View Single Post
  #46  
Old November 4, 2011, 02:37 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

নো ফ্রি লাঞ্চ
হুমায়ূন আহমেদ, নিউইয়র্ক থেকে | তারিখ: ০২-১১-২০১১



‘নো ফ্রি লাঞ্চ’—একটি আমেরিকান বাক্য। এই বাক্যটা বলে তারা এক ধরনের শ্লাঘা অনুভব করে। তারা সবাইকে জানাতে পছন্দ করে যে তারা কাজের বিনিময়ে খাদ্যে বিশ্বাসী।

এই ধরনের বাক্য বাংলা ভাষাতেও আছে—‘ফেলো কড়ি মাখো তেল’। গায়ে তেল মাখতে হলে কড়ি ফেলতে হবে। আরামের বিনিময়মূল্য লাগবে। যা-ই হোক, ফ্রি লাঞ্চে ফিরে যাই। নো ফ্রি লাঞ্চের দেশে চিকিৎসা করতে ব্যাগ ভর্তি ডলার নিয়ে যেতে হবে, এই তথ্য আমি জানি। তবে বিকল্প ব্যবস্থাও আছে। বুকে প্রচণ্ড ব্যথা বলে যেকোনো হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যেতে হবে। বুকে ব্যথা মানে হার্ট অ্যাটাক। হাসপাতাল হেলথ ইনস্যুরেন্স আছে কি নেই তা না দেখেই রোগী ভর্তি করবে। চিকিৎসা শুরু হবে। চিকিৎসার একপর্যায়ে ধরা পড়বে রোগীর হয়েছে ক্যানসার। হাসপাতাল তখন ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু করবে। রোগীকে ধাক্কা দিয়ে হাসপাতালের ফুটপাতে ফেলে দেবে না। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর বলতে হবে, আমি কপর্দকশূন্য। এক মিলিয়ন ডলার বিল আমি দেব, তবে একসঙ্গে দিতে পারব না। ভেঙে ভেঙে দেব। প্রতি মাসে পাঁচ ডলার করে। এই প্রস্তাবে রাজি হওয়া ছাড়া হাসপাতালের তখন আর করার কিছু থাকে না। বাংলাদেশিদের কাছে এই বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থা সংগত কারণেই বেশ জনপ্রিয়।

বাঙালি ব্যবস্থায় আমি চিকিৎসা শুরু করব, এই প্রশ্নই ওঠে না। সমস্যা হচ্ছে, বিপুল অঙ্কের অর্থও তো আমার নেই।

আমার দুটো গাড়ি। দুটোই বিক্রির জন্য পাঠানো হলো। একটা বিক্রি হলো। দখিন হাওয়ার যে ফ্ল্যাটে থাকি, সেটা বিক্রির চেষ্টা করলাম। পারলাম না, ফ্ল্যাটবাড়ি নিয়ে কিছু আইনগত জটিলতা আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে উত্তরায় পাঁচ কাঠার একটা জমি পেয়েছিলাম। সেই জমি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিলাম। লাভ হলো না। বাকি থাকল নুহাশ পল্লী। অর্থ সংগ্রহের ছোটাছুটির একপর্যায়ে অন্যপ্রকাশের মাজহার বলল, আপনি কেন অস্থির হচ্ছেন? আমি তো আপনার সঙ্গে যাচ্ছি। আপনার চিকিৎসার অর্থ কীভাবে আসবে, কোত্থেকে আসবে তা দেখার দায়িত্ব আমার। আপনার না।
আমি বললাম, টাকা কীভাবে জোগাড় করবে? ভিক্ষাবৃত্তি? চাঁদা তুলবে?
মাজহার বলল, না। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, কারও কাছ থেকে এক ডলার সাহায্য নেব না। এই মুহূর্তে আমার হাতে ৫০ হাজার আমেরিকান ডলার আছে।
আমি বললাম, দেখাও।
মাজহার বলল, দেখাতে পারব না। ৫০ হাজার ডলার নিউইয়র্কে আপনার জন্য আলাদা করা। চ্যানেল আইয়ের সাগর ভাই আপনার জন্য আলাদা করে রেখেছেন। সাহায্য না, ঋণ। পরে শোধ দেবেন।
আমি খানিকটা ভরসা পেলাম। চ্যানেল আইয়ের সাগরের অনেক বদভ্যাসের (!) একটি হলো শিল্প-সাহিত্যের কেউ বিপদে পড়লে তাকে উদ্ধারের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া। এই কাজ অতীতেও সে অনেকবার করেছে। এখনো করছে। ভবিষ্যতেও করবে কি না জানি না। ইতিমধ্যে তার উচিত শিক্ষা হয়ে যাওয়ার কথা।

আমেরিকায় অর্থ ব্যয়ের একটি নমুনা দেওয়া যেতে পারে। হিসাবটা বাংলাদেশি টাকায় দিই।
স্লোয়ান কেটারিং মেমোরিয়ালের ডাক্তাররা আমার কাগজপত্র দেখবেন। রোগ নিয়ে কথাবার্তা বলবেন। শুধু এই জন্য তিন লাখ টাকা জমা দিতে হলো।

ডাক্তার শরীরে মেডিপোর্ট বসানোর জন্য Radio ল্যাবে পাঠালেন। (মেডিপোর্টের মাধ্যমে কেমোথেরাপি শুরু হবে) মেডিপোর্ট বসানোর খরচ হিসেবে জমা দিতে হলো আট লাখ টাকা।
মেডিপোর্ট বসানোর পরদিন কেমো শুরু হবে। আটটি কেমোর পুরো খরচ একসঙ্গে দিতে হবে। টাকার পরিমাণ এক কোটি টাকা। ভাগে ভাগে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।

শাওন ও মাজহার দুজনেরই দেখি মুখ শুকনো। নিশ্চয়ই কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। যেহেতু তারা আমাকে বলেছে, টাকা-পয়সার বিষয় নিয়ে আমি যেন চিন্তা না করি, আমি তাই চিন্তা করছি না।
কেমোথেরাপি দিতে এসেছি। কেমোথেরাপির ডাক পড়বে, ভেতরে যাব। ডাক পড়ছে না। একা বসে আছি। শাওন আমার সঙ্গে নেই। সে মাজহারের সঙ্গে ছোটাছুটি করছে। শাওন চোখ লাল করে কিছুক্ষণ পরপর আসছে, আবার চলে যাচ্ছে।

একটা পর্যায়ে শাওন ও মাজহার দুজনকে ডেকে বললাম, ‘মার্ফিস ল’ বলে একটি অদ্ভুত আইন আছে। মার্ফিস ল বলে—If any thing can go wrong, it will go wrong. আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি, কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। সমস্যাটা বলো। টাকা কম পড়েছে?
মাজহার বলল, হ্যাঁ। চ্যানেল আইয়ের টাকাটা এই মুহূর্তে পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালে আমরা অর্ধেক, অর্থাৎ ৫০ লাখ টাকা দিতে চাই, ওরা নেবে না। হাসপাতাল বলছে, পুরো টাকা নিয়ে আসো, তারপর চিকিৎসা শুরু হবে। আমি বললাম, চলো, ফিরে যাই। টাকা জোগাড় করে চিকিৎসার জন্য আসব।
শাওন বলল, তোমার চিকিৎসা আজই শুরু হবে। কীভাবে হবে আমি জানি না, কিন্তু আজই হবে।
শাওন বাচ্চাদের মতো কাঁদতে শুরু করল। আমি বললাম, তুমি সবার সামনে কাঁদছ। বাথরুমে যাও। বাথরুমে দরজা বন্ধ করে কাঁদো।

সে আমার সামনে থেকে উঠে বাথরুমে ঢুকে গেল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার ডাক পড়ল, কেমোথেরাপি শুরু হবে। টাকা বাকি থাকতেই শুরু হবে।

সমস্যার সমাধান করলেন পূরবী দত্ত। তিনি হাসপাতালকে বোঝাতে সমর্থ হলেন যে হুমায়ূন আহমেদ নামের মানুষটি চিকিৎসা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার মানুষ না। তিনি অবশ্যই প্রতিটি পাই-পয়সা শোধ করবেন।

হাসপাতাল চিকিৎসার পুরো টাকা শুরুতেই কেন নিয়ে নেয় তা ব্যাখ্যা করি। অনেক রোগী একটি কেমোর টাকা জোগাড় করে কেমো নিয়ে হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করে দেয়। সে বলে, আমার আর টাকা নেই বলে কেমো নিতে পারছি না। আমার চিকিৎসা অসম্পূর্ণ। আমেরিকান হাসপাতাল চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রাখতে পারে না।

পাদটীকা

সর্বাধুনিক, বিশ্বমানের একটি ক্যানসার হাসপাতাল ও গবেষণাকেন্দ্র কি বাংলাদেশে হওয়া সম্ভব না? অতি বিত্তবান মানুষের অভাব তো বাংলাদেশে নেই। তাঁদের মধ্যে কেউ কেন স্লোয়ান বা কেটারিং হবেন না? বিত্তবানদের মনে রাখা উচিত, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ব্যাংকে জমা রেখে তাঁদের একদিন শূন্য হাতেই চলে যেতে হবে। বাংলাদেশের কেউ তাঁদের নামও উচ্চারণ করবে না। অন্যদিকে আমেরিকার দুই ইঞ্জিনিয়ার স্লোয়ান ও কেটারিংয়ের নাম তাঁদের মৃত্যুর অনেক পরেও আদর-ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সমস্ত পৃথিবীতে স্মরণ করা হয়।

আমি কেন জানি আমেরিকায় আসার পর থেকেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি, হতদরিদ্র বাংলাদেশ হবে এশিয়ায় ক্যানসার চিকিৎসার পীঠস্থান।

যদি বেঁচে দেশে ফিরি, আমি এই চেষ্টা শুরু করব। আমি হাত পাতব সাধারণ মানুষের কাছে।


----------------------------------------------------------------------------------------------

04 Nov 2011 11:40:26 AM Friday BdST
আমি রাজী, আপনারা?
আবিদ রহমান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর



সৎ ও আন্তরিক যেকোনও উচ্চারণ হৃদয়গ্রাহী হয়। পাঠকের চিত্তাকর্ষণ করে। ইদানিং সম্ভবতঃ একারণেই সুখপাঠ্য লেখক হুমায়ূন আহমদের লেখাগুলোর ’প্রেমে’ পড়ে যাচ্ছি। নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন হুমায়ূনের লেখাগুলো একার্থে মাইন্ড ব্লোয়িং।ভেতরটা ভাসিয়ে দিয়ে যায় বেদনার অদ্ভুত প্লাবনে! নিজেকে কেন জানি না অজানা কারণেই গিল্টি বোধ করি। মৃত্যুকে মালুম হয় ‘ফাজিল’ এক উপদ্রব বলে। আগে মৃত্যুভীতিতে কাতর হতাম। এখন সেই ভীতিটা দিব্যি উধাও। মৃত্যুর আলিঙ্গন-অপেক্ষাকে মনে হয় অতি পরিচিত কোনো প্রতীক্ষা!

নিজ মৃত্যুকে নিয়ে ব্যঙ্গ করার জন্যে চাই জোর মানসিক শক্তি। অবিশ্বাস্য সততা। হুমায়ূনের রসবোধ সর্বজনস্বীকৃত। অসুস্হ অবস্হায় এই রসবোধ আরো বেড়েছে জীবনের নির্মম সত্যের মুখোমূখি হবার কারণে। হাজারো ব্যঙ্গবিদ্রুপের মাঝে হুমায়ূন আক্ষেপ জানিয়েছেন, জন্মভূমি বাংলাদেশে কেন আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার হাসপাতাল নেই? অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত এই আক্ষেপ ও জিজ্ঞাসা। বাংলাদেশের ভেজাল খাবার, বসবাস-অযোগ্য পরিবেশ আর আত্মঘাতী লাইফস্টাইল ক্যান্সারের বিস্তারে রাখছে প্রলয়ংকরী অবদান। ফি বছর ক্যান্সার চিকিৎসার জন্যে সামর্থ্যবান মানুষেরা মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খর্চা করে ছোটেন বিদেশে। সামর্থ্যহীনেরা বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের কাছে পাতেন হাত। ঋণ নিয়ে কাছাকাছির কলকাতাও হলেও সান্ত্বনার অন্তিমযাত্রায় ছোটেন।

টাকার অংকে আরোগ্যলাভের ক্ষীণ সম্ভাবনার মরণঘাতী এই চিকিৎসার হুন্ডি ব্যয় বছরে হাজার কোটি টাকারও বেশী। সঙ্গে আছে যাতায়ত ও সহায়তাকারীদের আনুষঙ্গিক খর্চা। সেই অংকটাও হেলার নয়। সব মিলিয়ে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার জমজমাট হুন্ডি বাণিজ্যে ক্যান্সার চিকিৎসা প্রদানকারী দেশগুলো দিব্যি আরাম আয়েশে থাকে। দু’হাজার এক সালে ব্যাংককে বাঙালি পর্যটকেরা ছিলেন ব্যয়ের তালিকার দ্বিতীয়। শীর্ষ স্হানের জাপানীরা ব্যাংককে আসতেন নিছক পর্যটনের মানসিকতায় আর বাঙালিরা টুরিস্ট ভিসায় যেতেন চিকিৎসায়।

হালে দেশে অনেক নামীদামী হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। তবে সেগুলোর খায়-খর্চা ব্যাংকক-চেন্নাই-দিল্লীর বিলের দ্বিগুণ ছাড়ানো আর্থিক যাতনা। কিন্তু বিপরীতে চিকিৎসা ও সেবার মান প্রশ্নাতীত হয়নি। হুমায়ূন আহমেদ দেশে একটা আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। হুমায়ূনতো রাজনীতিবিদ কিংবা দেশের নীতি নির্ধারক নন। যারা রাজনীবিদ তাদের ট্যাঁকের জোর অনেক। সামান্য সর্দি-কাশিতে ওনারা উড়াল দেন বিদেশে। ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী ব্যাধিতে নীতি নির্ধারকেরা অবলীলায় বিদেশে বাড়ি-ঘর কিনে থিতু হয়ে চিকিৎসা সারবেন। সেকারণেই দেশে একটা ক্যান্সার হাসপাতাল তাদের ’পঞ্চবার্ষিকীতে’ নেই। যদি থাকতোও তাহলে আলোর মুখ দেখতে লেগে যেতো দীর্ঘ সময়। এক সরকার নিজের দলের প্রধান বা নেতার নামে গড়তেন হাসপাতাল। অন্য দল ক্ষমতায় এসে সেই নামকরণের ’অপরাধে’ সেই হাসপাতালকে করতেন বেমালুম অবজ্ঞা।

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের বর্তমান পর্যায় কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠি ও প্রতিষ্ঠানের একক ও সম্মিলিত উদ্যোগের অবদান। আন্তর্জাতিক মানের ক্যান্সার হাসপাতালও হতে পারে সেই ধরণের কোনো ব্যক্তি উদ্যোগে। ’শুঁটকির’ শেয়ারবাজারে `বিড়ালের’ পাহারাদারির কারণে শেয়ার বাজারের মাধ্যমে টাকা তোলার দাবি জানাই না; টাকা তোলার ভিন্ন পন্হার প্রস্তাব পেশ করতে চাই।

কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে এখন পাওয়ার টিলারের রাজত্ব। গৃহস্হদের আংগিনা এখন গবাদিশুন্য। শিশুখাদ্য দুধ এখন ব্যয়বহুল এক বিলাসী পণ্য। এর মাঝে মুসলমানরা ফি বছর লাখ কুড়ি গরু-ছাগল ছুরির নীচে ফেলেন পবিত্র কোরবানির নামে। প্রায় এক কোটি মানুষ কোরবানি দেন। সংকট সমাধানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে ’সুন্নতি’ উট। ’হিন্দু-বিদ্বেষীরা’ প্রতিবেশী ভারত থেকে চোরাই পথে রাতের আঁধারে আনেন ’বিধর্মী’ গরু। আর অধিকাংশ ক্রেতাই ঘুষ-লুটপাট-চোরা কারবারীর টাকায় ধর্মীয় ’কমিনটমেন্ট’ মেটান। পুরো প্রক্রিয়াটই এখন ধর্মীয় দায়-দায়িত্বের সীমানা পেরিয়ে সামাজিক স্ট্যাটাসে পরিণত হয়েছে। পাল্লা দিয়ে চলে আকাশচুম্বী দামের গরু-ছাগলের জবাই। এটিকে কোরবানি ভাবতে দিলে সায় দেয় না। কোরবানির টাকাটা সৎ উপার্জনের হতে হয়।

গেল কোরবানীর ঈদে আমি পশুর বদলে লোভ-লালসা ও অন্যায়কে কোরবান দেবার আহ্বান জানিয়েছিলাম। সেই আহ্বান-অনুরোধ অরণ্যে রোদন হয়েছে। এবার আমি থাকছি হুমায়ূনের আহ্বানের সাথে। আমার পরিবারে তিন নামের কোরবানি হয়। সব মিলিয়ে গেলো বছর লেগেছিলো প্রায় তিরিশ হাজার। এবার আরেকটু বেশী লাগবে নির্ঘাৎ। আমার স্ত্রী-পুত্রের কোরবানী দেওয়া না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমি নিতে অক্ষম। এই অধিকারটুকু আমার নেই। তবে নিজের কোরবানির ব্যাপারে আমার সিদ্ধান্ত নেবার পূর্ণ অধিকার আছে। ঠিক করেছি এবছর আমি কোরবানি দেবো না। আমার কোরবানির পনেরো হাজার টাকা আমি রেখে দিলাম হুমায়ূনের প্রস্তাবিত ক্যান্সার হাসপাতালের জন্যে। যতদিন বাঁচি ততোদিন আর কোরবানি না দিয়ে সেই টাকা দান করবো হুমায়ূনের স্বপ্ন দেখা ক্যান্সার হাসপাতালের জন্যে।

প্রত্যাশা করি মাত্র একলাখ মানুষ যদি চলতি বছর কোরবানির মাংস খাওয়ার লোভ কিংবা সামাজিক লজ্জ্বার ধিক্কার সামাল দিতে পারেন তাহলে অনায়াসে দেড়শ’ থেকে দুই শত কোটি টাকা যোগাড় হয়ে যায়। দিব্যি কাজ শুরু করা যেতে পারে এই টাকায়। ন্যূনতম পাঁচ বছর লাগবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে। এর মাঝে নিঃসন্দেহে যোগাড় হয়ে যাবে হাজার কোটি টাকা। হুমায়ূন আপনার ফেরার চাতকী অপেক্ষায় থাকলাম। প্রত্যাশা করি স্বপ্ন পূরণের বাদবাকী দায়িত্বটুকুও আপনি স্কন্ধে নেবেন স্বেচ্ছায়।

মহৎ একটা উদ্যোগের জন্যে যদি কোরবানি না-দেবার ধর্মীয় ’গুনাহ’র ভাগীদার হতে হয়, আমি রাজী। আপনারা ?

ইমেলঃ abid.rahman@ymail.com
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote