View Single Post
  #1039  
Old July 3, 2012, 08:24 PM
Nocturnal's Avatar
Nocturnal Nocturnal is offline
Cricket Guru
T20 WC 2010 Fantasy Winner
 
Join Date: June 18, 2005
Location: Canada
Favorite Player: ABD / Kalam / Musta
Posts: 9,536



Prothom-alo.com

আবারও মুকুট আবাহনীর


আনন্দ-উল্লাস। এ আর নতুন কী!
পতাকা মিছিল। এমন তো কতই দেখা যায়!
কিন্তু কাল সন্ধ্যার বৃষ্টিস্নাত বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শেষ দৃশ্যটা অকল্পনীয়ই। অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকটার একপাশে হাজার তরুণের আনন্দ-নৃত্য। ঢোল বাজছে। আকাশি-নীল পতাকা নিয়ে কারও উন্মাতাল দৌড়। ‘মরা ফুটবল’ নিয়ে এখনো এত আবেগ! একটু আগে এটা ভাবাই যায়নি।
ম্যাচ শুরুর আধঘণ্টা আগেও গ্যালারিতে দর্শক হাতেগোনা। পরে এল আট-নয় হাজার। ম্যাচ শেষে এদের অর্ধেকেরও বেশি মাঠে ঢোকায় মনে হলো, এটা কোনো নেত্রীর জনসভা বুঝি! হাজারো হাতের করতালি, পুষ্পবৃষ্টি।
সবাই আবাহনীর সমর্থক। এক মৌসুম পর দেশের শীর্ষ ফুটবল লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার, পাঁচটি পেশাদার লিগের চারটিই ঘরে উঠল—এই উন্মাতাল সন্ধ্যায় আবাহনী-পরিবার প্রায় পাগলপারা।

মুক্তিযোদ্ধা দুবার এগিয়ে গিয়েও তীরে ভেড়াতে পারল না তরি। কাল লিগের শেষ ম্যাচে জীবন-মরণ যুদ্ধে জয়ই তাদের কাছে ছিল শেষ কথা। আবাহনীর প্রয়োজন ছিল ড্র। ২-২ স্কোরলাইনটা মুক্তিযোদ্ধার জন্য দুঃখের হতে পারে, কিন্তু উপভোগ্যতার বিচারে কাদামাঠেও এটি লিগের সেরা ম্যাচ। দুই কোচের মুখেও সেই স্বীকৃতি।
পেন্ডুলামের মতো শেষ দিকে ম্যাচ দুলল। একবার মনে হচ্ছিল মুক্তিযোদ্ধা চ্যাম্পিয়ন, পরক্ষণেই আবাহনী। স্নায়ুক্ষয়ী এমন ম্যাচ বাংলাদেশে কালেভদ্রে হয়। এবারই প্রথম মাঠে মঞ্চ সাজিয়ে লিগ জয়ের ট্রফি দেওয়া হলো জয়ী দলকে। মুক্তিযোদ্ধার কাছে দৃশ্যটা ছিল বুকে শেল বেঁধার মতো। তাদের কপালেই বুঝি শিরোপা নেই! বড় ম্যাচের চাপের কাছেই ভেঙে পড়ল দলটা।
গতবার লড়াইয়ে থেকেও মুক্তি শিরোপা জিততে পারেনি ১ পয়েন্টের জন্য। শেখ জামাল ছিনিয়ে নিয়েছে শিরোপা। যদিও পাতানো খেলার অভিযোগে জামালকে দিতে হয়েছে দণ্ড। এবারও মুক্তির দুঃখ ১ পয়েন্ট। ২০ ম্যাচে আবাহনী ৪৫, মুক্তিযোদ্ধা ৪৪।
এটা স্রেফ নিরেট তথ্য। কিন্তু লিগের ফিরতি পর্বে অসাধারণ ফুটবল খেলে শেষ যুদ্ধে একটা ভুল চালই কি সর্বনাশ করল মুক্তিযোদ্ধার?
২-১ যখন, কাজ শেষ ভেবেই কিনা দারুণ খেলতে থাকা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লিমাকে তুলে বেঞ্চের খেলোয়াড় সুইটকে নামান মুক্তির কোচ শফিকুল ইসলাম। এর পর আবাহনীর আক্রমণ বারবার ধাক্কা দিতে লাগল মুক্তির রক্ষণে। তাতেই ম্যাচ শেষ হওয়ার ৭ মিনিট আগে ‘খ্যাপাটে’ জাহিদের আলতো হেডে ২-২। মুক্তির গোটা রক্ষণ তখন এলোমেলো। ‘এ কী হলো’ বিস্ময়ে সবারই কোমরে হাত!
ট্র্যাজিক হিরো হয়ে রইলেন মুক্তিযোদ্ধার নাইজেরিয়ার স্ট্রাইকার সানডে। ১৬ মিনিটে তাঁর দারুণ ভলিতে ১-০। চাপ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার উচিত ছিল আরেকটা গোল করা। কিন্তু তারা সেটা করতে পারেনি। এক গোলের ভরসা কি? ৭০ মিনিটে জাহিদের ক্রসে এতক্ষণ অসাধারণ খেলা মুক্তির গোলরক্ষক মোস্তাক পিছলে পড়ে যান। বদলি হিসেবে নামা রনির টোকায় ১-১।
কিন্তু আবাহনীর সেই আনন্দ নিমেষেই উধাও। ৭৩ মিনিটে প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে রাফায়েলের ফ্রি-কিক, আবাহনীর তোলা দেয়ালের ওপর দিয়ে দ্বিতীয় পোস্ট ঘেঁষে জালে যাওয়ার আগে সানডের ছোঁয়া। গোল খেয়ে বিস্মিত আবাহনী, মুক্তিযোদ্ধা আবার আশান্বিত। কিন্তু জাহিদের গোলেই ভেঙে চুরমার মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন।
এটি ছিল আবাহনীর এক দুঃসাহসী অভিযান। প্রথম তিনটি শিরোপা জয় ছিল অনেকটাই সহজ, গতবার চতুর্থ। এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই উজানযাত্রায় কাল ‘ফাইনালে’ একটা জুয়াই খেললেন কোচ আলী আকবর। আক্রমণ ভাগে ব্রাজিলিয়ান সিলভাকে বসিয়ে মাঝমাঠে শক্তি বাড়াতে নামালেন নাইজেরিয়ান কেস্টারকে। প্রথমার্ধটা আবাহনী মাঝমাঠে উজ্জ্বল ছিল না।
‘হিট এন্ড রান’ ফুটবলের অনুসারী আলী আকবরের দল ঘুরে দাঁড়াল দ্বিতীয়ার্ধে। চেপে ধরল মুক্তিযোদ্ধাকে। স্টিয়ারিংটা যথারীতি ঘানাইয়ান প্লে-মেকার ইব্রাহিমের হাতেই। সঙ্গী হিসেবে পেলেন ফ্রাঙ্ক-জাহিদকে, আবাহনী-ট্রেনও এক মৌসুম পর পৌঁছে গেল কাঙ্ক্ষিত স্টেশনে!
আবাহনী: জিয়া, সুজন, সামাদ, ওয়ালী, লিংকন, প্রাণতোষ, তৌহিদুল (রনি), ইয়োকো, ফ্রাঙ্ক, জাহিদ (মামুন মিয়া), ইব্রাহিম।
মুক্তিযোদ্ধা: মোস্তাক, ড্যামি, রাফায়েল, আরিফুল (সৈকত), মামুনুল, শাকিল, মারুফ (মিঠুন), লিমা (সুইট), নাসির, সানডে, এমিলি।
__________________
Armchair selectors name their XI and conduct heated selection meetings on internet. Blood young players, some experts cry. Pick the best players, regardless of age, insist others.
Reply With Quote