ঢাকার ফুটবল মাঠে দলগুলোর নিরাপত্তা নেই, এটা বহুদিনের অভিযোগ। কিন্তু এটা নিয়ে কোনো ব্যবস্থাও নেই। কাল ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে শেখ রাসেলের কাছে হেরে লাঞ্ছিত হয়েছেন মোহামেডান কোচ সাইফুল বারী (টিটু)। উন্মত্ত সাদা-কালো সমর্থকদের এমন নিন্দনীয় আচরণে হতভম্ব এই কোচ ভবিষ্যতে কোচিং করাবেন কি না, সেটিই ভাবছেন!
ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সামনেই আপনাকে মোহামেডান সমর্থকেরা মারল। ভাবতে পেরেছিলেন এমন অবস্থায় পড়বেন?
সাইফুল বারী (টিটু): ভাবতে পারিনি। এ দেশে দল হারলে সমর্থকেরা হইচই করেই। এটা নতুন নয়। কিন্তু এভাবে মাঠে ঢুকে কোচকে শারীরিকভাবে আঘাত করবে, আমি বুঝতেই পারিনি।
কী অবস্থা আপনার শরীরের?
সাইফুল: ভিড়ের মধ্যে কী যে হলো বুঝতেই পারলাম না। শারীরিকভাবে আমাকে আঘাত করা হয়েছে, শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম। মাথাটা ফুলে গেছে। কারও একজনের আঘাতে এ অবস্থা। কী দিয়ে আঘাত করেছে, তখন অতটা খেয়াল করতে পারিনি।
তা হলে কোচদেরও এখন আর মাঠে নিরাপত্তা নেই। এটা তো ভয়ংকর অবস্থা...এ অবস্থা কি চলতে পারে?
সাইফুল: এটা আর চলতে পারে না। আমাদের এখানে ম্যাচের পরপরই ফ্লাডলাইট বন্ধ হয়ে যায়। কে মাঠে ঢুকছে, কে কাকে মারছে, কারও কোনো খবর নেই। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কোচিং করাব কি না ভাবতে হবে আমাকে। এরই মধ্যে আমার বাসা থেকে কয়েকবার ফোন করেছে, বাসার সবাই উদ্বিগ্ন। আর আমি কোচিং করাতে চাইলেও বাসা থেকে দেবে কি না, জানি না।
এ অবস্থার জন্য দায় কার?
সাইফুল: দায় আমাদের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার। সমর্থকেরা গোলমাল করতে চাইবেই, এটা খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই দেখে আসছি। কিন্তু এভাবে মাঠে ঢুকে কোচকে মারবে, এটা আগে ছিল না। এখন কোচ-খেলোয়াড়সহ সবাইকে নিরাপত্তা দিতে হবে। বিদেশে নিরাপত্তা দেয় পুলিশ। আমাদের এখানে পুলিশ থাকার পরও লোকজন কীভাবে মাঠে ঢোকে আমার বোধগম্য নয়।
http://www.prothom-alo.com/detail/da...20/news/299534