View Single Post
  #20  
Old December 4, 2011, 08:31 PM
PoorFan PoorFan is offline
Moderator
 
Join Date: June 15, 2004
Location: Tokyo
Posts: 14,333


বিজয়ের ৪০ বছর: বিদেশি সহযোদ্ধা

মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠ সৈনিক দেবদুলাল

অমর সাহা, কলকাতা | তারিখ: ০৫-১২-২০১১



  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • ShareThis




« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
  • দেবদুলাল
1 2




বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠ ছিল তাঁর। তিনি কণ্ঠসৈনিক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়। একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোয় মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম অনুপ্রেরণা-দাতাও তিনি। আজ তিনি নেই, কিন্তু এখনো বেঁচে আছে তাঁর কণ্ঠ। এখনো তাঁর কণ্ঠ শুনে অনুপ্রাণিত হয় বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম।
দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ৭৬ বছর বয়সে লোকান্তরে চলে গেছেন এ বছরের ২ জুন। রেখে গেছেন ছেলে দেবরাজ ও মেয়ে দেবারতী বন্দ্যোপাধ্যায়কে মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন অসুস্থতা নিয়ে কাটিয়েছেন কলকাতার সাদার্ন এভিনিউর নিজ বাসভবনে।
শেষ জীবনে বেশ কয়েকবার কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। বলেছিলেন, বাংলাদেশই ছিল তাঁর দ্বিতীয় স্বদেশ। ১৯৬৩ সাল থেকে আকাশবাণী রেডিও কেন্দ্রে চাকরি করেছেন তিনি। আর সেখান থেকেই অবসর নেন ১৯৯৪ সালে।
বারবার তিনি এ কথাও বলেছিলেন, তাঁর পেশাগত জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়টাই। ‘সেদিন আমি প্রাণভরে আমার যৌবন উজাড় করে দিয়েছিলাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য। এমন ঘটনা তো সবার ভাগ্যে ঘটে না। আমি সেই ঘটনার ভাগ্যবান ব্যক্তি, সাক্ষী। পেয়েছি কোটি বাঙালির ভালোবাসা।’
দেবদুলালের কথায়, ‘আকাশ-বাণীর খবর পড়তে গিয়ে নিজেকে মাঝেমধ্যে আর সংবরণ করতে পারিনি। ভাবিনি, আমি একজন খবর-পাঠক। মনে হয়েছিল, আমিও একজন মুক্তিযোদ্ধা। সেদিন আমার বুকের সব আবেগ আর উত্তেজনা ঢেলে দিয়েছিলাম আকাশবাণীর সংবাদ, সংবাদ পরিক্রমা বা সংবাদ সমীক্ষা পড়তে গিয়ে। রণাঙ্গনের খবর যখন পড়তাম, তখন নিজেকে মনে করতাম, আমিও সেই রণাঙ্গনের একজন সৈনিক। যখন মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের কথা পড়তাম, তখন আমার মনের সমস্ত উলস, উচ্ছ্বাস নেমে আসত কণ্ঠজুড়ে। যখন করুণ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা পড়তাম, তখন কান্নায় জড়িয়ে আসত গলা।’
দেবদুলাল বলেছিলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকটায় যেন নেশায় পেয়ে বসেছিল আমাকে। উত্তেজনা আর প্রবল আগ্রহে অপেক্ষা করতাম, কখন পড়ব বাংলাদেশের খবর। এই খবর পড়ার জন্য কখনো কখনো রাতে বাড়িও ফিরিনি। রাত কাটিয়েছি আকাশবাণী ভবনে। ভোরের খবর পড়তে হবে যে!’
এই কণ্ঠসৈনিক বলেছিলেন, ‘আমি বাংলাদেশকে খুব একটা জানতাম না। জেনেছি খবর পড়তে গিয়ে। আমার জন্ম পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে, ১৯৩৪ সালে। বড় হয়েছি কলকাতায়। আর এই খবর পড়তে গিয়ে ভালোবেসে ফেলেছি বাংলাদেশকে।’ শুধু কি তাই, ‘একাত্তর কেন, সেই ১৯৬৮-৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতেও পড়েছি বাংলাদেশের খবর। তখন কে জানত, এই অভ্যুত্থানের পথ বেয়ে বাংলাদেশ হবে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাঙালিদের রাষ্ট্র। পৃথিবীর বুকে বাঙালিদের জন্য তৈরি হবে একটি স্বাধীন আবাসভূমি।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ গোপনে, এমনকি জঙ্গলে গিয়েও শুনেছে আকাশবাণী বা বিবিসির খবর। শুনেছে দেবদুলালের কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছিল ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘পদ্মশ্রী’।

Prothom Alo
Reply With Quote