চাইছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সেই অপূর্ব সুযোগটি করে দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন নৌপরিবহনমন্ত্রীক মন্ত্রিপরিষদ থেকে সরিয়ে দিয়ে সারা দেশের মানুষের বাহবা পেতে পারেন। তাঁর সঙ্গে সঙ্গে যদি যোগাযোগমন্ত্রীকে সরিয়ে দেন, তাহলে তো কথাই নেই। ঈদের ছুটিতে যারা বাড়ি যেতে পারবে না কিংবা যারা বাড়ি যেতে গিয়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাবে, অন্তত তাদের বুকের জ্বালা একটু হলেও মিটবে।
খবরের কাগজে দেখছি, সবাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই ঈদের উপহারটি চাইছে। আমার ধারণা, এটি আসলেই দেশের মানুষের জন্য চমৎকার একটা উপহার হতে পারে!

৪.
সড়ক দুর্ঘটনা—কিংবা যদি ঠিক ঠিক বলতে চাই, তাহলে, ‘সড়ক হত্যাকাণ্ড’ আমাদের দেশের অনেক বড় একটা সমস্যা। আমার মতে সবচেয়ে বড় সমস্যা। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে বছরে ১২ থেকে ২০ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা সড়ক হত্যাকাণ্ডে মারা যায় বলে জানা নেই। প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে কিন্তু আমরা সেটা নিয়ে বিচলিত হই না। হঠাৎ করে তারেক মাসুদ বা মিশুক মুনীরের মতো কোনো প্রিয়জন যখন মারা যায়, আমরা তখন চমকে উঠি। যেদিন মানিকগঞ্জের সেই দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন মারা গিয়েছিল, সেই খবরটির নিচে আরও একটি দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন মারা গিয়েছিল—সেই খবরটি কিন্তু আমাদের চোখেও পড়েনি। আমাদের অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেছে। সাধারণত এসব দুর্ঘটনায় সাধারণ খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ মারা যায়, সেই মৃত্যুর কথা কারও চোখেও পড়ে না। তাই বছরে ১২ থেকে ২০ হাজার মৃত্যুর পরও কোনো সরকারের কোনো দিন টনক নড়েনি। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এই সরকারেরও টনক নড়বে না। যদি নড়ত, তাহলে যে দুজন মন্ত্রী দেশের মানুষকে ক্ষিপ্ত করে তুলেছেন, তাঁরা নিজেরাই পদত্যাগ করে বিদায় নিতেন। সে রকম কিছু ঘটেনি। দেশের মানুষ শোকসভা, শোকমিছিল, মানববন্ধন করছে। আমি যে রকম খবরের কাগজে লিখছি, সে রকম কিছু অর্থহীন কথা লেখা হবে এবং একসময় সবাই ভুলে যাবে।
কিন্তু এ রকম হতে হবে কে বলেছে? অন্য রকম কিছুও তো হতে পারে? বছরের পর বছর হাজার হাজার মানুষ দুর্ঘটনায় মারা গেছে, লাখো মানুষ দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়েছে, আমরা কেউ গা করি না। ইলিয়াস কাঞ্চন একা নিরাপদ সড়ক চেয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছেন, আমরা তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়াইনি। তারানা হালিমকে আমি সংসদে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলতে শুনেছি, পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে মানুষ হত্যা করার লাইসেন্স দেওয়া হলে তিনি আমরণ অনশন করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। অন্যরা কোথায়? সরকার যেহেতু কিছু করবে না, তাহলে দেশের মানুষ কি সবাই মিলে একত্র হতে পারে না? পত্রিকায় হালকা কলম লেখা বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে সত্যিকারের বিশেষজ্ঞরা একত্র হতে পারেন না? ট্রাফিক আইন মানানোর জন্য পুলিশকে জোর করে হাইওয়েতে নামানো যায় না? একটা দুর্ঘটনা হলেই বাসমালিক, বাস ড্রাইভার, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়—সবার বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না? আমি নিশ্চিত, সবাই মিলে একত্র হলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিভীষিকাকে নিশ্চয়ই ঠেকানো সম্ভব।
মে মাসের শেষে আমি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলাম। প্লেনে ওঠার সময় আমাদের ক্যাথরিনের সঙ্গে দেখা। ফুটফুটে বাচ্চাটিকে নিয়ে দাঁড়িয়ে তারেক মাসুদের জন্য অপেক্ষা করছে। বিদেশি মেয়ে অথচ কী সুন্দর বাংলা বলে। বহুদিন থেকে তাকে আমরা আমার দেশের মানুষ হিসেবেই ধরে নিয়েছি। বাচ্চাটিকে আদর করে প্লেনে উঠেছি, একটু পর তারাও উঠেছে। তারেক মাসুদ পিঠে একটা ব্যাকপ্যাক নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সেই আমার শেষ দেখা।
তারেক-ক্যাথরিনের ছোট্ট বাচ্চাটি একদিন বড় হবে। আমার খুব ইচ্ছে, তখন তাকে আমরা বলব, ‘তুমি জানো, তোমার আব্বু ছিল অসম্ভব সুদর্শন একজন মানুষ! এই দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য তার বুকের মাঝে ছিল অসম্ভব ভালোবাসা। একদিন গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে সে তার প্রাণের বন্ধুদের নিয়ে মারা গেল। তখন সারা দেশের মানুষ খেপে উঠে বলল, এই দেশে গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে আর কাউকে মরতে দেওয়া হবে না। দেশের মানুষ তখন পুরো দেশটাকে পাল্টে দিল। এখন আমাদের দেশে আর গাড়ি অ্যাকসিডেন্টে মানুষ মারা যায় না!’ আমরা তখন ছোট শিশুটির মাথায় হাত দিয়ে বলব, ‘তুমি তোমার আব্বুকে হারিয়েছ। কিন্তু তোমার আব্বুর জীবন দেওয়ার কারণে এই দেশের আর কোনো শিশুর আব্বু এভাবে মারা যায় না।’
আমার খুব ইচ্ছে, আমরা এই ছোট শিশুকে একদিন এই কথাগুলো বলি। সবাই মিলে চাইলে কি বলতে পারব না?

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

idrinkh2O
November 4, 2011, 02:52 PM
হেরে যাওয়াকে ভয় পেও না: মার্টিন কুপার (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=187d4b61595af740ce91d9281dff2 d08&nttl=2011080904005552789&toppos=3)
শেরিফ আল সায়ার

বর্তমান বিশ্বকে বলা হয় মোবাইল বিশ্ব। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের হিসাব অনুযায়ী ৫৩০ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। অথচ এ যন্ত্রটির উদ্ভাবকের কথা খুব কম মানুষই জানে। প্রথম মোবাইল ফোন তৈরি করেন মার্টিন কুপার।

কুপার ১৯৫০ সালে ইলিনিয়স ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পড়াশোনা নিয়ে মার্টিন বলেন, আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গেলাম তখন থেকেই সবগুলো বিষয়ের উপর আমার আগ্রহের কমতি ছিল না। কুপার আরও বলেন, কোন যন্ত্র কিভাবে কাজ করে তা বের করার চেষ্টা করি। একই সাথে কিভাবে যন্ত্রটি দিয়ে আরও সুবিধা পাওয়া যায়, সে চেষ্টাও করতাম। এছাড়াও ইউএস নেভিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা মার্টিন ভুলতে পারেন না। তিনি মনে করেন, টিম ওয়ার্ক এবং নেতৃত্ব দিয়ে কিভাবে কোন কাজকে সফলতায় রুপান্তরিত করা যায় সে বিষয়ে সব কলাকৌশল তিনি ইউএস নেভিতে কাজ করতে গিয়ে শিখেছেন।

মোবাইল ফোন উদ্ভাবনের কথা কিভাবে মাথায় আসলো? এই প্রশ্ন বহুবারই তাকে বহুজনে করেছে। তিনি উত্তরে বলেছেন, যখন মটোরোলাতে পারসোনাল কমিউনিকেশন বিভাগে কাজ করতেন, তখন দেখতেন টেলিফোনে কথা বলতে হয় তারের মাধ্যমে। তারহীন বা ওয়্যারলেস প্রযুক্তি কিভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা এটিঅ্যান্ডটি ঘোষণা দিল, তারা ‘কার টেলিফোন’ নামে একটি বেতার টেলিফোন ডিভাইস তৈরি করছে। কিন্তু এটিঅ্যান্ডটির কার টেলিফোনকে পেছনে ফেলে কুপার বাজারে আনলেন ‘হ্যান্ডহ্যাল্ড মোবাইল ফোন’।

নতুন প্রজন্মের জন্য তিনি সবসময় বলেন, আউট অব দ্যা বক্স চিন্তা করার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়া অবস্থায় গবেষণার গুরুত্বের কথাও বহুবার বলেছেন। তার দৃষ্টিতে, কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান স্বল্প সময়ের জন্য গবেষণা করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের কাজ হলো তার নিজস্ব প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একদম ভিন্ন। তাদের সুযোগ আছে নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে না থেকে বহু বিষয়ে গবেষণা করার। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটাকেই বলা যেতে পারে সত্যিকার অর্থে গবেষণা। তারা ব্যবহারকারী হিসেবে গবেষণা করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীর জন্য গবেষণা করে। তাই দুটি গবেষণা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রযুক্তি বিশ্বের আইকন হিসেবে একবার একজন তাকে প্রশ্ন করেছিল- সফলতা কিভাবে পাওয়া যেতে পারে? তিনি এক বাক্যে বলেছিলেন- ‘এগিয়ে যাও। হেরে যাওয়াকে ভয় পেও না।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩২ ঘণ্টা, আগস্ট ৯, ২০১১

idrinkh2O
November 4, 2011, 02:55 PM
তরুণ প্রজন্মই দেশটাকে পাল্টে দেবে: রিটন (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=7eeb15d6027a367ea82bc7c5e9f25 abd&nttl=2011082904022355646&toppos=7)

লুৎফর রহমান রিটন জনপ্রিয় ছড়াকার। আশি ও নব্বইয়ের দশকে নিজেকে সাহিত্যের এই ভিন্ন ধারায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০০১ এ জাপান দূতাবাসে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর চাপের মুখে রিটন ২০০২ সালের এপ্রিলে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। সে সময় থেকেই তিনি কানাডাতেই অবস্থান করছেন। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি তার পাসপোর্ট ফিরে পান এবং প্রায় সাত বছর পর দেশে আসেন।

লুৎফর রহমান রিটনের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১০০। প্রতিবছরই বইমেলায় তার ৩/৪ টা বই প্রকাশিত হয়। পুরস্কার পেয়েছেন অসংখ্য। তার মধ্যে ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পুরস্কার এবং ২০০৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার উল্লেখযোগ্য।

এ বিশিষ্ট ছড়াকারের সঙ্গে ছড়া নিয়ে তার ভাবনা, দেশ, রাজনীতি ও তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনা নিয়ে অনলাইন আড্ডায় কথা বলেছেন স্বপ্নযাত্রার বিভাগীয় সম্পাদক শেরিফ আল সায়ার।

১. ছড়াকার হবেন এমনটা কি কোনদিন ভেবেছিলেন?

লুৎফর রহমান রিটনঃ ছেলেবেলায় আসলে হতে চেয়েছিলাম শিল্পী। আর্টিস্ট। প্রচুর ছবি আঁকতাম। খারাপ ছিলো না কিন্তু আমার ছবি আঁকার হাত। শঙ্কর ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটা আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছিলাম পিচ্চিকালে। ছড়াকার হবো ভাবি নি। কিন্তু নিয়তি আমাকে আঁকিয়ে হতে দেয়নি। হতে চাইলাম আর্টিস্ট আর হলাম কি না ছড়াকার! কোনো মানে হয়?

আসলে, একেকটা মানুষ একেকটা দায়িত্ব নিয়ে পৃথিবীতে আসে। আমার মনে হয় আমার ওপর অর্পিত ছিলো ছড়ার দায়িত্ব। ওটা আমি নিতে চাইনি কিন্তু নিয়তি আমার কাঁধে ছড়ার বোঝাটা ঠিক ঠিক চাপিয়ে দিয়েছে। ও থেকে আমার আর নিস্তার নেই। এইটা বুঝে গিয়েছিলাম বলেই আর গাঁইগুঁই করিনি। শেষমেশ মেনেই নিয়েছি প্রকৃতির বিধান।

২. ছোটদের নিয়ে আপনার জনপ্রিয় একটি পত্রিকা ছিল। নাম ছিল ‘ছোটদের কাগজ’। ছোকা বন্ধ হয়ে গেলো কেন?

লুৎফর রহমান রিটনঃ ‘ছোটদের কাগজ’ ছিলো আমার স্বপ্নের পত্রিকা। শিশুদের অনিন্দ্যসুন্দর ঝলমলে একটি পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি আমি। আর সেই কারণেই সম্পূর্ণ নিজের টাকায় বের করেছিলাম মাসিক পত্রিকাটি। পত্রিকাটি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো, পাঠকপ্রিয়তাও পেয়েছিলো।

কিন্তু শুধুমাত্র পাঠকপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে একটি পত্রিকা বেঁচে থাকতে পারে না। সরকারি বেসরকারি সহায়তা লাগে। বিজ্ঞাপন লাগে। আমি সরকারি বেসরকারি কোনো সহায়তা পাইনি। পাঁচ ছয় বছর পর এক সময় টের পেলাম ‘ছোটদের কাগজ’ পত্রিকাটি বের করতে গিয়ে আমি প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছি!

আমার স্ত্রীর কিছু মূল্যবান অলংকার ছিলো, সেগুলোও বিক্রি করে ফেলেছিলাম পত্রিকাটি বের করতে গিয়ে। তো এক পর্যায়ে মধ্যবিত্তের অনিবার্য গ্লানিময় পরাজয়ের মুকুটটি আমার মাথার ওপর চেপে বসে ব্যর্থতার ব্যান্ড বাজাতে আরম্ভ করলো। আমি নিঃশ্ব হলাম। পত্রিকাটিও মরে গেলো।

৩. বাংলাদেশের তরুণ ছড়াকারদের ভবিষ্যত কেমন দেখতে পান?

লুৎফর রহমান রিটনঃ খুব খারাপ। আমি আমার নিজের পরিণতি থেকে যে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেছি তার সুবাদেই বললাম কথাটা! তবে তুমি যদি বাংলাদেশের তরুণ ছড়াকার বন্ধুদের রচিত ছড়ার ভবিষ্যতকে মিন করে থাকো তাহলে বলবো খুব ভালো। অসাধারণ আর চমৎকার সব ছড়া লিখছে তরুণরা। বাংলাদেশের তরুণ ছড়াকারদের ছড়ার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

৪. মুক্তিযুদ্ধের সময় কিংবা বলতে পারেন স্বৈরাচার শাসকের সময় আমরা দেখতে পেতাম আপনাদের প্রজন্ম ব্যঙ্গ ছড়া বা ব্যঙ্গ রম্য রচনা লিখে প্রতিবাদ জানাতো। কিন্তু বর্তমান সংকটকালের সময় তেমন ব্যঙ্গাত্বক ছড়া বা রম্য রচনা আমরা দেখতে পাই না। এ বিষয়ে আপনি কি মনে করেন? তার মানে কি গত একদশকে আমাদের প্রতিবাদী ছড়াকার তৈরি হয়নি?

লুৎফর রহমান রিটনঃ গত একদশকে আমাদের প্রতিবাদী ছড়াকার তৈরি হয়নি কথাটা পুরোপুরি মানতে না পারলেও মানতেই হবে যে অতীতের তুলনায় সংখ্যাটা একেবারেই নগণ্য। এর একটা সমাজতাত্ত্বিক কারণ সম্ভঃবত চলমান বাস্তবতায় ক্রমশ মানুষের পাল্টে যাওয়া। আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়া। স্বার্থপর হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীটির।

গত এক দেড় দশকে আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণীটি ক্রমান্বয়ে চরিত্র বদল করেছে। চারিত্র্য বদল হয়ে গেছে মধ্যবিত্তের। মুশকিল হলো শিল্প-সাহিত্য-রাজনীতি-সমাজ সবকিছুই পাল্টায় মধ্যবিত্তের হাত ধরে। এই শ্রেণীটির দায় অনেক। আমাদের নষ্ট রাজনীতি আর লোভী ‘অদেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ’রা এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীটির বিশাল একটি অংশকে তাদের কব্জায় নিয়ে নিয়েছে। যে কারণে চারপাশে এতো এতো নির্দয় আর অমানবিক নিষ্ঠুর মানুষ গিজগিজ করছে। এর একটা প্রত্যক্ষ প্রভাব আমরা রাজনীতিতে দেখতে পাচ্ছি। শিল্প-সাহিত্যেও কিছুটা ছিটেফোঁটা লেগে থাকবে হয়তো।

আর সে কারণেই কোনো দৃশ্যমান প্রতিবাদী ছড়াকারের দেখা আমরা পাচ্ছিনা। হয় সে ভয় পাচ্ছে কিংবা সে প্রাপ্তিসম্ভাবনা কাছে আত্মসমর্পণ করছে। কিন্তু তারপরেও আমি হতাশ নই বন্ধু। সংখ্যায় অপ্রতুল হলেও তারা আছে। ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্র-সরকারের যাবতীয় পতনের ঘনঘোর কৃষ্ণপক্ষকালে, দেশের যে কোনো দুর্যোগে দুঃসময়ে ছড়াকাররাই প্রথম প্রতিবাদ করে, ইতিহাস তো সেই স্বাক্ষ্যই দেয়।

৫. সবাই বলে, তরুণ প্রজন্ম নাকি পুরো দেশটাকে পাল্টে দেবে। আসলেই কি তাই? কি এমন বিশেষত্ব আছে এ প্রজন্মের মাঝে?

লুৎফর রহমান রিটনঃ আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে তরুণ প্রজন্মই একদিন পুরো দেশটাকে পাল্টে দেবে। এই উপমহাদেশকে ব্রিটিশদের কবল থেকে মুক্ত করেছিলো যাঁরা তাঁদের সিংহভাগই ছিল তরুণ প্রজন্মের।

ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী, বিনয়-বাদল-দীনেশ, সূর্যসেন, প্রীতিলতা এইরকম গুচ্ছ গুচ্ছ নাম আমরা স্মরণে আনতে পারি। ঊনসত্তুরের গণঅভ্যূত্থানে লৌহমানব আইয়ূব খানকেও পরাভূত করেছিলো তরুণরাই। আসাদ কিংবা মতিউরের নাম আমরা স্মরণে আনতে পারি। আমাদের ভাষা আন্দোলনেও আত্মত্যাগ তরুণদেরই। বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বার, সালামদের কথা আমরা স্মরণে আনতে পারি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তরুণদের রক্ত আর অকাতরে তাঁদের জীবন উৎসর্গের অপরূপ উপাখ্যান রচিত হয়েছে। তিরিশ লক্ষ শহীদের সিংহভাগ কিন্তু তরুণরাই।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশেও যাবতীয় দুর্যোগ দুঃসময় আর স্বৈরাচারকে রুখতে বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছে তরুণরাই। নব্বইয়ের সামরিক স্বৈরাচার এরশাদকে হটাতে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলো এই তরুণরাই। সাতাশির নভেম্বরের আগে আমরা কি নূর হোসেনকে চিনতাম? জানতাম? কিন্তু দেখো, সময়ের সাহসী সন্তান শহীদ নূর হোসেন আচমকা জনস্রোতের সামনে এসে দাঁড়ালো কী দুর্দান্ত এক প্রতিরোধের মশাল হয়ে। গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক বুকে পিঠে এই সেøাগান লিখে রাজপথে স্বৈরাচারের বুলেটে আত্মাহুতি দেয়া নূর হোসেন তো আমাদের তরুণ প্রজন্মের ঐতিহাসিক ভূমিকার ধারাবাহিকতারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

আমাদের বর্তমান প্রজন্ম তো সেই নূর হোসেনদের গৌরবদীপ্ত উত্তরাধিকারই বহন করছে। কী এমন বিশেষত্ব আছে এ প্রজন্মের মাঝে এই প্রশ্নের উত্তরে এইটুকুই বলি। একটু পেছনে তাকাতে বলি। নিকট অতীতের আন্দোলন আর সংগ্রামের দিকে একটু তাকাতে বলি। আর সবশেষে বলি, তারুণ্য কোনোদিন পরাভব মানে না।

৬. আমাদের দেশে স্বপ্নবাজ নেতা নেই। তাই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে না। এটি সবাই মনে করেন। যদি তাই হয়, তবে জাতিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে কি করা উচিত?

লুৎফর রহমান রিটনঃ একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমাদের দেশে এখন স্বপ্নবাজ নেতা নেই। স্বপ্নবাজ নেতা কিন্তু প্রতিদিন প্রতিমাসে প্রতিবছরে প্রতিযুগে জন্মায় না। এরকম নেতার আগমনের জন্যে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। একজন শেখ মুজিব এসেছিলেন আমাদের দেশে। তাঁর মতো স্বপ্নবাজ নেতা আবার একদিন নিশ্চয়ই আসবেন। তবে সময় লাগবে।

দেশ এখন একদল সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত নেতার নাগপাশে বন্দি। তবে সময় এরকম থাকবেনা। জাতি ঘুরে দাঁড়াবেই। সময়ের সাহসী সন্তানেরা আছে আমাদের আশেপাশেই। জাতিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রথমেই জাতিকে সঠিক নেতা নির্বাচন করতে হবে।

যে জাতি যেমন তার নেতাও থাকে তেমন। নেতা বাইরে থেকে আসেন না। নেতা আকাশ থেকে পড়েন না। জাতির ভেতর থেকেই বেরিয়ে আসেন নেতা। জাতিই তৈরি করে নেতা। দায়টা জাতির। দায়টা সবার। এককভাবে দায়টা কারো নয়।

৭. এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। সামনে ঈদ। কিশোর বেলায় আপনার ঈদ কেমন কাটতো?

লুৎফর রহমান রিটনঃ আমার কিশোরবেলার ঈদ ছিলো আনন্দে ভরপুর। কৈশোর হচ্ছে ডানা মেলবার দিন। কিশোরবেলাটা হচ্ছে একজন কিশোর বা কিশোরীর প্রজাপতি হয়ে উঠবার কাল। শুঁয়োপোকা যেরকম ক্রমশঃ প্রজাপতিতে রূপান্তরিত হয় এ সময়টা সেরকম।

এ সময়েই কিশোর-কিশোরীরা তাদের শরীরে আর মনে, স্বপনে আর জাগরণে অন্যরকম একটা শিহরণ টের পায়। তখন সবকিছুই ভালো লাগে। পৃথিবীর সবকিছুকেই অসাধারণ সুন্দর মনে হয়। রঙিন বর্ণাঢ্য মনে হয়। তো ঈদটাও তখন কানায় কানায় ভর্তি থাকে।

কৈশোরে নতুন জামা-জুতো পড়ে ফুলবাবুটি সেজে বন্ধুদের সঙ্গে সীমাহীন হইহুল্লুড় আড্ডায় এর বাড়ি ওর বাড়িতে ক্লান্তহীন ভোজনের উল্লাসে দিনটা কেটে যেতো আমার।

৮. বড় হয়ে কেমন কাটতো?

লুৎফর রহমান রিটনঃ বড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ঈদের পুরো দিনটাই কাটাতাম বাড়িতে। একা একা, ভরপেট খেয়েদেয়ে শুয়ে আর ঘুমিয়ে। সন্ধ্যা থেকে শুরু হতো ম্যারাথন টিভি দর্শন। টেবিলে বিপুল খাদ্যসম্ভারের মজুদ নিশ্চিত করে স্ত্রী-কন্যা আমাকে বাড়িতে তালা মেরে রেখে বেড়াতে বেরুত। ওরা ফিরতো সন্ধ্যায়। আহারে! সারাটাদিন শুয়ে ঘুমিয়ে জেগে উঠে আবারো নিদ্রার মধ্যে কাটানোটা কী যে মজার ছিলো...

৯. তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন। যারা স্বপ্ন দেখতে চায়, কিংবা যারা দেখে না। কিন্তু চেষ্টা করলে তারাও স্বপ্নবাজ হয়ে ওঠবে। সবার উদ্দেশ্যেই কিছু বলুন।

লুৎফর রহমান রিটনঃ অন্যের ওপর দোষ না চাপিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দিকে তাকাতে হবে আগে। দেশ আমাকে কি দিয়েছে সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবার আগে নিজেকেই প্রশ্ন করতে হবে আমি দেশকে কি দিয়েছি? স্বপ্ন দেখতে হলে কিংবা স্বপ্ন দেখাতে হলে প্রথমেই নিজের মুখোমুখি হতে হবে। দেশের জন্যে কিছু করতে হলে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে সবার আগে।

মেধার কোনো বিকল্প নেই। একজন মেধাহীন মানুষের পক্ষে বড় কোনো স্বপ্ন দেখাও সম্ভব নয়। একজন মেধাবী মানুষের ব্যক্তিগত স্বপ্নও এক সময় সমষ্টির স্বপ্নে পরিণত হয়। ব্যক্তির স্বপ্ন তখন রূপান্তরিত হয় জাতির স্বপ্নে।

দেশের সিংহভাগ মানুষই ভালো মানুষ। দুর্নীতিবাজ- দুর্বৃত্তরা সংখ্যায় কম কিন্তু তারা সংঘবদ্ধ। আর সে কারণেই তারা শক্তিশালী। সৎ আর ভালো মানুষগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন। আর সে কারণেই তারা দুর্বল। আমাদের দুর্ভাগ্য, দুর্নীতিবাজদের নেতা আছে কিন্তু সৎ মানুষগুলোর কোনো নেতা নেই।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১০ ঘণ্টা, ২৯ আগস্ট, ২০১১

idrinkh2O
November 4, 2011, 02:59 PM
দীপ জ্বেলে যাই (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-09-17/news/186297)
শহীদুল ইসলাম, পঞ্চগড় | তারিখ: ১৭-০৯-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2011-09-16-20-15-14-013558800-untitled-4.jpg
পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা গ্রামে জনির পাঠশালায় পাঠদান চলছে

ছেলে অসুস্থ। ওষুধ খাওয়াতে হবে। আশপাশে কেউ নেই যে সাহায্য নেবেন। গ্রামের নিরক্ষর মা ভেবে পাচ্ছিলেন না কী করবেন। একপর্যায়ে ওষুধ মনে করে ঘরে থাকা কীটনাশক ছেলের মুখে তুলে দিলেন। যখন বুঝতে পারলেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ছেলে চলে গেছে না ফেরার দেশে।
মর্মান্তিক এ ঘটনা প্রতিবেশী এক তরুণের মনে নাড়া দেয়। ওই তরুণ ভাবেন, ওই মা যদি লিখতে-পড়তে পারতেন, তবে হয়তো এমন ভুল করতেন না। এসব মানুষকে শিক্ষার আলো দেওয়ার ব্রত নেন তিনি। সেই ব্রত থেকেই গ্রামে একটি পাঠশালা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। গৃহশিক্ষকতা করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে যাত্রা শুরু সেই পাঠশালার, যেটি পরিচিতি পায় ‘জনির স্কুল’ নামে।

তরুণের নাম নজরুল ইসলাম জনি। পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা গ্রামে তাঁর বাড়ি। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। পড়াশোনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। এরপর ওই স্কুল নিয়েই ব্যস্ত।
শুরুর কথা: মন নাড়া দেওয়া ওই ঘটনাটি ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসের। এ ছাড়া লেখাপড়া না জানায় গ্রামের সাধারণ মানুষের নানাভাবে প্রতারণার শিকার হওয়া, শিশু ও নারী নির্যাতন, বাল্যবিয়ে, মাদকের ছোবল তো আছেই। বিষয়টি ভাবায় জনিকে। তিনি চিন্তা করেন, শিক্ষাই এর সমাধান। এসব নিয়ে আলোচনা করেন সহপাঠী একই গ্রামের একরামুল হাসানের সঙ্গে। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন পাঠশালা গড়বেন। দুই বন্ধু মিলে ঠিক করেন জনির বাড়ির পাশের সুপারির বাগানে গ্রামের নিরক্ষরদের পড়ানো হবে।

জনি ও একরামুল তাঁদের ইচ্ছার কথা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানান। নিরক্ষর নারী-পুরুষকে পড়তে আসার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু নারীদের ঘর থেকে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু তাঁরা হাল ছাড়েননি। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে খোলা আকাশের নিচে শুরু হয় লেখাপড়া। প্রথমদিকে সেখানে পড়তে আসত মাত্র ১৮ থেকে ২০ জন। দুটি পালায় পড়ানো শুরু হয়। বিকেলে পড়েন নারীরা, রাতে পুুরুষেরা। জনির প্রাইভেট পড়ানোর টাকায় কেনা তিনটি হারিকেন ও পাঁচ লিটার কেরোসিন তেল দিয়ে শুরু হয় রাতের পড়া।

দিনের পালায় পড়ানো ভালোমতো চললেও রাতের পালায় সমস্যা হতো। কারণ, কেরোসিন কেনার খরচ কম নয়। একপর্যায়ে একরামুলের সহায়তা আর পান না জনি।

জনির হার না মানা মানসিকতা দেখে এগিয়ে আসেন গ্রামের দিনার চৌধুরী। দুজনে মিলে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের বই, খাতা-কলম, চক-ডাস্টার, বসার চট, মোমবাতি-হারিকেনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করেন। তার পরও যেন এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছিল না। জনির উদ্যোগের কথা জানতে পেরে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা এগিয়ে আসেন।

জনির বাড়ির উঠানে টিনের চালা করে বানানো হয় পাঠশালা। বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বর্তমানে তিন পালায় চলছে পাঠদান। দুপুরের পালায় পড়ানো হয় শিশুদের। বর্তমানে এ পালায় সুবিধাবঞ্চিত ৩৬টি শিশু পড়াশোনা করছে। বিকেলের পালায় পড়ছেন ৩০ জন নারী। আর রাতের পালায় পড়েন ২৫ থেকে ৩০ জন পুরুষ। কাউকে বেতন দিতে হয় না।

পাঠশালার শিক্ষক বলতে জনি নিজেই। শিশুরা ছয় মাস এখানে পড়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্কুলে গিয়ে ভর্তি হয়। বয়সী নারী-পুরুষেরাও ছয় মাস এখানে পড়েন।

আরও কিছু: জনির পাঠশালায় লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিয়ে ও যৌতুক প্রথা রোধ, ঝগড়া-বিবাদ নিষ্পত্তি, মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বিপদে-আপদে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করা, সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে তোলা, বাড়িতে ছোটখাটো খামার তৈরি, শাকসবজির বাগান, হাঁস-মুরগি-কবুতর, গরু-ছাগল পালনেও উদ্বুদ্ধ করা হয়।

একদিন পাঠশালায়: জনির পাঠশালায় ঢুকে দেখা গেল, দুই সারিতে বসে শিশুশিক্ষার্থীরা বই নিয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার জানাল, সে আগে স্কুলে যেতে পারেনি। এখন জনির স্কুলে এসে বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক সব বিষয় পড়ছে।

কথা হলো বিকেলের পালায় পড়তে আসা গৃহবধূ আছিয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি বললেন, পড়তে না পারায় ওষুধ ভেবে ছেলেকে কীটনাশক খাইয়েছিলেন। সেই যন্ত্রণা এখনো ভোগ করছেন। এ স্কুলে এসে এখন পড়া ও লেখা দুটোই পারেন। ‘ছোটবেলায় পড়ালেখা করতে পারিনি। কম বয়সেই বিয়ে হয়। পড়াশোনার ইচ্ছা ছিল। এখন এই স্কুলে এসে পড়াশোনা করছি।’ বলছিলেন গৃহবধূ মমতাজ বেগম। গৃহবধূ সহিদা বেগম বললেন, প্রথম প্রথম পড়তে আসতে লজ্জা লাগত। কিন্তু এখন ভালোই লাগছে।
সারা দিন খাটা-খাটুনির পর রাতের পালায় পড়তে আসেন মনজুর রহমান (৪০)। ‘পড়াশোনা না জানলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এখন পড়তে ও লিখতে পারি।’ সরল উত্তর মনজুরের।
অন্যদের কথা: জনির সহযোগী দিনার বলেন, ‘জনির মহ ৎ উদ্যোগ আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। তাই ওঁর সঙ্গে যোগ দিই। এই উদ্যোগে সহযোগিতা করতে পেরে ভালোই লাগছে।’

জনির বাবা আবদুস ছাত্তার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আবদুস ছাত্তার বলেন, এ কাজকে প্রথমদিকে ছেলের পাগলামি মনে হতো। এখন সবাই ছেলের প্রশংসা করে। খুব গর্ব হয়।
পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ মো. মজাহারুল হক প্রধান এ উদ্যোগের প্রশংসা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। একই কথা বলেন পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলাম। তিনি স্কুলের উন্নয়নে সহযোগিতাও করেছেন।

জনির ইচ্ছা: এরই মধ্যে কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন জনি। সাক্ষরতাদানে বিশেষ অবদান রাখায় ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে জেলা প্রশাসন জনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সম্মাননা সনদ’ দিয়েছে।

জনি বলেন, ‘ইচ্ছা আছে পাঠশালার জন্য একটি পাকা ঘর তৈরি করার। সেখানে বিদ্যু ৎ, পানীয় জল এবং শৌচাগার থাকবে। এ ছাড়া সুযোগ পেলে এ এলাকার প্রতিটি গ্রামে এমন একটি করে পাঠশালা গড়ে তুলব।’
--------------------------------------------------------------
Comments:
২০১১.০৯.১৭ ০৩:১০ ''আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে''....... জনি অন্তরের অন্তস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই আপনাকে। আপনারাই আমাদের আশার আলো।
স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি সরকার একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর সুবিধার জন্য কাজ করে গেছে/ সুবিধা দিয়ে গেছে আর আপামর জনসাধারণ রয়ে গেছে অন্ধকারের অতল গহবরে সুবিধা বঞ্চিত হয়ে। এদেশ আমাদের তাই এর উন্নয়নে আমাদেরি এগিয়ে আসতে হবে ।
'' আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে
ভণ্ড নেতারা আর কতকাল
আমাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাবে ???''

idrinkh2O
November 4, 2011, 03:03 PM
‘এটা আমার ২০ বছরের স্বপ্ন’ (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-10-13/news/193454)
ক্রীড়া প্রতিবেদক | তারিখ: ১৩-১০-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2011-10-12-18-35-09-022312500-untitled-15.jpg
টমি মিয়া

ক্রিকেট ভালোবাসেন। সেটিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন মৌলভীবাজারে ক্রিকেট একাডেমি গড়ার মাধ্যমে। ‘রন্ধনশিল্পী’ এখন ক্রিকেটে মশগুল। এখানেও সফল হতে চান টমি মিয়া

 ক্রিকেট একাডেমি করার চিন্তা কীভাবে মাথায় এল?
টমি মিয়া: আমি ক্রিকেটের ফ্যান। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে লন্ডনের বার্মিংহামে চলে গিয়েছিলাম। ওখানে ক্রিকেট-ফুটবল দুটোই জনপ্রিয়। যার যেটা ভালো লাগে। উদারহণস্বরূপ বলি, আমি শেফ। আমি এটা এনজয় করি। ক্রিকেটও আমি এনজয় করি।
 আপনার পরিকল্পনা কী?
টমি: পরিকল্পনা অনেক। বলতে পারেন, এটা আমার ২০ বছরের স্বপ্ন। ২০ বছর আগে সামর্থ্য ছিল না। ১০ বছর ধরে সিরিয়াস হয়েছি। আগামী পরশু (আগামীকাল) আমরা একাডেমি ভবন তৈরির কাজ শুরু করছি। ২০১৩ থেকে আশা করি যাত্রা করতে পারব।
 জমি কোথায় পেলেন। খরচই বা কেমন হবে?
টমি: মৌলভীবাজারের ওয়াপদা রোডে আমাদের পারিবারিক জমিতে একাডেমি হচ্ছে। এটা সব মিলিয়ে প্রায় এক শ কোটি টাকার প্রকল্প।
 কয়টা ভবন হচ্ছে? কত শিক্ষার্থী থাকবে একাডেমিতে?
টমি: গোটা পাঁচেক ভবন হবে। আমার লক্ষ্য ৩০০ শিক্ষার্থী। খেলার মাঠ সম্ভবত একটার বেশি হবে না। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার মিলে এটির নকশা করেছেন।
 আধুনিক একটা একাডেমিই তাহলে হচ্ছে?
টমি: হ্যাঁ, আধুনিক। আমরা ৫-৮ বছরের বাচ্চাদের ভর্তি করব। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল করব। ক্রিকেট এডুকেশনসহ সবকিছুই রাখব। ইংল্যান্ডে কিছু একাডেমি আছে, ওগুলোর সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হচ্ছি। ওদের সিলেবাস ফলো করব।
 ক্রিকেট ব্যক্তিত্বদের আনার চিন্তা আছে আপনার?
টমি: শেন বন্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি শিগগিরই আসবেন একাডেমির প্রমোশনাল কাজে। স্যার ইয়ান বোথাম নিশ্চয়তা দেননি। তবে এ মাসের ২৫-২৬ তারিখে আসতেও পারেন। ফারুক ইঞ্জিনিয়ার, আসিফ ইকবালের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁরাও আসতে পারেন।
 অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গেই আপনার পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা আছে শুনেছি...
টমি: একজনের কথা আলাদা করে বলতে পারি—রাহুল দ্রাবিড়। তাঁর স্কটল্যান্ডে খেলার সময় আমি তিন মাস তাঁর খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারটা দেখাশোনা করেছি। সুনীল গাভাস্কার, ইমরান খানসহ আরও অনেকের সঙ্গেও পরিচয় আছে। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে। নিরাপত্তার ব্যাপারটা বড় না হলে হয়তো আমার ডাকে চলেও আসতেন।
 মাদ্রিদে নাকি একটা অনুষ্ঠানেও যাচ্ছেন?
টমি: হ্যাঁ। আগামী এপ্রিলে মাদ্রিদ ক্রিকেট একাডেমির একটা টি- টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আছে। সেখানে দাওয়াত পেয়েছি। ২০০ লোকের রান্না করব।
 একাডেমি করার উদ্যোগ নিয়ে অনেকেই এগোতে পারেননি। আপনি কতটা এগোতে পারবেন বলে মনে করেন?
টমি: ১৪ বছর বয়স থেকে বিলাতে ডিশওয়াশ শুরু করি। লেখাপড়া করতে পারিনি। গ্রাম থেকে বিলাত গিয়েছি। মৌলভীবাজার শহরটাও দেখিনি। আর সেই আমি আজ বড় কোনো বাণিজ্যিক অ্যাসাইনমেন্টে ১০ লাখ টাকার নিচে যাই না। একাগ্রতা আর পরিশ্রমের কারণেই এত দূর এসেছি। কাজেই আমি পিছিয়ে যাওয়ার লোক নই।
 আপনার নামটা টমি মিয়া হলো কী করে?
টমি: আমার মূল নাম মোহাম্মদ আজমান মিয়া। যখন লন্ডনের স্কুলে গিয়েছি, এই অঞ্চলের আর কেউ ছিল না। ইংরেজি জানি না, ইনফ্যাক্ট কিছুই পারি না। তখন দ্রুত ইংরেজি শিখতে স্কুলে আমাকে নিক নেম দেওয়া হলো—টমি মিয়া (হাসি)। আমাকে নিয়ে প্রথম আলো কয়েক বছর আগে ফিচার লিখেছে—‘বাড়ন্তি টু বাকিংহাম প্যালেস।’ বাড়ন্তি হলো আমার গ্রামের নাম।
 পরিবার নিয়ে কিছু বলুন...
টমি: বাবা মারা গেছেন। মা আছে। দুই ভাই, দুই বোন। সবারই লন্ডনে জন্ম। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। দুটি নাতিনাতনি আছে (হাসি)। ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করেছি। এখন বয়স ৫২। বুঝতেই পারছেন, দীর্ঘ একটা পথ পেরিয়ে আজ আমি এখানে।
-----------------------------------------------------------------------------
comment:
২০১১.১০.১৩ ০৩:৩৮ ১০০কোটি টাকা দিয়ে শুধু সিলেটে একটি একাডেমি না বানিয়ে ২০ কোটি করে ৫টি বানান, দেশের ৫টি এলাকায়।

idrinkh2O
November 4, 2011, 03:06 PM
তেতো করলায় জীবনের জয়গান (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-10-08/news/192118)
রহিদুল মিয়া, আলতাফ হোসেন, মিঠাপুকুর (রংপুর) থেকে | তারিখ: ০৮-১০-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2011-10-07-17-34-00-079825600-03.jpg
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে নিজের খেতে করলা তুলছেন শাহজাহান আলী

শাহজাহান আলীর বসতভিটা ছাড়া কোনো জমি ছিল না। অন্যের জমিতে কামলা খেটে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। এক বেলা খাবার জুটলেও আরেক বেলা জুটত না। ৩০ বছর আগে শাহজাহানের অবস্থা ছিল এ রকম। আর আজ?

আজ তিনি একজন সফল চাষি। করলা চাষে তাঁর সাফল্যের পথ ধরে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ঘটে গেছে এক নীরব বিপ্লব। শাহজাহান আলী (৬০) আজ শত শত কৃষকের পথপ্রদর্শকও। তাঁর গ্রাম থেকে শুরু হয়ে করলার চাষ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের দশ গ্রামে। মিঠাপুকুরের করলার সুনাম দূরদূরান্তেও ছড়িয়ে পড়েছে।

করলাপল্লিতে একদিন: মিঠাপুকুর উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার উত্তরে রানীপুকুর ইউনিয়নে নয়াপাড়া গ্রাম। এ গ্রামে শাহজাহানের বাড়ি। কাঁচা-পাকা পথ ধরে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই গ্রামে ঢুকেই অভাবিত দৃশ্য চোখে পড়ে। গ্রামের মাঠজুড়ে অসংখ্য করলাখেতের মাচা। গ্রামের নারী-পুরুষ কেউ খেত থেকে করলা তুলছেন, কেউ করছেন খেতের পরিচর্যা। প্রতিটি বাড়িতেই স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুতের আলোর ঝলকানি।

বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করতেই একজন দেখিয়ে দেন, ওই যে শাহাজাহান করলাখেতে কাজ করছেন। এই প্রতিবেদককে দেখে জমি থেকে আলে উঠে আসেন। শোনান করলার চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার গল্প।

কষ্টের অতীত: ১৯৫০ সালে দরিদ্র পরিবারে জন্ম শাহজাহানের। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি বড়। বাবার অভাবের সংসার, তাই লেখাপড়া করা হয়নি। দিনমজুরির কাজ পেলে খাবার জুটত, না পেলে অনাহার।

১৯৮০ সালের কথা, কাজ না পাওয়ায় শাহজাহান দুই দিনেও চাল জোটাতে পারেনি। তাই বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে বসে মনের দুঃখে কাঁদছিলেন। ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন একই গ্রামের সবজিবীজের বিক্রেতা হায়দার আলী। শাহজাহানের কষ্টের কথা শুনে তাঁর হাতে তিনি ১০০ টাকা আর ২০০ গ্রাম করলার বীজ তুলে দেন।

হায়দারের পরামর্শে এ বীজ শাহজাহান লাগান ৪ শতক বসতভিটার চারদিকে। ৬০ দিনের মাথায় খেতে করলা ধরে। ফলন দেখে শাহাজাহানের মুখে হাসি ফুটে। এ করলা বিক্রি করে আয়ও আসে ৮০০ টাকা। এরপর পুরোপুরি করলা চাষে লেগে পড়েন। প্রথম বছরের ৮০০ টাকা দিয়ে পরের বছর অন্যের ১৫ শতক জমি বর্গা নেন। এবারও তাঁর করলার ফলন ভালো হয়। বসতভিটাসহ ১৫ শতক জমির করলা বিক্রি করে আয় করেন ছয় হাজার টাকা।

এভাবে একপর্যায়ে চাষের জমি বাড়ে, আয় বাড়ে। করলা চাষের টাকায় কেনেন তিন একর জমি, বানান পাকা বাড়ি। মাছ চাষের জন্য খনন করেন পুকুর, সাতটি গরুর একটি খামারও করেছেন। দুই মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দেন। তিন ছেলে রবিউল, রেজাউল ও শফিকুল লেগে আছেন করলা চাষে। এবারে দুই একরে করেছেন করলার চাষ। ইতিমধ্যে এক লাখ টাকার করলা বিক্রি করেছেন। এখনো খেতে যে পরিমাণ করলা আছে, তা বিক্রি করলে আয় হবে দেড় লাখ টাকা।

করলা ফুটাল হাসি: ১০ বছর আগে নয়াপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামকে সবাই দিনমজুর হিসেবে চিনত। আশ্বিন-কার্তিক মাসে তাঁর পরিবারকে প্রায় উপোস থাকতে হতো। কিন্তু এখন নজরুলের ঘরে সারা বছর চাল থাকে। কামলাও খাটতে হয় না। অন্যের ২৮ শতক জমি বর্গা নিয়ে করলা চাষ শুরু করে তিনি টিনের বাড়ি করেছেন। নিজের কেনা দুই একর জমিতে এবার করেছেন করলার চাষ। এ পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন তিনি।

বলদী পুকুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান বলেন, করলা চাষ তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। আগে এক বেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে দায় হয়ে যেত, সেখানে এখন খাওয়া-পরা বাদেও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ দিতে পারছেন তিনি।

বসতভিটাসহ ১০ শতক জমিতে চাষ শুরু করেন দুর্গাপুর গ্রামের দিনমজুর আবু বকর। এখন তার বাড়ির চারদিকে গাছ-গাছালি ও দেড় একর জমিতে করলা রয়েছে। দুই হাজার টাকা ধার করে আট বছর আগে করলার চাষ শুরু করেন তিনি। এখন করলা বিক্রি করে বছরে আয় করেন দুই লাখ টাকা।

লাভ দ্বিগুণ: রসুলপুর গ্রামের কৃষক কেচু মিয়া বলেন, ধানের চেয়ে করলা চাষে লাভ দ্বিগুণ। এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ব্যয় হয় ১০-১১ হাজার টাকা। উৎপাদিত ধান বিক্রি হয় ১৮-১৯ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় আট-নয় হাজার টাকা। কিন্তু এক বিঘায় করলা চাষ করতে ব্যয় হচ্ছে ১৪-১৫ হাজার টাকা। উৎপাদিত করলা বিক্রি হয় ৬৫-৭০ হাজার টাকা। এতে বিঘায় করলা চাষ করে আয় আসে ৫০-৫৫ হাজার টাকা। প্রায় সারা বছরই করলা চাষ করা যায়। লাগানোর ৬০ দিনের মধ্যে করলা পাওয়া যায়। ভাদ্র-কার্তিক মাসে করলার ফলন ভালো হয়। হাইব্রিড, নেপালি, রানীপুকুর, সোনামুখী, বউ সোহাগীসহ নানা জাতের করলার চাষ হয় মিঠাপুকুরে।

গড়ে উঠেছে বাজার: করলা চাষ ঘিরে গড়ে উঠেছে চারটি বাজার। রানীপুকুর, বলদী পুকুর, জায়গীরহাট, শঠিবাড়ির হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত করলা ছাড়াও নানা রকম সবজি বিক্রি হয়। এখান থেকে কেনা করলা ট্রাকে করে ঢাকার সাভার, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে যায়। অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী সরাসরি খেত থেকেও করলা কিনে থাকেন। স্থানীয় বাজারে বর্তমান প্রতি মণ করলা প্রকারভেদে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তাঁরা যা বললেন: রানীপুকুর ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বুলবুল মিয়া বলেন, শাহাজাহান সব কৃষকের মডেল। তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার কৃষকেরা করলা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি জেনেছেন শাহজাহান আলী এই অঞ্চলে করলা চাষের সূচনা করেছেন। তার আগে কেউ এভাবে করলা চাষ করেনি। তিনি বলেন, করলার চাষে খরচ কম, লাভ বেশি হওয়ায় শত শত কৃষক করলা চাষ করছেন। মিঠাপুকুরে এবারে এক হাজার ২২০ একর জমিতে করলার চাষ হয়েছে। চাষিদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এবং শাহজাহান: কষ্টে ধরে আসা গলায় শাহাজাহান আলী বলেন, ‘ঈদেও স্ত্রী-সন্তানদের কাপড় দিতে পারতাম না। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। করলা চাষ করে এত দূর এসেছি, করলা চাষ নিয়ে বাকি জীবন কাটাতে চাই।’

শাহজাহানের স্ত্রী রশিদা বেগম বলেন, ‘লোকটা সারা দিন করলাখেতে কাজ করে। আমি একটু দেখতে আসি। মাঝেমধ্যে নিজেও একটু হাত লাগাই।’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের যথেষ্ট সুখে রেখেছে, এভাবেই মরতে চাই।’

idrinkh2O
November 4, 2011, 03:16 PM
রিকশা চালিয়ে হাসপাতাল (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-07-02/news/167066)
কামরুজ্জামান, ময়মনসিংহ | তারিখ: ০২-০৭-২০১১
৩৩৪ মন্তব্য

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2011-07-01-18-44-17-061481500-untitled-41.jpg
ঢাকার রাস্তায় রিকশা চালাচ্ছেন জয়নাল আবেদিন

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2011-07-01-18-46-16-083015000-untitled-42.jpg
ময়মনসিংহে জয়নালের মমতাজ হাসপাতাল ষ ছবি: প্রথম আলো

ঢাকায় রিকশা চালান তিনি। রোদে পোড়েন। বৃষ্টিতে ভেজেন। কাঁপেন কনকনে শীতে। তবু থামে না রিকশার চাকা। এ যে তাঁর স্বপ্নেরও চাকা।

তিনি মো. জয়নাল আবেদিন। বয়স কত হবে? ৬০ কিংবা ৬১। চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেছে। কালো হয়ে গেছে দাঁত। দাড়ি শ্বেতশুভ্র। শরীর দুর্বল। রিকশার প্যাডেল চাপতে এখন পা ধরে আসে। পেশি টনটন করে। মাথা ঝিমঝিম করে। কিন্তু স্বপ্ন তাঁকে টেনে নিয়ে যায়।

ঢাকায় জয়নাল যখন কষ্টে কাতর, ময়মনসিংহে তখন তাঁর গড়া হাসপাতালে গরিব রোগীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। ঢাকার বালি-ধূলি-ভেঁপুর শোরগোল চাপা পড়ে যায় জয়নালের অন্তরে বাজা তাঁর গড়া বিদ্যালয়ের শিশুদের হিল্লোলের নিচে।

একজন জয়নাল শুধু রিকশা চালিয়ে নিজ গ্রামে একটি হাসপাতাল করেছেন। গড়েছেন একটি বিদ্যালয়। চালাচ্ছেন মক্তব। ছোট তাঁর সেই হাসপাতালে ছয়টি শয্যা আছে। আছেন একজন পল্লি চিকিৎসক, সার্বক্ষণিক। সপ্তাহে এক দিন সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এসে রোগী দেখেন।
শুধু রিকশা চালিয়ে একজন অক্ষরজ্ঞানহীন জয়নাল একটি বিদ্যালয় গড়েছেন। হোক সেখানে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা। তাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন ১২০। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সকালে মক্তব বসে। গ্রামের শিশুরা সকালে সেখানে আরবি পড়ে। সাধ্য নয়, স্বপ্ন একজন রিকশাচালককে দিয়ে কী না গড়িয়ে নেয়!

আঘাত থেকে অঙ্গীকার: ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের টানহাসাদিয়া গ্রামে জয়নাল আবেদিনের বাড়ি। বাবা মো. আবদুল গনি ছিলেন ভূমিহীন কৃষক। আবদুল গনির চার ছেলে ও ছয় মেয়ের মধ্যে জয়নাল সবার বড়। অভাব-অনটনের সংসারে পড়াশোনা করার সুযোগ হয়নি কারও।

প্রায় ৩০ বছর আগের কথা। দিনক্ষণ ঠিক মনে নেই জয়নালের। অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল। সন্ধ্যার দিকে বাবা আবদুল বুক চেপে ধরে কাতরাতে লাগলেন। বাবার কষ্টকাতর মুখ দেখে দিশেহারা হয়ে পড়লেন সন্তানেরা। জয়নাল ও তাঁর ভাইয়েরা বের হলেন চিকিৎসকের খোঁজে। সে যুগে কাছেপিঠে কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র বা ভালো চিকিৎসকও ছিল না। গুটিকয়েক নাম ভাঙানো চিকিৎসক ও ওষুধের দোকান ছিল ভরসা।

জয়নাল বললেন, ‘একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে বাবাকে নিয়ে দুই কিলোমিটার দূরে মীরকান্দাপাড়ায় যাই। সেখানে মেহছেন বেপারীর ওষুধের দোকান ছিল। মেহছেনের বাবা জসিমউদ্দিন ছিলেন এলাকার কুখ্যাত রাজাকার। অসুস্থ বাবাকে নিয়ে দোকানে পৌঁছালে মেহছেন তাচ্ছিল্য করে বলে, রাজাকারের দোকানে ওষুধ নিতে আইছো ক্যান? তোমরার কাছে ওষুধ বেচুম না।’

বিমুখ হয়ে মুমূর্ষু বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন ছেলেরা। রাত ১০টার দিকে বাবা মারা যান। এই মৃত্যু স্তব্ধ করে দেয় জয়নালকে। কষ্টের আগুনে পুড়তে থাকেন তিনি।

পেছনে চোখ ফেলেন জয়নাল। তাঁর এক মামা ময়মনসিংহের ব্যাংকে চাকরি করতেন। তাঁর সূত্রে ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় একদল মুক্তিযোদ্ধা আসেন তাঁদের বাড়িতে। তাঁর বাবা সেই মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েক দিন বাড়িতে রেখে খাইয়েছেন। সে ইতিহাস জয়নালরা ভুলে গেলেও স্থানীয় রাজাকার জসিমউদ্দিন বা তাঁর ছেলে তা ভোলেননি। দীর্ঘশ্বাস ফেলেন জয়নাল।

মনের আগুন থেকে অঙ্গীকার। একটি হাসপাতাল গড়ার পণ করেন জয়নাল। সেই হাসপাতালে বিনা মূল্যে গরিব মানুষের চিকিৎসা হবে। ঠিক করেন, ঢাকায় চলে যাবেন। গতর খেটেই হাসপাতাল গড়ার টাকা জোগাবেন।

বাবার কুলখানির পর গাঁয়ের কয়েকজন মুরব্বি নিয়ে বসলেন জয়নাল। তাঁদের বলেন, ‘এই রইল আমার মা আর ভাইবোনরা। ওগো সমস্যা হইলে আপনেরা দেইখেন। আমি চললাম।’ স্ত্রী লাল বানু ও দেড় বছরের মেয়ে মমতাজকে নিয়ে ট্রেনে ঢাকার পথে ছোটেন জয়নাল।

সাহসী যাত্রা: ঢাকায় পৌঁছে যেন গোলকধাঁধায় পড়ে যান জয়নাল। নতুন শহর। আপনজনহীন। নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। ট্রেন থেকে নেমে স্ত্রী ও শিশুকন্যা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটি বড় মাঠে গিয়ে পৌঁছেন তিনি। পরে জেনেছেন, এটি শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মাঠ। ওই মাঠে পানির ট্যাংকের নিচে সপরিবারে আশ্রয় নেন জয়নাল। সেখানে কাটে দেড় দিন। কত সালে জানতে চাইলে বলেন, ‘তখন এরশাদের আমল।’

পরিবারটির ব্যাপারে কৌতূহলী হন স্থানীয় মোশাররফ (৪৫)। তাঁর বাড়ি বিক্রমপুরে। কয়েকটি রিকশা ভাড়া খাটাতেন তিনি। জয়নালের সব জেনে মায়া হয় তাঁর। খাওয়ার জন্য ৫০ টাকা দেন। মোশাররফ এক দিনেই রিকশা চালানো শিখিয়ে একটি রিকশাও দেন জয়নালকে। সঙ্গে কলোনির একটি বাসার বারান্দায় ১৫০ টাকা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থাও করে দেন।

জয়নাল স্মৃতিচারণা করেন, ‘প্রথম খেপে বাদামতলীতে গিয়ে ৩০ টাকা পাই। এভাবে এক দুপুর রিকশা চালিয়ে পাই ৯৫ টাকা। বাকি বেলায় জোটে ৫৫ টাকা। মোশাররফকে রিকশার জমা দেই ২০ টাকা। সপ্তাহ খানেক এভাবে চলে।’

অঙ্গীকার পালনের তাড়া আর স্বপ্নের হাতছানি জয়নালকে পরিকল্পনা শেখায়। হাসপাতাল গড়তে হলে তিল তিল করে করতে হবে বড় সঞ্চয়।

এক মনে সঞ্চয়: তত দিনে আপনজন হয়ে ওঠা মোশাররফকে অকপটে হাসপাতাল গড়ার স্বপ্নের কথা জানান জয়নাল। মোশাররফের পরামর্শে স্থানীয় এক মুদি দোকানির কাছে কিছু টাকা জমান জয়নাল। ওই টাকা নিয়ে ব্যাংকে হিসাব খুলতে গেলে শুরুতে কর্মকর্তারা পাত্তাই দেননি। অবজ্ঞাভরে বলেছেন, ‘রিকশাওয়ালা! কিছু টাকা জমিয়ে কয় দিন পর ঋণ চাইতে আসবে।’
কিন্তু দমেননি জয়নাল। বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে হিসাব খুলতে ধরনা দেন। শেষে সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখার ব্যবস্থাপক সালেহা আক্তার তাঁর আবেগের মূল্য দিলেন। তাঁর সহযোগিতায় ডিপিএস হিসাব খুলে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে জমাতে লাগলেন জয়নাল। একই ব্যাংকের দিলকুশা শাখায়ও একটি হিসাব খুললেন তিনি। সেখানে ডিপিএস করেন ৫০০ টাকার।

‘নিয়মিত টাকা জমাতে গিয়ে জান দিয়ে খাটতে হয়েছে। কখনো রাতদিন রিকশা চালিয়েছি। টাকা জমানোর কথা স্ত্রীকে জানাইনি। সংসারে যত কষ্টই হতো, কখনো জমানো টাকায় হাত দেইনি।’ বললেন জয়নাল।

এর মধ্যে সংসারে ছেলে জাহিদ হাসানের আগমন ঘটেছে। মগবাজারের উদয়ন ক্লিনিকে আয়ার কাজ নিয়েছেন স্ত্রী লাল বানু। চিকিৎসক জাহাঙ্গীর কবির একদিন জয়নালের রিকশায় করে যাচ্ছিলেন। কথায় কথায় জয়নাল চিকিৎসককে তাঁর সংকল্পের কথা জানান। ওই চিকিৎসকই জয়নালের স্ত্রীকে কাজটি পাইয়ে দেন। দীর্ঘদিনের চর্চায় প্রসূতি নারীর আনুষঙ্গিক সহযোগিতার কাজে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন লাল বানু।

কায়ক্লেশে প্রায় ২০ বছর রাজধানীতে কেটে যায় জয়নাল পরিবারের। এতগুলো বছর গোপনে জমা হয়েছে জয়নালের রক্তমাংস নিংড়ানো টাকা।

ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। মেয়ে মমতাজের বিয়ে হয়েছে ময়মনসিংহে। ছেলে জাহিদ হাসান এইচএসচি পাস করে এখন মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে মোবাইল ফোনসেট মেরামতের দোকান দিয়েছেন। তিনিও দুই সন্তানের জনক।

স্বপ্নের খুঁটি গাড়া: ২০০১ সালে স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন জয়নাল। সব সঞ্চয় এক করে পান এক লাখ ৮৪ হাজার টাকা। তা নিয়ে গ্রামে ফেরেন তিনি। বাড়ির কাছে ৪০ হাজার টাকায় ২৪ শতাংশ জমি কেনেন। এক শুক্রবারে গাঁয়ের মানুষ ডেকে হাসপাতাল গড়ার ঘোষণা দেন জয়নাল—‘এইহানে বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হইব।’

লাল বানু বললেন, ‘লোকজন খুশি হবে কি, হেসেই উড়িয়ে দিল। হাসপাতাল গড়বে রিকশাচালক জয়নাল আবেদিন!’ আরও যোগ করলেন, ‘মাইনসের কতা কি কমু, আমার নিজেরই তহন তাঁরে পাগল মনে অইত। এহন হেই কথা ভাবলে কষ্ট লাগে।’

আপনজনরা টাকা অপচয় হবে বলে জয়নালকে নিরুৎসাহিত করেছেন। কিন্তু জয়নাল স্বপ্ন জয় না করে ছাড়বেন না। নতুন কেনা জমিতে দোতলার ভিত্তি দিয়ে একটি বড় আধাপাকা ঘর তৈরি করেন। এই নির্মাণকাজে সঞ্চয়ের প্রায় পুরো টাকা চলে যায়। মেয়ের নামে হাসপাতালের নাম দিলেন তিনি ‘মমতাজ হাসপাতাল’।

হাসপাতালে একদিন: সম্প্রতি ময়মনসিংহ শহর থেকে নৌকায় ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে মোটরসাইকেলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছি সিরতা বাজার। মনিহারি দোকানে কয়েকজন লোক বসা। উদ্দেশ্য জানালে এক যুবক নিয়ে গেলেন জয়নালের বাড়ি। বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে।

বাড়ির সামনে বাঁশের খুঁটিতে একটি সাইনবোর্ড। তাতে লেখা মমতাজ হাসপাতাল। পেছনে প্রায় ২৫ ফুট দীর্ঘ একটি টিনশেড ঘর। এটাই জয়নালের হাসপাতাল ভবন।
উঠানে গাভির পরিচর্যা করছিলেন জয়নাল। আগন্তুক দেখে কাছে এসে দাঁড়ালেন দীর্ঘদেহী সৌম্যকান্ত জয়নাল। মৃদু হেসে পরিচয় জানতে চাইলেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সোৎসাহে দেখাতে লাগলেন তাঁর হাসপাতাল।

হাসপাতাল বলতে প্রচলিত অর্থে যা বোঝায়, জয়নালের আয়োজন তা নয়। তবে জয়নাল তাঁর ক্ষুদ্র সামর্থ্য দিয়ে যেভাবে তিন দশক ধরে লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন, তার মাহাত্ম্য অনেক বড়। এ মাহাত্ম্য একটি হাসপাতাল গড়ার চেয়েও বিশাল।

ঘরটি দুটি কক্ষে বিভক্ত। একটি কক্ষে রোগীদের জন্য ছয়টি শয্যা। অন্য ঘরে একপাশে চিকিৎসক ও রোগীর বসার ব্যবস্থা। অন্য পাশে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষায় নানা বয়সী ১০-১২ জন নারী-পুরুষ। বেশভুষায় দারিদ্র্য। সময় গড়াচ্ছে, রোগীও বাড়ছে। সকাল নয়টার দিকে মোটরসাইকেলে চেপে হাসপাতালে এলেন পল্লি চিকিৎসক মো. আলী হোসেন। বারান্দায় টেবিল পেতে শুরু করলেন রোগী দেখা। পাশে বসে খাতায় রোগীর নাম-পরিচয় লিখছে জয়নালের নাতনি মমতাজের মেয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী আল্পনা। জয়নালের পুত্রবধূ এসএসসি পাস তামান্না ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বিনা মূল্যে ওষুধ দিচ্ছিলেন রোগীদের। ভেতরে একটি শয্যায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত একজনকে স্যালাইন নেওয়ায় সহযোগিতা করছেন লাল বানু, জয়নালের স্ত্রী। জয়নাল ঘুরে ঘুরে রোগীদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন।

নয়াপাড়ার কৃষিশ্রমিক মজিবর (৩৫) বলেন, ‘মাইনসের খেতে কাম কইরা খাই। জ্বরে পইড়া কাইল আইছিলাম। আইজ একটু ভালা। এহানে ডাক্তার দেহাইতে টেহা লাগে না। ওষুধও মাগনা।’
পাশের হইল্লাবাড়ি গ্রামের আমেনা খাতুন (৬০) বলেন, ‘আগে অসুখ অইলে চাইর-পাঁচ মাইল হাইট্টা পরানগঞ্জ যাইতে হইত। এহন কাছেই চিকিৎসা। এইহানে চিকিৎসা করাইতে টেহা লাগে না। ডাক্তারও ভালা।’ উপস্থিত অন্য রোগীরা তাঁর কথায় সায় দিলেন।

পল্লি চিকিৎসক আলী হোসেন শুক্রবার বাদে প্রতিদিনই আসেন। সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত রোগী দেখেন। প্রতিমাসে তিনি দেড় হাজার টাকা বেতন পান।

আলী হোসেন বলেন, ‘শুরুতে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে গাঁয়ের লোকজন হাসাহাসি করত। এখন আর তা নেই। প্রতিদিন এখানে ২৫-৩০ জন রোগী আসে। জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, কাটাছেঁড়ার রোগী আর গর্ভবতী মারা আসেন এখানে। তাদের আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা ও ওষুধ দেই। হাসপাতালের যাবতীয় খয়খরচা জয়নাল কাকা চালান। কাকি (লাল বানু) ধাত্রীবিদ্যার কৌশল জানেন বলে এখানে অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের ব্যবস্থাও আছে।’

প্রতি বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালের বক্ষব্যাধির চিকিৎসক হেফজুল বারী আসেন মমতাজ হাসপাতালে রোগী দেখতে। ওই দিন রোগী হয় সবচেয়ে বেশি।
যেভাবে ব্যয় নির্বাহ: জয়নাল জানান, বর্তমানে ঢাকায় প্রতিদিন দুই বেলা রিকশা চালিয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পান। সপ্তাহে তিন-চার দিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তার সিংহভাহ দিয়ে ওষুধ কিনেন হাসপাতালের জন্য। বাকি টাকায় বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাড়ি ফেরেন। দিন দুয়েক বাড়িতে থেকে আবার ছোটেন ঢাকায়। এভাবে চলে এখন জয়নালের দিনকাল।
জয়নাল জানান, গ্রামে কিছু জমি বর্গা নিয়ে ধান, মরিচ ও সবজি চাষ করছেন। বাড়িতে একটি দুধেল গাই বর্গায় পালন করছেন। একটি ছোট পুকুরে মাছ চাষও করছেন। এসবের আয় দিয়ে এখন কোনো মতে চলে যায় তাঁর।

জয়নাল জানেন, তাঁর শারীরিক শক্তি যত দিন আছে তত দিন চলবে এই হাসপাতাল। কিন্তু তারপর কী হবে? সহায়তার জন্য অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ধরনা দিতে শুরু করেছেন জয়নাল। বিমুখ হয়েছেন, হয়েছেন প্রতারিতও।

২০০৫ সালে তাঁর হাসপাতালের কথা জানতে পেরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রব সী শাহনাজ পারভীন এক হাজার ডলার পাঠান। যার কাছে সেই টাকা পাঠানো হয়েছিল তিনি তাঁর বড় অংশই মেরে দেন। কিছু টাকা অনেক কষ্টে উদ্ধার করে হাসপাতালের জন্য কিছু আসবাব কেনেন জয়নাল। কাটান একটি ছোট পুকুর।

এই প্রতিবেদকের কাছে জয়নালের হাসপাতাল সম্পর্কে জেনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বললেন, ‘আমি সংগঠনের মাধ্যমে সেখানে সপ্তাহে অন্তত একজন চিকিৎসক পাঠানোর ব্যবস্থা করব।’

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) এ বি এম মোজাহারুল ইসলাম বললেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন আমি আমার সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।’

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘ওই হাসপাতালের জন্য ওরস্যালাইনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব, তার ব্যবস্থা আমি নেব।’
বিদ্যালয়: হাসপাতালের পাশে একটি ছোট দোচালা ঘর। এখানেই বিদ্যালয় ও মক্তব চালু করেছেন জয়নাল। সকালে মক্তবে শিশুরা এসে আরবি শেখে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত চলে প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান।

বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের একজন ফলিয়ামারীর এসএসসি পাস যুবক মো. আইয়ুব আলী জানান, বিদ্যালয়ে এখন ১২০ জন শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে ৭০ জনের মতো ছাত্রী। তাদের বিনা মূল্যে বই-খাতা দেওয়া হয়। কোনো ফি নেওয়া হয় না।

সরকারি বই পান কি না জানতে চাইলে জয়নাল বলেন, ‘না। আমি বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে পুরোনো বই চেয়ে আনি। সামান্য কিছু লাগলে কিনে নিই। খাতা-কলম-চক-পেনসিল কিনে দেই।’
তৃতীয় শ্রেণী পাস করে শিক্ষার্থীরা কোথায় যায়—জানতে চাইলে শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, সিরতা-নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এক মাইল দূরের ফলিয়ামারী রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।

যা কিছু প্রাপ্তি: জয়নাল গরিব, কিন্তু তাঁর হাসিটা কোটি টাকা দামের! হাসিতে থাকে তৃপ্তির আলোকছটা। স্বপ্নের হাসপাতাল তাঁকে এই তৃপ্তি দিয়েছে। এই মানুষটি মনের দিক থেকে কেমন? ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২৮ জুন ‘এসো বাংলাদেশ গড়ি’ শীর্ষক রোড শো চলাকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘সাদা মনের মানুষ’ হিসেবে সনদ ও পদক দেওয়া হয়।

জয়নাল বলেন, ‘শেষ বয়সে আমি আর কী চাইব? এলাকার মানুষ যে আমার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন, এটাই আমার বড় পাওয়া।’অসম্ভবকে জয় করা জয়নাল পড়ন্ত বয়সেও কারও আশায় বসে থাকতে রাজি নন। জীবিকার পথে এখনো সচল তিনি। রিকশা চালিয়ে যে টাকা পান, তা দিয়েই চালান হাসপাতাল, বিদ্যালয় ও মক্তব। এতেই তাঁর সুখ।

idrinkh2O
November 4, 2011, 03:18 PM
কড়াইল বস্তিতে শিশুদের অন্যরকম দিন (http://www.banglanews24.com/news.php?nssl=67229)

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011October/CLS-2bg20111104193833.jpg

ঢাকা: রাজধানীর গুলশান এলাকার কড়াইল বস্তির সহরাধিক শিশু পুরো দিনটি কাটালো আনন্দের মধ্য দিয়ে। ‘কালারিং লিটল স্মাইলস’ (সিএলএস) ঈদ আনন্দ আয়োজনের তিন দিনব্যাপী কার্যক্রমের শুক্রবার ছিল দ্বিতীয় দিন।

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে এ আয়োজনে প্রায় এক হাজার ৪০০ শিশুকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান, হাত ধোয়া, নখ কাটা, হাতে মেহেদী লাগানো, শিশুদের খাবার আপ্যায়ন ও হাওয়াই মিঠা প্রদান করা হয়।

সিএলএস’র স্বেচ্ছাসেবীরা দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে অংশ নেন। শনিবার সমাপনী দিনে উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে রানাভোলা বটতলা বস্তির শিশুদের মাঝে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ঈদ, পূজা ও ক্রিসমাস ডেসহ বিভিন্ন উৎসবের আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে নিয়ে উদযাপন করার অংশ হিসেবেই সিএলএস এর এ আয়োজন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৪, ২০১১

idrinkh2O
November 9, 2011, 02:35 PM
Where there's a will, there's a way!
--------------------------------------------------------------------------------------------------

নাড়ির টানে বাইসাইকেলে ঢাকা থেকে নীলফামারী (http://www.banglanews24.com/news.php?nssl=67783)
নুর আলম, জেলা সংবাদদাতা

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011November/SM/Nilphamari20111109220410.jpg

নীলফামারী: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মায়ের ডাকে ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাতের অন্ধকারে পাড়ি দিয়েছিলেন দামোদর নদী। সেটা আজ থেকে প্রায় পৌনে দুশো বছর আগের কথা।

দারিদ্র্যকে উপেক্ষা করে একবিংশ শতাব্দীর উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার এ যুগে নাড়ির টানে বাইসাইকেল দীর্ঘ ৫০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে যাওয়া দামোদর নদী পাড়ি দেওয়ার চেয়ে কি কম কিছু? না বোধ হয়।

দারিদ্র্য পরাভূত হয় স্বজনের সঙ্গলাভের ইচ্ছা আর দৃঢ় মনোবলের কাছে।

বাইসাইকেলে ৩৩ ঘণ্টায় প্রায় ৫শ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেটাই প্রমাণ করেছেন নীফামারীর দুই সহোদর। যেন একালের বিদ্যাসাগর তারা।

ঢাকা থেকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের চানসাপাড়া গ্রামের বাড়িতে এসে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছেন দুই ভাই।

চানসাপাড়ার আব্দুল হাইয়ের পুত্র সফিয়ার রহমান (৩৫) ও আনিছার রহমান (২৫)। বেশ কয়েক বছর ধরে তারা ঢাকায় থাকেন। বড়ভাই একটি ফুড প্রডাক্ট কোম্পানিতে চাকরি করেন আর ছোটভাই রিকশা চালান।

দুই সহোদর বাড়িতে ঈদ উদযাপন ইচ্ছা পোষণ করলেও কাল হয়ে দাঁড়ায় গাড়ি ভাড়া। দুজনের নীলফামারী আসতে ভাড়ার টাকা লাগে দেড় হাজার। কিন্তু তাদের সে সামর্থ্য ছিল না। তবে অর্থসঙ্কট দুই সহোদরের বাড়ি ফেরার ইচ্ছাকে দমাতে পারেনি। তাদের সঙ্গে থাকা একটি বাইসাইকেলেই ঢাকার রামপুরা থেকে ৫ নভেম্বর রাত ৮টায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন দুই ভাই।

রাস্তায় পালা করে তারা ৩৩ ঘণ্টা বাইসাইকেল চালিয়ে ঈদের দিন ভোর ৫টায় বাড়িতে পৌঁছেন তারা।

সফিয়ার রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকায় কাজ করে যে অর্থ উপার্জন করি তা দিয়ে সংসারই চলে না। এর ওপর এতো বেশি ভাড়া দেওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। তাই বাধ্য হয়ে আমরা এ পথ বেছে নিয়েছি।

রাস্তায় কোনো অসুবিধা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পথে কোনো সমস্যা হয়নি। বরং যানজট এড়ানো গেছে। আর দুই রাত যাপন করেছি পেট্রোল পাম্পে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪২ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৯, ২০১১

idrinkh2O
November 9, 2011, 02:37 PM
You can achieve anything you want in life if you have the courage to dream it, the intelligence to make a realistic plan, and the will to see that plan through to the end.

- Sidney A. Friedman
-----------------------------------------------------------------------------------------------------

আলোকিত দেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: আবুল মকসুদ (http://www.banglanews24.com/news.php?nssl=67752)

লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘আলোকিত দেশ গড়তে আলোকিত মানুষ হতে হবে। আর আলোকিত দেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। এ জাতির একমাত্র ভরসা তরুণরা। প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হবে। সাধনা করতে হবে, ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তরুণরাই একদিন এই দেশ পরিচালনা করবে।’

idrinkh2O
November 9, 2011, 02:41 PM
Some of my favorite quotes! (http://conal.net/quotes.htm)

nakedzero
November 10, 2011, 02:48 AM
Where there's a will, there's a way!
--------------------------------------------------------------------------------------------------

নাড়ির টানে বাইসাইকেলে ঢাকা থেকে নীলফামারী (http://www.banglanews24.com/news.php?nssl=67783)
নুর আলম, জেলা সংবাদদাতা

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011November/SM/Nilphamari20111109220410.jpg

দুই সহোদর বাড়িতে ঈদ উদযাপন ইচ্ছা পোষণ করলেও কাল হয়ে দাঁড়ায় গাড়ি ভাড়া। দুজনের নীলফামারী আসতে ভাড়ার টাকা লাগে দেড় হাজার। কিন্তু তাদের সে সামর্থ্য ছিল না। তবে অর্থসঙ্কট দুই সহোদরের বাড়ি ফেরার ইচ্ছাকে দমাতে পারেনি। তাদের সঙ্গে থাকা একটি বাইসাইকেলেই ঢাকার রামপুরা থেকে ৫ নভেম্বর রাত ৮টায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন দুই ভাই।

রাস্তায় পালা করে তারা ৩৩ ঘণ্টা বাইসাইকেল চালিয়ে ঈদের দিন ভোর ৫টায় বাড়িতে পৌঁছেন তারা।

:notworthy: Speechless! Chokh a pani ashar moto, manush er je koto koshto!

Rabz
November 10, 2011, 04:39 AM
^^ Speechless !!
Hats off to them.

mufi_02
November 10, 2011, 09:30 AM
Heart-touching stuff. Nilfamari is very far and I was surprised to see that it costs Tk.1500 to get there

Ajfar
November 10, 2011, 09:34 AM
Where there's a will, there's a way!
--------------------------------------------------------------------------------------------------

নাড়ির টানে বাইসাইকেলে ঢাকা থেকে নীলফামারী (http://www.banglanews24.com/news.php?nssl=67783)
নুর আলম, জেলা সংবাদদাতা

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011November/SM/Nilphamari20111109220410.jpg



Wow. talk about determination :up::up:

nakedzero
November 10, 2011, 09:38 AM
Heart-touching stuff. Nilfamari is very far and I was surprised to see that it costs Tk.1500 to get there

Probably they meant 1500 tk for two persons and both way fare.

mufi_02
November 10, 2011, 09:48 AM
Ok yes that makes sense. Its still a lot for them. I wish I could do something for my people one day.

idrinkh2O
November 10, 2011, 10:54 AM
‘আমার লগে যতক্ষণ আছিল, হে বাঁইচা আছিল’ (http://www.banglanews24.com/news.php?nssl=67808)
ফজলুল বারী, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011November/SM/nnnnn20111110122858.jpg

তখন বিচিন্তা’য়। রিপোর্টিংয়ে নতুন। রাজপথ রিপোর্টিংয়ের সব গ্রামারও জানা নেই। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনরত দলগুলোর ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে টান টান উত্তেজনা চারদিকে। ঢাকা অবরোধের পর কী? কেউ তখনও কিছুই বলছে না।

এর আগে ‘এরশাদের অধীনে যে নির্বাচনে যাবে সে হবে `জাতীয় বেঈমান’ এই ঘোষণা দিয়ে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে গেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির নির্বাচনে যাবার কথা থাকলেও নারায়ণগঞ্জের মতো শেষ মুহূর্তে যায়নি। এ নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পনের দল (কার্যত সেটি তখন ৮ দলীয় জোট), বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সাত দলের মাঝে প্রায়ই কাইজ্যা লাগে। সেই কাইজ্যাকে কেন্দ্র করে আরামে নিজস্ব শাসনকে দীর্ঘ করে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার। আন্দোলনের পাশাপাশি এই দুই জোটের কাইজ্যা থামিয়ে তাদেরকে ঘষামজা রেফারিং’র কাজ করে বামপন্থী পাঁচদল।

পাঁচদলের অন্যতম তাত্ত্বিক, তৎকালীন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা হায়দার আকবর খান রনো ভাই’র (আজকের সিপিবির নেতা) ধানমন্ডির পিত্রালয়ে প্রায় যেতাম এক্সক্লুসিভের ধান্ধায়। রিটায়ার্ড প্রকৌশলী পিতার সন্তান রনো ভাই আর তার তৎকালীন স্ত্রী হাজেরা সুলতানা তথা হাজেরা আপা প্রতিদিন সকালে মায়ের হাত থেকে রিকশা ভাড়া, হাত খরচা নিয়ে আন্দোলন তথা সাম্রাজ্যবাদের এজেন্টদের পরাস্ত করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম-মিশনে(!) বেরোন। ১০ নভেম্বর ঢাকা অবরোধের পর কী জানতে চাইলে রনো ভাই কৌশলী জবাব দিয়ে বলেন, আমরা সবাই পরীক্ষার আগের রাতে পড়াশুনা করে পাশ করা ছাত্র। কাজেই কর্মসূচি নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। সময় আর ঘটনা ঠিক করে দেবে পরবর্তী কর্মসূচি।

১০ নভেম্বর সকাল সকাল তৈরি হয়ে চলে আসি জিরো পয়েন্ট এলাকায়। আজকাল দেশে সাংবাদিকতা করতে সবার আগে নাকি একটা আইডি তথা প্রেসকার্ড লাগে! কিন্তু পকেটে তেমন কিছু নেই বা কর্তৃপক্ষ তখনো ওসব ছাপেওনি। সচিবালয়ের চারপাশ ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্বৈরাচারী বাহিনী। এর আগে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সচিবালয় ঘেরাও’র এক কর্মসূচির দিন দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিল সচিবালয়ের। এরপর থেকে যে কোন কর্মসূচির আগে সচিবালয়ের দেয়াল রক্ষা যেন এরশাদের মূল টার্গেট! সচিবালয়ের দেয়াল থাকলেই যেন তার গদি-পিঠ নিরাপদ থাকে!

সেই সকালে জিরো পয়েন্ট এলাকাতেই নূর হোসেনের সঙ্গে প্রথম দেখা। তখনও তার নাম-সাকিন কারও জানা নেই। তামাটে পেটানো শরীর। খালি গা। পুরনো জিন্সের একটা প্যান্ট পরনে। খালি পা। বুকে ‘স্বৈরাচার নীপাত যাক’, বুকে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা (নিপাত বানানটি ‘নীপাত’ লেখা ছিল তার পিঠে)। এমনই এক জীবন্ত রাজপথের পোস্টার হয়ে মিছিলে এসেছিলেন যুবক। রোদের অক্ষরে লেখা নামে। ঢাকার কোন মিছিলে এর আগে এমন আর কাউকে দেখার অভিজ্ঞতা নেই। তাই সারা সময় সবার চোখে চোখে নূর হোসেন! নূর হোসেন! সারাক্ষণ তাকে দেখায় ভীষন অস্থির ব্যস্ত।

এই জিরো পয়েন্টেতো একটু পরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’র আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে! একটু পরেই হয়তো গোলাপশাহ’র মাজারের কাছে। একসময় শেখ হাসিনা পৌঁছেন সেখানে। তিনি তখন বিরোধীদলের নেত্রী। তার গাড়িকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মিছিল স্লোগান মুখরিত। নূর হোসেনও সেখানে! তাকে মাথায় হাত বুলিয়ে জামা পরতে বলেন শেখ হাসিনা। সতর্ক করে বলেন নইলে স্বৈরাচার বাহিনী তাকে টার্গেট করে গুলি চালাতে পারে। কিন্তু শোনেননি নূর হোসেন। উল্টো শেখ হাসিনাকে বলেন, না আপা স্বৈরাচাররে যাইতেই অইব আইজ!

এর কিছু সময়ের মধ্যে টিয়ারগ্যাস ছুঁড়তে ছুঁড়তে জনতার ওপর হামলা শুরু করে স্বৈরাচার বাহনী। লাঠিচার্যে ছত্রভঙ্গ করে দেয় মিছিল। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে জনতার সঙ্গে চলে যাই বায়তুল মোকাররম এলাকায়। জার্নালিজমে নতুন হওয়াতে ভুলটি হয় সেখানেই। ফটোসাংবাদিকরা সাধারণত পুলিশ বেস্টনির আশেপাশে থাকেন। কিন্তু তরুণ একজন ক্যামেরা হাতে তাদের সঙ্গে দৌড়াচ্ছে দেখে আন্দোলনের কর্মীরা সন্দেহ করে। কিছু শোনার আগে কয়েকজন ধরে ক্যামেরা থেকে কেড়ে নেয় ফিল্ম। এভাবে পিঠ বাঁচলেও থামে না চোখ ভরে আসা জলের কান্না! কারণ নূর হোসেনের অনেক ছবি তোলা হয়েছিল সে ক্যামেরায়। ফিল্মটি যাবার সঙ্গে সব যায়।

পরের দিনের পত্রিকায় এক ছবি দেখে শুরু হয় নতুন অনুসন্ধান। গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে রিকশায় টেনে তুলছেন এক কিশোর। সে কিশোরকে খুঁজে বের করার টার্গেট হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির তৎকালীন যুবনেতা নুরুল ইসলাম ছোটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে এ মিশনটিও সহজ হয়ে যায়। ছোটন ভাই জানান ছেলেটির নাম সুমন। ক্লাস এইটে পড়ে। তাদেরই ছাত্র সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়ন করে’এমন একজনের ছোটভাই। খিলগাঁও’র তিলপাপাড়ায় বাসা।

সুমনের সন্ধানে প্রথমে গোড়ানে ছোটন ভাই’র বাসায়। সেখান থেকে তিলপা পাড়ায় সুমনদের বাসায়। গোলাপশাহ মাজার এলাকার রাস্তায় কাটা মুরগির মতো কাতরাচ্ছিলেন গুলিবিদ্ধ নূর হোসেন। একটা রিকশা ডেকে তাকে সেটিতে টেনে তুলেন সুমন। তাকে টেনে তুলতে তার কষ্ট হচ্ছিল। রিকশা চালক সাহায্য করেন। এরপর চালক ছুটে চলা শুরু করেন ঢাকা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সির উদ্দেশে। নূর হোসেনের রক্তে ভিজে আসে সুমনের সারা শরীর । এই যুবকই যে নূর হোসেন তা সুমন তখনও জানেন না। পরের দিন পত্রিকায় তার সঙ্গে ছবি দেখে তিনি জেনেছেন।

নূর হোসেন কী কিছু বলছিলেন তখন? মাথা নাড়েন সুমন। হ্যাঁ বলছিলেন। বিড়বিড় করে বলছিলেন, `আমার কিছু অয় নাই। স্বৈরাচাররে আইজ যাইতেই অইব।` ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সিতে পৌঁছবার আগেই রিকশার পথ আটকে গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। সুমনকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। বন্দুক উঁচিয়ে গুলি করার ভয় দেখায়। এরপর কিশোর সেখান থেকে চলে আসে। ‘আমার লগে যতক্ষণ আছিল, হে বাঁইচা আছিল। পুলিশ নিয়া যাওয়ার পর আর কিচ্চু জানিনা’ বলতে বলতে তার চোখ অশ্রু সজল হয়। সুমনের বক্তব্যের পর খটকা লাগে মনে। গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে কী কোনও চিকিৎসা দেবার চেষ্টা করেছে স্বৈরাচারের পুলিশ? না অপেক্ষা করেছে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার?

এমন এক প্রত্যক্ষদর্শীর জবানিতে গণতন্ত্রের অমর শহীদের শেষ কথাগুলোর সেটিই ছিল প্রথম মিডিয়া রিপোর্ট। আজকের মতো এত পত্রিকা তখন ছিল না। দৈনিক পত্রিকাগুলো সমঝে চলত এরশাদকে। নূর হোসেনের শেষ কথা ছিল, `স্বৈরাচাররে আইজ যাইতেই অইব।`। কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজনে স্বৈরাচার তখনই যায়নি। লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে চুপিসারে শহীদ নূর হোসেনকে গোড়ান গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। সে গোরস্থানে একদিন গিয়ে দেখা যায় পুলিশের পাহারা। সেখানে কাছাকাছি কাউকে যেতে দেয় না পুলিশ। ১৯৮৭’র ১০ নভেম্বরের কিছু পরেই কোরবানির ঈদের ছুটি হয়ে যায়। বাংলাদেশে ঈদের ছুটি মানে আন্দোলনের ছুটি। সরকারের স্বস্তির সময়। এসব নিয়ে বিচিন্তায় ছাপা রিপোর্টের শিরোনাম ছিল, ‘গোড়ানে বিরোধীদলের লাশ, রেফারির ভূমিকায় পাঁচদল এবং আন্দোলনের ঈদ ভ্যাকেশন’।

শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে অনুসন্ধান চলতে থাকে। পুরনো ঢাকার বনগ্রামের বাড়ি খুঁজে তার পিতার ইন্টারভ্যু করে জানার চেষ্টা করি নূর হোসেনের জীবন। যুবক ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশুনা করেছিলেন। বনগ্রামের ছোট ঘুঁপচির মতো ঘরটিতে গাদাগাদি করে পরিবারটি থাকত। ছোট চৌকির ওপরে নিচে পরিবারের সদস্যরা ঘুমাতেন। যুবলীগের সদস্য নূর হোসেনের স্থায়ী কোন চাকরি ছিল না। কোনও কাজ পেলে পরিবারকে সহায়তা করতেন। নূর হোসেন শহীদ হবার পর তার ভাই আলী হোসেনকে নিজের গাড়ি চালকের কাজ দেন শেখ হাসিনা। এরপর পরিবারটির অর্থনেতিক অবস্থা কিছুটা বদলাতে থাকে ।

এরশাদের পতনের পর সাপ্তাহিক প্রিয় প্রজন্ম বেরুলে সেখানে কাজ শুরু করেন একঝাঁক নতুন সাংবাদিক। ১৯৯২ সালের নভেম্বরে প্রিয় প্রজন্মের প্রথম সংখ্যায় এক্সক্লুসিভ ইন্টারভ্যু ছাপা হয় সেই শিল্পীর। যিনি নূর হোসেনের বুকে পিঠে কালজয়ী কবিতার সেই কথাগুলো লিখে দিয়েছিলেন, “স্বৈরাচার নিপাক যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক”। বঙ্গবন্ধু’র অমর কবিতা “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এরপর এমন কালজয়ী কবিতা আর কেউ কী কখনো লিখেছে?

স্বৈরাচারীর জমানায় চুপচাপ থাকা সেই সাইনবোর্ডশিল্পীক খুঁজে বের করে ইন্টারভ্যুটি করেন পল্লব মোহাইমেন। এরপর শিল্পীকে প্রিয় প্রজন্ম অফিসে চায়ের দাওয়াতে ডেকে এনে মূল প্রশ্ন ছিল একটাই, নূর হোসেনের বুকে লেখা স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এর নিপাত বানানটি কেন ভুল লেখা হয়েছিল? জবাবে শিল্পী বলেন তার সাইনবোর্ডের দোকানের লাগোয়া দেয়ালে নিপাত বানানটি নূর হোসেন যেভাবে লিখে দিয়েছিলেন, রংতুলিতে সেভাবে তিনি লিখেছেন।

ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশুনা করা নূর হোসেন বানানটি ভুল লিখতেই পারেন। কিন্তু লক্ষ্য তথা স্বৈরাচারের পতনের শপথে তার কোনও ভুল ছিল না। ভুল করেছেন তারা। যারা বানান শুদ্ধ লিখতে পারার দাবি করেন আর শর্টকাট রাজনৈতিক ক্ষমতায় যাওয়া-থাকার লোভে পতিত স্বৈরাচারকে টেনে নেন বুকে। চারদলীয় জোটের অন্যতম রূপকার সেই স্বৈরাচারী এরশাদ এখন মহাজোটের নেতা! তাকে সঙ্গে রেখেই এবার দলের সকল ইউনিটকে নূর হোসেন দিবস পালনের আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম!

নূর হোসেন রিপোর্টিং’এর আরেকটি তথ্য। নূর হোসেনের ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা পিঠের ছবিটি পাভেল রহমানের হলেও বুকের ছবিটি কিন্তু সৌখিন আলোকচিত্রী দিনু আলমের। ইশ্বরদীর যুবক দিনু আলম এখন কানাডায় থাকেন। সৌখিন আলোকচিত্রীরা অনেক সময় তাদের তোলা এক্সক্লুসিভ ছবি প্রকাশের জন্য মিডিয়াকে দেন। মিডিয়ার কেউ কেউ পরে সেটিকে দাবি করেন নিজের ছবি বলে। নূর হোসেনের ছবিকে কেন্দ্র করে তেমন একটি ঘটনার আমি নিজে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী।

idrinkh2O
November 11, 2011, 05:20 PM
ড. ইউনূসের বইটি ঘুরে এল মহাকাশ (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-12/news/200288)
শওকত হোসেন, ভিয়েনা থেকে | তারিখ: ১২-১১-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2011-11-11-17-38-02-062940000-6.jpg
ভিয়েনায় সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনে নাসার নভোচারী রন গারেনের সঙ্গে ড. ইউনূস

ছবি: নাসির আলী মামুন
নাসার নভোচারী রন গারান ছয় মাস মহাকাশে থেকে পৃথিবীতে নেমেছেন গত ২২ এপ্রিল। স্পেস স্টেশনে থাকার সময়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে এসেছিলেন তিনি ভিয়েনায়। বড় পর্দায় সেটি দেখানো হলো।
পৃথিবীটাকে রন দেখেছেন অবশ্য একটু ভিন্নভাবে। ওপর থেকে তোলা অনেকগুলো দেশ দেখালেন রন। সঙ্গে বর্ণনা দিলেন পৃথিবীজুড়ে থাকা নানা সমস্যার কথা। মিলনায়তনভর্তি মানুষ পিনপতন নীরবতায় তাঁর কথা শুনলেন।

তবে রন গারান আসল চমকটি দিলেন শেষ মুহূর্তে। স্পেসশিপের যে জানালা দিয়ে সারা বিশ্ব দেখেছেন, দেখা গেল সেখানে একটা বই রাখা। বইটার নাম ক্রিয়েটিং এ ওয়ার্ল্ড উইদাউট পোভার্টি। সে বইটিই উপহার দিলেন তিনি বইটির লেখক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে।
বইটিতে রন গারান লিখলেন: ‘এই ভঙ্গুর পৃথিবীর মানুষের জন্য আপনি যা করেছেন, সে জন্য আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। এ বইটি আমার সঙ্গে স্পেস স্টেশন মিশনে ভ্রমণ করেছে। বইটি পৃথিবীর কক্ষপথে দুই হাজার ৬২৪ বার পরিভ্রমণ করেছে। ঘণ্টায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল বেগে বইটি গেছে ছয় কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ মাইল।’ এরপর রন সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টায় নিজের সমর্থন জানালেন।

রন গারান ছিলেন তৃতীয় সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনের গণবক্তৃতা পর্বের অন্যতম বক্তা। প্রথম দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ভিয়েনা সময় রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় রাত একটা) কংগ্রেস সেন্টারে এ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। রন ছাড়াও বক্তা ছিলেন জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) অ্যাডভোকেট, ইউএনটিআইডির প্রধান ফিলিপ ডউসে-ব্লেজি এবং অধ্যাপক ইউনূস। এ পর্বটি ছিল উন্মুক্ত। ভিয়েনার অনেকেই এসেছিলেন কথা শুনতে।

শুরুতেই ফিলিপ ডউসে-ব্লেজি এইডস-পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। সতর্ক করেন সবাইকে। একই সঙ্গে তিনি দারিদ্র্য দূর করা এবং এমডিজি পূরণ নিয়ে কথা বলেন। এর পরই বক্তব্য দেন রন গারান।
অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তৃতায় গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। সামাজিক ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বড় ধরনের সামাজিক ব্যবসা করা সম্ভব। তিনি বলেন, গল্পের আলাদিনের সেই দৈত্য এখন সবার হাতের মধ্যে। আলাদিনের প্রদীপের দৈত্য আসত হাতের স্পর্শে। এখনকার দৈত্যও আসে হাতের স্পর্শে। এখনকার দৈত্যের নাম ইন্টারনেট সংযোগসহ মোবাইল ফোন।

ড. ইউনূস বলেন, মোবাইল ফোনকে শুধু অর্থ আয়ের উপকরণ না ভেবে এর মাধ্যমে অনেক সমস্যা সমাধানের কথা ভাবতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে একজন গর্ভবতী মা জানতে পারবেন, তাঁর সন্তান জন্ম দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে কি না।
চার দিনের এ সম্মেলনে মূল পর্ব দুই দিনের। গতকাল শুক্রবার ছিল সম্মেলনের মূল পর্বের দ্বিতীয় দিন। দিনের শুরুতে এরই মধ্যে সামাজিক ব্যবসায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন কোম্পানি তাদের সাফল্য ও প্রকল্পের বর্ণনা দেয়। কোম্পানিগুলো হলো: ইন্টেল, ভিওলিয়া, মাম্মু, ভিলেজ বুম, বিএএসএফ, গুড বি এবং গ্রামীণ ক্রিয়েটিভ ক্লাব। এই পর্বে হলিউড তারকা হিউ জ্যাকম্যান একটি ভিডিওবার্তার মাধ্যমে সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন।

ড. ইউনূস এরপর জানান কীভাবে এই হলিউড তারকা তাঁকে খুঁজে বের করে তাঁর কাজের সঙ্গী হতে চেয়েছেন। হিউ জ্যাকম্যানের বাবা বিশ্বব্যাংকে কাজ করতেন। তিনিই পড়তে দিয়েছিলেন ড. ইউনূসের বই ব্যাংকার্স টু দ্য পুওর। সেই বই পড়ে হিউ জ্যাকম্যান অনুসারী হন অধ্যাপক ইউনূসের।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুটি প্যানেল আলোচনা। যেমন: সামাজিক ব্যবসা ও বিশ্বায়ন এবং সামাজিক ব্যবসার জন্য সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক কাঠামো।
-------------------------------------------

Expand social business with the help of IT (http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=209808)
Prof Yunus tells Vienna Summit

http://www.thedailystar.net/photo/2011/11/12/2011-11-12__front01.jpg
Nobel Laureate Prof Muhammad Yunus holds his book Creating a World Without Poverty while posing with Nasa astronaut Ronald John Garan at the Global Social Business Summit in Vienna yesterday. The book has travelled 6,53,37,600 miles in the space with Garan. Photo: Nasir Ali Mamun

Shawkat Hossain from Vienna Nobel laureate Prof Muhammad Yunus yesterday said information technology should be used to expand social business.

He made the observation in a public speech at the third Global Social Business Summit in Vienna, Austria.

Prof Yunus also emphasised social business and urged different companies to come forward in this respect.

“Nowadays everybody holds the genie of Aladdin in his hand. In the story, the genie emerges with the touch of the hand… The genie is the cell phone having internet connection,” said Dr Yunus.

Citing an example, he noted that a cell phone enables a pregnant woman to know about the condition of her unborn child only by answering some questions through it.

“The cell phone should not be considered only as a medium of income but an opportunity to solve many problems,” said Prof Yunus.

Nasa astronaut Ronald John Garan, who returned to earth last April after a six-month stay in space, also expressed his support for social business during his speech.

“I extend my thanks to you [Yunus] for what you have done for the people of this fragile world. This book has travelled with me on the space mission. It rotated around the axis of the earth 2,624 times. The book has travelled 6,53,37,600 miles at a pace of 17,500 miles per hour,” Ronald wrote in the book before presenting it to its writer Prof Yunus.

The activities on the second day of the conference were followed by the presentation of success stories and projects of different companies involved in social business.

The companies are Intel, Violia, Mammu, Village Boom, BASF, Good B and Grameen Creative Club.

The presentation was followed by a video message sent by Hollywood star Hugh Jackman wishing the conference a success.

Prof Yunus also explained how Jackman became a Yunus-follower after reading his book 'Banker to the Poor'.

UNTID Chief Philip Dousey Beji spoke on the occasion, focusing on poverty alleviation and Millennium Development Goal.

Two panel discussions--'Social Business and Globalization' and 'Civil Society and Political Structure for Social Business'--were included on the second day's schedule of the summit.

idrinkh2O
November 11, 2011, 05:24 PM
রঙিন শিমে রাঙা জীবন (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-12/news/200284)
শাহ আলম, চুয়াডাঙ্গা | তারিখ: ১২-১১-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2011-11-11-17-35-18-003470300-5.jpg
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুকিয়া চাঁদপুুর গ্রামে একটি খেত থেকে শিম তোলায় ব্যস্ত নারী-পুরুষ

শীতকালে আমাদের দেশে হরেক রকম সবজি মেলে। এর মধ্যে অন্যতম শিম। মোটামুটি সবার কাছেই সবজি হিসেবে শিমের বেশ কদর রয়েছে। গ্রামবাংলার অনেক বাড়িতে শিম চাষ করে মূলত পরিবারের চাহিদা মেটানো হয়। তবে অনেক এলাকায় শিমের বাণিজ্যিক চাষও হয়।

বাণিজ্যিক শিম চাষের একটি গ্রাম হলো চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুকিয়া চাঁদপুর। এই গ্রামে শিমের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয় বছর পনেরো আগে আশরাফুল হকের হাত ধরে। এরপর তা পুরো গ্রাম হয়ে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

একসময় এই গ্রামের কৃষকদের চাষাবাদ চলত প্রকৃতির খেয়ালের ওপর নির্ভর করে। ঠিকমতো তিন বেলা খাবার জুটত না অনেকের। পরিকল্পিত পদ্ধতিতে রঙিন শিম (পারফুল কালার জাতের) চাষ করে তাঁরা এখন ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। অভাবকে জয় করেছেন। রঙিন শিমে জীবন রাঙিয়েছেন।
যেভাবে শুরু: কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আশরাফুল। নিজের তিন বিঘা জমিতে ধান-পাটসহ প্রচলিত ফসল আবাদ করতেন তিনি। এসব ফসলে কখনো কিছুটা লাভ হতো, কখনো খরচের টাকাই উঠত না। ঘটনাক্রমে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, যশোরের একজন কর্মকর্তার। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই একদিন যশোরের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে যান আশরাফুল। সেখানে রঙিন শিম চাষের পরীক্ষামূলক এক খণ্ড জমি তাঁর দৃষ্টি কাড়ে। পরে ওই কর্মকর্তার পরামর্শে নিজের তিন বিঘা জমিতেই পরিকল্পিত পদ্ধতিতে রঙিন শিম চাষ করেন। সেই শিমগাছে ফুল আসে, কিছুদিন পর থোকায় থোকায় শিম ধরে। সেই শিম দেখে আশরাফুল বিশ্বাস করতে শুরু করেন, চাষাবাদ করে লোকসানের দিন এবার শেষ হবে।

প্রথম বছর শিম চাষে আশরাফুলের খরচ হয় মাত্র ১৫ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাভ হয় ৭৫ হাজার টাকা। এ সাফল্য দেখে পরের বছর স্থানীয় স্কুলশিক্ষক গৌতম চন্দ্র সাহাও শিম চাষ করলেন। তিনিও সফল হলেন। ধীরে ধীরে গ্রামজুড়ে কৃষকেরা শিম চাষে ঝুঁকে পড়েন। এখন এই গ্রামের অন্তত দুই শ পরিবার সরাসরি শিম চাষের সঙ্গে জড়িত। পরোক্ষভাবে জড়িত আরও অনেকে।
শিমের গ্রামে এক দিন: উপজেলা সদর থেকে পাকা, আধা পাকা ও কাঁচা রাস্তা মিলিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে যেতে হয় কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামে। গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে সড়কের দুই পাশে রঙিন শিমের অসংখ্য মাচা। সাদা ও বেগুনি রঙের ফুল আর থোকায় থোকায় রঙিন শিম দেখে মন জুড়িয়ে যায়। সবুজ, বেগুনি ও লাল রঙের সংমিশ্রিত এই শিম স্থানীয়ভাবে ‘রঙিন রূপবান’ বলে পরিচিত। অসংখ্য ফুলে ভরা মাচায় মাঝে মাঝে বাতাস লেগে ঢেউ খেলে যায়। অসাধারণ এই দৃশ্য দেখে প্রাণোচ্ছল অনেকেই গেয়ে ওঠেন জনপ্রিয় সেই গানের কলি ‘রূপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া’।

গ্রামে ঢুকে দেখা গেল, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও দল বেঁধে শিমখেতে কাজ করছে। কেউ শিম তুলছে। কেউ সেই শিম ঝুড়িতে করে রাস্তার পাশে জড়ো করছে। সেখানেই এগুলো বস্তায় ভরা হচ্ছে বিক্রির জন্য। গ্রামজুড়ে প্রায় দুই মাস ধরে চলছে এই কর্মযজ্ঞ। এই গ্রাম থেকে প্রতিদিন এক ট্রাক করে শিম ঢাকায় পাঠানো হয়। গ্রামবাসী জানান, আরও প্রায় আড়াই মাস এই কর্মচাঞ্চল্য থাকবে।
কথা হলো সেই আশরাফুলের সঙ্গেও। তিনি জানালেন, চারা রোপণের সময় আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় চলতি বছরে তিনি দুই বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছেন। মে মাসের প্রথম দিকে চারা রোপণ করে আগস্ট মাস থেকে শিম তোলা শুরু করেন। গত ঈদের আগে ঢাকার বাজারে তিনি প্রতি কেজি শিম ১২২ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। সর্বশেষ বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ৫৫ টাকা দরে। আশা করছেন, এ বছরও তিনি খরচ বাদে দুই লাখ টাকা লাভ করবেন।

দিন বদলিয়েছেন তাঁরা: কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামের একসময়ের ভূমিহীন দিনমজুর শহিদুল ইসলাম। সাত বছর আগেও অন্যের জমিতে ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনোরকমে দিন কাটাতেন। তিন বেলা ঠিকমতো খাবারও জুটত না। সেই শহিদুলই এখন সফল শিমচাষিদের একজন।

শহিদুলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, আশরাফুলের কাছে পরামর্শ নিয়ে তিনি এক বিঘা জমি ইজারা নেন। সেই জমিতে শিমের আবাদ শুরু করেন। প্রথম বছরই খরচ বাদে এক লাখ টাকা লাভ ঘরে তোলেন। এরপর প্রতিবছর শিমের আবাদ করছেন। শিমের লাভ থেকেই চার কাঠা জমি কিনে সেখানে আধা পাকা বাড়ি করেছেন। করেছেন শৌখিন আসবাবও।

একই গ্রামের ইদ্রিস আলী চলতি বছর আড়াই বিঘা জমিতে শিমের চাষ করেছেন। খরচ বাদে এ পর্যন্ত এক লাখ ৬০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। আরও অন্তত তিন লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। শহিদুল ও ইদ্রিসের মতোই শিম চাষ করে সানোয়ার হোসেন, রমজান আলী, আনোয়ার হোসেন, হুরমত আলী, মাহাবুল হোসেনসহ অনেকেই রঙিন শিমে ভাগ্য বদলিয়েছেন।

শিমের বাজার: স্থানীয় বাজারে শিম বিক্রি করা হয়। পাঠানো হয় ঢাকার পাইকারি বাজারেও। গ্রামের শিমচাষিরা মিলে একটি সমিতি গঠন করেছেন। এই সমিতি সম্মিলিতভাবে শিম বাজারজাত করছে। প্রতিবছরের মতো এবারও শিমের মৌসুম শুরুর পর থেকেই কুকিয়া চাঁদপুর কমিউনিটি ক্লিনিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রতিদিনই শিমের বাজার বসে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা শিম কিনতে আসেন এখানে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বেশির ভাগ শিমই এই বাজার থেকে ট্রাকে ভর্তি করে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও মিরপুরের কাঁচাবাজারের আড়তে পাঠানো হয়।

তবুও দুঃখ: শিম চাষে কুকিয়া চাঁদপুরবাসী অভাবকে জয় করলেও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের দুঃখের শেষ নেই। এই গ্রামটির চারটি সংযোগ সড়কের সব কটিই কাঁচা। সামান্য বৃষ্টি হলেই গ্রামে আর ট্রাক ঢুকতে পারে না। এমন পরিস্থিতি হলে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ গরুর গাড়ি বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থায় শিম নিয়ে পাকা সড়কে যেতে হয়। সেখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। গ্রামবাসীর দাবি, অন্তত একটি সংযোগ সড়ক দ্রুত পাকা করা হোক।

তাঁরা যা বলেন: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার উপপরিচালক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে জানান, কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামের আশরাফুল হকই এ জেলায় প্রথম পারফুল কালার শিমের আবাদ শুরু করেন, যা এখন প্রায় সারা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছর ৬৬০ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী উৎপাদিত শিমের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, আশরাফুলের নেতৃত্বে শিম চাষের যে বিপ্লব ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। এর সুফল পেতে শুরু করেছে আশপাশের এলাকার জনগণ।

Zeeshan
November 11, 2011, 05:36 PM
Love the Younis story although I think should be under Younis thread and not under idrinkblood's blog.

Zeeshan
November 14, 2011, 06:02 PM
Love the Younis story although I think should be under Younis thread and not under idrinkblood's blog.

Wanted to delete it. Please do contribute idrinkh20. This is one of my favorite thread.

bujhee kom
November 15, 2011, 06:41 PM
I also must say to IdrinkH2o bro, this is one of the greatest of threads and I really like reading it! Very Good thread!

zinatf
November 17, 2011, 01:43 AM
This story has indeed made my day...HATS OFF TO HER!!

http://opinion.bdnews24.com/2011/11/16/when-is-divorce-a-good-news-in-incidents-like-farzana%E2%80%99s/

Rabz
November 17, 2011, 02:10 AM
I've always read Idrinkh20 as
Idrin Khan 20 !!

simon
November 17, 2011, 07:08 AM
I've always read Idrinkh20 as
Idrin Khan 20 !!

me also too ,but more like Idrin K. H20 :-|

Zeeshan
November 18, 2011, 04:41 PM
This story has indeed made my day...HATS OFF TO HER!!

http://opinion.bdnews24.com/2011/11/16/when-is-divorce-a-good-news-in-incidents-like-farzana%E2%80%99s/

:up: :up:

Looks like more sugar in the sherbet for the two :facepalm: journalists... :p

It kinda deserve an unique thread for it's rarity. :)

Zeeshan
November 18, 2011, 04:49 PM
jeenaaaat ailsha ekta... :p

Afsan Chowdhury (http://opinion.bdnews24.com/columnists/afsan-chowdhury/)

When is divorce good news? In incidents like Farzana’s

November 16, 2011


http://opinion.bdnews24.com/wp-content/uploads/2011/11/IMG_8589-257x300.jpg

Photo: bdnews24.com



The recent news about a Bangladeshi woman, Farzana, who divorced her husband at the wedding ceremony after he and his family asked for dowry is a strange piece of good news for many of us. This woman showed guts and moral strength and did what millions have failed to do and many don’t do even now in other part of their life. In a world of cowards and moral collapse particularly of our social-political leadership, Farzana stands taller than them all.
Congratulations Farzana! You are the kind of people who stand up and become role model for many and remind us that this country is made up of fine people.
* * *
Farzana Yasmin, a first class graduate from Eden College and a job holder in a local company was married for a few hours to Shawkat Ali Hiron, a school headmaster in Patuakhali. At the wedding ceremony, the groom’s aunt, Tahmina Begum, demanded dowry from Farzana’s family. When the groom too supported his aunt’s demand, Farzana dumped the guy officially. She has commented that “It is below my taste to have such a person as my husband.”
Looks like more sugar in the sherbet for the two — aunt and nephew — after the humiliation by the honourable bride.
* * *
What makes this event newsworthy and unusual? Firstly, it is a divorce at the wedding ceremony. It probably will get a prize of sort for being one of the shortest weddings in history.
It is also interesting because girls rarely do initiate divorce in our culture but in this case this is what has happened.
Farzana not only divorced in such a dramatic manner but also on the grounds that the groom’s family had asked for dowry, the lubricator of so many weddings in our culture.
Each can be a narrative on its own.
* * *
The 1961 Muslim Family Law Ordinance greatly reformed social practices of Islamic law by making institutions of marriage and inheritance much better and friendlier to women. It not only introduced liberal interpretations of Islamic law but it also popularised the concept of talak-e-tafweez — or deferred right of the bride to end marriage using this right which is given by her contract by her husband.
When this law was enacted in 1962, Ayub Khan, dictator of Pakistan faced the wrath of the Pakistani mullah force and there were actual confrontations between the police and the Islam-pasand bahini including in East Pakistan. But the law has prevailed.
We in Bangladesh have also inherited this law and made it even better. While in the earlier version, various clauses were inserted for seeking this right and the right was given only if asked for, in Bangladesh this is now automatically given in the nikah-nama. We should thank activists like the late Barrister Salma Sobhan and the Ain-O-Salish Kendra and others for much of the work that has gone in making marriage laws more equitable than anywhere else in the Muslim world.
* * *
Like many, I consider divorce very hurtful for all concerned but when I look at some marriages around me, my heart longs to divorce them on their behalf.
In one case the male sleeps around with as many women ready to sleep with him and that implies many women are ready to do the same but the point is not that. The point is his wife, takes it. She is lovely in every way but he regularly humiliates her and maybe makes it up with material comforts but his actions are no secret and it hurts her. Yet the marriage if you will goes on.
The second case is about a couple whose marriage has broken down. They stay in the same house but in separate bedrooms, never see each other as they have different time schedules and do not spend time with their children together who because of the stress have both come out hugely maladjusted. When asked why they don’t divorce, the answer was, “there is no divorce in our family.”
The third case was in Canada where the woman used to be brutally abused along with her infant by the husband and ended up in hospital and ultimately the court which separated them. But she refused to divorce and her parents also supported her decision. Later she started to meet her husband again and one day he came in, stole all her papers and then divorced her.
All three cases are known to me personally and I am sure all of you will know a few cases yourselves. Divorce is horrible but like a limb cutting surgery may become essential to save the rest of the body.
* * *
Most people against any divorce or a liberal divorce environment say that it is misused and will upset society and break it apart. But bad marriages do it anyway. Nobody says that marriages or relationships should become as casual as it has become in the West but it shouldn’t be as rigid as it is in our society. It is the search for the golden mean that we should encourage, the middle point between the two extremes of super rigidity and super slack.
* * *
Dowry is a terrible practice that continues to blight our world. Although there are laws forbidding it, in reality it goes on. This is partly because there are very few Farzanas amongst us and even less people like her parents who have stood by her. It is obvious that dowry and the right to divorce are both related to vulnerabilities of women and it is not practiced in isolation. In South Asia, dowry is a social tool to take advantage of the marriage system .Where it is thought that an unmarried girl is a burden upon all and it doesn’t matter how she is married off even with large dowries to despicable males as long as she is married off.
Dowry is an indicator of social and gender vulnerability rooted in values that we nurture where a married woman however unhappy must be married to survive socially. Farzana through her action has challenged both notions.
* * *
In case the post has become a little sombre, let me end why I think Farzana may have brought us international fame by mentioning a couple of other short marriages. Here is what the net cites as the shortest marriage. It happened in Germany to a Polish couple.
“Soon after the ceremony, a 50-year-old groom decided to cut his 34 year old bride’s hair with a kitchen knife. She objected vehemently of course, and an irreconcilable screaming match ensued. Police responded and separated the pair, permanently. Both agreed to an immediate annulment and the marriage ended quickly. Total marriage time was 3 hours.”
Farzana was probably quicker and so she should be in the Guinness Book of Records for her action.
* * *
Meanwhile, let’s celebrate Farzana’s courage and her mental strength, not her divorce. It is not the break-up but the fact that she didn’t take the **** from her ‘husband’ should be applauded. She can ask for anyone’s respect and get it. Bangladesh may not have politicians, leaders and such like people who make us proud but one Farzana has made us feel much better and generates self-respect as a people.

Farzana, salute!

http://opinion.bdnews24.com/2011/11/16/when-is-divorce-a-good-news-in-incidents-like-farzana%E2%80%99s/

idrinkh2O
November 22, 2011, 04:33 PM
ভুট্টা চাষে বদলে গেছে জীবন (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-23/news/202989)
নারীমঞ্চ প্রতিবেদক | তারিখ: ২৩-১১-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2011/11/22/2011-11-22-19-18-25-4ecbf58174ca1-6.jpghttp://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2011/11/22/2011-11-22-19-18-13-4ecbf5759bd5f-5.jpg
জাহানারা বেগম

বছর তিনেক আগেও জাহানারা বেগম ছিলেন একজন দিনমজুর। দিনভর ধান কিংবা ভুট্টার খেতে কাজ করতেন, দিনশেষে মজুরি ৭০ টাকা। তবে রোজ রোজ যে কাজ জুটত, তাও নয়।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার আওলাকান্দি চরের এই নারীর জীবনটা হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু হলো ২০১০-এর শেষ দিকে কন্টাক্ট ফার্মিং বা চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর। আওলাকান্দির চরে কৃষি উপকরণ সরবরাহ করেন রুবেল হোসেন। তিনি জাহানারা বেগমের মতো নারীদের শেখালেন, কীভাবে অন্যের জমি কয়েক মাসের জন্য লিজ নিয়ে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ করতে হয়। চুক্তিটা এ রকম: মূলধন যা লাগে রুবেলই দেবেন। সঙ্গে বিনা মূল্যে সব রকম তথ্য ও পরামর্শ আর মানসম্পন্ন উপকরণ যা যা লাগে। এরপর ফলন যা-ই হোক, একটা নির্দিষ্ট দামে পুরোটা কিনেও নেবেন তিনি। অর্থাৎ ফসল তুলে বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করা কিংবা দাম উঠল কি উঠল না—এগুলো নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই।

চরের বেশির ভাগ মানুষই গরিব। চাষবাস শুরুর জন্য সামান্য যে অর্থ দরকার, সেটাও জোগাড় করা মুুশকিল। জাহানারা বেগমের আধা একর বা ৫০ শতকের মতো জমি ছিল। এর সঙ্গে আরও কিছু জমি নিলেন। রুবেলের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শুরু হলো ভুট্টার চাষ। সেবার ফলন হলো চমৎকার। সে সময় জাহানারার মতো আরও ৩০ নারী এই চুক্তিভিত্তিক ভুট্টা চাষাবাদ-প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। গত অর্থবছরেই ২ দশমিক ৩ একর জমিতে ভুট্টা ফলিয়ে জাহানারা একরপ্রতি আয় করেছেন ৩৬ হাজার টাকা। এ থেকে বিনিয়োগ বাবদ রুবেলকে ফেরত দিতে হয়েছে একরপ্রতি সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। এর পরও প্রতি একরে সাড়ে ২২ হাজার টাকা করে লাভ ছিল জাহানারার।

সব মিলিয়ে জাহানারা এখন খুশি। ছেলেমেয়েদের পড়ার খরচ নিয়ে চিন্তা নেই। ঘর পাকা করেছেন। পরিবারের সাত সদস্যের তিন বেলা খাওয়া নিয়েও সমস্যা নেই। আশপাশের নারীরাও জাহানারাকে দেখে উৎসাহিত বোধ করছেন, সকাল-বিকেল ভিড় করছেন বুদ্ধি-পরামর্শের জন্য। জাহানারার অত দিকে মন দেওয়ার সময় নেই। তাঁর চিন্তা, এই মৌসুমে আরও বেশি জমি লিজ নিয়ে ফলন বাড়াতে হবে, তাহলে উপার্জনও বাড়বে।

এই সাফল্য নিয়ে রুবেলের বক্তব্য অনেকটাই পরিষ্কার, চুক্তির বিষয়ে পুরুষ কৃষকদের চেয়ে নারীরা অনেক বেশি সিরিয়াস। তারা চুক্তি ভাঙে না। ফসলের যত্ন নেয়। সামনের বার আরও বেশি নারীকে চাষবাস বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। তাঁকে এ কাজে সহায়তা দিচ্ছে ‘সুইস কন্ট্যাক্ট’-এর বাজার উন্নয়ন প্রকল্প ‘ক্যাটালিস্ট’। বাইরের কয়েকটি দেশের উদাহরণ বিশ্লেষণ করে, চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের ধারণাটা তারাই এ দেশে এনেছে। মাঠে ফসল ফলানো থেকে শুরু করে পাইকারি পর্যায়ের ডিলার হয়ে খুচরা বাজারে বিক্রি পর্যন্ত তারা একটা সুষম কাঠামো গড়তে চায়।
এরই মধ্যে দুটো ব্যাংক এসব নারী উদ্যোক্তাকে ঋণ দেওয়ার জন্য খুঁজছে। জাহানারার মতো নারীরা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ভুট্টা ফলাতে পারবে। মৌসুম শেষে ফসল বিক্রি করে একবারে ছয় মাস পর ফেরত দিলেই চলবে।

ফলে সব মিলিয়ে ভাগ্যবদলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন বগুড়ার প্রত্যন্ত চরের উদ্যমী নারীরা।

idrinkh2O
November 22, 2011, 04:40 PM
মা এখনো বাসভাড়া দিতে চান (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-11-23/news/202990)
নারীমঞ্চ প্রতিবেদক | তারিখ: ২৩-১১-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2011/11/22/2011-11-22-19-18-37-4ecbf58d0056f-7.jpg
ফাতেমা আখতার মাহমুদা খাতুন

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2011/11/22/2011-11-22-19-18-48-4ecbf598be46e-8.jpg
১৯৮৫ সালে তোলা পরিবারের ছবি

অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। এরপর কোলে এল প্রথম সন্তান। একে একে জন্ম হলো আরও সাত সন্তানের। কিন্তু তাঁর লেখাপড়া থেমে থাকল না। স্বামীর সহযোগিতা তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করল। তাঁর স্বামী মুহাম্মদ আবদুর শাকুর ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনিও পেশা হিসেবে বেছে নিলেন শিক্ষকতা পেশাকে। একটা অদ্ভুত মিল রয়েছে এই পরিবারে। মা-বাবার আট সন্তানের মধ্যে সাতজনই শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। বলছিলাম ময়মনসিংহ মুসলিম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাতেমা আখতার মাহমুদা খাতুনের কথা।

মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘সফল মা হলে কষ্টের দিনগুলোর কথা মনে থাকে না। এখন মাঝেমধ্যে ভাবি, কীভাবে এত দূর এসেছি। প্রতিষ্ঠিত সন্তানের মা হওয়ার অনুভূতিই আসলে অন্য রকম। আমার স্বামী ও আমি সহনশীল প্রকৃতির। যেকোনো সমস্যা হলে দুজন মিলে মোকাবিলা করেছি। আমার সন্তানেরা মেধাবী ছিল। এ জন্য তাদের কোনো গৃহশিক্ষক দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। কোনো সমস্যা হলে ওরা বাবার কাছে দেখিয়ে নিত। কখনো কখনো আমিও পড়াতাম। সন্তানেরা কোনো আবদার করত না আমাদের কাছে। সাধ্যের মধ্যে তাদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করেছি। সন্তানদের সব ধরনের দেখভাল আমাকেই করতে হতো। তবে আমার স্বামী সব সময় সমর্থন দিয়েছেন। তা না হলে হয়তো এতগুলো সন্তানকে মানুষ করতে পারতাম না। সন্তান হিসেবে ওরাও নিজেরা চেষ্টা করেছে। বিয়ের আগে আমার বাবা, আর বিয়ের পরে শাশুড়ি খুব সহযোগিতা করেছেন। যেহেতু আমরা দুজনই কর্মজীবী ছিলাম। আমার অবর্তমানে শাশুড়িই ওদের দেখাশোনা করতেন।’

মাহমুদা খাতুনের বড় ছেলে মাহমুদ হাসান বর্তমানে ইংল্যান্ডে নিউক্যাসলে নর্থ হ্যামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক ছিলেন।

কথা হয় দ্বিতীয় ছেলে তানভীর হাসানের সঙ্গে। তিনি বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। বললেন, ‘আমাদের সব বিষয়ে মা তদারক করতেন। বড় ভাইবোনেরা ছোটদের পড়া দেখিয়ে দিতেন। কখনো কোনো সমস্যা হলে মা-বাবা আমাদের বুঝতে দেননি। যেমন ভালোবাসতেন, তেমন শাসন করতেন তিনি। মনে আছে, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মায়ের সেলাই করা কাপড় পরেছি। এখনো মা শীতে উলের সোয়েটার তৈরি করে পাঠান। সব সন্তানের কাছে মা অনেক গর্বের। কিন্তু আমাদের মা একজন সফল মানুষ, সফল মা। এই অনুভূতি যে কী রকম, তা বোঝানো যাবে না। মজার বিষয় হলো, মা এখনো আমাদের ছোট ভাবেন। ময়মনসিংহে বেড়াতে গেলে ফেরার সময় জিজ্ঞাসা করেন, বাসভাড়া আছে কি না। এমন মায়ের সন্তান হতে পারা সৌভাগ্যের ব্যাপার।’

ছোট ছেলে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।

মাহমুদা খাতুনের বড় মেয়ে দিলআফরোজ মাহবুবা, দ্বিতীয় মেয়ে শরীফা সুলতানা—দুজনই শিক্ষকতা পেশায় আছেন।

তৃতীয় মেয়ে শামীমা সুলতানা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ।

আরেক মেয়ে শাহীদা সুলতানা কলেজে অধ্যাপনা করছেন।

ছোট মেয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

ফাতেমা আখতার মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘কর্মজীবন থেকে অবসর নিয়েছি প্রায় ১১ বছর আগে। চার বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছি। কিন্তু এ রোগ শরীরকে কাবু করলেও মনকে কাবু করতে পারেনি। ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনি নিয়ে অনেক ভালো আছি। নাতি-নাতনিরাও সবাই মেধাবী। সব মিলিয়ে মনে হয়, জীবনটা আসলে সুখের।’

Naimul_Hd
November 22, 2011, 09:45 PM
^ salute to her.

nakedzero
November 26, 2011, 12:42 PM
http://www.amarblog.com/sites/default/files/resize/%20images/snapshot20111125071119-340x365.jpg

[বাংলা]৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ । ভারত আক্রমণ করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে তুমুল গতি দেয় পাকিস্তান। আর ১৩ দিন পরই মিত্রবাহিনীর হাতে ঢাকার পতন, স্বাধীন হয়ে যায় বাংলাদেশ। একই দিন আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। প্যারিসের অর্লি বিমানবন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের একটি বোয়িংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন জাঁ ক্যুয়ে নামে এক ফরাসি যুবক। না, টাকা-পয়সা কিছু দাবি করেননি। অবিলম্বে ২০ টন মেডিকেল সামগ্রী ও রিলিফ প্লেনটিতে তোলা না হলে এটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। আর সেগুলোর গন্তব্য হবে পূর্ব পাকিস্তান। স্বাধীনতার জন্য লড়তে থাকা বাংলাদেশে।[/বাংলা]

<iframe width="420" height="315" src="http://www.youtube.com/embed/0Un0o9cD34M" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>


[বাংলা]ফুটেজের ধারাবর্ণনার ইংরেজী অনুবাদ:[/বাংলা]


"This young 28 year old boy has spent the night in jail. He is called Jean Quai and is an old OAS who has fought then in Biafra and in Yemen and he wanted to be an help to bengali refugees. That is the reason why yesterday, during 8 hours, he has immobilized a pakistani Boeing. I figure out that some among you have followed this lets call it extraordinary, suspense the whole afternoon, due to the direct cameras of Jean Claude Ditierre et d'Armand Vande, and, i must add it was itself an event, because for the first time, the television did present directly an event in a continue way, same as till now the radio channels.

Anyway, to come back to this very surprizing adventure of yesterday, Hervé Chabalier has remade the film of what occured yesterday afternoon. It was at the time 17h05, moment where Chabalier will begin his story, and it had been 6 hours while the Boeing 720 had been immobilized in Orly airport. Since 11h50, the young air terrorist threatened the cockpit pilot with his weapon, a gun. He is eager to 20 metric ton of medicine, for the bengali population, or else he "is to be blast the whole plane". 17h15 the french authorities accept the conditions of Janquet, the first medicines have already landed in Orly airport, the terrorist accept than 8 passengers, a child among them, leave the plane.

These passengers, that you can see now, will be directly transported to Paris : the journalists won't be able to reach them. On the runway, the loading of medicine begins. Anti ear infection, powder milk essentialy. 19 hour a second truck full of medicine park near the plane. But this time, the warehousmen are disguised cops. This man who dirigate the conductor of the truck, on the right of your screen, will arrest in a few time the air pirat. Ideed the disguised policemen transport into the cockpit boxes of penicillin and take advantage of a moment of unawareness of the air pilot in order to belt him and master him.

The last passengers leave the plane, go down the gangway steps hurriedly, Janquet is carried in ambulance till Orly's police office, where he is given a first questioning. The crew go back to the air terminal, few minutes later there are the very first testimonies of passengers and policemen in front of the information cameras (Mr Peyresaube):"The young man, who looked about 24 years old, has given to the hostess, stewards and us the right to take some dinner" (Journalist):" And what was his behaviour toward you, has he diriged his gun toward you?" "Absolutely not, he was excessively full of amability, very nice" (Journalist)"Did he spoke to you?" (Mr Peyresaubes)"Oh yes he did, yes yes" (Journalist):"What did he said to you? (Mr Peyresaubes): "He said to us it was to give medicine, that we shouldnt be worried, and he has placed in the back of the plane a little girl with her mother, and then we when met the people who were carrying medicine, he has allowed to leave the old men,

" (Antoine Siblo, police officer): "We have taken advantage of an inattention moment of the boy, and because I was the closest from him, we reached him in hurry, he was surprized naturally (Jounalist)"I already know" (Antoine Siblo)"And in a reflex he pointed out his gun, myself to avoid the shoot i left in a hurry, and the bullet reached the pullover and the blazer made in setton" (Jounalist):"You were dressed up like bagagists, does the crew thought once that you all were policemen?" (Antoine Siblo):"No, I don't think so, at no time" (Journalist):"What concerns the medicins, they were instantanely carried out of the plane, and transported to Paris, but in fact it is only a transit." (Marquis (aristocrat title)of Agosti from the Malta order) " These medicine were all on the order of Malta, they are all here, and we will..."

(Journalist)"What will you do of these, now" (D'Agoste)" We will, well we will carried them out to the order of Malta order, and make them land to Pakistan too, because they were themselves supposed to reach Pakistan ! ".


READ MORE (http://www.amarblog.com/omipial/posts/140162)

idrinkh2O
November 30, 2011, 08:32 PM
interesting story...

নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ
উবাস্তে ইয়ামা (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-12-01/news/205482)
হুমায়ূন আহমেদ | তারিখ: ০১-১২-২০১১

‘উবাস্তে’র অর্থ ময়লা, ইংরেজিতে গারবেজ। ‘ইয়ামা’ শব্দের অর্থ পর্বত। জাপানি এই শব্দ দুটির অর্থ—যে পর্বতে ময়লা ফেলা হয়।

প্রাচীন জাপানের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে লালন-পালন করার সামর্থ্য ছিল না। একটা পর্যায়ে তারা পিঠে করে বাবা-মাকে নিয়ে পর্বতের খাদে ফেলে দিয়ে আসত। সবার কাছে এটাই ছিল স্বাভাবিক। পিঠে চড়া বৃদ্ধ পিতা-মাতার হাতে গাছের একটি ছোট্ট ডাল থাকত। এই ডাল দিয়ে তারা পুত্রের গায়ে আস্তে আস্তে বাড়ি দিত। এই কাজটা তারা কেন করত, তা পরিষ্কার নয়। বলা হয়ে থাকে, এই কাজটি তারা করত, যেন পুত্র ফিরে যাওয়ার পথ ভুলে না যায়।

আজকের জাপান অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের তৃতীয় শক্তি। জাপানি ইয়েনের পাশে আমেরিকান ডলার দাঁড়াতেই পারছে না। কিন্তু উবাস্তে ইয়ামা এখনো জাপানে আছে। তবে এখন আর পাহাড়-পর্বতে জাপানিরা বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে রেখে আসছে না। তারা ফেলে দিয়ে আসছে আধুনিক ওল্ড হোমে।
এই বৃদ্ধনিবাসের একটি গল্প নাসিরের কাছে শুনলাম। [ড. নাসির উদ্দিন জমাদার, পূর্ণ প্রফেসর, রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান।] বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি নিয়ে নাসির আমাকে দেখতে আমেরিকায় এসেছে। এখন আমার সঙ্গে বাস করছে। প্রতিদিন জাপানি রান্না রাঁধছে। অতি পুষ্টিকর এবং অতি অখাদ্য এসব খাবার খেতে আমাকে বাধ্য করছে।

যা-ই হোক, বৃদ্ধনিবাসের গল্পটা বলি। নাসির প্রথম যৌবনে ভলান্টিয়ার হিসেবে জাপানিদের বৃদ্ধনিবাসে কাজ করত। অথর্ব এসব মানুষকে গোসল করানো, খাওয়ানো ছিল তার কাজ। একদিন নাসিরের উপস্থিতিতে এক বৃদ্ধা তাঁর তিন পুত্রকে খবর পাঠালেন। তাদের বললেন, বাবারা! আমার খুব শখ বৃদ্ধাশ্রমে মৃত্যু না হয়, তোমাদের কারও বাসায় আমার মৃত্যু হয়। আমার কাছে নগদ পাঁচ কোটি টাকা আছে (বাংলাদেশি হিসাবে বলা হলো)। তোমাদের মধ্যে যে আমাকে জীবনের শেষ কটি দিন রাখবে, তাকে আমি এই পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে যাব।

তিন পুত্রই কিছুক্ষণ মাথা চুলকে বলল, মা, সম্ভব হবে না। বাসা ছোট। এখন তোমার অনেক সেবা দরকার। সেটা পারব না।
বৃদ্ধ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, ঠিক আছে।

আমরা অনেক ভালো আছি না? বাংলাদেশের হতদরিদ্র রিকশাওয়ালা তার রিকশার পেছনে লিখে রাখে ‘মায়ের দোয়া’। বৃদ্ধ পিতা-মাতার সেবা করা শুধু যে আমাদের সংস্কৃতির অংশ, তা নয়, এটা বাধ্যতামূলক।

যৌথ পরিবার বাংলাদেশে এখন আর নেই। যৌথ পরিবার ভেঙে পড়েছে। বৃদ্ধ পিতা-মাতাদের এখন বিভিন্ন ছেলেমেয়ের বাসায় রুটিন করে থাকতে হয়। যে পুত্র বা কন্যার কাছে বৃদ্ধ পিতা বা মাতা থাকতে যান, সেই পুত্র বা কন্যা আকাশের চাঁদ হাতে পায় বলে আমার ধারণা।

ধর্মও পিতা-মাতার প্রতি আমাদের কর্তব্য বিষয়ে অনুশাসন দিয়ে গেছে। অনেক উদাহরণের মধ্যে একটি দিচ্ছি, ‘শো গ্র্যাটিচ্যুড টু মি অ্যান্ড টু ইয়োর প্যারেন্টস।’ (সূরা ৩১, আয়াত-১৪) আল্লাহপাক তাঁর নিজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পরপরই বলেছেন পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কথা।
সূরা ১৭, আয়াত ২৩-এ বলা হয়েছে, ‘ইয়োর লর্ড ডিক্রিড দ্যাট ইউ ওয়রশিপ নান বাট হিম, অ্যান্ড দ্যাট ইউ বি কাইন্ড টু প্যারেন্টস।’

আমি কল্পনায় দেখার চেষ্টা করলাম, আমার বয়স ৭০ হয়েছে। আমি অথর্ব, সংসারে অপ্রয়োজনীয়। আমার বড় পুত্র নুহাশ হুমায়ূন আমাকে পিঠে করে নিয়ে যাচ্ছে উবাস্তে বেঙ্গালওয়ানে [যেহেতু বাংলাদেশে পর্বত নেই, ফেলে দিতে হবে সমুদ্রে। বঙ্গোপসাগরের জাপানি নাম বেঙ্গালওয়ান।] আমার হাতে ছোট্ট লাঠি। আমি লাঠি দিয়ে পুত্রের গায়ে মাঝেমধ্যে বাড়ি দিচ্ছি। কী ভয়ংকর! কী ভয়ংকর!!

জাপানের রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম হয়েছে। এর মূল প্রবক্তা হলেন রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক কাসাহারা কিওশি। এই কাজে অধ্যাপক কাসাহারাকে কয়েকবার ঢাকায় আসতে হয়েছে।

প্রতিবারই তাঁর সঙ্গী ছিলেন রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন জমাদার। এই মানুষটির ধারণা, হুমায়ূন আহমেদ এমন একজন, যাকে অধ্যাপক কাসাহারা কিওশি খুবই পছন্দ করবেন। মূলত নাসিরের আগ্রহে আমি অধ্যাপক কাসাহারাকে ঢাকা ক্লাবে ডিনারে দাওয়াত করলাম। ডিনারের একটি পর্যায়ে কাসাহারা ওয়াইনের গ্লাস হাতে নিয়ে ঘোষণা করলেন, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর বন্ধু।

এরপর তাঁর সঙ্গে আরও দুবার আমার দেখা হলো। প্রতিবারই আমার রসিকতায় তাঁকে হো হো করে হাসতে দেখলাম। একবার তিনি গলা নিচু করে বললেন, বন্ধু, আমি খুব খারাপ অবস্থায় আছি। আমার মানিব্যাগের ওপর আমার কোনো কন্ট্রোল নেই। মানিব্যাগ জমা রাখতে হয় আমার স্ত্রীর কাছে। আমাকে আমার হাতখরচের টাকাও তার কাছ থেকে চেয়ে নিতে হয়। তোমার কী অবস্থা আমাকে বলো।

যা-ই হোক, বন্ধু কাসাহারা ড. নাসির জমাদারের হাতে একটি খাম আমাকে পাঠিয়েছেন। নাসির খুবই লজ্জিত ভঙ্গিতে খামটা আমার হাতে দিয়ে বলল, আপনার বন্ধু কাসাহারা এই খামটি আপনাকে দিতে বলেছেন। আমি আপনার স্বভাব জানি। আমি ভয় পাচ্ছি, আপনি খামটি নেবেন না। তাহলে আপনার বন্ধু মনে কষ্ট পাবেন। জাপানের নিয়ম হচ্ছে, বন্ধুর আনন্দে ও দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়ানো।
আমি খাম খুলে দেখি, সেখানে সাত হাজার আমেরিকান ডলার। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ছয় লাখ টাকা। অধ্যাপক কাসাহারা (যাঁর মানিব্যাগের ওপর কন্ট্রোল নেই) তাঁর বন্ধুর চিকি ৎ সার জন্য পাঠিয়েছেন।
উবাস্তে ইয়ামার দেশের একজন মানুষের এই আচরণ হিসাবে মেলে না।

‘পৃথিবীর এই ক্লান্ত এ অশান্ত কিনারার দেশে
এখানে আশ্চর্য সব মানুষ রয়েছে।’
—জীবনানন্দ দাশ

mufi_02
December 1, 2011, 09:55 AM
Humayun Ahmed is quoting Quran and Hadith quite often nowadays. Bepar ta ki?

idrinkh2O
December 4, 2011, 04:12 PM
রোগী দেখে তারপর খেলা (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-12-04/news/206181)
ক্রীড়া প্রতিবেদক | তারিখ: ০৪-১২-২০১১

পেশায় দন্তচিকিৎসক। পেশার খাতিরেই খেলা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে সাত বছর পর ফিরে দুবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলেন। এক মৌসুম পর কাল জাতীয় টিটির এককে শিরোপা পুনরুদ্ধার করে মানস চৌধুরী বললেন প্রাসঙ্গিক অনেক বিষয় নিয়ে

 এক মৌসুম পর আবার জাতীয় টিটির শিরোপা পেলেন। নিশ্চয়ই খুব খুশি?
মানস চৌধুরী: ভীষণ খুশি। মজার ব্যাপার, ২০০৭ সালে টিটিতে ফিরেই ২০০৯ সালে মাহবুবকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। গতবার মাহবুবের কাছে হেরে রানার্সআপ, এবার আবার সেই মাহবুবকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন। পাশাপাশি বাগেরহাটের হয়ে আমরা দলগত চ্যাম্পিয়নও।

 মাঝখানে খেলা ছেড়ে দিয়েছিলেন কেন?
মানস: আমি পেশায় ডেন্টিস্ট সার্জন। প্রতিদিনই রোগী দেখি। তাই পেশার কারণে টিটিতে সময় দিতে পারছিলাম না। সেজন্য ২০০১-০৭ পর্যন্ত খেলিনি। পরে দেখলাম, ওজন বেড়ে যাচ্ছে। ফিটনেস নেই। তাই আবার শুরু করলাম।

 ফিরে এসে দেখালেন, খেলা ছাড়াটা ঠিক হয়নি। আপনি এই ৩৬-এ পা রেখেও দাপটে খেলছেন...
মানস: একটা আত্মবিশ্বাস সব সময়ই ছিল, মনোযোগ দিয়ে খেললে ভালো করব। এখন পুরোপুরি মনঃসংযোগ করছি। এটাই আসলে মূল রহস্য। ২০০৭ সালে ফিরে এসেই জাতীয় দলে ঢুকেছি। এখন নিয়মিতই খেলছি জাতীয় দলে।

 অনুশীলন করেন কোথায়?
মানস: চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে আমার বাড়ি। আমার বাবা প্রয়াত সংগীতশিল্পী প্রবাল চৌধুরীর কথা তো নতুন করে বলার নেই। বাবার নামে একটা রাস্তার নামকরণও করা হয়েছে। চট্টগ্রামেই থাকি, চেম্বারে রোগী দেখা শেষ করে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে রাতে অনুশীলন করি। আসিফ-রিগানরাও আমার সঙ্গে অনুশীলন করে।

 চট্টগ্রামের টিটির অবস্থা এখন কেমন?
মানস: আস্তে আস্তে ভালো হচ্ছে। আমি জুনিয়দের অনুশীলন করিয়েছি, তাদের অনেকে এখন বিমানে খেলে। তা ছাড়া এবারের প্রতিযোগিতায় সেরা আটে ঢুকেছে জুনিয়রদের কেউ কেউ। এদের মধ্যে হাসিব-হিমেলদের কথা বলব। জুনিয়রদের উঠে আসা টিটির জন্য ভালো খবর।

 টিটিতে কীভাবে এলেন?
মানস: আমার কাকারা খেলতেন। বাসার পাশে ক্লাবে যাওয়া-আসা করতাম ছোটবেলায়। ক্লাবে টিটির একটা টেবিলও ছিল। সেখানে খেলতে খেলতেই চলে আসা। খেলা শুরু করি ১৯৮৮ সালে। ’৯১-তে জুনিয়রে চ্যাম্পিয়ন হই।

 এবারের জাতীয় টিটি কেমন হলো?
মানস: ভালোই। তবে খেলাটার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য এটিকে বাইরেই নিয়ে যেতে হবে। এটা খুব দরকার। ঢাকার বাইরে যেখানেই হোক, লোকে আগ্রহ নিয়ে হয়তো জানতে চাইবে খেলাটা নিয়ে। ঢাকায় উডেনফ্লোর জিমনেসিয়ামটা এমন জায়গায়, এদিকটায় কেউ আসে না। অনেকে জানেও না। খেলা না থাকলে আজেবাজে লোকজনের আড্ডা বসে।

 তার ওপর প্রচার-প্রচারণাও তো সেভাবে নেই...
মানস: এটা তো আজকের সমস্যা নয়। তবে একটা ব্যাপার, খেলাটা মনে হয় আরও আকর্ষণীয় করা যেত। আঞ্চলিক পর্ব খেলে দলগুলোকে চলে যেতে হয়েছে। চূড়ান্ত খেলাগুলো জেলার খেলোয়াড়েরা ভেন্যুতে বসে দেখতে পারলে ওরা অনেক উদ্বুদ্ধ হতো।

 এমনিতে দেশের টিটির সামগ্রিক অবস্থা এখন কেমন?
মানস: ভালোর দিকে যাচ্ছে। গত বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দলগত সেরা ১৬-তে ছিলাম আমরা। এটা কিন্তু কম নয়। তবে আরও ভালো কিছু করতে অনেক দূর যেতে হবে। পৃষ্ঠপোষক দরকার। নতুন খেলোয়াড়দের উদ্বুদ্ধ করার বিকল্প নেই।

simon
December 4, 2011, 04:44 PM
http://eprothomalo.com/contents/2011/2011_12_04/content_zoom/2011_12_04_22_9_b.jpg

zinatf
December 5, 2011, 05:23 AM
End of an animal's life!

http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=d51eb6b6c9b0bbe5c57db7d6665ed aba&nttl=2011120511141272612&fb_source=message

Naimul_Hd
December 5, 2011, 06:06 AM
End of an animal's life!

http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=d51eb6b6c9b0bbe5c57db7d6665ed aba&nttl=2011120511141272612&fb_source=message

End of an animal's life....

http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=d51eb6b6c9b0bbe5c57db7d6665ed aba&nttl=2011120511141272612&fb_source=message

ek animal ke koybar marba ? ekbar to marchoi....6mins por abar mara ki dorkar ? :-p

nakedzero
December 5, 2011, 06:38 AM
http://lolcrunch.com/wp-content/uploads/2011/11/y4MYy1-580x386.jpg

mufi_02
December 5, 2011, 09:40 AM
Amazing but sad picture. Inspiring as well. A picture is truly worth a thousand words!

ahnaf
December 5, 2011, 11:08 AM
http://lolcrunch.com/wp-content/uploads/2011/11/y4MYy1-580x386.jpg

thanks a lot for sharing this..
<br />Posted via BC Mobile Edition (Opera Mobile)

ahnaf
December 5, 2011, 11:10 AM
Humayun Ahmed is quoting Quran and Hadith quite often nowadays. Bepar ta ki?

lol..bhaiya.. Or onek novel eo amn qoute korche age..
<br />Posted via BC Mobile Edition (Opera Mobile)

mufi_02
December 5, 2011, 11:17 AM
Yes I noticed that too. His dada was a big time Maulana.

idrinkh2O
December 9, 2011, 04:29 PM
‘আমিও দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি’ (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-12-10/news/207677)
ক্রীড়া প্রতিবেদক | তারিখ: ১০-১২-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2011/12/09/2011-12-09-17-01-04-4ee23ed018cc2-10.jpg
ফাহিম মুনতাসির (সুমিত)

২০০২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর। বয়স মাত্র ৩১, এখনো খেলে যাওয়ার কথা। অথচ এখন তিনি পাকিস্তান দলের লিয়াজোঁ। ৩টি করে টেস্ট আর ওয়ানডেতেই থেমে গেছে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। তবে সাবেক অফ স্পিনার ফাহিম মুনতাসির (সুমিত) জানালেন, এখনকার কাজটাও দারুণ উপভোগ করছেন তিনি

 অভিষেকের স্মৃতি মনে পড়ে?
ফাহিম মুনতাসির: টেস্ট হোক, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি, অভিষেক তো কেউ ভুলতে পারে না। তবে টেস্ট অভিষেকটাই বেশি স্পেশাল। কোনো উইকেট পাইনি, তবে টাইট বোলিং করেছিলাম। শেষ দিকে রশিদ লতিফের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে (৪০ বলে ৪২ নিয়েছিলেন লতিফ) ইকোনমি রেট একটু খারাপ হয়ে গিয়েছিল। পরের টেস্টেই এই চট্টগ্রামে (এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে) ৩ উইকেট পেয়েছিলাম। ইনজামাম-উল হক ছিল আমার প্রথম টেস্ট উইকেট, বুলবুল ভাই ক্যাচ নিয়েছিলেন।

 ক্যারিয়ারটা আরেকটু লম্বা না হওয়ার আক্ষেপ পোড়ায় না?
মুনতাসির: আমার মনে হয়, ৩টি টেস্ট একজন স্পিনারের জন্য মোটেই যথেষ্ট নয়। ওই সময়টায় পরিণত ছিলাম না। কিন্তু পরে আমি অনেক উন্নতি করেছিলাম। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ছাড়ার আগের দুুই বছর সম্ভবত আমি জীবনের সেরা খেলা খেলেছি। ব্যাটিংয়েও অনেক উন্নতি করেছিলাম, একটা সেঞ্চুরিও করেছিলাম প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে। কিন্তু আর দলে ফেরা হলো না। ওই সময়টায় নিজেকে আমার বঞ্চিত মনে হয়েছে। এখনো মনে হলে খুব কষ্ট লাগে।

 যে দলের লিয়াজোঁ আপনি, তারা কি জানে আপনিও টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন?
মুনতাসির: ওরা জানে, আমি টেস্ট-ওয়ানডে খেলেছি। ইউনুস খানের বিপক্ষে তো খেলেছিই। বিশ্বকাপেও পাকিস্তান দলের লিয়াজোঁ ছিলাম, তখন ওকে বলেছিলাম যে আমি তোমাকে আউট করেছিলাম চট্টগ্রাম টেস্টে। ও তখন বলল, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, মনে পড়ছে, মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছিলাম।’ ক্যাচটা নিয়েছিল অপি।

 আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের লিয়াজোঁ, কেমন লাগে?
মুনতাসির: আমি ক্রিকেটার জীবনের সঙ্গে এখনকার জীবনের তুলনা করি না। দুটি আলাদা কাজ। হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে মাঠে নেমে যেতে খুব ইচ্ছে করে। পুরোনো আক্ষেপগুলোও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তবে ওই ভাবনাগুলোকে মাথায় ঢুকতে দিতে চাই না। ওসব যদি বেশি ভাবি, তাহলে এখনকার কাজে মন দিতে পারব না। এই কাজ উপভোগ করছি। অনেকে লিয়াজোঁর কাজকে ছোট করে দেখতে চায়। এই কাজটা কিন্তু আসলে লোকাল ম্যানেজারের মতো। ক্রিকেটারদের মতো আমিও দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি। ভালো কাজ করে আমিও দেশের ভাবমূর্তি ভালো করতে চাই।

 লিয়াজোঁ হওয়ার ভাবনা এসেছিল কীভাবে?
মুনতাসির: ক্রিকেট আসলে রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। ক্রিকেট ছাড়া থাকতে পারব না। খেলা ছাড়ার পর কোচিং কোর্স করলাম, লেভেল-২ করেছি। এই সময়ই হঠাৎ লিয়াজোঁর কাজ করার প্রস্তাব পেলাম। ভাবলাম, করে দেখি। এভাবেই শুরু। এখন খুবই উপভোগ করছি। বাংলাদেশে আসা প্রায় সব দলেরই লিয়াজোঁ ছিলাম আমি। সব দলের ড্রেসিংরুম, তাদের সংস্কৃতি এসবের সঙ্গে পরিচিত হওয়াটাও তো কম নয়। তা ছাড়া কোচিং পদ্ধতি নিয়ে অনেক বড় বড় কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে, এটাও তো বড় পাওয়া।

 লিয়াজোঁ জীবনে অনেক স্মরণীয় ঘটনাই নিশ্চয়ই আছে?
মুনতাসির: সাম্প্রতিকতম একটা ঘটনাই বলি, কদিন আগে রিচি রিচার্ডসন এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ম্যানেজার হয়ে। যাওয়ার আগের দিন ও বলল, ‘সুমিত, আমি ১৮ বছর বয়স থেকেই ক্রিকেট সফর করি, জাতীয় দলের সঙ্গে ২১ বছর বয়স থেকে। কিন্তু তোমাদের কাছ থেকে যেমন আতিথেয়তা পেয়েছি, সত্যি বলছি, জীবনে কোথাও পাইনি।’ এমনকি ভারতে যাওয়ার পরও রিচি আমাকে ফোন করেছে, টিম বয়দের খোঁজখবর পর্যন্ত নিয়েছে। আমার কারণে একজন লোকের বাংলাদেশ সম্পর্কে এত ভালো ধারণা হয়েছে, ভাবতেই খুব ভালো লাগে।

 ভবিষ্যৎ ভাবনা কী? কোচিয়ে আসার ইচ্ছা আছে?
মুনতাসির: দূর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি না। ভালো আছি, সুখে আছি। একদিন হয়তো কোচিংয়ে আসতেও পারি। আপাতত এভাবেই থাকত চাই। আর আমার নিজের শহর ময়মনসিংহের ক্রিকেট-ঐতিহ্য ফেরাতে কাজ করতে চাই। কিছুটা শুরুও করেছি, দেখা যাক...।

idrinkh2O
December 10, 2011, 12:04 PM
[বাংলা]একটি উদ্ভাবন! (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=f8c071270e5ebbad8ddda98fd1cbe 475&nttl=2011121010090873674)
শাহরিয়ার হোসেন, প্রকৌশলী, এএমআইই (বুয়েট)

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2011December/win-mil-bg20111210221101.jpg

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবেলা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের একটি। সারাদেশে বিদ্যুৎ সমস্যা মোকাবেলা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অধিকাংশ মানুষ এখন চরম লোডশেডিংয়ের ভুক্তভোগী। বিশেষ করে ঢাকায় অবস্থিত নতুন আবাসিক এলাকাগুলোতে লোডশেডিংয়ের পরিমান একটু বেশিই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করা হবে। আর এ জন্য তিনি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার কথা চিন্তা করে আর প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের প্রতি শদ্ধা রেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে গবেষণা শুরু করি। বায়ুগতিবিদ্যা, ইলেকট্রিক্যাল, ম্যাকানিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স বিয়য়ে অনেক গবেষণার পর আমি দেশিয় পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছি। যেটি এখন আমি পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করছি।

আমি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিদ্যুৎ শক্তি, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে অনেক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। যেখানে থেকে আমি জানতে পারলাম উন্নত দেশে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো খুবই ব্যয়বহুল এবং সেগুলো ব্যবহার করে ঢাকা শহরে পর্যাপ্ত বিদুৎ সরবরাহ করা যাবে না। ঢাকার অধিকাংশ ভবন-ই জনাকীর্ণ এবং তলা অনুযায়ী ছোট ছাদ বিশিষ্ট। সাধারণত জায়গা সংকটের কথা মাথায় রেখে ভবনগুলো নকশা করা হয়।

যদি আমরা কোনও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদের পুরো অংশটা সোলার প্যানেল বা সোলার বোর্ড বসাই তাহলেতা দিয়ে প্রত্যোকটি ফ্লাটে একটি লাইট এবং একটি ফ্যান চালানো সম্ভব হবে। যেটা বহুতল বিশিষ্ট ভবনের জন্য উপযোগী নাও যেতেপারে। এ পদ্ধতি সূর্যের তাপের প্রখরতার ওপর এবং মেঘলা অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আমার বায়ু চালিত পাওয়ারজেনারেটর দিয়ে একটি বহুতল ভবনের বিদ্যুৎ সমস্যা মেটানো সম্ভব। যদি জেনারেটরটি ভবনের বাইরে কোনও উপযুক্ত জায়গায় ব্যবহার করা যায়।

বর্তমান বিদ্যুৎ সমস্যার কথা মাথাই রেখেই আমি বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যএ বিষয়ে গবেষণা শুরু করি।

আমার গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকা শহরে যে বায়ু বিদ্যুৎ যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলোর অধিকাংশই পর্যাপ্ত বাতাস পায় না এবং প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যর্ হয়। শহরের এই বিষয়টিই বায়ু বিদ্যুৎ সরবরাহের সবচেয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সৌভাগ্যক্রমে আমি আমার গবেষণায় শহরের এই অল্প বায়ু ব্যবহার করেই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের উপায় বের করতে সক্ষম হয়েছি। যেটি আমার গবেষণায় কাজ করছে।

এখন আমার বাসার বারান্দা থেকে কয়েক ফুট দূরে একটি মেশিন বসিয়েছি। যেটির অল্প বাতাসে চলতে সক্ষম এবং আমি ২৪ ঘণ্টাই নূন্যতম ঘণ্টা ১ কি.মি গতিতে বাতাস পাচ্ছি।

এ যন্ত্রটি ব্যবহার করে আমি আমার রুমে আলো জ্বালানোর জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যা দিয়ে আমি একটি ফ্যানও চালাচ্ছি।

হিসাব করে দেখা গেছে, যদি একটি ছোট বায়ু বিদ্যুৎ মেশিন ভবনের ছাদে স্থাপন করা যায় যেখানে দিনের ১৮ ঘণ্টাই ১ কি. মি. বেগে বাতাস পাওয়া যাবে তবে তা দিয়ে দুই হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

যেহেতু পরীক্ষামূলকভাবে আমি আমার বারান্দায় এ যন্ত্রটি স্থাপন করেছি সেহেতু আমি সর্বক্ষণপর্যবেক্ ণ করতে পারছিযা আমার গবেষণার জন্য খুবই দরকার।

আমি একটি বিশেষ ফ্যান উদ্ভাবন করেছি যেটি আমার কক্ষের পাওয়ার সার্কিটের ডিসি বা এসি ব্যাটারির দিয়ে চালানো সম্ভব।

আমার উদ্ভাবিত এ বিশেষ ধরনের ফ্যানের কিছু সুবিধা রয়েছে। তা হলো-

১. এই ফ্যানটি চালাতে মাত্র ১৮-২৪ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় এবং সাধারণ ফ্যানের মতোই বাতাসহয়। বিখ্যাত ব্রান্ডের ফ্যান চালাতে কমপক্ষে ৮৬ ওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এখানে আমার উল্লেখ করা প্রয়োজন হবে না যে, এটাই একমাত্র সস্তা ফ্যান।

২. আমার উদ্ভাবিত লাইট জ্বালাতে মাত্র ৭ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং কক্ষে সাধারণ লাইটের মতোই আলো সরবরাহ করে।

আমার এই প্রজেক্টরে সুবিধা হলো:

যদি আমি আমর এই প্রকল্প ব্যবহার করি তবে একটি লাইট ও একটি ফ্যান চলাতে খরচ হবে মাত্র ২৪+৭=৩১ ওয়াট বিদ্যুৎ। যেখানে সাধারণ বাজারের লাইট বা ফ্যান ব্যবহার কররে খরচ হবে ৮৬+৬০= ১৪৬ ওয়াট বিদ্যুৎ। সুতরাং আমার এখানে ১৪৬-৩১= ১১৫ ওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। অন্যদিকে যদি আমি আমার উদ্ভাবিত জেনারেটর ব্যবহার করি তবে আমাকে কোনও বিদ্যুৎ বিল বহন করতে হবে না।

ছোট কক্ষের সঙ্গে স্থাপন করে যদি আমরা এ পদ্ধতি সারা দেশে ব্যবহার করি তবে আমরা কি কল্পনা করতে পারি যে কত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে? আমাদের দেশের ৪০-৩০ শতাংশ মানুষ শুধুমাত্র লাইট এবং ফ্যান ব্যবহার করে।

এখন মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালে এই প্রযুক্তি পৌঁছানো এবং রক্ষাণাবেক্ষণ খরচ কমানোর বিষয়টি মাথায় রেখে আমার সমস্ত প্রকল্পটির নকশা করছি।

সর্বশেষে এ বিষয়টি বিবেচনায় নিতে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আশা করছি যে এ প্রকল্পটি দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ বয়ে আনবে। আমি আমার দেশের জন্য কিছু করতে চাই এবং আমার দেশের মানুষকে উৎসাহ দিতে চাই যাতে তারা নিজেদের প্রচেষ্টা, আরাধনা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারে।

এই কাজটি করতে কয়েকজন দেশপ্রেমিকআমাকে উৎসাহ যুগিয়ে ও বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সাফল্যের পথে নিয়ে এসেছেন। তাদের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাদের নাম আমি কোনও এক সময় প্রকাশ করবো।[/বাংলা]

idrinkh2O
December 10, 2011, 05:17 PM
We can learn a few things from this interview...
-------------------------------------------------------------------------------------------------------

[বাংলা]‘মাঝে মাঝে নিজেরই হাসি পায়... (http://www.prothom-alo.com/detail/news/207841)’
| তারিখ: ১১-১২-২০১১

যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, এমন হাসিমুখেই সময় কেটেছে হাফিজের

সবকিছুর দারুণ বিশ্লেষণ করতে পারেন, ক্রিকেট-জ্ঞান অগাধ। সতীর্থরা তাই তাঁকে ডাকেন ‘প্রফেসর’। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতেই ৭ বছর লেগে গেছে। গত বছর দলে ফেরার পর থেকেই অবশ্য ব্যাটে-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্স, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সাফল্যে বড় অবদান তাঁর। কাল পেলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রান। কাল দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেন মোহাম্মদ হাফিজ, সেখানে ছিলেন আরিফুল ইসলাম

 দারুণ একটি ইনিংস শেষ হলো আম্পায়ারের বাজে সিদ্ধান্তে। নিশ্চয়ই হতাশ?
মোহাম্মদ হাফিজ: এটা দুর্ভাগ্যজনক, তবে আমি হতাশ নই। এটা খেলারই অংশ, এসব মেনে নিতেই হয়। আমার কোনো অভিযোগ নেই। যতটা ভালো খেলেছি, তার জন্যই স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। কখনো কখনো কঠিন সিদ্ধান্ত পেতে হতেই পারে। সমস্যা নেই।

 ৪২ বছর পর টেস্টের প্রথম ওভার করলেন কোনো স্পিনার। নতুন বল হাতে নিয়ে কেমন ছিল অনুভূতি?
হাফিজ: কোচ-অধিনায়ক, টিম ম্যানেজমেন্ট আমার ওপর আস্থা রেখেছে, ভেবেছে, আমি পারব। গত এক বছরে নতুন বল হাতে অনেকবার বোলিং করছি। ওয়ানডেতে নিয়মিতই করছি, টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজে করেছি। আমি তাই আত্মবিশ্বাসীই ছিলাম।

 সতীর্থরা তো আপনাকে ‘প্রফেসর’ ডাকেন, কতটা উপভোগ করেন নিজের এই নাম?
হাফিজ: উমম...নামটা ভালোই। আমার কোনো সমস্যা নেই...(হাসি)। সবাই প্রফেসর বলে, এর কারণ হতে পারে আমি ফালতু কথা খুব বেশি একটা বলি না...! (হাসি)।

 গত বছর দলে ফেরার পর থেকে তিন ধরনের ক্রিকেটেই আপনার পারফরম্যান্স অসাধারণ। রহস্য কী? কী করেছেন বাইরে থাকা সময়টায়?
হাফিজ: বাদ পড়াটা ছিল খুব কঠিন। তবে ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে ভুলগুলো করেছি, চেষ্টা করেছি ঘরোয়া ক্রিকেটে সেসব না করতে। হতাশ না হয়ে পারফর্ম করার চেষ্টা করেছি। কঠোর পরিশ্রম করে গেছি। এ জন্য হয়তো এখন সবকিছুই আমার পক্ষে যাচ্ছে। দলের জয়ে অবদান রাখতে পারছি, এতেই আমি সবচেয়ে বেশি খুশি।

 ২০০৩ সালে অভিষেক, দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি। কিন্তু ৮ বছরে মাত্র ২২ টেস্ট খেলতে পেরেছেন, আক্ষেপ নেই?
হাফিজ: আক্ষেপ খুব বেশি নেই। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েই আমি খুশি, যত কম সুযোগই পাই না কেন। যা হয়েছে, হয়ে গেছে। এখন চেষ্টা করে যাব দলের জয়ে অবদান রেখে যেতে।

 সবাই আপনাকে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবেই চিনত। অথচ এখন আপনি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর বোলার...
হাফিজ: সত্যি বলতে, ভাবলে মাঝে মাঝে আমার নিজেরই হাসি পায়...এটা কী করে হলো! আমি মূলত ব্যাটসম্যান, বোলিংটা আসে পরে। তবে ব্যাটসম্যান বলেই হয়তো বোলিংটাও ভালো হচ্ছে। কারণ নিজে ব্যাটসম্যান হওয়ায় অন্য ব্যাটসম্যানদের মনোজগৎটা আমি বুঝি, তাদের পড়তে পারি। বুঝতে পারি, তারা এখন কী করতে চাইছে। এ জন্যই ওয়ানডেতে আমার বোলিংটা বেশি কার্যকর। আমি চেষ্টা করি রান না দিতে। এটাই আমার বোলিংয়ের মূলমন্ত্র। যা-ই হোক, এই অর্জনে আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। র‌্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে ওঠা প্রমাণ করে দলের জন্য আমি অবদান রাখতে পারছি। এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেয়।

 প্রথম সেঞ্চুরি বাংলাদেশের বিপক্ষে, আজ পেলেন চতুর্থ সেঞ্চুরিটাও। বাংলাদেশ তো মনে হয় আপনার প্রিয় প্রতিপক্ষ!
হাফিজ: আসলে সবাই সব দলের বিপক্ষেই পারফর্ম করতে চায়। আমিও সব ম্যাচেই শতভাগ দিতে চাই। আমার প্রথম সেঞ্চুরিটা বাংলাদেশের বিপক্ষে, আজ আবার পেলাম। এমন নয় যে বাংলাদেশ আমার প্রিয় প্রতিপক্ষ। তবে এভাবে পারফর্ম করে গেলে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে আমার খারাপ লাগবে না।

 ২০০৩ সালে আপনার অভিষেক সিরিজে বাংলাদেশ দারুণ খেলেছিল, দুটো টেস্ট জিততেও পারত। অথচ এবার দাঁড়াতেই পারছে না। বাংলাদেশ কি তাহলে পেছনে হাঁটছে?
হাফিজ: দেখুন, গত ৮-৯ বছরে বাংলাদেশ কিন্তু বেশ কিছু দারুণ ম্যাচও খেলেছে। অসাধারণ কিছু পারফরম্যান্সও ছিল। টেস্টের চেয়ে অবশ্য ওয়ানডেতেই তারা বেশি ভালো খেলেছে। তবে যত খেলবে, ততই শিখবে। কঠোর পরিশ্রম করে গেলে উন্নতি হবেই। আমরা প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশকে সব সময়ই সমীহ করেছি। ওরা ভালো দল।

 ২৮০ রানে এগিয়ে পাকিস্তান, কাল আর কতক্ষণ ব্যাট করবে দল?
হাফিজ: আমার ঠিক জানা নেই। টিম ম্যানেজমেন্ট বলতে পারবে। তবে আমরা এখন খুব ভালো অবস্থায় আছি, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে। প্রথম দিনের চেয়ে কাল ব্যাটিং করা অনেক সহজ ছিল। সবাই ভালো ব্যাটিং করেছে, ইউনুস খান দারুণ খেলছে। ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ-অধিনায়ক। দেখা যাক...।[/বাংলা]

idrinkh2O
December 10, 2011, 05:32 PM
[বাংলা]বিজয়ের ৪০ বছর: বিদেশি সহযোদ্ধা (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-12-11/news/207873)
সম্পর্ক জন্মের সময় থেকেই
শওকত হোসেন | তারিখ: ১১-১২-২০১১

জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দেশটির জন্মের সময় থেকেই, যদিও সময়টা কারও জন্যই ভালো যাচ্ছিল না। দেশটিতে তখন মানবেতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণহত্যা ঘটে গেছে। লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় নিয়েছে সীমান্তের ওপারে, ভারতে। দেশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানি সেনারা। সঙ্গে আছে রাজাকার বাহিনী। এ রকম এক সময় স্বীকৃতি আর সহায়তার আশায় বাংলাদেশ তখন তাকিয়ে আছে সারা বিশ্বের দিকে।

দুনিয়া খ্যাত বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনকে বলা হতো ‘কোয়ায়েট বিটল’। ষাটের দশকে দুনিয়াজুড়ে যে অস্থিরতা ও বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিল তরুণদের মধ্যে, তারই প্রতিনিধি ছিলেন বিটলসরা। পুরো একটি প্রজন্মকে সংগীত দিয়ে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন তাঁরা। সেই বিটলস তখন ভেঙে গেছে। জর্জ হ্যারিসন একক ক্যারিয়ার করার কথা ভাবছেন। সে সময়ই জর্জ হ্যারিসন বাংলাদেশের সঙ্গে গড়লেন নতুন এক আত্মিক সম্পর্ক।

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হলো ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে হওয়া এই কনসার্টের মাধ্যমে পৃথিবীর বহু মানুষ প্রথম জেনেছিল বাংলাদেশের নাম, যদিও বাংলাদেশ নিয়ে কিছু একটা করার মূল পরিকল্পনা ছিল পণ্ডিত রবিশঙ্করের। রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। বাংলাদেশ নিয়ে কনসার্ট করার কথা প্রথম রবিশঙ্কর ভাবলেও কাজটি সম্ভব হয়েছিল জর্জ হ্যারিসনের জন্যই। তিনিই উদ্যোগী হয়ে শিল্পীদের জোগাড় করেছিলেন। আত্মাভিমান ভুলে তিনি বিটলসের সহশিল্পীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়েছিলেন ড্রামার রিঙ্গো স্টার। বিল প্রেস্টন ও লিওন রাসেলও রাজি হন। তবে জর্জ হ্যারিসন ছাড়াও কনসার্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন বব ডিলান ও এরিক ক্ল্যাপটন। বিশেষ করে এরিক ক্ল্যাপটনের গিটারের ঝংকার আর বব ডিলানের বিখ্যাত সেই গান ‘ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’ মানুষ আজীবন মনে রাখবে। একই দিনে দুটি কনসার্ট হয়েছিল, একই নামে।

কনসার্টটি শুরু হয়েছিল রবিশঙ্কর ও আলী আকবর খানের যুগলবন্দী দিয়ে। তবলায় ছিলেন আল্লারাখা। রবিশঙ্কর ‘বাংলা ধুন’ নামের নতুন একটি সুর সৃষ্টি করেছিলেন। সেটি দিয়েই শুরু হয়েছিল কনসার্ট। আর শেষ পরিবেশনা ছিল জর্জ হ্যারিসনের অবিস্মরণীয় সেই গান ‘বাংলাদেশ’। এই গানটির মধ্য দিয়ে জর্জ হ্যারিসন বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সংকটের প্রকৃত চিত্র। গানটি কিন্তু শুরু হয়েছিল বন্ধু রবিশঙ্করের কথা দিয়েই। ‘মাই ফ্রেন্ড কেইম টু মি/ উইথ স্যাডনেস ইন হিজ আইজ/ টোল্ড মি দ্যাট হি ওয়ান্টেড হেল্প/ বিফোর হিজ কান্ট্রি ডাইজ’।

‘আই মি মাইন’ বিটলসের একটি গান, লিখেছিলেন জর্জ হ্যারিসন। এই নামে তাঁর একটি আত্মজীবনীও আছে। সেখানে দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নিয়ে অনেক কিছুই লিখেছেন। রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের উদ্বাস্তুদের জন্য কনসার্ট থেকে ২৫ হাজার ডলার তোলা যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা উঠেছিল। টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল আড়াই লাখ ডলার। এর বাইরে কনসার্টের অ্যালবাম ও কনসার্ট নিয়ে তৈরি ফিল্ম বিক্রি করে আরও অর্থ আয় হয়। বাংলাদেশকে কখনোই ভুলে যাননি জর্জ হ্যারিসন। ১৯৮২ সালে এক মার্কিন টিভি অনুষ্ঠানে জর্জ হ্যারিসন বাংলাদেশের শিশুদের জন্য আবারও কয়েক লাখ ডলারের একটি চেক তুলে দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশকে সব সময় মনে রাখলেও জর্জ হ্যারিসনকে সেভাবে মনে রাখেনি বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানায়নি কখনোই। এমনকি বাংলাদেশে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, এমনটিও কখনো শোনা যায়নি। অথচ কঠিন এক দুঃসময়ে সারা বিশ্বে ‘বাংলাদেশ’ নামটি তুলে ধরেছিলেন এই জর্জ হ্যারিসন। রাষ্ট্র মনে না রাখুক, বাংলাদেশের মানুষের অন্তরে সব সময়ই থেকে যাবে জর্জ হ্যারিসনের নাম। ২০০১ সালের ৩০ নভেম্বর মাত্র ৫৮ বছর বয়সে তিনি মারা যান, ক্যানসারে ভুগে।
----------------------------------------

I own a copy of the Concert for Bangladesh. It's really amazing. Thank you, George Harrison and thank you, Ravi Shankar. We are grateful to you.[/বাংলা]

idrinkh2O
December 10, 2011, 05:35 PM
[বাংলা]মাঠের মুখ (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-12-11/news/207842)
চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি | তারিখ: ১১-১২-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2011/12/10/2011-12-10-18-12-57-4ee3a1299e00e-04.jpg
মিসবাহ উদ্দিন

মাঠের খেলায় তখন ‘লাঞ্চ ব্রেক’, তবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে শীতের সকালের আমেজ। সূয্যি মামার তেজ কেবল বাড়তে শুরু করেছে, শীতবস্ত্র খুলে ফেলছে অনেকে। অনেকেই আড়মোড়া ভাঙছে, অনেকেই বসে আছে আয়েশ করে। অলস ভঙ্গিতে বসে আছেন তিনিও, তবে গ্যালারির সিটে নয়, হুইলচেয়ারে।

২৭ বছর ধরে এই হুইলচেয়ারই মিসবাহ উদ্দিনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তিন বছর বয়সে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়েছেন পোলিওতে। সে সময়ের কথা মনে নেই। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই তাই বলা যায় মিসবাহর জীবন বাঁধা এই হুইলচেয়ারে। তবে নিজেকে এই গণ্ডিতে বেঁধে ফেলেননি। হুইলচেয়ার নিয়েই স্কুল-কলেজ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে মাস্টার্স করেছেন ইংরেজিতে। এখন চাকরি করছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। টিউশনিও করেন। প্রথম ক্রিকেটের প্রেমে পড়া ১৯৯৯ বিশ্বকাপ টিভিতে দেখে। তারপর থেকে চট্টগ্রামে খেলা হলেই মাঠে আসার চেষ্টা করেন। ভিড় কম থাকে বলে ওয়ানডের চেয়ে টেস্টেই বেশি আসেন। প্রথম দিন মাঠে না এসে কাল আসার একটা অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখলে আমার হার্টবিট বেড়ে যায়, সব সময়ই মনে হয় এই বুঝি কেউ আউট হলো। আজ কোনো টেনশন নেই, পাকিস্তান সারা দিন ব্যাট করবে, নিশ্চিন্তে খেলা দেখা যাবে।’ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপও এই ক্রিকেটকে নিয়ে, ‘এমনিতে হাঁটতে পারি না বলে আমার কোনো কষ্ট নেই। তবে মাঠে এলেই শুধু মনে হয়, যদি ক্রিকেট খেলতে পারতাম!’[/বাংলা]

nakedzero
December 14, 2011, 03:17 AM
[বাংলা]গাড়ি চালানো অবস্থায় হূদেরাগে আক্রান্ত হন চালক সুবল সাহা। সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক চেপে ও চোখলিভার টেনে গাড়িটি মহাসড়কের মধ্যেই থামিয়ে দিয়ে ঢলে পড়েন ইঞ্জিন কভারের ওপর। তৎক্ষণাৎ স্থানীয় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এভাবেই মৃত্যুর আগমুহূর্তে ফরিদপুরের গাড়িচালক সুবল বাঁচিয়ে গেলেন ৫২টি তাজা প্রাণ। গত রোববার বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বনমালিদিয়া এলাকার শাহ হাবীব মাদ্রাসার সামনে। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা সুবল সাহা শহরের গোয়ালচামট মহল্লার লাহেড়ীপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। স্ত্রী ছাড়াও তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
ফরিদপুরের বিভিন্ন পথে ৩০ বছর ধরে গাড়ি চালান সুবল সাহা (৫৫)। কখনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি তাঁর হাতে। গত রোববার মৃত্যুর আগমুহূর্তেও নিজের প্রত্যুৎপন্নমতির জোরে বাঁচিয়ে গেলেন বাসের ৫০ জন যাত্রী, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ ৫২টি প্রাণ।
বাসের সুপারভাইজার আবদুল কুদ্দুস জানান, মাগুরা থেকে বেলা তিনটা ৩২ মিনিটে বাসটি চালিয়ে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন সুবল সাহা। বিকেল সাড়ে চারটায় মধুখালীতে এসে ১০ মিনিট বিরতি দিয়ে তিনি আবার বাস চালানো শুরু করেন। আবদুল কুদ্দুস হঠাৎ দেখতে পান মহাসড়কের মাঝখানেই ব্রেক চেপে ও চোখলিভার টেনে গাড়িটি থামিয়ে দিয়েই চালকের আসন থেকে ইঞ্জিন কভারের ওপর ঢলে পড়েন সুবল।
ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি জুবায়ের জাকির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেশে চালকদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ও বদনাম আছে। সুবল সাহা যেন আমাদের এই বদনাম ঘোচাতে জীবনের শেষ সময়ও চেষ্টা করেছেন।’[/বাংলা]


SOURCE (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-12-13/news/208341)

idrinkh2O
December 15, 2011, 01:53 PM
Let us, the youth, make Sonar Bangla inshAllah!!! Freedom fighters did their part and now it's time to do our part! I pray to Almighty Allah to help us succeed in attaining His blessings to create our Sonar Bangla...Ameen!

:flag:

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কাজ করতে হবে
http://www.banglanews24.com/1971/images/imgAll/2011December/VC-HSTU20111216005254.jpg
প্রফেসর ড. এম আফজাল হোসেন
ভাইস-চ্যান্সেলর
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর

৭১-এ আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। পেয়েছি নিজস্ব পতাকা, ভৌগোলিক সীমারেখা এবং নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অধিকার। তাই গণতান্ত্রিক, ন্যায় ভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের ঐক্যবদ্ধ ও সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থ ও লোভ লালসা ত্যাগ করে সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা প্রতিষ্ঠায় হতে হবে আন্তরিক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিরলসভাবে দেশের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

দেশে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। জাতীয় অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মত ও পথের ভিন্নতা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।
-----------------------------------------------------------------------------------

শোষনহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি -
http://www.banglanews24.com/1971/images/imgAll/2011December/Moynul-Islam-SP20111216004401.jpg
মো: সফিকুল ইসলাম
প্রধান শিক্ষক, সারদেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়

বিজয়ের মাসে মহান মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঘিরে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শোষনহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। যে আদর্শ নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম সেই আদর্শের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নই আমি লালন করি।
----------------------------------------------------------------------------------
একদিন ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে

মোঃ ময়নুল ইসলাম
পুলিশ সুপার, দিনাজপুর

দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার জন্য। যে দেশে শোষণ-নিপীড়ন, দুর্নীতি, স্বজন-প্রীতি ও রাজনৈতিক হানাহানি থাকবে না। নানা কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ হয়তো এগিয়ে যায়নি। তবে দেশ অনেক এগিয়েছে।

বাংলাদেশ একদিন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উন্নত বা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন ২০২০-২০২১ রূপকল্প বাস্তবায়ন করা হলে দেশ পুরোপুরি ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হবে। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদ, মাদকমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা করি।
-------------------------------------------------------------------------------------

দেশকে ঘিরে আমার প্রত্যাশা অনেক

মো: জামাল উদ্দীন আহমেদ
জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর

দেশকে প্রায় সব ক্ষেত্রে অগ্রসর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছেন। এই কর্মসূচিতে আমার অংশগ্রহণ কোন পন্থায় সম্ভব করা যাবে তাই আমার এই সময়ের ভাবনা।

৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে পাওয়া আমাদের প্রিয় স্বদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে সোনার বাংলায় পরিণত করতে চাই। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমি প্রশাসনের সদস্য হিসেবে কাজ করছি।

দেশকে ঘিরে আমার প্রত্যাশা অনেক। আমাদের আগামী প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে দেশের কাজে অংশ নেবে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে প্রতিটি জনপদ। দারিদ্র আর নিরন্নের হাহাকার অতীতের ইতিহাস হয়ে যাবে। এমন বাংলাদেশই আমার প্রত্যাশা।

---------------------------------------------------------

নতুন প্রজন্ম রক্ষা করবে স্বাধীনতা: উর্মিলা রাণী
http://www.banglanews24.com/1971/images/imgAll/2011December/URMILA-RANI20111216000037.jpg
বাংলাদেশ পালন করছে বিজয়ের চল্লিশ বছর। এমন উৎসবের আগে বাংলানিউজের মুখোমুখি হয়েছেন নারী মুক্তিযোদ্ধা উর্মিলা রাণী। পিরোজপুরের এ নারী মুক্তিযোদ্ধা রশিদ আল মুনানকে বলেছেন দেশ নিয়ে তার ভাবনার কথা।

উর্মিলা রাণী বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করা এবং দেশকে রক্ষা করা এক কথা নয় । প্রকৃতভাবে দেশকে যারা স্বাধীন করেছিলেন তাদের অনেকেই আমরা এখন সুখে নেই । ৪০ বছর অতিবাহিত হলেও দেশ তার অভিষ্ঠ লক্ষে পৌঁছতে পারেনি । সামান্য প্রাপ্তি টুকুও দিতে পারেনি দেশ আমাদের দিতে পারেনি । দেশ আজ ভাগাভাগিতে লিপ্ত। অসুস্থ রাজনীতি গ্রাস করছে আমার দেশকে । এখান থেকে রাজনীতিবীদদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন দেশ গঠনে শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান রাখতে হবে। তবে আমি মনে করি এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে হবে দেশের তরুণ প্রজম্মকে । জাগিয়ে তুলতে হবে দেশত্ববোধ। বর্তমান প্রজন্ম ছাড়া দেশ গঠন সম্ভব নয়। আর এ স্বাধীনতা রক্ষা করবে নতুন প্রজন্ম। আমরা তো স্বাধীনতা দিয়ে গেলাম। এবার তোমরা স্বাধীনতা রক্ষা করো।

উর্মিলা রাণী বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চান। সেই সঙ্গে দেশ রক্ষায় নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে দেশে তৈরি করতে হবে। একদিন সুস্থ রাজনীতির চর্চা বাংলাদেশে শুরু হবে; এমনটা আশা করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘মানুষের মাঝে কোন বিভেদ না করে দেশের সব মানুষকেই জন শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে ।’

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১১
-----------------------------------------------------

একদিন নিশ্চয়ই পারবো

http://www.banglanews24.com/1971/images/imgAll/2011December/Moni20111215234712.jpg
মুক্তিযোদ্ধা শেখ মনিরুজ্জামান মনি
সাধারণ সম্পাদক, খুলনা মহানগর বিএনপি

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই। সবার জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হতে হবে।
ধনী গরীবের বৈষম্য দূর করতে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। কেউ কোটিপতি আবার কেউ দরিদ্র এমন বাংলাদেশ চাইনি।

মাতৃভূমি বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। অনেক কিছু ভাবতাম। তেমন দেশতো গড়তে পারলাম না। তবে একদিন নিশ্চয়ই পারবো।
----------------------------------------------------------

চাই তারুণ্যের পূনর্জাগরণ

http://www.banglanews24.com/1971/images/imgAll/2011December/AD.-Firoz-Ahmed20111215234551.jpg
অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ
মুক্তিযোদ্ধা, খুলনা

ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত একটি শোষণহীন বাংলাদেশ ছিল আমার স্বপ্ন এবং প্রত্যাশা। সে কারণেই একাত্তরে তরুণ বয়সে হাতে রাইফেল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছর পরে এসে দেখছি আমার স্বপ্নগুলো এক এক করে ভেঙ্গে যাচ্ছে।

কোটি কোটি মানুষ এখনও ভূমিহীন। পাকিস্তানী শোষণের মতো অনেক দেশ আমাদের পানি আগ্রাসনে ফেলেছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ইজারার নামে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন করছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবক বেকার। স্বপ্ন পূরণে চাই তারুণ্যের পূনর্জাগরণ।
--------------------------------------------------------------------------------------------------

দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চাই

http://www.banglanews24.com/1971/images/imgAll/2011December/AD-Anayet-Ali20111215235224.jpg
অ্যাডভোকেট এনায়েত আলী
সাবেক গণ পরিষদের সদস্য,
সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান,
খুলনা পৌরসভা

এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে থাকবে না কোন সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, কোন প্রকার নির্যাতন, সমতার ভিক্তিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে নারী পুরুষ নির্বিশেষে বসবাস করবে।

স্বাধীন বাংলাদেশ হয়ে উঠুক স্বনির্ভর, আত্মপ্রত্যয়ী মানুষের দেশ।

দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চাই। সমতা, ন্যায় পরায়ণতা ও সুবিবেচনার মাধ্যমে সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হোক এই আমার প্রত্যাশা।
-----------------------------------------------------------------------

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে চাই
লেফটেনেন্ট রহমাতুল্লাহ দাদু (বীরপ্রতিক)

এখনও আশাভঙ্গ হইনি। যে লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তার বাস্তবায়ন হবেই। স্বপ্নের বাংলাদেশ, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ, আধুনিক জাতি হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরো এগিয়ে যেতে চাই।

এজন্য প্রতিটি মানুষ হবে দক্ষ জনশক্তি, সবসময় ব্যস্ত থাকবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে। সর্বপরি দেশের সব মানুষ যাতে সুখে শান্তিতে বাস করতে পারে এমনই আমার প্রত্যাশা।
----------------------------------------------------------
লক্ষ্য বাস্তবায়নের সময় এসেছে

http://www.banglanews24.com/1971/images/imgAll/2011December/Ashit-sir20111215235102.jpg
শিক্ষাবিদ অসিত বরন ঘোষ
সাবেক সহযোগী অধ্যাপক, খুলনা সরকারী এমএম সিটি কলেজ

স্বাধীনতার চল্লিশ বছরে দেশ অনেক এগিয়েছে, অর্জিত হয়েছে নানা অর্জন। স্বাধীনতার চল্লিশ বছর অতিবাহিত হলেও দেশের জনসাধরণ বস্ততঃ এখনও স্বাধীনতার সাধ পুরোপুরি ভোগ করতে পারিনি। অতীতে নানামুখী অপতৎপরতার চেতনা, স্বাধীনতার স্বপ্ন কিংবা স্বাধীন বাংলাদেশের কাংঙ্খিত লক্ষ্য সমূহ অর্জন সম্ভব হয়নি।

সময় এসেছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার। দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে, নির্বিঘেœ দিন যাপন করতে পারে সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

আমার প্রত্যাশা রাজনীতিবিদরা যেন জনগণ থেকে দূরে সরে না যায়। তাদেরকে জনগণের আরও কাছাকাছি আসতে হবে। ভুলে গেলে হবে না জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।
----------------------------------------------------

সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে

তানভীর হায়দার চৌধুরী
পুলিশ সুপার, খুলনা

বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করে এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। মেধাবী, দক্ষ ও যোগ্য লোককে যথা স্থানে দায়িত্ব দেয়া গেলে দেশ সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে যাবে।

আত্মনির্ভর সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার দূঢ় প্রত্যয় নিয়ে আমি কাজ করে যেতে চাই।

Source: বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম (http://www.banglanews24.com/1971/category.php?catid=1)

idrinkh2O
December 15, 2011, 02:04 PM
আমি যুদ্ধে যাচ্ছি তুই দোয়া করিস (http://www.banglanews24.com/1971/detailsnews.php?nssl=573eec40e4ef4f2089531dd5cbf62 9f8)
ওয়ালিউল্লাহ ওলি

http://www.banglanews24.com/1971/images/imgAll/2011December/JU-Freedom-fighter20111216004152.jpg
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আলাউদ্দিন

যুদ্ধ করে দেশটা স্বাধীন করে এখন আমাদের রিক্সা চালাতে হয়, এতে যত না কষ্ট হয় তার থেকে বেশি কষ্ট হয় যখন রাজাকারেরা এই দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে গাড়িতে করে চলাফেরা করে। ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রিক্সাচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আলাউদ্দিন।

মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিনের বাড়ী নওগাঁ জেলার সাপাহার থানার শিরণটী গ্রামে। তার বাবার নাম লাল মুহাম্মদ। ১৯৭১ সালে ৭ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন তিনি।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর থেকেই যুদ্ধের মানসিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। পাক হানাদার বাহিনীর ২৫ মার্চের নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষিকাজ ছেড়ে চলে যাই ভারতের মালদহের তপন থানার পাড়িলিয়া ক্যাম্পে। যুদ্ধে যাওয়ার আগে মাকে বলি ‘সাড়ে সাত কোটি মানুষের সবাই তো যুদ্ধে যাবে না মা; আমি যুদ্ধে যাচ্ছি তুই দোয়া করিস। তোর আরো দুইটা ছেলে ও একটা মেয়ে থাকল। যাওয়ার সময় মার মনটা একটু খারাপ হল। পরে বলল যা বেটা যা যেতে তো হবেই।

পরে আমি মাকে বললাম, তুই দোয়া করলে আমি স্বাধীন হয়ে ফিরে আসব। মা আমার মাথায় হাত বুলাল দোয়া করে দিল। আমি চলে গেলাম। যাওয়ার সময় পিছন ফিরে দেখলাম মা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি বললাম তুই দেখে আছিস কেন? তুই দোয়া করিস আমি দেশ স্বাধীন করে ফিরে আসব। মা হাসল আর বলল, যা বেটা দোয়া করে দিলাম তোর বিপদ আসলে বিপদ কেটে যাবে। আর পিছনে ফিরে দেখিনি। চলে গেলাম ভারতের মালদহের তপন থানার পাড়িলিয়া ক্যাম্পে।

সেখানে ট্রেনিং নিয়ে রাতে ঢুকতাম দেশে। চালাতাম গেরিলা হামলা। প্রথমে নাজমুল হক ও পরে নুরুজ্জামানের অধীনে যুদ্ধ করি ৭নং সেক্টরের নওগাঁ ও রাজশাহী অঞ্চলে। বরাবরের মতো এক রাতে হামলা চালাতে আসি সাপাঁহারের পাক ক্যাম্পে। এসে দেখি সব ফাঁকা, পাক বাহিনীর কোন চিহ্নও নেই আশেপাশে। পরে জানতে পারলাম যুদ্ধ থেমে গেছে। স্বাধীন হয়ে গেছে বাংলাদেশ। আনন্দে ভরে গেল মন।

নিজের ভাষায় আলাউদ্দিন বলেন, ‘সেদিন যে আনন্দ পাইছিনু এরকম আনন্দ মনে হয় আর কোনদিন পামুনা।’

আলাউদ্দিন আরো বলে, আমাদের দলে ছিল ১০০-১৫০ জনের মত মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে কেউ মারা গেলে আমাদের জানতে দিত না। আমাদের লোকজনই তাদের সরিয়ে নিত। মাঝে মাঝে বড় কোন আক্রমণে গেলে পাশের ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা এসে আমাদের সহযোগীতা করত।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও আলাউদ্দিন অল্প শিক্ষা বলে কোন চাকরি কপালে জোটেনি। জীবিকার তাগিদ থেকে ভাগ্যকে মেনে নিয়ে উপার্যনের জন্য রিক্সা চালাতে শুরু করেন। কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধা বলে তাকে সম্মান করে নওগাঁ এলাকায় তার রিক্সায় কেউ উঠতে চায় না। মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডারা তাকে রিক্সা চালাতে মানা করে। যার ফলে তিনি নওগাঁ ছেড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রিক্সা চালাতে আসেন।

আলাউদ্দিন ক্যাম্পাসের পাশে গেরুয়া গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থাকে নওগাঁয় তার নিজ বাড়িতে। প্রতিদিন তার উপার্জন মাত্র এক থেকে দেড়’শ টাকা। এ স্বল্প উপার্জন দিয়ে তার পরিবার ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে।

সে জানায়, তার এই অসচ্ছল পরিবারকে সচ্ছল করার ইচ্ছা যতখানি তার থেকে বেশি ইচ্ছা জীবিত অবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখে যাওয়া।

তিনি বর্তমান সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুদ্ধাপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবী জানান।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মা শান্তি পাবে এবং সে সব মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছে তারাও মানসিক দিক দিয়ে স্বস্তি পাবে।

idrinkh2O
December 15, 2011, 02:44 PM
1971:

7th March
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/Ep74MqbXEWU" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

27th March: Liberation Declaration of Bangladesh
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/2SzkNUvO1yU" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

Muktijoddha singing national anthem
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/7dpcbJCpBzk" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

Zaheer Raihan tells about pakistan
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/MFqfZ4Uupcs" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

Bangladesh 1971
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/UqV7PiVJRb0" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

Liberation War of Bangladesh: NBC News Footage 1
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/aI3eJGwVVms" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

Liberation War of Bangladesh: NBC News Footage 2
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/ZAHszBa1XXM" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

BANGLADESH GENOCIDE 1971 - DHAKA attack at (3/26/1971)
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/qHlDwu6tigg" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

Bloody Birth of Bangladesh- The Worst Genocide!
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/sbxQdRPHc4w" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

1971- Video Footage From Dhaka
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/5ZWpKm8ydyg" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

1971- British Journalist In Dhaka
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/B5UQViXw6dU" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

Celebrating Victory
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/9XaDD-PDj6Q" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

TV broadcast in 16th December, 1971
<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/x8xQ1cOJnV0" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

idrinkh2O
December 15, 2011, 04:41 PM
:flag:
~ Shuvo Bijoy Dibos! ~ Happy Victory Day, Everyone!~ Shuvo Bijoy Dibos!~


----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
~Bismillahir Rahmanir Raheem!!!~
SubhanAllah, Alhamdulillah, Allahu Akbar!!!
:flag:

Let's do something for our beloved BANGLADESH, inshAllah!
Big or small - it doesn't matter!

Here is the list of ideas that can be implemented at an individual or a collective (team-effort) level: (Feel free to share it with others!)

~ KEEP IT SIMPLE!!!~
~Don't need to wait till you become someone somewhere someday!!!~

- Help out our poor relatives --> and yes, EVERYONE has 'em! (by sponsoring a child's education and so on)

- Develop the area (district) of Bangladesh that we come from (or live in)!
---------> i.e. streets, cricket academy, health clinic, basic adult school, open a computer trainning center, you name it! Trust me, we need help in every sector!

- Open a business in Bangladesh to create jobs!

- Open an institution in Bangladesh to create opportunities for our youth/students!

- Open a non-profit organization (for adult education, clean water projects, sanitation etc.)

- Invest/Donate our time, intellects, expertise, ideas, resources etc. for developing Bangladesh

- Collaborate our work/institution/academy with Bangladesh

--------->Idea 1: If we are in academia of any foreign institutions (UK, US, CAN, AUS etc), we can collaborate with Bangladeshi Universities

--------->Idea 2: During a summer time, we can sponser a project and bring foreign exchange students in Bangladesh. It can increase the awareness of Bangladesh.

--------->Topics of the project may include: Arts, science, culture, language, engineering projects, landscape, environment (pretty much anything!)

--------->Idea 3: Similar to Sundarban study case (can't remember, but I read it in banglanews24.com)

- etc. etc. etc.

- Add your own idea and please share it with us.

~NOW~

LOOK at your LEFT, LOOK at your RIGHT, Now LOOK at yourself in the MIRROR and Point your index finger towards it!
and YES, YOU ARE THE ONE TO CHANGE BANGLADESH!!!

SO, JUST DO IT!!!

Let's change Bangladesh one life at a time, inshAllah!!!

As a reminder to both myself and everyone else, I'll leave you with this thought tonight...

<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/P5vz6iwV38U" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

<iframe width="300" height="215" src="http://www.youtube.com/embed/v2y1pE3yn6M" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

idrinkh2O
December 16, 2011, 04:21 PM
Dear Head-master Bijoy Kumar, thank you so very much for your amazing work and dedication. We salute you. Tumi-e Bangladesh-er sujoggo sontan. Everyone should follow this in Bangladesh! :flag: :applause:

"Amader deshe hobe sei chele kobe
kothay na boro hoye kaje boro hobe"

- Well, amra ekta peye gechi...aro onek laghbe...
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
শ নি বা রে র বিশেষ প্রতিবেদন
মফস্বলে দেশসেরা বিদ্যালয়! (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-12-17/news/209411)
মজিবর রহমান খান, ঠাকুরগাঁও | তারিখ: ১৭-১২-২০১১

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2011/12/16/2011-12-16-17-27-58-4eeb7f9e2fbf8-untitled-3.jpg
শারীরিক কসরতে ব্যস্ত ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আমাদের দেশে শহর বা শহরতলির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই দেশসেরা হবে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাই হবে সেরা মেধাবী—এটা যেন ধরেই নেওয়া হয়। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও আছে। সেই ব্যতিক্রমী একটি
বিদ্যালয় হলো ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

২০০৮ সালে দেশসেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে বিদ্যালয়টি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর স্থানীয়দের চেষ্টার ফসল এই অর্জন।

বিদ্যালয়ে এক দিন:
সম্প্রতি এক সকালে বিদ্যালয়ের চত্বরে ঢুকতেই নজর কাড়ে বিদ্যালয় মাঠের ঝকঝকে পরিবেশ। পতাকা দণ্ডে পতপত করে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা। পাশেই স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ। বিদ্যালয় ভবনের বারান্দায় সাজানো হরেক রকম ফুলগাছের টব।

বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষগুলোর নাম রাখা হয়েছে বিভিন্ন মনীষীর নামে। কক্ষের দেয়ালে তাঁদের ছবিও আঁকা। ছবির পাশে মনীষীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী। মনীষীদের মধ্যে আছেন জাতীয় নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, ভাষাশহীদ বরকত, রফিক, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কবি সুফিয়া কামাল, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া, পল্লিকবি জসীমউদ্দীন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। শিশুদের ছোট থেকেই দেশের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করানোর জন্য আঁকা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিষয়ক নানা ছবি। রয়েছে মনীষীদের বাণী।

বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ কম্পিউটার ল্যাব হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেখানে রয়েছে তিনটি কম্পিউটার। তৃতীয় শ্রেণী থেকেই এখানে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক।

পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে ই-বুকের মাধ্যমে গণিত বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা আক্তার। ‘আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করতে নিয়মিত মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হয়। এতে অমনোযোগী শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।’ জানালেন তিনি।

বিদ্যালয়ের কার্যালয় কক্ষটি সাজানো বিভিন্ন স্মারক ও পুরস্কার দিয়ে। তিনটি আলমারিতে শিশুমানস বই ও শিক্ষা উপকরণ। দেয়ালে সেঁটে দেওয়া তথ্যবোর্ড। সেখানে দেওয়া তথ্যমতে, বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী ৮৩৭ জন। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ২০১০ সাল পর্যন্ত এই বিদ্যালয়ের ২৩৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। ২০১০ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ১৪২ জন শিশু অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে।

বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণীতে মোট ১১টি শাখা। প্রতিটি শাখায় ন্যূনতম ৫০ জন শিক্ষার্থী। সবগুলো শাখায় আছে একজন করে ক্যাপ্টেন। শিক্ষার্থীদের খাওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে রয়েছে একটি ক্যানটিন। প্রতিটি শ্রেণীকক্ষেই আছে পানি খাওয়ার ব্যবস্থা।

প্রতিষ্ঠাকালের কথা:
১৯৩০ সালের দিকে রানীশংকৈলের পালপাড়া গ্রামের চন্দ্র হরিপাল নিজ বাড়িতে একটি পাঠশালা খোলেন। নাম দেন ‘চন্দ্র হরির পাঠশালা’। তাঁর মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে যায় পাঠশালাটি। ১৯৩৫ সালে ওই গ্রামের সহোদর চিকিৎসক ধীরেন্দ্রনাথ রক্ষিত ও সুরেন্দ্রনাথ রক্ষিতের দান করা এক একর পাঁচ শতক জমিতে বিদ্যালয় করা হয়। তবে নাম দেওয়া হয় রানীশংকৈল প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৯২ সালে উপজেলার মডেল বিদ্যালয় করা হয়।

বদলের শুরু:
বিদ্যালয়ের বয়োজ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা রেবা রানী রায় জানালেন, ১৯৯২ সালে বর্তমান প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার যোগ দেন। তখন বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে তাঁর মন খারাপ হয়ে যেত। পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ নেই, মাঠের নোংরা আবর্জনার দুর্গন্ধ। একদিন স্কুলের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ডেকে প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘বিদ্যালয়টি কার?’ উত্তরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে বলল, ‘আমাদের’। তিনি জানতে চাইলেন, তাহলে বিদ্যালয়ের মাঠ এত নোংরা কেন? এরপর প্রধান শিক্ষক নিজেই বললেন, ‘আজ আমরা মাঠের মাত্র চার হাত জায়গা পরিষ্কার করব।’ এই বলে তিনি মাঠ পরিষ্কার শুরু করলেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই। সেই শুরু বিদ্যালয়ের বদলে যাওয়া।

এরপর প্রধান শিক্ষক এলাকার সুধীজনদের নিয়ে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা চাইলেন। সেদিনই সুধী সমাজের সহায়তায় বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়। পরে সবার সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয় দুটি শ্রেণীকক্ষ। প্রধান শিক্ষকের পরিকল্পনায় শিক্ষকেরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাড়ি পরিদর্শন করে কথা বলেন অভিভাবকদের সঙ্গে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত ‘মা’ সমাবেশ শুরু হলো। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ বাস্তবায়িত হলো বিদ্যালয়ে। উপজেলার সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে সর্বজনীন একটি কমিটি করা হলো। সবার সহযোগিতায় শিক্ষার চমৎকার পরিবেশ নিশ্চিত হলো, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়ে গেল, ফলও ভালো হতে থাকল।

অন্য বিদ্যালয় থেকে আলাদা:
বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে কল্যাণ সমিতি ও শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি।

২০০৮ সালে প্রতিটি অভিভাবকের কাছ থেকে মাথাপিছু অতিরিক্ত দুই টাকা করে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কল্যাণ সমিতির তহবিল। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের জমিতে ভাড়া দেওয়া চারটি দোকান থেকে ভাড়া ও প্রতি মাসে কিছু অনুদান এই তহবিলে জমা হয়। সেই তহবিল থেকে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ওই তহবিল থেকে চলতি মাসে ১৩৩ জন শিক্ষার্থীকে নতুন পোশাক ও একজনকে চিকিৎসা-সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দরিদ্রদের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে বই-খাতা ও কলম।

বিদ্যালয়ে কম্পিউটার, শরীরচর্চা ও নাচ-গানের জন্য তিন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাখা হয়েছে নৈশপ্রহরী, অফিস সহকারী ও দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য রাতে আড়াই ঘণ্টা পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আছে জেনারেটর। রাতে অতিরিক্ত চারজন শিক্ষক এই শিক্ষার্থীদের পড়ান। এসব খরচ মেটানো হয় কল্যাণ তহবিল থেকেই।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের মুঠোফোন নম্বর বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। উপস্থিতি বাড়াতে পরীক্ষায় উপস্থিতির ওপর সংরক্ষিত রাখা হয়েছে ৫০ নম্বর।

বিদ্যালয়ের অর্জন:
রানীশংকৈল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উকিল চন্দ্র রায় জানান, ২০০৮ সালে রানীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দেশের সেরা বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিদ্যালয়টি ২০১০ সালে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ক্যাটাগরিতে রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করে।

শিক্ষার্থীদের কথা:
চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া জান্নাতি বলে, ‘বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষকদের ব্যবহার সব সময় আমাদের আকৃষ্ট করে। পড়া না বুঝলে স্যার-আপারা কখনোই বিরক্ত বোধ করেন না, বারবার বুঝিয়ে দেন।’ পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রাফি তোরাব বলে, ‘আমি ঠাকুরগাঁও শহর ছেড়ে এখানে পড়তে এসেছি। বিদ্যালয়টি ভালো বলে বাবা আমাকে এখানে পাঠিয়েছে।’

প্রধান শিক্ষক যা বলেন:
প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার এই সাফল্য সম্পর্কে বলেন, ‘নিজের কাজটুকু সব সময় যত্ন দিয়ে করতে হয়। একজন মানুষের পেশা ও নেশার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে ভালো কিছু করতে পারে না। আমি পেশাকে নেশা হিসেবে নিয়েছি। আর এত সাড়া দিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার সুধীজন। সবার সহায়তায় এ সাফল্য।’

তাঁদের কথা:
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও রানীশংকৈল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সইদুল হক বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আমি গর্বিত। যেকোনো ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষা ধরে রাখতে চাই।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম তৌফিকুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়টি সারা দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

simon
December 21, 2011, 02:55 PM
Sakib is the n°1 Test AR now :D :joy: :fanflag:
http://www.relianceiccrankings.com/ranking/test/all-rounder/

nakedzero
December 22, 2011, 01:23 AM
Sakib is the n°1 Test AR now :D :joy: :fanflag:
http://www.relianceiccrankings.com/ranking/test/all-rounder/

Feeling really really great awesome, it has made my day, truly :up:

idrinkh2O
January 10, 2012, 07:17 PM
Tourism in Bangladesh: problems and prospects (http://newagebd.com/newspaper1/special/45765.html)
by Ziaul Haque Howlader

http://newagebd.com/newspaper1/thumbnail.php?file=04_01_2012_____sub____13_227257 677.jpg&size=article_medium

Forty years has elapsed of Bangladesh’s tourism industry, yet we still see it in a nascent position in comparison to our neighbouring countries. Despite having all the potential to flourish, tourism in this country has been growing at a very slow pace. Bangladesh is not known as a tourist destination in the international tourism market. Only 3 lacs foreign tourists came to Bangladesh in 2010, of which more than 70 percent came for business and official purposes. The contribution of the earning from tourism to the country’s GDP is less than 1 percent. The sector got recognition as an industry in 1999. But it never received attention from the government to become a vibrant industry. Whereas many countries which started much later than Bangladesh, for example – Maldives, Malaysia, Vietnam, Cambodia, Laos PDR - have developed their tourism industry much faster than this country. In 1998 Bangladesh received 171,961 tourists and Cambodia received only 96,000 tourists. After 11 years in 2009, Bangladesh could attract only 267,000 tourists and Cambodia more than 2 million tourists. This comparison indicates discrepancy in the degree of initiative by two different countries within a same span of time.

The lack of development of the tourism industry of Bangladesh can be attributed to multiple reasons like less-prioritisation of tourism by all previous governments, lack of budgetary allocation and scarcity of trained people in the industry. There is also a lack of publicity and marketing activities. We lag behind in projecting our attractions to international tourists through advertisements in international print and electronic media, as our neighbouring countries do. We have to do this for enhancing the positive image of our country and for introducing our prime tourist attractions as well as our vibrant culture. But, there is a lack of sufficient budgetary allocation. We need to develop an effective brand name for tourism. We have never tried to understand that branding not only helps tourism of the country, it encourages foreign investment as well. A tourism branding campaign called ‘Beautiful Bangladesh’ has been developed, but according to the tourism stakeholders of the country it does not wholly reflect the tourist attractions of the country. Tour operators who bring foreign tourists are raising demands to mend it. Bangladesh, which has so many positive aspects, needs to rebuild its brand as a country. Apart from the meagre budgetary allocation of the government, appropriate plans and programmes for tourism development - short term, long term and medium term - was absent before 90’s. Furthermore, in the planning process there were lots of discrepancies. Due to the absence of proper planning, even some infrastructure developments that require a small budget could not be accomplished. For attracting more foreign tourists, we need to turn tourist attractions into tourism products i.e. finished products to sell. Appropriate infrastructural development, super-structure development, introduction of waste management systems and sustainability of the tourist attractions for our future posterity are most essential.

We name Cox’s Bazar as our tourist capital but recreational activities on the beach are very scanty. Tourists do not find any night-life activities, after spending the day at the beach, but to sleep in hotel rooms. We should understand that tourists do not come here to sleep idly in a hotel. They love to remain busy through experiencing different memorable activities. We need to make the tourists busy in different activities all the time and bring out money from their pockets. Tourists come to spend money not take it back. On the other hand, whatever development has taken place at Cox’s Bazar is unplanned and uncontrolled. Appropriate regulation is absent there. Still there is no proper water and sewerage system; gas connection is absent; only a limited number of flights land there. Kuakata – a second priority beach for tourists – cannot be reached very easily. Though road communication has improved from before, tourists tend to avoid going there more than once, due to the lack of standard facilities. The archaeological sites in the north-west of Bangladesh are also popular with tourists. But, due to the absence of interpreters and facilities, tourists do not make overnight stays. Every year many domestic and foreign tourists visit Paharpur – a world heritage site. They can reach Paharpur in the late afternoon by starting very early from Dhaka. But after a short while at Paharpur, the sun sets. So they become worried where to make a night halt, because there are no hotels at Naogaon or Joypurhat district town. At the other famous archaeological sites, proper interpretation signage and educated guides are not found. Sufficient numbers of litter bins are not installed along the sites.

Infrastructure development is sine-quo-non for the sustainable tourism development of any country and Bangladesh is also no exception. Tourism friendly infrastructure is required for smooth and free movement of tourists of all ages, and even for the physically challenged tourists. In view of this, Bangladesh needs to develop accommodations, eateries, good communication and transportation systems, toilet facilities, parking facilities etc. near the tourist spots of the country. It needs to develop international standard facilities at all the tourist spots of Bangladesh.

For promotional campaigns and the marketing of Bangladesh tourism abroad, we need to provide guidelines to the

economic councillors and visa officers of the foreign missions of Bangladesh so that they can encourage foreign tourists to visit Bangladesh. Or, we can establish tourism offices in the tourist generating countries like China, UK, USA, Japan, Australia, because these countries produce more than 70 percent of the world’s outbound tourists. We lack a marketing strategy which causes the absence of proper marketing initiatives for tourism products of the country.

We need to diversify our tourism products to attract tourists and encourage them to make repeated visits. We can segment our tourism regions in different categories, so that tourists can be interested to visit many different places. We need to develop tourism products based on archaeology, culture and monument, river, tea garden, indigenous culture etc. We may develop MICE tourism as has been developed by Singapore, Korea, China and other countries of Asia. Many multinational companies of Bangladesh hold their AGM and other meetings in those countries, as well as organise recreational activities there. In this regard, we need to develop many condominiums, international convention centres etc in Dhaka and Cox’s Bazar. If we can ensure them these facilities, they won’t fly to other countries.

There is a great potential to promote sports tourism in Bangladesh. We can develop venues and infrastructure in the country. Some cricket venues have already been developed. But, more venues need to be established in various places of the country like Cox’s Bazar (the world’s longest sea beach), Kuakata, Comilla, Barisal, Dinjapur etc. For the development of sports tourism we can seek both local and foreign investment. This way we shall be able to reap benefits. Also, by developing sports tourism we can help develop many backward linkage sectors in the country. Besides, this will help the creation of many informal jobs like tea vendors, food corners, betel shops, hawkers etc. A policy framework is necessary to be developed, and strong coordination amongst the concerned departments is required.

We should also emphasise on domestic tourism. Without the development of domestic tourism it is hard to attract foreign tourists. When local people movements start from one place to another, confidence of investors will grow.

Bangladesh should also take initiatives for eco-tourism development in the country especially in the naturally and culturally rich areas. Sylhet and Chittagong Hill Tract (CHT) regions of Bangladesh are paradises for eco-tourism activities. On the other hand, Sundarbans is the gold mine for eco-tourism. It is the single largest mangrove forest in the world. It has been designated as a world heritage site since 1997. The world’s second largest mangrove forest is Mastang in Malaysia, which is only one-tenth the size of the Sundarbans. To develop eco-tourism in the Sundarbans, we can install some world class cruise vessels to take tourists to the forest. But we should keep in mind that the eco-system of the Subdarbans is not disturbed. We can also develop eco-tourism at St. Martin’s island which will help protection of the island. Eco-tourism development will help us preserve our rich cultural heritage for the benefit of our future generations. Different policy approaches are required in this regard. Controls of visitors, enforcement of tourist movement guidelines and waste management facilities are required for eco-tourism development.

Safety and security of the tourists should be given the utmost priority. Forming only tourist police cannot solve the problem. Proper orientation should be given to police so that they can behave properly with tourists. The local people have to be involved in this process. When local people would find benefits from tourist activities, they would safeguard the tourists as well as the tourist attractions. Local people at tourist sites have always been neglected. We see that local people get little benefit from the tourism activities in their own areas. For instance, the indigenous and ethnic minority people of Rangamati or Bandarban get very little trickle down benefits from the tourism activities over there. They were never included in the tourism planning and development processes. They have not been properly informed of the value of the tourism resources or to take pride in their own areas. When local people get involved with tourism activities in their localities, a sense of ownership of the tourist attractions grows in them. They become aware of the need to protect and conserve the attractions.

Bangladesh also needs to change its visa policy. It may go for visa waivers for the top tourist generating countries and introduce visa on arrival systems for tourist groups. Nepal provides us visa on arrival but we don’t reciprocate, which hinders tourist to come from Nepal. Immigration formalities at the land ports should also be simplified for foreign tourists.

The foreign currency earning goods of Bangladesh like RMG, shrimp, jute items are now facing stiff competition from other countries. In response, tourism can be an export item to support earning foreign currency for the country. We must know that, in this era of economic globalisation, tourism is considered to be one of the fastest growing and ever-expanding industries and also demonstrates a resilient character. It is a labour-intensive industry that creates hundreds of jobs every year across the world. Tourism is a great tool for poverty alleviation. It helps reduce poverty to a great extent by involving local people and creating job opportunities. Tourism jobs and businesses are usually created in the most underdeveloped regions of a country which helps to equalise economic opportunities throughout a nation, providing an incentive for residents to remain in rural areas rather than move to overcrowded cities. The tourism industry provides the government with hundreds of millions of dollars in tax revenues each year, through accommodation and restaurant taxes, airport users’ fees, sales taxes, park entrances fees, employees’ income tax and many other fiscal measures.

Bangladesh Parjatan Corporation, since its inception in 1972, has created some tourist facilities in different tourist attractions of the country, and has been carrying out some promotional and marketing activities. BPC currently provides tourist facilities to domestic and international tourists in the form of hotels, motels, restaurants, cottages etc. But, this is not enough. There are a lot of things to do. Creation of hotels, motels is not the only aspect of tourism development. We need to do more, including the creation of public awareness. We need proper planning. And for proper planning, extensive research is necessary. Continuous research on tourist trends, market segments and diversification and vulnerability of tourism products is required. We should be vigilant so that ugly tourism can not flourish here. Exploitation, prostitution and child abuse in tourism should be checked constantly. We should follow the Global Code of Ethics for Tourism set by the UNWTO. We should move forward with a holistic approach for tourist satisfaction as well as preservation and conservation of the tourism products of the country. Only a single ministry or department cannot accomplish all these tasks. Cooperation from other departments is necessary.

The writer is Deputy Manager, Planning and Training Department of Bangladesh Parjatan Corporation
-------------------------------------------------------------------------------

Problems and prospects of archaeological tourism in Bangladesh (http://newagebd.com/newspaper1/special/45764.html)
by Md Kashedul Wahab Tuhin

http://newagebd.com/newspaper1/thumbnail.php?file=04_01_2012_____sub____12_281963 142.jpg&size=article_medium

With the growth of world tourism, Bangladesh is becoming a new destination in the world tourist map. According to UNWTO, the top 15 destinations absorbed 98 percent of all international tourist arrivals in 1950. In 1970 the proportion was 75 percent, which fell further to 57 percent in 2007. This reflects on the emergence of new destinations, many of them in developing countries. Bangladesh has ample opportunity of becoming a tourist nation as it has archaeological, natural, ecological, cultural and other tourism products to attract tourists. National Tourism Policy 1992 of Bangladesh has addressed the issue of the contribution of tourism in poverty reduction. Considering its potential significance in the national economy, Industrial Policy of 1999 has also included tourism as a thrust sector. Archaeological tourism in Bangladesh, as a segment of the larger tourism industry, can be the major contributor to total tourism earnings. Foreign tourists coming to Bangladesh choose to see archaeological and historical places first, while their second choice is scenic beauty.*


What is archaeological tourism?

Archaeological tourism has been developed throughout the world as an important segment of the tourism industry. According to Wikipedia, ‘Archaeotourism or Archaeological tourism is a form of cultural tourism, which aims to promote public interest in archaeology and the conservation of historical sites’. Archaeological tourism (sometimes labelled ‘archaeotourism’) is travel that focuses on visiting and experiencing ancient sites and historical places. There is a fine line between promoting an area’s cultural heritage through archaeological sites and the risk of becoming invasive tourism causing more damage to them. It may include visits to museums, places of historical significance, historically and archaeologically focused parks, and even attendance at traditional dances, festivals and other events. The scope of archaeological tourism has grown dramatically in recent years. It is often incorporated into the field of ecological tourism, geotourism and heritage tourism.


Reasons for archaeological tourism:

Hundreds of thousands of tourists now visit archaeological sites annually and archaeological tourism has become a lucrative business. The motivating forces behind archaeological tourism are a passion for the past and an interest in learning about the ancient or historical cultures that inhabited the area being visited. People are fascinated with ancient and historical remains. Archaeological tourism lets visitors experience the past and allows them to share the thrill of

discovery. ‘Archaeotourists’ are also attracted by the exotic (and often hard to access) nature of the locations in which many archaeological sites are found, as they desire unique experiences.

Archeological tourism is also education and research based tourism. The, sometimes inaccessible, nature of archaeological sites often adds to the sense of adventure and knowledge. It may be a means for tourists to satisfy their curiosity regarding ancient sites or it may be for the purpose of educating tourists who may be students and scholars.


Archaeological tourist attractions of Bangladesh:

Bangladesh is a country considerably rich in archaeological wealth, especially from the medieval period, both during the Muslim and pre-Muslim rules. Most of it is still unexplored and unknown. The earlier history of Bangladesh reveals that Buddhism received royal patronage from some important ruling dynasties like the great Pala rulers, the Chandras and the Deva Kings. Under their royal patronage numerous well-organized, self-contained monasteries sprang up all over the region. The major archaeological sites are described below.


Paharpur:

Paharpur is a small village 5 km west of Jamalganj in the greater Rajshahi district. This 7th century archaeological find covers an area of approximately 27 acres of land. The entire establishment, occupying a quadrangular court and measuring more than 900 ft externally on each side, has high enclosure-walls about 16 ft in thickness and between12 ft and 15 ft in height. With an elaborate gateway complex to the north, there are 45 cells on the north and 44 in each of the other three sides, totalling to 177 rooms.


Mahasthangor:

Mahasthangor, the oldest archaeological site in Bangladesh is on the western bank of river Karatoa, 18 km north of Bogra town, beside Bogra-Rangpur Road. The spectacular site is an imposing landmark in the area with a fortified oblong enclosure measuring 5000 ft by 4500 ft, with an average height of 15 ft from the surrounding paddy fields. Beyond the fortified area, other ancient ruins are scattered within a semicircle of about five miles radius. Several isolated mounds, the local names of which are Govinda Bhita Temple, Khodai Pathar Mound, Mankalir Kunda, Parasuramer Bedi, Jiyat Kunda etc surround the fortified city.


Mainamati:

An isolated, low and dimpled range of hills dotted with more than 50 ancient Buddhist settlements from the 8th to 12th century AD, known as Mainamati-Lalmai range, extend through the centre of the district of Comilla. Salban Vihara, almost in the middle of the Mainamati-Lalmai hills, consists of 115 cells built around a spacious courtyard with a cruciform temple in the centre facing its only gateway complex to the north, resembling that of the Paharpur monastery. Kotila Mura, situated on a flattened hillock about 5 km north of Salban Vihara inside the Comilla Cantonment area, is a picturesque Buddhist establishment. Here three stupas are found side by side representing the Buddhist ‘Trinity’ or three jewels i.e. the Buddha, Dharma and Sangha. Charpatra Mura is a small isolated oblong shrine situated about 2.5 km north-west of the Kotila Mura stupas. The only approach to the shrine is from the east through a gateway which leads to a spacious hall. The Mainamati site museum has a rich and varied collection of copper plates, gold and silver coins and 86 bronze objects. Over 150 bronze statues (mostly from the monastic cells), bronze stupas, stone sculptures and hundreds of terra-cotta plaques have been recovered, each measuring an average height of 9 ft and width of 8 to 12 ft.


Shait-Gumbad Mosque, Bagherhat:

In the mid-15th century, a Muslim colony was founded in the inhospitable mangrove forests of the Sundarbans, near the sea coast in Bagherhat district, by an obscure saint-general named Khan Jahan Ali. He was the earliest torch bearer of Islam in the south who laid the nucleus of an affluent city during the reign of Sultan Nasiruddin Mahmud Shah (1442-59), in a place then known as ‘Khalifatabad’ (presently Bagherhat). Khan Jahan adorned his city with numerous mosques, tanks, roads and other public buildings, the spectacular ruins of which are focused around the most imposing and largest multi-domed mosque in Bangladesh, known as the

Shait-Gumbad Masjid (160ft x 108ft). The mosque is roofed over with 77 squat domes, including 7 chauchala or four-sided pitched Bengali domes in the middle row. The vast prayer hall, although provided with 11 arched doorways to the east and 7 each to the north and south for ventilation and light, presents a dark and sombre appearance inside. It is divided into 7 longitudinal aisles and 11 deep bays by a forest of slender stone columns from which spring rows of endless arches supporting the domes.


Kantanagar Temple, Dinajpur:

The most ornate among the late medieval temples of Bangladesh is the Kantanagar temple near Dinajpur town. It was built in 1752 by Maharaja Pran Nath of Dinajpur. The temple, a 50 square ft three storied edifice rests on a slightly curved and raised plinth of sandstone blocks, believed to have been quarried from the ruins of the ancient city of Bangarh near Gangarampur in West Bengal. It was originally a navaratna temple, crowned with four richly ornamental corner towers on two floors and a central one over the third floor. Unfortunately these ornate towers collapsed during an earthquake at the end of the 19th Century. In spite of this, the monument rightly claims to be the finest extant example of its type in brick and terra-cotta built by Bengali artisans.


Sonargaon:

About 27 km from Dhaka, Sonargaon is one of the oldest capitals of Bengal. It was the seat of Deva Dynasty until the 13th century. From then onward till the advent of the Mughals, Sonargaon was the subsidiary capital of the Sultanate of Bengal. Among the ancient monuments still intact is the Tomb of Sultan Ghiasuddin (1399-l 409 AD) the shrines of Panjpirs and Shah Abdul Alla and a beautiful mosque in Goaldi village.

Problems of archaeological tourism:

Archaeological sites are fragile resources susceptible to damage caused by changes to their environment. When tourism is unregulated, sites can be damaged. People interested in visiting the sites must be made aware of the fragility of these resources.

Looting and vandalism is another problem of archaeological tourism. Increased awareness of a site could attract looters and vandals. Good site-management plans should provide for site security.

Maintaining quality and authenticity of archaeological sites is an important aspect of archaeological tourism. Archaeological sites represent the contributions of previous generations and the history and culture of a community, which should be presented as it is. Bangladesh is facing scarcity in proper excavation, planning and budget allocation in this regard. Incorrect and inadequate interpretation of a site detracts from the overall enjoyment for visitors. Proper interpretation involves training tour guides and using appropriate and accurate signage, which must be integrated into archaeological tourism programs.

An educated community is essential for preserving archaeological sites, which is really rare in Bangladesh. A community that values and protects its archaeological infrastructure will contribute to the successful development of a project with funds, volunteers and political support.

As a major segment of the tourism industry, archaeological tourism is becoming popular and the number of people engaged in it continues to grow. The government should come up with the necessary policy statements and accompanying guidelines. Proper guidelines and ‘good practice’ will minimize the adverse impact and encourage the creation of comprehensive tourism plans that take into consideration the archaeological sites, the environment and the community around it. New strategies and integrated tourism marketing efforts are required. In order to compete with world tourism, archaeological sites of Bangladesh should be represented with authenticity and quality, along with offering support, facilities and augmented products and services.

The writer is lecturer in Department of Marketing, Comilla University

Reference:
Muhammad Mahboob Ali and Rehana Parvin (2010), ‘Strategic Management of tourism sector in Bangladesh to raise gross Domestic Product: An Analysis’, Office of Research and Publications (ORP) American International University-Bangladesh (AIUB), Working Paper No. AIUB-BUS-ECON-2010-04.
-----------------------------------------------------------------------------------------------

The land of beauty (http://newagebd.com/newspaper1/special/45755.html)
by Mahfuzul Haque

Bangladesh, a South-Asian country wrapped up with great streaming rivers, is indeed a land of green and natural beauty. The land possesses the longest sea beach and is home to the Royal Bengal Tiger. Sundarbans is also the biggest mangrove forest in the world. The country, once part of undivided Bengal, is proud of her beautiful heritage and historical relics. Having a population of diverse religions along with tribal people, the land has rich culture and deep-rooted traditions.

Bangladesh has a long past of peace and turmoil, prosperity and destitution. Evidence shows that the country experienced the presence of different nations, like the Mongolians. Then the Aryans came from Central Asia and the Dravidians from Western India in the fifth and sixth centuries BC. The Guptas, Palas, Senas who were Buddhists and Hindus came later to this land. In the 13th century Muslim invaders came and started to reign. After almost 200 years, Europeans such as Portuguese, Dutch, French and British traders came and exerted influence over the region. The British ruled the nation for almost two centuries and in 1947 the country divided into India and Pakistan. After a nine month long liberation war with Pakistan, Bangladesh emerged as an independent nation on the world map in 1971. To experience the diversity of the land anyone is welcome to simply step in.


How to come in Bangladesh

Bangladesh is connected to the international network through services of different national and international airlines. Some of these airlines also have domestic services in the periphery of the country as well.


Qatar Airways

Qatar Airways, a Qatar-based company, flies to over 100 destinations across six different continents, and is currently operating 11 flights every week from Bangladesh to its hub in Doha.


Regent Airways

In the domestic network Regent Airways operates five flights daily to Chittagong, twice daily to Jessore, and once daily to Cox’s Bazar and Sylhet. They are also planning to expand into international operations.


Jet Airways

Bangladesh is also connected with services by Jet Airways that connects 24 international destinations. Jet Airways is currently operating 21 flights every week from Dhaka to different international destinations.


Saudi Arabia Airlines

Saudi Arabia Airlines is also operating 11 passenger flights a week between Dhaka and the Kingdom of Saudi Arabia (KSA). During the Hajj season, the airlines generally add extra flights to transport pilgrims from Bangladesh.


United Airways

A tourist can also come to Bangladesh with United Airways. It has flights in both international and domestic routes. In the international routes it has flights to London, Dubai, Jeddah, Kuala Lumpur, Kathmandu, Kolkata and Bangkok. In the domestic routes it has flights from Dhaka to Chittagong, Sylhet, Jessore, Cox’s Bazar, Rajshahi and Saidpur.


RAK Airways

RAK Airways has flight services in Kozhikode, Jeddah, Dhaka, Chittagong, Cairo, Doha, Lahore, Peshawar, Kuwait and Khartoum. The airline offers free parking for passengers who wish to drive to RAK International Airport, 30 minutes away from Sharjah and 45 minutes away from Dubai.


Biman Bangladesh

Biman Bangladesh, the national airlines of Bangladesh, has connections to 18 international destinations in Asia and Europe. It also has domestic connections from Dhaka to Chittagong, Sylhet and Cox’s Bazar.


Etihad Airways

Etihad Airways, the national airline of the United Arab Emirates, offers splendid hospitality. It offers direct flights to Bangladesh in addition to indirect flights on a daily basis.


Where to stay in the city

The city has some splendid hotels where a guest can find spectacular arrangements and hospitality.


Pan Pacific Sonargaon Dhaka

The Pan Pacific Sonargaon, a five-star hotel, is located in the centre of Dhaka just 18 kilometres from the airport. The hotel offers world-class hospitality for business and leisure travellers. It has a fully equipped gymnasium, sauna, steam room and massage treatments. It also has an impressive swimming pool. The hotel offers food for different tastes with its food and beverage outlets including Café Bazar, Ciao Bistro, Oriental Jharna, Pool Café and a meeting place Lobby Lounge. It also has an extensive modern hall which can accommodate 1500 guests at a time, dine 800 guests in one sitting and can be divided into three equal parts.


Dhaka Regency

Dhaka Regency is a new-generation business class hotel located on airport road in the capital. It is only a three-minute drive away from the airport. Along with the splendid hospitality, the hotel offers a host of other attractions such as 24-hour multi-cuisine dining, live performance bar lounge, Thai spa centre, health club and a Mediterranean hookah lounge. Dhaka Regency also has a limousine facility, business centre and swimming pool etc.

Ruposi Bangla

Ruposi Bangla (formerly Dhaka Sheraton Hotel) is a five-star hotel located in the centre of the capital, just 18 kilometres from Hazrat Shahjalal International Airport. It offers magnificent hospitality with facilities of shopping, recreation, entertainment and transportation.


Radisson Blu Water Garden Hotel

Radisson Blu Water Garden Hotel Dhaka has a comprehensive range of facilities and amenities. With its magnificent atmosphere the hotel provides guests wireless internet access in public areas, a business centre with board rooms and secretarial services. The hotel also has a pool area and health club.


The Westin Dhaka

Just eight kilometres far from the airport, The Westin Dhaka is a five-star hotel that offers guests homely hospitality. It has the facilities of transportation, business services, entertainment and high speed internet.


Hotel Sarina Dhaka

Hotel Sarina Dhaka is located in Banani of the capital. The hotel features 201 rooms and suites with impressive decoration. Dining outlets include Italian, Indian and international food items. The business centre is available to guests all the time and includes private meeting rooms, satellite video conferencing etc.


Platinum Suites

Platinum Suites, is located in Banani in the city, only ten kilometres from Shah Jalal International Airport and offers guest splendid hospitality, management and design. In addition to its varied flavour of foods the hotel offers access to fitness centre, limousine service on rental basis etc.



Arunima Countryside & Golf Resort

Arunima Countryside & Golf Resort,

an agro-eco-sports & riverine resort, is located in Narail. The resort provides residences with traditional comfort. The beds of this resort are made of wood, bamboo or cane. There are some cottages made of wood known as Chalet. These south faced cottages that have a portion extended on a pond are adventurous places. The resort also has some floating cottages known as ‘Boat House’. It also provides a variety of delicious local and foreign foods. Horse and cart riding facilities are also available, along with a golf course, tennis court and other sports facilities.


The places a tourist can visit

To enjoy the beauty of the land, a tourist can visit places in Dhaka as well as other locations in the country.


Dhaka

Dhaka, the capital of Bangladesh, has a long history, heritage and culture of 400 years. Lalbagh Fort, Ahsan Manjil, National Botanical Gardens, Central Shaheed Minar and National Martyr’s Memorial are symbols of some of the history. Muslin is another historical pride of the city. Tourists can buy muslin from Narayangong, an hour drive from the heart of Dhaka. In the city there are some modern entertainment hubs like Nandan Park and Fantasy Kingdom. Nandan Park offers rides like cable car, water coaster, tilt-a-whirl, ice land, musical dancing fountain, wave pool etc.


Sonargaon

Sonargaon, the old capital of Bengal, is near Dhaka city and can be visited to relish the history of Bangladesh. It was the subsidiary capital of the Sultanate of Bengal. The tomb of Sultan Ghiasuddin (1399-l409 AD), the shrines of Panjpirs and Shah Abdul Alla and a beautiful mosque in Goaldi village are some of the ancient monuments which are still undamaged.


Mainamati

Mainamati, a place with remnants of Buddhist civilisation, is located in Comilla, 114 kilometres southeast of Dhaka. The place is a treasure trove of early Buddhist culture. It bears the existence of more than 50 ancient Buddhist settlements from the 8th to 12th century AD. The Mainamati site museum has a rich and varied collection of copper plates, gold and silver coins and 86 bronze objects. Over 150 bronze statues (mostly from the monastic cells), bronze stupas, stone sculptures and hundreds of terracotta plaques have been recovered, each measuring an average height of 9 ft and width of 8 to 12 ft.


Cox’s Bazar

Cox’s Bazar, the tourist capital of Bangladesh, has the longest unbroken sea beach sloping down to the blue waters of the Bay of Bengal, and is indeed a place to enjoy the spectacular beauty of nature. One can visit a number of other fascinating spots in Cox’s Bazar like Himchhari, Teknaf, Inani beach, Buddhist temple at Ramu and islands such as Sonadia, St Martin and Moheskhali.


Sundarbans

Located about 320 kilometres south-west of Dhaka, Sundarbans, the biggest mangrove forest in the world, are criss-crossed by rivers and creeks. Tides flow in two directions within the same creek in this forest, which is also home of the Royal Bengal Tiger. Deer, monkeys and snakes are among other wildlife in this forest.


Bandarban

Ninety two kilometres away from the port city Chittagong, Bandarban is surrounded by green hills, and is the home of tribes like Mogh, Murang, Marma who are famous for their own rituals and culture. The highest peak of Bangladesh Tajingdong is also located in this district.


Rangamati

Rangamati , the other hilly district of Bangladesh, is famous for its beautiful landscape. The tribal life, tribal museum, homespun textile products, hanging bridge are the unique attractions of the place.


Patuakhali

In Patuakhali, also known as sea queen, there is a beach where one can enjoy the unique opportunity of seeing both the sun rise and sun set. The beach is located at a distance of 70 km, from the district headquarters.


Kantanagar temple, Dinajpur

The century old Kantanagar temple is located near Dinajpur town, which was built by maharaja Pran Nath of Dinajpur in 1752. The temple is still considered the finest of its type of terracotta, built by local artisans.


Rajshahi

Rajshahi, the northern city of Bangladesh, bears the debris of glorious periods of Bengal’s Pala dynasty. It is famous for pure silk and mangoes. Verandra Research Museum at the heart of the city is a home of rich archaeological finds. There are also a number of ancient mosques, shrines and temples in and around Rajshahi.


Mahasthangarh

Mahasthangarh, 18 kilometres north of Bogra town, is the oldest archaeological site of Bangladesh established in 3rd century BC. The historical site is equipped with a fortified oblong enclosure measuring 5000 ft by 4500 ft, with an average height of 15 ft from the surrounding paddy fields. Beyond the fortified area there are several isolated mounds where there are Govinda Bhita Temple, Khodia Pathar Mound, Mankalir Kunda, Parasuramer Bedi and Jiyat Kunda surrounding the fortified city.


Paharpur

Paharpur is an archaeological site located in the greater Rajshahi district. Known as Somapura Mahavira, it was built by the Pala emperor Dharmapala (AD 770-810). The monastery is quadrangular, with a colossal temple with a cross-shaped floor plan in the centre of the courtyard and an elaborate gateway complex on the north. There are 45 cells on the north and 44 in each of the other three sides, making a total number of 177 monastic cells along the enclosure walls on the four sides.


Sylhet

Sylhet, the district of natural beauty, is famous for its tea gardens, orange groves and hills covered with tropical forests and beautiful landscapes. Srimangal in Sylhet, is the main tea centre of the area. The tea gardens are like green carpet over the hilly plains. Sylhet is also known as the land of the famous Muslim saint Hazrat Shah Jalal, the great torch bearer of Islam in the region. The shrine of this great saint is located in Sylhet town. Monipuri, Khasia and Garo tribes live in Sylhet. Sylhet is also well known for its wide variety of exquisite handicrafts of cane and bamboo. Jaflong is also a scenic spot nearby amidst tea gardens and the rare beauty of rolling stones down hills. Other places of interest in Sylhet include Moulvibazar, Janitipur, Madhabakunda and Haripur gas field.


The service providers

Guide Tours Ltd.

The Guide Tours Limited is a tour operator in Bangladesh that provides services to tourists to visit famous places across the country like in Dhaka city and around places like Mainamati in Comilla, Sonargaon, Manikgong, Munshigonj. It also arranges river cruise on the Shitalakkhya river. It offers tours in Sundarbans through its boats which takes tourists to different fascinating points of the forest. It also provides tour packages to tourist places in North Bengal, Sylhet, Srimongol, Bandarban and to the beaches and islands of the country, through different packages that include food, transport and lodging.


Galaxy Holidays Ltd.

Galaxy Holidays Ltd, a tour operating company, provides services to both inbound and outbound travellers. The operator arranges package tours in famous places in and around Dhaka and tourist spots of North Bengal. It also provides tours to different tourist places in Chittagong, Bandarban, Rangamati. It arranges river cruises in Padma, Meghna and Shitalakkhya rivers. It also arranges tours to Cox’s Bazarh, St Martin, Sonadia, and Moheshkhali island. To enjoy the beauty of Sundarbans, Galaxy Tours arranges visits through its boats to different points of the forest.

Bengal Tours Ltd.

This operator arranges trips to Sundarbans through its boats. Boarding on the boats it is possible to visit Kotka, a wildlife sanctuary of Sundarbans, through small creeks and canals to see the wildlife and feel the forest from very close.

idrinkh2O
January 10, 2012, 07:21 PM
Eco-entrepreneurship in Jessore (http://newagebd.com/newspaper1/special/45758.html)
by Kristin Boekhoff

http://newagebd.com/newspaper1/thumbnail.php?file=04_01_2012_____sub____06_428027 448.jpg&size=article_medium

As I bound my breasts and put on men’s clothes, I remember thinking how crazy I was. In two years, I went from being an executive in the ‘c-suite’ of a large real estate finance company in New York to disguising myself as a Bangladeshi man so that I could go look for land in the rural areas of southern Bangladesh. So what made me give up a high-paying job at the top of the corporate ladder, donate everything I owned to charity, and move to a developing country that few people can locate on a map? In a word: passion.

I was making money in New York, but I wasn’t making a difference. I had reached the top of my chosen career field by age thirty and was bored. I wanted to change my life so I could do something I loved, and make more of an impact on the world. But it was a lecture that I attended at the Cornell Club that really sounded the clarion call for me. Stuart Hart, a professor at the Cornell Johnson Business School, gave a lecture about alternative energy in developing countries; he threw out a statistic that I could not believe when I heard it: he said that of the 6 billion people in the world, 4 billion live in poverty. It shocked me to the core of my being. I considered myself a well-educated and well-travelled individual, and for me to not have known how most of the people in the world live made me question everything that I knew.

That talk set in motion a series of events that led me to apply for a Fulbright Fellowship to Bangladesh where I did a year of service and spent some time examining my priorities. When my Fulbright ended, I realized that I could no longer return to my old life and that the time had finally come to spread my wings and jump. I had the idea to create sustainable boutique resorts before I left New York (it combined my interests in environmentalism, real estate, design, and travel), but I certainly never thought that I would start in Bangladesh! After living in the country for a year, however, I realized that there was a demand, among the foreigners and Bangladeshis already living in Dhaka, for the kind of high-end socially and environmentally responsible product that I wanted to create.

While working on my Fulbright project I connected with German architect Anna Heringer who built an award-winning school from mud in the northern part of Bangladesh. I was inspired by her work and decided to create a resort out of mud and bamboo that showcased Bangladeshi culture and heritage.

I strategically chose the location for my resort and then started looking for a site. I flew to Jessore, put on a sari, and hired a rickshaw to take me around the countryside. Village tea stalls were the best source of information about the local area. Normally the exclusive domain of men, I was invited to sit, take tea, and share information about my country, my family, and what I was doing in Bangladesh. After the local leader had determined that my quest was worthwhile, he would take me around and show me several pieces of land that might be available. While the search was fun and the scenery breathtaking, I soon realized that I was getting the bideshir dam (foreigner’s price quote) for the land.

On my fourth trip down to Jessore, I hooked up with a local named Koli. I liked Koli from the start – he was friendly, enthusiastic, and I instantly felt that I could trust him. Koli wasn’t a broker, but he knew the area and offered to show me some land. I had originally planned to fly back to Dhaka that same evening, but Koli said that he could show me some more land the next day, so I decided to stay. Koli invited me to spend the night with him and his family. Normally I would have turned down an invitation to come home with a strange man, but Koli explained that he lived with his wife and two children and his brothers and their families, so I took a chance and followed him.

That night I got to experience the amazing hospitality of the Bangladeshi people. With just an hour’s notice, his family had prepared a huge feast for me of traditional Bangladeshi food. I didn’t have any clothes for the next day, so they bought me a shalwar kameez and a nightgown. When I left the next morning they gave me fruit and presents and made me promise to come back soon.

Over the next year and a half Koli and I worked together to find the perfect land for the resort. We lost a few pieces along the way -- one for title issues and two because they found out it was a foreigner that was buying the land. Consequently, when we found our current site, I was not initially allowed to go down and see it. I told Koli that I couldn’t buy land without seeing it first, so we came up with the idea of disguising me as a Bangladeshi man and driving by on Koli’s motorcycle (a woman on the back of a motorcycle, even in a burka, would draw too much attention). So I bound my breasts, put on men’s clothes (which also hid my white arms and legs!), donned a motorcycle helmet, and drove to the project site. The disguise worked and I was able to check out the property.

Koli spent the next six months talking to the villagers, forming relationships, and negotiating a price. He explained that we are trying to develop a socially responsible resort that will improve the lives of the people in the local community by bringing new businesses and jobs to the area. He told them that we wanted to revive some of the arts and crafts of Bangladesh that are being lost and that we would work with the villagers to create products that could be used in the resort and maybe even sold abroad. In the end, the villagers got together and agreed to sell. Today many of them (and their children) are Panigram employees.

While Koli worked to build a support network in the village community, I used my connections to assemble a team of some of the top hoteliers, designers and engineers in the world. I was fortunate to find an inspirational group of creative thinkers who shared my vision of creating a luxury boutique spa resort that protects the natural and cultural heritage of Bangladesh, provides authentic and distinctive travel experiences to discerning travellers, promotes sustainable development, and improves the quality of life in the host community. At the same time I managed to attract a group of like-minded Bangladeshi investors who were able to see the potential of environmental tourism in Bangladesh, even though at the time only a couple of low-end eco lodges existed in the country.

When I first started talking about my project, most people didn’t get it. They wondered why I wasn’t developing in Cox’s Bazar and couldn’t believe that I wasn’t going to put televisions in my rooms. The idea of creating a quiet place by a river where families could go, relax, reflect, and enjoy each other’s company was as foreign as I was. At the time the posters advertising tourism in Bangladesh were covered with photos of the Jamuna

Bridge. Everyone was talking about ‘the world’s longest sea beach’ without realizing that the while the beach in Cox’s Bazar may be the biggest, it is not the prettiest, nor is it attractive to foreigners who would prefer to spend their holidays taking photographs instead of being photographed themselves. I went to meetings with government officials and potential investors and tried to explain that the real draw of Bangladesh to a foreigner isn’t its beach or its few small archaeological sites, but the fact that it is the world’s largest river delta and that the people who have built homes and families on the banks of these byzantine waterways are some of the most naturally hospitable people in the world. In Bangladesh a foreigner can still have an authentic travel experience because the people here are authentic. They still live in mud homes, use water buffalo to plant their fields, and grind spices by hand.

Fortunately, in the past five years more Bangladeshis have realized the potential of the natural beauty of their country and the value of relaxation. As the traffic in Dhaka has gotten worse, the demand for yoga classes, spas, and nature hikes have increased. Several new eco-resorts are under development and many non-profit organizations have been created to protect the country’s natural heritage.

The pastoral countryside will ultimately be a draw for foreign visitors, but Bangladesh’s first tourist market will be the people who already live here, primarily the burgeoning middle-class. These educated people of increasing means are also seeking safe, clean places to take their families. While trips abroad are attractive to them, higher costs, difficulties in obtaining visas, and a desire to give their city-born children a ‘gramer bari’ (‘village home’) experience will make local destinations attractive to them.

Though my target market is affluent travellers, they too will primarily be Bangladeshis and the expatriates who live in Dhaka. I have seen grown Bangladeshi men in business suits strip down to lungis and jump in my river. There is something about returning to the countryside that restores the joy of youth and the excitement of discovery. Complex problems and technological distractions fade away and are replaced by the simple pleasures of evening boat rides, great conversation, and the amazement of spotting a rare butterfly. While the city of Dhaka is harsh and chaotic with the sights, sounds, and smells of a developing industrial city, Bangladesh’s countryside is a tropical haven that even many of the native city-dwellers have forgotten about.

It is here, in the lush paddy fields of rural Bangladesh, that tourism which is most in harmony with Bangladeshi culture and values will develop. While some entrepreneurs aspire to turn Bangladesh into the next Bangkok with flashy discotheques, all-night bars, and casinos, there are others who see the power in the quiet beauty of the gram. Bangladeshi tourism is in a nascent stage of development; Bangladesh can become another hub for people who are addicted to gambling, sex, and alcohol, or it can become a new model for sustainable tourism. Bangladeshis can take the things that are initially seen as threats (poverty, a large population, climate change) and turn them into opportunities (a large workforce eager to learn, a resort that creates its own power) and solutions that inspire the rest of the world.

One of the most amazing things that I have learned in the five years that I have been here in Bangladesh is that most Bangladeshis believe that anything produced in Bangladesh is of poor quality and foreign products are better. With Panigram, I would like to reverse that message. Though I have an amazing team of foreign advisors and I am a foreigner myself, the resort is being designed, built, run, and financed by Bangladeshis. Most of the items in the resort – from the tiles to the light fixtures – will be designed and made in Bangladesh. I want my guests to have an authentic Bangladeshi experience from the amazing hospitality of my staff, to the savoury Bangladeshi food, to the Tagore music we will play in the evenings. Bangladesh is Asia’s best-kept secret, and I can’t wait for the rest of the world to discover it.


The writer is a Fullbright Scholar and the founder and Managing Director of Panigram Resort, a socially and environmentally responsible boutique spa resort in Jessore. Panigram is currently under development and anticipates opening in December 2012.

idrinkh2O
January 31, 2012, 05:23 PM
[বাংলা]টমেটো চাষে সফল শাকেরা (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-02-01/news/221049)
রুহুল বয়ান, মহেশখালী (কক্সবাজার) | তারিখ: ০১-০২-২০১২

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2012/01/31/2012-01-31-13-43-37-4f27f009d18d2-untitled-9.jpg
শাকেরা আক্তার

পাহাড়ের ঢালে টমেটো চাষ করে লাখপতি হলেন শাকেরা আক্তার। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পাহাড়ের ঢালে ২০ শতক জমিতে টমেটো চাষে করেন তিনি। ফলন হয় বাম্পার। লাভবান হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে শাকেরার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের চারপাশে পাহাড়ঘেরা দুটি গ্রামের নাম উত্তরকুল ও দক্ষিণকুল। এ দুই গ্রামের লোকজন পাহাড়ের ভেতরে পানের বরজ ও ধান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু পাহাড়ের ঢালে গিয়ে সবজির চাষ করার মতো এ গ্রামের কারও চিন্তাভাবনা ছিল না। ১০ বছর আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে উত্তরকুলের বাসিন্দা আবদুর রশিদ নামের একজন যুবক পাহাড়ের ঢালে টমেটো চাষ শুরু করেন। টমেটো চাষ করে লাভবান হন রশিদ। তাঁর কাছ থেকে টমেটো চাষের অভিজ্ঞতা নিয়ে শাকেরা আক্তারসহ অন্যরাও পাহাড়ের ঢালে গিয়ে টমেটো চাষ শুরু করেন। এখন উত্তর ও দক্ষিণকুল এই দুই গ্রাম সবজি গ্রাম হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। এ ছাড়া টমেটোর পাশাপাশি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, তরমুজসহ নানা ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। আর এসব কাঁচা তরিতরকারি খেত থেকে তুলে নিয়ে চাষিরা পৌর এলাকার গোরকঘাটা বাজার, ছোট মহেশখালী লম্বাঘোনা বাজার ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নের নতুন বাজারে আড়তদারদের কাছে পাইকারি দামে বিক্রি করছেন। ফলে দুই গ্রামের ১০ হাজার মানুষ কাঁচা তরিতরকারি ও সবজি চাষ করে এখন জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়েদেখা গেল, উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের দক্ষিণকুল পাহাড়ের চড়াইয়ে টমেটো বাগান থেকে বাজারে বিক্রি করার জন্য টমেটো তুলছেন শাকেরা। সপ্তাহে তিন দিন খেত থেকে টমেটো তুলে বাজারে নিয়ে আড়তদারের কাছে বিক্রি করে থাকেন। এ থেকে প্রতি সপ্তাহে একেকজন চাষি তিন থেকে হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেন।

দক্ষিণকুলের টমেটো চাষি শাকেরা আক্তার বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবারের টমেটোর ফলন ভালো হওয়ায় খরচ বাদে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে। কিন্তু সময়মতো সার প্রয়োগ করতে পারলে আরও ফলন ভালো হতো। ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল মোস্তফা বলেন, একসময় পাহাড়ের ঢালে কোনো চাষ না হলেও কয়েক বছর ধরে উত্তর ও দক্ষিণকুল এ দুই গ্রামে টমেটো চাষ হচ্ছে। ফলে এ দুই গ্রামের উৎপাদিত কাঁচা তরকারি ও সবজি উপজেলার সদরের আশপাশে ছোট-বড় পাঁচটি বাজারের তরিতরকারির চাহিদা মেটাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা

আমিরুল বাহরাইন বলেন, এ বছর পুরো এলাকায় ৩০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। তার মধ্যে ওই দুই গ্রামে সবচেয়ে বেশি। পাহাড় ব্যবহার করে স্থানীয় লোকজন এ চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। তবে চাষিদের সার না পাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ছোট মহেশখালী ইউনিয়নে সার ডিলার থাকলেও তিনি বরাদ্দ করা সার তোলেননি। এ কারণে ছোট মহেশখালী এলাকায় সারসংকট তীব্র আকার ধারণ করে।[/বাংলা]

idrinkh2O
January 31, 2012, 05:29 PM
[বাংলা]বয়স আমার হার মেনেছে (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-02-01/news/221050)
মুজিবুর রহমান, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) | তারিখ: ০১-০২-২০১২

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2012/01/31/2012-01-31-13-47-25-4f27f0edb53ac-untitled-16.jpg
৭৮ বছর বয়সে ছোটদের পড়াচ্ছেন আঙ্গুরবালা

আঙ্গুরবালা বয়সের ভারে খানিকটা ন্যুব্জ। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। বয়স ৭৮ পেরিয়ে গেছে। পান না বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা। বেঁচে থাকার কাছে বয়সকে হার মানিয়েছেন। জীবিকা নির্বাহে তিনি এ বয়সে প্রতিদিন টিউশনি (ছাত্র পড়িয়ে) করে চলেছেন। কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের জনতা নার্সারিতে বসবাসরত বৃদ্ধ আঙ্গুরবালার জীবনসংগ্রামের চিত্র এটি।
আবেগাপ্লুত আঙ্গুরবালার কথায়, তিনি ব্রিটিশ আমলে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন। পৈতৃক বাড়ি ছিল হবিগঞ্জ জেলার একটি গ্রামে। গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে তিনি। ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল একই জেলার রিচি গ্রামের অশ্বিনীকুমার রায়ের সঙ্গে। স্বামী শ্রীমঙ্গলে তখনকার মাড়োয়ারি দোকানে চাকরির সুবাদে এলাকা ছেড়ে চলে আসেন। ১৫-১৬ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র মেয়ে শিবানী রায়ের সঙ্গে শমশেরনগর জনতা নার্সারিতে চলে আসেন।

শিবানীকে সেখানের নিতাই বৈদ্যের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হলেও বছর তিন-চার ধরে তাঁর স্বামী অসুস্থ। শিবানী শমশেরনগর থেকে পার্শ্ববর্তী পতনউষার ইউনিয়নে জনতা নার্সারিতে ১২ বছর ধরে কাজ করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়ের সঙ্গে ১২ বছর ধরে আঙ্গুরবালাও ওই নার্সারিতে বসবাস করে শ্রীসূর্য ধোপাটিলা গ্রামে তিনটি টিউশনি করে কিছু আয় করে মেয়েকে সাহায্য করছেন। আঙ্গুরবালা বলেন, তিনটি টিউশনি করে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন।

বৃদ্ধ হয়েও বয়স্কভাতা না পাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে ভাতা পাইনি। বর্তমান মেম্বর দুবার ত্রাণের চাল ও একটি স্যানিটেশন ল্যাট্রিন দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সামনে সুযোগ এলে বয়স্ক ভাতায় নাম নিবন্ধন করে দেবেন।’

শিবানী রায় বলেন, মায়ের বয়স্ক ভাতা ও স্বামীর সহযোগিতার জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আবদুল করিম জানান, যখন বয়স্কভাতার তালিকা চাওয়া হবে, তখন সর্বপ্রথম আঙ্গুরবালার নাম দেওয়া হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুরজিৎকুমার পাল আশ্বাস দিয়ে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বৃদ্ধ আঙ্গুরবালাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রকাশকান্তি চৌধুরী বলেন, সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে তিনি আঙ্গুরবালার জীবনসংগ্রামের কথা শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।[/বাংলা]

idrinkh2O
January 31, 2012, 05:38 PM
[বাংলা]৫৮ বছর বয়সে কম্পিউটার শিক্ষা (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-02-01/news/221048)
শেখার কোনো বয়স নেই
সুমেল সারাফাত, মংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি | তারিখ: ০১-০২-২০১২

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2012/01/31/2012-01-31-13-42-53-4f27efddf284e-untitled-7.jpg
কম্পিউটারে কাজ করছেন হোসনে আরা

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2012/01/31/2012-01-31-13-43-15-4f27eff3c03a1-untitled-8.jpg
হোসনে আরা

বয়স ৫৮ বছর। সেই বয়সে গ্রামের একজন নারী কম্পিউটার শিখছেন। বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার মিঠেখালী গ্রামের একজন হোসনে আরা। হোসনে আরার মুখ থেকেই শোনা যাক তাঁর কম্পিউটার শেখার গল্প...

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা থেকে এই গ্রামেরই মেয়ে সাদেকা হাসান তাঁদের বাড়িতে ‘আমার দেশ আমার গ্রাম’ নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের নিয়ে কাজ শুরু করলেন। আমাদের গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় ১০০ জন মহিলা উপস্থিত হয়েছিলেন সেদিন। সবার মধ্যে আমিই ছিলাম সবচেয়ে বয়স্ক। সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি গ্রামের মেয়েরা বাড়িতে বসে কীভাবে উপার্জন করে ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন, সেই পরামর্শ চলছিল। গ্রামের বাজারে বা দোকানে না গিয়েও তাঁদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য যেমন নকশিকাঁথা, বিছানার চাদর, সালোয়ার-কামিজসহ বিভিন্ন হস্তজাত পণ্য কীভাবে কম্পিউটারের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন, সেগুলো দেখানো হচ্ছিল। আমি সেদিন প্রথম সরাসরি কম্পিউটার দেখলাম। এর আগে টেলিভিশনে দেখেছি। এ যন্ত্রটা কীভাবে কাজ করে, সেটা শেখার জন্য আমার অসম্ভব কৌতূহল হলো।

এরপর কাজ শুরু হলো। গ্রামের অনেক মেয়ে ও মহিলা তাঁদের হাতের কাজ নিয়ে নিয়মিত আসতেন। এরপর এ সেন্টারের সহযোগিতায় তাঁদের পণ্যের ছবি তুলে অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করে দিত। ২০০৯ সালের শেষের দিকে এ সেন্টারে শুরু হলো কম্পিউটার শেখানো। কিন্তু কম্পিউটার শিখতে এল অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা। ফলে প্রতিদিন একবার করে ওই সেন্টারে গিয়ে বসে থাকলেও লোকলজ্জার ভয়ে বলতে পারলাম না যে আমারও কম্পিউটার শিখতে খুব ইচ্ছা করে।

একদিন আমার স্বপ্ন পূরণ হলো। সাদেকা হাসান ঢাকা থেকে তাঁর সেন্টার দেখতে এলেন। সেটা ২০১০ সালের ২৫ ডিসেম্বরের কথা। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সময় আমাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে হঠাৎ করে বললেন, আপনি কি কম্পিউটার শিখতে চান? আমি একবাক্যে রাজি হয়ে গেলাম। কারণ গত একটি বছর তো আমি এ দিনটির অপেক্ষাতেই ছিলাম!

শেখার শুরুতে আমার অজানা একটা ভয় ও সংকোচ কাজ করত। সবার অনুপ্রেরণায় আমি এখন নিয়মিত কম্পিউটার শিখছি। এখানকার নারী সদস্যদের কম্পিউটার শেখানোর জন্য অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছি। এখন আমি বাংলায় কম্পোজ করতে পারি। যেহেতু ছোটবেলায় পড়াশোনা করতে পারিনি, তাই ইংরেজিতে টাইপ করা একটু কঠিন লাগে। তার পরও আমি শিখছি।

আমার দেশ আমার গ্রামের ব্যবস্থাপক ও শিরিয়া বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের নারীরা এমনিতেই পিছিয়ে, গ্রামের নারীরা তো আরও বেশি। সেখানে হোসনে আরা নারীদের জন্য হয়ে উঠতে পারেন উজ্জ্বল উদাহরণ।

এফএসবি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদেকা হাসান বলেন, সুযোগ পেলে গ্রামের নারীরাও যে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন, তার বাস্তব উদাহরণ হোসনে আরা। আমরা চাই সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য সত্যিকার অর্থেই কাজ করে যেতে। যাতে বাংলাদেশে অজস্র হোসনে আরার জন্ম হয়। সরকার ও বেসরকারিভাবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা খুবই জরুরি।

হোসনে আরার চারটি সন্তান। তিন মেয়ে আর একটি ছেলে। তিন মেয়েই বিবাহিত। ছোট দুই মেয়েকেই তিনি এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়েছেন। ছেলে ঢাকায় উচ্চমাধ্যমিকে পড়ছে। তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য ছিলেন। স্বামী আবদুর রশিদ কৃষিকাজ করেন। কম্পিউটার শিখে হোসনে আরা এই সেন্টারের অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এ ছাড়া হস্তজাত শিল্প অনলাইনে তিনি বিক্রি করেন। এভাবে তিনি এখন মাসে প্রায় চার হাজার টাকার মতো আয় করেন।[/বাংলা]

roman
February 3, 2012, 11:48 AM
[বাংলা] <H1>ভারতকে আমি ‘না’ বলছি, আপনি?


<HR style="BORDER-BOTTOM: #d6d6d6 1px solid; BORDER-LEFT: #d6d6d6 1px solid; BORDER-TOP: #d6d6d6 1px solid; BORDER-RIGHT: #d6d6d6 1px solid" color=#ffffff width="100%">শাখাওয়াৎ নয়ন, অতিথি লেখক
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম


বিদেশে থাকি আট বছর। দেশে থাকাকালীন একটা পত্রিকা পড়তাম, ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন কয়েকটা পত্রিকা পড়ি। ফেইসবুকে, ব্লগে চোখ রাখি। কারণ একটাই। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য মনটা কাঁদে। কয়েকদিন হল ইউটিউবের একটি লিংক ফেইসবুকে ভাইরাল ভিডিওতে (যে সব ভিডিও দ্রুততম সময়ে সর্বাধিক প্রদর্শিত হয়) রূপ নিয়েছে। ভিডিওটি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক একজন বাংলাদেশিকে পাশবিক নির্যাতনের।

সাধারনত: সহিংসতা, খুনাখুনি, রক্তারক্তি জাতীয় ভিডিও কিংবা ফটো দেখি না। আমার ভীষণ খারাপ লাগে। সেই খারাপ লাগা কয়েকদিন পর্যন্ত চলতে থাকে। কিন্তু গতকাল কবি, ঔপন্যাসিক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের ফেইসবুক স্ট্যাটাস পড়ে আমার টনক নড়ল। তারপর বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কমের সাংবাদিক জাকিয়া আহমেদের ফেইসবুকে দেখলাম ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহবান। শেষ পর্যন্ত ছোট ভাই রোমেলের ফেইসবুক থেকে ভিডিওটি দেখলাম। না, পুরো ভিডিওটি দেখতে পারিনি। কিভাবে দেখবো? কোনো সভ্য মানুষ এতটা নীচে নামতে পারে। বাকরুদ্ধ, নির্বাক কেটে গেল অনেকক্ষণ।

এমনিতেই দেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা রকম খবরে মনটা বিষিয়ে থাকে। তার ওপরে ভারতীয়দের নানা রকম বৈষম্য, অন্যায়, নব্য উপনিবেশিকতা, সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতা, সীমান্তে ইতর প্রাণীর মত বাংলাদেশিদের হত্যা, পুশ ইন-পুশ ব্যাক, ফারাক্কা, তিস্তার পানি ডাকাতি, টিপাইমুখের বাঁধ আরো কত কী। সবদিক থেকেই যেন বাংলাদেশকে হাতের পুতুল এবং বাংলাদেশের মানুষকে পশু গণ্য করা হয়। ইচ্ছে হলেই গুলি করে, মানুষ মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে, মানুষকে নগ্ন করে ভয়ঙ্কর পাশবিক নির্যাতন করে, তালপট্টি দখল করে নেয়াসহ এমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই যাতে ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র মনে হতে পারে। এত কিছুর পরেও যারা ভারতকে বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশি দেশ মনে করার যুক্তি একটাই ‘মুক্তিযুদ্ধকালী ভূমিকা।’ তাদের জন্য বলতে চাই, আমরা যেমন স্বাধীনতা চেয়েছি, ভারতও তেমনি পাকিস্তানের বিভক্তি চেয়েছে।

সুতরাং ১৯৭১ সালে উভয়েরই স্বার্থ ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে, তারাও কম পায়নি। বিগত ৪০ বছরে ভারত বাংলাদেশের ওপর যেভাবে জেঁকে বসেছে, তাতে ভারত ক্রমবর্ধমানভাবে লাভবান হচ্ছে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ভয়াবহ। বাংলাদেশ ভারতের লাভের বাজারে পরিণত হয়েছে। ঔপনিবেশিকতা ছাড়া এতখানি লাভের বাজার পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুর্লভ।

এত গেল দেশের কথা। অস্ট্রেলিয়াতে বিভিন্ন সময় ভারতীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়। বিশেষ করে অধিকাংশ ভারতীয়দের বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা খুবই অদ্ভুত। তারা কেউ মনে করে আমাদের মাতৃভাষা হিন্দি, কেউ মনে করে উর্দু। দেখা হলে হিন্দিতে কথা বলা শুরু করে। ইংরেজিতে উত্তর দিলে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, জিজ্ঞেস করে- কেন হিন্দিতে কথা বলছি না? নিজেদেরকে ‘কী জানি কি (!) গণ্য করে।’ বাংলাদেশিদেরকে তুচ্ছজ্ঞান করার প্রবণতা পাকিস্তানিদের মধ্যেও দেখেছি। কিন্তু এমন হামবরা ভাব অস্ট্রেলিয়ান কিংবা অন্য কোনো জাতির মধ্যে কখনই দেখিনি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ে ভারতের প্রতি যতখানি ইতিবাচক হয়েছিলাম, এতসব দেখে দেখে ততখানিই বীতশ্রদ্ধ হয়েছি। কেউ যদি এই লেখা পড়ে আমাকে কোনো রাজনৈতিক দলের লোক মনে করেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি বিশ্বাস করি, ২০১২ সালের বাংলাদেশে আমার মত লাখো-কোটি তরুণ আছে। তারা কারো দালালী, কারো তাঁবেদারী পছন্দ করে না। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। তারা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, ভারত-পাকিস্তান প্রীতি পছন্দ করে না। জঙ্গিবাদের বিনাশ চায়। দুর্নীতিসহ সকল রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরোধী। তারা একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, প্রযুক্তিতে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। নিজের দেশকে নিয়ে তারা স্বপ্ন দেখে। তারা কেউ অবিভক্ত পাকিস্তানে কিংবা বৃটিশ ভারতে জন্মগ্রহণ করেনি। তারা স্বাধীন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী। এই নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের ভাষা, প্রত্যাশা আপনাদের বুঝতে হবে।’

নতুন প্রজন্ম মনে করে, নিজের দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার সময় এসেছে। বাংলাদেশ এখন আর তৃতীয় বিশ্বের মহাসংকটাপন্ন, ভিখিরির দেশ তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। মাথা পিছু আয় দ্রুত হারে বাড়ছে। বেকারত্ব, দারিদ্র্য কমছে। তরুণ প্রজন্ম কম্পিউটার প্রশিক্ষিত হচ্ছে। আগামী দশ বছরে বাংলাদেশের প্রধান আয়ের খাত হবে কম্পিউটার প্রশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের মেধা। আউটসোর্সিং ইতিমধ্যেই ঈর্ষণীয় সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছে। ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেই বাংলাদেশ হতে পারে পৃথিবীর ইতিহাসে একটি উদাহরণ।

সুতরাং প্রতিবাদেরও সময় এসেছে। আমরা ভারতের তুলনায় সামরিক শক্তিতে দুর্বল হতে পারি কিন্তু মানসিক এবং মানবিক শক্তিতে দুর্বল নই। বিগত চল্লিশ বছরে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারগুলো ভারতীয় ব্যানার্জী, মুখার্জিদেরকে ‘জ্বি’ বলতে বলতে কিভাবে ‘না’ বলতে হয় তা ভুলে গেছে। ভারতীয়দের ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্বেগ উৎকণ্ঠা নেই। যেহেতু সব সরকারই ভারতের কম-বেশি তাঁবেদারি করে কিংবা করতে চায়, তাই যা কিছু করার দেশের সচেতন জনগণকেই করতে হবে। এই মুহুর্তে ভারতীয় পণ্য বর্জনের যে আওয়াজ তোলা হয়েছে, আমাদের সকলেরই তাতে সমর্থন জানানো, অংশগ্রহণ করা নাগরিক এবং নৈতিক দায়িত্ব। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উচিৎ বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয়দের পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক ফোরামে প্রতিবাদ করা। তারা এসব বিষয়ে নীরব কেন? আমি বুঝতে পারছি না।

আমরা হয়তো সকল ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নই। কিন্তু তাতে কী? আমরা যেভাবে পারি সেভাবেই প্রতিবাদ করব। এই মুহুর্তে অন্যতম উপায় হচ্ছে, ভারতীয় পণ্য বর্জণ করা। এই ব্যবস্থায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা হারাবে। আর তখন ওই ব্যবসায়ীরাই ভারতীয় সরকারকে বোঝাবে, বাংলাদেশীদের সাথে কী আচরণ করা উচিৎ? তিস্তার পানি দিবে কি দিবে না? টিপাইমুখে বাঁধ দিবে কিনা? সীমান্তে মানুষ মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখবে কিনা? এই সভ্যযুগেও একজন মানুষকে উলঙ্গ করে নিষ্ঠুরতম পাশবিক নির্যাতন করবে কিনা?
প্রিয় পাঠক, আমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকি। এখানে বাংলাদেশ থেকে কোনো চাল আসে না। তাই এতদিন ভারতীয় চাল কিনে খেতাম। আজ আমি ভারতীয় চাল কিনি নাই, থাইল্যান্ডের চাল কিনেছি। আমি সকল ক্ষেত্রেই তাই করবো। আপনি?

[/বাংলা]
http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=b3c164f720095d930d6acd5473eb5 26f&nttl=2012012910454384782 (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=b3c164f720095d930d6acd5473eb5 26f&nttl=2012012910454384782)</H1>

PoorFan
February 11, 2012, 12:58 AM
When I saw her first time live on TV in 1991 in Tokyo, and several time later on TV, never thought of she going such life threatening straggle! I was fully aware of Algerian situation at that time, but yet thought still they are allowing women athelets in sports or Olympic! I guess i was completely wrong.

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------

11 February 2012 Last updated at 00:58 GMT
Share this page


Email (http://newsvote.bbc.co.uk/mpapps/pagetools/email/www.bbc.co.uk/news/magazine-16962799)
Print (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16962799?print=true)
<!-- Social media icons by Paul Annet | http://nicepaul.com/icons -->Share this page (http://www.bbc.co.uk/modules/sharetools/share?url=http%3A%2F%2Fwww.bbc.co.uk%2Fnews%2Fmaga zine-16962799&title=BBC%20News%20-%20Hassiba%20Boulmerka%3A%20Defying%20death%20thre ats%20to%20win%20gold&appId=news&facebook-message=)


33

Share (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16962799#)
Facebook (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16962799#)
Twitter (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16962799#)

Hassiba Boulmerka: Defying death threats to win gold

By Chloe Arnold BBC News, Algiers
http://news.bbcimg.co.uk/media/images/58409000/jpg/_58409296_624x351.2.51655156.jpg
Continue reading the main story (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16962799#story_continues_1) <!-- Non specific version -->In today's Magazine (http://www.bbc.co.uk/news/magazine/)


The toughest place to be a train driver (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16928711)
FBI files of the rich and famous (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16974695)
All for the want of a winter horseshoe (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16929522)
Could coffee become India's top drink? (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16932747)
Twenty years ago this summer, Algeria's Hassiba Boulmerka ran to victory at the Barcelona Olympics. Her achievement wasn't just her country's first Olympic gold - she showed women everywhere how they could overcome prejudice to achieve their goals.

On the shelves of her spacious office near the capital, Algiers, are dozens of trophies that Hassiba Boulmerka won during her sporting days.
Above them hang photographs of her with sporting legends - the Ethiopian long-distance runner Haile Gebrselassie, the British athlete Jonathan Edwards - and world statesmen, including Nelson Mandela.

In Algeria, Boulmerka is hailed as the country's greatest athlete. She took the gold medal for the 1500m at the World Championships in 1991 and Olympic gold the following year.
But this was at a time when Islamist militancy was on the rise in Algeria, and some radicals thought the racetrack was not the right place for a woman.
Continue reading the main story (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16962799#story_continues_2) “Start Quote
There were police everywhere... they even came with me to the bathroom!”
End Quote Hassiba Boulmerka
She received death threats and in the run-up to the Barcelona Olympics it became too dangerous for her to train in her own country.
"That year I didn't run a single race [in Algeria]," she remembers. "It was simply too risky. I could have been killed at any moment."
Boulmerka's story begins in Constantine, a tumbledown city built by the Romans in the east of Algeria.

The fourth of seven children, she began running seriously at the age of 10, in 1978, and soon she was picking up medals at regional, national and international levels.
Her big breakthrough came in Tokyo in 1991, when the Constantine gazelle, as she had been dubbed, won the 1500m at the World Championships.
"Arriving back in Algiers, we were met by thousands of supporters," Boulmerka says.
She and fellow athlete Noureddine Morceli were driven through the capital in an open-topped car through streets thronged with well-wishers. "The atmosphere was electric," she says.
Fist of victory

But Algeria was changing. A botched election in 1992 saw the beginnings of a civil war in Algeria that was to claim more than 250,000 lives.
Continue reading the main story (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16962799#story_continues_3) Find Out More



<!-- pullout-items--><!-- pullout-body-->

Hassiba Boulmerka was interviewed for Sporting Witness on BBC World Service
<!-- pullout-links-->

Download a podcast (http://www.bbc.co.uk/podcasts/series/witness)
Browse the archive (http://www.bbc.co.uk/programmes/p00j2pn5)
As government security forces battled Islamist militants, Boulmerka, too, became a target.

"I remember it well," she says. "It was Friday prayers at our local mosque, and the imam said that I was not a Muslim, because I had run in shorts, shown my arms and my legs. He said I was anti-Muslim."
Boulmerka and her family started to receive death threats, graffiti appeared denouncing her as a traitor and she was forced to move to Berlin to continue her training.
In the weeks before the Olympic Games, she severed all ties with her family in order to focus on the race.
In fact, she says, it wasn't that difficult to do: the militants had blown up the central telegraph office in Constantine, and all the telephone lines were cut.
http://news.bbcimg.co.uk/media/images/58410000/jpg/_58410187_ap080609027729.jpg Twenty years on, Hassiba Boulmerka is now a successful businesswoman
Boulmerka arrived in Barcelona only on the eve of her races. She had taken a circuitous route via Oslo. The next day she was escorted to the stadium under armed guard.

"There were police everywhere," she says. "In the stadium, in the changing rooms - they even came with me to the bathroom!"
The 1500m final began at dusk on 8 August 1992. To start with, Boulmerka hung back in second place. But with half a lap to go she strode ahead of her rival, Lyudmila Rogacheva, easily beating the astonished Soviet athlete to the finishing line.

"As I crossed the line, I thrust a fist into the air," Boulmerka recalls. "It was a symbol of victory, of defiance. It was to say: 'I did it! I won! And now, if you kill me, it'll be too late. I've made history!'"
Standing on the podium later that evening to receive Algeria's first ever Olympic gold medal, she tried hard not to cry.
"I tried to hold myself together, to be brave," she says, "but the tears just started to fall. They were tears of sacrifice, for all the people I loved that I had abandoned for this race."

Making history
Her return from Barcelona was nothing like the victory tour she had received the previous year. The country was in the grip of war. She also learned that her father had suffered a stroke and slipped into a coma.
http://news.bbcimg.co.uk/media/images/58410000/jpg/_58410185_1996atlanta51976271.jpg Boulmerka continued running, despite the danger

"My father worried a lot about me - it was an enormous stress for him," she says. "I knew that what I was doing was an incredible burden for him."
Boulmerka won a bronze medal at the World Championships in 1993, and gold again in 1995.
But she never repeated her Olympic victory. For a while she moved to Cuba to escape the threat to her life, but later she returned to Algeria.

"I never thought of leaving for good," she says. "Algeria is my life, my roots, my family, my friends. I could never give those things up."
But eventually she did give up running, and today she is a successful businesswoman. These days, there's little sign of the Constantine gazelle. "I like to eat well!" she says.

She spends a lot of time with her father, who made a slow but full recovery from his stroke.
But her sporting achievements will never be forgotten in Algeria. As she sees it, her victory in Barcelona wasn't just the first Olympic gold for her country.
"It was a triumph for women all over the world to stand up to their enemies," she says. "That's what made me really proud."

Source BBC (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-16962799)

idrinkh2O
February 14, 2012, 01:01 AM
http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/640x420/img/uploads/gallery/media-files/image/2012/01/20/2012-01-20-16-58-25-4f199d3177c47-1.jpg
স্কুল থেকে জানিয়েছে পড়ালেখায় অমনোযোগিতার কারণে ফালানীকে আর রাখা হবে না। এ কথায় যেন বাজ পড়ে মায়ের মাথায়। নিজে লেখাপড়া না করলেও কাজ ফেলে ফুটপাতের ধারে ফালানীকে লেখানোর চেষ্টা করছেন এই মা। ছবিটি রাজধানীর পান্থপথের ফুটপাত থেকে তোলা।
ছবি: জাহিদুল করিম (http://www.prothom-alo.com/media-detail/type/photo/album/1516)

idrinkh2O
February 14, 2012, 01:04 AM
যীহিক্সেল বালার চাতাল স্কুল (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=61bdc4a96b41d98bfc1aec8c0f6ab 43c&nttl=1102201288107)
--------------------------------------------------------------------------------
একরামুল কবীর, জেলা প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2012February/Pathusisu-Nikatan-bg20120211211829.jpg

গোপালগঞ্জ: সিমেন্ট বাঁধানো ধানের চাতাল। সন্ধ্যা নামলেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে শিশুরা সেখানে জড়ো হয়। ওদের কল-কাকলীতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। এ যেন অন্ধকার রাতে তারার মেলা।

দারিদ্র্যের কারণে ওদের জামা-কাপড় অপরিচ্ছন্ন, চেহারা মলিন। কিন্তু শিক্ষার আলোয় ক্রমেই উজ্জ্বল হয়ে উঠছে মেধা ও মনন।

যীহিক্সেল বালার নৈশ চাতাল স্কুল ‘পথশিশু নিকেতন’ তাদের জীবনকে এভাবে পরিবর্তন করছে। গোপালগঞ্জ শহরের টোকাই শিশুদের স্বাস্থ্য-শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্কুলটি।

এ স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী চাতাল শ্রমিক পরিবারেরর সন্তান। শুক্রবার বাদে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় বসে এ স্কুল। চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। জাতীয় সংগীত ও স্কুল সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পাঠদান।

যীহিক্সেল বালা সামান্য টেম্পুচালক। কিন্তু তিনি স্থাপন করেছেন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ২০১০ সালের ৪ অক্টোবর শহরের বেদগ্রামের ফায়ার সার্ভিস রোডের বিসিক শিল্প নগরীর কাছে লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামের ধানের চাতালে স্কুলটির কার্যক্রম শুরু করেন।

৪৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। ২ বছরের ব্যবধানে বর্তমানে ১৫৩টি টোকাই শিশু এখানে পড়ালেখা শিখছে। এর মধ্যে শিশু শ্রেণীতে ৩৭ জন, প্রথম শ্রেণীতে ৫৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১৯ জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ১৭ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ১৭ জন, পঞ্চম শ্রেণীতে ৭ জন এবং ষষ্ঠ শ্রেণীতে ১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

তবে স্কুলটির নেই কোনো ঘর। চট বিছিয়ে একটি মাত্র লাইটের আলোয় এসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা যীহিক্সেল বালা নিজে টেম্পু চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি নিজে এবং সামান্য বেতনে ২ জন শিক্ষক দিয়ে মহৎ কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা ঘন কুয়াশায় বন্ধ রাখতে হয় স্কুলটি।

যীহিক্সেল বালা বাংলানিউজকে জানান, প্রথমে চাতাল শ্রমিকদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এ স্কুল শুরু করেন। পরে আশপাশের দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়ে ও টোকাইয়ের কাজ করতো এমন শিশুদের বুঝিয়ে স্কুলে আনা হয়েছে।

এতে শহরের টোকাই অনেকটা কমে গেছে। টোকাই কমার কারণে ছোট-খাটো চুরিও কমেছে। স্কুলটিতে সরকারি-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান করা হয়।

তিনি জানান, জেলা শিক্ষা অফিস থেকে সরকারি পাঠ্য বই দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। পাঠদান শেষে স্কুলে শিক্ষার্থীদের টিফিন দেওয়া হয়। প্রতিমাসে একবার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়।

এ স্কুলে পড়ে অনেক ছেলে-মেয়ে এখন টোকাইয়ের কাজ ছেড়ে বিভিন্ন ছোট-খাটো ব্যবসায় নেমেছে। টেম্পু চালকের আয়ের টাকায় এ স্কুলের কার্যক্রম চলছে। তিনি আয়ের অর্ধেক টাকা ব্যয় করেন স্কুলে। তার নিজের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়।

যীহিক্সেল বালার স্ত্রী একটি খ্রিস্টান মিশনারিজ স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দুইজনের আয়ে চলে তাদের সংসার। স্কুলটি চালাতে এ মানুষটিকে খুব কষ্ট পোহাতে হয়। তারপরও তিনি মহান ব্রত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

স্কুলটির শিক্ষার্থী আলী আকবর, মামুন, ফাতেমা, খায়রুল বললো, ‘আগে আমরা শুধু টোকাইয়ের কাজ করতাম। সবাই আমাদের টোকাই বলতো। লেখা-পড়া জানতাম না। সারা শহর টুকিয়ে ৪০-৫০ টাকা আয় হতো’।

ওদের ভাষায়, ‘চাতালে স্কুল হওয়ায় আমরা পড়া লেখা শিখছি। এখন আমরা নাম-ঠিকানা লিখতে পারি। আর এটা সম্ভব হয়েছে যীহিক্সেল স্যারের আশীর্বাদে’।

অভিভাবক মমতাজ বেগম, দিপু দত্ত, লাভলী বেগম, রেহানা বেগম, নাজমা বেগম ও রিপন মোল্যা বলেন, ‘চাতালে কাজ করে সন্তানদের তিন বেলা খাবার দিতে কষ্ট হয়। তাই ওরা যা আয় করে, সব মিলিয়ে কষ্টে দিন চলে যায়। এতোদিন বাচ্চাদের পড়া-লেখা শেখাতে পারিনি। যীহিক্সেল স্যার আমাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে একটি নৈশ স্কুল করেছেন। এখন সবারই বাচ্চা ওই স্কুলে পড়ে। এখন ওরা দেশের জন্য কিছু করতে পারবে’।

প্রতিষ্ঠাতা যীহিক্সেল বালা বললেন, ‘অনেক ছোট ছোট শিশু বাজার, রাস্তা-ঘাট ও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সবজি, কাগজ, পলিথিন, পুরনো জিনিসসহ অন্যান্য মালামাল কুড়িয়ে নিয়ে ভাঙ্গাড়ির (পুরনো মালামালের আড়ত) দোকানে বিক্রি করে। এভাবে সারাদিন পরিশ্রম শেষে ৩০৪০ টাকা আয় করে’।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় তারা ছোট-খাট চুরির সঙ্গে জড়িয়ে মারপিটের শিকার হয়। এ সব ঘটনা অনেক বার আমার সামনে ঘটেছে। তখন থেকেই আমার চিন্তা ছিল এসব শিশুর জন্য কিছু করার। তাই ২০১০ সালে টোকাই শিশুদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পথশিশু নিকেতন নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করি’।

‘তখন শুধু টোকাই শিশুরা পড়াশোনা করলেও বর্তমানে কিছু হতদরিদ্র পরিবারের শিশুও এখানে পড়াশোনা করছেন। এখন আমি অনুভব করছি ওদের জন্য একটি স্থায়ী স্কুল দরকার। এ কাজে আমি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছি’।

গোপালগঞ্জর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাস বাংলানিউজকে বলেন, ‘ছিন্নমূল পরিবারের শিশুরা টোকাই। অনেকের বাবা-মা তাদের খোঁজ-খবর রাখেন না। অনেকের বাবা-মার বিচ্ছেদ হয়েছে। তারা আবার বিয়ে করেছেন। তাদের দেখার কেউ নেই’।

তিনি জানান, এসব শিশুদের নিয়ে একটি স্কুল করেছেন যীহিস্কেল বালা। প্রথমে তিনি একাই উদ্যোগ নিলেও পরে কিছু লোক তাকে সামান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর (শুক্রবার ব্যতীত) এদের ২ ঘণ্টা শিক্ষা দেওয়া হয়। চলে পড়া-শোনা ও গান-বাজনা ও গল্প।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এদের মধ্যে যারা ভালো, তাদের বিকেলে সরকার পরিচালিত শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট স্কুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। যাতে তারা সম্পূর্ণভাবে প্রাতিষ্ঠান শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে’।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২

idrinkh2O
February 14, 2012, 02:13 AM
হূদয়ের ‘চকলেট পাঠশালা’ (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-02-10/news/223542)
সুমন মোল্লা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) থেকে ফিরে | তারিখ: ১০-০২-২০১২

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2012/02/09/2012-02-09-18-06-09-4f340b110c3bc-untitled-2.jpg
বাড়ির পাশে গাছতলায় শিশুদের পাঠদান করছেন হূদয়
ছবি: প্রথম আলো

গণ্ডগ্রামটির অধিকাংশ মানুষই জুতার কারিগর! পড়াশোনার চল এখানে নেই বললেই চলে। প্রাথমিকের পাট চুকিয়ে মাধ্যমিকে গেছে এমন লোক এখানে খুঁজে পাওয়া কঠিন। যে বয়সে শিশুদের হাতেখড়ি ওঠে, সে বয়সি শিশুদের জুতার কারিগর বানাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় ভোমর (জুতা সেলাইয়ের সুঁইবিশেষ)। কান্দিগ্রামের মানুষগুলো তাই দারিদ্র্য ও অশিক্ষার নিগড়ে বাঁধা পড়েছিল। এটি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া একটি গ্রাম।

গ্রামের মানুষকে আলোর পথ দেখাতে এগিয়ে আসেন এক তরুণ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বোঝালেন। শিশুদের নিয়ে এলেন খোলা আকাশের নিচে, গাছতলায়। ব্ল্যাক বোর্ডে অ, আ, ক, খ, লিখে শেখানো শুরু করলেন। ২৫ জন শিশু নিয়ে গাছতলার সেই পাঠশালার যাত্রা শুরু বছর ছয় আগে। আজ সেই পাঠশালায় ছাত্রছাত্রী ১০৮ জন। রোজ দুই ঘণ্টা করে শিশুদের পড়ান সেই তরুণ। শুধু পড়িয়েই ক্ষান্ত হননি। শিশুদের পাঠশালামুখী করতে তাদের হাতে তুলে দেন চকলেট। সবই করেন নিজ খরচায়। নাম তাঁর হূদয়, পুরো নাম মোবারক হোসেন (২৩)। শিশুদের তো বটেই, গ্রামবাসীর হূদয়েও আলাদা ঠাঁই করে নিয়েছেন কান্দিগ্রামের হূদয়।

সাত ভাইবোনের মধ্যে হূদয় চতুর্থ। বড় ভাইদের মতো তাঁকেও জুতার কারিগর বানাতে চেয়েছিলেন মা-বাবা। তা না হয়ে নিজ চেষ্টায় পড়াশোনা করেন। আর্থিক অনটনে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হয়নি হূদয়ের। মনে গোপন একটা দুঃখ রয়ে যায়। সেই দুঃখবোধ থেকেই পাঠশালার জন্ম।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে কুলিয়ারচরের ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ডের দূরত্ব সাত কিলোমিটার। ছয়সূতি থেকে ডুমুরকান্দা বাজার সড়ক ধরে সামনে এগোলেই হূদয়ের পাঠশালার দেখা মিলবে। নিজ বাড়ির পাশে গাছতলায় শিশুদের পড়ানোয় মগ্ন দেখা গেল হূদয়কে। তিনি বলছেন, ‘অ-তে অজগর, আ-তে আম, ক-তে কলা, খ-তে খেলা।’ শিশুরাও সুর করে শিক্ষকের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছে।

হূদয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কান্দিগ্রাম ও এর লাগোয়া শ্যামাকান্দি, মাইজপাড়া গ্রামের ছেলেমেয়েরাও তাঁর এখানে পড়তে আসে। এখান থেকে অক্ষরজ্ঞান লাভের পর অভিভাবকেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করান। প্রাথমিক বিদ্যালয় এখান থেকে দুই-আড়াই কিলোমিটার দূরের পথ। শিশুদের ভর্তি করানোর কাজটি তিনি নিজেও করেন। সরকারি ছুটি ও অসুস্থতা ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঠদান চলে এখানে। শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকে পাঠশালা। পাঠদান চলে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত। রোজ কম করে হলেও ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী পাঠশালায় আসে।
প্রতিদিন নাম ডাকা, কয়েক মাস অন্তর পরীক্ষা নেওয়া—সবই হয় এখানে। বিনিময়ে কোনো টাকা-পয়সা নেন না হূদয়। উল্টো প্রতি বৃহস্পতিবার শিশুদের মধ্যে চকলেট দেন। এসব করতে গিয়ে প্রতি মাসে তাঁর পকেট থেকে সাত-আট শ টাকা বেরিয়ে যায়। ওই টাকা তিনি গৃহশিক্ষকতার কাজ করে জোগান।

তরুণ এই শিক্ষকটি শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সাড়ে চার বছর বয়সী শিক্ষার্থী পান্না বলে, ‘হূদয় স্যার ভালা। চকলেট দেয়। আদর করে।’ আবেদ ও কেয়া বলে, ‘মেঘ আইলে ভিজে যাই। তখন স্যার স্কুল ছুটি দিয়া দেয়।’

হূদয়ের মা নাহুদা খাতুন বলেন, ‘শুরুতে পাগলামি মনে অইছে। এখন গ্রামের লোকজন ভালোই তো কয়।’

স্থানীয় ছয়সূতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলে এলাহী বলেন, ‘কিছু দিন আগে হূদয়কে নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের এক সভায় আলোচনা হয়েছে। ইউএনওর পরামর্শে পাঠশালাটি দেখতে গিয়েছিলাম। সব দেখে ভালো লাগল। তার এই কাজে সমাজের লোকজনের এগিয়ে আসা জরুরি।’

গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আবদুল হাসিম বলেন, ‘অশিক্ষিত মানুষ হইল পচা হামুকের (শামুক) মতো। পচা হামুক যেমন আশও (হাঁস) খায় না, তেমনি অশিক্ষিত মানুষ রে কেউ দাম দিতে চায় না। আমরার হূদয় গেরামের পোলাপাইন রে বিদ্যা শিখাইয়াতেছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হূদয়ের পাঠশালাটি সম্পর্কে শুনেছি, তবে দেখা হয়নি।’

মানুষের হূদয়ে থাকা হূদয়ের কষ্ট অবশ্য অন্য জায়গায়। প্রকৃতির কাছে হার মানতে হয় তাঁকে। কারণ, তাঁর পাঠশালাটি যে গাছতলায়। বৃষ্টিকে আটকানোর সাধ্য যে তাঁর নেই।

idrinkh2O
February 14, 2012, 02:17 AM
[বাংলা]তাহেরুলের ‘বিনা পয়সার পাঠশালা’ (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=31f8028c36b4f4830591249b15dce 0a6&nttl=0602201286850)
--------------------------------------------------------------------------------
সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম
http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2012February/SM/AA--Taherul-Islam20120206225448.jpg

ঈশ্বরদী: সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যান মানুষের জন্য, কাজ করে যান আপন উদ্যোগে। বিবেকের তাড়নায় কাজ করে যান সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য। একমাত্র মৃত্যুই রুখে দিতে পারে তাদের এ পথচলা, অন্য কেউ নয়। এমনই একজন সাদা মনের মানুষ তাহেরুল ইসলাম।

ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ‘বিনা পয়সার পাঠশালা’। তার এ প্রচেষ্টায় হতদরিদ্র ৩০ পরিবারের শিক্ষাবঞ্চিত শিশুরা এখন পড়ালেখা করতে পারছে বিভিন্ন স্কুলে। শিক্ষার আলোবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে আলো ছড়াচ্ছে তার পাঠশালা।

ঈশ্বরদীর সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা তাহেরুল ইসলাম। স্ত্রী তাহেরা খাতুন, পেশায় তিনিও শিক্ষক। দেশের বিভিন্ন স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ ৩৯ বছর। বছর দুয়েক আগে অবসর নেন দু’জনই। কিন্তু শিক্ষকতার নেশা কাটে না সাদা মনের এ তাহেরুলের।

অবসর জীবনে অযথা বসে না থেকে পাড়ায় বেরিয়ে পড়েন সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র শিশুদের খোঁজে। মাস কয়েক এভাবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে খুঁজে বের করেন সুবিধাবঞ্চিত ৩০ শিশুকে। যারা স্কুলে ভর্তি তো দূরের কথা এমনকি বাড়িতে পড়ালেখা করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত।

নিজের পেনশনের টাকা ব্যয় করে এদের বই, খাতা-কলম কিনে দেওয়া, লেখাপড়া শেখানো এবং স্কুলে ভর্তি করার ব্যবস্থা নেন তিনি।

তাহেরুল দম্পতির সন্তান সংখ্যা ছিল পাঁচ। পাঁচটিই মেয়ে। এদের মধ্যে এক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৪ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই।

বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ থাকেন না। তার বসবাড়িকে পরোপকারে কাজে লাগাতেই বাড়ির ছাদে ওই শিশুদের পড়ালেখা শেখানোর ব্যবস্থা নেন তিনি।

তাহেরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, প্রথম দিকে গ্রামের যেসব পরিবারের শিশু স্কুলে যায় না, লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের বাড়িতে গিয়ে লেখাপড়ার উৎসাহ দিতেন। এতে তেমন একটা কাজ হতো না।

এরপর তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের একটা-দু’টো বই যোগাড় করে দিয়ে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যেতো তারা তেমন একটা আগ্রহী হচ্ছে না।

পরে তিনি ওই শিশুদের নিজের বাড়িতে ডেকে ডেকে সকাল-বিকেল পড়ানো শুরু করেন।

সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিশুদের জন্য পুরোনো বই যোগাড় করা শুরু করেন তিনি। গড়ে তোলেন স্কুলের আদলে নিয়মমাফিক পড়ালেখা শেখানোর একটি প্রতিষ্ঠান।

পরে পেনশনের টাকা তুলে সেই টাকায় সবার জন্য বই-খাতা কিনে ক্লাস নেওয়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে এদের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন তিনি।

এখন তারা প্রথম শ্রেণী থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে বিভিন্ন স্কুলে।

স্কুলে যাওয়ার আগে এরা সবাই তাহেরুল স্যারের কাছে ক্লাস করে তারপর স্কুলে যায়। আবার স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে তাহেরুল স্যারের কাছে পরের দিনের পড়া তৈরী করে বাড়ি ফেরে।

এই শিশুদের কারো বই ছিঁড়ে গেলে তিনি নিজেই সেলাই করে দেন। কখনোবা সাইকেল চালিয়ে শহরের কোন বাঁধাই ঘরে গিয়ে নিজের টাকায় বইটি বাঁধাই করে দেন।

এভাবেই চলছে তাহেরুলে স্যারের পাঠশালা।

দিনের বেলায় তিনি বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে পরখ করেন- এই অবহেলিত শিশুরা স্কুলে ঠিকমতো উপস্থিত হচ্ছে কিনা কিংবা স্কুলে লেখায়পড়ায় ফাঁকি দিচ্ছে কিনা।

তার স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাহেরা খাতুন বাংলানিউজকে জনান, ‘আমাদের কোনো ছেলে নেই। মেয়েরাও সবাই শ্বশুর বাড়ি থাকে। তাই বাড়িতে এসব অবহেলিত শিশুরা যখন পড়াশোনার পাশাপাশি দুষ্টুমি করে তখন এদের দেখে মনে হয় এরা আমাদেরই সন্তান।’

স্বামীর মহৎ কাজে সবসময় সহযোগিতা করেন তিনি। বিশেষ করে এসব শিশুকে মাঝে মধ্যে খাওয়ানো, বাড়ির বিভিন্ন গাছের ফল পেড়ে দেওয়া, ঈদের সময় নতুন কাপড় কিনে দেওয়াসহ নানা কাজ করে অনেক আনন্দ পান বলে জানান তাহেরা খাতুন।

সাদা মনের মানুষ তাহেরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘১৯৭৩ সালে সাঁড়া গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু আমার। এরপর বিভিন্ন স্কুল ঘুরে রুপপুর সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালের ২৮ এপ্রিল অবসর নিই। তখন আমার বুক ভেঙে কান্না এসেছিল। ভাবতাম, অবসর জীবন কাটবে কীভাবে। এখন শিশুদের লেখাপড়া করাতে গিয়ে মনে হয় আরও আগে অবসর নিলেই ভালো হতো।’

ঈশ্বরদী এক নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া বাংলানিউজকে জানায়, তার বাবা সকিম উদ্দিন বেবিট্যাক্সি চালক। মেয়ে হওয়ায় তার বাবা তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেননি। তাহেরুল স্যার এটা জানতে পেরে তাকে স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। এখন পড়ালেখা করতে পেরে খুব খুশি সুমাইয়া।

একইভাবে, পাতিবিল এলাকার রেলের জমিতে বসবাসকারী রওশন আরার ছেলে সাঁড়া গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র রুবেল।

রুবেল বাংলানিউজকে জানায়, বাবা আব্দুল আজিজ দীর্ঘদিন ধরে জেলে থাকায় মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এ অবস্থায় তাকে স্কুলে পাঠাতে না পারলে তাহেরুল স্যার তাকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন।

রিকশাচালক আকরাম হোসেনের মেয়ে পাখি এবার সাঁড়া গোপালপুর স্কুলে ১ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।

আকরাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘মেয়েকে যে স্কুলে ভর্তি করতে হবে একথা আমার মনেই আসেনি।’ তাহেরুল স্যারের উদ্যোগে মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

এলাকার মুরুব্বি আজমত হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এসব ছেলেমেয়ে তাহেরুলের আদর্শে পড়ালেখা শিখে প্রত্যেকেই এখন স্কুলের শিক্ষকদের কাছে ভালো ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে পরিচিত।

প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, তাহের স্যার উদ্যোগ না নিলে হয়তো এসব শিশুদের পড়ালেখা কিংবা স্কুলে যাওয়াই হতো না।

সবাই তাহেরুল স্যারের এই মহতি উদ্যোগকে স্যালুট করেন বলে জানান এলাকাবাসী।[/বাংলা]

idrinkh2O
February 14, 2012, 06:20 PM
Tomato brings them fortune (http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=222461)
Tale of lucky 35 Lalmonirhat growers
S Dilip Roy, Lalmonirhat

Farmers at Karnopur village under Mogholhat union in the Sadar upazila are happy as they are getting good profit from tomato farming this season. All the 35 growers in the village also got a better output than the last years.

Abul Hossain,52, of the village said,” I have cultivated only one bigha this season and harvested around 20 maunds of tomato a week. I got Tk 18 thousand from selling tomato last week. Each maund was sold at Tk 1000 to 800.”

“I hope I will get more 10 to 12 maunds of tomato a day from my land for the next 20 days,” he said.

Tomato grower Mozammel Haque,47, said he spent aroundTk 4 thousand for cultivating tomato on one bigha of land. He himself, his wife and two sons took care of the field.

“I cultivated paddy on the land last year and got only one thousand taka profit. But the same land gave me an unexpected profit this year,” he said.

Monsur Ali,42, another tomato grower at Karnopur village said that his family members hope to purchase cropland with the profit money this season.

“We cultivated tomato on two bighas and we now plan to cultivate it on more land," he said.

Abdul Mazid,42, said all the 35 tomato farmers at Karnopur village cultivated tomato this year and all of them got high profit from the winter vegetable.

A few who did not cultivate tomato at the village came to meet me and learn about tomato farming in their land, he said.

Around 250 bighas of land saw tomato farming in the district this year. Of those, 110 bighas are at Karnopur village, an agriculture official said.

Mohammad Nuruzzaman, Lalmonirhat Sadar upazila agriculture officer said the farmers got bumper yield of tomato this year due to favourable weather condition and good seeds.

“All the 35 tomato growers of Karnopur village always kept in touch of my office. I myself and other field level officials of the department always gave them necessary advice."

Karnopur villagers have been cultivating some common vegetables in the last few years. But the farmers here have changed their mind this year which brought them fortune.

idrinkh2O
February 14, 2012, 06:23 PM
Wednesday, February 15, 2012
Nothing can shatter dreams of Dipak (http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=222452)

http://www.thedailystar.net/photo/2012/02/15/2012-02-15__nat02.jpg
Physically challenged Dipak Hawlader writing answer scripts for the SSC examinations at Dumki AK High School centre in Patuakhali district. Photo: STAR
Sohrab Hossain, Patuakhali

When Dipak was born, many around him -- relatives, neighbours and even his parents -- felt sorry. The baby was born without hands.

Fifteen years later, a ray of hope flashed through the parents' minds that their son will be a breadwinner of the family.

Dipak Howlader is appearing in the SSC examinations this year. He wants to be a judge of the High Court.

But he still has to go a long way for either becoming breadwinner or a judge.

While talking to this correspondent a few days ago at AK High School, where the SSC examination is being held, signs of firmness were clear in the voice and face of the boy.

“If my dream comes true I will work for the poor and physically challenged people.”

Dipak, the second son of Satish Howlader, a resident of Baniakathe village in Patuakhali Sadar upazila, is taking the examination from Mamotaz Uddin High School under Barisal Education Board.

“My father was the lone bread earner of our family. But he became paralysed after an accident a few years back," he said.

The five-member family of Dipak is now dependent on the earnings of his elder brother who is a carpenter.

Poverty of the family hit his education, but it could not defeat him. To continue the education, he decided to stay at his maternal grandfather's home at Pangashia village in Dumki upazila.

“I also got all possible support from my classmates and teachers,” he said.

Abdus Salam Sikder, headmaster of Mamotaz Uddin High School, said Dipak is a talented student.

“Despite physical challenges, his academic results were quite good from class six to ten.”

“If he gets necessary help including financial support to continue study, he will definitely do good,” the headmaster added.

Alamgir Hossain, secretary at the examination centre at AK High School, said that they are extending all possible help to Dipak to take the examinations.

idrinkh2O
February 20, 2012, 11:12 PM
Mohammad Khokon, apanake Salamer Sohit Ghovir Shrodda janachi !
-----------------

আপনারা এপাড়ে আসবেন না আমি আসমু? (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=267f3c90723ba708baaaecdfbc5bd ed2&nttl=2012022108540890334)আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর
--------------------------------------------------------------------------------
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2012February/brave-bg20120221085408.jpg

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2012February/brave-bg420120221085208.jpg

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2012February/brave-bg320120221085204.jpg

http://www.banglanews24.com/images/PhotoGallery/2012February/brave-bg220120221085159.jpg

রাত তখন ১২টা বেজে গেছে। স্ত্রীসহ ২ মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরছি। অসুস্থ বড় মেয়েটি বেশ অসুস্থ। সাড়ে নয়টায় ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। কিন্তু ডাক্তার সাহেবের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে মাঝখানে তিনি বাড়ি চলে যান। তবে ফিরে এসে আবার রোগী দেখেন। সে সূত্রে সপরিবারে আমার এত রাতে বাড়ি ফেরা।

ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে দেখি রাস্তা প্রায় ফাঁকা। সাতমসজিদ রোড ধরে লম্বা বিরতিতে যে ক’টা রিক্সা যাচ্ছে কেউ আমার গন্তব্যে যেতে রাজি না। এসময় শুনি রাস্তার ওপাশ থেকে কে যেন ডাকছে, কই যাইবেন স্যার?

আমি গন্তব্য জানাতেই জবাব আসে- আপনারা এপাড়ে আসবেন না আমি আসমু?

ঢাকার হিসেবে সাত মসজিদ রোড মোটামুটি চওড়া রাস্তা। মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া আর বেড়ার সঙ্গে ছোটছোট ফুলগাছ লাগানো। তাই সোডিয়াম লাইটের ভৌতিক রহস্যময় আলোয় আর আঁধারিতে দেখতে পেলাম না কণ্ঠস্বরধারীকে। তবে বুঝলাম তিনি একজন রিক্সাচালক। মনটা ভাল হয়ে গেল। বললাম, আপনি দাঁড়ান। আমরা আসছি। একটু বাঁয়ে ঘুরে ইউটার্নটার দিকে এগিয়ে গেলাম। ইউটার্নটার মুখে আসতেই দেখি রিক্সাটি চলে এসেছে সে পর্যন্ত। তাড়াতাড়ি উঠতে গিয়ে দেখলাম, হাল্কাপাতলা গড়নের ড্রাইভারের বাম পায়ের পাতাটি নেই। ঘোড়ার খুড়ের মত সেই পাতাটি প্যাডেলে রাখা।

রিক্সা চলতে শুরু করতেই দেখি ড্রাইভার কেমন যেন লাফিয়ে লাফিয়ে প্যাডেল চালাচ্ছে। মনে হয় ডান পায়ের পাতাটি না থাকার কারণে এমন হচ্ছে। একটু খারাপ লাগলেও অসময়ে রিক্সাটি পেয়েছি সেই স্বস্তিতে চুপ করে থাকি।

কিন্তু সামনে নিয়ন সাইনের একটু জোড়ালো আলোতে যা দেখলাম তাতে আমি বিমূঢ় হয়ে গেলাম এবং সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠি- ‘এই রিক্সা! থামাও। আমাকে নামিয়ে দাও!’

আমার বাচ্চারা আর স্ত্রীও বিষয়টি এবার দেখতে পেয়ে অস্বস্তিতে পড়ে গেছে। এ দৃশ্য দেখে রিক্সায় থাকা যায় না। তার ওপরে পাশ দিয়ে মাঝেমধ্যেই তীরবেগে ছুটে যাচ্ছে রাতের ফাঁকা রাস্তা পাওয়ার উল্লাসে নিজেদেরকে ফর্মুলা-ওয়ান মনে করা নিশাচর গাড়িগুলো। যে কোনও সময় একটু ডান-বাও হলেই যে কোনও একটি যন্ত্রদানবের ধাক্কায় পুরো চালকসহ পরিবার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

আমার বিস্ময়াহত আর ভীতসন্ত্রস্ত নির্দেশের জবাবে বেঁচে থাকার পাগল করা নেশায় বুঁদ অকুতোভয়, বেপরোয়া আর অপরাজেয় অমানবিক প্রচেষ্টায় রত এই দুঃসাহসী বীর প্রাণখোলা হাসি হাসলেন। এ যেন নজরুলের সেই ‘আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি’র চিত্ররূপ দেখলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম এই সারথীর রথেই আমি গন্তব্যে ফিরবো।

এরপর তার বেদনা-বিমূঢ় রূপকথার বয়ান শুনলাম। নাম মোহাম্মদ খোকন(৩২)। ১৪ বছর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দু’টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে উভয় ট্রাকের ড্রাইভার-হেলপার মিলিয়ে মোট ৫ জনের ৪ জনই নিহত হন। এদের মধ্যে একমাত্র বেঁচে যাওয়া ভাগ্যবান ব্যক্তিটি হচ্ছেন খোকন। তিনি ছিলেন ট্রাক হেল্পার। ওই দুর্ঘটনায় একটি পা ও অপর পায়ের পাতাটি হারাতে হয় তাকে।

খুশীমনে বললেন, আল্লাহ আমারে ওই অবস্থায়ও বাঁচায়া দিছে, এটাই বড় কথা!

মনে পড়লো প্রথম এভারেস্ট জয়ী হিলারী-তেনজিং জুটির একজন শেরপা তেনজিং খোঁড়া ছিলেন। ধারণা করলাম, মানসিক দিক দিয়ে আমাদের খোকন সাহেব সেই গোত্রীয় হবেন।

বললাম- আপনার চেয়ে ভাল অবস্থায় থাকা অনেকেই তো ভিক্ষা করে। আপনি...(ভিক্ষাবৃত্ত আমিও অপছন্দ করি। তারপরেও আমি প্রকারান্তরে তাকে ভিক্ষার পরামর্শ দিচ্ছিলাম) ওদিকে, অনিবার্য নির্মম শারীরিক অক্ষমতার বিরুদ্ধে মানসিক সক্ষমতার অসম লড়াইয়ে বিজয়ী খোকন জবাব দিলেন-

‘যার যা পেশা! আমি কাজ কইরাই খাইতে চাই!’

এভাবে এত কষ্ট করে রিক্সা না চালিয়ে অন্য কোনও কাজ করতে পারেন না?

সবজি বিক্রি করতাম। কিন্তু ছিনতাইকারীরা একদিন সব পুঁজি লয়া গেল...

জানা গেল, বিয়ে করেছেন। তিন সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি কন্যারত্মও আছে।

মোবাইল ফোন নাম্বার চাইলাম। নাই।

যখন বাসার সামনে এসে আমার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তার ছবি তুলছিলাম তখন এত রাতেও আশপাশে বেশকিছু লোক জমা হয়েছেন। সব খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। সবাই নানান প্রশ্ন করছে। এরমধ্যে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে কে যেন একজন খোকনকে উদ্দেশ্য করে খামোখাই বাজে মন্তব্য করে গেল। ছোটখাট সমাবেশটা একসঙ্গে হই হই করে উঠলো বিবেকহীন মন্তব্যকারীর উদ্দেশে। চললো অশ্রাব্য গালি-গালাজও। খোকন তাদের কাছে হিরো। কারণ এইমাত্র ৪জন মানুষকে সে পাতাবিহীন ওই একটিমাত্র পা দিয়ে টেনে নিয়ে এসেছে তার রিক্সায়! সেই নায়কের অসম্মান তারা হতে দিবে না।

দীর্ঘদিন পর ওই গভীর রাতে রাস্তায় দাঁড়ানো অবস্থায় আমার মনটা অসীম আনন্দে ভরপুর হয়ে গেল। ক্রিকেটে আশরাফুলদের বারবার যুক্তিহীন হার, খাবারে ফর্মালীন, প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রায় অসম যুদ্ধজয়ী জাতির স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪০ বছরে সরকারগুলোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমাহীন ব্যর্থতা, একাত্তরেরর নরাধম-পিশাচ স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারগুলোর গাড়িতে জাতীয় পতাকা, সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানীর লাশ, ট্রাফিক জ্যামের যন্ত্রণা, বিশ্বজুড়ে মার্কিনি যথেচ্ছাচার, প্রিয়জনের প্রতারণা বা বিশ্বস্ত বন্ধুর কলিজা এফোঁড়-ওফোড় করে দেওয়া মীরজাফরি- আমার এ যাবতকালের জাতীয়, আন্তর্জাতিক আর একান্ত ব্যক্তিগত সব বিদঘুটে দুঃখগুলো যাদেরকে কোনওভাবেই কবর দিতে পারছিলাম না অ্যাদ্দিন- মুছে যেতে যাকে যেন পরম নিরাময়কারী কোনও তালিশমানের ছোঁয়ায়।

খোকনদের মত মানুষ যেদেশে আছেন- সেখানে মানুষ পিছিয়ে থাকতে পারে না। আমি দীর্ঘদিন ধরে মনে মনে একটি অংক করতাম- আজ এখানে আপনাদের সঙ্গে তা শেয়ার করি। আচ্ছঅ, গণিতের-সংখ্যার যাদুকরি অনেক খেলা তো আমরা খেলি। কখনো কি ৫২ আর ৭১ যোগ করে দেখেছেন কত হয়? যোগফলটা খুবই চমকপ্রদ। ৫২ আর ৭১ যোগ করলে হয়-১২৩ অর্থাৎ ১, এরপর দুই এবং এরপর ৩। কি অসাধারাণ ধারবাহিকতার প্রতীক! ১ হচ্ছে সবকিছুর শুরু (কেউ কেউ বলেন শূন্য থেকেই শূরু), এরপর ২...৩... অসীম সম্ভাবনার পথে শতকরা ১০০ভাগ সাফল্যের পথে এগিয়ে চলা।

প্রায় দু’টি পা’ই যার নেই- সেই রিক্সাচালক খোকনের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, সম্পদ নেই, মামু-খালু নেই, নেই তেমন কোন মেধাও, তারপরেও তিনি যেভাবে জীবনযুদ্ধে অপরাজেয় বিদ্রোহী বীরের মত লড়ে যাচ্ছেন- স্রেফ মনের জোরটাকে সম্বল করে- দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমার অনেক ক্ষেত্রেই অনেক অনেক সক্ষম মানুষগুলো কি তার থেকে কিছুটা অনুপ্রাণিত হবেন।

বিবেক-অনুভূতির চামড়ার পুরুত্ব গণ্ডারকেও হার মানানো নেতা-মন্ত্রী-আমলা-সচিবরা না শুনুন- আমি অনুরোধ করছি ছাত্রলীগ-ছাত্রদলসহ জাতির অগণন যুবক-তরুণদেরকে- আসুন আমরা সব বিষন্নতা-ক্লান্তি-হতাশা আর অক্ষমতা ঝেড়ে ফেলি, ৫২ আর একাত্তরের যোগফল যে ১২৩ এর ধারাবাহিকতা তৈরি করে- তাকে স্বার্থক করে একবার একখান লড়াই দিয়ে ফেলি খোকনের দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে- ভাষা শহীদ দিবসের আজকের এই অসাধাণ দিনটিতে আসুন সেই শপথ নেই!

সবশেষে- খোকন, আপনাকে সশ্রদ্ধ সালাম!

idrinkh2O
February 23, 2012, 01:56 AM
Part 1: রিকশা চালিয়ে হাসপাতাল (http://www.banglacricket.com/alochona/showpost.php?p=1421812&postcount=54)

----------------------------------------------------------------------------------------------------------

Part 2: জয়নালের জন্য ভালোবাসা (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-02-23/news/227057)

[বাংলা]
১৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা এফডিআর ও চেকে হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৩-০২-২০১২

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2012/02/22/2012-02-22-17-31-07-4f45265b0c546-untitled-11.jpg
জয়নাল আবেদিন

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2012/02/22/2012-02-22-17-36-31-4f45279fcb7c5-untitled-23.jpg
প্রথম আলো ট্রাস্ট/মমতাজ হাসপাতালের তহবিলে জমা পড়েছে ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৬৬ টাকা ৮৫ পয়সা। গতকাল বুধবার ঢাকায় প্রথম আলোর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়নাল আবেদিনের হাতে এ অর্থের এফডিআর ও চেক তুলে দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম (ডানে)। বার্তা সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলীসহ (বঁায়ে) প্রথম আলো ট্রাস্টের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন
ছবি: প্রথম আলো

ময়মনসিংহের রিকশা-চালক মো. জয়নাল আবেদিনের মমতাজ হাসপাতালের জন্য গঠিত তহবিলে জমা পড়া ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৬৬ টাকা ৮৫ পয়সা গতকাল বুধবার হস্তান্তর করা হয়ছে। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৬৬৬ টাকা ৮৫ পয়সা জয়নাল আবেদিনের নামে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) করে দেওয়া হয়।

এফডিআর করার পর আসা ২০ হাজার টাকার চেক জয়নাল আবেদিনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

গত বছরের ২ জুলাই প্রথম আলোর শেষের পাতায় ‘রিকশা চালিয়ে হাসপাতাল’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়। ক্ষয়িষ্ণু এই সমাজে একজন রিকশাচালকের নিষ্ঠা ও একাগ্রতা এবং মানুষের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার এই গল্প পড়ে প্রথম আলোর পাঠকেরা অভিভূত, আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পাঠকদের অনুরোধে ওই বছরে ৪ জুলাই প্রথম আলো ট্রাস্ট/মমতাজ হাসপাতাল নামে তহবিল গঠন করা হয় (হিসাব নম্বর: ২০৭১০০৭৯৫৯, ঢাকা ব্যাংক, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা)। প্রথম আলোর সুহূদ পাঠকেরা মমতাজ হাসপাতালের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

এই অর্থ দিয়ে সহায়তাকারীদের ইচ্ছা অনুযায়ী মমতাজ হাসপাতালের প্রয়োজনীয় এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অর্থ ব্যয়ের হিসাবও পত্রিকার মাধ্যমে জানানো হবে।

গতকাল সব অর্থ হস্তান্তরের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জয়নাল আবেদিন। তিনি বলেন, ‘একসময় রিকশার প্যাডেল চাপতে চাপতে এই হাসপাতাল তৈরির স্বপ্ন দেখতাম। তখন পকেটে ১০০ টাকার একটি নোট আসলে সংসারের চাপ সামলাব, না জমা করার লোভ সামলাব—তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যেতাম। আর এখন আমার হাতে কত টাকা! কিন্তু এ টাকার প্রতি আমার কোনো লোভ লাগে না। আমি শুধু দেখে যেতে চাই, আমার হাসপাতালটা হয়েছে।’

আমাদের ময়মনসিংহ অফিস জানায়, এই তহবিলের বাইরেও জয়নাল আবেদিনের হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের জন্য হাত বাড়িয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। তাঁদের দেওয়া সরাসরি আর্থিক সহায়তায় মমতাজ হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের জন্য নতুন করে কেনা হয়েছে ৫৯ শতক জমি। বায়না করা হয়েছে আরও ১২১ শতক জমি। সব জমিই কেনা হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটির নামে।

ঢাকার এক ব্যক্তি দুটি বিদেশি গাভি দিয়েছেন জয়নাল আবেদিনকে। দুধ বিক্রির টাকায় হাসপাতালে আসা রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি ওষুধ কোম্পানি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকার ওষুধ ও নগদ পাঁচ হাজার করে টাকা দিচ্ছে। চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি কয়েক সপ্তাহ পরপর হাসপাতালের জন্য জরুরি কিছু ওষুধ পাঠান।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে হাসপাতালের জন্য একটি ভবন করে দিতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। একটি স্থায়ী ভবনের জন্য সিলেটর এক ব্যক্তি পাঁচ হাজার ইট কিনে দিয়েছেন।

জয়নাল আবেদিনের বিদ্যালয়টির জন্য নতুন করে টিন দিয়ে আরও দুটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা-কার্যক্রম তৃতীয় থেকে উন্নীত করে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত করা হয়েছে। আরও দুজন শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব ক্লাসে সরকারি বই সরবরাহ করা হয়েছে। বিদ্যালয়টিকে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় করার জন্য প্রচেষ্টা শুরু করেছে উপজেলা শিক্ষা দপ্তর।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিদ্যালয়টির জন্য একটি ভবন নির্মাণ করতে মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ করেছে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘গত বছরের ২ নভেম্বর বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী পরিদর্শনে এসে হাসপাতাল ও বিদ্যালয়টির উন্নয়নে কিছু নির্দেশনা দেন। তার আলোকেই আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করছি।’

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুল ইসলাম জানান, মমতাজ হাসপাতালের একটি ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এসব অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘দেশের অনেক মানুষ এখন আমার স্বপ্নের সঙ্গে আছে। প্রথম আলোর উদ্যোগে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া টাকায় এবং মন্ত্রী মহোদয়ের সহায়তায় হাসপাতাল ও বিদ্যালয় বড় হবে, মানুষ সেবা পাবে, গরিবের বাচ্চারা পড়ালেখা শিখবে—এর চেয়ে বড় আনন্দ আমার জীবনে আর কী হতে পারে।’[/বাংলা]

idrinkh2O
March 15, 2012, 04:19 PM
বাংলায় প্রথম কোরআন শরিফ (http://www.banglacricket.com/alochona/showpost.php?p=1490903&postcount=135)!!!

zinatf
March 31, 2012, 02:27 AM
BRAVO Haowa :clap:
Best of luck for her exams :)

http://eprothomalo.com/contents/2012/2012_03_31/content_zoom/2012_03_31_1_5_b.jpg
http://eprothomalo.com/contents/2012/2012_03_31/content_zoom/2012_03_31_2_9_b.jpg

zsayeed
March 31, 2012, 08:36 PM
Prothom Alo:
http://www.eprothomalo.com/contents/2012/2012_04_01/content_zoom/2012_04_01_19_4_b.jpg

idrinkh2O
April 5, 2012, 08:37 PM
শ নি বা রের বিশেষ প্রতিবেদন

[বাংলা]সবার প্রিয় ঝরণা দিদি (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-03-03/news/229409)পলাশ বড়ুয়া, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) | তারিখ: ০৩-০৩-২০১২

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2012/03/02/2012-03-02-17-40-02-4f5105f2abddf-untitled-18.jpg
খাগড়াছড়ির দীঘিনালার আলীনগর গ্রামের নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণে কাপড় কাটার নিয়ম এঁকে দেখাচ্ছেন ঝরণা রানী
ছবি: প্রথম আলো

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার নিভৃত পল্লি আলীনগর। একদিকে দারিদ্র্যের কশাঘাত, অন্যদিকে অশিক্ষা-কুসংস্কারের বৃত্তে বন্দী ছিল গ্রামটি। গত কয়েক বছরে কিছুটা হলেও গ্রামটিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে।
গ্রামটি আলোকিত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন এক নারী। তাঁর নাম ঝরণা রানী রায়। সবাই তাঁকে ঝরণা দিদি নামেই চেনে। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের বিনা পয়সায় পড়ানো, নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন তিনি।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাটবিটা গ্রামে জন্ম ঝরণার। ঘটনাক্রমে আলীনগর গ্রামের ছোট্ট একটি ঘরই তাঁর ঠিকানা।

শুরুর কথা: দুই মেয়ে ও এক ছেলের সংসার ছিল ঝরণার। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল। যশোরের অভয়নগরে নিজের বাড়িতে তাঁর চোখের সামনেই স্বামী মনি শংকর রায়কে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মে মনি শংকর মারা যান। এ ঘটনায় মামলা হয়। ঝরণা হন প্রধান সাক্ষী। সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয়, সাক্ষ্য দিলে একমাত্র ছেলেকে মেরে ফেলা হবে।

স্বামী হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে ছেলেকে হারাতে চাইলেন না ঝরণা। তাই সাক্ষ্য না দিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে ২০০৬ সালে দীঘিনালার আলীনগরে চলে আসেন। তাঁর দীঘিনালায় আসার কারণ, এই উপজেলার কবাখালী গ্রামে ঝরণার বড় মেয়ের বিয়ে হয়। আলীনগর থেকে কবাখালীর দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার।

স্বামীকে হারানো এবং স্বামীর ভিটা ছেড়ে দূরে থাকার দুঃখ ভুলে থাকতে আলীনগরের মানুষগুলোকে আপন করে নিতে কাজ শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে ২০০৭ সালে শুরু করেন ঝরণা ধারা বিদ্যানিকেতনের কাজ।

আলীনগরে এক দিন: সম্প্রতি ঝরণা দিদির সম্পর্কে জানতে আলীনগরে ঢুকতেই স্থানীয় কয়েকজনের প্রশ্ন, আপনি নিশ্চয়ই ঝরণা দিদির কাছে এসেছেন? তাদের কাছে পথ চিনে গিয়ে ঝরণাকে পাওয়া গেল ওই বিদ্যানিকেতনে। বিদ্যানিকেতন বলতে ছোট্ট একটি টিনের ঘর। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ঘরের ভেতর নিয়ে গেলেন। ঘরে কোনো আসবাব চোখে পড়ল না। কথা বলার এক ফাঁকে ঝরণা হাঁক দিলেন, ‘এই রহিমা, মণিষা, নাছিমা ছেলেমেয়েদের পড়তে পাঠাও।’ কিছুক্ষণের মধ্যে ছেলেমেয়েরা চটের বস্তা আর বই নিয়ে হাজির। চটের বস্তাই ওদের পাঠশালার একমাত্র আসবাব! শুরু হলো পড়াশোনা। পাশাপাশি আবৃত্তি ও গান।
কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সুমন মিয়া, সুরুজ মিয়া, মাইনুর ইসলাম, রামিছা আক্তার ও কুলছুম আক্তারের মতো অনেকেই এই পাঠশালায় পড়ে। তারা জানাল, এখানে পড়ার কারণে তাদের আলাদা করে প্রাইভেট পড়তে হয় না। সোমানা আক্তার পড়ার এক ফাঁকে আবৃত্তি করে শোনাল, ‘ওখানে কে রে?/ আমি খোকা।/ মাথায় কী রে?/ আমের ঝাঁকা।/ খাসনে কেন?/ দাঁতে পোকা।’

অষ্টম শ্রেণী পাস ঝরণা দিদি জানালেন, তিনি ২০০৭ সালে খোলা আকাশের নিচে শিশুদের পড়ানো শুরু করেন। প্রথম দিকে শিশুরা পাঠশালায় আসতে চাইত না। এখন সময়মতো সবাই হাজির হয়। দীঘিনালা সেনা জোন থেকে একটি টিনের ঘর তুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই শিশুদের পড়ানো হচ্ছে।
বিদ্যানিকেতনে বয়স্ক নিরক্ষর ব্যক্তিদেরও পড়ানো হয়। গ্রামের ইউছুফ আলী ও বাচ্চু মিয়া জানালেন, শিশু-বয়স্ক সবাই ঝরণা দিদির পাঠশালায় পড়তে পারেন। এ জন্য কাউকে কোনো টাকা-পয়সা দিতে হয় না।
জানা গেল, বিনা পারিশ্রমিকে ঝরণা দিদি এ পর্যন্ত শতাধিক ছেলেমেয়েকে গান শিখিয়েছেন। এবার কবাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের গান শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

পরে ঝরণা দিদি দেখালেন, তাঁর ‘বহত ঝরণা ধারা’ সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্র দেখা গেল, সেলাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জন নারী বসে আছেন। দিদিকে দেখে তাঁদের অপেক্ষার পালা শেষ হলো। দিদি সেলাই শেখানোর কাজ শুরু করলেন। বিনা পয়সায় তাঁদের প্রশিক্ষণ দেন। তিনি জানালেন, এই সেলাই শেখানোর কাজও শুরু করেন ২০০৭ সালে। একসময় মহিলা অধিদপ্তরের অধীনে নেওয়া সেলাই প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে নারীদের সেলাই শেখানোর উদ্যোগ নেন।

ঝরণা দিদি এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৩৬ জন নারীকে সেলাই ও নকশিকাঁথা তৈরি করা শিখিয়েছেন। ‘আমি পড়ালেখার পাশাপাশি সেলাই শিখছি। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’ বলছিল সেলাই শিখতে আসা চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী নাজমিন আক্তার।

আলীনগরের কোহিনুর আক্তার বললেন, ‘দিদির কাছে সেলাই শিখে এখন মাসে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় করছি।’ কবাখালী মুসলিমপাড়া গ্রামের আকলিমা আক্তার, সেলিনা আক্তার ও হেডম্যানপাড়ার খায়রুন নাহার জানালেন, ঝরণা দিদি অনেক যত্ন করে তাঁদের সেলাইয়ের কাজ শিখিয়েছেন।

আলীনগর গ্রামের লোকজনকে সচেতন করতেও কাজ করছেন ঝরণা। বাল্যবিবাহ, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য গ্রামে মাঝেমধ্যে উঠান বৈঠক হয়। গ্রামের নূরুন্নাহার, রহিমা বেগম ও সালমা বেগম জানালেন, তাঁরা ঝরণা দিদির কাছ থেকেই টিকা নেওয়া, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় জেনেছেন। এসব ব্যাপারে সচেতন হয়েছেন।
কী বলেন তিনি: ‘এই গ্রামের সবাই আমার স্বজনের মতো। আমার স্বপ্ন, গ্রামের প্রতিটি শিশু শিক্ষার পাশাপাশি গান ও আবৃত্তিতে পারদর্শী হবে, প্রতিটি নারী তার অধিকার পাবে।’
ঝরণা জানালেন, সেনাবাহিনী বিদ্যানিকেতনের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। আর সবজির চাষ করে অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা তাঁকে যৎসামান্য সহায়তা দিচ্ছে। এ দিয়েই তিনি এ খরচগুলো চালাচ্ছেন।

মানুষের কথা: ‘ঝরণা রানীর সামাজিক কাজ দেখে অবাক হতে হয়। মানুষ টাকার জন্য কত কিছুই না করছে, অথচ উনি বিনা পারিশ্রমিকে সমাজ বদলে দেওয়ার সংগ্রাম করছেন।’ বলছিলেন দীঘিনালা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। ঝরণার বড় মেয়ে লিলি রায় বলেন, ‘ছোটকাল থেকেই দেখছি মা সংসার সামলে গ্রামের মেয়েদের সেলাই শেখাতেন, পড়াতেন। মায়ের জন্য আমরা গর্বিত।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবুল বাশার বলেন, ঝরণা রানী সমাজ বদলে দিতে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন। তিনি যেন এই এলাকার অভিভাবক।

ঝরণা রানীর কাজের এলাকা পরিদর্শন করে সরকারিভাবে কোনো সাহায্য করা যায় কি না, তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল করিম।[/বাংলা]

idrinkh2O
April 5, 2012, 08:44 PM
ইতিহাসের পথ ধরে

[বাংলা]হরিকেল থেকে চট্টগ্রাম (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-06/news/238162)
| তারিখ: ০৬-০৪-২০১২

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2012/04/05/2012-04-05-17-50-38-4f7ddb6ea55d3-1.jpg
১৮৭২ সালে নির্মিত বেঙ্গল রেলওয়ের কার্যালয়

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2012/04/05/2012-04-05-17-50-58-4f7ddb8236031-2.jpg
হরিকেল যুগের মূর্তি

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2012/04/05/2012-04-05-17-51-24-4f7ddb9cedd10-4.jpg
পুরাতন সার্কিট হাউস
কত পুরনো আজকের চট্টগ্রাম? অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস বলছে, চৌদ্দ শ বছরের প্রাচীন শহরের নাম চট্টগ্রাম। ‘অদম্য চট্টগ্রাম উৎসব’ শিরোনামে ডেইলি স্টার আয়োজিত প্রদর্শনী আলোকে এই রচনা। লিখেছেন বিশ্বজিৎ চৌধুরী

অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস বলছে, চৌদ্দ শ বছরের এক প্রাচীন শহরের নাম চট্টগ্রাম। আমরা জানি, ৯০০ বছরের প্রবীণ নগর লন্ডন, আমাদের রাজধানী ঢাকার রয়েছে ৪০০ বছরের ইতিহাস; আর বছর কয়েক আগে ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণময় উৎসবের আয়োজন হয়েছিল কলকাতা নগরে। চট্টগ্রামের ইতিহাস এই প্রসিদ্ধ নগরগুলোর চেয়েও দীর্ঘ।

সপ্তদশ শতাব্দীতে ইৎসিঙ নামের একজন চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষু প্রথম উল্লেখ করেন ভারতের পূর্ব-দক্ষিণ অঞ্চলে হরিকেল নামে একটি রাজ্য আছে। এই ‘হরিকেল’ই যে চট্টগ্রাম, এই তথ্য উঠে আসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর বিএন মুখার্জির গবেষণায়। এই খ্যাতিমান মুদ্রাবিশারদ হরিকেল রাজ্যে প্রচলিত মুদ্রা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন, সমৃদ্ধ এই রাজ্য ছিল কর্ণফুলী নদীর তীরে, যা কালক্রমে চট্টগ্রাম নামে পরিচিতি পায়। বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের জার্নালে এ তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।

আরাকান, ত্রিপুরা ও মোগল—এই তিন রাজশক্তির লড়াইয়ের ক্ষেত্র ছিল চট্টগ্রাম। বহুকাল চলেছে এই দখল প্রতিষ্ঠার লড়াই। মোগল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মুনিম খান ১৫৭৫ সালের ৩ মার্চ আফগান শাসক দাউদ খার কররানীকে পরাজিত করলে মোগল সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে বাংলা। কিন্তু এরপর আরও প্রায় ৮০ বছর পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে যায় অধরা। অবশেষে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি ‘কর্ণফুলীর যুদ্ধে’ মোগল নৌবাহিনী জয়লাভ করে। আসলে এই লড়াই ও জয়ের মধ্য দিয়েই বঙ্গ বা বাংলার সঙ্গে যুক্ত হয় চট্টগ্রাম। ‘কর্ণফুলীর যুদ্ধে’ মোগলদের জয় নৌ-বাণিজ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে, পাশাপাশি এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতাও প্রতিষ্ঠিত হয়।

মোগলেরা চট্টগ্রামের নাম দেয় ‘ইসলামাবাদ’। চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, চন্দনপুরা, জামাল খাঁ, ঘাটফরহাদবেগ, বকশীর হাট, সদরঘাট, বিবিরহাট প্রভৃতি এলাকার নামের মধ্যে যেমন মোগল প্রভাব দেখা যায়, তেমনি এ এলাকাগুলোর প্রকৃত পরিচর্যাও হয়েছে মোগল আমলে। এভাবেই আধুনিক চেহারা পাচ্ছিল একটি শহর।

১৭৬০ সালে মীর কাশিম আলী খানের কাছ থেকে এ অঞ্চলটি অধিগ্রহণ করে ব্রিটিশরা এর নাম দেয় ‘চিটাগাং’, সাধারণের কাছে যা চট্টগ্রাম বা চাটিগাঁও নামে পরিচিতি পায়।

বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলটি আরাকানি, ত্রিপুরি, পর্তুগিজ, মোগল, পাঠান ও ইংরেজদের হাতে শাসিত হওয়ায় এখানকার কৃষ্টি, শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতির মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে আলাদা। অনেকেই বলেন, বাংলার চিরায়ত লোকশিল্পের নিদর্শন নকশি কাঁথার ঐতিহ্য যেমন এ অঞ্চলে ছিল না, তেমনি এখানকার মানুষের প্রিয় খাদ্য শুঁটকিও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের খাদ্যতালিকায় যুক্ত হয়েছে অনেক পরে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পিঠাপুলির ঐতিহ্যও এখানে ছিল না, বরং চট্টগ্রামের মানুষ বেলা বিস্কুটের স্বাদে মজে ছিল দীর্ঘদিন।

আরাকানের রাজসভায় বাংলা সাহিত্যের যে খুব কদর হয়েছিল, তার পেছনে ছিল চট্টগ্রাম থেকে কবিদের সেখানে যাতায়াত। কোরেশী মাগন ঠাকুর বা দৌলত কাজীর মতো কবি, যাঁরা আরাকান রাজসভা আলোকিত করেছিলেন, তাঁদের আদিবাস চট্টগ্রামে। মহাকবি আলাওলের জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে তিনি যে দীর্ঘকাল চট্টগ্রামে ছিলেন, তাতে সন্দেহ নেই। তাই তাঁর পদ্মাবতী কাব্যের পটভূমি যদিও সিংহল, কিন্তু প্রকৃতির বর্ণনায় কবি যেসব স্থান ও দৃশ্যের কথা তুলে ধরেছেন, তাতে চট্টগ্রামের রূপই যেন ভেসে ওঠে পাঠকের চোখে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাস আরও দীর্ঘ। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বন্দর চট্টগ্রামের উত্থান। সপ্তম শতাব্দীর পর থেকে বাংলার (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ) আরেকটি বন্দর তমলুক বা তাম্রলিপি বিলুপ্ত হয়েছে। কিন্তু হরিকেল রাজ্যটির ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও এর সমুদ্রবন্দর দিয়ে ব্যাপক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা প্রসারিত হওয়ায় আরব ভূগোলবিদেরা তখন এর মাটি ছুঁয়ে থাকা বঙ্গোপসাগরকে ‘বহর-এ-হরকন্দ’ (হরিকেলের সমুদ্র) নাম দিয়েছিলেন। সেই বহর-এ-হরকন্দই দীর্ঘ ইতিহাস পাড়ি দিয়ে টিকে আছে চট্টগ্রাম বন্দর নামে।

পেছনে ফেলে আসা পায়ের চিহ্নগুলো না চিনে সামনের পথ পাড়ি দেওয়া যেমন কঠিন, তেমনি অতীত না জেনে ভবিষ্যতের দিকে এগোলে ইতিহাস হয়তো প্রশ্ন করবে, ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?’

প্রাচীন এই নগরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরে এর সম্ভাবনার বিষয়ে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার এক অসাধারণ উদ্যোগ নিয়েছে সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার। ‘অদম্য চট্টগ্রাম উৎসব’ শিরোনামে ডেইলি স্টার-এর এই নানা মাত্রিক আয়োজনের মধ্যে ‘ইতিহাস ঐতিহ্য’ অংশে ছিল এক চমৎকার প্রদর্শনী। চট্টগ্রাম জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত চিরায়ত চট্টগ্রাম নামের এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে প্রায় ৭৭টি দুর্লভ আলোকচিত্র, যা দেখতে দেখতে দর্শনার্থীরা ঘুরে আসবে ইতিহাসের দীর্ঘ পথ হরিকেল থেকে চট্টগ্রাম। আরও আছে এ অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক জীবনের ওপর শিল্পী কাজল দেবনাথের তৈরি একটি ত্রিমাত্রিক মডেল, শিল্পী আলপ্তগীন তুষারের চিত্রকর্ম ‘কর্ণফুলীর যুদ্ধ’ এবং মোগল আমলা হামজা খাঁর সমাধিসৌধের একটি মডেল।

প্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগে চট্টগ্রামের ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়েছিল ‘জার্নি টু হেরিটেজ’-এ। শাহি জামে মসজিদসহ আন্দরকিল্লার ঐতিহাসিক নগর কেন্দ্র ঘুরে দেখে শিক্ষার্থীরা। দক্ষ গাইডের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় তাদের চোখের সামনে তখন ভাসছিল: ‘কর্ণফুলী নদীতীরে দুটি দুর্গ ছিল—একটি নদীর মোহনার বাঁ দিকে দেয়াং পাহাড়ে, অন্যটি ডান পাশে রংমহল পাহাড় ও তার আশপাশে বর্তমান চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে...।’

বিস্ময়াভিভূত একটি কিশোর হয়তো তখন ভাবছে, ক-ত দূর থেকে এসেছি আমরা, যেতে হবে আরও ক-ত দূর![/বাংলা]

nakedzero
April 5, 2012, 10:17 PM
http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2012April/jibon-bbg20120406051521.jpg




[বাংলা]ছেলেটির নাম নির্মল। বয়স সাতের কাছাকাছি। বারবার খিঁচুনি দিচ্ছে আর বলছে, ‘কাকা একটু ঘুমাবো।’

যাত্রাবাড়ী থানার পাশে অসুস্থ এই শিশুটিকে খুঁজে পান উপ-পরিদর্শক কাওসার আলী। একটি অপমৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ রিপোর্ট করতে তিনি এসেছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নির্মলকে।

নিজের কাজ শেষ করে যখন নির্মলকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তখন উৎসুক মানুষজন ভিড় করে তার কাছে। জরুরি বিভাগে যখন টিকিট কটছিলেন কাওসার তখন বারবারই শিশুটি বলছিলো, ‘কাকা ঘুমাবো।’ উত্তরে কাওসার বলেন, ‘এইতো বাবা চলো। উপরে গিয়ে ঘুমাবা।’

ডাক্তারের কাছে নির্মলকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাংলানিউজের সঙ্গে কথা হয় এ পুলিশ কর্মকর্তার। সঙ্গে দুই জন কনসটেবল। কাওসার বলেন, ‘থানার পাশে ছেলেটিকে পেয়েছি। থেকে থেকে খিঁচুনি দিচ্ছিলো। হাসপাতালে আসছিলাম বলে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। ওর চিকিৎসা দরকার।’

এরপর নির্মলকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে নিজেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন কাওসার। আর কথা হয় না তার সঙ্গে। সঙ্গের দুই কনসটেবলও স্নেহের স্বরে কথা বলছিলো শিশুটির সঙ্গে।

এসময় পাশ থেকে মানুষজন বলছিলো, ‘পুলিশের এমনই হওয়া উচিত। শিশুটিকে পুলিশ যেভাবে যত্ন করে ডাক্তারে কাছে নিয়ে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে ভালো মানুষ এখনো আছে।’

দিনে-রাতে অসংখ্য পথশিশুকে দেখা যায় মহানগরীতে। সচরাচর এসব শিশুর খোঁজ নেয় না কেউ। তবে পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ আরো একবার স্মরণ করিয়ে দিলো, পুলিশই পারে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হতে।[/বাংলা]


SOURCE (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=eec532741c9652688a15285509637 6d9&nttl=06042012101887)

idrinkh2O
April 10, 2012, 02:50 PM
[বাংলা]Sad but true...a wonderful piece of writing.
--------------------
কাছ থেকে দেখা আরব
‘হায় আল্লাহ! এরাও বিড়ি খায়!! (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=18f18d74c83a5b1a2c1a994f8b296 e87&nttl=20120409073044102824)
--------------------------------------------------------------------------------
তামীম রায়হান, অতিথি লেখক
বাংলানিউজটোয়েন্ িফোর.কম

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2012April/Arob20120409193844.jpg
রাতের দুবাই, দুবাই সফরে কিম কারদাশিয়ান

আমরা সাধারণত ভেবে থাকি, আরব মানেই ইসলাম। আরব মানেই ইসলামের একনিষ্ঠ খাদেম ও অনুসারী। আরবদের কোনো অনাচার দেখলে আমরা হায় হায় করে বলি, গেল গেল, ইসলাম গেল। আরবদের মুখে সিগারেট দেখলে অনেক সরলপ্রাণ বাংলাদেশি জিভে কামড় দিয়ে বলে, হায় আল্লাহ! আরবরাও বিড়ি খায়!!

আদৌ কি ব্যাপারটি এমন?
আল্লাহ পাকের অপার মহিমার একটি নিদর্শন হল আরব ভূখণ্ডে শেষ নবীর আগমন। মহানবীর আত্মপ্রকাশের আগে আশপাশের রোম ও পারস্যবাসীর চেয়ে আরবরা যেমন ছিল অশিক্ষিত বর্বর তেমন ছিল কিছু অনন্য গুণ আর বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন আল্লাহ পাক ইসলামের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করে শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে পরিচিতি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন- তাদের এ সম্মান ও উন্নতি কেবল ইসলামেরই বদৌলতে। শূন্য থেকে উঠে এসে তারা একসময় শাসন করেছিল প্রায় গোটা বিশ্ব।

পৃথিবীর কোনো ধর্ম কিংবা মতবাদ বা জাতি-সভ্যতা কখনো এক অবস্থায় স্থায়ী হয়নি। এটাই নিয়তি। উত্থান, উন্নতি ও অবনতি- এ তিনটি পর্যায়ের ভাগ্য সবাইকে বরণ করতে হয়। সে হিসেব করলে আরবদের অবস্থান খুব সহজেই বিবেচনা করা যায়।

শেখ মুহাম্মদ আল আরিফী আরবদেশের বর্তমান মশহুর ও জনপ্রিয় বক্তাদের একজন। সৌদি আরবের এ আলেম তরুণসমাজের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তরুণদের এক সমাবেশে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, রাসুল এর সহধর্মিনীদের নাম কে কে বলতে পারো? একজনও সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। রাসুল এর কন্যা কয়জন ছিলেন, তাদের নামগুলো বলতে বলা হলেও কেউ তা পুরো বলতে পারেনি।

এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বার্সেলোনার খেলোয়াড় কতজন ও কে কে? এবার সবাই প্রায় দাঁড়িয়ে গেল, কার আগে কে জবাব দেবে তা নিয়ে রীতিমত হৈ হুল্লোড় লেগে গেল। তিনি ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ পড়ে সবাইকে বসতে বললেন। এরপর আক্ষেপ করে বললেন, ‘তরুণ বন্ধুরা, এ আরব সীমানার বাইরের লোকেরা তোমাদের সাহাবিদের সন্তান বলে ভাবে, তোমাদের চেহারা দেখে নিজেদের সৌভাগ্যবান বলে মনে করে, আর তোমাদের এ দশা? নিজের রাসুলের সন্তান সম্পর্কে, তার পরিবার সম্পর্কে তোমরা কিছুই জানো না?’

এমনই অপর একজন প্রসিদ্ধ বক্তা আয়েয আল কারনি। তার বই এখানে বর্তমানে বিক্রয়ের শীর্ষ তালিকায়। তিনি এক সমাবেশে বলছিলেন, ইউরোপিয়ানরা এক সন্তানের জন্ম দিয়ে তাকে ভালো করে মানুষ করে, শিক্ষা-দীক্ষায় তাকে দক্ষ করে মহাকাশে পাঠায় গবেষণার জন্য। আর আমরা গণহারে সন্তান জন্ম দিচ্ছি রাসুলের উম্মত বৃদ্ধির জন্য, কিন্তু পরিচর্যা করছি না। ফলে এক এক বাবার দশ পনেরটি সন্তান, কেউ চুইঙ্গাম মুখে, কেউ আইপড নিয়ে ঘোরে, কেউ হুক্কা ফুঁকে আর রিয়াল উড়িয়ে বেড়ায়।

আরবদের বর্তমান সামাজিক অবস্থার কিছুটা অনুমান হয়তো এখান থেকে করা যায়। সম্পদ, প্রাচুর্য আর বিলাসিতা আরবদের বদলে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। বিশ্ব মানচিত্রে আরবদেশগুলোর সংখ্যা বিশ-একুশটি হলেও নিজেদের স্বকীয়তা তারা ভুলে যাচ্ছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের ছয়টি দেশ ভাসছে ভোগ ও অপচয়ের সাগরে। ইসলাম পালন তাদের কাছে নেহায়েত কিছু আচার আর রীতিনীতির নাম। তরুণ প্রজন্ম চরম মাত্রায় আসক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন ভোগসামগ্রী ব্যবহার ও পাশ্চাত্য বিনোদনে। এ দেশগুলোর অধিবাসীরা আমোদ প্রমোদে এতই ব্যস্ত যে, রাজনীতি কিংবা শাসকদের নিয়ে তাদের ভাবার সময় নেই। তাই তুলনামূলকভাবে উপসাগর অঞ্চল অনেকটা উদাসীন হয়ে আছে রাজনীতি থেকে। কুয়েত ও বাহরাইনে কিছুটা ‘গোলযোগ’ রয়েছে, তাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব দেশে মদ ও নেশার জোগান তেমন অসাধ্য কিছু নয়। ঝাঁকে ঝাঁকে এখানে আসছে মার্কিন ও ইউরোপিয়ান পর্যটক ও পেশাজীবীরা, তাদের বিনোদন ও মনোরঞ্জনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সব কিছুর রয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। এ আয়োজনে দলে দলে ভিড়ছে আরব মুসলিম তরুণরাও।’

এ ছয়টি দেশের বাইরে মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় যে আরব দেশগুলো রয়েছে, তারা এখনও ঔপনিবেশিক সংস্কৃতিতে নাক ডুবিয়ে আছে। আলজেরিয়া, মরক্কো অঞ্চলের তরুণরা আরবির চেয়ে ফরাসী ভাষা ও সংস্কৃতিতে দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে জীবনযাত্রার মান এখানে নিম্নমানের হওয়ায় উন্নত জীবনের স্বপ্ন চোখে তারা পাড়ি জমাচ্ছে দলে দলে ফ্রান্সে ও আশেপাশের ইউরোপ-অঞ্চলে।

ওদিকে মিশর, সিরিয়া, লেবানন অঞ্চলের প্রজন্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন কালচারে বেড়ে উঠছে। খোলামেলা সংস্কৃতি ও আচার পরিবেশে সেখানে অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে। গোটা আরব অঞ্চলে পারিবারিক বন্ধন এখনও মজবুত হলেও যারা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে তারা এ বন্ধন ভুলে যায়। ফিলিস্তিন গোটা আরব অঞ্চলে আবেগের প্রতীক। এতদিন ধরে চলা সংঘাতে নিরাশ হয়ে ফিলিস্তিন ছেড়ে আশপাশের দেশগুলোতে স্থায়ী হয়েছেন অনেকে, দেশত্যাগী এদের সংখ্যা ফিলিস্তিনে বর্তমান বসবাসরতদের প্রায় দ্বিগুণ। যারা এখনও সেখানে রয়ে গেছেন, তাদের চোখে মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছায়া। আরব শাসকদের মনে এ নিয়ে দুঃখবোধ থাকলেও মার্কিন বন্ধুদের চোখরাঙানির ভয়ে তারা অনেক উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে যান।

ইতিহাস সাক্ষী, আরবরা যখন জেগেছে তখনই ইসলামের বৃক্ষ নতুন করে সতেজ হয়েছে। আর সেজন্যই ইসলামের চিরপ্রতিদ্বন্দ্ব বা বৈরি পশ্চিমা শক্তি নিত্যনতুন ভোগ ও আয়েশী সামগ্রীর জোগান দিয়ে মোহগ্রস্ত করে রেখেছে তাদের।
এসবের ছোঁয়ায় দিনদিন পশ্চিমমুখী হচ্ছে আরবরা। গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে ইউরোপ আমেরিকায় বাগানবাড়ি কিনছেন শেখরা। রঙিন কাচঘেরা গাড়িতে বিদেশি ললনাদের নিয়ে ঘুরে বেড়ায় যুবরাজরা।

অন্যান্য আরব অঞ্চল তো বটেই, সৌদি আরব ও আশপাশের দেশগুলোতেও বিকৃতি ঘটছে আরবি ভাষার। ইংরেজির সাথে মিশ্রণ তো বটেই, উচ্চারণভঙ্গির নতুনত্বে হারিয়ে যাচ্ছে বিশুদ্ধ আরবির চর্চা ও কথোপকথন। যাদের রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে মরুর বুকজুড়ে পিচঢালা রাজপথ, আকাশচুম্বী দালান, বালুভূমিতে যারা পানির ঝর্ণার কারিগর, সেইসব সাধারণ শ্রমিকদের অনেক আরব মানুষ হিসেবেও গণ্য করতে ইতস্তত করে, তাদের পাওনা নিয়েও চলে হাজার রকমের টালবাহানা। অথচ নিজেদের ভেতর দশজনের জন্য একশ’ জনের খাবার নিয়ে বসে সেসবের অপচয় দেখলে চোখে পানি চলে আসে গরীব দেশ থেকে আসা ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর।

এতকিছুর পরও ইসলামের যেটুকু এদের মধ্যে বাকি আছে, তাও নেহায়েত কম নয়। বিশুদ্ধ আকিদা বিশ্বাস এদের সবচেয়ে প্রশংসনীয় বিষয়। পীরপূজা, মাজারপূজা, ভণ্ডামি থেকে এখনও এ অঞ্চলের লোকজন অনেক দূরে।

সাম্প্রতিককালের আরব বসন্ত নাড়া দিয়েছে অনেককে। কিন্তু এরপরও যদি তাদের ভাগ্যে সুদিন ফিরে না আসে, তবে পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ। কারণ এসব বিপ্লব ও প্রতিবাদের নামে আরব তরুণদের হাতে চলে এসেছে অস্ত্রের ভাণ্ডার। নিছক সামান্য বিষয় নিয়ে গোত্রে গোত্রে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ইতিহাস তারা এখনও কিন্তু ভোলেনি।

কেউ একজন বলেছিলেন, ইসলাম যদি কোনও গাড়ি হয়, তবে আরবরা এর পেট্রল-ডিজেল।’ কিন্তু আজ ভাবার বিষয়, ইসলামের এ জ্বালানিতেই যদি ভেজাল ছড়িয়ে পড়ে তবে আর আশার বাণী কে শোনাবে আমাদের? চারিদিকে উঁচু উঁচু টাওয়ার আর প্রাসাদের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আরবদের মূল পরিচয়, তবু এ নিয়ে ভাবছেনা কেউ, এটাই আশ্চর্যের!
তামীম রায়হান: ছাত্র, কাতার ইউনিভার্সিটি, দোহা, কাতার
tamimraihan@yahoo.com

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৬ ঘণ্টা, ০৯ এপ্রিল, ২০১২
সম্পাদনা: আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর[/বাংলা]

idrinkh2O
April 10, 2012, 02:54 PM
[বাংলা]আমি খুব কাছে থেকে ভূত দেখেছি : জুয়েল আইচ (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=c195ef012df313fdaf8a36f514133 9ea&nttl=10042012102902)
--------------------------------------------------------------------------------
বিপুল হাসান
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2012April/jpg20120410043949.jpg
ছবি: শোয়েব মিথুন/বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম

আমাদের জুয়েল আইচ, দ্য গ্রেট ম্যাজিশিয়ন। ১০ এপ্রিল তিনি দেখেছিলেন পৃথিবীর মুখ, হ্যাপি বার্থ ডে টু জুয়েল আইচ। বাংলাদেশের জাদুশিল্পের পথিকৃত জুয়েল আইচকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে বাংলানিউজ গিয়েছিল তার উত্তরার বাসভবন ম্যাজিক ক্যাসেলে। লিফট থেকে নামতেই দেখা গেল সদা বিনয়ী জুয়েল আইচ দাঁড়িয়ে আছেন খোলা দরোজায়, মুখে তার সেই চেনা হাসি।

জুয়েল আইচ শুধু একজন জাদুকরই নয়, তিনি একজন ধ্র“পদী বাঁশিবাদক। কিছুদিন আগে এক প্রদর্শনীতে দেখা গেল বাঁশি বাজাচ্ছেন জুয়েল আইচ। পাশে দাঁড়ানো স্ত্রী বিপাশা আইচ বাঁশির সুরে তন্ময়। ধীরে ধীরে তার চোখ বুঁজে এলো। বাঁশির সুর ক্রমশই তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠলো। আর কী আশ্চর্য বাঁশির সুরে ধীরে ধীরে শুন্যে ভাসলেন বিপাশা। শুধু কী তাই ! গিলোটিনের ভেতর ঘাড় পেতে দিলেন বিপাশা আইচ। জুয়েল আইচের হাতে ঝকঝকে বৈদ্যুতিক করাত। কী পাষণ্ড মানুষ তিনি! বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে প্রিয়তমা স্ত্রীর ঘাড় বরাবর নামিয়ে আনলেন ধাঁরালো করাত। আতঙ্কে শিউরে উঠলো দর্শকেরা। কিন্তু কী তাজ্জব, অক্ষতই রইলেন বিপাশা। হাসি মুখে গিলোটিন থেকে ঘাড় সরিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে মাথা নোয়ালেন। অভিভূত দর্শক দেখলো গিলোটিনের ওপর আর নিচের ফুটোয় রাখা গাজরগুলো করাত-কাটা হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই হলেন আমাদের প্রিয় ম্যাজিশিয়ান জুয়েল আইচ, যিনি বিনোদন থেকে জাদুকে শিল্পের মর্যাদায় উন্নীত করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে সুপরিচিত ও সম্মানিত করেছেন। তিনি কেবল জাদুশিল্পী বা বাঁশিবাদকই নন, একাধারে চিত্রশিল্পী-সমাজসেবী এবং একাত্তরের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

আসুন জাদুকর জুয়েল আইচের জন্মদিনে তার সঙ্গে বাংলানিউজের একান্ত আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশে চোখ রাখি।

বাংলানিউজ : শুরুতেই আপনার শৈশবের গল্প শুনতে চাই।
জুয়েল আইচ : আমি গ্রামের ছেলে। আমার জন্ম পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সমদেকাঠির গ্রামে। আমার বাবা বি.কে আইচ, তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। মা ছিলেন গৃহিনী। আমরা ৬ বোন ৩ ভাই। আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় গ্রামেই, সমদেকাঠি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ক্লাস থ্রি পর্যন্ত গ্রামেই ছিলাম। বাবা ব্যবসার কাজে সপ্তাহের ছুটির দিন ছাড়া থাকতেন পিরোজপুর শহরে। ক্লাস ফোরে উঠার পর তিনি আমাকে তার কাছে নিয়ে যান। গ্রামের স্কুল থেকে এনে পিরোজপুর সরকারী হাই স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। খুব মন খারাপ হয়েছিল আমার, বাবার উপর রাগও হয়েছিল। সবাই থাকবে গ্রামে আর বাবা আমাকে শহরে নিজের কাছে নিয়ে আসলেন। বাবা যে আমাকে খুব ভালোবাসেন, সেটা আমি বুঝতে পারি অনেক পরে। বাবার মৃত্যুর পর। আসলে আমার মতো অনেকেই বাবার ভালোবাসা টের পায়, বাবা মারা যাবার পর।

বাংলানিউজ : আপনি তো খুব ভালো ছাত্র ছিলেন?
জুয়েল আইচ : স্কুল জীবন থেকে সবসময় ভালো রেজাল্ট করেছি। ভালো রেজাল্ট করার পেছনের কারণটা হলো, ছোটবেলা থেকেই আমি আশেপাশের মানুষের হাসি মুখ দেখতে ভালোবাসি। ভালো রেজাল্ট করলে সবাই খুব খুশি হবে, এটাই ছিল আমার ভালো রেজাল্টের আসল কারণ। ছোটবেলা থেকেই আমি মানুষকে মুগ্ধ করতে চাইতাম, এখনও তাই চাই। ম্যাজিক দেখিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করা যায়। মানুষ মুগ্ধ হবে আমার ম্যাজিক দেখে। ম্যাজিকের প্রতি ঝোঁকার এটিও অন্যতম কারণ।

বাংলানিউজ : ছোটবেলায় কী হতে চেয়েছিলেন? ম্যাজিশিয়ন অর্থাৎ জাদুশিল্পী হওয়ার স্বপ্নটা তৈরি হলো কীভাবে?
জুয়েল আইচ : অনেক কিছুই তো হতে চেয়েছি ছোটবেলায়। ছোটবেলা থেকেই আমার ঝোঁক তৈরি হয় ছবি আঁকার প্রতি। আমার বাবার শখ ছিল ছবি আঁকা। তার দেখাদেখি আমিও ছবি আঁকা শুরু করি। ছবি আঁকার সেই অভ্যাস এখনো আছে। গ্রামের মেলায় একবার দেখলাম এক বাঁশিওয়ালাকে, বাঁশি বাজিয়ে বাজিয়ে বাঁশি বিক্রি করছে। আমারও ইচ্ছে হলো বাঁশিওয়ালা হওয়ার। শুরু হলো আমার বাঁশি বাজানোর কসরত। একবার আমাদের গ্রামে বেদেবহর এসেছিল। বেদে দলের কাছ থেকেই আমি প্রথম জাদু দেখি। ঠিক কী জাদু দেখেছিলাম মনে নেই, তবে চমৎকৃত হয়েছিলাম এটা বলতে পারি। জাদুর প্রতি আকর্ষণটা তৈরি হয় আরো অনেক পরে। বানারীপাড়া সার্কাস দলের এক জাদুকরের জাদু দেখে তো হতবাক আমি। সেই জাদুকর একটা ছেলের গলা কেটে ফেলছে, আবার জাদু দিয়ে গলা জোড়া লাগিয়ে দিচ্ছে । ঠিক করলাম, আমিও জাদু শিখবো। ছোটবেলায় রূপকথা পড়তে আমি খুব পছন্দ করতাম। বন্দে আলী মিয়ার রূপকথা ছিল আমার খুব প্রিয়। স্বপ্নে প্রায় দেখতাম, আমি বন্দে আলী মিয়ার রূপকথার জাদুর দেশে চলে গেছি। জাদু দিয়ে পাল্টে দিচ্ছি সবকিছু। জাদুর প্রতি আমার আকর্ষণটা উন্মাদনায় পরিণত হয় কলেজে উঠার পর, সিরাজগঞ্জের জাদুকর আবদুর রশিদের জাদু দেখে। সচেতনভাবে একজন জাদুশিল্পী হওয়ার স্বপ্নটা বোধহয় তখন থেকেই দেখতে শুরু করি। ম্যাজিক সম্পর্কিত রাজ্যের বইপত্র ঘাটাঘাটি করে শুরু করলাম ম্যাজিক প্র্যাকটিস। তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাকে সেই স্বপ্ন নিয়ে তখন বেশি দূর যেতে দেয় নি। একাত্তরে পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। আমরা প্রাণ নিয়ে কোনরকমে পালিয়ে বাঁচি। জাদুর যেসব যন্ত্রপাতি আমি তৈরি করেছিলাম সব পুড়ে ছাড়খার।

বাংলানিউজ : আমরা জানি আপনি একাত্তরের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন কোন প্রেরণায়?
জুয়েল আইচ : আসলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কোনো পূর্ব প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ করবো, এরকম চিন্তাভাবনা আমার আগে থেকে ছিল না। কারণ আমি প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে কখনোই যুক্ত ছিলাম না। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মনে হলো, দেশে থাকলে মরতে হবে। মরতে যখন হবেই তো এভাবে মার খেয়ে কাপুরুষের মতো মরে যাওয়া ঠিক হবে না। মরবো যখন লড়াই করে মরবো, যুদ্ধ করে মরবো। অবশ্য আগেই উপলব্ধি করেছিলাম যে, পাকিস্তান কিছুতেই আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেবে না। পাকিস্তান আমাদের অধিকার বঞ্চিত করে রাখবে। এ থেকে বেরিয়ে আসাতে হলে আমাদের সশস্ত্র সংগ্রাম করতে হবে।

বাংলানিউজ : আপনার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের কিছু স্মৃতির কথা বলুন?
জুয়েল আইচ : আমি খানিকটা ভীতুপ্রকৃতির ছেলে ছিলাম। কোথাও গাড়ির চাকা বাস্ট হলে আমার পিলে চমকে যেত। বোমাবাজি-মারামারির ভয়ে ছাত্র রাজনীতি থেকে দূরে ছিলাম। সেই আমিই কী করে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি এলএমজি চালিয়েছি, সেটা এখনও আমার কাছে ম্যাজিকের মতো মনে হয়। সেই ম্যাজিকটা হলো ‘স্বাধীনতার স্বপ্ন’। আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেই ৯ নম্বর সেক্টরের হয়ে। আমাদের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জলিল। ছোট বড় অনেক অপারেশনেই আমি অংশ নেই। সবচেয়ে বড় অপারেশনটা করেছিলাম পিরোজপুর জেলার স্বরুপকাঠি থানায়। সেখানে পেয়ারাবাগান নামের একটা জায়গায় পাকিস্তানি মিলিটারিদের একটি ব্যাটালিয়ান ক্যাম্প করেছিল। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ছোট্ট একটা গ্র“প নিয়ে সেই ক্যাম্পে হামলা চালাই। হানাদারদের সঙ্গে সেখানে সম্মুখযুদ্ধ হয়েছিল। একপর্যায়ে তারা আমাদের আক্রমনে পিছু হটে এবং পালিয়ে যায়। যুদ্ধ জয়ের আনন্দটা কী সেসময় টের পেয়েছিলাম।

বাংলানিউজ : মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলেই কী পেশাদার ম্যাজিশিয়ান হিসেবে জাদুশিল্পে নিবেদিত হন?
জুয়েল আইচ : নাহ, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পেশা হিসেবে আমি শিক্ষকতা বেছে নেই। জগন্নাথ কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করে একজন শিক্ষক হওয়ার জন্য ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে বিএড কোর্স করি। পিরোজপুরেরই একটি স্কুলে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু হয়েছিল আমার। মুক্তিযুদ্ধের সময় তো আগুনে পুড়ে ম্যাজিকের সব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকতার পাশাপাশি আবার টুকটাক করে যন্ত্রপাতি তৈরি করা শুরু করি। স্বাধীনতার বছর দুয়েক পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা হকি ম্যাচ হয়েছিল। খেলায় পাকিস্তানের কাছে আমরা ১৭ গোলে হেরেছিলাম। এই ঘটনাটি আমাকে প্রচন্ড নাড়া দেয়। যাদের আমরা যুদ্ধ করে হারিয়েছি, তাদের কাছে এতো বড় পরাজয়টা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। তখনই মনের মধ্যে একটা আলাদা জেদ তৈরি হয়। ঠিক করি আমাকে এমন কিছু করতে হবে যাতে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়ে। আমাদের যে হাজার বছরের ঝলমলে ঐতিহ্য আছে, তা পৃথিবীর মানুষকে জানাতে হবে। আমাদের বাংলা অঞ্চলে জাদু এমন একটি শিল্প, যা হাজার বছরের পুরনো। এই ভাবনা থেকেই আমি পেশাদার জাদুশিল্পী হওয়ার প্রেরণা পাই। ছোটখাট ঘরোয়া অনুষ্ঠানে জাদু দেখালেও প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পাবলিক শো করি আমি ১৯৭৩ সালে। আমাদের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি থানার স্বরূপা সিনেমা হলে। মনে আছে, শোতে আমার এক ছোট ভাইকে আমি শূন্যে ভাসিয়েছিলাম। এরপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় শো করা শুরু করি। ঢাকায় প্রথম শো করি ছিয়াত্তরের দিকে। এর বছর খানেক পরই শুরু হয় বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে নিয়মিত জাদু দেখানো।

বাংলানিউজ : আপনাকে একটা সময় টিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত জাদু প্রদর্শন করতে দেখা গেলেও গত কয়েকবছর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশেও আপনাকে খুব বেশি শো করতে ইদানিং দেখা যায় না। এর কারণ কী?
জুয়েল আইচ : আসলে দীর্ঘদিন ধরে তো জাদুশিল্পের সঙ্গে জড়িত আছি। এখন যেটা হয়েছে, ম্যাজিকের ক্ষেত্রে আমি ইন্টারন্যাশানাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করি। আজকাল ছোট্ট একটা স্টুডিওতে সীমিত পরিসরে একেকটা টিভিপ্রোগ্রাম তৈরি হয়। এসব প্রোগ্রামে এতো সীমাবদ্ধতার মাঝে কোনোভাবেই সেই স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখা সম্ভব নয়। তবুও আমার প্রিয় দর্শক-বন্ধুদের কথা ভেবে বছরে ২/১টা অনুষ্ঠানে ম্যাজিক দেখানোর চেষ্টা করি। দেশেও গত কয়েকবছর হলো বড় বড় ভেন্যু ছাড়া আমি শো করছি না। এটার কারণও সেই ইন্টারন্যাশানাল স্টান্ডার্ড বজায় রাখার চেষ্টা। এই স্টান্ডার্ড বজায় রাখতে গিয়ে শোর বাজেটও অনেক হয়ে যায়। কিন্তু ম্যাজিককে একটা স্টান্ডার্ড জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পর তা থেকে তো সরে আসা যায় না। দেশের বাইরেই গত কয়েক বছর ধরে আমি তুলনামুলক বেশি পারফর্ম করি। আমার জাদুতে থাকে দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া। জাদু দিয়েই দেশকে বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করছি।

বাংলানিউজ : এবার একটু অন্যরকম প্রশ্ন, আপনি কী ভূত বিশ্বাস করেন?
জুয়েল আইচ : ওরে বাবা, ভূত বিশ্বাস না করে কী উপায় আছে! কারণ আমি খুব কাছে থেকে ভূত দেখেছি। আগে ঢাকা থেকে লঞ্চে নিয়মিত পিরোজপুর যাতায়াত করতাম। গভীর রাতে গ্রামের কাছাকাছি একটি ঘাটে লঞ্চ থেকে নামতাম। এক একা বনজঙ্গলে ঘেরা নির্জন পথ ধরে কয়েক মাইল হেঁটে বাড়ি পৌঁছাতে হতো। সে সময়ই একাধিকবার ভয়ংকর সব ভূত-প্রেতের খপ্পড়ে পড়ি। এরকমই একটা বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘটনা বলি। প্রায় শেষ রাত। একটা শ্বশান ঘাট পাড় হয়ে বিলের মতো একটা জায়গার পাশ দিয়ে বাড়ির পথে হাঁটছি। পথে ঝোপঝাঁড়। একটু ভয় ভয় লাগছিল, তাই খুব দ্রুত হাঁটছিলাম। হঠাৎ দেখি, একটা ঝোঁপের ধারে একটা বউ বসে আছে। মাথায় ঘোমটা দেওয়া একটা ছোট্ট বউ। এতো রাতে এই নির্জন জায়গায় বউ আসবে কোথা থেকে? এটা কী ! ভালো করে তাকাতেই দেখি বউটা আমার উদ্দেশ্যে মাথা নাড়ছে। হৃদপিণ্ড ধরাস করে উঠলো, আতংকে পা ফেলতে ভুলে গেছি। বউটা থেকে চোখও সরাতে পারছি না। শীতল একটা হাওয়া বয়ে গেল। বউটা এবার জোরে জোরে মাথা নাড়তে শুরু করলো, অর্থাৎ আমাকে সে কাছে ডাকছে। বুঝলাম আমার সময় ঘনিয়ে এসেছে, আর রক্ষা নেই। মরতে যখন হবেই, তখন শুনি বউটা আমাকে কী বলতে চায়। খুব কষ্টে দুরু দুরু বুকে বউটার কাছে গেলাম। এবার হতাশ হতে হলো আমাকে। ঝোঁপের ধারে বিশাল একটা মান কঁচু গাছ। মান কঁচুর একটা পাতার উপর বিল থেকে প্রতিফলিত হালকা আলো এমনভাবে পড়েছে যে মনে হচ্ছে, একটা বউ ঘোমটা মাথায় বসে আছে। বাতাসে কাঁপছে পাতা, মনে হচ্ছে বউটা মাথা নাড়ছে। আরেকবার বাঁশঝাড় থেকে হঠাৎ লিকলিকে একটা হাত আমাকে ধরার জন্য বের হয়ে এসেছিল। চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হওয়ার আগে দেখি, ঝাঁড় থেকে একটা সরু বাঁশ বাতাসে হেলে পড়ছে বার বার। আমাদের প্রায় সবারই ভূত দেখার অভিজ্ঞতা এরকমই। অনেককেই বলতে শুনেছি, তারা ভূতের দেখা পেয়েছেন। ছুটে গেছি তাদের কাছে। কিন্তু কেউই ভূতের সঙ্গে আমাকে দেখা করিয়ে দিতে পারেন নি। আমার সঙ্গে দেখা করতে কেন জানি, কোনো ভূত-প্রেত রাজি হয় নি।

বাংলানিউজ : আপনি একবার ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, অলৌকিক বলে কিছু নেই। সবই লৌকিক। কেউ আপনাকে অলৌকিক কিছু দেখাতে পারলে তাকে মোটা অংকের পুরস্কার দিবেন? কোনো সাড়া পেয়েছিলেন কী?
জুয়েল আইচ : আসলে বিষয়টা ঠিক ওরকম নয়। আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। এই সুযোগে কিছু অতি ধুরন্ধর প্রকৃতির মানুষ নিজেদের অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী বলে নানা কৌশলের মাধ্যমে সহজ-সরল মানুষকে প্রতারিত করছে। কেউ ফকির-দরবেশ সেজে মানুষ ঠকাচ্ছে। কেউ তাবিজ-কবজ বা মাজারের অলৌকিক ক্ষমতার কথা বলে বিপদাপন্ন মানুষদের ঠকিয়ে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে। এ ধরনের অলৌকিক ক্ষমতার দাবি আগেও ছিল, এখনও আছে। দৈনিক পত্রিকার পাতায় এরকম বিজ্ঞাপনও প্রতিদিন চোখে পড়ে। আমি অসম্ভব কৌতুহল নিয়ে অলৌকিক ক্ষমতাধর অনেকের কাছে ছুটে গেছি। কিন্তু কারও মাঝেই অলৌকিকতার কিছু খুঁজে পাই নি। খুবই সাধারণ কিছু জাদুর কৌশল কেবল কয়েকজনকে ব্যবহার করতে দেখেছি। মানুষকে এদের সম্পর্কে সচেতন করার জন্যই এই ঘোষণা দিয়েছিলাম। এখনও বলছি, যদি কেউ এরকম অলৌকিক শক্তির অধিকারী কাউকে দেখাতে পারেন, আমি তাকে অবশ্যই পুরস্কৃত করবো।

বাংলানিউজ : জাদুতেও কি অলৌকিক বলে কিছু নেই?
জুয়েল আইচ : না নেই। জাদু এমন একটি শিল্প, যা পুরোপুরি বিজ্ঞান সম্মত। জাদু প্রদর্শনের মধ্যে আছে কিছু কৌশল। তন্ত্রমন্ত্র বা জাদুর কাঠি জাদু প্রদর্শনের অলংকার মাত্র। জাদুর প্রাণ হলো বিজ্ঞান। গান বা নাচ শেখার জন্য যেমন চর্চার দরকার, তেমনি জাদু দেখানোর জন্যও চর্চা দরকার। চর্চার মাধ্যমে যিনি যতো ভালো করে কৌশলগুলো রপ্ত করতে পারবেন, তিনি ততো বড় জাদুকর।

বাংলানিউজ : আমাদের ‘ঈশ্বর’ লৌকিক নাকি অলৌকিক, আপনি কী ঈশ্বর বিশ্বাসী?
জুয়েল আইচ : ‘ঈশ্বর’ লৌকিক নাকি অলৌকিক, এ নিয়া কথা বলার চেয়ে বরং ঈশ্বর বিশ্বাসের কথা বলি। বিশ্বাস সবসময় সত্য। যেখান থেকে অবিশ্বাস শুরু, মিথ্যার সূচনা সেখানেই। আমার ঈশ্বর বিশ্বাসের জায়গাটা অনেক বড়। প্রচলিত ঈশ্বর বিশ্বাসের সঙ্গে তা হয়তো নাও মিলতে পারে। আমাদের এই সৌরজগত লক্ষ কোটি ছায়াপথের মধ্যে অনু-পরমানুর সমান। এই বিশাল ইউনিভার্সের অতি ক্ষুদ্র এক গ্রহ হলো পৃথিবী। এই পৃথিবীর অতি নগন্য এক প্রাণী আমরা। আমাদের মেধা-বুদ্ধি-ধারনা খুব সীমিত। আমাদের চিন্তাশক্তিও খুব সীমাবদ্ধ। চারপাশের গন্ডির মধ্যে ঘুরপাক খায় আমাদের চিন্তা-চেতনা। তাই ঈশ্বরের অসীম পরিধি কল্পনা করা আমাদের সাধ্যের বাইরে।

বাংলানিউজ : যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তার কতোটুকু পূরণ হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য?
জুয়েল আইচ : অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলাম। এই স্বপ্নে আবেগের পরিমানই ছিল বেশি, বাস্তবতা ছিল কম। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই বাস্তবতার মুখোমুখি হই, আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন হোঁচট খায়। মুক্তিযুদ্ধ করার সময় মনে হয় না কোনো মুক্তিযোদ্ধা কল্পনাও করে নি যে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চল্লিশ বছর পর এতোটা অসহিষ্ণু হয়ে উঠবে। তবু এখনো আমাদের স্বপ্ন দেখতেই হবে। তাই স্বপ্ন দেখি, অবশ্যই একদিন দেশের রাজনীতিকরা সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খা বুঁঝতে পারবেন। স্বপ্ন ছাড়া মানুষের জীবন অর্থহীন। স্বপ্নই মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা। স্বপ্নই আমাদের এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে, আমরা বেঁচে আছি।


একনজরে জুয়েল আইচ

পুরো নাম : জুয়েল আইচ
ডাক নাম : জুয়েল
স্ত্রী : বিপাশা আইচ (গৃহিনী ও জাদুশিল্পের সহযোগী)
সন্তান : একটি (কন্যা : খেয়া আইচ)
জন্মদিন : ১০ এপ্রিল
জন্মস্থান : পিরোজপুর
বিয়ে : ১৯৮৫
মঞ্চে প্রথম জাদু প্রদর্শনী : ১৯৭৩ সালে
ঢাকায় প্রথম জাদু প্রদর্শনী : ১৯৭৬ সালে
মিডিয়ায় প্রথম যাদু প্রদর্শন : ১৯৭৮ সালে
দেশ ভ্রমণ : যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালি, জার্মানি, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, সিঙ্গাপুর, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সব কটি দেশ
প্রথম বিদেশ সফর : যুক্তরাষ্ট্র (১৯৮১ সালে)
প্রিয় যাদু শিল্পী : পিসি সরকার সিনিয়র, ডেভিড কপারফিল্ড

বাংলাদেশ সময় ০৩২৫, এপ্রিল ১০, ২০১২
ছবি : শোয়েব মিথুন[/বাংলা]

idrinkh2O
April 10, 2012, 03:56 PM
[বাংলা]নতুন চিন্তাকে গুরুত্ব দাও (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-11/news/239467)
স্টিভ বলমার | তারিখ: ১১-০৪-২০১২

স্টিভ বলমার


মাইক্রোসফটের সিইও স্টিভ বলমার ১৯৫৬ সালের ২৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অবস্থায় ১৯৮১ সালে মাইক্রোসফটে যোগ দেন। ২০১১ সালের ১৩ মে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন স্টিভ বলমার

২০১১ সালের স্নাতকদের অভিনন্দন জানিয়ে আমার নিজের কথাগুলো শুরু করব। সবাই অনেক ভাবের কথা বলবে যে এটা পথচলার শুরু, নতুন জীবনের শুরু—এই সব। কিন্তু আমার কাছে এটা হলো আনন্দ উদ্যাপনের উপলক্ষ। কারণ এটা তোমাদের প্রাপ্য ছিল এবং তোমাদের পরিবারের সদস্যরাও এই কৃতিত্বের অংশীদার।

দুই বছর আগেও আমি তোমাদের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া সম্পর্কে কিছু জানতাম না। আমি এখানে কোনো দিন আসিওনি। দুই বছর আগে এখানে এসেছিলাম আমার সন্তানের গ্র্যাজুয়েশনের দিন। একটা গল্প বলি তোমাদের। কিছুদিন আগের কথা, আমি এখানে আসছিলাম, তখন আমার এক বন্ধুর ছেলে আমাকে দেখিয়ে বলল, ইউএসসি (ইউনিভার্সিট অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া) ভুয়া, আর ওর নিজের ইউসিএলএ (ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস) হলো সেরা। আমি তখন নিমেষের মধ্যে পকেট থেকে আমার উইন্ডোজ মুঠোফোন বের করে ওকে দেখিয়ে দিলাম যে র‌্যাংকিংয়ে ইউএসসির অবস্থান হলো ২৩ আর ইউসিএলএর অবস্থান ২৫। হাহ্ হাহ্ হাহ্!

আমরা এখন বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার আবিষ্কারের ৬০ বছর পার করে এসেছি। আজ প্রযুক্তি ছাড়া যে বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি তা ভাবতেই অবাক লাগে। শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, যোগাযোগ—সবকিছুতে আজ প্রযুক্তি ঢুকে গেছে। আমি আমার সামনে উপবিষ্ট অভিভাবকদের প্রশ্ন করব, আপনারা কি ছাত্রজীবনে কখনো ওয়ার্ড প্রসেসর, কম্পিউটার এসবের সাহায্যে কোনো টার্ম পেপার বা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়েছেন?

আমি যখন মাইক্রোসফটে যোগ দিই তখন আমার পড়াশোনা শেষ হয়নি। আমি তখন এমবিএ পড়ছিলাম। তখন আমার এক বন্ধু, ওর নাম বিল গেটস, আমাকে বলল, ‘আ রে পড়াশোনা বাদ দিয়ে আমার সাথে যোগ দাও না কেন?’ পড়াশোনা বাদ দেওয়াটা আমার বাবা-মা সহজে মেনে নেবেন না এটা জানতাম। যা-ই হোক, বাসায় গিয়ে এ কথা তুলতেই আঁতকে উঠল বাবা-মা। বাবা-মার জেরা শুরু হলো, ‘পড়াশোনা বাদ দিয়ে কার সঙ্গে যোগ দিচ্ছ? কী করে ওরা?’ আমি বলি, ‘সফটওয়্যার তৈরি করে।’ মা বলে, ‘সফটওয়্যার জিনিসটা কী?’ ভেঙে বলি আমি। শুনে মা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে, ‘মানুষ কম্পিউটার নিয়ে কী করবে? এটার আবার কী দরকার!’ সময়টা ছিল আশির দশক। আর এখন কী অবস্থা দেখো। এখনো আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

আমি তোমাদের শুধু তিনটা বিষয় নিয়েই ভাবতে বলব।

প্রথমত, নতুন ভাবনা, মৌলিক চিন্তাকে গুরুত্ব দাও।

মাইক্রোসফট কিন্তু শুধু একটা মৌলিক চিন্তাকে, নতুন ভাবনাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। সেই সঙ্গে ছিল বিল গেটস আর পল অ্যালেনের অসাধারণ নেতৃত্ব যা আর কোনো প্রতিষ্ঠান পেয়েছে কি না সন্দেহ। মাইক্রো প্রসেসর চালানোর মতো সফটওয়্যার দিয়েই কম্পিউটার হলো। সেই কম্পিউটার ছড়িয়ে গেল সবখানে। গবেষণাগারে, অফিসে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এরপর প্রতিটি বাসায় স্থান করে নিল এই প্রযুক্তি। এখন এই প্রযুক্তি তো পকেটেও চলে এসেছে, ছড়িয়ে যাচ্ছে টেলিভিশনেও। আর এ সবই কিন্তু একটা ছোট্ট ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়েই হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, সুপ্ত আগ্রহ।

এটা কিন্তু খুব সহজ জিনিস নয়। অনেকেই মনে করে, এটা হয়তো নিজে থেকেই চলে আসে। অনেকের ধারণা, এটা যার থাকে তার এমনিতেই থাকে, আবার যার থাকে না তার থাকেই না। আমি তোমাদের বলব, এই ধারণাটা ভুল ছাড়া আর কিছুই না। নিজে মন, প্রাণ, মস্তিষ্ক দিয়ে খাটলে এটা কিছুই না। নিজের আসল আগ্রহ কিসে সেটা তোমাকে নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে। এমন কিছুর সঙ্গে জড়িত হও, কাজ করার সময় নিজের পছন্দের ক্ষেত্র এমনভাবে বেছে নাও, যেন দুর্দিন এলেও মাথা উঁচু করে বলতে পারো, ‘যত সমস্যাই হোক না কেন, আমি আমার নিজের কাজ ভালোবাসি।’

এবং শেষটি হলো, লেগে থাকতে হবে সব সময়। কোনো কিছুতে হার মানা যাবে না।

চলার পথ কখনোই সহজ হবে না। কিন্তু হেরে গেলে চলবে না। লেগে থাকতে হবে সব সময়। আমাদের কথাই ধরো, আমাদের সময় শুধু মাইক্রোসফট একা নয়, একই সময় আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বাজারে এসেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে অধিকাংশই আজ ধুলোয় মুছে গেছে। অথচ আজও মাইক্রোসফট টিকে আছে। এর কারণ একটাই, আমরা কখনো হার মানতে রাজি ছিলাম না। আমাদের অনেক কঠিন সময় এসেছে, যখন মনে হয়েছে বাজার থেকে ছিটকে পড়তে হবে আমাদের, কিন্তু আমরা ঠিকই ফিরে এসেছি আবার। কারণ আমরা সব সময় আমাদের কাজের পেছনে সময় দিয়েছি, দিন-রাত লেগে থেকেছি কাজের পেছনে। ঠিক একই ধরনের ইতিহাস অ্যাপল, গুগল, ফেসবুকেরও রয়েছে।
কথাগুলো শুধু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যারা কাজ করবে তাদের বলছি না। যারা চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করবে, ব্যবসায় ক্যারিয়ার গড়বে, বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করবে, তাদের সবাইকে বলছি কথাগুলো। কখনো হার মেনে বসে থাকা যাবে না। সব সময় চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে, লেগে থাকতে হবে নিজের কাজের পেছনে। আমি জানি তোমরা পারবে। বিদায়।

সূত্র: ইন্টারনেট, ইংরেজি থেকে অনুবাদ:
ফয়সাল হাসান[/বাংলা]

Dilscoop
April 15, 2012, 01:41 PM
Little boy lost finds his mother using Google Earth (http://www.bbc.co.uk/news/magazine-17693816)

This is some story!

deshimon
April 28, 2012, 03:04 AM
[বাংলা]স্যালুট সুবীর তোমায়

দিলীপ কুমার সাহা, নিকলী (কিশোরগঞ্জ)

অবসরটা সবাই নিজের মতো কাটায়। কেউ গান শোনে, কেউ বাগান করে। সুবীর বিশ্বাস অবসর কাটান শিশুদের পড়িয়ে। তা-ও বিনে পয়সায়। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া ও গরিব ঘরের শিশুরা তাঁর ছাত্র। মাথার ওপর ছাউনি নেই। নেই বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল। আছেন শুধু সুবীর। তাঁর টানেই ছুটে আসে শিশুরা। বিদ্যালয়ে না গেলেও পাঠশালায় তারা হাজির হয় ঠিকঠাক।
স্থানীয়দের কাছে এটি ‘গাছতলার পাঠশালা’ নামে পরিচিত। এখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীল কাজে অনুপ্রেরণা দেন সুবীর। জন্ম থেকেই তাঁর পা দুটি স্বাভাবিক নয়। হাত দুটি থেকেও না থাকার মতো। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে নিজে পড়ছেন, শিক্ষার আলোয় আলোকিত করছেন অন্যদেরও। নয় বছর আগে এই পাঠশালার যাত্রা শুরু। ঝরে পড়া অনেক শিশু সুবীরের ছায়াতলে এসে এখন বিদ্যালয়মুখী।
পাঠশালায় ছাত্রছাত্রী ৪৫ জন। এরা সবাই আশপাশের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় ছুটির পর বিকেলে তারা পাঠশালায় আসে। শুক্রবার বাদে সপ্তাহের ছয় দিন বেলা তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত পড়ানো হয় এখানে। শিক্ষার্থীরা কেউ পাঠশালার পড়ায় ফাঁকি দেয় না। সুবীর আদর করে তাদের চকলেট খাওয়ান। অভিভাবকেরাও ছেলেমেয়েদের খোঁজখবর নেন।
এই পাঠশালায় শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা, খেলাধুলা, বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ছবি আঁকা বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেন সুবীর। মাস শেষে নেন মূল্যায়ন পরীক্ষা।
সুবীরের বেড়ে ওঠা: বয়স তাঁর ২২। বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার অবদা গ্রামে। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে তিনি চতুর্থ। বাবা বারীন্দ্র বিশ্বাস খেটে খাওয়া মানুষ। শিশুকালে বন্ধুদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাওয়ার বায়না ধরতেন সুবীর। কিন্তু ছেলে যে আর দশটা শিশুর মতো নয়! কী করে বিদ্যালয়ে যাবে সে? বাবা-মায়ের এই দুশ্চিন্তা হার মানে সুবীরের আগ্রহের কাছে। ছেলেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন তাঁরা। ঘরে বসে লেখার চর্চা করে চলেন সুবীর। দুই হাতের মাঝে কলম চেপে লিখতে শেখেন।
অবদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাস করেন। বাবার অভাবের সংসার। সুবীর চলে আসেন কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের শিবিরপাড়া গ্রামে মামা সাধন বিশ্বাসের বাড়িতে ঠাঁই হয় তাঁর। মামা সুবীরকে স্থানীয় হিলচিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন। বাড়ি থেকে বিদ্যালয় এক কিলোমিটার দূরের পথ। এই পা নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে-আসতে উরু ফুলে যেত সুবীরের। তবু লেখাপড়া থামাননি।
এদিকে মামাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। ভাগনের পড়ার খরচ চালাতে মামারা হিমশিম খাচ্ছিলেন। সেটা ২০০৩ সালের কথা। সুবীর তখন নবম শ্রেণীর ছাত্র। গৃহশিক্ষকের কাজ শুরু করেন। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রদের পড়াতেন। গৃহশিক্ষকতার টাকায় নিজের পড়ার খরচ হয়ে যেত। কিন্তু ভেতরে অন্য তাগিদ অনুভব করতেন সুবীর। চোখের সামনে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া দেখে বড্ড মায়া হতো তাঁর। একদিন ওদের নিয়ে কাজে নেমে পড়লেন। ২০০৩ সাল থেকে শুরু, আজও পথচলা থামেনি।
নিজের পড়া, পাঠশালায় পড়ানোর পর গৃহশিক্ষকতা আজও ধরে রেখেছেন সুবীর। সন্ধ্যার পর বাড়িতে ১০ জন ছাত্রছাত্রী পড়ান। গৃহশিক্ষকতার সেই টাকায় পাঠশালার টুকটাক খরচাপাতি চলে।
‘অবসরটা ওদের দিলাম’: নিকলী সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে শিবিরপাড়া গ্রাম। মামাবাড়ির উঠানে সুবীরের পাঠশালা। জায়গাটি ছায়াঘেরা। সম্প্রতি এক বিকেলে ওই পাঠশালায় গিয়ে দেখা গেল, জনা চল্লিশেক শিশু সিমেন্টের বস্তার ওপর বসে আছে। মাথা দুলিয়ে কেউ পড়ছে, কেউ লিখছে। মাঝ বরাবর ফাঁকা স্থানটিতে চশমাপরা সুবীর একবার এদিকে, একবার ওদিকে যাচ্ছেন। মাঝে থেমে থেমে কাউকে পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছেন। কারোর মাথায় হাত বুলাচ্ছেন।
আগন্তুক দেখে এগিয়ে আসেন সুবীর। তিনি জানান তাঁর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং এই কাজে জড়িয়ে পড়ার গল্প। ‘নানা কারণে গ্রামের কিছু ছেলেমেয়ে স্কুলে যেতে চায় না। অনেকে পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ে। আবার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতে পারেন না। কিছু অভিভাবক নিজেরাও পড়ালেখা জানেন না। তাঁদের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখায় খারাপ করছে। এসব সমস্যা আমাকে ভাবিয়ে তোলে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি যতটুকু জানি, অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেব।’ বললেন সুবীর।
পড়ানোর বিনিময়ে টাকা নেন না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সুবীর বলেন, ‘টাকা নেই না এই ভেবে, দুই ঘণ্টা আমি তাদের লেখাপাড়া করাই। এই দুই ঘণ্টা আমার কোনো কাজ থাকে না। তাই অবসর সময়টা না হয় ওদেরই দিলাম।’ ভবিষ্যতেও মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি।
ঝরে পড়াদের পড়াতে পড়াতে দুই-দুবার নিজেই ঝরতে বসেছিলেন, জানান সুবীর। ২০০৬ সালে মানবিক বিভাগে এসএসসি দিয়ে বি গ্রেডে পাস করেন। এসএসসি পরীক্ষার আগে ও পরে দুই বছর করে পড়াশোনায় বিরতি দেন। অভাবের জন্য চারটি বছর বিসর্জন দেওয়ায় আফসোসের অন্ত নেই তাঁর। ২০০৯ সালে বাজিতপুর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে চলতি বছর ব্যবসায় শিক্ষা থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
সবার কাছে প্রিয়: পশ্চিম গুরুই বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী নাছিমা আক্তার। সে প্রথম শ্রেণী থেকে এই পাঠশালায় পড়ছে। এখানে পড়তে খুব ভালো লাগে তার। একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র পার্থ রায় বলল, ‘কুনু দিন স্কুলে না গেলেও সুবীর স্যারের পাঠশালায় আসা বন্ধ করি না।’ তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আসলাম মিয়া বলল, ‘এখানে শুধু লেহাপড়া করি না। রাস্তায় ক্যামনে চলতে হয়, বড়দের কীভাবে সম্মান করতে হয়, তা-ও শিখি।’
এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন মিয়া জানান, গত কয়েক বছরে তাঁদের বিদ্যালয় থেকে আনুমানিক ৩০ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। সুবীরের পাঠশালায় পড়ার পর তারা পুনরায় বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তাদের কেউ এখন দ্বিতীয়, কেউবা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সুবীর ভাই-বোনের মমতা দিয়ে বাচ্চাদের লেখাপড়া শেখাচ্ছে। শিশুরা ওকে ছাড়া কিছু বোঝে না। অনেক ছাত্র স্কুলে না গেলেও তার পাঠশালায় ঠিকই যায়।’
গুরুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিফা আক্তার জানান, সুবীরের গাছতলায় যারা লেখাপড়া করে, তারা বিদ্যালয়েও ভালো ফল করে।
একটি ঘর হলে ভালো হতো: স্থানীয় অভিভাবক দেলোয়ারা বেগম জানান, তাঁর ছেলে তাসলিম প্রথম শ্রেণীতে পড়ার পর আর স্কুলে যেত না। এলাকার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বিকেলে সুবীরের পাঠশালায় যাওয়া শুরু করে। এরপর পুনরায় বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এখন সে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে।
গুরুই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফজলুল হক বলেন, ‘সুবীরের ঋণ শোধ করার নয়। ৪০-৪৫টি শিশুকে পড়িয়ে কোনো টাকা-পয়সা নেয় না ছেলেটা। তাকে বারবার টাকা দিতে চেয়েও কোনো অভিভাবক টাকা দিতে পারেননি।’
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাঠশালাটি দেখতে গিয়ে শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য তাকে দুই হাজার টাকা দিয়েছি।’ সুবীরের পাঠশালার জন্য একটি ঘরের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-04-28/news/253648[/বাংলা]

idrinkh2O
May 10, 2012, 12:22 PM
চায়ের দোকান করেও জিপিএ-৫ প্রিয়ার (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=98eb55141f9d8e7f10a3034ff8e3e 7b9&nttl=09052012110363)

----------------------------------------------
[বাংলা]
পা দিয়ে লিখে এসএসসি পাশ করলো আয়েশা (http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=ac8e10dd46e2821b284fd1458cfeb 284&nttl=10052012110620)

--------------------------------------------------------------------------------
জেলা প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম

http://www.banglanews24.com/images/imgAll/2012May/BABU-from-Gaibandha-bg20120510202735.jpg
গাইবান্ধা: আয়েশা আক্তার জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই।

হাত না থাকলেও মনের জোরের কমতি ছিল না আয়েশার। তাই তো এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে খাতায় উত্তর লিখেছে পা দিয়ে। পরীক্ষায় পাসও করেছে বি-গ্রেডে। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায় সে।

আয়েশা আক্তার সাঘাটা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল লতিফের মেয়ে। ৪ বোনের মধ্যে আয়েশা আক্তার তৃতীয়। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তার বাবা আব্দুল লতিফ বিভিন্ন স্থানে দিন মজুরের কাজ করে অতিকষ্টে সংসার চালান।

অভাব অনাটনের কারণে অন্যান্য বোনেরা পড়াশুনা করতে পারেনি। তবে ছোট থেকেই পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ ছিল আয়েশার। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও মনের জোর তার অসীম। ভর্তি হয় স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পা দিয়েই সে খাতায় লেখে। ৫ম শ্রেণী পাশ করার পর ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয় কচুয়াহাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সহায়তায় সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কচুয়াহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, আয়েশা আক্তারের দু’হাত না থাকলেও পা দিয়েই সে সুন্দরভাবে লিখতে পারে। বিদ্যালয়ের প্রতিটি পরীক্ষায়ও সে পা দিয়ে লিখেই উত্তীর্ণ হয়। সংসারের অন্যান্য কাজও সে পা দিয়ে করতে পারে।

আয়েশা আক্তার জানায়, তার এই ফলাফলে সে সন্তুষ্ট। প্রতিবন্ধী হলেও সে সমাজের বোঝা হয়ে বাঁচতে চায় না। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সে সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো বাঁচতে চায়।

বাংলাদেশ সময়: ২০০১ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১২[/বাংলা]

idrinkh2O
May 12, 2012, 05:15 PM
[বাংলা]শ্রম-ঘামের অর্জন (http://www.prothom-alo.com/detail/news/257383)

বিশাল বাংলা ডেস্ক | তারিখ: ১৩-০৫-২০১২

http://http.cdnlayer.com/prothomalo1998/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2012/05/12/2012-05-12-19-05-56-4faeb4941cc72-untitled-4.jpg
মো. হাসান মোল্লা, রুবেল আলম, আরিফুল ইসলাম, মেহেদী মাসুদ,ইমাম হোসেন ও শামীম আহমেদ

অন্যের জমিতে শ্রম দিত হাসান মোল্লা ও শামীম আহমেদ। নির্মাণশ্রমিক ছিল রুবেল। আরিফুল ইসলাম চালাত ভ্যান। ছাতার কারিগর ছিল মাসুদ রানা। রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করত ইমাম হোসেন। দরিদ্র পরিবারের এসব ছেলে কায়িক শ্রমের পাশাপাশি পড়াশোনা করে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এরা সবাই পেয়েছে জিপিএ-৫।

প্রসঙ্গত, জিপিএ-৫ পাওয়া এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৫০ জনকে ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী তহবিল থেকে শিক্ষাবৃত্তি দেবে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী, প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।

বাবার সঙ্গে দিনমজুরি করত হাসান: বাবা ছত্তার মোল্লা দিনমজুরি করেন। এ কাজ করে টেনেটুনে পাঁচ সদস্যের সংসার চালান। অভাব থাকায় প্রায়ই হাসানকে তাঁর বাবার সঙ্গে কাজে যেতে হতো। তাই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া হতো না তার। দিনের বেলা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে রাতে পড়তে বসত। সে কলাপাড়া উপজেলার তেগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার বাড়ি আজিমুদ্দিন গ্রামে।

ভালো ফলাফলের পরও হাসানের বাবা-মার মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। মা আমেনা বেগম বলেন, ‘মোরা খাইয়া না-খাইয়া দিন কাডাই। হেইয়ার মধ্যেও মোর পোলাডা কত কষ্ট কই র‌্যা ল্যাহাপড়া করছে। এত কষ্টের পরও হুনছি ও ভালো পাস করছে। এ্যাহন সামনে যে ক্যামনে অর ল্যাহাপড়া চলবে, হেই চিন্তায় ঘুম অয় না।’
নির্মাণশ্রমিকের কাজ করত রুবেল: বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভরনশাহী গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম রুবেল আলমের। বাবা শহিদুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক। ভ্যান চালিয়ে যা রোজগার হয়, তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই রুবেলকে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে। বিদ্যালয়ে না গিয়ে প্রায়ই এ কাজ করতে হতো তাকে। সে ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, রুবেল বেশ মেধাবী। উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে সে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।

ভ্যান চালানোর ফাঁকে পড়ত আরিফুল: রিকশাচালক বাবা আবদুল আলিমের আয়ে সংসার চলত না। সংসারের খরচ জোগাতে সেই ছোটবেলা থেকেই ভ্যান চালাতে শুরু করে। সুযোগ পেলে বিদ্যালয়ে যেত। তাদের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কুসুমসাড়া গ্রামে। সে এবার উপজেলার সমশিরা উচ্চবিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। সে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল।

বাবা আবদুল আলিম বলেন, ‘কেরোসিন কেনার টাকা ছিল না। রাতে বেশিক্ষণ সে পড়তেও পারত না। সকালে দুই ঘণ্টা ভ্যান চালিয়ে বিদ্যালয়ে যেত। বিকেলে বাড়ি ফিরে আবার ভ্যান নিয়ে বের হতো।’
ছাতা মেরামত করত মাসুদ: ভালো ফলাফল করার আনন্দে সবাই যখন বিভোর, তখন ছাতা মেরামতের কাজে ব্যস্ত ছিল মেহেদী মাসুদ। বাড়ি তার নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বর্ণাকান্দা গ্রামে। বাবার নাম নুরুল ইসলাম। মাসুদ পূর্বধলা জগৎ মণি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেকে ঠিকমতো খাওয়াতে ও জামা-কাপড় কিনে দিতে পারিনি। তার পরও এমন ভালো ফলাফল করে সমাজে সে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে।’

পূর্বধলা জগৎ মণি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর তালুকদার বলেন, ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও মেহেদী মাসুদকে সহায়তা করেছে। তার কাছ থেকে কোনো বেতন বা ফি নেওয়া হয়নি। ব্যক্তিগতভাবেও আমি তাকে সাহায্য করেছি। ভবিষ্যতে সহযোগিতা পেলে সে প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিকের মতো উচ্চস্তরেও ভালো ফল করবে।’

রাজমিস্ত্রির জোগালি ছিল ইমাম: ইমামের বাবা দিনিয়ার আলী রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। কিন্তু তিনি যা আয় করতেন তা দিয়ে সংসার চলত না। মা-বাবার কষ্ট দূর করতে রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করে ইমাম হোসেন। বিদ্যালয়ের ছুটির দিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এ কাজ করত সে। এত সমস্যার মধ্যেও নিয়মিত লেখাপড়া করে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার জোবেদা সোহরাব মডেল একাডেমী থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ইমামের বাবা যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনিয়ার আলী জানান, ছোটবেলা থেকে ইমাম লেখাপড়ায় খুব ভালো। ওর শিক্ষকেরা বলেন, ইমাম অনেক বড় হবে। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে ইমাম লেখাপড়া না করে ঘুমাত না।

অন্যের জমিতে শ্রম দিত শামীম: বাবা অছিম উদ্দিন অন্যের জমিতে কাজ করেন। এ রকম একটি পরিবারে জন্ম হলেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে শামীম। বিদ্যালয় ছুটির দিন কৃষিশ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে তাকে। এমনকি ফল প্রকাশের দিনও মাঠে কাজ করতে হয়েছে তাকে। তাদের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পিপুলেশ্বর গ্রামে। সে নালিতাবাড়ীর উত্তর নাকশি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।

বাবা অছিম উদ্দিন জানান, তাঁর ছেলে পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করেছে। এখন তাকে কোনো কলেজে ভর্তি করতে হবে। কিন্তু তাকে লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য তাঁর নেই।

উত্তর নাকশী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শামীমের লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। সে অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও নিজে পরিশ্রম করে টাকা-পয়সা উপার্জন করে পড়াশুনা করেছে। আমরা তাকে স্কুলে বিনা বেতনে পড়িয়েছি।’

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নেছার উদ্দিন আহমেদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী); মাসুদ রানা, ধুনট (বগুড়া); আনোয়ার পারভেজ, কালাই (জয়পুরহাট); গোলাম মোস্তফা, পূর্বধলা (নেত্রকোনা); কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা; দেবাশীষ সাহা রায়, শেরপুর][/বাংলা]

mar umpire
May 14, 2012, 12:41 AM
Hope these guys more opportunities in the future

Navo
May 14, 2012, 12:52 AM
Ivy League school janitor graduates with honors

http://l2.yimg.com/bt/api/res/1.2/WY4CkZ2.2GVWH6V2t_bqhA--/YXBwaWQ9eW5ld3M7Zmk9aW5zZXQ7aD00MDY7cT04NTt3PTYzMA--/http://media.zenfs.com/en_us/News/ap_webfeeds/4830d0da7e3a890d0f0f6a706700653c.jpg

NEW YORK (AP) — For years, Gac Filipaj mopped floors, cleaned toilets and took out trash at Columbia University.

A refugee from war-torn Yugoslavia, he eked out a living working for the Ivy League school. But Sunday was payback time: The 52-year-old janitor donned a cap and gown to graduate with a bachelor's degree in classics.

As a Columbia employee, he didn't have to pay for the classes he took. His favorite subject was the Roman philosopher and statesman Seneca, the janitor said during a break from his work at Lerner Hall, the student union building he cleans.

"I love Seneca's letters because they're written in the spirit in which I was educated in my family — not to look for fame and fortune, but to have a simple, honest, honorable life," he said.

His graduation with honors capped a dozen years of studies, including readings in ancient Latin and Greek.

"This is a man with great pride, whether he's doing custodial work or academics," said Peter Awn, dean of Columbia's School of General Studies and professor of Islamic studies. "He is immensely humble and grateful, but he's one individual who makes his own future."

Filipaj was accepted at Columbia after first learning English; his mother tongue is Albanian.
For Filipaj, the degree comes after years of studying late into the night in his Bronx apartment, where he'd open his books after a 2:30-11 p.m. shift as a "heavy cleaner" — his job title. Before exam time or to finish a paper, he'd pull all-nighters, then go to class in the morning and then to work.

On Sunday morning in the sun-drenched grassy quad of Columbia's Manhattan campus, Filipaj flashed a huge smile and a thumbs-up as he walked off the podium after a handshake from Columbia President Lee Bollinger.

Later, Filipaj got a big hug from his boss, Donald Schlosser, Columbia's assistant vice president for campus operations.

Bollinger presided over a ceremony in which General Studies students received their graduation certificates. They also can attend Wednesday's commencement of all Columbia graduates, most of whom are in their 20s.

Filipaj wasn't much older in 1992 when he left Montenegro, then a Yugoslav republic facing a brutal civil war.

An ethnic Albanian and Roman Catholic, he left his family farm in the tiny village of Donja Klezna outside the city of Ulcinj because he was about to be drafted into the Yugoslav army led by Serbs, who considered many Albanians their enemy.

He fled after almost finishing law school in Belgrade, Yugoslavia's capital, where he commuted for years by train from Montenegro.

At first in New York, his uncle in the Bronx offered him shelter while he worked as a restaurant busboy.

"I asked people, which are the best schools in New York?" he says. Since Columbia topped his list, "I went there to see if I could get a job."

Part of his $22-an-hour janitor's pay still goes back to his brother, sister-in-law and two kids in Montenegro. Filipaj has no computer, but he bought one for the family, whose income comes mostly from selling milk.

Filipaj also saves by not paying for a cellphone; he can only be reached via landline.

He wishes his father were alive to enjoy his achievement. The elder Filipaj died in April, and the son flew over for the funeral, returning three days later for work and classes.

To relax at home, he enjoys an occasional cigarette and some "grappa" brandy.

"And if I have too much, I just go to sleep," he says, laughing.

During an interview with The Associated Press in a Lerner Hall conference room, Filipaj didn't show the slightest regret or bitterness about his tough life. Instead, he cheerfully described encounters with surprised younger students who wonder why their classmate is cleaning up after them.

"They say, 'Aren't you...?'" he said with a grin.

His ambition is to get a master's degree, maybe even a Ph.D., in Roman and Greek classics. Someday, he hopes to become a teacher, while translating his favorite classics into Albanian.

For now, he's trying to get "a better job," maybe as supervisor of custodians or something similar, at Columbia if possible.

He's not interested in furthering his studies to make more money.

"The richness is in me, in my heart and in my head, not in my pockets," said Filipaj, who is now an American citizen.

Soon after, the feisty, 5-foot-4 janitor picked up a broom and dustpan and went back to work.

Source (http://news.yahoo.com/ivy-league-school-janitor-graduates-honors-182936684.html)

Rabz
May 14, 2012, 01:20 AM
^^ Thats remarkable. Very inspiring indeed.

"The richness is in me, in my heart and in my head, not in my pockets," said Filipaj,"

Thanks for sharing.

idrinkh2O
May 22, 2012, 04:40 PM
[বাংলা]সফলদের স্বপ্নগাথা

শিখতে হবে সবখানে (http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-05-23/news/259954)
সালমান খান | তারিখ: ২৩-০৫-২০১২

http://paimages.prothom-alo.com/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2012/05/22/2012-05-22-17-26-29-4fbbcc4526753-1.jpg
রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সালমান খান

http://paimages.prothom-alo.com/resize/maxDim/340x340/img/uploads/media/2012/05/22/2012-05-22-17-28-17-4fbbccb1a79c0-10.jpg
শিক্ষার্থীদের মাঝে সালমান খান

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খানের জন্ম ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে। সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিন নির্বাচিত বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির মধ্যে স্থান পেয়েছেন সালমান। ১০ মে ২০১২ রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি এই বক্তৃতা দেন।

আজ এখানে বক্তৃতা দিতে পারা আমার জন্য সত্যিই এক বিরাট সম্মানের ব্যাপার। আমি বেশ বুঝতে পারছি যে, এখানে দাঁড়ানোয় ৩৫ বছরের নিজেকে তোমাদের তুলনায় অনেক বয়স্ক দেখাচ্ছে! কিন্তু আমার নিজের কাছে মনে হচ্ছে, আমি যেন আমার ছোট ভাইবোনদের কিছু বলতে এসেছি। আজ আমি তোমাদের সঙ্গে কিছু চিন্তাভাবনা শেয়ার করতে চাই। এমন কিছু ব্যাপার, যা নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি, দেখতাম এবং এখনো দেখছি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমরা একটি বড় ডিগ্রি অর্জন করতে যাচ্ছো। নিঃসন্দেহে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্মান। এই সম্মান তোমাদের জীবনকে অনেকখানি এগিয়ে দেবে। তোমাদের এই অর্জন কাজে লাগিয়ে কীভাবে পৃথিবীর সামগ্রিক উন্নয়ন আরও বৃদ্ধি করা যায়, পৃথিবীটাকে আরেকটু সুন্দর করা যায়, সেটা নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে।

২০০৯ সালে আমি যখন খান একাডেমি শুরু করি তখন আমি একটা সাজানো-গোছানো, সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝপথে। আমার ভিডিওগুলো দেখে তখন পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে লোকজন ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লিখত। কিন্তু একদিকে চাকরি আরেকদিকে খান একাডেমি, দুটোকে একসঙ্গে সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আমি তখন আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমাদের হাতে কী পরিমাণ টাকা-পয়সা আছে তার হিসাব করতে বসলাম। আমি তাকে বোঝালাম কীভাবে খান একাডেমি দিয়ে শিক্ষার প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষের শেখার ধরনকেই আমূল বদলে ফেলা যাবে, কীভাবে পৃথিবীজুড়ে মানুষ ঘরে বসে বিনা খরচে শিখতে পারবে, সভ্যতাকে কত সহজে কতখানি এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। আর একবার এই সম্ভাবনা মানুষ বুঝতে পারলে এই মহৎ কাজে বিনিয়োগের অভাব হবে না। এমন এটাসেটা অনেক কিছু বুঝিয়ে আমি চাকরি ছেড়ে দিলাম! আর পুরোপুরি খান একাডেমির কাজে লেগে গেলাম। আস্তে আস্তে নয় মাস কেটে গেল, অনেক কিছু করতে চেষ্টা করলাম, অনেক লোকজনের সঙ্গে কথা বললাম, মিটিং করলাম। কিন্তু যা ভেবেছিলাম তার কিছুই হলো না।

সত্যি কথা বলতে কি, আজ যখন লোকে শোনে আমি হার্ভার্ড, এমআইটিতে পড়াশোনা করেছি, তারা মনে করে কত সহজেই না আমি ভিডিও বানানো শুরু করেছি আর রাতারাতি খান একাডেমি গড়ে তুলেছি। কিন্তু কেবল আমিই জানি সেই সময়গুলো কতটা কঠিন ছিল। দেয়ালে আমার পিঠ ঠেকে গিয়েছিল প্রায়। আমার তখন ৩২ বছর বয়স, একটি ছেলেও হয়েছে, বাড়ি কেনার জন্য ৩০-৪০ হাজার ডলার ডাউনপেমেন্ট দিতে হবে—এমন অনেক সমস্যা তখন আমাকে ঘিরে রেখেছে। সে সময় কেউ আমাকে দেখলে বলত আমি নির্ঘাত বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গেছি। আমি আমার পরিবার নিয়ে অনেক সুন্দর একটা জীবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম আর আমিই সবকিছু নিজের হাতে নষ্ট করে ফেলেছি। সেই সময় একটা জিনিসই আমাকে একটু আশার আলো দেখাত, আর তা হলো অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ভরা চিঠি।

কিন্তু তার পরও, একটা পর্যায়ে আর চালাতে না পেরে আমি হতাশার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেলাম। যখন প্রায় ঠিক করেই ফেলেছিলাম সবকিছু ছেড়ে দেব, ঠিক তখনই আমার কাছে খান একাডেমির নামে ১০ হাজার ডলারের অর্থ পুরস্কার আসে। এর আগে বেশির ভাগ লোক পাঁচ কিংবা ১০ ডলার করে পাঠাত। সেটাই ছিল তখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা। সেটি পাঠিয়েছিল এই রাইস বিশ্ববিদ্যালয়েরই ১৯৭৫ সালের ব্যাচের একজন, তার নাম অ্যান ডোয়ার। আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ই-মেইল করি। সে কাছেই থাকত, একদিন দুপুরে আমরা এক রেস্টুরেন্টে খেতে খেতে কথা বলছিলাম। অ্যান আমার কাছে জানতে চাইল আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী। আমি বললাম, এখনকার মতো আমি সারাজীবন ধরে ভিডিও বানিয়ে যেতে চাই! আমি বলেই যাচ্ছিলাম এটা নিয়ে আমার কত স্বপ্ন, কত কিছু করার আকাঙ্ক্ষা। কীভাবে খান একাডেমি সারা পৃথিবীর শিক্ষাব্যবস্থা বদলে দিতে পারে! সে বলল, ‘বুঝলাম তোমার অনেক বড় পরিকল্পনা! কিন্তু তুমি নিজে চলছ কীভাবে?’ আমি তখন বোধহয় একটু বেশি জোরেই বলে ফেলেছিলাম, ‘আমার তো চলছে না!’

যাই হোক, আমার কথা শুনে তিনি গম্ভীরভাবে মাথা নাড়লেন, আমরা বিদায় নিলাম। আমি যখন বাড়ির প্রায় কাছে পৌঁছে গেছি, তখন অ্যানের কাছ থেকে আমি একটি মেসেজ পাই। সেখানে লেখা, ‘তোমার নিজেরও তো চলতে হবে, তাই আমি টাকার অঙ্কটা বাড়িয়ে এক লাখ ডলার করে দিচ্ছি।’ আমি আরেকটু হলেই গাড়ি নিয়ে সোজা গ্যারেজে ধাক্কা খেতে যাচ্ছিলাম!

সেই মুহূর্তে টাকার অঙ্কের চেয়েও বেশি সাহায্য করেছিল খান একাডেমির সম্ভাবনার ওপর অ্যানের গভীর আস্থা। আজকে এসব শুনে অনেকেই বলবে, অ্যানের অঢেল টাকা ছিল, তাই সে সাহায্য করতে পেরেছে। আমার অত টাকা-পয়সা নেই যে, কাউকে এক লাখ ডলার দান করে দিতে পারি। এখানেই আমার দ্বিমত। আমি অন্তত এমন ৫০ জনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, যাদের আর্থিক অবস্থা অ্যানের চেয়েও অনেক ভালো ছিল। কিন্তু তারা তো এগিয়ে আসেনি!

একটা কথা আমি খুব জোর দিয়ে বলব, যদি কখনো এমন অবস্থানে থাকো, যেখানে তোমার একটু সাহায্যে অন্যের অনেক বড় কোনো উপকার হতে পারে, তবে কখনো তাকে উপেক্ষা করো না। আমি সব সময় যা করতে চেষ্টা করি এবং অন্যদেরও করতে বলি, তা হলো কখনো যদি দেখ কেউ অসাধারণ কোনো কিছু করছে কিংবা করার চেষ্টা করছে, চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থেকো না। তাকে প্রশংসা করো, ধন্যবাদ জানাও, তার কাজের স্বীকৃতি পেতে সাহায্য করো। তার বসকে জানাও কী সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে তার মধ্যে। তার পরিবারকে জানাও কত বড় কাজ করছে সে। তুমি কল্পনাও করতে পারবে না তোমার ছোট্ট একটি পদক্ষেপ, একটি প্রশংসা বাক্য কীভাবে একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। তোমার উৎসাহে কেউ হয়তো তার জীবনের লক্ষ্যই বদলে ফেলতে পারে। একজন ইতিবাচক চিন্তাধারার মানুষ তার চারপাশের অসংখ্য মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, তাই সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করো। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি তুমি তোমার স্বপ্ন সফল করতে চাও, সব সময়, সবকিছু থেকেই শিখতে চেষ্টা করো। নতুন কিছু শেখার জন্য নিজেকে সব সময় প্রস্তুত করে রাখা কতটা দরকার তা আমি বলে বোঝাতে পারব না। তোমাদের সামনে যে সময় অপেক্ষা করছে, তা তোমরা শেখার জন্য বিনিয়োগ করো। আমি খান একাডেমির সঙ্গে আছি বলে মানুষ কীভাবে শিখতে শিখতে জীবন বদলে ফেলে, এ ব্যাপারটা খুব ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করেছি। ২০০৮ সালে দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত একজন রোগীর কাছ থেকে আমি একটি চিঠি পাই। তখন তার জীবনের মেয়াদ আর মাত্র দুই মাস। কতখানি ইতিবাচক মনোভাব থাকলে মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষ লিখতে পারে, ‘আমার অনেক দিনের শখ ছিল ক্যালকুলাস শিখব, এখন খান একাডেমি আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আশা করি জীবনের শেষ দুই মাসের মধ্যেই আমি ক্যালকুলাস শিখে ফেলতে পারব!’ কী অসাধারণ মানসিক শক্তি, কতখানি তীব্র শেখার ইচ্ছা। সেই চিঠি দেখার পর আমি ঠিক করেছি, যতদিন বেঁচে থাকি, কখনো শেখা থামাব না।

১৯৯৮ সালে আমি যখন তোমাদের মতো গ্র্যাজুয়েশন করি, তখন আমার কিছু কাজ নিয়ে একটা কম্পিউটার ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ ছাপা হয়। আমার সেটা নিয়ে খুবই গর্ববোধ হয়েছিল। কিন্তু আমার তেমন কোনো লক্ষ্য ছিল না। নিজেকে নিয়ে কোনো পরিষ্কার ধারণাই ছিল না যে, আসলে আমি কী করতে চাই। একটা চাকরি শুরু করার দুই মাসের মধ্যেই আমি আরও বেশি বেতনে আরেকটা চাকরি পাই, আর সেখানে চলে যাই। সেখানে প্রথম তিন দিনেই বস আমাকে বেশ ভালো করে বুঝিয়ে দেন, আমি তাঁর চোখে কতটা অযোগ্য। ব্যাপারটা ভেবে দেখো! মাত্র ২৩ বছর বয়সে সবচেয়ে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রি, ম্যাগাজিনে ছাপানো প্রশংসা, সবকিছু নিয়ে রাতের বেলা আবিষ্কার করলাম আমি হোটেল রুমে বসে বসে কাঁদছি। আমি জীবনে আসলেই কী করতে চাই তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সেই রাতে মনে হচ্ছিল চোখের সামনে পৃথিবীটা দুলছে, সবকিছু অর্থহীন লাগছে। কিন্তু তার পরও পরদিন ভোরে উঠলাম, কাজ করলাম, গত রাতের চেয়ে একটু ভালো লাগল। এক সপ্তাহ পর আরেকটু মানিয়ে নিতে পারলাম, দুই মাসের মধ্যে আবার নতুন এক জায়গায় কাজ করা শুরু করলাম!

যখন সাফল্য আসবে, তাকে উপভোগ করো, কিন্তু এটাও খেয়াল রেখো, তুমি ঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছ কি না। যতই বড় হও না কেন, মনে রেখো সবকিছুরই একটা শেষ আছে। সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটিও জ্বলতে জ্বলতে একদিন নিভে যাবেই। তাই ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত থেকে সাফল্যকে উদ্যাপন করো। ছোট ছোট খুশির বিষয়কে অবহেলা করো না, আবার দু-একবার হোঁচট খেলেও হাল ছেড়ে দিয়ে বসে পোড়ো না। এখন থেকে ১০-১৫ বছর পর হয়তো এগুলো মনে করেই তুমি হাসবে, ভাববে কী ছেলেমানুষই না ছিলাম!

জীবনকে, এখনকার সময়কে একটা অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখো। সাফল্যের পেছনে যতই ছুটে চলো না কেন, এই মানবিক ব্যাপারগুলো ভুলে যেও না। প্রাণ খুলে হাসো। প্রিয়জনদের সময় দাও, তাদের বলো কতটা ভালোবাসো। চারপাশের মানুষের জন্য কিছু করো। মনে করো, এটা তোমার কল্পনা থেকে ফিরিয়ে আনা দ্বিতীয় জীবন। এ জীবন আফসোসের জন্য নয়।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: অঞ্জলি সরকার
সূত্র: ওয়েব সাইট[/বাংলা]
--------------------------------------------------

<iframe width="560" height="315" src="http://www.youtube.com/embed/oipQBY7F4YY" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

--------------------------------------------------

http://www.khanacademy.org (http://www.khanacademy.org/)

Be a Source of Positivity - Salman Khan

Rifat
May 22, 2012, 05:16 PM
Thanks for Sharing idrin Bro...

Maysun
May 25, 2012, 04:47 AM
For all harassment the religious authorities have caused over the years in Saudi, this woman defied them and seeing this video has made my day! Well done.

<iframe width="420" height="315" src="http://www.youtube.com/embed/OpUUOYRLW3k?rel=0" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

Purbasha T
May 25, 2012, 08:59 AM
LOL. To those guys: to be able to spot the women doing something ''un-Islamic'' by your definition, you first have to look at them and that's directly going against the commandment ''lower your gaze''. Double standards much?!

Maysun
May 31, 2012, 10:30 AM
Aww and how can you be not romantic about sports? Check this out, a 5yo kid comes on for his dad in his last game and scores a goal! :big_hug:

<iframe width="560" height="315" src="http://www.youtube.com/embed/29-yhzCcutc?rel=0" frameborder="0" allowfullscreen></iframe>

zinatf
June 3, 2012, 09:56 AM
http://ns.bdnews24.com/details.php?cid=2&id=225787&hb=3

cricheart
June 26, 2012, 05:33 AM
http://paimages.prothom-alo.com/resize/maxDim/220x1000/img/uploads/media/2012/06/25/2012-06-25-17-44-37-4fe8a3859cf93-untitled-6.jpg
তালিয়া বাজাও—জোরসে তালিয়া বাজাও
সৈয়দ আবুল মকসুদ
[বাংলা]

ষাট-বাষট্টি বছর আগের সমাজ আর আজকের সমাজের মধ্যে বিরাট পার্থক্য। সেই ঢাকা শহরের সঙ্গে আজকের ঢাকা মহানগরের জীবনের তফাত পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তখন জীবনের গতি ছিল মন্থর ও নিস্তরঙ্গ। রাজনীতি তো নয়ই, সমাজও দুর্বৃত্তায়িত ছিল না। লোমহর্ষক অপরাধের মাত্রা ছিল খুবই কম। তবু বিচ্ছিন্ন অপরাধ সংঘটিত হতো। আইনের শাসন ছিল। অপরাধী যে-ই হোক, তার পার পাওয়ার উপায় ছিল না। এমপির ছেলে হলেও নয়, মন্ত্রীর ভাই হলেও নয়। পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসন ছিল দক্ষ ও নিরপেক্ষ।
পঞ্চাশ এমনকি ষাটের দশকেও ছেলেধরার ভয় ছিল না মা-বাবার। বাড়ির উঠানে, সামনের রাস্তায় বা পাড়ার মাঠে নির্ভয়ে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করত। অনেক দূরে স্কুলে যেত হেঁটে, একা অথবা দলবেঁধে। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল একেবারেই অন্যরকম। টেলিভিশনের নাম জানত না অধিকাংশ মানুষ। কম্পিউটারের নাম তো কেউই নয়। টিভি সিরিয়াল দেখা ও ভিডিও গেম ছিল অজানা। গেম বা খেলাধুলার মধ্যে ছিল ফুটবল, শীতকালে ভলিবল, ব্যান্ডমিন্টন প্রভৃতি। বাচ্চারা খেলত গোল্লাছুট, কানামাছি ও নানারকম খেলা।
রাস্তায় যানবাহন ছিল সামান্য। কোনো দিন ডুগডুগি বাজিয়ে আসত বান্দরনাচঅলা। বিচিত্র তার পোশাক। কখনো বানরেরও গায়ে থাকত রঙিন জামা। প্লাস্টিকের চশমাও শোভা পেত বানরের চোখে। বান্দরনাচ দেখাতে ডুগডুগি বাজিয়ে ঘোষণা দিতেই এবাড়ি-ওবাড়ি থেকে কিলবিল করে বাচ্চারা গিয়ে জড়ো হতো রাস্তায় বা মাঠের মধ্যে। শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। গিয়ে আমরা গোল হয়ে দাঁড়াতাম।
খুব জোরে বাজানো হতো ডুগডুগি। প্রস্তুত হয়ে যেত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বানর।
বান্দরনাচঅলা ‘লাগ ভেলকি লাগ’ বলে হাঁক দিত। আমাদের উদ্দেশে বলত, ‘বাচ্চালোক, তালিয়া বাজাও।’ আমাদের পেয়ারাগাছের মরা ডালের মতো সরু হাত। পাতলা তালু। জোর কম। তালিতে আওয়াজ হতো অল্প। বান্দরনাচঅলা সন্তুষ্ট হতো না। রাগতভাবে বলত, ‘বাচ্চালোক, জোরসে তালিয়া বাজাও।’
সেকালে বান্দরনাচ দেখতে শিশু-কিশোরদের হাততালি দিতে হতো। এখন ভেলকি লাগার শেষ নেই এবং শিশুরা নয়, ষোলো কোটি মানুষ জোরসে তালিয়া বাজাচ্ছে প্রতিদিন।
বাংলাদেশে বহু নাগরিকের সাফল্য সত্যি সত্যি হাততালি দেওয়ার মতো। আমাদের নারীরা হিমালয়ের চূড়া জয় করেন রাষ্ট্রের আনুকূল্য ছাড়াই। তাঁদের সাফল্যের খুশিতে হাততালির রেশ মিইয়ে যেতে না যেতেই খবর এল ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের রোল নম্বর ২৯? রাষ্ট্রের ব্যর্থতায় ব্যক্তির সাফল্য চাপা পড়ে যায়।
দুর্নীতিতে বহু বছর আমরা সবার ওপরে ছিলাম, এখন নাকি কানের কাছে আছি। কান আর মাথা একই। মিথ্যাচারী ও চাপাবাজ রাষ্ট্রের তালিকা তৈরি করেনি এখনো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা। করলে এক নম্বর হওয়ার শিরোপা বাংলাদেশ ছাড়া যে আর কোনো দেশ পেতেই পারে না, তাদের আর যত দোষই থাকুক, তা হলফ করে বলা যায়। জনগণকে প্রতারিত করতে, ধোঁকা দিতে, কোন রাষ্ট্র সবচেয়ে দক্ষ? কোনো চিন্তা না করে যে কেউ জবাব দেবে: বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় ও লুণ্ঠনে কোন দেশের মানুষ দক্ষতার দিক থেকে পৃথিবীতে এক নম্বর?—বাংলাদেশ।
বাঙালি আজ কত বিষয়ে যে এক নম্বর, তা বলে শেষ করা যাবে না। কোন দেশে সবচেয়ে কম সময়ে সরকারি দলের লোকেরা সবচেয়ে বেশি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি পেয়েছে? সবাই হাত উঁচু করবে: বাংলাদেশ। কোন দেশে এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ শুধু সরকারি দলের ধনকুবেরদের? তারস্বরে উত্তর আসবে: বাংলাদেশ। কোন দেশে জনপ্রশাসনে দলের সমর্থকদের হপ্তায় হপ্তায় প্রমোশন দেওয়া হয়? গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। কোন দেশে বসিয়ে বসিয়ে বেতন-ভাতা দেওয়া ওএসডি কর্মকর্তার সংখ্যা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি? এ প্রশ্নের উত্তর মানুষ তো দূরের কথা, তোপখানা রোড ও নবাব আবদুল গণি রোডের গাছগুলো পর্যন্ত জানে। কোন দেশের মানুষের দেশপ্রেম সীমাহীন এবং স্বাধীনতা শব্দটি মিনিটে লাখ লাখবার উচ্চারণ করে? এ প্রশ্নের উত্তর শুধু টিভির দর্শক-শ্রোতা নয়, দুগ্ধপোষ্য শিশুও জানে। সুতরাং জোরসে তালিয়া বাজানোর মতো উপলক্ষ আজ বাঙালির জীবনে অগণিত।
একটি সৎ, শিক্ষিত, দক্ষ, উন্নত জাতি মাটি ফুঁড়ে বের হয় না। তা বহু যুগের সাধনায় সৃষ্টি হয়। সে জন্য সবার আগে দরকার দেশের মানষকে যুগের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। দক্ষ প্রশাসনের জন্য দক্ষ জনশক্তি দরকার। দক্ষ জনশক্তির জন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। যেসব দেশ আজ উন্নত, তারা বহুকাল যাবৎ শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ব্যয় করে আসছে। বাজেটে বাংলাদেশে শিক্ষার স্থান তৃতীয়, সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় জনপ্রশাসনকে, যা সম্পূর্ণ অনুৎপাদনশীল। আগামী বছরের বাজেটে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের পেছনে রাষ্ট্র ব্যয় করবে সবচেয়ে বেশি অর্থ। জনশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব তিন নম্বরে।
যে সরকারি কর্মকর্তাদের পেছনে রাষ্ট্রের এত দরদ, সেই জনপ্রশাসনের অবস্থা শোচনীয়। একটি সময় বাংলাদেশের আমলারা দক্ষতায় ও যোগ্যতায় ছিলেন কমনওয়েলথ দেশগুলোর যে কারও সমকক্ষ, আজ তাঁরা খুব কম দেশের কর্মকর্তাদের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্যতা রাখেন। স্বাধীনতার আগে যে তীব্র প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হতো, তা আর হয় না। মেধাবীরা আসতে চান না। অযোগ্য দলীয় ক্যাডারদের ধাক্কায় তাঁরা টিকতে পারেন না। তার পরও প্রতিযোগিতা ও যোগ্যতায় যাঁরা টিকে যান, তাঁদের উন্নতির পথ সহজ হয় না। তাঁরা দেখতে পান চোখের সামনে কীভাবে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার বা চাটুকারেরা তরতর করে তাঁদের ডিঙিয়ে ওপরে উঠে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রে অভিভাবকহীন যোগ্যদের পাশে দাঁড়ানোর নেই কেউ। ফলে প্রশাসনে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা।
দক্ষ ও সৎ প্রশাসন ছাড়া খুব নীতিবান ও যোগ্য রাজনীতিকেরাও দেশ চালাতে পারেন না। আজ যেসব দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে কার্যকর, সেসব দেশে সরকারি কর্মকর্তারা খুবই দক্ষ। রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের দুর্বলতা বা যেকোনো রকম ঘাটতি তাঁরা পূরণ করে দেন। বাংলাদেশে রাজনীতিকদের যোগ্যতার ঘাটতির সঙ্গে আমলাদের অদক্ষতা যোগ হয়ে এমন এক শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যার পরিণাম ব্যর্থ রাষ্ট্রের বেদিতে স্থান পাওয়া।
যাঁরা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন আরম্ভ করেন, তাঁরা প্রত্যাশা করেন মেধা ও যোগ্যতার বলে পদোন্নতি পেয়ে একদিন খুব উঁচু পদ পাবেন। সব সময় জ্যেষ্ঠতাই চাকরিতে পদোন্নতির মাপকাঠি নয়। কিন্তু সকল দেশের সেরা এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবো নাকো মোরা, যেখানে ১৭০ জন জ্যেষ্ঠ জেলা জজকে ডিঙিয়ে এক পরম ভাগ্যবান পদোন্নতি পেয়ে আইনসচিব নিযুক্ত হন। জেলা জজদের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তাঁর ক্রমিক নম্বর ৩৮৩। তাঁর নেই স্নাতকোত্তর আইনের ডিগ্রি। মহামান্য সরকার বলবেন, জ্যেষ্ঠতা নেই, ডিগ্রি নেই তো কী হয়েছে? তাঁর ওপরের ১৭০ জনই তো অযোগ্য ও অপদার্থ। তাঁদের মধ্যে তিনিই শুধু পদার্থ এবং রত্ন। তা ছাড়া ডিগ্রির কথা? রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ইসলামের কোন ডিগ্রিটা ছিল? এসএসসি পর্যন্ত তাঁরা পাস করেননি। পরীক্ষা দিলেও যে জিপিএ-৫ পেতেন, তা মনে করার কোনো কারণ নেই।
আইনসচিবের যিনি দায়িত্ব পেয়েছেন, জেলা জজ হিসেবে তাঁর যোগ্যতার একটি দৃষ্টান্ত সংবাদপত্রের লোকেরা উল্লেখ করেছেন। বিনা অপরাধে এক হতভাগ্যকে তিনি কলমের এক খোঁচায় দিন দশেক নয়, ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড বা ব্রিটেন হলে তাঁকেই জেল খাটতে হতো। অকারণে একটি লোককে ছয় বছর জেলের ভাত খাওয়ানো চাট্টিখানি কাজ নয়। মাস দুই আগে তিনি ছাড়া পেয়েছেন। ১৭০ জনকে পরাজিত করে এভারেস্ট বিজয়ী এই বীরের সুখবর শুনে নিশ্চয়ই সেই ‘আসামি’ খুশিতে তালিয়া বাজাবেন না।
খবরে জানা গেছে, তাঁকে নিয়োগের আগে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। ‘এই নিয়োগের ফলে প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের লঙ্ঘন ঘটেছে।’ এই সুযোগ্য অতি মেধাবীকে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ‘অদক্ষতার কারণে’ গত বছর ‘তিরস্কার’ করেছিলেন। তিনিই রাষ্ট্রকর্তৃক পুরস্কৃত হলেন। সুতরাং তাঁর নিয়োগে ‘বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার’ হলেও ভাগ্যবানের শ্বশুরবাড়ির লোকেরা খুশিতে জোরসে তালিয়া বাজাবেন।
মহাজোট সরকার সাড়ে তিন বছরে যত কর্মকর্তাকে প্রমোশন দিয়েছে, সেন ও পাল রাজাদের সময় থেকে আলিবর্দীর সময় পর্যন্ত কোনো সরকারের সময় অত কর্মকর্তা পদোন্নতি পাননি। পদ নাই তো কুচ পরোয়া নাই। পদোন্নতি দিয়ে ওএসডি করো। তাকে কাজ করতে হবে না। ভিজিটিং কার্ডটা শুধু নতুন করে ছাপলেই হবে। যুগ্ম থেকে অতিরিক্ত সচিব হলেন। বসে রইলেন একই চেয়ারে। একই পদে। তাঁর দায়িত্বের কোনো পরিবর্তন হলো না। শুধু নতুন কার্ডে স্বর্ণাক্ষরে মুদ্রিত হলো, যে পদেই আমি কাজ করি না কেন, আমি কিন্তু ‘অতিরিক্ত সচিব’। যার নাম রাষ্ট্রীয় অনাচার।
সরকারি কর্মকর্তাদের হতভাগ্য জনগণ ঘুষ দিতে বাধ্য, কিন্তু সরকার আমলাদের ঘুষ দেবে কেন? দলীয় বিবেচনায় প্রমোশন দেওয়া স্রেফ ঘুষ দেওয়া। এ-জাতীয় রাশি রাশি পদোন্নতির তাৎপর্য হলো এই: প্রমোশন দিয়ে বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়েছি, দুই বছরের মধ্যে উপসচিব থেকে সচিব করেছি, নির্বাচনের সময় যা যা করার তা করবে। মনে রেখো, যুগ্ম সচিবও হতে পারতে না, এখন ছেলেমেয়েরা বলবে, বাবা সচিব ছিলেন।
জনপ্রশাসনে যা ছিল না, থাকার কথা নয়, তা যোগ করা হয়েছে সংসদে কোনো রকম আলোচনা না করেই। জিয়াউর রহমান দেখলেন, মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে দরকার, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পদটা তাঁর জন্য একটু বেশি হয়ে যায়। আবার কিছু না দিলেও চলে না। উপহার দিলেন একটি পদ: ‘সিনিয়র মিনিস্টার’। জিয়ার দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে মহাজোট সরকার সৃষ্টি করেছে ‘সিনিয়র সচিব’-এর পদ। একটি নয়, আটটি। মহাজোটের আদর্শ অনুসরণ করে ১৮ দলীয় মেগাজোট ১৮টি দলীয় কর্মকর্তাকে ‘সিনিয়র সচিব’ বানাবে না, তা অবিশ্বাস করার মতো মূঢ় ও সংশয়বাদী আমি নই।
গত দেড় শ বছর মানুষ চিন্তাই করেনি, পুলিশের আইজির পদমর্যাদা কী? তিনি স্বরাষ্ট্রসচিবের ওপরে না অধীনে, নাকি সমপর্যায়ের, তা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয় জনগণের কাছে। তাঁর পদটি অত্যন্ত সম্মানের ও গুরুত্বপূর্ণ পদ। তাঁকে থ্রি-স্টার জেনারেলের ব্যাচ পরালেই তাঁর গুরুত্ব বাড়ে না।
এই বাংলার মাটিতে যে সরকারের হাতে যারা প্রমোশন পান, তাঁরা আমৃত্যু সেই সরকারের স্বার্থ রক্ষা করেন না। যখন যার, তখন তার। কারণ ‘নিমক হারাম’ শব্দটি মীরজাফর আর উমি চাঁদদের সময় থেকেই বহুল প্রচলিত। নিমক হারামের আদর্শ ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ আমলার সংখ্যা কী বিপুল, তা ১৫ আগস্ট সন্ধ্যাবেলা বঙ্গভবনে এবং ১৬ আগস্ট সকাল নয়টায় সচিবালয়ে দেখা গিয়েছিল।
আজ বাংলাদেশে ওএসডি কর্মকর্তার সংখ্যা যত, অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দীর সময় শুধু বাংলায় নয়, বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় সব কর্মকর্তার সংখ্যাও অত ছিল না। ওএসডি কর্মকর্তাদের অবস্থা ঘরজামাইদের মতো। ঘরজামাই যেমন শ্বশুরবাড়িতে খায়-দায় আর ঘুরে বেড়ায়, ওএসডি কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের তহবিল থেকে বেতন-ভাতা, গাড়িবাড়ি সব পান, কিন্তু কোনো কাজ নেই। শালীকে নিয়ে কক্সবাজার, রাঙামাটি, সেন্ট মার্টিন ঘুরে বেড়ান এবং জ্যৈষ্ঠ মাসে ঘুরে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুর।
আমাদের ৮০ লাখ শ্রমিক বিদেশে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন দেশের জন্য। পৃথিবীর যেসব দেশে কর্মকর্তার ঘাটতি আছে, সেখানে আমাদের ওএসডি বাহিনীকে ডেপুটেশনে পাঠানো যায় কি না, তা জনপ্রশাসন এবং শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ভেবে দেখতে পারে। জনগণের টাকায় ঘরজামাই পোষা যায় না।
বিধাতা জনগণকে দুখানা হাত দিয়েছেন কাজ করার জন্য, মোনাজাত করার জন্য এবং করতালি দেওয়ার জন্য। দেশটা ভালো চলুক সে জন্য হাত উঁচু করে জনগণ প্রার্থনা করে। সরকারের ভালো কাজে নিজের থেকেই জনগণ করতালি দেয়। কিন্তু সরকারের যেসব কাজ রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, জনগণের অমঙ্গল করে, সেসব কাজে জনগণ সমর্থনসূচক তালিয়া বাজাতে পারে না। যতই সন্ধ্যা সাতটায় টিভির পর্দা থেকে বলা হোক: তালিয়া বাজাও, জোরসে তালিয়া বাজাও।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
[/বাংলা]

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-06-26/news/268789

Tintin
September 16, 2012, 09:59 PM
While all that movie controversy is happening elsewhere, the final of the annual Moin ud Dowla cricket tournament was played in Hyderabad yesterday. Delhi's bowling was opened by Christ and Mohammed ( Mohammed S Mohammed, to be precise).

http://www.thehindu.com/sport/cricket/article3904670.ece

Zeeshan
September 16, 2012, 10:24 PM
Tintin always makes the most bad S posts.

@Tin X2, was it your own find? Thought of submitting to CI? :)

Zunaid
September 16, 2012, 11:06 PM
Plus + the article is on the Hindu.

I hear John Lennon.

Tintin
September 17, 2012, 01:26 AM
@Tin X2, was it your own find? Thought of submitting to CI?

No :( Someone in FB pointed it out.

Naimul_Hd
September 26, 2012, 10:07 PM
https://fbcdn-sphotos-h-a.akamaihd.net/hphotos-ak-prn1/601473_352520051504776_135978354_n.jpg

A crippled beggar has donated 10 bags of cement for a Mosque from his 40 years of savings. He spent most of the times of his life under the shed of that mosque. He had an intention to donate something to the mosque in the name Almighty God for his parents.

Rifat
September 26, 2012, 10:29 PM
https://fbcdn-sphotos-h-a.akamaihd.net/hphotos-ak-prn1/601473_352520051504776_135978354_n.jpg

A crippled beggar has donated 10 bags of cement for a Mosque from his 40 years of savings. He spent most of the times of his life under the shed of that mosque. He had an intention to donate something to the mosque in the name Almighty God for his parents.

Thanks for this wonderful share Naimul bhai :).

perchance Allah will grant him his shade in the Day of Judgement...

Zunaid
September 26, 2012, 10:56 PM
https://fbcdn-sphotos-h-a.akamaihd.net/hphotos-ak-prn1/601473_352520051504776_135978354_n.jpg

A crippled beggar has donated 10 bags of cement for a Mosque from his 40 years of savings. He spent most of the times of his life under the shed of that mosque. He had an intention to donate something to the mosque in the name Almighty God for his parents.

:notworthy:

This is why the world is not all dark and evil. Have I done anything even 1/100th of what he has done? No. But he inspires me and I hope I can give back to society.