
December 7, 2010, 03:38 PM
|
 |
BanglaCricket BPL Fantasy League Winner 2012
|
|
Join Date: January 9, 2008
Favorite Player: To Bash = AshDaFool
Posts: 1,967
|
|
Mash speaks out to his critics:
অনেক কিছুই দেখলাম
পরশু ভালো বোলিং করার পর অনেকে ফোন দিয়ে বলেছেন, অনেক দিন পর নাকি আমার ভালো বোলিং দেখেছে! শুনে খারাপই লাগছিল। আমি খেললাম কই? গত ১৭-১৮ মাসে ম্যাচই তো খেললাম ১২ কি ১৩টা!
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে ভালো বল করতে না পারলেও আমি দুশ্চিন্তা করিনি। জানতাম, একটা ভালো স্পেলেই আবার ফিরে পাব নিজেকে। তৃতীয় ম্যাচেও শুরুতে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলাম না, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়াতে পা পিছলেও যাচ্ছিল দু-একবার। চার ওভার করার পর মনে হচ্ছিল, ছন্দটা ফিরে আসছে। আগের দুই ম্যাচে সুইং নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না। এ ম্যাচে তা করতে পারার পরই বুঝতে পারছিলাম বোলিং ভালো হবে। তার পরও যেটা হয়েছে, লোকের চোখে ভালো হলেও আমি জানি, আমি আমার সামর্থ্যের মাত্র ৬০-৭০ ভাগ করতে পেরেছি। আমার পক্ষে এর চেয়ে ভালো বল করা সম্ভব। তবে সে জন্য আরও কয়েকটা ম্যাচ খেলতে হবে। নিজেকে নিয়ে তাই আপাতত ভাবছি না, ভাবছি ওই মানুষগুলোকে নিয়ে। সারাক্ষণ ক্রিকেট-ক্রিকেট করেও তারা যেন ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে!
প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র ৯ ওভার বোলিং করেছি। তা দেখেই সবাই এমনভাবে কথা বলছিল, যেন নয়-দশ বছর ধরে খেলে আমি আজ পর্যন্ত কিছুই করতে পারিনি। আমার ক্যারিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল অনেকে। আমি নাকি অনেক দিন পর ফিরেছি! অনেক দিন তো নয়, মাত্র দুই মাস! ইনজুরি থেকে ফিরে পৃথিবীর সব বোলারকেই সংগ্রাম করতে হয়। আমার ভেতরে তাই কোনো টেনশন ছিল না। কিন্তু সবাই যে রকম আচরণ করছিল, সেটাই খারাপ লেগেছে।
আমি বলে কথা নয়, যেকোনো খেলোয়াড়েরই খারাপ সময়ে পিঠে একটা উৎসাহের হাত প্রয়োজন হয়। আশরাফুলের কথাই ধরুন। ভালো খেললে সবাই তাকে নিয়ে নাচে, খারাপ খেললে একেবারে যা-তা বলতে শুরু করে। এগুলো ঠিক নয়। আজ যারা সেরা ফর্মে আছে, তাদেরও একদিন এমন হতে পারে। বাজে সময় টেন্ডুলকারেরও আসে, সব ক্রিকেটারকেই এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার মানে এই নয়, ওই ক্রিকেটারটি খেলতে পারে না।
আকরাম ভাইয়ের আমলে আকরাম ভাই সুপারস্টার ছিলেন, একসময় আশরাফুল সুপারস্টার ছিল, আজ তামিম-সাকিবের আমলে তামিম-সাকিব সুপারস্টার। আবার কাল দেখবেন আরেকজন সুপারস্টার হয়ে গেছে। ক্রিকেট এমনই। যারা ক্রিকেট বোঝে না, তারা যা ইচ্ছা বলতে পারে। কিন্তু যারা ক্রিকেট বোঝে বলে দাবি করে, তারাও যখন অক্রিকেটীয় কথাবার্তা বলে, তখন তা মেনে নেওয়া কঠিন। যেমন আমাকে এসে কেউ কেউ বলেছেন, ‘কী বোলিং করছ এসব!’ ক্রিকেট বুঝলে তো বরং বলা উচিত ছিল, ‘তোমার লেংথ ঠিক আছে, কিন্তু লাইনে একটু সমস্যা হচ্ছে।’ ক্রিকেট বুঝলে তো ইনজুরি কী জিনিস, সেটাও জানার কথা।
আমার সৌভাগ্য, প্রথম দুই ম্যাচের বোলিং দেখে বাইরের মানুষ অস্থির হয়ে পড়লেও বাংলাদেশ দল আমার পাশে ছিল। দল থেকে দারুণ সমর্থন পেয়েছি। সাকিব তো সব সময়ই পাশে ছিল। তামিমের কথা আলাদা করে বলতে হয়। তৃতীয় ম্যাচে বোলিংয়ের সময় পাশে এসে অনেক কথা বলেছে। আমি বুঝতে পারছিলাম, ওর কথাগুলোতে আমার উপকার হচ্ছে। আর সাকিব বারবার বলছিল, ‘সব ঠিক আছে। শুধু রান দিয়েন না।’ আমিও চেষ্টা করছিলাম সেটাই। জানি, আমার বাড়ির লোকজন থেকে শুরু করে আমাকে যারা পছন্দ করে, সবাই আশা করছিল আমি যেন একটা উইকেট পাই। কিন্তু আমি উইকেটের কথা চিন্তা করছিলাম না। আমি ভাবছিলাম কীভাবে রান না দেওয়া যায়। উইকেটের জন্য বল করলে রান দিয়ে দেওয়ার ভয় থাকে। শেষ পর্যন্ত উইকেটও একটা পেয়েছি। সেই মুহূর্তটা আসলেই খুব আনন্দের ছিল। ওয়ানডে রান আটকানোর খেলা, কিন্তু একজন বোলারের চরম আনন্দ তো উইকেট পাওয়াতেই।
Source: http://www.prothom-alo.com/detail/da...08/news/114252
Last edited by ammark; December 7, 2010 at 04:24 PM.
Reason: mod.misc: bangla tags
|