View Single Post
  #1  
Old March 7, 2007, 12:28 PM
irteja's Avatar
irteja irteja is offline
Test Cricketer
 
Join Date: February 11, 2006
Location: http://twitter.com/irteja
Favorite Player: Sakib, Tamim, Tendulkar
Posts: 1,869
BDFlag বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ৭ জন ব্যাটসম্যানের কথা

দেখতে দেখতে পাঁচটি বছর চলে গেল। আর মাএ এক সপ্তাহ পরে বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে। সবাই উত্তেজিত , আনন্দিত, শিহরিত। বিশ্বকাপে ১৬টি দল থাকলেও আমাদের কাছে একটাই দল আছে। সেটা হল বাংলাদেশ। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন বাংলাদেশ কেমন খেলবে?


বছর দুয়েক আগেও সবাই মনে করত বাংলাদেশ বিশ্বকাপের সুপার ৮য়ে উঠতে পারবে না। কিন্তু দুই বছরে বুরিগঙ্গার অনেক জল গরিয়েছে, অনেক ফুল ফুটেছে, কিন্তু এখন আবস্থানের বিরাট পরিবতন হয়েছে।এখন আমাদের বাঘরা যেকোন দিন যেকোন স্থানে, যেকোন দলকে হারাতে পারে। তাই আমি বাংলাদেশের ৭ জন দামাল ছেলে সম্পরকে আমার একান্ত মন্তব্য এখানে করছি।


শাহরিয়ার নাফিজঃ
বাংলাদেশের বা হাতি ব্যাটসম্যানদের যে নব যুগের সুচনা হয়েছে তার দুত। খুবিই জনপ্রিয় খেলোয়ার ।বাংলাদেশের ইনিংস সুচনা কে করবে এই নিয়ে চিরন্তন প্রস্নের উওর। খুব অল্প সময়ে অনেক সাফল্য লাভ করেছে। দুই দিন আগেও সর্বচ্চ ব্যাক্তিগত রান ১২৩ টি তার নামের পাশে ছিল। বাংলাদেশের প্লেয়ার অফ দা ইয়ার পুরষ্কারটা গত বছর তার অধিকারে। মাএ ২৯টা খেলা খেলে এক হাজারি ক্লাবের মেম্বার। তার নামের পাশে শত রান ৪ টি। কিন্তু ৪টি শতকের তিনটি জিম্বাবুয়ে সাথে, একটি বারমুডার সাথে। বড় দলের সাথে তার নেটওয়েস্ট সিরিজে অস্ত্রেলিয়ার সাথে ৭৫ রানের কথা অনেকের মনে আছে। তবে আমার দেখা নাফিজের সেরা খেলাটা ছিল বাংলাদেশের মাটিতে অস্ত্রেলিয়ার সাথে ১ম টেস্টের প্রথম দিনটি। সেদিনের নাফিজের শেন ওয়ানের আর বাকি বোলারদের বিরুধে তার ১০০ রানটি আমাদের সব সময় মনে থাকবে। ওটা আমার দেখা বাংলাদেশের সব থেকে ভাল ইনিংস।


জাভেদ ওমর বেলিমঃ
আমাদের অভিজ্ঞ ওপেনিং খেলোয়ার। তার মত এত সুযোগ আর কোন খেলোয়ার পেয়েছে কিনা সন্দেহ। এক দিনের খেলায় তার কচ্ছপ গতির খেলা নিয়ে অনেকেই অনেক সমালোচনা করেন। তার ডাক নাম গোল্লা হবার কারনে উনি খালি গোল্লা মারেন এই যুক্তিতে অনেক কষ্টে নাম গোল্লা থেকে গুল্লু করেছেন তাতেও তেমন লাভ হয়নি। এতদিন ধরে খেলেন তারপরও তার ব্যাটিং গড় মাএ ২৩। ৫৩টি খেলা খেলে ৬০য়ের উপর রান করতে পেরেছেন মাত্র ৪ বার। তাও ২ বার করেছেন হংকং আর জিম্বাবুয়ের সাথে। কিন্তু পরিশ্রমি ফিল্ডার হিসেবে তার সুনাম আছে। দলকে অনুপ্রেয়না দিতে পারে। আমি শুনেছি জাভেদের নাকি অনেক বন্ধু। চাঁদের দেশে গেলেও তার দুই তিনটা বন্ধু পাওয়া যেতে পারে। খবরের কাগজে পরলাম তার এক বন্ধু হুমায়ন ফরিদি নাকি তাকে বলেছে জাভেদ যতবার হাফ সেঞ্চুরি করবে ফারিদি তাকে ততবার একটা কইরা সার্ট উপহার দিবেন। কিন্তু জাভেদ ভাইরে কপালে জামা ত দুরের কথা মোতালেব জেঙ্গাও কপালে আসে কিনা সন্দেহ, পানির বোতল নিয়া মাঠে ছুটে চলা ছাড়া তার আর কোন ছবি আমার চোখে ভাষে না।


তামিম ইকবালঃ
আমি চট্টগ্রামে থাকার কারনে তার প্রতিভার খবর অনেক আগেই পেয়ে গেছিলাম।ওকে আমি প্রথম দেখি চট্টগ্রামের কাজির দউরির একটা খাবার হোটেলে মদিনা তে। আকরাম খানের পারিবারিক দোকান ছিল ওটা। আমাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হল তামিমের সাথে। ইকবাল ভাইয়ের ছেলে আর আকরাম ভাইয়ের ভাতিজা হিসাবে।আমার বন্ধুদের থেকে জানতে পারলাম এই ছোট্ট ছেলেটা খুব ভাল খেলে। বা হাতে খেলে অনেক এটাকিং। তামিম নাকি জন্মের পরে হাটার আগে ব্যাটিং করা শিখে ফেলছে। তার থেকে বড় সাইজের একটা ব্যাট নিয়ে তানিম নাকি বারান্দায় ছুটে চলে। মনে হই রানিং বিটউয়িন উইকেট অনুশিলন করে।কে জানি বলছিল আগুন যেমন চাপা থাকে না তেমন টেলেন্টও কোন দিন চাপা থাকে না। সেদিন থেকে আমি অপেক্ষা করছি কবে তামিম বড় হবে , বাংলাদেশের হয়ে খেলবে। কিন্তু ওর আগমন তা হল একদন বিশ্বকাপের আগে। আমরা মনে করেছিলাম মেহরাব জুনিয়র নাফিজের সাথে বিশ্বকাপে খেলবে। তামিমের শুরুটা খুব একটা ভাল হই নি। ৪ টি খেলায় ৫৩ রান একম কিছুনা। কিন্তু তাকে আরও অনেক সুযোগ দিতে হবে। আমরা সবাই আশা কবি ভারতের বা শ্রিলাঙ্কা এর সাথে তানিমের ব্যাটে আগুন ঝরুক।:


আফতাব আহামেদঃ
আমাদের চট্রগ্রাম থেকে আরেকজন খেলোয়ার। আমি আফতাবকে প্রথম দেখি নাসিরাবাদ স্কুলের নেটে। তখনি ওর অনেক নাম ডাক শুনি। এই ছেলেটা খুব নাকি ভাল খেলে, খুবি মারকুটে। ছক্কা মারতে খুব পটু। আফতাব যখন মাঠে খেলে তখন ভয়ে কেউ নাকি মাঠের আস পাশ দিয়ে হাটাহাটি করে না। বলা যায় না কখন আফতাবের ছক্কার বল মাথায় পরে। আফতাবের ছক্কার চোটে নাসিরাবাদ বিল্ডিং দেয়ালে দেয়ালে ফাটল ধরে গেল। এখন সেই আফতাব খেলে ওয়ান ডাউনে। আমার মতে দলের সেরা খেলোয়ার খেলে ৩ নাম্বারে। এখন আফতাবের ফর্ম আমি নিশ্চিত কেও বেপারটাতে আপত্তি করবে না। সম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেসের প্রতিটা জয়ে আফতাবের ভুমিকা আছে। বলেও আফতাব অনেক কার্যকারি। তার সেরা বোলিং ফিগারটা দেখুন ৫-৩১। ভারতের সাথে সেই ৬৭ রানের ম্যাচ জয়ি ব্যাটিং থেকে সুরু। অস্ট্রেলিয়ার সাথে সফিয়া গার্ডেনে নেটওয়েস্ট ট্রফিতে সেই শেষ ওভারে গিলেস্পিকে মারা বিসাল ছক্কাটাত এখন বাংলাদেশের চ্রিকেট ইতিহাসের সাক্ষি। T-A-K-E T-H-A-T AUSTRALIA। এবারের বিশ্বকাপে সুপার ৮তে উঠতে হলে আফতাবের ব্যাটিং রান পেতেই হবে।


সাকিবুল হাসানঃ
অস্ট্রেলিয়ার আছে মাইকেল হাসি, ভারতে আছে রাহুল দ্রাভির, আমাদের বাংলাদেশে আছে সাকিবুল হাসান। আমাদের একটা বড় অভিযোগ ছিল বাংলাদেশের কোন ব্যাটসম্যান ধারাবাহিক না। একটা খেলায় রান করলে পরের তিনটা খেলায় তারা রান করে না। সাকিব আসার পর এই অপবাদটা দূর হল।তার ব্যাটে রয়েছে আসাধারন ধারাবাহিকতা। অনূর্ধ ১৯ দলে তার খেলা দেখেই সবাই আসার আলো দেখতে পেল। নাফিজ, মেহরাব, তানিম, নাজমুস সাদাতের পরে সাকিবুল হাসান। বাম হাতি খেলোয়ারদের যেন বিপ্লব সুরু হয়েছে আমাদের টিমে।বাংলাদেশের হয়ে এক দিনের খেলায় ব্যাক্তিগত সর্বচ্চ রান ১৩৪ অপরাজিত তার মুকুটে। তার ব্যাটিং গর ৫৫ উপরে। ওর ব্যাটিং গড় সর্বকালের এক দিনের খেলার তালিকাতে তিন নাম্বারে। দলের প্রয়োজনে চীনের প্রাচিরের মত উইকেট আগলে রাখে, একজন মেধাবি অলরাউন্ডার, ভাল ফিল্ডিং করে।


হাবিবুল বাশারঃ
বাংলাদেশের সবথেকে অভিজ্ঞ খেলোয়ার। হইত এতাই তার শেষ বিশ্বকাপ।বয়স তিরিশের কোঠায়। এই দুই দিন আগে তার ১০০তম এক দিনের খেলাতে বাংলাদেশের প্রথম খেলোয়ার হিসাবে ২০০০ ক্লাবের সদস্য হলেন। অনেকে বলেন মিস্টার হাফ সেঞ্চুরি। বাশার ১৪ বার পঞ্চাশের ঘর পার করলেও একবারও ১০০ রান করতে পারে নি।সুমন বাংলাদেশ টেস্ট দলের ৪র্থ অধিনায়ন। তার দল পরিচালনা নিয়ে অনেকে আলোচনা, সমালচনা করেন।কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ি অধিনায়ক হিসাবে তার নাম তা সব সময় নিতে হবে। তবে চাপের মুখে ভাল খেলতে পারেন। এক দিনের খেলা থেকে টেস্টে তার ব্যাটিং বেশি সফল। এক দিনের খেলায় জিম্বাবুয়ে ছারা অন্য বড় দলের বিরুধে তার ৬০ ইয়ের উপর রান খালি একবার ৭০ রান অস্ট্রেলিয়ার সাথে ফতুল্লাতে, তবে অস্ট্রেলিয়ার সাথে সফিয়া গার্ডেনে নেটওয়েস্ট ট্রফিতে আশরাফুলকে ভাল সহায়তা দিয়েছেন। ১০০তম খেলার পর তার ব্যাক্তিগত গর মাত্র ২২ ।

মহাম্মদ আশরাফুলঃ
বাংলাদেশের খেলা প্রেমি বা ক্রিকেট পাগলদের সারা বছরের আলোচনার টপিক হল আশরাফুল। সে না থাকলে আমদের ক্রিকেটাই বিরক্তিকর হয়ে যেত। তারে নিয়া চিন্তায় চিন্তায় অনেকের মাথার চুল পাইকা গেছে। সাংবাদিকরা লিখতে লিখতে কলমের কালি শেষ কইরা ফেলাইছে। সবার একটায় কথা আশরাফুলের ব্যাটে রান নাই কেন? তারে কি দলে রাখা উচিত না বাদ দেয়া উচিত। এক সময় মেহরাব অপি, পরে কিছুদিন অলক কাপালি, এখন নাকি আশরাফুল অনেক মেয়ের রাতের ঘুম কারে। কিছুদিন আগে মডেল মোনালিসার সাথে আমাদের আশের বিসাল হাসি মাখা ছবি দেখলাম।বাহ। তবে তার অনেক অজানা গুন জানতে পারলাম । আমাগ আশরাফুল নাকি টিমের জোকার। সবার সাথে উনি ঠাট্টা তামাশা কইরা সবাইরে খুশি রাখে। এটা একটা খুবি ইম্পরটেন্ট আর জরুরি বিষয় । খেলার আগে সবাইরে হাসাইলে সবার মন ভাল থাকে, খেলার মানষিক চাপ কমে। সুতরাং রান না পেলেও তার এই জোকারি প্রতিভার কারনেও তারে দলে রাখা যায়। আর উনি মাঝে মাঝে রাতে শপ্নে দেখেন সব বোলারদের পিটাইয়া পিটাইয়া পোতাইয়া ফেলাচ্ছেন। একবার তার পোতানি খাইছে অস্ট্রেলিয়া সফিয়া গার্ডেনে নেটওয়েস্ট ট্রফিতে। সেই খেলায় আশরাফুল ১০১ বলে ১০০ রান কইরা ছিল জয়ের নায়ক। এর পরে আসল ইংল্যাণ্ড । বেচারা ইংল্যাণ্ডও নটিংহামে আশরাফুলের ঝরে উড়ে জেতে বসেছিল। ৫২ বলে ৯৪ রান। সেদিন আশরাফুলের চারের পর চার, ছক্কার পর ছক্কা দেখে ইংল্যাণ্ড বোলারা মাঠের মধ্যেই কান্না কাটি শুরু কইরা দিল। কিন্ত সেই আশড়াফুল কই যেন হারিয়ে গেল। ৮৮ তা ম্যাচ খেলার পরও তার ম্যাচ গড় মাএ ২১শের আসে পাশে। পরে কে একজন জানাল বছরে যেমন ঈদ আসে দুইদিন তেমন আশরাফুলের ব্যাটে রানও আসে বছরে দুই দিন। আমরা আশা করি আশরাফুলের ঈদ ফিরে আসুক ১৭ তারিখ ভারতের সাথে বিশ্বকাপের খেলায়।
__________________
Fire Lotta Kamal

Last edited by irteja; March 8, 2007 at 11:36 PM..
Reply With Quote