View Single Post
  #3812  
Old December 22, 2011, 01:02 AM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

টুকরো টুকরো ছবি| তারিখ: ২২-১২-২০১১

সাকিব কীর্তি-১
ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডারদের উচ্চতায় নানাভাবে নিজেকে তুলে আনছেন সাকিব আল হাসান। ঢাকা টেস্টেও যেমন আনলেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৫০ রান ও ৭ উইকেট—ব্যাটিং-বোলিং দুটিতেই দুই দল মিলিয়ে সেরা সাকিব। দুই দল মিলিয়ে ব্যাটিং-বোলিং দুটিতেই সেরা হওয়ার কীর্তি এর আগে ছিল ইয়ান বোথাম, রিচার্ড হ্যাডলি, ডেনিস অ্যাটকিনসন, গ্যারি সোবার্স, মুশতাক মোহাম্মদের।

সাকিব কীর্তি-২
ব্যাটে-বলে দুই দল মিলিয়ে সেরা—ম্যান অব দ্য ম্যাচের লড়াইয়ে সাকিব ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এই নিয়ে টেস্টে চারবার ম্যাচসেরা হলেন সাকিব, ছাড়িয়ে গেলেন মোহাম্মদ আশরাফুলকে। ৫৭ টেস্টে ৩ বার ম্যাচসেরা আশরাফুল, সাকিব ৪ বার হলেন ২৬ টেস্টেই। একাধিকবার ম্যাচসেরা হতে পারেননি বাংলাদেশের আর কেউ। একবার করে হয়েছেন অলক কাপালি, ইলিয়াস সানি, এনামুল হক জুনিয়র, জাভেদ ওমর, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ রফিক ও তামিম ইকবাল।

সাকিব কীর্তি-৩
একই টেস্টে সেঞ্চুরি আর ৫ উইকেট নেওয়ার অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন আগের দিন। কাল ঢুকে গেলেন আরেকটি ছোট্ট তালিকায়। তবে এই তথ্যে শুধু কষ্টই বাড়বে সাকিবের। প্রায় ৫০ বছর পর সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট নেওয়ার পরও হারের যন্ত্রণা সইলেন কোনো ক্রিকেটার। সর্বশেষ এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল পলি উমরিগড়ের, ১৯৬২ সালের এপ্রিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এই তিক্ত স্বাদ পেয়েছেন আর কেবল দুজন। ১৮৯৯ সালে জিমি সিনক্লেয়ারের সৌজন্যে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেটের কীর্তি প্রথম দেখে টেস্ট ক্রিকেট, কিন্তু ওই ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল তাঁর দল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভীনু মানকড়ের এমন নৈপুণ্যের পরও ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল ভারত।

নাজমুল বিস্ময়
বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে সেরা টেস্ট গড় তাঁর (৫৭.৭৯), আইসিসির বর্তমান বর্ষসেরা ক্রিকেটারও তিনি। কিন্তু ২৩ টেস্ট খেলেও একটি স্বাদ এখনো পাওয়া হয়নি জোনাথন ট্রটের। সিড গ্রেগরি (৫৮ টেস্ট), বিজয় মাঞ্জরেকার (৫৫ টেস্ট), মাইক ব্রিয়ারলি (৩৯) সেই স্বাদ পাননি টেস্ট ক্যারিয়ারে একবারও। পাননি বাংলাদেশের হান্নান সরকার (১৭ টেস্ট), আমিনুল ইসলামও (১৩ টেস্ট)। ব্যাট হাতে সেটা দ্বিতীয় টেস্টেই পেয়ে গেলেন নাজমুল হোসেন। ধন্দে পড়ে যাচ্ছেন? কাল একটি ছয় মেরেছেন নাজমুল, যে স্বাদ পাননি অনেক বিখ্যাত নামও!

ইমরানের পাশে আজমল
৮ উইকেট পড়ে গেল, তখনো উইকেটশূন্য সাঈদ আজমল। মনে হচ্ছিল, এ বছর উইকেটের টেস্ট উইকেটের ফিফটি বুঝি আর হচ্ছেই না তাঁর। শেষ দুটি উইকেট নিয়ে শেষ পর্যন্ত ঠিকই পঞ্চাশ ছুঁলেন ‘দুসরা’ বোলার। পাকিস্তানের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে টেস্ট উইকেটের ফিফটি প্রথম করেছিলেন ইমরান খান, ১৯৮২ সালে (৯ টেস্টে ৬২ উইকেট)। পাকিস্তানের হয়ে এই কীর্তি আছে আর মাত্র দুজনের—১৯৯৩ সালে ওয়াকার ইউনুস (৭ টেস্টে ৫৫) ও ২০০২ সালে সাকলাইন মুশতাক (১১ টেস্টে ৫১)। আজমলের ৫০ হলো অষ্টম টেস্টে। এ বছর সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারিও হয়তো তিনিই থাকবেন, যদি না অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্টে ১০ উইকেট নিয়ে ফেলেন ইশান্ত শর্মা (৪১ উইকেট)।

রেহমানের হতাশা
আজমল শেষ দুটি উইকেট নেওয়ায় কপাল পুড়ল স্পিন জুটিতে তাঁর সঙ্গীর। আরেকবার সম্ভাবনা জাগিয়েও ৫ উইকেট পাওয়া হলো না আবদুর রেহমানের। এই নিয়ে পাঁচবার ইনিংসে ৪ উইকেট পেলেন। একবারও ৫ উইকেট না পেয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটির দিকেও এগিয়ে গেলেন আরেক ধাপ। ৩০ টেস্টে ৮৭ উইকেট নিয়ে যে রেকর্ডটি ইংল্যান্ডের মাইক হেনড্রিকের (সেরা ৪/২৮), ৩৬ টেস্টে ৭৮ উইকেট নিয়ে ঠিক পেছনেই মাশরাফি বিন মুর্তজা (সেরা ৪/৬০)। রেহমানের সান্ত্বনা হতে পারে একটাই, কালকের ৫১ রানে ৪ উইকেট তাঁর ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং।

স্ট্রাইক রেট ৬০০
প্রথম বলটি ব্লক, দ্বিতীয়টিতে লংঅফ সীমানা ছাড়িয়ে খেলা শেষ—২ বলে ৬ রান মিসবাহর, স্ট্রাইক রেট ৩০০! তবে জেনে রাখুন, এক বল খেলে সেটিতেই ছয় মারার কীর্তিও আছে একজনের। তাঁর নামটা অবশ্য বিস্ময় হয়ে আসবে না। ১৯৯৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কলম্বোর এসএসসিতে চতুর্থ ইনিংসে সনাৎ জয়াসুরিয়া যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ৬ রান। প্রথম বলেই ফিল টাফনেলকে ছয় মেরে জয় আনেন জয়াসুরিয়া, স্ট্রাইক রেট ছিল ৬০০! ৫০০ স্ট্রাইক রেটের একটা ইনিংসও আছে। ২০০৮ সালে ওই একই মাঠে এক বল খেলে ৫ রান (ওভারথ্রোর সৌজন্যে) করেছিলেন ইশান্ত শর্মা!
 আরিফুল ইসলাম
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote