WarWolf
July 9, 2011, 09:52 AM
এমএসআই জসিম লাকসাম (কুমিল্লা)
http://www.amardeshonline.com/img/news/ab_laksam-dhaka.jpg
রেলপথকে আধুনিক ও রিমডেলিং-করণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের সময় কমিয়ে আনার জন্য লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাবনা ও প্রকল্প তৈরি হলেও বাস্তবায়নের অগ্রগতি নেই। বর্তমানে লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জরিপ হলেও রিপোর্ট চাপা পড়ে থাকে ফাইলের নিচে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে এবং যাতায়াতের সময় বেশি লাগছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা যতটুকু ঝুঁকিহীন, আরামদায়ক ও গতিশীল হওয়ার প্রয়োজন ছিল সেটা আজো হয়নি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯, ১৯৭৫-৭৬ ও ১৯৯৮-৯৯ সালে রেলপথ সংস্কার ও উনয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হয়। করা হয় জরিপ ও ব্যয়-বরাদ্দের প্রস্তাব। কিন্তু মাঝপথে থেমে যায় কাজ। ২০০৩ সালে বিএনপি জোট সরকারের আমলে রেলওয়েকে আধুনিক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের সময় কমিয়ে আনার জন্য লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন নির্মাণে চূড়ান্ত জরিপ ও একটি প্রকল্প তৈরি করা হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিদেশি ৩টি সাহায্য সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক ও জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃপক্ষ তখন লাকসাম রেলওয়ে জংশন পরিদর্শন করেন। পরে বিদেশি আর্থিক সহায়তায় লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন প্রকল্প নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশী টাকায় ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। তাছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ৭টি স্থানের আঁকাবাঁকা রেললাইন সোজা করতে ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি টাকা এবং লাকসাম-ঢাকা কর্ডলাইন নির্মাণের প্রথম ধাপে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে লাকসাম রেলওয়ে জংশনকে রি-মডেলিং করে উন্নয়ন করা হয়। এরপর আর এগোয়নি।
বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথের দূরত্ব ৩২১ কিলোমিটার। ঢাকার কমলাপুর থেকে লাকসাম পর্যন্ত দূরত্ব ১৯১ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগে ৬-৭ ঘণ্টা। রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্প লাকসাম-ঢাকা কর্ডলাইন নির্মাণ করা হলে সময় কমে যাবে ২-৩ ঘণ্টা। এতে রেলওয়ের জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে বর্তমানে রেলের ৭টি আঁকাবাঁকা স্থানে ট্রেনের গতি ৭০ কিলোমিটার কমিয়ে ১৬ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করে। আঁকাবাঁকা ৭টি স্থানে রেলপথ সোজা করা হলে ৭০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করবে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে ট্রেনে সময় লাগবে মাত্র ৪ ঘণ্টা। লাকসাম থেকে ঢাকা ১১০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব ১০৫ কিলোমিটার কমে যাবে। বর্তমানে রেলওয়ের অবকাঠামোতে লাকসাম, কুমিল্লা, আখাউড়া, বি-বাড়িয়া, ভৈরব, নরসিংদী, টঙ্গী হয়ে বৃত্তকার পথে ঘুরে ট্রেন ২১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছতে হয়। প্রস্তাবিত লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন (রেলপথ) স্থাপিত হলে সমগ্র কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ দাউদকান্দি, হোমনা, সোনারগাঁও, ডেমরা বা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা প্রকল্পের এক বৃহত্ জনগোষ্ঠী এ রেলপথের আওতায় আসবে এবং যাতায়াতে আসবে স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় রেল যোগাযোগ যতটুকু ঝুঁকিহীন, আরামদায়ক ও গতিশীল হওয়ার প্রয়োজন ছিল সেটা আজও হয়নি।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় ডিআরএম একেএম মাহবুবুল আলম বলেন, লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন ও চিনকী আস্তানা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডাবল রেললাইন স্থাপনের জন্য জরিপ ও প্রকল্প তৈরি হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আমি কিছু জানি না।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প) ইএনসি মো. খায়রুল আলম বলেন, লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন নির্মাণে জরিপ ও ম্যাপ হয়েছে। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থাও বাস্তবায়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া আমার কিছু জানা নেই। রেলওয়ের লাকসাম ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) আবু হানিফ পাশা বলেন, লাকসাম-ঢাকা কর্ডলাইন নির্মাণের বিষয়টি সবার মুখে মুখে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রেলওয়ে হবে আধুনিক ও ঢাকা-চট্টগ্রামের যোগাযোগ হবে সহজ। তবে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা আমি কিছুই জানি না। তবে লাকসামের সরকারদলীয় এমপি মো. তাজুল ইসলাম জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শিগগিরই বিষয়টি পার্লামেন্টে উত্থাপন করবেন বলে জানান।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/07/09/91828
http://www.amardeshonline.com/img/news/ab_laksam-dhaka.jpg
রেলপথকে আধুনিক ও রিমডেলিং-করণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের সময় কমিয়ে আনার জন্য লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাবনা ও প্রকল্প তৈরি হলেও বাস্তবায়নের অগ্রগতি নেই। বর্তমানে লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জরিপ হলেও রিপোর্ট চাপা পড়ে থাকে ফাইলের নিচে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে এবং যাতায়াতের সময় বেশি লাগছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা যতটুকু ঝুঁকিহীন, আরামদায়ক ও গতিশীল হওয়ার প্রয়োজন ছিল সেটা আজো হয়নি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯, ১৯৭৫-৭৬ ও ১৯৯৮-৯৯ সালে রেলপথ সংস্কার ও উনয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হয়। করা হয় জরিপ ও ব্যয়-বরাদ্দের প্রস্তাব। কিন্তু মাঝপথে থেমে যায় কাজ। ২০০৩ সালে বিএনপি জোট সরকারের আমলে রেলওয়েকে আধুনিক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের সময় কমিয়ে আনার জন্য লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন নির্মাণে চূড়ান্ত জরিপ ও একটি প্রকল্প তৈরি করা হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিদেশি ৩টি সাহায্য সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক ও জাপান ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃপক্ষ তখন লাকসাম রেলওয়ে জংশন পরিদর্শন করেন। পরে বিদেশি আর্থিক সহায়তায় লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন প্রকল্প নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশী টাকায় ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। তাছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ৭টি স্থানের আঁকাবাঁকা রেললাইন সোজা করতে ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি টাকা এবং লাকসাম-ঢাকা কর্ডলাইন নির্মাণের প্রথম ধাপে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে লাকসাম রেলওয়ে জংশনকে রি-মডেলিং করে উন্নয়ন করা হয়। এরপর আর এগোয়নি।
বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথের দূরত্ব ৩২১ কিলোমিটার। ঢাকার কমলাপুর থেকে লাকসাম পর্যন্ত দূরত্ব ১৯১ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগে ৬-৭ ঘণ্টা। রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্প লাকসাম-ঢাকা কর্ডলাইন নির্মাণ করা হলে সময় কমে যাবে ২-৩ ঘণ্টা। এতে রেলওয়ের জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে বর্তমানে রেলের ৭টি আঁকাবাঁকা স্থানে ট্রেনের গতি ৭০ কিলোমিটার কমিয়ে ১৬ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করে। আঁকাবাঁকা ৭টি স্থানে রেলপথ সোজা করা হলে ৭০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করবে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে ট্রেনে সময় লাগবে মাত্র ৪ ঘণ্টা। লাকসাম থেকে ঢাকা ১১০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব ১০৫ কিলোমিটার কমে যাবে। বর্তমানে রেলওয়ের অবকাঠামোতে লাকসাম, কুমিল্লা, আখাউড়া, বি-বাড়িয়া, ভৈরব, নরসিংদী, টঙ্গী হয়ে বৃত্তকার পথে ঘুরে ট্রেন ২১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছতে হয়। প্রস্তাবিত লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন (রেলপথ) স্থাপিত হলে সমগ্র কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ দাউদকান্দি, হোমনা, সোনারগাঁও, ডেমরা বা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা প্রকল্পের এক বৃহত্ জনগোষ্ঠী এ রেলপথের আওতায় আসবে এবং যাতায়াতে আসবে স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় রেল যোগাযোগ যতটুকু ঝুঁকিহীন, আরামদায়ক ও গতিশীল হওয়ার প্রয়োজন ছিল সেটা আজও হয়নি।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় ডিআরএম একেএম মাহবুবুল আলম বলেন, লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন ও চিনকী আস্তানা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডাবল রেললাইন স্থাপনের জন্য জরিপ ও প্রকল্প তৈরি হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আমি কিছু জানি না।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প) ইএনসি মো. খায়রুল আলম বলেন, লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ডলাইন নির্মাণে জরিপ ও ম্যাপ হয়েছে। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থাও বাস্তবায়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ছাড়া আমার কিছু জানা নেই। রেলওয়ের লাকসাম ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পূর্ত) আবু হানিফ পাশা বলেন, লাকসাম-ঢাকা কর্ডলাইন নির্মাণের বিষয়টি সবার মুখে মুখে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রেলওয়ে হবে আধুনিক ও ঢাকা-চট্টগ্রামের যোগাযোগ হবে সহজ। তবে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা আমি কিছুই জানি না। তবে লাকসামের সরকারদলীয় এমপি মো. তাজুল ইসলাম জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শিগগিরই বিষয়টি পার্লামেন্টে উত্থাপন করবেন বলে জানান।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2011/07/09/91828