View Single Post
  #1  
Old December 2, 2011, 04:21 AM
PoorFan PoorFan is offline
Moderator
 
Join Date: June 15, 2004
Location: Tokyo
Posts: 14,335
Default Foreign National those who supported Bangladesh in '71

Lets learn some those person, who supported us at our most sacrificing and struggling history. Especially, In a month when we should be tankful to many we have lost, and to very little we still have around. In a month and perhaps in a ongoing cricket series where we see unpleasant delusion of youth, lacking dignity or is it lacking effort to learn.

So, I thought may be we should gather those articles on PA and read/learn, who knows we might come to know few things which we didnt know.


বিজয়ের ৪০ বছর: বিদেশি সহযোদ্ধা

যুদ্ধসাথি সায়মন ড্রিং

মশিউল আলম | তারিখ: ০১-১২-২০১১


  • ১১ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • ShareThis




« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

  • সায়মন ড্রিং
1 2




১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করার আগে ঢাকায় অবস্থানকারী সব বিদেশি সাংবাদিককে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্ট লে (ভূতপূর্ব শেরাটন, এখন রূপসী বাংলা) আটকে ফেলে। পরদিন তাঁদের বিমানবন্দরে নিয়ে তুলে দেওয়া হয় উড়োজাহাজে। ঢাকাকে বিদেশি সাংবাদিকশূন্য করার উদ্দেশ্য—পাকিস্ত নি সেনাদের বাঙালি নিধনযজ্ঞের খবর যেন বাইরের পৃথিবীতে না পৌঁছায়।
কিন্তু পাকিস্তানিদের ওই সাধে বাদ সাধেন ২৫ বছরের এক বিলেতি তরুণ। নাম সায়মন ড্রিং। সামরিক আইনের নির্দেশ অমান্য করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিনি লুকিয়ে ছিলেন হোটেলে। ২৭ মার্চ সকালে কারফিউ উঠে গেলে হোটেলের কর্মচারীদের সহযোগিতায় ছোট্ট একটি মোটরভ্যানে করে ঘুরে ঘুরে দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল, রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাক ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা।
ঢাকায় দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো প্রথম দফার গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রত্যক্ষ চিত্র উঠে আসে তাঁর প্রতিবেদনে: ‘আল্লাহর নামে আর অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষার অজুহাতে ঢাকা আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও সন্ত্রস্ত এক নগর। পাকিস্তানি সৈন্যদের ঠান্ডা মাথায় টানা ২৪ ঘণ্টা গোলাবর্ষণের পর এ নগরের...।’ ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’ শিরোনামের সেই প্রতিবেদন লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ৩০ মার্চ ছাপা হয়। এ প্রতিবেদন থেকে বিশ্ববাসী জানতে পারে, পাকিস্তানি বাহিনীর সেদিনের বর্বরতার কথা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সঞ্চারের প্রাথমিক মুহূর্ত ছিল সেটি।
ইংল্যান্ডের নরফোক এলাকার সন্তান সায়মন ড্রিং (জন্ম ১৯৪৬) বাংলাদেশকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন। ঢাকায় তিনি প্রথম এসেছিলেন ১৯৬৮ সালে। তারপর ১৯৭১-এর মার্চে তিনি ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর সংবাদদাতা হিসেবে যখন ভিয়েতনামে, তখন পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক ঝড় ঘনিয়ে ওঠে। সায়মন ছুটে আসেন ঢাকায়। ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেছেন মঞ্চের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে। ২৫ মার্চ রাত সাড়ে নয়টার দিকে টেলিফোনে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে। জিগ্যেস করেছিলেন, ‘আপনি কি আত্মগোপনে যাচ্ছেন?’ বঙ্গবন্ধু উত্তরে বলেছিলেন, ‘না। আমাকে না পেলে ওরা তো সব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে।’
অবরুদ্ধ ঢাকায় বেশি দিন থাকতে পারেননি সায়মন। খুব শিগগির ফিরে যেতে হয়েছে স্বদেশে। নভেম্বরে আসেন ভারতে; কলকাতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের খবরাখবর সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিতেন লন্ডনের টেলিগ্রাফ পত্রিকায়। ১৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর সঙ্গে ট্যাংকে চড়ে ময়মনসিংহ হয়ে প্রবেশ করেন মুক্ত বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়, তিনিও যেন বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের একজন।
চোখের সামনে মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হতে দেখে নিরপেক্ষ, নির্লিপ্ত খবর সংগ্রহকারীর ভূমিকায় থাকতে পারেননি সেই সময়ের ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর সাংবাদিক সায়মন ড্রিং। একটি পক্ষে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন—ন্য য়ের পক্ষে। সেই পক্ষপাতের জন্য তিনি মৃত্যুর ঝুঁকিও অগ্রাহ্য করেছেন। ১৬ ডিসেম্বরের পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিকের সঙ্গে দেখা হলে সায়মন তাঁকে জিগ্যেস করেছিলেন, মার্চে ধরা পড়ে গেলে তাঁর (সায়মনের) কী হতো? সিদ্দিক সালিক উত্তরে বলেছিলেন, ‘আপনাকে গুলি করে মারা হতো।’
সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন ১৮ বছর বয়স থেকে। দেখেছেন ২২টি যুদ্ধ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনবাসী সায়মন ড্রিং স্বাধীন বাংলাদেশে আবার এসেছিলেন ২০০০ সালে, এ দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি গড়ে তোলার প্রধান কারিগর হিসেবে। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর একুশে টিভি বন্ধ করে দেয়। ২০০২ সালের অক্টোবরে সরকার সায়মন ড্রিংয়ের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে তাঁকে অবিলম্বে বাংলাদেশ ত্যাগের আদেশ দিলে তিনি চলে যান। বাংলাদেশের কাছে এই কি তাঁর প্রাপ্য ছিল?
সায়মন ড্রিং বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম বন্ধু, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল আমাদের সহযোদ্ধার। বাংলাদেশ তাঁর ঋণ কখনো ভুলবে না।



Prothom Alo
Reply With Quote