View Single Post
  #3802  
Old December 21, 2011, 04:42 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

তবুও ইতিবাচক দিকগুলো খোঁজার চেষ্টা

ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়করা একটু বেশিই আশাবাদির দলে। চরম খারাপ সিরিজ থেকেও তাদের চোখে ভালো ভালো দিকগুলো নজরে পড়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার পরেও ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বেড়ালেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুদের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে অধিনায়ক তুলে ধরলেন,‘আমার মনে হয় টেস্ট সিরিজ জুড়ে অসাধারণ কিছু ব্যক্তিগত পারফরমেন্স আছে। বিশেষ করে সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত একটা সিরিজ কেটেছে। সে দারুণ বল এবং ব্যাট করেছে। অভিষিক্ত নাজিমউদ্দিনের জন্য ভালো সিরিজ গেছে। সে প্রথম টেস্টে দারুণ ব্যাট করেছে। নাসির হোসেন ও শাহরিয়ার নাফীসের জন্য দ্বিতীয় টেস্টটা খুব ভালো গেছে। এরকম বেশ কিছু ভালো ব্যাপার আছে। আমাদের বোলাররাও তাদের কাজ ভালো করেছে। তবে আমার মনে হয়, আমরা নিজেদের সবচেয়ে বেশি ডুবিয়েছি ফিল্ডিংয়ে। বেশ কিছু ক্যাচ মিস হয়েছে। তাতে আমাদের আবার বিপদ বেড়েছে।’

সাকিব আল হাসান এবং নাসির হোসেন যেখানে বলেন দলের পরাজয়ে ব্যক্তি অর্জন মলিন সেখানে মুশফিকুর সতীর্থদের টুকরো টুকরো সাফল্যগুলোকে আত্মরক্ষার বর্ম হিসেবে দাঁড় কারাচ্ছেন,‘প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংস থেকে এই টেস্টের প্রথম ইনিংস পর্যন্ত একটা উন্নতির রেশ ছিলো। আরেকটা জিনিস যদি দেখেন, এই টেস্টে আমাদের ব্যাটসম্যানদের লম্বা সময় ধরে খেলতে পারার যে জিনিস, সেটা কিন্তু অনেকে পেরেছে। অনেক সময় দেখা যায় আমরা দ্রুত ৩০-৪০ করে আউট হয়ে যাই। কিন্তু এখানে প্রথম ইনিংসে আবীর (শাহরিয়ার নাফীস) ভাই, সাকিব, তারপর সেকেন্ড ইনিংসে আমি বা নাসির চেষ্টা করেছি অনেকক্ষন ধরে উইকেটে থাকার।’

দুই ইনিংস মিলে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৩৮ ও ২৩৪ রান। সেখানে পাকিস্তান এক ইনিংসেই তুলেছে ৪৭০ রান। যদিও পঞ্চম দিনের শেষ বেলায় গিয়ে টেস্টের ফল হয়েছে। তারপেছনেও শীতের কুয়াশার সাহায্য ছিলো। দেশের কন্ডিশনের সব সুবিধা নিয়েও শেষ টেস্টটা ড্র করতে পারলো না বাংলাদেশ। এনিয়ে অধিনায়ককে একটু আক্ষেপ করতে দেখা গেলো,‘গতকাল যখন ৫ উইকেটে পড়ে গেছে, মনে হচ্ছিল এটা (ড্র) আর সম্ভব না। নাসির আর আমি যখন আজ শুরু করলাম, তারপর লাঞ্চ পর্যন্ত খেললাম তখন মনে হচ্ছিল, আরেকটা সেশন যদি আমরা খেলতে পারি, তাহলে ভিন্ন বল গেম হত। তখন দেড়’শ বা এক’শ ৮০ রানের লিড হয়ে যেত। তখন তাদের জন্য কাজটা অবশ্যই কঠিন হয়ে যেতো। সেদিক থেকে অবশ্যই খারাপ লাগছে।’

-----------------------------------------------------------------------------

আফসোস হচ্ছে নাসির হোসেনেরও

ঢাকা: টেস্ট ক্রিকেটে নবীন ছেলেটিও জানেন দলের ব্যর্থতায় ব্যক্তিগত সব অর্জন মলিন হয়ে যায়। ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৯ রানের যে ইনিংসটি খেলেছেন নাসির হোসেন, তা নিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারছেন না। বরং আক্ষেপের সুর ছিলো তার কথায়,‘সেঞ্চুরির হলে যে আনন্দ হতো, তারচেয়ে বেশি ভালো লাগতো টেস্টটা ড্র করতে পারলে। সেঞ্চুরির লক্ষ্য ছিলো না, লক্ষ্য ছিলো চা বিরতি পর্যন্ত খেলা।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম তিন দিনে চরম নৈরাশ্যবাদী মানুষটির মনেও আশার আলো ছিলো, একটা কিছু হলেও হতে পারে। খেলার শেষদৃশ্যে এতটা নাটকীয়তা লুকিয়ে থাকবে স্বপ্নেও দেখেনি কেউ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলায় স্বপ্নযাত্রায় সামান্য চিড় ধরে। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম এবং নাসির হোসেন পঞ্চম দিন প্রথম সেশন পার করে দেওয়ায় মৃতপ্রায় সম্ভাবনা একচিলতে আলো হয়ে আসে। কিন্তু মুশফিকুর রহিম উইকেট ছুঁড়ে দেওয়ায় ভেস্তে যায় সকল আশা।

২৩৪ রানে অল-আউট হয়ে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় মাত্র ১০৩ রানের লক্ষ্যে। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ভাষায়,‘৫ উইকেট পড়ে গেলে মনে হচ্ছিল এটা (ড্র) আর সম্ভব না। নাসির আর আমি যখন আজ শুরু করলাম, তারপর লাঞ্চ পর্যন্ত খেললাম। তখন মনে হচ্ছিল, আরেকটা সেশন যদি আমরা খেলতে পারি তাহলে ভিন্ন বল গেম হত। তখন দেড়’শ বা এক’শ আশি রানের লিড হয়ে যেত। তখন তাদের জন্য কাজটা অবশ্যই কঠিন হয়ে যেতো। সেদিক থেকে অবশ্যই খারাপ লাগছে।’

ওয়ানডে সিরিজে ভালো খেলায় টেস্টে ব্যাটিংয়ে প্রমোশন দেওয়া হয় নাসিরকে। প্রথম ইনিংসে চার নম্বরে খেলতে নেমে আউট হয়ে গিয়েছিলেন ৭ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে একধাপ নিচে পঞ্চম স্থানে ব্যাট করতে নেমে দলের হাল ধরেন এবং ১৭২ বলে ১১ চারের মারে ৭৯ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক হওয়ায় অলরাউন্ডার নাসির প্রথম অর্ধশতক পাওয়ায় প্রতিক্রিয়ায় বলেন,‘পাকিস্তানের এই বোলিংয়ের বিপক্ষে ৭৯ করতে পেরেছি সেজন্য ভালো লাগছে। খেলাটা মোটেও সহজ ছিলো না। যখন ব্যাট করতে নামি তখন চিন্তা ছিলো যতটা সম্ভব লম্বা সময় ধরে ব্যাট করবো। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করার জন্য এটা সম্ভব হয়েছে। সব সময় এই পজিশনে ব্যাট করতে পারলে আমার জন্য ভালো হবে।’

উইকেটের সুবিধা নেওয়ার জন্য তিন পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ দল। টেস্ট বোলার সাহাদাত হোসেনের কাছ থেকে আশানুরূপ ফল না পাওয়া গেলেও নাজমুল হোসেন প্রশংসা কুড়িয়েছেন। নাজমুল এখন টেস্ট দলের নিয়মিত হওয়ার কথা ভাবছেন,‘আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে ভালো বল করতে পেরেছি। আপনারাও আমার পারফরমেন্স দেখেছেন। চেষ্টা অব্যাহত রাখবো, আশা করি আরেকটি টেস্ট খেলতে আমাকে সাত বছর অপেক্ষা করতে হবে না। তার আগেই সুযোগ দেওয়া হবে।’

রবিউল ইসলামকে হতভাগাই বলতে হবে। টেস্টের দুই ইনিংসে মাত্র ২৪ ওভার বল করার সুযোগ পেয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে যথেষ্ট সুযোগ না পাওয়ায় খানিকটা হতাশ দেখালো রবিউলকে,‘ওভাবে বোলিংয়ের সুযোগ হয়নি। টানা বোলিং করতে পারলে হয়তো নিজেকে দেখানোর সুযোগ থাকতো। এখানেই শেষ না, পরে আরও সুযোগ থাকবে সেখানে ভালো করবো।’

শাহরিয়ার নাফিস মনে করেন আম্পায়ারদের বাজে সিদ্ধান্তগুলো তাদের পক্ষে না গেলে ঢাকা টেস্ট ড্র হতো,‘ইনিংসের শুরুতেই আমাদেরকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও নাসির এবং মুশফিকের একটা ভালো জুটি হওয়াতে ২০০ রানের বেশি করতে পেরেছি। আফসোস একটা ঘণ্টা বেশি খেলতে পারলাম না।’

---------------------------------------------------------------------------------------

বাংলাদেশকে শৃঙ্খল ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত হতে হবে: মিসবাহ

ঢাকা: পাকিস্তান ক্রিকেট দলের একবছরের পারফরমেন্স দেখেন, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উন্নিত হওয়া, টানা ছয়টি ওয়ানডে সিরিজ জয় এবং পাঁচটি টেস্ট সিরিজের একটিতে ড্র হলেও বাকিগুলোতে সাফল্য পেয়েছে।

এমন একটি দলে অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা গর্বের। মিসবাহ উল হকও অহংকার করেন। দল সম্পর্কে বলছিলেন,‘২০১১ সালে যখন আমাদের দলের অভিযান শুরু হয় তখন তরুণ এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মিশেল দল ছিলো। খেলতে খেলতে এখন আমরা অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছি।’

টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডের পর টেস্ট সিরিজেও জয়ের ধারাবাহিকতা রাখার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা টেস্ট খেলতে নামে সফরকারী দল। কিন্তু প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ দলের ভালো ব্যাটিংয়ের পর একটা চিন্তার উঁকি দিচ্ছিলো। শেষপর্যন্ত তাদের পছন্দের ফলই হয়েছে শেষ টেস্টে। পাকিস্তান ক্রিকেট অধিনায়ক যেমন বলছিলেন,‘আমাদের মাথায় ছিলো আলো থাকতে থাকতেই খেলা শেষ করতে হবে। অন্তত ১০ থেকে ১৫ ওভার আগে জিতে নিতে হবে। সে ভাবে চাপ তৈরি করতে পারায় সফল হয়েছি।’

প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ দল সম্পর্কে মিসবাহ’র মন্তব্য হলো,‘টেস্ট ক্রিকেটের মূলমন্ত্রই হলো বল বা ব্যাটিং যাই করো তাতে শৃঙ্খলা থাকতে হবে। মাঝেমধ্যে তারা এমন শট খেলেছে যা মেনে নেওয়া যায় না। তাদেরকে শিখতে হবে ক্রিজে কিভাবে টিকে থেকে বড় জুটি গড়তে হয়। শেষ টেস্টে যা করতে পেরেছে। প্রথম ইনিংসে দুটি জুটি হওয়ায় ৩৩৮ রান করতে পেরেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে একটি জুটি হওয়ায় আমাদের ওপর চাপ তৈরি করতে পেরেছে।’
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote