facebook Twitter RSS Feed YouTube StumbleUpon

Home | Forum | Chat | Tours | Articles | Pictures | News | Tools | History | Tourism | Search

 
 


Go Back   BanglaCricket Forum > Miscellaneous > Forget Cricket

Forget Cricket Talk about anything [within Board Rules, of course :) ]

Reply
 
Thread Tools Display Modes
  #1  
Old May 16, 2011, 07:54 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869
Default This Story made My Day!!!

I couldn't find any proper thread to post the stories. Mod if there is any, can you please merge it. Thanks!
------------------------------------------------------------------------------------------

এসএসসি ’১১: অদম্য মেধাবী
শ্রমে অধ্যবসায়ে অনন্য ওরা

বিশাল বাংলা ডেস্ক | তারিখ: ১৭-০৫-২০১১



হামিম মোল্যা,রানা সরকার, মরিয়ম জাহান ও সুমন সরকার

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই সচ্ছল পরিবারের সন্তান। মা-বাবার আদর পেয়ে এবং প্রাইভেট পড়ে ভালো ফল করেছে তারা। তবে এসব কৃতী শিক্ষার্থীর মধ্যে কারও কারও সাফল্য মনে দাগ কেটে যাওয়ার মতো। কারণ, তারা প্রাইভেট পড়তে ও কোচিং করতে পারেনি। ভালো কাপড় গায়ে ওঠেনি। অনেককে অর্থ উপার্জন করে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে। শত বাধা ও কষ্টের মধ্যেও তারা পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় ফল করেছে।
কখনো শ্রমিক, কখনো ভ্যানচালক: আড়াই শতক জমির ওপর পাটকাঠির বেড়ার ছোট্ট ঘর। বৃষ্টি হলেই ঘরের সবকিছু ভিজে যায়। মা রেবেকা খাতুন পঙ্গু। বাবা আহাদ আলী (৫৮) দিনমজুর। বয়স বেশি হওয়ায় আয় কমে গেছে। তাই কখনো অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে, আবার কখনো ভ্যান চালাতে হয়েছে তাকে। সব কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে লেখাপড়া করত সে। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি। সব সময় দুবেলা খেতেও পারেনি। এভাবে ঘাম ঝরিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। এই কৃতী ছাত্রের নাম হামিম মোল্যা। বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল গ্রামে। সে উপজেলার বড়দিয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান জানান, হামিম প্রাইভেটও পড়তে পারেনি। পরিবারের প্রয়োজনে সে ভ্যান চালিয়েছে এবং কৃষিশ্রমিকের কাজ করেছে।
বাদাম বিক্রি করে লেখাপড়া: বাবা ইউনুস আলী কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ। মা সুফিয়া খাতুন অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। সাত ভাইবোনের সংসারের অভাব দূর করতে পঞ্চম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় বাদাম বিক্রি শুরু করে সে। এভাবে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সারা দিন লেখাপড়া করে সন্ধ্যার পর বাদাম বিক্রি করত, রাতে এসে আবার লেখাপড়াও করত। এভাবে নানা বাধা পেরিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তার নাম রানা সরকার। বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সুমারুভিম শীতলাহাজীপাড়া গ্রামে। সে উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। রানা জানায়, পরীক্ষা দিয়েই কাজের উদ্দেশ্যে সে ঢাকার গাজীপুরে চলে যায়। সেখানে ইটভাটায় মাটি কাটার কাজ করার সময় পরীক্ষার ফল জানতে পেরে আনন্দে কেঁদে ফেলে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রানা অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। আমরা তাকে সহযোগিতা করেছি মাত্র।’
মায়ের সঙ্গে সেলাইয়ের কাজ করত সুমি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা শহরের নাচনপাড়া এলাকায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস। বাবা মোজাম্মেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। মা তাছলিমা বেগম কাপড় ও কাঁথা সেলাই করে সংসার চালান। এ কাজে তাঁকে সহায়তা করে মেয়ে মরিয়ম জাহান সুমি। দুবেলা খাবার জোটে না তাদের। এত কষ্টের মধ্যেও পড়ালেখা চালিয়ে গেছে সুমি। কষ্ট করার ঈর্ষণীয় ফল সে পেয়েছে। খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শামসুল হুদা বলেন, ‘ও মেধাবী। তবে বাবার অসুস্থতা তাঁকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছিল। তার পরও পড়াশোনার প্রতি একাগ্রতার কারণে সে ভালো ফল করতে পেরেছে।’
কাজের ফাঁকে লেখাপড়া: ‘দোকান কর্মচারীর পরিচয় ভুইল্লা যাইয়া কিছু সময়ের লাইগ্যা ছাত্র হওয়ার স্বাদ পাইলাম। সবাই যহন কয়, তুই ভালো রেজাল্ট করছোস, তহন কান্না আয়। হগোলডির চাইতে বেশি খুশি মোর বাবা ও মা। মুইও খুশি।’ জিপিএ-৫ পাওয়ার পর এভাবেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দোনারকান্দি গ্রামের জগদীশ সরকারের ছেলে সুমন সরকার। সে বাকাই নিরঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। স্থানীয়রা জানায়, সুমনের বাবা ও মা দিনমজুরির কাজ করেন। অভাবের কারণে সপ্তম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় সে বাকাই বন্দরের একটি মুদি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করে। ওই দোকানের মালিক শাহজাহান মিয়া জানান, সুমন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে কাজ করে। সন্ধ্যার পর সে বাড়িতে গিয়ে লেখাপড়া করত। বাকাই নিরঞ্জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরুলক্ষ্ম নাথ নাগ জানান, ‘নিয়মিত ক্লাসে আসতে না পারলেও লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল তার। সে কোনোদিন প্রাইভেটও পড়েনি।’
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন সফি খান, কুড়িগ্রাম; কার্ত্তিক দাস, নড়াইল; জহুরুল ইসলাম, গৌরনদী (বরিশাল) ও নেছারউদ্দিন আহমেদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)]
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/da...17/news/154849)
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!

Last edited by RazabQ; December 14, 2011 at 11:54 AM.. Reason: added bangla tag
Reply With Quote
  #2  
Old May 16, 2011, 08:07 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869


গণিত থেকে গন্তব্যে

ইমাম হাসান | তারিখ: ১১-০৫-২০১১


দুই বন্ধু ইশফাক ও দীপাঞ্জন

দীপাঞ্জন রায় ও হক মোহাম্মাদ ইশফাক, দুই বন্ধু। পরিচয় সেই স্কুলে পড়ার সময় থেকে। ইশফাক পড়তেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে আর দীপাঞ্জন ঢাকার সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে। অবাক লাগছে, তাই না? আসলে দুজন দুই জায়গায় পড়লেও দুজনের প্রেম ছিল একদিকেই। এ প্রেম গণিতের। প্রতিবছর গণিত উৎসবের জন্য তাই অন্য সবার মতো উন্মুখ হয়ে বসে থাকতেন তাঁরা। এই উৎসবেই বন্ধুত্ব। তারপর প্রতিবছর ক্যাম্পে থাকা, সব ছিল অনেক মজার।
‘গণিতের সঙ্গে ভালো লাগতে থাকে পদার্থ ও রসায়নবিদ্যাও। গণিত ক্যাম্পের দিনগুলোয় মাহবুব মজুমদার, মুনির হাসান, জাফর ইকবাল, কায়কোবাদ স্যারের মুখে বিজ্ঞানের বড় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনে ইচ্ছা করত পড়তে যাব। পরক্ষণে আবার ভয়ও লাগত, পারব তো? শেষে কখন যেন আস্থা ফিরে পেলাম, পারব।’ বলছিলেন ইশফাক। ২০০৯ সালে দীপাঞ্জন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের শ্রেষ্ঠ হওয়ার খেতাব অর্জন করেন। আর ইশফাক বাংলাদেশ গণিত দলের সঙ্গে ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে ঘুরে এসেছেন স্পেন, জার্মানি, কাজাখস্তান। ২০০৯ ও ২০১০ সালে অর্জন ছিল অনারেবল ম্যানশন। ২০১০ সালে এইচএসসিতে সব বিষয়ে এ+সহ দুজনেই অর্জন করেন জিপিএ-৫। আবেদন করেন বিশ্বের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতাপূর্ণ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া বেশ কষ্টকর। তার পরও তাঁরা চান্স পেয়েছেন চারটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইশফাক চান্স পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় আর ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় চাহিদা পরিমাণ (শতভাগ বা তার কাছাকাছি) বৃত্তি দিয়ে তাঁকে ভর্তির সুযোগ দিয়েছে।
ইশফাক বলেন, ‘তবে আমার পছন্দ স্টানফোর্ড। কারণ, ওখানে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাথ, ফিজিক্সও অনেক বেশি স্ট্রং। পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্রিং থিউরির অন্যতম প্রবক্তা অধ্যাপক লিওনাড সাসকিন্ড, যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।’
ইশফাকের কাছ থেকেই জানা গেল ১৯৯৭-৯৮ সালে ফিজিক্সে নোবেল পাওয়া অধ্যাপক ববলাফলিন ও অধ্যাপক অসেররফও হবেন তাঁর শিক্ষক। চার বছরের এই স্নাতকে তিনি ম্যাথ ও ফিজিক্স একসঙ্গে পড়তে চান। স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছে গুগল বা ইয়াহুর মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান। ইয়েল, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ও ইশফাকের চাওয়া মতো বৃত্তি দিতে রাজি। ইশফাক বলেন, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে ফিজিক্সে নোবেল পেয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৮৮ জন নোবেল পেয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
এত কিছুর পরও ইশফাক বেছে নিয়েছেন স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
আর দীপাঞ্জন রায় সুযোগ পেয়েছেন আমেরিকার পারডু বিশ্ববিদ্যালয় ও কার্লটন কলেজে এবং কানাডার ম্যাকগিল ও ওয়াটার লু বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে দীপাঞ্জন বেছে নিয়েছেন ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়কেই কারণ, তাঁর ইচ্ছা কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ। এ ছাড়া সেখানে আন্ডারগ্র্যাজুয়ে দের জন্য বেশি সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। দীপাঞ্জন বলেন, ‘ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার কারণ বায়োলজিক্যাল ফিল্ডে এদের বেশ সুনাম। তা ছাড়া আমারও কম্পিউটার পড়ে এই সাইটে কাজ করার ইচ্ছা।’
নতুনদের জন্য
যাঁরা ইশফাক বা দীপাঞ্জনের মতো উচ্চশিক্ষায় বাইরে যেতে চান, তাঁদের উদ্দেশে দুজনের মন্তব্য এ রকম—স্যাট আর টোয়েফলে মোটামুটি ভালো একটা স্কোর। নেট থেকে ফর্ম নামিয়ে তা বেশ যত্ন নিয়ে পূরণ করতে হবে। এসএসসি ও এইচএসসি সনদ পাঠাতে হবে প্রিন্সিপালের স্বাক্ষর ও সিলসহ। আর রেজাল্ট থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তোমার ফর্মে লেখা বিভিন্ন রচনা কিংবা কোনো বিশেষ গুণ, যার স্বীকৃতি তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলবে। আবেদন করতে হবে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে, ফলাফল হয় মার্চ-এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে। তবে অবশ্যই এক বছর আগে থেকে মন স্থির করে প্রস্তুতি নেওয়া ভালো। আবেদনের সময় সুপারিশ চিঠিটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সুপারিশ দিয়ে আবেদন করা উচিত।
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/da...17/news/153241)
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #3  
Old May 16, 2011, 08:18 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

এসএসসি ’১১: সে রা যা রা

হার না মানা মেধাবীদের গল্প

বিশাল বাংলা ডেস্ক | তারিখ: ১৪-০৫-২০১১


শাহজাহান ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, নাসির উদ্দিন, গোপাল চন্দ্র পাল

গরিব ঘরে জন্ম ওদের। ছোট্ট, কোমল হাতে কারও উঠেছে কাস্তে-কোদাল, কেউ ধরেছে ভ্যানগাড়ির হাতল। ভোরে ভ্যান নিয়ে বেরিয়েছে, ফের সকাল ১০টায় বই-খাতা হাতে হাজির হয়েছে স্কুলে। কেউ কেউ দিনমান মজুরি খেটেছে, রাতে বসেছে পড়তে। এত কষ্টেও দমেনি ওরা। সাধনা করে গেছে। পা রেখেছে সাফল্যের প্রথম সোপানে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছে জিপিএ-৫। দারিদ্র্যের কাছে হার না মানা সেই সব অদম্য মেধাবীর জীবনের গল্পটা শুনি চলুন।
মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে চায় শাহজাহান: ‘পরীক্ষার সময় মানুষ ছেলেমেয়েদের ভালো-মন্দ কত কিছু খাওয়ায়। অথচ ছেলেডারে দুই মুঠা ভাত দিতে পারি নাই।’ আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে কথাগুলো বললেন নীলফামারী শহরের বাবুপাড়া মহল্লার সায়মেনা খাতুন। তাঁর ছেলে মো. শাহজাহান ইসলাম এবার নীলফামারী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে, অষ্টম শ্রেণীতে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পায় সে।
শাহজাহান জানায়, তার বাবা মারা গেছেন ১১ বছর আগে। নানার দেওয়া পাঁচ শতাংশ জমির ওপর তাদের বাড়ি। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে ছোট। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ভাই বিয়ে করে পরিবার নিয়ে আছেন। মেজো ভাই বেকার। তারা দুই ভাই মায়ের সঙ্গে থাকে। মা সায়মেনা বাড়ি বাড়ি ফেরি করে শাড়ি-কাপড় বেচেন। যে আয় হয়, তা দিয়ে ঋণের কিস্তি দেন, সংসার চালান। অর্ধাহারে-অনাহারে কাটে তাদের দিন। ‘মা কখনো কাজ করতে দিত না আমায়। তার ইচ্ছা আমি লেখাপড়া করে ব্যাংকের ম্যানেজার হই। মায়ের ইচ্ছাটা পূরণ করতে চাই।’ বলছিল শাহজাহান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা শিক্ষকেরা তাকে বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়িয়েছি। অনেক সময় খাতা-কলম কিনে দিয়েছি।’
মোস্তাফিজের ঘামঝরানো সাফল্য: তিন শতক জমির ওপর ছোট একটি টিনের ঘর। সে ঘরেই তিন ভাই, দুই বোন ও বাবা-মাসহ সাতজনের সংসার মোস্তাফিজদের। বাবা মজিবার রহমান (৬৫) বয়সের ভারে ন্যুব্জ। অন্যের বাড়ি কাজ করে মা মোমেনা বেগম যা পেতেন, তা দিয়ে সংসার চলত না। বাধ্য হয়ে অন্যের জমিতে শ্রম দিতে যেত সবার বড় মোস্তাফিজ। বন্ধুদের দেওয়া পুরোনো জামা গায়ে চড়িয়ে একটুও মন খারাপ হতো না। বহুদিন অভুক্ত থেকে পড়াশোনা করেছে। কিন্তু জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সমস্ত কষ্টের গ্লানি।
মোস্তাফিজুর রহমান এবার রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কাশিয়াবাড়ী উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের বাড়ি উপজেলার দামোদরপুর সর্দারপাড়া গ্রামে। কাশিয়াবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ রায় বলেন, ‘ছেলেটার পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ। ওর কাছ থেকে স্কুলের বেতন, ফরম পূরণের টাকা নেওয়া হয়নি।’
ভ্যান চালিয়েও অনন্য নাসির: ‘রইদে পুইড়া, বিষ্টিত ভিজা, ভ্যান চালাইয়া ছাওয়ালডা আমার কাহিল হইয়া যাইত। সারা রাইত জাইগা পইড়ছে। ইস্কুল কামাই করে নাই। হুগুল্লি (সবাই) কইতাছে, নাসির আমার পেলাস (প্লাস) পাইছে।’ কথাগুলো সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এনায়েতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা হালিমা খাতুনের। তাঁর ছেলে নাসির উদ্দিন এবার উল্লাপাড়া মার্চেন্টস পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবা আবদুস সালামও ভ্যানচালক। নাসিরের একটি ছোট ভাই আছে। আবদুস সালাম জানান, নাসির তিন বছর ধরে ভাড়ায় ভ্যান চালায়। ভোর পাঁচটা থেকে সকাল নয়টা পর্যন্ত ভ্যান চালিয়ে পরে স্কুলে যেত সে।
অধ্যক্ষ মীর আবদুল হান্নান জানান, নাসির বরাবরই ক্লাসে প্রথম বা দ্বিতীয় হতো। ভালো ব্যবহারের জন্য সবাই তাকে ভালোবাসে। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখে নাসির।
সাফল্যের পরও গোপালের মুখ ভার: বাড়িটা পৌরসভার মধ্যে। কিন্তু গোপালদের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়ার সামর্থও নেই দিনমজুর বাবার। হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করে এসেছে গোপাল। মা ফুলকুমারী পাল অন্যের বাড়িতে মাটির হাঁড়ি-পাতিল বানানোর কাজ করেন। মায়ের সঙ্গে সেও কাজে হাত লাগায়।
এমন টানাটানির সংসারে জিপিএ-৫ পেয়ে সবার নজর কেড়েছে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার গোপাল চন্দ্র পাল। সে এবার ধানগড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে এই সাফল্য পেয়েছে। রায়গঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পালপাড়ায় তাদের বাড়ি। ভালো ফলের পরও গোপালের মুখে হাসি নেই। কলেজে পড়ার খরচ জোগাবে কোথা থেকে?
ধানগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন খন্দকার বলেন, ‘গোপালের মতো মেধাবী ছাত্রদের আমরা সামর্থ অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করি।’
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন মীর মাহমুদুল হাসান, নীলফামারী; রহিদুল মিয়া, তারাগঞ্জ (রংপুর); কল্যাণ ভৌমিক, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) ও সাজেদুল আলম, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)]
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/da...14/news/154083)
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #4  
Old May 16, 2011, 08:20 PM
Alchemist's Avatar
Alchemist Alchemist is offline
First Class Cricketer
 
Join Date: March 29, 2010
Location: Sydney
Favorite Player: Shakib Al Hasan
Posts: 305

Wonderful! It's feels really great to read these kind of success stories. Thanks for sharing.

BC could be a great platform to offer some kind of help to these young fighters who're not from privileged background.

Zunaid boss, can't we seriously do something for a education and cricket revolution in Bangladesh?
__________________
“Every search begins with beginner’s luck. And every search ends with the victor’s being severely tested.” Paulo Coelho from 'The Alchemist'
Reply With Quote
  #5  
Old May 16, 2011, 08:30 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

চাঁদের মাটি সংগ্রহে সক্ষম রোবট নিয়ে নাসার প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে বাংলাদেশ

--------------------------------------------------------------------------------
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম



ছবি: দেলোয়ার হোসেন বাদল/বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম

ঢাকা: চাঁদে মাটি সংগ্রহ করতে পারবে এমন রোবট বানিয়ে নাসার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বানিয়েছেন এই রোবট। তাদের বিশ্বাস চাঁদে পাঠালে এটি অসমান চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ধুলোমাটি (লুনার ডাস্ট) সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

আগামী ২৩-২৮ মে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টারে নাসা (ন্যাশনাল অ্যারোনোটিক অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশ ) আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্থান পাচ্ছে এই রোবট।

এ উপলক্ষে রোববার বিকেলে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আইনূন নিশাতের সভাপতিত্¦ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাকের চেয়ারপার্সন স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

লুনার ডাস্ট সংগ্রহ করার এই প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

টানা ১৫ মিনিটে যে রোবট সবচেয়ে বেশি ডাস্ট সংগ্রহ করবে সেটিই হবে প্রথম।

ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ সদস্যের রোবোটিক দল এরই মধ্যে নাসার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিটা সেরে ফেলেছে ।

দলে রয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড.খলিলুর রহমান ও শিক্ষার্থী শিবলী ইমতিয়াজ হাসান, জুনায়েদ হোসেন, মাহমুদুল হাসান অয়ন, কাজী মো. রাজিন, ইমরান বিন জাফর, ইফতেখার করিম, নির্ঝর রউফ।

এরা সবাই ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র।

ড.খলিলুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে প্রতিবছর নাসা অ্যানুয়াল লুনাবোটিকস মাইনিং কম্পিটিশন নামের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এ বছর বিশ্বের ৪৩ টি বিশ্ববিদ্যালয় এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র দল হিসেবে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দলটিই অংশ নেবে।

রোবটটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, ‘আমরা সবাই নাসা অ্যানুয়াল লুনাবোটিকস মাইনিং কম্পিটিশনে বাংলাদেশ টিমের শুভকামনা করি। আমরা আশাবাদী । তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় যে কোনও সৃষ্টিশীল কাজের সাথে থাকবে বলেও তিনি জানান।

টিমের অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের টিম লিডার শিবলী ইমতিয়াজ হাসান বলেন, আমরা ২১ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বো। আমরা কয়েক বছর এ প্রজেক্টে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আশা করছি, একটি ভালো ফল দেশের জন্য বয়ে আনতে পারবো।

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সার্বিক ব্যয়ভার বহন করবে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ সময়: ২১০০ঘণ্টা, মে ১৫, ২০১১

(Source: http://www.banglanews24.com/detailsn...=2011051640398)
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #6  
Old May 16, 2011, 08:41 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

This is an old article...a good reading!!!
---------------------------------------------------------------------------------------------

এক বেলা শিক্ষকতা অন্য বেলা দিনমজুরি

মীর মাহমুদুল হাসান, নীলফামারী | তারিখ: ০৯-০৩-২০১১



রঞ্জিত কুমার রায় দিনের এক বেলা দিনমজুরি, আরেক বেলায় শিক্ষকতা করেন

ছবি: প্রথম আলো

রোদটা বড্ড তেতে উঠেছে। দরদর করে ঘামছেন রঞ্জিত। ইটের ভারী বোঝায় টন টন করছে কাঁধটা। মাথা তুলে একবার ওপরের দিকে তাকালেন। সূর্য তখন মধ্য আকাশে। ফেরার সময় হয়ে এসেছে তাঁর। শেষ বোঝাটা নামিয়ে ভাটা-ব্যবস্থাপকের কাছে গেলেন। আধাবেলার মজুরি বুঝে নিয়ে ইটভাটার এক কোণে রাখা সাইকেলটার দিকে এগোলেন। ধুলোয় ভরা পরনের ছেঁড়া গেঞ্জিটা খুলে ব্যাগ থেকে ধোয়া জামাটা বের করে গায়ে চড়ালেন। দ্রুত প্যাডেল মেরে পথ চলতে শুরু করলেন। তাঁকে যেতে হবে ১৫ কিলোমিটার দূরে।
একসময় একটি মাদ্রাসার আঙিনায় এসে থামলেন রঞ্জিত। ঢুকলেন শ্রেণীকক্ষে। ছেলেমেয়েরা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানাল।
একটু আগে যিনি ছিলেন ইটভাটার মজুর, তিনি এই মাদ্রাসার শিক্ষক।
মানুষটার পুরো নাম রঞ্জিত কুমার রায়। বয়স ৩৬। নীলফামারী সদর উপজেলার বেরাকুটি বরুয়া দাখিল মাদ্রাসায় বাংলা আর ইংরেজি পড়ান। কোনো মাইনে পান না। সংসার চালাতে তাঁকে দিনমজুরি খাটতে হয়। ঘামে ভেজা সেই টাকায় চলে সংসার।
রঞ্জিতের বাড়ি মাদ্রাসা থেকে এক কিলোমিটার দূরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ডুবুলিয়া গ্রামে। ঘরে তাঁর স্ত্রী ও দুটি ছেলেমেয়ে।
প্রায় এক বছর রঞ্জিত কাজ করছেন সৈয়দপুরের এবিএল (২) ইটভাটায়। ইটভাটায় গিয়ে সম্প্রতি কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কোনো দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইটভাটায় কাজ করি। বিকেলে মাদ্রাসায় পড়াই। কোনো দিন বিকেলে কাজ করি, সকালে পড়াই। আধাবেলার মজুরি ১০০ টাকা পাই। ছুটির দিনে পুরো বেলা কাজ করি।’
রঞ্জিত রায় ১৯৯৫ সালে দিনাজপুর কেবিএম কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন। ২০০০ সালে এ মাদ্রাসায় যোগ দেন। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ১৫ শতাংশ আবাদি জমি বিক্রি করে সেই টাকা দেন মাদ্রাসার উন্নয়ন খাতে। কিন্তু যোগদানের ১১ বছরেও সেখান থেকে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। কারণ মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়নি। এত দিন বহু কষ্টে সংসার চালিয়েছেন। এখন যেন আর চলে না।
গৃহশিক্ষকের কাজ করলে তো পারেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রঞ্জিত বলেন, ‘এটি দরিদ্র এলাকা। যাঁরা একটু সচ্ছল, তাঁদের ছেলেমেয়েরা পড়ে শহরের স্কুল-কলেজে। তা ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক হওয়ায় আমার কাছে কেউ পড়তে আসে না।’ ‘রঞ্জিত কখনো ক্লাস ফাঁকি দেন না।’ জানালেন মাদ্রাসার সুপার মো. মোস্তফা কামাল।
১৯৯৯ সালে ৮১ শতাংশ জমির ওপর মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১০ কিলোমিটারের মধ্যে আর মাদ্রাসা নেই। সাড়ে ৩০০ ছেলেমেয়ে পড়ে এখানে। এবতেদায়ী শাখায় চারজন ও দাখিল শাখায় নয়জন শিক্ষক এবং তিনজন কর্মচারী আছেন। দাখিল ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়ও (জেএসসি) ভালো ফল করেছে মাদ্রাসাটি।
ডুবুলিয়া গ্রামে গিয়ে রঞ্জিতের খোঁজ করলে একজন বাড়িটি দেখিয়ে দেন। বাঁশের বেড়ার ওপর খড়ের ছাউনি দেওয়া ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর। সামনে গিয়ে ডাক দিতেই বেরিয়ে আসেন তিনি।
স্ত্রী শৈব্যা রায় বলেন, ‘আমার স্বামী আমাদের জন্য যে কষ্ট করছেন, তা বলে বোঝানো যাবে না। আমাদের কষ্ট যেন শেষই হয় না। ছেলেটা বাবার কষ্ট বোঝে। তাই কখনো আবদার করে না।’
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও রঞ্জিতের প্রতিবেশী মো. জালাল উদ্দিন জানান, রঞ্জিত ছেলেটা শান্ত। ওঁরা চার ভাই। বড় ভাই মারা গেছেন। অন্য ভাইয়েরা মোটামুটি সচ্ছল। কিন্তু রঞ্জিতকে খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে।
এবিএল (২) ইটভাটার ব্যবস্থাপক গৌরাঙ্গ সরকার বলেন, ‘উনি (রঞ্জিত) বেশ সহজসরল। পরে জেনেছি, তিনি শিক্ষকতাও করেন।’
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) নীলফামারী জেলা কমিটির আহ্বায়ক নরেশ চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন শিক্ষককে দিনমজুরি করে বাঁচতে হবে, এটা অবিচার এবং অমানবিক।’ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়া দরকার।’
জানতে চাইলে নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাদ্রাসাটা আমাদের বিবেচনায় আছে। আগামীতে এমপিওভুক্ত করতে চেষ্টা করব।’
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/da...09/news/137054)
------------------------------------------------------------------------------------------
Update:
প্রথম আলো কার্যালয়ে শিক্ষক রঞ্জিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৬-০৩-২০১১


রঞ্জিত কুমার রায়

নীলফামারীর আলোচিত শিক্ষক রঞ্জিত কুমার রায় গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলো কার্যালয়ে আসেন। রঞ্জিত জানান, তাঁর কষ্টগাথা প্রথম আলোয় ছাপানোর পর থেকে জীবনযাত্রা পাল্টে গেছে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য হূদয়বান মানুষ তাঁর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখনো অনেকে তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নৈতিকতা ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। এ জন্য তিনি প্রথম আলোর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় রঞ্জিতের সঙ্গে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মেরাজ উদ্দিন ছিলেন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রঞ্জিত বলেন, ‘মাদ্রাসাটির গতি না হওয়া পর্যন্ত মনে শান্তি পাচ্ছি না।’ এ সময় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান মাদ্রাসার অবকাঠামো নির্মাণ ও তাঁর (রঞ্জিত) পরিবারের জন্য ঘর তৈরি করে দিতে প্রথম আলোর উদ্যোগের কথা জানান।
১১ বছর ধরে নীলফামারী সদর উপজেলার বেরাকুটি বরুয়া দাখিল মাদ্রাসায় বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন রঞ্জিত। কিন্তু মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকতার পাশাপাশি দিনমজুরি করছিলেন তিনি। এ নিয়ে ৯ মার্চ প্রথম আলোতে ‘এক বেলা শিক্ষকতা, অন্য বেলা দিনমজুরি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পাঠক টেলিফোন করেন প্রথম আলো কার্যালয়ে। পাঠকেরা রঞ্জিতের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনেকে ইতিমধ্যে রঞ্জিতকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। গত সোমবার এক পুলিশ কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) রঞ্জিতকে এক লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছেন।
মাদ্রাসার অবকাঠামো নির্মাণে ও শিক্ষক রঞ্জিতের সহায়তায় প্রথম আলোর উদ্যোগে যে কেউ শরিক হতে পারবেন। আগ্রহী ব্যক্তিরা প্রথম আলোর কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/da...16/news/138861)
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #7  
Old May 17, 2011, 02:05 AM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Quote:
Originally Posted by Alchemist
Wonderful! It's feels really great to read these kind of success stories. Thanks for sharing.

BC could be a great platform to offer some kind of help to these young fighters who're not from privileged background.

Zunaid boss, can't we seriously do something for a education and cricket revolution in Bangladesh?
Thank you and Jazak Allahu Khair!!!
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!

Last edited by idrinkh2O; May 17, 2011 at 07:42 AM..
Reply With Quote
  #8  
Old May 16, 2011, 08:44 PM
iDumb iDumb is online now
Cricket Legend
 
Join Date: June 18, 2010
Location: NYC
Favorite Player: Di Caprio
Posts: 2,618

Guys I can totally relate to the stories above. I too am from a very poor family. People think outside bangaldesh means wealthy but no not us. Our family used food stamps for our bi-weekly groceries. It wasn't enough for 4 of us. I was always hungry. One thing that kept me alive were books. I got into college and worked part time sweeping cafeteria floors - trying to pay for my meal plan. But I successfully made it through college with a GPA of 3.9. I graduated. But now there is no job. I worked so hard to be educated but it is worthless now.

I need help financially and emotionally. I appealed to many people for help but they can't relate to me. I am a brown guy. Brown guys are wealthy but cheap - they think it's my fault that I am poor. Non-brown ppl can't relate to me at all... they give money to the drug addicts but not me.

I am responsible for my 2 little brothers and 1 little sister. I worry about their future.

Just venting my frustration in this thread about this cruel world.
Reply With Quote
  #9  
Old May 16, 2011, 08:57 PM
Alchemist's Avatar
Alchemist Alchemist is offline
First Class Cricketer
 
Join Date: March 29, 2010
Location: Sydney
Favorite Player: Shakib Al Hasan
Posts: 305

iDumb

Be a MAN, pay respect where it’s due and please stop posting this kind of nonsense.

Everyone in BC knows how wealthy you really are. Time to shut up and share some of these wealths to the not so privileged in BD!
__________________
“Every search begins with beginner’s luck. And every search ends with the victor’s being severely tested.” Paulo Coelho from 'The Alchemist'
Reply With Quote
  #10  
Old May 16, 2011, 09:03 PM
Zeeshan's Avatar
Zeeshan Zeeshan is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: March 9, 2008
Posts: 25,642

People's mileage vary. While these stories make me humbly reflect back from the start of the path where I came from, the news that made MY day:


The mystery hero
Who shot bin Laden? Former SEALs fill in the blanks.
» More from Washington Post

Quote:
“This is playing in the Super Bowl and getting the Oscar all in one breath. He wants credit,” Marcinko supposes of the shooter who felled bin Laden. “But only among his peers.” Many SEALs consider themselves “humble warriors,” Greitens says.
Full story

Note: Mueller, I found a little 'boring'.
Reply With Quote
  #11  
Old May 16, 2011, 09:04 PM
Bancan's Avatar
Bancan Bancan is offline
Cricket Legend
 
Join Date: March 25, 2006
Location: CANADA
Favorite Player: Brian Lara
Posts: 2,957

Quote:
Originally Posted by Alchemist
iDumb

Be a MAN, pay respect where it’s due and please stop posting this kind of nonsense.

Everyone in BC knows how wealthy you really are. Time to shut up and share some of these wealths to the not so privileged in BD!
How do you know hes wealthy?
__________________
Clear Eyes, Full Hearts, Can't Lose!
Reply With Quote
  #12  
Old May 16, 2011, 09:14 PM
Alchemist's Avatar
Alchemist Alchemist is offline
First Class Cricketer
 
Join Date: March 29, 2010
Location: Sydney
Favorite Player: Shakib Al Hasan
Posts: 305

Quote:
Originally Posted by Bancan
How do you know hes wealthy?
From his posts from this thread:
http://www.banglacricket.com/alochon...ad.php?t=37356
__________________
“Every search begins with beginner’s luck. And every search ends with the victor’s being severely tested.” Paulo Coelho from 'The Alchemist'
Reply With Quote
  #13  
Old May 16, 2011, 09:32 PM
iDumb iDumb is online now
Cricket Legend
 
Join Date: June 18, 2010
Location: NYC
Favorite Player: Di Caprio
Posts: 2,618

Quote:
Originally Posted by Alchemist
From his posts from this thread:
http://www.banglacricket.com/alochon...ad.php?t=37356
That's Blah who is rich. My knowledge of financial world hardly dictates money in my pocket. Knowledge /= money. And that land case was a case of a friend of mine who is seeking my advice. My point is if you gonna help somebody out, you should help somebody local like ME.

anyways, not to divert this topic. I just shared my story - that's all! Please forgive me chemist bhai.
Reply With Quote
  #14  
Old May 17, 2011, 02:49 AM
Isnaad's Avatar
Isnaad Isnaad is offline
Cricket Legend
 
Join Date: January 18, 2008
Location: Dhaka Cantonment
Favorite Player: 75 69 29
Posts: 5,177

I consider myself very privileged reading this piece here. Alhamdulillah...ki shanti tei na exam disi...
__________________
"And be true to every promise- for, verily you will be called to account for every promise which you have made." - [Al Qur'an - 17:34]
Reply With Quote
  #15  
Old May 17, 2011, 03:56 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

এসএসসি ’১১: অদম্য মেধাবী
নিজের রোজগারে পড়েছে ওরা

বিশাল বাংলা ডেস্ক | তারিখ: ১৮-০৫-২০১১



নূর মোহাম্মদ,ফাবিয়া রাইয়ান, মোস্তাফিজুর রহমান ও আলী হোসেন

জন্ম দরিদ্র পরিবারে। তাই সকালবেলা নাশতা খেয়ে বই নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি বললেই চলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারকে সহায়তা করতে শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে। ফাঁকে পড়ালেখা চালাতে হয়েছে, তাও নিজের রোজগারে। তার পরও থেমে থাকেনি ওরা। মেধা ও অধ্যবসায় তাদের অনন্য করে তুলেছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছে জিপিএ-৫। স্বপ্ন এখন আলোকিত ভবিষ্যতের।
দাদন নিয়ে ফরম পূরণ করেছিল নূর মোহাম্মদ
কখনো দিনমজুর বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ, কখনো টিউশনি করে সংসারে সহযোগিতা করতে হয়েছে। কিন্তু পথচলা থেমে থাকেনি নূর মোহাম্মদের। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখা থেকে সে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের দাশেরডাঙ্গা গ্রামের আকবর মোল্যা ও মা জরিনা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় ও তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়। পাটকাঠির বেড়াঘেরা ছোট্ট একটি ঘরে তাদের বসবাস।
নূর মোহাম্মদ জানায়, দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে হয়েছিল তাকে। সেই টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়ে ওঠেনি। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও কলেজে লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য নেই তাঁর বাবার। লক্ষ্মীপাশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মুরাদ উদেদৗলা বলেন, ‘নূর মোহাম্মদ অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে। কিন্তু অর্থের অভাবে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।’
নানার পেনশনের টাকায় পড়ালেখা করেছে ফারিয়া
‘আমি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হতে চাই। একজন শিক্ষকই শিক্ষার্থীর সুপ্ত আগুন জ্বালিয়ে তাকে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।’ কথাগুলো ফরিদপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ফারিয়া রাইয়ানের। মা আম্মারা বেগম বলেন, ১৩ বছর আগে যৌতুকের কারণে ফারিয়ার বাবার সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ‘পরে মেয়েকে নিয়ে চলে আসি ফরিদপুর শহরের লাহেড়ীপাড়ায় বাবার বাড়িতে। বাবার পেনশনের সামান্য টাকায় চলে ফারিয়ার পড়াশোনা।’ নানার মৃত্যুর পর মামা আব্দুল মুমিন ফারিয়ার পড়াশোনার দায়িত্ব নেন।
ফারিয়া বলে, ‘অভাবের মধ্যেই আমি বেড়ে উঠেছি। অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি। ঢাকায় গিয়ে ভালো কলেজে পড়ার ইচ্ছে থাকলেও তা হবে না। তাই ফরিদপুরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজেই ভর্তি হতে হবে।’ ফারিয়ার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলা রানী সরকার জানান, ফারিয়া প্রকৃত অর্থে একজন মেধাবী ছাত্রী। ওর ভেতরের শক্তিতেই ও এগিয়ে যাচ্ছে।
নিয়মিত ক্লাসও করতে পারত না মোস্তাফিজ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কিশামত মালতীবাড়ী গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান এবারের দাখিল পরীক্ষায় ধরণীবাড়ী লতিফ রাজিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েও চোখেমুখে অন্ধকার দেখছে। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় এত দিন পড়ার খরচ জোগাতে মাঝেমধ্যেই মাঠে দিনমজুরের কাজ করত। রাতে পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে কেরোসিন ধার নিয়ে পড়াশোনা করত। বাবা-মায়ের ইচ্ছা, মোস্তাফিজ প্রকৌশলী হবে। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক অসামর্থ্য। গ্রাম পুলিশ বাবা আব্দুল মালেকের আয় বলতে মাসিক বেতনের ৮০০ টাকা। এ দিয়ে সংসারের খরচই চলে না। মাদ্রাসার শিক্ষক হামিদুর রহমান ও অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম বলেন, ‘ছেলেটি হতদরিদ্র হওয়ায় আমরাই ফরম পূরণসহ যাবতীয় খরচ বহন করেছি। উচ্চশিক্ষার প্রতি তার অনেক আগ্রহ।’
কাজের ফাঁকে পড়াশোনা করেছে আলী হোসেন
সংসারে দুই বেলা অন্নের নিশ্চয়তা যেখানে নেই, সেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আলী হোসেনের কাছে ছিল স্বপ্নের মতোই। সেই স্বপ্ন সফল করতে অন্যের পানের বরজে নিয়মিত শ্রম বিক্রি করেছে। কাজের ফাঁকে পড়াশোনা করেই আলী হোসেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আলমডাঙ্গার কেদারনগর গ্রামের আলাউদ্দিন ও সুফিয়া বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় আলী হোসেনের পড়াশোনা ষষ্ঠ শ্রেণীর পর থেমে গিয়েছিল। এরপর সে চলে যায় মামার বাড়ি একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। মামারাও তেমন স্বচ্ছল ছিলেন না। তাই দিনের বেলা মাঠে কাজ ও রাতে মামাতো ভাইদের বই নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। ভাগ্নের আগ্রহ দেখে মামা মনিরুল ইসলাম তাকে মুন্সীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। এসএসসি পরীক্ষার কয়েক মাস আগে মামা মারা যান। এরপর সে পুরোদমে পানের বরজে শ্রমিক হিসেবে কাজ ও উপার্জনের টাকা দিয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ করে। কয়েকজন শিক্ষক নিখরচায় তাকে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আলী হোসেন এখন আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অর্থাভাব তার এই স্বপ্ন কি পূরণ হতে দেবে?
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন মারুফ সামদানী, লোহাগড়া (নড়াইল); পান্না বালা, ফরিদপুর; মঞ্জুরুল হান্নান, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) এবং শাহ আলম, চুয়াডাঙ্গা]
(Source: http://www.prothom-alo.com/detail/da...18/news/155125)
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #16  
Old May 17, 2011, 04:19 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Wednesday, May 18, 2011
Front Page
Gates to help Bangladesh attain MDGs


Bill GatesUnb, Geneva

Microsoft Chairman William Henry Bill Gates has expressed keen interest to work together with Bangladesh to help it attain the Millennium Development Goals (MDGs).

Bill Gates, also co-chair of Bill and Milinda Gates Foundation, showed the interest during a courtesy call on Prime Minister Sheikh Hasina at her hotel suite in the Swiss city on Monday evening, PM's Press Secretary Abul Kalam Azad said.

During the discussion, the Microsoft chairman hoped that Hasina's modern and prudent leadership would take the country into a new height of development.

He further appreciated the present government's development programmes in the field of women empowerment, agriculture and health sector.

The prime minister and the Microsoft chairman also discussed scope of cooperation in vaccination programmes.

Thanking Bill Gates for his commitment and efforts towards people's development, the PM said her government is highly committed to ensure women's empowerment in all spheres of the society to establish their rights.

Besides, the premier told Bill Gates her government's various programmes to reduce child and maternal mortality rate.

The Microsoft chairman congratulated Hasina for Bangladesh's achievement of MDG-4 award.

The PM also said her government is relentlessly working to achieve the other MDGs.

Health Minister AFM Ruhal Haque, Foreign Minister Dipu Moni, State Minister for Forest and Environment Hasan Mahmud, among others, were present.

Meanwhile, Supachai Panitchpakdi, secretary general of Unctad, in a meeting invited the PM to attend the UN Conference on Trade and Development (Unctad) to be held in Doha next year.

In another meeting, UNAIDS Executive Director Michel Sidibé appreciated the premier for Bangladesh's success in controlling the HIV/AIDS diseases.

Later, WHO Director Shekhar Saxena paid a courtesy call on the PM at her hotel in the evening.

During the meeting, Hasina informed the WHO director that her daughter Saima Wazed Hossain, a psychologist, is arranging a regional conference on autism next July.
(Source: http://www.thedailystar.net/newDesig...php?nid=186196)
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #17  
Old May 17, 2011, 04:22 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Tuesday, May 17, 2011
Science & Life
Cosmic quirk in microcosm

A phenomenon called the Doppler effect causes the frequency of sound waves to shift when their source is moving. Now this effect has been seen on a smaller scale than ever before.

Scientists have detected the Doppler effect a quirk of physics that makes an ambulance's siren change pitch as it drives by on the scale of a single molecule.

The Doppler effecthas been understood since 1842 and is used to help astronomers find faraway planets, but it never before has it been demonstrated on such a small scale.

The idea behind the Doppler effect is simple: When a moving object emits either sound orlight waves, the motion of the source causes the frequency of those waves to change. [The Coolest Little Particles in Nature]

When an object moves toward you, for example, the waves bunch together because that object's motion closes the gap between successive waves (like an accordion). This bunching means the distance between waves is shrunk and their frequency is higher than if the object were sitting still.

In sound waves, an increase in frequency (equivalent to a decrease in wavelength) corresponds to higher pitch. In light waves, the frequency determines the color: blue light has a higher frequency than red light, for example.

When an object moves away from you, the opposite occurs. As the source recedes, its waves space out as it puts more distance between the waves.

"Have you ever been caught in a speed trap? You know what the Doppler shift is then," said T. Darrah Thomas, a professor emeritus of chemistry at Oregon State University. "When light or any radiation is either reflected off of, or transmitted from, a moving object, it gets its wavelength shifted. That's how the speed trap works."

Thomas led a team of researchers who observed this effect created by the rotational motion of a molecule of nitrogen.

"There is plenty of evidence of the rotational Doppler effect in large bodies, such as a spinning planet or galaxy," Thomas said. "When a planet rotates, the light coming from it shifts to a higher frequency on the side spinning toward you and a lower frequency on the side spinning away from you." The effect can also be measured when a star wobbles to and fro, revealing the presence of an otherwise unseen planet tugging the star this way and that as it orbits around. "But this same basic force is at work even on the molecular level."

The scientists blasted high-energy photons into molecules of nitrogen. When hit, the molecules were jolted with energy, which caused them to release electrons. [Twisted Physics: 7 Mind-Blowing Findings]

By carefully measuring the energies of the electrons, the researchers found that electrons released when the molecule was rotating toward the detector had a higher energy than electrons released from molecules rotating away from the detector.

Now that scientific instruments are advanced enough to detect this change, Thomas said, scientists are going to have to start accounting for it in their measurements of particles in high-energy experiments.

"I don't think anybody asked the question particularly" before now, Thomas told LiveScience. "It's just one of those things that nobody thought to look for."

The research was conducted at laboratories in Japan, Sweden and France, and is described in a paper published in the May 13 issue of the journal Physical Review Letters.

Source: LiveScience
(Source: http://www.thedailystar.net/newDesig...php?nid=185975)
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #18  
Old May 18, 2011, 08:14 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Well, I find this interesting!
--------------------------------------
পরকাল, মৃত্যু নিয়ে স্টিফেন হকিং
@ http://www.banglanews24.com/detailsn...=2011051940495
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #19  
Old May 27, 2011, 04:07 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Wow!!! Sometimes people like me just take everything for granted! Alhamdulillah for all the privileges God has given me!
-----------------
‘এবার মামা শু কিনে দিয়েছেন’

ক্রীড়া প্রতিবেদক | তারিখ: ২৮-০৫-২০১১

আরিফুল ইসলাম (অরেঞ্জ)

গতবার রানিং শু ছিল না। খালি পায়ে দৌড়ে তৃতীয়। এবার মামার দেওয়া শু নিয়ে দৌড়ে প্রথম হয়েছে কুড়িগ্রামের তরুণ আরিফুল ইসলাম (অরেঞ্জ)। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসের দ্রুততম মানব বলল তার আশা আর স্বপ্নের কথা

 একটু আগে প্রথম হওয়ার পর তুমি কাঁদছিলে। বিশেষ কিছু মনে পড়েছিল?
আরিফুল ইসলাম: ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, কী বলব। এত ভালো লাগছে, গুছিয়ে বলা কঠিন। আসলে আমি অনেক কষ্ট করে আজকের এই জায়গায় এসেছি তো, তাই আনন্দে কেঁদে ফেলেছি।
 অনেক কষ্ট করে এই জায়গায় এসেছ বললে। কী ধরনের কষ্ট?
আরিফুল: আমাদের পরিবারের অবস্থা বেশি ভালো নয়। চার ভাইয়ের মধ্যে আমি দ্বিতীয়। বড় ভাই অনার্সে, তারপর আমি এসএসসি পাস করেছি, সেজো ভাই নাইনে, ছোটটি কেজিতে পড়ে। বাবা রেলে চাকরি করেন। বেতন পান সাত হাজার টাকা। গতবার অভাবের কারণে একটা শু পর্যন্ত ছিল না আমার। এটা অনেক দুঃখের ব্যাপার।
 এবার তো শু আছে। এটা কে দিয়েছে?
আরিফুল: ৫০০ টাকা দিয়ে এবার আমার মামা নুরন্নবী সরকার শু কিনে দিয়েছেন। তিনি আমাকে অনেক হেল্প করেছেন। মামা আগে খেলোয়াড় ছিলেন। তাই খেলা সম্পর্কে জানেন। আমাকে অনেক কিছু শেখান।
 তুমি অ্যাথলেটিকসে এলে কীভাবে?
আরিফুল: এমনিতে ফুটবলের পাশাপাশি টুকটাক অ্যাথলেটিকস করতাম। ইন্টার স্কুলে খেলেছি। স্থানীয় বাবু ভাই আমাকে অ্যাথলেটিকসে নিয়ে এসেছেন গত বছর। বলতে পারেন, বাসা থেকে ধরে এনেছেন বাবু ভাই।
 ফৌজিয়া হুদা জুঁইকে চেনো? কুড়িগ্রামের বিখ্যাত মেয়ে...
আরিফুল: চিনব না আবার! তাঁর (এসএ গেমসে লং জাম্পে রুপাজয়ী) কাছে আমি মাস খানেক প্র্যাকটিস করেছি। কুড়িগ্রাম সদরের দালালিপাড়ায় আমাদের বাড়ির পাশেই তাঁর বাড়ি। উনি আমার আদর্শ। আমার প্রিয় অ্যাথলেট।
 তোমার ভবিষ্যৎ ইচ্ছা কী?
আরিফুল: জুঁই আপার মতো বড় অ্যাথলেট হওয়ার স্বপ্ন দেখি। হানড্রেড মিটারে দেশের সেরা হয়ে কুড়িগ্রামের মুখ উজ্জ্বল করার স্বপ্নও আছে। বিজেএমসিতে একটা চাকরি চাই এবং তাদের হয়ে খেলার ইচ্ছা আমার।
 বিজেএমসিতে যাওয়ার আগ্রহটা কেন?
আরিফুল: বিজেএমসির কোচ ফরিদ খান চৌধুরী আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। বিজেএমসিতে এর আগে আমি গিয়েছিলাম। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার জন্য গ্যাপ যাওয়ায় সেখানে আমার চাকরিটা হয়নি। আমাদের পরিবারের অভাব-অনটন থাকায় বিজেএমসিতে চাকরিটা পেলে খুবই উপকার হবে। আমার খেলাধুলার জন্যও এটা ভালো হবে।
 গতবার এই প্রতিযোগিতায় খেলেছ। এবার এসে কেমন লাগছে?
আরিফুল: গতবার আনন্দটা বেশি ছিল। এবার একটু কম। তবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে আবার দৌড়াতে পারা অনেক বড় প্রাপ্তি আমার জন্য।
 এ দেশে তো অনেক সমস্যা। পারবে সব বাধা এড়িয়ে এগিয়ে যেতে?
আরিফুল: সব বাধা পেরিয়েই এগিয়ে যাব। আমি পারব। আমি নিজের আগ্রহেই কুড়িগ্রাম স্টেডিয়ামে অনুশীলন করি। সাতসকালে যখন স্টেডিয়ামে যাই, কেউ থাকে না। দারোয়ানকে স্যাররা বলে দিয়েছেন, আমি এলে যেন গেট খুলে দেয়।
Source
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #20  
Old May 31, 2011, 04:34 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Freedom fighters fought for our independence and now it's up to us, the youth, to take our country forward inshallah!!! Thank you and Jazak Allahu Khair Akbar Ali for taking our country forward by educating one person at a time...------------------------------------------------------------------------------------------
আকবর আলীর প্রজন্ম নাইট স্কুল...
তপু আহম্মেদ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি



অর্থের অভাবে নিজে লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে কী স্বপ্ন থেমে থাকতে পারে! চেষ্টা থাকলে পৃথিবীও যে জয় করে নেয়া যায়! এমনটাই প্রমাণ করলেন টাঙ্গাইলের আকবর আলী ওরফে আশা। দীর্ঘ তেরো বছর ধরে তিনি নিজের চেষ্টায় শিক্ষার আলো বিতরণ করে চলেছেন গ্রামের নিরক্ষর মানুষদের মাঝে।

কেনো এ ধরনের উদ্যোগ নিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে আকবর বলেন, ‘সবাই দেশ নিয়ে কথা বলে। দেশ আমাদের কী দিয়েছে? এই ধরনের প্রশ্ন শুনলে মনে আঘাত পাই। আমি মনে করি- দেশ আমাকে কী দিয়েছে সেটি বড় নয়, আমি দেশের জন্য কী করতে পেরেছি সেটাই বড়। আর এই চিন্তা থেকেই নিজ বাড়িতে ‘‘প্রজন্ম নাইট স্কুল’’ স্থাপন করি নিরক্ষর মানুষদের লেখাপড়া শেখাবো বলে।’

গ্রাম ঘুরে দেখি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের আকবর আলীর স্কুলের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ বল্লা গ্রাম। এই গ্রামে ঢুকলেই তাঁতের খট্খট্ শব্দ জানিয়ে দেয় সবাই কতটা ব্যস্ত। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হলেও গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ লেখাপড়া জানেন না। তাছাড়া প্রচুর তাঁত শ্রমিক কাজ করতে আসে বাইরে জেলাগুলো থেকে। তাদেরও প্রায় সবাই নিরক্ষর। এসব মানুষদের অনেকেই আকবর আলীর প্রজন্ম নাইট স্কুলে পড়ে স্বাক্ষরজ্ঞান লাভ করেছেন।

নিজে পড়াশোনা করতে পারেননি। তাও এই ধরনের উদ্যোগকে কেউ কী নিরুৎসাহিত করেছে কিনা এই প্রশ্ন করলে আকবর আলী হাসতে হাসতে বলেন, ‘প্রথম দিকে এলাকার অনেকেই এই কাজকে ‘পাগলামি’ আর ছেলে মানুষী বললেও এখন সবাই মুগ্ধ। আমার পাশে সবাই আছেন। আমাকে সহযোগিতা করে গ্রামের সব মানুষ।’


স্বপ্ন দেখার পরে বাস্তবায়নের পথে যেভাবে যাত্রা শুরু:
বল্লা দক্ষিণ পাড়ার মৃত আব্দুল হালিমের আট ছেলে এক মেয়ের মধ্যে আকবর আলীর অবস্থান সপ্তম। তাঁত শ্রমিক পিতার টানাটানির সংসারে লেখাপড়ার খরচ যোগাতে আকবরকে স্কুলে পড়ার সময় থেকেই কাজ করতে হতো। এই এলাকার অধিকাংশ ছেলেরাই পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁতের কাজ করে থাকে।

আকবর জানালেন, ‘অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় একদিন সকালে বাড়ির কাছে দোকানের সামনে বসে ছিলেন। তখন একটি ছোট শিশু এক টাকা নিয়ে এসে একটি পাউরুটি কিনে খুশিতে লাফাতে লাফাতে বাড়ি চলে যায়। কিছুক্ষণ পরেই শিশুটিকে তার বাবা কান ধরে দোকানের সামনে নিয়ে আসেন। দোকানিকে বলেন ‘ওকে বিড়ি আনতে পাঠিয়েছিলাম কিন্তু পাউরুটি কিনে নিয়ে গেছে।’ পরে পাউরুটি ফেরত দিয়ে বিড়ি নিয়ে লোকটি বাড়ির দিকে রওনা হন। শিশুটিও কাঁদতে কাঁদতে বাবার পিছু পিছু চলে যায়।’

এ ঘটনা দেখার পর আকবরের মনে দারুন প্রতিক্রিয়া হয়।

আকবর বলেন, ‘সেদিনই আমার মনে হয় লেখাপড়া জানেনা বলেই আজ এ অবস্থা। ছেলের হাতের পাউরুটি ফেরত দিয়ে বিড়ি কিনে খাচ্ছে। সেদিনই মনে মনে সংকল্প করি এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হলে গ্রামের লোকদের লেখাপড়া শেখাতে হবে।’ তাই ৯৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই আকবর আলী শুরু করেন নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম। প্রথমে এলাকার নিরক্ষর মানুষদের কোনো এক বাড়িতে জড়ো করে নাম লেখা, চিঠি পড়া ইত্যাদি শেখাতেন। কয়েক বছর এভাবে কাজ করার পর অনেকেই যখন লিখতে পড়তে শিখে ফেলে তখন আস্থা আসে আকবর আলীর প্রতি। বাড়তে থাকে শিক্ষার্থী। ৯৮ সালে নিজ বাড়ির একটি কক্ষে চালু করেন প্রজন্ম নাইট স্কুল।

প্রজন্ম নাইট স্কুলে একদিন:
গত সপ্তাহে এক সন্ধ্যায় আকবর আলীর প্রজন্ম নাইট স্কুলে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যুৎ নেই। মোমবাতি জালিয়ে লেখাপড়া শিখছে বিভিন্ন বয়সের ১৭-১৮ জন শিক্ষার্থী। ঘরের বেড়া জুড়ে টাঙানো রয়েছে শিক্ষার নানা উপকরণ। আকবর আলীর সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা উচ্চারণ করছে অ, আ, ই, ঈ।

আলাপকালে আকবর আলী জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনটি শিফটে ক্লাস নেয়া হয়। প্রথম শিফটে যারা অক্ষর চেনেন না তাদের অক্ষর পরিচিতি ও নাম লেখা শেখানো হয়। দ্বিতীয় শিফটে যারা অক্ষর চেনেন এবং কোনো মতে নাম লিখতে পারেন তাদের নাম ঠিকানা, মাস, বারের নাম ইত্যাদি শেখানো হয়। আর তৃতীয় শিফটে শিক্ষার্থীদের চিঠি লেখা, পত্রিকা পড়া এবং যোগ-বিয়োগসহ প্রাথমিক হিসাব যাতে করতে পারে তা শেখানো হয়।

প্রজন্ম নাইট স্কুলের শিক্ষার্থী সুজন মিয়া জানান, ‘তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায়। বছর খানেক আগে এ এলাকায় তাঁত শ্রমিক হিসেবে এসেছেন। লেখাপড়া জানেন না শুনে আকবর আলী তাকে এই স্কুলে এনে পড়াচ্ছেন।’ অপর শ্রমিক লালমনির হাটের আইয়ুব আলী বলেন, ‘আকবর স্যারের কারণেই আজ লিখতে পড়তে পারছি।’

মাসুদ মিয়া নামক এক শিক্ষার্থী জানালেন আকবর আলী তার নাইট স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই খাতাও দিয়ে থাকেন। আকবর আলী জানালেন, ‘সারাদিন টিউশনি এবং তাঁতের সুতা কাটার কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনো মতে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে দিন চলে যায়। উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে এই স্কুল পরিচালনা করেন।

পরিবার ও এলাকার লোকজন যা বললেন :
আকবর আলীর স্ত্রী খাদিজা আক্তার মলি বলেন, ‘প্রথম প্রথম তাঁর এই কাজ ভাল লাগতো না। কিন্তু পরে যখন দেখলাম ওনার পরিশ্রমে অনেক মানুষ লিখতে পড়তে পারছে তখন আমি নিজেও উৎসাহিত হই। তার এই কর্মকান্ড নিয়ে গর্ব করি।’

বল্লা মাদ্রাসা দারুল ইসলাম মোহাম্মদিয়ার (আলিম মাদ্রাসা) অধ্যক্ষ মো: লুৎফর রহমান বলেন, ‘আকবর আলী প্রজন্ম নাইট স্কুলের মাধ্যমে এলাকার নিরক্ষরতা দূর করার কাজ করছে। তার স্কুলের কারণে অনেকেই লিখতে পড়তে শিখেছে। আমরা সব সময় তাকে উৎসাহিত করি।’

অন্যদিকে বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত আশরাফি বলেন, ‘আমরা তথাকথিত সমাজপতিরা যা করতে পারিনি আকবর তা করে আমাদের দেখিয়েছে। সে আমাদের মাঝে আশার সঞ্চার করছে। শত প্রতিকূলতার মধ্যে এলাকাকে নিরক্ষর মুক্ত করণের কাজ করে যাচ্ছে।’

অন্যান্য এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ছে এর আলো:
আকবর আলীর প্রজন্ম নাইট স্কুলের সুনাম এখন শুধু বল্লা গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তার আলো ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশের এলাকা এবং অন্য উপজেলাতেও। ইতঃমধ্যে বল্লার পার্শ্ববর্তী টেংগুরিয়া গ্রামে আকবর আলী নিরক্ষর নারীদের জন্য একটি শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। এছাড়াও ভাঙ্গাবাড়ি ও ডাবাইল গ্রামে চলছে কার্যক্রম। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কিছু যুবক বল্লা প্রজন্ম নাইট স্কুল দেখে উৎসাহিত হয়েছেন। তারা আকবরের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে নিজ এলাকায় এ ধরনের স্কুল চালু করেছেন।

আকবর আলী বলেন, ‘১৩ বছরে প্রায় ছয় হাজার লোককে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন করে তুলেছি। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমাকে এই স্কুল চালাতে হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ আমাকে খুব উৎসাহ দেয়। আমার স্বপ্ন হলো, একদিন আমার এলাকার প্রত্যেকটি মানুষকে নিরক্ষরতার হাত থেকে মুক্ত হবে।’
source
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!

Last edited by idrinkh2O; June 1, 2011 at 09:34 AM..
Reply With Quote
  #21  
Old May 31, 2011, 04:52 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

ইচ্ছেশক্তির জোরে এগুতে থাকা ফাল্গুনী...
গোফরান পলাশ, গলাচিপা থেকে ফিরে



কোন বাধাই দমিয়ে রাখতে পারেনি ফাল্গুনীকে। পঙ্গু দু’হাত নিয়েই প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে অংশ নিলেন এবারের এসএসসি পরীক্ষায়। এরপর তো সেই স্মরণীয় ফলাফল। গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বরিশাল বোর্ডের অধীনে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ফাল্গুনী।

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলা এলাকার দরিদ্র জগদীশ চন্দ্র সাহা ও ভারতী সাহা দম্পতির মেয়ে ফাল্গুনী চার বোনের মধ্যে তৃতীয়। বাবা জগদীশ চন্দ্র সাহা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সীমিত রোজগার দিয়ে ৬ জনের সংসারে যেন তাল মেলাতে পারছিলেন না তিনি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর অন্য তিন মেয়েদের চেয়ে ফাল্গুনী একটু আলাদা হওয়ায় বাবার স্বপ্ন ছিল তাকে ঘিরে। অভাবের তাড়নায় অন্য মেয়েদের পড়ালেখা চুকিয়ে দিলেও ফাল্গুনীর বেলায় ছিল ভিন্নরূপ। হঠাৎ এক ট্র্যাজেডি ফাল্গুনী ও তার বাবার স্বপ্নকে ম্লান করে দেয়।

ঘটনাটা ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি’র দিকে। ফাল্গুনী তখন মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। সে সময়ের এক বিকেলে পাশের বাড়ির ছাদে সমবয়সীদের সাথে খেলতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে তার দু’হাতের অর্ধেক অংশই ঝলসে যায়।

দেশের চিকিৎসা কাজে দিচ্ছিল না। তাই ফাল্গুনীকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতে। সেখানে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও চিকিৎসকদের পরামর্শে তার দুটি হাত কেটে ফেলা হয়। এদিকে চিকিৎসার খরচ টানতে গিয়ে ফাল্গুনীর বাবা জগদীশ সাহা সর্বস্ব খুইয়েছেন। মা ভারতী সাহারও চিন্তার শেষ নেই। মেয়ের নিশ্চয় পড়াশোনাটা আর হলো না।

এদিকে মায়ের চিন্তার দিকে খুব একটা মন নেই ফাল্গুনীর। সে অন্যকে দেখে। তার মনে নানান প্রশ্ন। হাত ছাড়া লেখা যাবে না? পৃথিবীতে কিছুই তো অসম্ভব না। তবে এটা কেনো অসম্ভব হবে?

তবে ফাল্গুনীর কলম দেখলে খারাপ লাগতো। মন খারাপ হয়ে যেতো। এই মন খারাপের সময় ফাল্গুনীর জেঠুমণী মাঝে মাঝে বলতো, একটু চেষ্টা করে দেখতো লিখতে পারিস্ কিনা!

ফাল্গুনী একদিন সাহস করে কলমকে কামড় দিয়ে ধরলো। শুরু হলো চেষ্টা। আবার একদিন কাটা হাতের অংশ দিয়ে কলম ধরে লেখার চেষ্টা শুরু করলো। এভাবে একদিন-দুইদিন-তিনদিন। ব্যাস, হয়ে গেলো। কয়েক মাস পর ঠিকই লিখতে শুরু করলো ফাল্গুনী।

পঙ্গুত্বই পরাজয় বরণ করলো ফাল্গুনীর কাছে। আবার শুরু হলো স্কুলে যাওয়া।

পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পাওয়া। ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভালো ফলাফল নিয়ে গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। এবং সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ নিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিলো ফাল্গুনী। পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় ইচ্ছে শক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় ফাল্গুনীকে প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তার সফলতার নেপথ্যের ইচ্ছে শক্তির কথা বলতে হচ্ছে।

ফাল্গুনীকে দেখলে সত্যিই মনে হয়, মানুষ চাইলে সবই পারে!

ফাল্গুনীর বাবা জগদীশ চন্দ্র সাহা বলেন, সংসারের প্রতিদিনের খরচ জোগাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় কীভাবে বহন করবেন তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। অন্যদিকে গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহআলম জানান, ‘ওর সাফল্যে আমরা গর্বিত। আমরা বিশ্বাস করি আত্মবিশ্বাসী ফাল্গুনী শত বাধা পেরিয়ে তার লক্ষ্যে পৌঁছবেই’।

তবে ফাল্গুনী এতো চিন্তা করছে না। সে এখন ভাবছে ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে একজন সরকারী উচ্চ পদস্থ প্রশানিক কর্মকর্তা কীভাবে হওয়া যায়।

ফাল্গুনীর ভাষাতেই, আমাকে অনেক এগিয়ে যেতে হবে। অনেক অনেক এগিয়ে যেতে হবে। সব দুঃখকে ছাপিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

source
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!

Last edited by idrinkh2O; June 1, 2011 at 09:34 AM..
Reply With Quote
  #22  
Old May 31, 2011, 04:54 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

প্রকৌশলী হওয়াটা বড় নয় ভালো মানুষ হওয়াটাই সবচাইতে বড়!!!



অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক এবং পরবর্তীতে ১৯৮৩-১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এরিজনা ষ্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকত্তর; একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে পিএইচডি সম্মান অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সের প্রধান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেছেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রকৌশল বিভাগে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল র মান প্রসঙ্গে।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- শেরিফ আল সায়ার

১. বাংলাদেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল র মান নিয়ে কিছু বলুন।

** এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে শুরুতেই আপনাকে একটু পেছনে যেতে হবে। প্রথমত হলো, বাংলাদেশে কেনো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তরটা শুরুতে জানতে হবে। উত্তরটি খুব সরাসরি বলি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুল তে আমাদের দেশের মেধাবী ছেলে-মেয়েরা ভর্তি হয়। সেসময় তাদের বুকে থাকে আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন। অথচ সেশন জট থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সমস্যাগুলো তাদের সেই স্বপ্নকে ধুলোর সাথে মিশিয়ে দেয়। দেখা যায়, চার বছরের অনার্স কোর্স শেষ করতে তাদের সময় লেগে যায় ছয় থেকে সাত বছর। চাকরীর বাজারে এতে করে তারা অনেক পিছিয়েও পড়তে শুরু করে। এটা ছিল প্রথম কারণ। দ্বিতীয় কারণটি হলো, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে সেখানে পড়ার সুযোগ হারায়। ফলে ঘটে স্বপ্নের বিপর্যয়। মূলত এই দুটি কারণ বিবেচনা করেই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এবার আসি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল র মান নিয়ে। মানের দিক থেকে বর্তমানে সব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে আছে আমি তা বলব না। অনেকেরই অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু সকলেই সীমাবদ্ধতা কাটানোর চেষ্টা করছে। তবে তা অবশ্যই পড়াশুনার মান অক্ষুন্ন রাখার জন্য। অভিজ্ঞ শিক্ষক, মান সম্পন্ন ক্লাসরুম, কম্পিউটার ল্যাব, এই সকল সুযোগ-সুবিধা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল শিক্ষার্থীদের দিচ্ছে। আর সময়মতো পড়াশোনা শেষ করে চাকরীর বাজারে ঢুকে যাওয়াটা তাদের সময়কে অনেকটাই বাঁচিয়ে দিচ্ছে বলে আমি মনে করি। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুল র বয়স আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুল র বয়সও তো আপনাকে বিবেচনায় আনতে হবে। তবে ধীরে ধীরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দক্ষ-জনবল দিতে পারছে বলে আমি মনে করি।

২. বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা কতটা মান সম্পন্ন?

** আমি শুরুতেই বলেছি, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুল তে সুযোগ পায় না। অথচ তারা বুকে লালন করছে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন। তাদের সেই স্বপ্ন অনেকটাই এখন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল পূরণ করছে। তারা মানের দিক থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। আমাদের শিক্ষকরা তাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করে থাকে। আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছি; আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, আমি সব সময় আমার শিক্ষার্থীদের যে কোনো সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত থাকি। শুধু আমি কেন! আমার অন্যান্য কলিগরাও তাদের পাশে থাকে। আর সহযোগিতা না দেবার তো কোনো প্রশ্নই আসে না। ছেলে-মেয়েরা এখানে পড়ছে টাকা দিয়ে। আমরা তাদের সকল অসুবিধার কথা শুনতে এবং সমস্যার সমাধান দিতে বাধ্য।

৩. আপনি যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন সেখানে কি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে পারছে?

** শুরুতেই আপনাকে বুঝতে হবে সুযোগ-সুবিধা বলতে কি বোঝায়। একটি প্রকৌশল বিভাগের সর্বোচ্চ গুরুত্ব হচ্ছে, ব্যবহারিক ল্যাব। এবং সেই ল্যাবে কাজ করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ যন্ত্রপাতি। যা আমরা দিতে সক্ষম। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আমাদের পৃথক পৃথক ল্যাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ল্যাবের জন্য আমাদের শিক্ষকও নিয়োগ করা আছে। তাদের কাজই হচ্ছে শিক্ষার্থীরা ল্যাবে কাজ করলে সহযোগিতা করা। এছাড়াও আমাদের আছে গবেষণাগার। উদ্ভাবনী মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা গবেষণাগারে কাজ করে থাকে। এছাড়াও কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তো যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাধ্যতামূলক বলে মনে আমি মনে করি।

৪. বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুল র শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতা নিয়ে কিছু বলুন।

** আমি বিশ্বাস করি, একজন শিক্ষার্থীর কাছে পড়াশোনাটাই বড় বিষয় নয়। আর সৃষ্টিশীল জাতি বলতে শুধু বিজ্ঞানের বিষয়েই সৃষ্টি করে যাবে তাও কিন্তু নয়। জীবনকে অনুভব করতে হবে। আমি সবসময় আমার ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ দেই শিল্পমাধ্যম নিয়ে কাজ করবার। আর তারা উৎসাহ পাচ্ছেও। আমরা বছরে বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ কাজ করে থাকি। সেখানে তারা যা শিখতে পায় তা হাজার বই পড়েও শেখা সম্ভব নয়। যে কোন জায়গায় চাকরী বলেন আর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কথা বলেন; প্রয়োজন হয় টিম ওয়ার্কের। আর সেই টিম ওয়ার্ক তারা শিখবে বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজ করতে গিয়ে। এই কাজগুলো করতে গেলে তাদের ভেতরকার সৃষ্টিশীলতা তারা নিজেরাই আবিস্কার করবে।

৫. খুদে প্রকৌশলীদের প্রতি অর্থাৎ যারা প্রকৌশল বিভাগে পড়তে চায় তাদের প্রতি আপনার কোন পরামর্শ আছে কি?

** পরামর্শ একটাই- সব বিষয়ে পড়াশোনা করো। এবং পড়ার সীমাবদ্ধতা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই রেখো না। পৃথিবীতে জানার অনেক কিছু আছে। পৃথিবীর প্রতিটি শিল্পকে বিজ্ঞানের সাথে মিলিয়ে দেয়া যায়। বিজ্ঞান ছাড়া এ পৃথিবী কখনও এগিয়ে যেতে পারবে না। বলতে হয়, ভবিষ্যত পৃথিবী তোমাদের উপরই নির্ভর করছে। আর তাই নিজেদের গড়তে হবে সেভাবেই। মনের দুয়ারটাকে খুলে ফেলো। মানুষকে ভালোবাসো। দেশকে ভালোবাসো। দেশের জন্য কিছুর করার অভিপ্রায় নিয়ে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে। এটাকে আমার পরামর্শ কিংবা ভবিষ্যত প্রকৌশলীদের প্রতি চাওয়াও বলতে পারেন। কারণ, প্রকৌশলী হওয়াটা বড় নয় ভালো মানুষ হওয়টাই সবচাইতে বড়।

source
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!

Last edited by idrinkh2O; June 1, 2011 at 09:33 AM..
Reply With Quote
  #23  
Old May 31, 2011, 08:58 PM
Zeeshan's Avatar
Zeeshan Zeeshan is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: March 9, 2008
Posts: 25,642

Keep them coming. Pity they are all in Bangla and it's hard to read the small fonts. Or else every one of them is noteworthy.

Last edited by Zeeshan; May 31, 2011 at 09:28 PM..
Reply With Quote
  #24  
Old May 31, 2011, 09:26 PM
Naimul_Hd's Avatar
Naimul_Hd Naimul_Hd is offline
Cricket Guru
 
Join Date: October 18, 2008
Location: Global City of Australia
Favorite Player: Shakib, Mashrafe
Posts: 13,383

some of the stories are really inspiring. Sometimes i wonder myself, what have i done in my life ?!
Reply With Quote
  #25  
Old June 4, 2011, 02:23 AM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষার্থে ‘দাঁড়িয়েছেন‘ দুলা খুড়া...



মেহেরপুর: দু’পায়ে দাঁড়ানোর সামর্থ তার নেই- তারপরও লোকজন বলছে তিনি দাঁড়িয়েছেন। হ্যাঁ, তিনি এবার ‘ভোটে দাঁড়িয়েছেন’।

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী শহিদুলাহ ওরফে দুলা খুড়াকে নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে তাই বেশ আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি তার ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সদস্য পদে দাঁড়িয়েছেন।

এলাকার বেশ কিছু যুবক তাকে উৎসাহ দিয়ে ভোটে দাঁড় করিয়েছেন বলে বাংলানিউজকে জানালেন। নির্বাচনে তার পদে মোট ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে তিনিই জয়ী হবেন বলে আশাবাদী দুলা।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার মৃত দাউদ কারিগরের ছেলে শহিদুলাহ এক বছর বয়সে অসুস্থ (পেলিও) হলে তার পা দু’টি অচল হয়ে যায়। সোজা হয়ে হাঁটার ক্ষমতা হারান তখন থেকেই। দু’হাতে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলাফেরা করেন তিনি।

নিজের জায়গা-জমি বলতে কিছু নেই। চা বিক্রি করে পেট পালতে হয়। ব্যক্তিজীবনে একটি দুঃখ তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় খুব। তা হলো- যুবক বয়সে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান।

নিজের ভরণ পোষণ নিজেকেই করতে হয়। প্রতিবন্ধী হলেও সরকারি-বেসরকারি কোনও মহল থেকে কোনও ধরনের ভাতা পান না।

মনের এসব দুঃখকে সঙ্গী করে এবং প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষার্থে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বলে হাসিমুখে জানালেন শহীদুল্লাহ ওরফে দুলা খুড়া।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
Reply

Bookmarks


Currently Active Users Viewing This Thread: 1 (0 members and 1 guests)
 
Thread Tools
Display Modes

Posting Rules
You may not post new threads
You may not post replies
You may not post attachments
You may not edit your posts

BB code is On
Smilies are On
[IMG] code is On
HTML code is On



All times are GMT -5. The time now is 05:14 PM.


Powered by vBulletin® Version 3.8.7
Copyright ©2000 - 2014, vBulletin Solutions, Inc.
BanglaCricket.com
 

About Us | Contact Us | Privacy Policy | Partner Sites | Useful Links | Banners |

© BanglaCricket