View Single Post
  #33  
Old April 16, 2019, 05:48 PM
Rinan Rinan is offline
ODI Cricketer
 
Join Date: November 2, 2013
Posts: 589

Copied From FB:
জাতিগতভাবে, আনন্দের গল্পের চেয়ে বিষাদকাব্য বুঝি আমাদের বেশি টানে। 'হো হো' করে হাসার চেয়ে 'আহা উহু' করতে আমরা বেশি উপভোগ করি। ‘বঞ্চনা’, উপেক্ষা’, ‘অবিচার’ এসব শব্দের প্রতি আমাদের টান প্রবল। যে কোনো কিছুতেই। ক্রিকেটে মনে হয় সবচেয়ে বেশি।

আমরা সংবাদকর্মীরা এখানে আরও এগিয়ে। আমরা আবেগ উসকে দেই। বঞ্চনার গল্প বেঁচে খাই। অভিনন্দন বা প্রাপ্তির গল্পের চেয়ে উপেক্ষার গল্প আগে লিখি। আমাদের ক্রিকেট বোধের ৯০ ভাগই আবেগ, কাজেই পাবলিক এসবই খায়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বকাপ দলে তাসকিনকে রাখতাম। কিন্তু তার পরও, আমার মতে, এবারের বিশ্বকাপের দল স্মরণকালে আমাদের সবচেয়ে কম বিতর্কের দল...

একটা কথা সবার জানা এবং বোঝা উচিত, ১৫ জনের দলের ১৪ জন বেশ আগেই ঠিক হয়ে আছে। তাসকিন ফিট ছিল না বলেই আরেকজন ঠিক ছিল না। তাসকিনের জন্যই অপেক্ষা ছিল। তার ফিটনেস প্রমাণের সুযোগ ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আপাতত বেচারার কপাল খারাপ।

আবার বলছি, আমি হলে তাসকিনকে রাখতাম। কারণটা সিম্পল, বিশ্বকাপ এখনও দেড় মাস দূরে। ২৩ মে পর্যন্ত দল পরিবর্তনের সুযোগ আছে। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ আছে। তাসকিন যদি ফিট হয়ে উঠতে না পারত, তাহলে বদলের সুযোগ থাকতই।

তবে নির্বাচক, টিম ম্যানেজমেন্টেরও ভাবনা আছে। তারা এসব বোঝেন না, তা তো নয়। চোট কাটিয়ে ফেরার পর তাসকিন ঢাকা লিগে যে ম্যাচটি খেলেছেন, সেটিতে ফিটনেসের প্রমাণ খুব বেশি দিতে পারেননি। তার কপাল খারাপ, গতকালকের ম্যাচে রূপগঞ্জ তাকে মাঠে নামায়নি (তাদের দিক থেকে ঠিক আছে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে থাকা দল কেন ঝুঁকি নেবে!)। এই কদিনে আরেকটু ফিট হয়ে ওঠা তাসকিন তাই দ্বিতীয় সুযোগ পাননি। হাবিবুল বাশার বলেছেন, 'এই মূহূর্তে ফিট ক্রিকেটারদেরই আমরা বিবেচনা করেছি।' নির্বাচকেরা ফিজিওর রিপোর্ট নিয়েছেন। তাই অবস্থা বুঝতে পারছেন।

যে কোনো দল নির্বাচন নিয়েই বিতর্ক হয়, প্রশ্ন ওঠে। সবার মন জয় করা নির্বাচকদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাদের কাজও সেটি নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখতে চাই, তারা যাদের নির্বাচন করেছেন, সেটির পেছনে যুক্তি কতটা স্বচ্ছ ও শক্ত। তারা যদি নিজেদের যুক্তিতে পরিস্কার থাকেন, পরিকল্পনাটা বোঝাতে পারেন, আমি একমত না হলেও আমার আপত্তি থাকে না। এবারও যেমন এই একটি জায়গায় একমত না হলেও আপত্তি নেই। কারণ, নির্বাচকেরা আবু জায়েদ রাহিকে নেওয়ার যুক্তিটি খুব ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পেরেছেন।

রাহি স্কিলফুল বোলার। সম্ভবত এই মূহুর্তে দেশের একমাত্র সহজাত সুইং বোলার, যিনি দুই দিকে সুইং করাতে পারেন। এবং সেটা এমনিই হয়ে যায় না, তিনি নিজে করাতে পারেন। প্রক্রিয়াটা জানেন। আমার প্রশ্ন ছিল, ইংল্যান্ডে এখন যে ধরণের ব্যাটিং উইকেটে খেলা হয়, সেখানে রাহি সুইং করানোর সুযোগ কতটা পাবেন।

নির্বাচকদের ব্যখ্যা, রাহি সব ম্যাচের জন্য নয়। ইংল্যান্ডে আবহাওয়া খুব দ্রুত বদলে যায়। কোনোদিন যদি ওভারকাস্ট কন্ডিশন থাকে, বৃষ্টি হয় বা কোনোভাবে উইকেটে সহায়তা থাকে, নতুন বলের ব্যবহার রাহির চেয়ে ভালো বাংলাদেশে আর কেউ করতে পারার কথা নয়।

এই যুক্তি আমার মনে ধরেছে। তাসকিনকে তারা ফিটনেস বিবেচনায় রাখেননি। তার পর, রাহি অন্যদের চেয়ে ভালো বিকল্প।

তাসকিনের খারাপ লাগা স্বাভাবিক। তাসকিনের জন্য অনেকের খারাপ লাগা স্বাভাবিক। তার কান্না করা উচিত হয়েছে নাকি হয়নি, এটা নিয়েও অনেক আলোচনা দেখছি। পেশাদারদের অবশ্যই এভাবে আবেগের কাছে হার মানা উচিত নয়। তবে অনেক সময় হয়ে যায়। মাত্র তখনই জানতে পেরেছেন যে বিশ্বকাপে যেতে পারছেন না, সবাই ঘিরে ধরেছে, কথা বলতে গেলে গলা ধরে আসেই। নিজেকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। অবশ্যই শক্ত থাকা উচিত। কিন্তু মানুষ তো! তার জায়গায় নিজেকে কল্পনা করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন।

তবে ভেঙে পড়ার সুযোগ নেই। প্রাথমিক ধাক্কা কেটে গেলে তিনি নিজেই সেটি বুঝতে পারবেন। তার চোখের জল ঝরেছে, ফিটনেস বিবেচনায় বাদ পড়েছেন এবং দল ঘোষণার পর একাডেমিতে ছিলেন, সবই ২০১১ সালের মাশরাফির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। তাই তুলনা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তবে মনে রাখা উচিত, মাশরাফি ততদিনে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তখনও কাগজে-কলমে ছিলেন মূল অধিনায়ক। ছিলেন দেশের সেরা পেসার। এবং বিশ্বকাপ ছিল দেশের মাটিতে। আবেগ নিয়ে যদিও তুলনা চলে না, তবু এই তাসকিনের পরিস্থিতি ওই মাশরাফির মতো হতাশার নয়। মাশরাফি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, দেশের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। তাসকিনের ঘুরে না দাঁড়ানোর কারণ নেই। দেশের ক্রিকেটকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে, তার নিজের অনেক কিছু পাওয়ার আছে।

সময় কখনও দেয়, কখনও কেড়ে নেয়। তাসকিনের প্রাপ্তির দিনও আসবে। শুধু এই দু:সময়ের সঙ্গে লড়াই করতে হবে বুক চিতিয়ে।

মোসাদ্দেককে নিয়ে দলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জিল্যান্ডের মতো দলগুলির বিপক্ষে, মিরাজ ও মোসাদ্দেকের বোলিংয়ে পার্থক্য খুব বেশি থাকবে না। ৮ ওভারে ৪০, বা ১০ ওভারে ৪৫-৫০ রান দিয়ে একটি-দুটি উইকেট যদি নিতে পারেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ে মোসাদ্দেক বেশ এগিয়ে। এই দুই দলের বিপক্ষে যদি চার পেসার না খেলানো হয়, মিরাজের আগে হয়তো মোসাদ্দেককে বিবেচনা করা হবে। ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে আবার হয়তো মিরাজের স্পিন এগিয়ে থাকবে মোসাদ্দেকের চেয়ে।

আমরা ভাবি গড়পড়তা। দল ভাবে ম্যাচ বাই ম্যাচ। সুনির্দিষ্ট। টার্গেট করে ভাবে। ২০১৫ বিশ্বকাপে দল অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে পারবে না, ধরে নিয়েছিল। টার্গেট ছিল শ্রীলঙ্কা। ওদের অনেক বাঁহাতি বলে শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের বিবেচনায় আল আমিনকে নেওয়া হয়েছিল (যদিও সেটা কাজে লাগেনি, তবে পরিকল্পনা ছিল)। তেমনি এবার, সেমিতে খেলতে হলে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ডের মধ্যে অন্তত একটি দলকে হারাতেই হবে আমাদের। দল সেভাবেই পরিকল্পনা করছে। ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মোসাদ্দেকের স্পেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

সেমিফাইনালের কথা বলছিলাম, যেটি আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। আর স্বপ্ন হলো শিরোপা জয়। পরিস্কার। স্বপ্নটা বড় বলেই বিশ্বকাপ দলে লিটন ও সৌম্য। তামিমের সঙ্গে শুরুতে একজন খেলবেন। তিনি ব্যর্থ হলে পরে অন্যজনের সুযোগ হবে।

চাইলে নিরাপদ পথে হাঁটা যেত। বাইরে থাকা যাদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তাদের নেওয়া ছিল নিরাপদ পথ। তবে তারা ভালো খেললেও সেই ভালোতে দলের কতটা ভালো, সেটা নিয়ে সংশয় আছে দলের। কিন্তু সৌম্য বা লিটন নিজেদের দিনে যে কোনো বোলিং আক্রমণ গুঁড়িয়ে দিতে পারেন।

হ্যাঁ, তারা ধারাবাহিক নন। হতে পারেননি। বিশ্বকাপেও সব ম্যাচে ব্যর্থ হতে পারেন। তবু বাজীটা ধরতে হয়েছে দলকে। কারণ বড় দলকে হারাতে হলে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। নিরাপদ পথে হেঁটে হবে না।

দলকে ভাবতে হয় কম্বিনেশনের কথা। দলে সবার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা থাকে। কেউ একজন হয়তো সেঞ্চুরি করলো, জনতা খুশি। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্ট অখুশি, কারণ তার যে ভূমিকা ছিল, সেই ভূমিকায় সে খেলতে পারেনি!

তামিমের ভূমিকা এখন দলকে টেনে নেওয়া। অন্তত ৪০ ওভার। তামিমের হাতে দুনিয়ার সব শট আছে। চাইলে আগ্রাসী খেলতে পারেন না? ১০ বছর আগে যখন অফ সাইডে ছাড়া তার আর শট ছিল না, তখনই তো আগ্রাসী খেলতেন। এখন পারেন না? চাইলে ৩৫ বলে ৫০ করে আউট হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু দল সেটা চায় না। দল চায় তামিম ৪০ ওভার থাকুক। সেটা বাংলাদেশে তিনি সবচেয়ে ভালো পারেন। দলের চাওয়ার সঙ্গে তামিম নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। তাকে ঘিরে ইনিংস গড়ে ওঠে।

তার সঙ্গীকে হতে হবে আগ্রাসী। দ্রুত রান তুলতে হবে। সিম্পল। সেই কাজটা করার জন্য দল যাদেরকে যোগ্য মনে করে, তাদেরকেই নেওয়া হয়েছে। আপনি আপত্তি করতে পারেন। যুক্তি, তর্ক করতে পারেন। গড়-টড় দেখাতে পারেন। বাস্তবতা তাতে পাল্টাচ্ছে না। আপনি যে সিম্পল যুক্তিগুলো দিচ্ছেন, এতদিন ক্রিকেট খেলে সেসব তারা বোঝেন না? যারা বাদ পড়েছে, তাদের শত্রুরা দল নির্বাচন করেনি। যারা সুযোগ পেয়েছে, তাদের বন্ধুরা দল গড়েনি। সবকিছুর পেছনেই যুক্তি আছে। আপনি-আমি মানি আর না মানি।

একটি-দুটি ম্যাচ জয় আর বাকিগুলোতে সম্মানজনক হারের লক্ষ্য নিয়ে দল যাচ্ছে না। স্বপ্ন বড়। তাই ঝুঁকি নিতেই হবে। বাজী ধরতে হবে। সৌম্য, লিটন বা সাব্বির-মোসাদ্দেক, তারা সেই বাজী। সবার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। তারা সেখানে সফল হতে পারেন, নাও পারেন। কিন্তু আপনি যে ব্যাটসম্যানদের কথা বলছেন, তারা যে ভূমিকায় কাজে লাগতে পারে, সেই ভূমিকায় তাদের চেয়ে যোগ্যরাই দলে আছেন।

আর হ্যাঁ, সামনে সময় আছে। আয়ারল্যান্ডে খেলা আছে। ইনজুরি হতে পারে কারও। নানা পরিস্থিতি আসতে পারে। দলে টুকটাক পরিবর্তন আসতেও পারে। বিশ্বকাপে ১৫ জনের অফিসিয়াল স্কোয়াডের বাইরে নিজ ব্যবস্থাপনায় একজন বাড়তি ক্রিকেটার রাখবে দল। কে জনে, সেই ষোড়শ সদস্য তাসকিন বা ইয়াসির হবেন না!

আপাতত, তাসকিনের চোট-দূর্ভাগ্যটুকু বাদ দিলে, এই মূহুর্তে দেশের সম্ভাব্য সেরা দলই বিশ্বকাপে যাচ্ছে। তাদের নিয়েই স্বপ্ন দেখব। স্বপ্ন পূরণ হলে উল্লাসে ভাসব। পূরণ না হলে খারাপ লাগবে। আবার নতুন আশায় বুক বাঁধব। ক্রিকেট আমার কাছে এমনই।
Reply With Quote