View Single Post
  #31  
Old February 15, 2012, 01:28 AM
Murad's Avatar
Murad Murad is offline
Cricket Sage
 
Join Date: July 30, 2006
Favorite Player: MAM & MBM
Posts: 19,719

Quote:
Originally Posted by HereWeGo
Our journalists are crap!! The sad part is that there is no one to bring their crapness to the limelight..

Simon Dring would have committed suicide to see this kind of reporting from his once best students.

Wish we had a showman like Jon Stewart and Stephen colbert to get these journalist to act with some journalistic ethics....
গণমাধ্যম-নৈতিকতা
ছোট মেঘ, বড়দের ভুল

সিমু নাসের | তারিখ: ১৫-০২-২০১২

নিজ বাসায় সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হওয়ার পর এ নিয়ে সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশ করছে, প্রতিদিন মর্মান্তিক এই ঘটনার নানা বিবরণও বেরিয়ে আসছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্র র বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা পেরোলেও এখনো আমরা জানতে পারিনি, কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বোধ হয় আরেকটা বড় অপরাধ ঘটে চলেছে। শিশু মাহিরের (মেঘ) সঙ্গে আমরা সবাই মিলে যে আচরণ করছি, তা বড় ধরনের অপরাধই বটে।

ঘটনার দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমের সাংবাদিকেরা মাহিরকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে তোলেন। মাহিরের আত্মীয়স্বজন মাহিরকে এই বিপদ থেকে বাঁচাতে তাকে নানুবাড়ি পাঠিয়ে দেন। সাংবাদিকেরা খুঁজে খুঁজে সেখানেও চলে যান। সেখানে গিয়ে চেষ্টা করেন মাহিরের বিভিন্ন ভঙ্গির ছবি তোলার, তার মুখ দিয়ে একটা কথা বলানোর, যাতে সেটা তাঁদের রিপোর্টে ‘কোট’ হিসেবে বসিয়ে দেওয়া যায়। এতে রিপোর্টটা অনেক পোক্ত হয়। দর্শকদের এক্সক্লুসিভ কিছু দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই হয়তো সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা মাহিরের মুখ দিয়ে ঘটনা বের করার চেষ্টা করেছেন, ‘দুইটা চোর এসেছিল? তাদের হাতে পিস্তল আছে? তারপর তোমাকে ধমক দিছে, এই কথা বলবি না, এইটা বলছে?’ ‘বলছে গুলি করে মেরে ফেলবে।’ ‘দরজা খুলছে কে? নানুর সাথে কে আসছিল। নানু একা আসছিল? তুমি চোরগুলোকে কি আগে দেখেছ?’

বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতেও আমরা দেখেছি, মাহিরকে উদ্ধৃত করে খবর ছাপা হয়েছে। মাহির যদি একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ হতো, তাহলে কি এই ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে সেদিন সকালেই কোনো সাংবাদিক এভাবে তার সঙ্গে কথা বলতে পারতেন? না, পারতেন না। কিন্তু মাহিরের সঙ্গে কেন পারলেন? কারণ, মাহির একটা শিশু, সে এখনো সবকিছু বুঝে উঠতে পারেনি, সব বোঝে না। যে বোঝে না, তাকে বোঝানোর দায়িত্বটাই তো বড়দের। সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চয়ই মানুষ ‘বড়’ মানুষের আচরণ আশা করে। আমরা কি সে আচরণটা করছি?

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙার প্রধান প্রতিবেদক মামুনুর রহমান খান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘এ রকম ঘটনায় সংবাদকর্মীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে পড়েন এবং পেশাগত জায়গা থেকে সরে আসেন।’
এটিএন নিউজের বার্তাপ্রধান মুন্নী সাহা মাহিরের সাক্ষাৎকার বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আবেগটা অন্য ধরনের। বাবা-মা এভাবে মারা যাওয়ার পর তাঁদের সন্তানটি কেমন আছে, তা জানতে চান অনেকেই। আর তা দেখানোর মাধ্যমে কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে বলে আমি মনে করি না।’

কিন্তু ইউনিসেফ ও এমআরডিআইয়ের ‘নীতিনৈতিকতা মেনে শিশুদের জন্য সাংবাদিকতা’র প্রশিক্ষণ সহায়িকার ‘শিশুদের সাক্ষাৎকারবিষয়ক নির্দেশিকা’য় বলা আছে, ‘শিশুদের কোনো ক্ষতি করা যাবে না, সরাসরি ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না, এমন কোনো ভঙ্গি বা আচরণ প্রকাশ করা যাবে না, যাতে শিশুটির মনে হয় তার কাছ থেকে কোনো কিছু জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বা তাকে ছোট মানুষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যে ঘটনার ভেতর দিয়ে সে গিয়েছে, সেটা তাকে বারবার মনে করিয়েও দেওয়া যাবে না।’

আমরা মানে সাংবাদিকেরা মনে হয় মাহিরকে বারবার প্রশ্ন করার মাধ্যমে সেই ঘটনা এমনভাবেই মনে করিয়ে দিয়েছি যাতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা তাকে কোনো ছাড় দিইনি। হত্যাকাণ্ডের পর মাহির সাংবাদিকদের খোঁচাখুঁচিতে বলেছিল, সে আগেও খুনিদের পিকনিকে দেখেছে। এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে রোববার পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে মা-বাবার ফ্ল্যাটে যান। মাহিরকে দেখাতে বলেছে কী হয়েছে। মাহির করে দেখিয়েছে, খুনিরা চলে যাওয়ার পর সে কীভাবে দরজা বন্ধ করেছে, মায়ের ফোন থেকে নানিকে ফোন করেছে এবং নানি আসার পর দরজা খুলে দিয়েছে। অথচ শিশুদের সাক্ষাৎকারবিষয়ক ইউনিসেফের নির্দেশিকার তিন নম্বর পয়েন্টে আছে, ‘শিশু যে ঘটনার মধ্য দিয়ে গিয়েছে এবং সেখানে সে যে ভূমিকায় ছিল, সেটা আবার তাকে করিয়ে দেখানোর ব্যাপারে কোনো চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।’ কিন্তু আমরা মাহিরকে চাপে চাপে পিষ্ট করে ফেলেছি।

পশ্চিমা দেশেও এ রকম ঘটনা ঘটে। তখন প্রথমেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত যেকোনো শিশুর স্থান হয় ডাক্তারের কাছে। শিশুর মনের ওপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে যায়, তা থেকে তাকে স্বাভাবিক করে তুলতে তাকে মানসিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়। এ সময় গণমাধ্যমের কোনো কর্মী তো দূরের কথা, পুলিশও বেশ কিছুদিন তার কাছে ভিড়তে পারে না। তদন্তের স্বার্থে যদি পুলিশকে কথাই বলতে হয় ওই শিশুর সঙ্গে, তবে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিশুবিষয়ক কর্মীরা তার কাছে ঘটনা জানার চেষ্টা করে, যাতে শিশুটির মনের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি না হয়।

আমরা মাহিরের সঙ্গে যা করেছি তার ফলাফল হিসেবে কী ভয়ংকর ঘটনাই না ঘটেছে তার মনোজগতে। মাহিরের মামা নওশের আলম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, কিছুক্ষণ কথা বলার পরপরই সে মা-বাবার মৃত্যু প্রসঙ্গ তুলেছে। সে কিছু ছবি এঁকেছে, সেখানেও লাশ আর কবর এঁকেছে সে। গ্রামীণ দৃশ্যের মাঝে পড়ে রয়েছে একটা মানুষের বুকে-পেটে রক্ত। আর একটা ছবিতে গাছের পাশে উঁচু ঢিবি বানিয়ে কবর এঁকেছে সে। এর পরও আমরা ধরে নিচ্ছি, মাহির স্বাভাবিক আছে। তাকে নিয়ে বারবার যাচ্ছি সেই খুন হওয়া ঘর থেকে নানা জায়গায়। আমরা যেন পণ করছি মাহিরকে এ ঘটনা ভুলতেই দেব না। আপনি চিন্তা করুন তো একবার আপনার শিশুটির কথা, যে বসে বসে কবর আর রক্তাক্ত লাশের ছবি আঁকছে।

নিয়ম মানার পরিস্থিতিতে হয়তো বা আমরা সবাই নেই। বা সব নিয়মও হয়তো বা আমরা মানতে পারি না। কিন্তু শিশুদের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণও তো কোনো স্বাভাবিক কাজ নয়। মাহিরের মা-বাবার সহকর্মী সাংবাদিক, পুলিশ, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে মাহির যে আচরণ পেয়েছে এবং পাচ্ছে, তা তার ভবিষ্যৎ জীবনকে অস্বাভাবিক করে তুলতে পারে। আমরা কেন আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট করব? এই অধিকার আমাদের কে দিয়েছে?
সিমু নাসের: লেখক ও সাংবাদিক।
simunaser@gmail.com


http://www.prothom-alo.com/detail/da...15/news/224710
__________________
~*Islam is the only way to attain peace in life, be it personal, family or political.*~
Reply With Quote