PDA

View Full Version : দ. এশিয়ার ঝুঁকিবহুল বিমানবন্দর শাহজালাল


WarWolf
July 9, 2011, 10:21 AM
[বাংলা]দ. এশিয়ার ঝুঁকিবহুল বিমানবন্দর শাহজালালসিদ্দিকু রহমান http://www.jjdin.com/images/rpt.gifhttp://www.jjdin.com/admin/news_images/149/image_149_22015.jpg

মহাজোট সরকারের আড়াই বছরে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং দিনদিন এটা পশ্চাৎপদ অবস্থানে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) শাহজালাল বিমানবন্দরকে প্রথমে গ্রেড-১ নামিয়ে গ্রেড-২ নির্ধারণ করে। বর্তমানে এ বিমানবন্দরকে আইকাও আরেক ধাপ নিচে নামিয়ে এসএস গ্রেড (সিগনিফিক্যান্ট সেফটি কনসার্ন) করেছে। ঢাকার বিমানবন্দরকে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিবহুল বিমানবন্দর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া শুধু বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের কারণে বিমান নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না। বাংলাদেশি কোনো বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে নতুন রুট চালু করতে পারছে না বলে বিমান মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশনের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী জিএম কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
সূত্র জানায়, বিশ্বের যে কোনো বিমানবন্দরের মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে_ যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা, বিমানবন্দরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, টাওয়ারে অত্যাধুনিক সুবিধা বৃদ্ধি করা ও বিমানের ক্র্যু ও ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণ এবং আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নজরদারি।
বর্তমান সরকারের আড়াই বছরে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন এসব ক্ষেত্রে তেমন কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি। সরকার বিমানবন্দরের গ্রেড উন্নয়নে চেষ্টা চালালেও তা এখন পর্যন্ত অর্জনে সক্ষম হয়নি। শাহজালাল বিমানবন্দরের মানোন্নয়ন না হলে সরকার কিছুতেই নিউ ইয়র্ক রুটে ফ্লাইট চালু করতে পারবে না। এ সরকারের আমলে নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট ফের চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল এভিয়েশনের একজন কর্মকর্তা যায়যায়দিনকে জানান, বিমানবন্দর আপগ্রেডেশনের ব্যাপারে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কেবল মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন এ ব্যাপারে ঢাকঢোল পিটিয়ে যাচ্ছে। যেভাবে লক্ষ্য নিয়ে এগোনো দরকার, তার কিছুই হচ্ছে না। অথচ বাংলাদেশ এ নিয়ে বড় ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছে, বলতে গেলে সরকারকে অনেকটা অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আপগ্রেডেশনের কয়েকটি স্তরের মধ্যে এক স্তরের উন্নয়নে ২০০৮ সালের জুলাইতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং ২০১০ সালের জুনে এর অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রকল্পের কাজ ২০১২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর করা হয়েছে। ৪১৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ৩২৮ কোটি টাকা দেবে ডেনমার্ক সরকার, বাকিটা দেবে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের কার্যক্রমের আওতার মধ্যে রয়েছে- টেক্সিওয়ে পুনর্নির্মাণ, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রাডার সংগ্রহ, রেডিও যোগাযোগ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, আইএলএস, ন্যাভ-এইডস সংগ্রহ।
প্রকল্পের এসব কাজে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে চারটি ড্যানিশ প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। একটি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার বাছাইতেই বাতিল হয়ে যায়। অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পর 'মুনেক এজ ফ্লাট'-এর দরপত্রটি সার্বিকভাবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানকে এখনো কার্যাদেশ দেয়া হয়নি।
কার্যাদেশের বিলম্বের কারণ সম্পর্কে সিভিল এভিয়েশনের একজন কর্মকর্তা জানান, ৪১৪ কোটি টাকার কাজের বিপরীতে ৬১৪ কোটি টাকার দরপত্র জমা পড়েছে। এসব কাজে ২০০ কোটি টাকার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে ড্যানিশ সরকারের সঙ্গে এখন চিঠি চালাচালি চলছে। ড্যানিশ সরকারের মতামত পাওয়ার পরই কার্যাদেশ দেয়া হতে পারে। তবে এসব কবে নাগাদ শেষ হবে, তা কেউই নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না।
এ কার্যাদেশ প্রদানে বিলম্ব হওয়ার কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় বলছে, আগ্রহী ঠিকাদাররা এবং উন্নয়ন সহযোগীর (ড্যানিশ মিক্স ক্রেডিট) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে টেন্ডার জমাদানের তারিখ কয়েক দফা বাড়িয়ে এ বছরের ১০ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। ফলে টেন্ডার জমাদানের তারিখ ৫ মাস পিছিয়ে যাওয়ায় এ অর্থবছরে কার্যাদেশ প্রদানেরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যদিও রোডম্যাপ অনুযায়ী কার্যাদেশ প্রদানের কথা ছিল এ বছরের ৩০ মার্চ।
প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় অপেক্ষা টেন্ডারেপ্রাপ্ত ব্যয় ৫০ ভাগ বেশি হওয়ায় এর অর্থায়নে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বাড়তি অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ বিষয় উন্নয়ন সহযোগী ডানিডার সঙ্গে দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগের জন্য সিভিল এভিয়েশনকে নির্দেশ দেয়া হয়। ৩০ জানুয়ারির এডিপির সভায় নির্দেশনা দেয়া হলেও গত ৬ মাসে এর কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাদের কাছ থেকে এখন কোনো সম্মতি পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসহ অন্য বিষয়ে কোনো উন্নতি হয়নি। মানব পাচারসহ চোরাচালানির ঘটনা প্রায় ঘটছে এ বিমানবন্দরে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের স্ক্যানার মেশিনগুলো ভালোভাবে কাজ করছে না। সিভিল এভিয়েশনের একটি দুর্নীতিবাজ চক্র এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে। তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের সার্বিক বিষয় দেখভাল করছে। এর কোনো ক্ষেত্রেই উন্নয়ন ঘটছে না। অথচ প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ আশপাশের দেশে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটি বিষয় আলাদা আলাদা কর্তৃপক্ষ দেখে। আর সিভিল এভিয়েশনের কয়েকজন উপ-পরিচালক (উপসচিব পদমর্যাদা) বিষয়গুলো দেখার দায়িত্বে রয়েছেন। তারা একের পর এক বিদেশ সফর নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। সিভিল এভিয়েশনের মানোন্নয়নের কাজ করবে কে, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এই প্রশ্নই কেবল ঘুরপাক খাচ্ছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতিবেশী দেশ ভারতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে ৪টি আলাদা সংস্থা কাজ করছে। ডিরেক্টর জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (ডিজিসিএআই)। এই সংস্থা বিমান ক্র্যু ও ইঞ্জিনিয়ারদের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে। তাদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কাজ করে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এএআই)। এ সংস্থা এয়ার পোর্টের সুযোগ-সবিধা বৃদ্ধিসহ নিরাপদে বিমান ওঠানামার সুবিধা (অপারেশনাল) করার কাজ করে। ভারত সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি (বিসিএএস)। এ সংস্থা উড়োজাহাজ, যাত্রী, কার্গো ও টাওয়ারের নিরাপত্তাসহ অন্য সুবিধাদি দেখে থাকে। বিমানের নিরাপত্তার জন্য তাদের আলাদা এভিয়েশন ফোর্স আছে। এছাড়া তাদের রয়েছে ওভার ফ্লাইনিং করপোরেশন অফ ইন্ডিয়া (ওএফসি)। এ সংস্থাটি ভারতের ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী সব বিদেশি বিমানের ওপর নজরদারি করে। তাছাড়া ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহারকারী সব এয়ারলাইন্সকে বিল করে। ওএফসির মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করে। পাকিস্তান ও শ্রীলংকাও একই নিয়মে চলছে। কেবল ব্যতিক্রম ঘটছে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশনের ক্ষেত্রে। এসব কর্মযজ্ঞ দেখার দায়িত্বে রয়েছেন শুধু উপ-সচিব পদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তা। যে কারণে নিরাপত্তার উদ্বেগের বিষয়গুলোতে কিছুই হচ্ছে না।
এদিকে কো-অপারেশন ডেভেলপমেন্ট অফ অপারেশনাল সেফটি অ্যান্ড কন্টিনিউনিং এয়ারঅর্থনেস প্রোগ্রাম সাউথ এশিয়ার (কসক্যাপ-এসএ) অফিস কলম্বো থেকে ৪ জুলাই ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের সিভিল এভিয়েশনের আঞ্চলিক ফোরাম এটি। কসক্যাপের অফিস উদ্বোধনীতে এসেছিলেন আইকাওর প্রেসিডেন্ট রোবাটো কোবে গঞ্জালেস। সিভিল এভিয়েশনের আপগ্রেডেশনের বিষয়ে আইকাওর ৮ সদস্য এখনো ঢাকায় কাজ করছেন। তবে এ ব্যাপারে আশাব্যঞ্জক কোনো খবর নেই।
তবে সিভিল এভিয়েশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, কসক্যাপের অফিস বাংলাদেশে স্থানান্তর করায় ৬টি বিষয়ে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এফএএ কর্তৃক বাংলাদেশকে ক্যাটাগরি-২ হতে ক্যাটাগার-১ এ উন্নীতকরণের জন্য তাদের সুুপারিশ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে, আইকাও এর এসএসগ্রেড প্রত্যাহারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন আপাতত এ সন্তুষ্ট। অথচ বর্তমান বাস্তবতায় উন্নয়নের জন্য দরকার সিভিল এভিয়েশনকে ঢেলে সাজানো। সংসদীয় কমিটি এসব বিষয় নিয়ে কথা বললেও এর পালে বাতাস লাগছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
[/বাংলা]
http://www.jjdin.com/?view=details&type=single&pub_no=149&cat_id=1&menu_id=1&news_type_id=1&index=3

Tigers_eye
July 10, 2011, 12:07 AM
A disaster waiting to happen. Allah Maf koruk.

Rabz
July 10, 2011, 12:35 AM
The current Minister, G M Kader is in a hopeless position.
There is a big tug of war between him and the all powerful CAAB.
Since he is from Jatiya Party (he is the brother of HM Ershad), nobody is willing or bothered to listen to him.
He has been one of the very few ministers in this govt who still enjoys a good reputation and is trying his best to do something for his concerned ministry.
But even the Biman MD doesn't return his calls !!

bujhee kom
July 10, 2011, 10:17 PM
Disgraceful, simply sad, as T_E bhai said, Allah forgives us, this is asking and waiting for a disaster to happen...Shame to that care-taker govt and the current BAL government! Shame on all of them, BNP too!

WarWolf
July 11, 2011, 04:48 AM
Allah maaf koruk.