View Single Post
  #36  
Old November 29, 2010, 03:52 PM
roman's Avatar
roman roman is offline
Cricket Guru
 
Join Date: July 18, 2004
Location: New York
Favorite Player: Shakib, Tamim, Mash
Posts: 10,867

মাশরাফির যন্ত্রণা তো রয়েই গেল


এম. এম. কায়সার

মানুষ আসলে তার সামনের দিনকে বেশ ষ্পষ্টভাবেই দেখতে পায়।
অদৃষ্টবাদ বলে—সবকিছু আগে থেকে সাজানো থাকে। সবকিছু সেই মতেই ঘটে। মানুষ শুধু নিমিত্ত মাত্র!
নিজের সামনের দিনটাকে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজাও বেশ ষ্পষ্টভাবে দেখতে পেরেছিলেন। তবে পুরোটা নয়। আংশিক অংশ!
পুরোটা দেখলেন ২৮ নভেম্বর বিকালে। অধিনায়কত্ব হারানোর দিনের বিকাল। আর আংশিক অংশটা দেখেছিলেন ৪ নভেম্বর, সেই একই মাঠে—মিরপুরে হোম অব ক্রিকেটে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ইনজুরিতে পড়ে সিরিজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসার লড়াইয়ে প্রথমবার মাঠে নামেন মাশরাফি ৪ নভেম্বর। খাটো রানআপে অনুশীলন নেটে বোলিং করার পর সেদিন মাশরাফি বলছিলেন, ‘নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে হবে আগে। তাই ছোট রানআপ নিয়ে বোলিং করছি। বোলিং করছি সেই সঙ্গে ব্যথাও টের পাচ্ছি। আসলে আমার নিয়তিটাই এমন—যন্ত্রণা, ব্যথা নিয়েই খেলতে হয়। দেখি এই চ্যালেঞ্জেও জিততে চাই।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে মাশরাফি খেলতে নামছেন পুরোপুরি ইনজুরিমুক্ত হয়ে। কিন্তু যন্ত্রণা পিছু ছাড়ল কই?
হাঁটু বা গোড়ালির পরিচিত সেই যন্ত্রণার চেয়ে অনেক বড় যন্ত্রণা যে এখন তার। সেটা আর কোথাও নয়—মনে! হৃদয়ে! ২৮ নভেম্বর বিকালে অধিনায়কত্ব হারানোর খানিকবাদের সেই মুহূর্তে তার শারীরিক ভাষা স্পষ্টত জানান দেয়—এবারের চোট মনের খুব নরম জায়গায়!
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঠিক যে ব্যাখ্যায় এই সিরিজে মাশরাফির অধিনায়কত্ব কেড়ে নিল—তার বিশ্লেষণে যে অনেক বড় গরমিল।
আগে শুনুন—এই প্রসঙ্গে কে কি বলছেন?
বিসিবি সভাপতি মোস্তফা কামাল বলছেন, ‘মাশরাফির ইনজুরিটাই আমাদের সমস্যায় ফেলেছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজে আমরা তাকে পুরোপুরি পাইনি। এর মধ্যে সে কোথাও খেলেনি। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তাই আর ঝুঁকি নিলাম না আমরা। মাশরাফি যদি ফিট হয় তারপর দেখা যাবে। তাছাড়া সাকিবের অধিনায়কত্ব প্রমাণিত। তার ওপরই আমাদের আস্থা বেশি।’
বিসিবির পরিচালক এবং টেকনিক্যাল মূল্যায়ন কমিটির সদস্য গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলছেন, ‘সদ্য ইনজুরি থেকে ফিরে এসেছে মাশরাফি। আমরা তাকে এখন খেলায় দেখতে চাই। এমন সময় অধিনায়কত্ব দিয়ে তার বোঝা আর বাড়াতে চাই না।’
নির্বাচকরাও প্রায় একই সুরে কথা বলছেন, ‘আসলে মাশরাফির ইনজুরি নিয়ে সবাই শঙ্কিত। তাই অধিনায়কত্ব বদল হয়েছে।’
তাহলে বিষয়টা কি দাঁড়াল? মূলত ইনজুরিতে ফের পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই মাশরাফি অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন। মাশরাফির ‘অগ্রিম ইনজুরি’ (!) নিয়ে যদি ক্রিকেট বোর্ড এতই আগাম শঙ্কিত থাকে তাহলে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এই সিরিজে তাকে সেরা ১৫ জনের দলেই রাখা হলো কেন? ফিটনেস ঠিক আছে বলেই তো তাকে দলে রেখেছেন নির্বাচকরা। আর যদি দলেই থাকেন—তাহলে তো তিনি অধিনায়ক হিসেবেই থাকতে পারতেন। সেটাই বরং আরও বেশি শোভনীয় এবং উভয়পক্ষের জন্য সম্মানসূচক হতো। আর যদি ক্রিকেট বোর্ড মনে করে যে মাশরাফি ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস এখনও পাননি—তাহলে তাকে এই সিরিজের বাইরেই রাখতে পারত।
এই প্রথম জানা গেল—অধিনায়কত্বের জন্য আলাদাভাবে ফিটনেস লাগে!
ধরা যাক মাশরাফি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দারুণ দাপট দেখিয়ে পুরো সিরিজ খেলে গেলেন—তাহলে কি বোর্ড ফের অধিনায়কত্ব তাকে ফিরিয়ে দেবে? বোর্ড সভাপতি এই প্রশ্নেও যা বলেছেন তার উত্তর—হ্যাঁ। সেক্ষেত্রে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান কি সম্মান পেলেন? বারবার এই অধিনায়ক বদল কতটা যুক্তিযুক্ত হচ্ছে?সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে—সাকিব তো এই সিরিজে অধিনায়ক হতেই চাননি! সেটা তিনি মিডিয়াকে ষ্পষ্ট করে জানিয়েছেন। কিন্তু তারপরও ইচ্ছের বিপক্ষে কেবল অনুরোধে ঢেঁকি গেলার মতো অবস্থায় তাকে এই দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।
ইচ্ছের বিপক্ষে দেশের অধিনায়কত্ব করা—এমন ঘটনা সম্ভবত বাংলাদেশেই প্রথমবারের মতো ঘটল! দেশের হয়ে ক্রিকেট মাঠে অধিনায়কত্ব করা একজন ক্রিকেটারের আজীবন লালিত স্বপ্নসাধ। সাকিবেরও সেই স্বপ্ন আছে। কিন্তু সাকিব তো নিজেই জানিয়েছেন, ‘এখন নয়, আমি আরেকটু পরে অধিনায়কত্ব চাই। এখন মানসিকভাবে প্রস্তুত নই।’
কিন্তু বিসিবি ‘অপ্রস্তুত’ অধিনায়ককেই বেছে নিল!
লিপু বলছেন—অধিনায়কত্ব বোঝা। চিন্তাটা হয়তোবা তার ব্যক্তিগত হতে পারে। কিন্তু মাশরাফির কাছে কি কখনো তারা জিজ্ঞেস করেছেন—অধিনায়কত্ তোমার কাছে বোঝা কিনা?
ইনজুরিতে পড়েননি—এমন ক্রিকেটার বিশ্বে বিরল। ক্যারিয়ারের সেই শুরুর সময় থেকেই তো মাশরাফি এই ইনজুরির সঙ্গে লড়ছেন। দুই হাঁটুতে পাঁচবার অস্ত্রোপচার করার পরও বিশ্বের আর কোনো পেস বোলার মাঠে ফিরে আসার মতো শক্তি দেখাতে পেরেছেন—মাশরাফি ছাড়া এমন দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ কি বিসিবি দেখাতে পারবে?
মাশরাফির ইনজুরি নিয়ে বিসিবি অনেক শঙ্কায় কম্পিত। আল্লাহ না করুন—যদি কোনো কারণে এই সিরিজে হঠাত্ সাকিব আল হাসান ইনজুরিতে পড়েন—আর মাশরাফি ফিট থাকেন। তাহলে?
সিরিজের অধিনায়কত্ব কি ফের মাশরাফির হাতে?
অধিনায়কত্ব নিয়ে বিসিবির সাম্প্রতিক নাটকের সবচেয়ে কৌতুককর অংশ হতে পারে সম্ভবত সেটাই!

http://www.amardeshonline.com/pages/...10/11/30/55724
Reply With Quote