facebook Twitter RSS Feed YouTube StumbleUpon

Home | Forum | Chat | Tours | Articles | Pictures | News | Tools | History | Tourism | Search

 
 


Go Back   BanglaCricket Forum > Miscellaneous > Forget Cricket

Forget Cricket Talk about anything [within Board Rules, of course :) ]

Reply
 
Thread Tools Display Modes
  #126  
Old April 10, 2012, 02:54 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

আমি খুব কাছে থেকে ভূত দেখেছি : জুয়েল আইচ
--------------------------------------------------------------------------------
বিপুল হাসান
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম


ছবি: শোয়েব মিথুন/বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম

আমাদের জুয়েল আইচ, দ্য গ্রেট ম্যাজিশিয়ন। ১০ এপ্রিল তিনি দেখেছিলেন পৃথিবীর মুখ, হ্যাপি বার্থ ডে টু জুয়েল আইচ। বাংলাদেশের জাদুশিল্পের পথিকৃত জুয়েল আইচকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে বাংলানিউজ গিয়েছিল তার উত্তরার বাসভবন ম্যাজিক ক্যাসেলে। লিফট থেকে নামতেই দেখা গেল সদা বিনয়ী জুয়েল আইচ দাঁড়িয়ে আছেন খোলা দরোজায়, মুখে তার সেই চেনা হাসি।

জুয়েল আইচ শুধু একজন জাদুকরই নয়, তিনি একজন ধ্র“পদী বাঁশিবাদক। কিছুদিন আগে এক প্রদর্শনীতে দেখা গেল বাঁশি বাজাচ্ছেন জুয়েল আইচ। পাশে দাঁড়ানো স্ত্রী বিপাশা আইচ বাঁশির সুরে তন্ময়। ধীরে ধীরে তার চোখ বুঁজে এলো। বাঁশির সুর ক্রমশই তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠলো। আর কী আশ্চর্য বাঁশির সুরে ধীরে ধীরে শুন্যে ভাসলেন বিপাশা। শুধু কী তাই ! গিলোটিনের ভেতর ঘাড় পেতে দিলেন বিপাশা আইচ। জুয়েল আইচের হাতে ঝকঝকে বৈদ্যুতিক করাত। কী পাষণ্ড মানুষ তিনি! বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে প্রিয়তমা স্ত্রীর ঘাড় বরাবর নামিয়ে আনলেন ধাঁরালো করাত। আতঙ্কে শিউরে উঠলো দর্শকেরা। কিন্তু কী তাজ্জব, অক্ষতই রইলেন বিপাশা। হাসি মুখে গিলোটিন থেকে ঘাড় সরিয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে মাথা নোয়ালেন। অভিভূত দর্শক দেখলো গিলোটিনের ওপর আর নিচের ফুটোয় রাখা গাজরগুলো করাত-কাটা হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

এই হলেন আমাদের প্রিয় ম্যাজিশিয়ান জুয়েল আইচ, যিনি বিনোদন থেকে জাদুকে শিল্পের মর্যাদায় উন্নীত করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে সুপরিচিত ও সম্মানিত করেছেন। তিনি কেবল জাদুশিল্পী বা বাঁশিবাদকই নন, একাধারে চিত্রশিল্পী-সমাজসেবী এবং একাত্তরের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

আসুন জাদুকর জুয়েল আইচের জন্মদিনে তার সঙ্গে বাংলানিউজের একান্ত আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশে চোখ রাখি।

বাংলানিউজ : শুরুতেই আপনার শৈশবের গল্প শুনতে চাই।
জুয়েল আইচ : আমি গ্রামের ছেলে। আমার জন্ম পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার সমদেকাঠির গ্রামে। আমার বাবা বি.কে আইচ, তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। মা ছিলেন গৃহিনী। আমরা ৬ বোন ৩ ভাই। আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি হয় গ্রামেই, সমদেকাঠি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ক্লাস থ্রি পর্যন্ত গ্রামেই ছিলাম। বাবা ব্যবসার কাজে সপ্তাহের ছুটির দিন ছাড়া থাকতেন পিরোজপুর শহরে। ক্লাস ফোরে উঠার পর তিনি আমাকে তার কাছে নিয়ে যান। গ্রামের স্কুল থেকে এনে পিরোজপুর সরকারী হাই স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। খুব মন খারাপ হয়েছিল আমার, বাবার উপর রাগও হয়েছিল। সবাই থাকবে গ্রামে আর বাবা আমাকে শহরে নিজের কাছে নিয়ে আসলেন। বাবা যে আমাকে খুব ভালোবাসেন, সেটা আমি বুঝতে পারি অনেক পরে। বাবার মৃত্যুর পর। আসলে আমার মতো অনেকেই বাবার ভালোবাসা টের পায়, বাবা মারা যাবার পর।

বাংলানিউজ : আপনি তো খুব ভালো ছাত্র ছিলেন?
জুয়েল আইচ : স্কুল জীবন থেকে সবসময় ভালো রেজাল্ট করেছি। ভালো রেজাল্ট করার পেছনের কারণটা হলো, ছোটবেলা থেকেই আমি আশেপাশের মানুষের হাসি মুখ দেখতে ভালোবাসি। ভালো রেজাল্ট করলে সবাই খুব খুশি হবে, এটাই ছিল আমার ভালো রেজাল্টের আসল কারণ। ছোটবেলা থেকেই আমি মানুষকে মুগ্ধ করতে চাইতাম, এখনও তাই চাই। ম্যাজিক দেখিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করা যায়। মানুষ মুগ্ধ হবে আমার ম্যাজিক দেখে। ম্যাজিকের প্রতি ঝোঁকার এটিও অন্যতম কারণ।

বাংলানিউজ : ছোটবেলায় কী হতে চেয়েছিলেন? ম্যাজিশিয়ন অর্থাৎ জাদুশিল্পী হওয়ার স্বপ্নটা তৈরি হলো কীভাবে?
জুয়েল আইচ : অনেক কিছুই তো হতে চেয়েছি ছোটবেলায়। ছোটবেলা থেকেই আমার ঝোঁক তৈরি হয় ছবি আঁকার প্রতি। আমার বাবার শখ ছিল ছবি আঁকা। তার দেখাদেখি আমিও ছবি আঁকা শুরু করি। ছবি আঁকার সেই অভ্যাস এখনো আছে। গ্রামের মেলায় একবার দেখলাম এক বাঁশিওয়ালাকে, বাঁশি বাজিয়ে বাজিয়ে বাঁশি বিক্রি করছে। আমারও ইচ্ছে হলো বাঁশিওয়ালা হওয়ার। শুরু হলো আমার বাঁশি বাজানোর কসরত। একবার আমাদের গ্রামে বেদেবহর এসেছিল। বেদে দলের কাছ থেকেই আমি প্রথম জাদু দেখি। ঠিক কী জাদু দেখেছিলাম মনে নেই, তবে চমৎকৃত হয়েছিলাম এটা বলতে পারি। জাদুর প্রতি আকর্ষণটা তৈরি হয় আরো অনেক পরে। বানারীপাড়া সার্কাস দলের এক জাদুকরের জাদু দেখে তো হতবাক আমি। সেই জাদুকর একটা ছেলের গলা কেটে ফেলছে, আবার জাদু দিয়ে গলা জোড়া লাগিয়ে দিচ্ছে । ঠিক করলাম, আমিও জাদু শিখবো। ছোটবেলায় রূপকথা পড়তে আমি খুব পছন্দ করতাম। বন্দে আলী মিয়ার রূপকথা ছিল আমার খুব প্রিয়। স্বপ্নে প্রায় দেখতাম, আমি বন্দে আলী মিয়ার রূপকথার জাদুর দেশে চলে গেছি। জাদু দিয়ে পাল্টে দিচ্ছি সবকিছু। জাদুর প্রতি আমার আকর্ষণটা উন্মাদনায় পরিণত হয় কলেজে উঠার পর, সিরাজগঞ্জের জাদুকর আবদুর রশিদের জাদু দেখে। সচেতনভাবে একজন জাদুশিল্পী হওয়ার স্বপ্নটা বোধহয় তখন থেকেই দেখতে শুরু করি। ম্যাজিক সম্পর্কিত রাজ্যের বইপত্র ঘাটাঘাটি করে শুরু করলাম ম্যাজিক প্র্যাকটিস। তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাকে সেই স্বপ্ন নিয়ে তখন বেশি দূর যেতে দেয় নি। একাত্তরে পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। আমরা প্রাণ নিয়ে কোনরকমে পালিয়ে বাঁচি। জাদুর যেসব যন্ত্রপাতি আমি তৈরি করেছিলাম সব পুড়ে ছাড়খার।

বাংলানিউজ : আমরা জানি আপনি একাত্তরের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন কোন প্রেরণায়?
জুয়েল আইচ : আসলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কোনো পূর্ব প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ করবো, এরকম চিন্তাভাবনা আমার আগে থেকে ছিল না। কারণ আমি প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে কখনোই যুক্ত ছিলাম না। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মনে হলো, দেশে থাকলে মরতে হবে। মরতে যখন হবেই তো এভাবে মার খেয়ে কাপুরুষের মতো মরে যাওয়া ঠিক হবে না। মরবো যখন লড়াই করে মরবো, যুদ্ধ করে মরবো। অবশ্য আগেই উপলব্ধি করেছিলাম যে, পাকিস্তান কিছুতেই আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেবে না। পাকিস্তান আমাদের অধিকার বঞ্চিত করে রাখবে। এ থেকে বেরিয়ে আসাতে হলে আমাদের সশস্ত্র সংগ্রাম করতে হবে।

বাংলানিউজ : আপনার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের কিছু স্মৃতির কথা বলুন?
জুয়েল আইচ : আমি খানিকটা ভীতুপ্রকৃতির ছেলে ছিলাম। কোথাও গাড়ির চাকা বাস্ট হলে আমার পিলে চমকে যেত। বোমাবাজি-মারামারির ভয়ে ছাত্র রাজনীতি থেকে দূরে ছিলাম। সেই আমিই কী করে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি এলএমজি চালিয়েছি, সেটা এখনও আমার কাছে ম্যাজিকের মতো মনে হয়। সেই ম্যাজিকটা হলো ‘স্বাধীনতার স্বপ্ন’। আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেই ৯ নম্বর সেক্টরের হয়ে। আমাদের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জলিল। ছোট বড় অনেক অপারেশনেই আমি অংশ নেই। সবচেয়ে বড় অপারেশনটা করেছিলাম পিরোজপুর জেলার স্বরুপকাঠি থানায়। সেখানে পেয়ারাবাগান নামের একটা জায়গায় পাকিস্তানি মিলিটারিদের একটি ব্যাটালিয়ান ক্যাম্প করেছিল। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ছোট্ট একটা গ্র“প নিয়ে সেই ক্যাম্পে হামলা চালাই। হানাদারদের সঙ্গে সেখানে সম্মুখযুদ্ধ হয়েছিল। একপর্যায়ে তারা আমাদের আক্রমনে পিছু হটে এবং পালিয়ে যায়। যুদ্ধ জয়ের আনন্দটা কী সেসময় টের পেয়েছিলাম।

বাংলানিউজ : মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলেই কী পেশাদার ম্যাজিশিয়ান হিসেবে জাদুশিল্পে নিবেদিত হন?
জুয়েল আইচ : নাহ, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পেশা হিসেবে আমি শিক্ষকতা বেছে নেই। জগন্নাথ কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করে একজন শিক্ষক হওয়ার জন্য ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে বিএড কোর্স করি। পিরোজপুরেরই একটি স্কুলে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু হয়েছিল আমার। মুক্তিযুদ্ধের সময় তো আগুনে পুড়ে ম্যাজিকের সব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকতার পাশাপাশি আবার টুকটাক করে যন্ত্রপাতি তৈরি করা শুরু করি। স্বাধীনতার বছর দুয়েক পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা হকি ম্যাচ হয়েছিল। খেলায় পাকিস্তানের কাছে আমরা ১৭ গোলে হেরেছিলাম। এই ঘটনাটি আমাকে প্রচন্ড নাড়া দেয়। যাদের আমরা যুদ্ধ করে হারিয়েছি, তাদের কাছে এতো বড় পরাজয়টা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। তখনই মনের মধ্যে একটা আলাদা জেদ তৈরি হয়। ঠিক করি আমাকে এমন কিছু করতে হবে যাতে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়ে। আমাদের যে হাজার বছরের ঝলমলে ঐতিহ্য আছে, তা পৃথিবীর মানুষকে জানাতে হবে। আমাদের বাংলা অঞ্চলে জাদু এমন একটি শিল্প, যা হাজার বছরের পুরনো। এই ভাবনা থেকেই আমি পেশাদার জাদুশিল্পী হওয়ার প্রেরণা পাই। ছোটখাট ঘরোয়া অনুষ্ঠানে জাদু দেখালেও প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পাবলিক শো করি আমি ১৯৭৩ সালে। আমাদের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি থানার স্বরূপা সিনেমা হলে। মনে আছে, শোতে আমার এক ছোট ভাইকে আমি শূন্যে ভাসিয়েছিলাম। এরপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় শো করা শুরু করি। ঢাকায় প্রথম শো করি ছিয়াত্তরের দিকে। এর বছর খানেক পরই শুরু হয় বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে নিয়মিত জাদু দেখানো।

বাংলানিউজ : আপনাকে একটা সময় টিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত জাদু প্রদর্শন করতে দেখা গেলেও গত কয়েকবছর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশেও আপনাকে খুব বেশি শো করতে ইদানিং দেখা যায় না। এর কারণ কী?
জুয়েল আইচ : আসলে দীর্ঘদিন ধরে তো জাদুশিল্পের সঙ্গে জড়িত আছি। এখন যেটা হয়েছে, ম্যাজিকের ক্ষেত্রে আমি ইন্টারন্যাশানাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করি। আজকাল ছোট্ট একটা স্টুডিওতে সীমিত পরিসরে একেকটা টিভিপ্রোগ্রাম তৈরি হয়। এসব প্রোগ্রামে এতো সীমাবদ্ধতার মাঝে কোনোভাবেই সেই স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখা সম্ভব নয়। তবুও আমার প্রিয় দর্শক-বন্ধুদের কথা ভেবে বছরে ২/১টা অনুষ্ঠানে ম্যাজিক দেখানোর চেষ্টা করি। দেশেও গত কয়েকবছর হলো বড় বড় ভেন্যু ছাড়া আমি শো করছি না। এটার কারণও সেই ইন্টারন্যাশানাল স্টান্ডার্ড বজায় রাখার চেষ্টা। এই স্টান্ডার্ড বজায় রাখতে গিয়ে শোর বাজেটও অনেক হয়ে যায়। কিন্তু ম্যাজিককে একটা স্টান্ডার্ড জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পর তা থেকে তো সরে আসা যায় না। দেশের বাইরেই গত কয়েক বছর ধরে আমি তুলনামুলক বেশি পারফর্ম করি। আমার জাদুতে থাকে দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া। জাদু দিয়েই দেশকে বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করছি।

বাংলানিউজ : এবার একটু অন্যরকম প্রশ্ন, আপনি কী ভূত বিশ্বাস করেন?
জুয়েল আইচ : ওরে বাবা, ভূত বিশ্বাস না করে কী উপায় আছে! কারণ আমি খুব কাছে থেকে ভূত দেখেছি। আগে ঢাকা থেকে লঞ্চে নিয়মিত পিরোজপুর যাতায়াত করতাম। গভীর রাতে গ্রামের কাছাকাছি একটি ঘাটে লঞ্চ থেকে নামতাম। এক একা বনজঙ্গলে ঘেরা নির্জন পথ ধরে কয়েক মাইল হেঁটে বাড়ি পৌঁছাতে হতো। সে সময়ই একাধিকবার ভয়ংকর সব ভূত-প্রেতের খপ্পড়ে পড়ি। এরকমই একটা বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘটনা বলি। প্রায় শেষ রাত। একটা শ্বশান ঘাট পাড় হয়ে বিলের মতো একটা জায়গার পাশ দিয়ে বাড়ির পথে হাঁটছি। পথে ঝোপঝাঁড়। একটু ভয় ভয় লাগছিল, তাই খুব দ্রুত হাঁটছিলাম। হঠাৎ দেখি, একটা ঝোঁপের ধারে একটা বউ বসে আছে। মাথায় ঘোমটা দেওয়া একটা ছোট্ট বউ। এতো রাতে এই নির্জন জায়গায় বউ আসবে কোথা থেকে? এটা কী ! ভালো করে তাকাতেই দেখি বউটা আমার উদ্দেশ্যে মাথা নাড়ছে। হৃদপিণ্ড ধরাস করে উঠলো, আতংকে পা ফেলতে ভুলে গেছি। বউটা থেকে চোখও সরাতে পারছি না। শীতল একটা হাওয়া বয়ে গেল। বউটা এবার জোরে জোরে মাথা নাড়তে শুরু করলো, অর্থাৎ আমাকে সে কাছে ডাকছে। বুঝলাম আমার সময় ঘনিয়ে এসেছে, আর রক্ষা নেই। মরতে যখন হবেই, তখন শুনি বউটা আমাকে কী বলতে চায়। খুব কষ্টে দুরু দুরু বুকে বউটার কাছে গেলাম। এবার হতাশ হতে হলো আমাকে। ঝোঁপের ধারে বিশাল একটা মান কঁচু গাছ। মান কঁচুর একটা পাতার উপর বিল থেকে প্রতিফলিত হালকা আলো এমনভাবে পড়েছে যে মনে হচ্ছে, একটা বউ ঘোমটা মাথায় বসে আছে। বাতাসে কাঁপছে পাতা, মনে হচ্ছে বউটা মাথা নাড়ছে। আরেকবার বাঁশঝাড় থেকে হঠাৎ লিকলিকে একটা হাত আমাকে ধরার জন্য বের হয়ে এসেছিল। চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হওয়ার আগে দেখি, ঝাঁড় থেকে একটা সরু বাঁশ বাতাসে হেলে পড়ছে বার বার। আমাদের প্রায় সবারই ভূত দেখার অভিজ্ঞতা এরকমই। অনেককেই বলতে শুনেছি, তারা ভূতের দেখা পেয়েছেন। ছুটে গেছি তাদের কাছে। কিন্তু কেউই ভূতের সঙ্গে আমাকে দেখা করিয়ে দিতে পারেন নি। আমার সঙ্গে দেখা করতে কেন জানি, কোনো ভূত-প্রেত রাজি হয় নি।

বাংলানিউজ : আপনি একবার ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, অলৌকিক বলে কিছু নেই। সবই লৌকিক। কেউ আপনাকে অলৌকিক কিছু দেখাতে পারলে তাকে মোটা অংকের পুরস্কার দিবেন? কোনো সাড়া পেয়েছিলেন কী?
জুয়েল আইচ : আসলে বিষয়টা ঠিক ওরকম নয়। আমাদের দেশের সিংহভাগ মানুষই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। এই সুযোগে কিছু অতি ধুরন্ধর প্রকৃতির মানুষ নিজেদের অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী বলে নানা কৌশলের মাধ্যমে সহজ-সরল মানুষকে প্রতারিত করছে। কেউ ফকির-দরবেশ সেজে মানুষ ঠকাচ্ছে। কেউ তাবিজ-কবজ বা মাজারের অলৌকিক ক্ষমতার কথা বলে বিপদাপন্ন মানুষদের ঠকিয়ে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে। এ ধরনের অলৌকিক ক্ষমতার দাবি আগেও ছিল, এখনও আছে। দৈনিক পত্রিকার পাতায় এরকম বিজ্ঞাপনও প্রতিদিন চোখে পড়ে। আমি অসম্ভব কৌতুহল নিয়ে অলৌকিক ক্ষমতাধর অনেকের কাছে ছুটে গেছি। কিন্তু কারও মাঝেই অলৌকিকতার কিছু খুঁজে পাই নি। খুবই সাধারণ কিছু জাদুর কৌশল কেবল কয়েকজনকে ব্যবহার করতে দেখেছি। মানুষকে এদের সম্পর্কে সচেতন করার জন্যই এই ঘোষণা দিয়েছিলাম। এখনও বলছি, যদি কেউ এরকম অলৌকিক শক্তির অধিকারী কাউকে দেখাতে পারেন, আমি তাকে অবশ্যই পুরস্কৃত করবো।

বাংলানিউজ : জাদুতেও কি অলৌকিক বলে কিছু নেই?
জুয়েল আইচ : না নেই। জাদু এমন একটি শিল্প, যা পুরোপুরি বিজ্ঞান সম্মত। জাদু প্রদর্শনের মধ্যে আছে কিছু কৌশল। তন্ত্রমন্ত্র বা জাদুর কাঠি জাদু প্রদর্শনের অলংকার মাত্র। জাদুর প্রাণ হলো বিজ্ঞান। গান বা নাচ শেখার জন্য যেমন চর্চার দরকার, তেমনি জাদু দেখানোর জন্যও চর্চা দরকার। চর্চার মাধ্যমে যিনি যতো ভালো করে কৌশলগুলো রপ্ত করতে পারবেন, তিনি ততো বড় জাদুকর।

বাংলানিউজ : আমাদের ‘ঈশ্বর’ লৌকিক নাকি অলৌকিক, আপনি কী ঈশ্বর বিশ্বাসী?
জুয়েল আইচ : ‘ঈশ্বর’ লৌকিক নাকি অলৌকিক, এ নিয়া কথা বলার চেয়ে বরং ঈশ্বর বিশ্বাসের কথা বলি। বিশ্বাস সবসময় সত্য। যেখান থেকে অবিশ্বাস শুরু, মিথ্যার সূচনা সেখানেই। আমার ঈশ্বর বিশ্বাসের জায়গাটা অনেক বড়। প্রচলিত ঈশ্বর বিশ্বাসের সঙ্গে তা হয়তো নাও মিলতে পারে। আমাদের এই সৌরজগত লক্ষ কোটি ছায়াপথের মধ্যে অনু-পরমানুর সমান। এই বিশাল ইউনিভার্সের অতি ক্ষুদ্র এক গ্রহ হলো পৃথিবী। এই পৃথিবীর অতি নগন্য এক প্রাণী আমরা। আমাদের মেধা-বুদ্ধি-ধারনা খুব সীমিত। আমাদের চিন্তাশক্তিও খুব সীমাবদ্ধ। চারপাশের গন্ডির মধ্যে ঘুরপাক খায় আমাদের চিন্তা-চেতনা। তাই ঈশ্বরের অসীম পরিধি কল্পনা করা আমাদের সাধ্যের বাইরে।

বাংলানিউজ : যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তার কতোটুকু পূরণ হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য?
জুয়েল আইচ : অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলাম। এই স্বপ্নে আবেগের পরিমানই ছিল বেশি, বাস্তবতা ছিল কম। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই বাস্তবতার মুখোমুখি হই, আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন হোঁচট খায়। মুক্তিযুদ্ধ করার সময় মনে হয় না কোনো মুক্তিযোদ্ধা কল্পনাও করে নি যে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চল্লিশ বছর পর এতোটা অসহিষ্ণু হয়ে উঠবে। তবু এখনো আমাদের স্বপ্ন দেখতেই হবে। তাই স্বপ্ন দেখি, অবশ্যই একদিন দেশের রাজনীতিকরা সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খা বুঁঝতে পারবেন। স্বপ্ন ছাড়া মানুষের জীবন অর্থহীন। স্বপ্নই মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা। স্বপ্নই আমাদের এখনও বাঁচিয়ে রেখেছে, আমরা বেঁচে আছি।


একনজরে জুয়েল আইচ

পুরো নাম : জুয়েল আইচ
ডাক নাম : জুয়েল
স্ত্রী : বিপাশা আইচ (গৃহিনী ও জাদুশিল্পের সহযোগী)
সন্তান : একটি (কন্যা : খেয়া আইচ)
জন্মদিন : ১০ এপ্রিল
জন্মস্থান : পিরোজপুর
বিয়ে : ১৯৮৫
মঞ্চে প্রথম জাদু প্রদর্শনী : ১৯৭৩ সালে
ঢাকায় প্রথম জাদু প্রদর্শনী : ১৯৭৬ সালে
মিডিয়ায় প্রথম যাদু প্রদর্শন : ১৯৭৮ সালে
দেশ ভ্রমণ : যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা, ইতালি, জার্মানি, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, সিঙ্গাপুর, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত এবং মধ্যপ্রাচ্যের সব কটি দেশ
প্রথম বিদেশ সফর : যুক্তরাষ্ট্র (১৯৮১ সালে)
প্রিয় যাদু শিল্পী : পিসি সরকার সিনিয়র, ডেভিড কপারফিল্ড

বাংলাদেশ সময় ০৩২৫, এপ্রিল ১০, ২০১২
ছবি : শোয়েব মিথুন
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #127  
Old April 10, 2012, 03:56 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

নতুন চিন্তাকে গুরুত্ব দাও
স্টিভ বলমার | তারিখ: ১১-০৪-২০১২

স্টিভ বলমার


মাইক্রোসফটের সিইও স্টিভ বলমার ১৯৫৬ সালের ২৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অবস্থায় ১৯৮১ সালে মাইক্রোসফটে যোগ দেন। ২০১১ সালের ১৩ মে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন স্টিভ বলমার

২০১১ সালের স্নাতকদের অভিনন্দন জানিয়ে আমার নিজের কথাগুলো শুরু করব। সবাই অনেক ভাবের কথা বলবে যে এটা পথচলার শুরু, নতুন জীবনের শুরু—এই সব। কিন্তু আমার কাছে এটা হলো আনন্দ উদ্যাপনের উপলক্ষ। কারণ এটা তোমাদের প্রাপ্য ছিল এবং তোমাদের পরিবারের সদস্যরাও এই কৃতিত্বের অংশীদার।

দুই বছর আগেও আমি তোমাদের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া সম্পর্কে কিছু জানতাম না। আমি এখানে কোনো দিন আসিওনি। দুই বছর আগে এখানে এসেছিলাম আমার সন্তানের গ্র্যাজুয়েশনের দিন। একটা গল্প বলি তোমাদের। কিছুদিন আগের কথা, আমি এখানে আসছিলাম, তখন আমার এক বন্ধুর ছেলে আমাকে দেখিয়ে বলল, ইউএসসি (ইউনিভার্সিট অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া) ভুয়া, আর ওর নিজের ইউসিএলএ (ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস) হলো সেরা। আমি তখন নিমেষের মধ্যে পকেট থেকে আমার উইন্ডোজ মুঠোফোন বের করে ওকে দেখিয়ে দিলাম যে র‌্যাংকিংয়ে ইউএসসির অবস্থান হলো ২৩ আর ইউসিএলএর অবস্থান ২৫। হাহ্ হাহ্ হাহ্!

আমরা এখন বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার আবিষ্কারের ৬০ বছর পার করে এসেছি। আজ প্রযুক্তি ছাড়া যে বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি তা ভাবতেই অবাক লাগে। শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, যোগাযোগ—সবকিছুতে আজ প্রযুক্তি ঢুকে গেছে। আমি আমার সামনে উপবিষ্ট অভিভাবকদের প্রশ্ন করব, আপনারা কি ছাত্রজীবনে কখনো ওয়ার্ড প্রসেসর, কম্পিউটার এসবের সাহায্যে কোনো টার্ম পেপার বা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়েছেন?

আমি যখন মাইক্রোসফটে যোগ দিই তখন আমার পড়াশোনা শেষ হয়নি। আমি তখন এমবিএ পড়ছিলাম। তখন আমার এক বন্ধু, ওর নাম বিল গেটস, আমাকে বলল, ‘আ রে পড়াশোনা বাদ দিয়ে আমার সাথে যোগ দাও না কেন?’ পড়াশোনা বাদ দেওয়াটা আমার বাবা-মা সহজে মেনে নেবেন না এটা জানতাম। যা-ই হোক, বাসায় গিয়ে এ কথা তুলতেই আঁতকে উঠল বাবা-মা। বাবা-মার জেরা শুরু হলো, ‘পড়াশোনা বাদ দিয়ে কার সঙ্গে যোগ দিচ্ছ? কী করে ওরা?’ আমি বলি, ‘সফটওয়্যার তৈরি করে।’ মা বলে, ‘সফটওয়্যার জিনিসটা কী?’ ভেঙে বলি আমি। শুনে মা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলে, ‘মানুষ কম্পিউটার নিয়ে কী করবে? এটার আবার কী দরকার!’ সময়টা ছিল আশির দশক। আর এখন কী অবস্থা দেখো। এখনো আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

আমি তোমাদের শুধু তিনটা বিষয় নিয়েই ভাবতে বলব।

প্রথমত, নতুন ভাবনা, মৌলিক চিন্তাকে গুরুত্ব দাও।

মাইক্রোসফট কিন্তু শুধু একটা মৌলিক চিন্তাকে, নতুন ভাবনাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। সেই সঙ্গে ছিল বিল গেটস আর পল অ্যালেনের অসাধারণ নেতৃত্ব যা আর কোনো প্রতিষ্ঠান পেয়েছে কি না সন্দেহ। মাইক্রো প্রসেসর চালানোর মতো সফটওয়্যার দিয়েই কম্পিউটার হলো। সেই কম্পিউটার ছড়িয়ে গেল সবখানে। গবেষণাগারে, অফিসে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এরপর প্রতিটি বাসায় স্থান করে নিল এই প্রযুক্তি। এখন এই প্রযুক্তি তো পকেটেও চলে এসেছে, ছড়িয়ে যাচ্ছে টেলিভিশনেও। আর এ সবই কিন্তু একটা ছোট্ট ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়েই হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, সুপ্ত আগ্রহ।

এটা কিন্তু খুব সহজ জিনিস নয়। অনেকেই মনে করে, এটা হয়তো নিজে থেকেই চলে আসে। অনেকের ধারণা, এটা যার থাকে তার এমনিতেই থাকে, আবার যার থাকে না তার থাকেই না। আমি তোমাদের বলব, এই ধারণাটা ভুল ছাড়া আর কিছুই না। নিজে মন, প্রাণ, মস্তিষ্ক দিয়ে খাটলে এটা কিছুই না। নিজের আসল আগ্রহ কিসে সেটা তোমাকে নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে। এমন কিছুর সঙ্গে জড়িত হও, কাজ করার সময় নিজের পছন্দের ক্ষেত্র এমনভাবে বেছে নাও, যেন দুর্দিন এলেও মাথা উঁচু করে বলতে পারো, ‘যত সমস্যাই হোক না কেন, আমি আমার নিজের কাজ ভালোবাসি।’

এবং শেষটি হলো, লেগে থাকতে হবে সব সময়। কোনো কিছুতে হার মানা যাবে না।

চলার পথ কখনোই সহজ হবে না। কিন্তু হেরে গেলে চলবে না। লেগে থাকতে হবে সব সময়। আমাদের কথাই ধরো, আমাদের সময় শুধু মাইক্রোসফট একা নয়, একই সময় আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বাজারে এসেছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে অধিকাংশই আজ ধুলোয় মুছে গেছে। অথচ আজও মাইক্রোসফট টিকে আছে। এর কারণ একটাই, আমরা কখনো হার মানতে রাজি ছিলাম না। আমাদের অনেক কঠিন সময় এসেছে, যখন মনে হয়েছে বাজার থেকে ছিটকে পড়তে হবে আমাদের, কিন্তু আমরা ঠিকই ফিরে এসেছি আবার। কারণ আমরা সব সময় আমাদের কাজের পেছনে সময় দিয়েছি, দিন-রাত লেগে থেকেছি কাজের পেছনে। ঠিক একই ধরনের ইতিহাস অ্যাপল, গুগল, ফেসবুকেরও রয়েছে।
কথাগুলো শুধু প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যারা কাজ করবে তাদের বলছি না। যারা চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করবে, ব্যবসায় ক্যারিয়ার গড়বে, বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করবে, তাদের সবাইকে বলছি কথাগুলো। কখনো হার মেনে বসে থাকা যাবে না। সব সময় চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে, লেগে থাকতে হবে নিজের কাজের পেছনে। আমি জানি তোমরা পারবে। বিদায়।

সূত্র: ইন্টারনেট, ইংরেজি থেকে অনুবাদ:
ফয়সাল হাসান
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #128  
Old April 15, 2012, 01:41 PM
Dilscoop Dilscoop is offline
Cricket Guru
Commissioner, MLC
 
Join Date: March 22, 2010
Location: @Dilcommissioner
Posts: 10,758

Little boy lost finds his mother using Google Earth

This is some story!
__________________
Always doing Zeeshan's threads a favor.
Reply With Quote
  #129  
Old April 28, 2012, 03:04 AM
deshimon's Avatar
deshimon deshimon is offline
Cricket Legend
 
Join Date: February 17, 2011
Location: Dans le Monde
Favorite Player: Sakib, Mashrafi, Tamim
Posts: 3,780

স্যালুট সুবীর তোমায়

দিলীপ কুমার সাহা, নিকলী (কিশোরগঞ্জ)

অবসরটা সবাই নিজের মতো কাটায়। কেউ গান শোনে, কেউ বাগান করে। সুবীর বিশ্বাস অবসর কাটান শিশুদের পড়িয়ে। তা-ও বিনে পয়সায়। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া ও গরিব ঘরের শিশুরা তাঁর ছাত্র। মাথার ওপর ছাউনি নেই। নেই বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল। আছেন শুধু সুবীর। তাঁর টানেই ছুটে আসে শিশুরা। বিদ্যালয়ে না গেলেও পাঠশালায় তারা হাজির হয় ঠিকঠাক।
স্থানীয়দের কাছে এটি ‘গাছতলার পাঠশালা’ নামে পরিচিত। এখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীল কাজে অনুপ্রেরণা দেন সুবীর। জন্ম থেকেই তাঁর পা দুটি স্বাভাবিক নয়। হাত দুটি থেকেও না থাকার মতো। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে নিজে পড়ছেন, শিক্ষার আলোয় আলোকিত করছেন অন্যদেরও। নয় বছর আগে এই পাঠশালার যাত্রা শুরু। ঝরে পড়া অনেক শিশু সুবীরের ছায়াতলে এসে এখন বিদ্যালয়মুখী।
পাঠশালায় ছাত্রছাত্রী ৪৫ জন। এরা সবাই আশপাশের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় ছুটির পর বিকেলে তারা পাঠশালায় আসে। শুক্রবার বাদে সপ্তাহের ছয় দিন বেলা তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত পড়ানো হয় এখানে। শিক্ষার্থীরা কেউ পাঠশালার পড়ায় ফাঁকি দেয় না। সুবীর আদর করে তাদের চকলেট খাওয়ান। অভিভাবকেরাও ছেলেমেয়েদের খোঁজখবর নেন।
এই পাঠশালায় শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা, খেলাধুলা, বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ছবি আঁকা বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেন সুবীর। মাস শেষে নেন মূল্যায়ন পরীক্ষা।
সুবীরের বেড়ে ওঠা: বয়স তাঁর ২২। বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার অবদা গ্রামে। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে তিনি চতুর্থ। বাবা বারীন্দ্র বিশ্বাস খেটে খাওয়া মানুষ। শিশুকালে বন্ধুদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাওয়ার বায়না ধরতেন সুবীর। কিন্তু ছেলে যে আর দশটা শিশুর মতো নয়! কী করে বিদ্যালয়ে যাবে সে? বাবা-মায়ের এই দুশ্চিন্তা হার মানে সুবীরের আগ্রহের কাছে। ছেলেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন তাঁরা। ঘরে বসে লেখার চর্চা করে চলেন সুবীর। দুই হাতের মাঝে কলম চেপে লিখতে শেখেন।
অবদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পাস করেন। বাবার অভাবের সংসার। সুবীর চলে আসেন কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। উপজেলার গুরুই ইউনিয়নের শিবিরপাড়া গ্রামে মামা সাধন বিশ্বাসের বাড়িতে ঠাঁই হয় তাঁর। মামা সুবীরকে স্থানীয় হিলচিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন। বাড়ি থেকে বিদ্যালয় এক কিলোমিটার দূরের পথ। এই পা নিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে-আসতে উরু ফুলে যেত সুবীরের। তবু লেখাপড়া থামাননি।
এদিকে মামাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। ভাগনের পড়ার খরচ চালাতে মামারা হিমশিম খাচ্ছিলেন। সেটা ২০০৩ সালের কথা। সুবীর তখন নবম শ্রেণীর ছাত্র। গৃহশিক্ষকের কাজ শুরু করেন। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রদের পড়াতেন। গৃহশিক্ষকতার টাকায় নিজের পড়ার খরচ হয়ে যেত। কিন্তু ভেতরে অন্য তাগিদ অনুভব করতেন সুবীর। চোখের সামনে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া দেখে বড্ড মায়া হতো তাঁর। একদিন ওদের নিয়ে কাজে নেমে পড়লেন। ২০০৩ সাল থেকে শুরু, আজও পথচলা থামেনি।
নিজের পড়া, পাঠশালায় পড়ানোর পর গৃহশিক্ষকতা আজও ধরে রেখেছেন সুবীর। সন্ধ্যার পর বাড়িতে ১০ জন ছাত্রছাত্রী পড়ান। গৃহশিক্ষকতার সেই টাকায় পাঠশালার টুকটাক খরচাপাতি চলে।
‘অবসরটা ওদের দিলাম’: নিকলী সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে শিবিরপাড়া গ্রাম। মামাবাড়ির উঠানে সুবীরের পাঠশালা। জায়গাটি ছায়াঘেরা। সম্প্রতি এক বিকেলে ওই পাঠশালায় গিয়ে দেখা গেল, জনা চল্লিশেক শিশু সিমেন্টের বস্তার ওপর বসে আছে। মাথা দুলিয়ে কেউ পড়ছে, কেউ লিখছে। মাঝ বরাবর ফাঁকা স্থানটিতে চশমাপরা সুবীর একবার এদিকে, একবার ওদিকে যাচ্ছেন। মাঝে থেমে থেমে কাউকে পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছেন। কারোর মাথায় হাত বুলাচ্ছেন।
আগন্তুক দেখে এগিয়ে আসেন সুবীর। তিনি জানান তাঁর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং এই কাজে জড়িয়ে পড়ার গল্প। ‘নানা কারণে গ্রামের কিছু ছেলেমেয়ে স্কুলে যেতে চায় না। অনেকে পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ে। আবার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতে পারেন না। কিছু অভিভাবক নিজেরাও পড়ালেখা জানেন না। তাঁদের ছেলেমেয়েরা পড়ালেখায় খারাপ করছে। এসব সমস্যা আমাকে ভাবিয়ে তোলে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি যতটুকু জানি, অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেব।’ বললেন সুবীর।
পড়ানোর বিনিময়ে টাকা নেন না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সুবীর বলেন, ‘টাকা নেই না এই ভেবে, দুই ঘণ্টা আমি তাদের লেখাপাড়া করাই। এই দুই ঘণ্টা আমার কোনো কাজ থাকে না। তাই অবসর সময়টা না হয় ওদেরই দিলাম।’ ভবিষ্যতেও মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি।
ঝরে পড়াদের পড়াতে পড়াতে দুই-দুবার নিজেই ঝরতে বসেছিলেন, জানান সুবীর। ২০০৬ সালে মানবিক বিভাগে এসএসসি দিয়ে বি গ্রেডে পাস করেন। এসএসসি পরীক্ষার আগে ও পরে দুই বছর করে পড়াশোনায় বিরতি দেন। অভাবের জন্য চারটি বছর বিসর্জন দেওয়ায় আফসোসের অন্ত নেই তাঁর। ২০০৯ সালে বাজিতপুর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে চলতি বছর ব্যবসায় শিক্ষা থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
সবার কাছে প্রিয়: পশ্চিম গুরুই বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী নাছিমা আক্তার। সে প্রথম শ্রেণী থেকে এই পাঠশালায় পড়ছে। এখানে পড়তে খুব ভালো লাগে তার। একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র পার্থ রায় বলল, ‘কুনু দিন স্কুলে না গেলেও সুবীর স্যারের পাঠশালায় আসা বন্ধ করি না।’ তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আসলাম মিয়া বলল, ‘এখানে শুধু লেহাপড়া করি না। রাস্তায় ক্যামনে চলতে হয়, বড়দের কীভাবে সম্মান করতে হয়, তা-ও শিখি।’
এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুন মিয়া জানান, গত কয়েক বছরে তাঁদের বিদ্যালয় থেকে আনুমানিক ৩০ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। সুবীরের পাঠশালায় পড়ার পর তারা পুনরায় বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। তাদের কেউ এখন দ্বিতীয়, কেউবা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সুবীর ভাই-বোনের মমতা দিয়ে বাচ্চাদের লেখাপড়া শেখাচ্ছে। শিশুরা ওকে ছাড়া কিছু বোঝে না। অনেক ছাত্র স্কুলে না গেলেও তার পাঠশালায় ঠিকই যায়।’
গুরুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিফা আক্তার জানান, সুবীরের গাছতলায় যারা লেখাপড়া করে, তারা বিদ্যালয়েও ভালো ফল করে।
একটি ঘর হলে ভালো হতো: স্থানীয় অভিভাবক দেলোয়ারা বেগম জানান, তাঁর ছেলে তাসলিম প্রথম শ্রেণীতে পড়ার পর আর স্কুলে যেত না। এলাকার ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বিকেলে সুবীরের পাঠশালায় যাওয়া শুরু করে। এরপর পুনরায় বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এখন সে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে।
গুরুই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফজলুল হক বলেন, ‘সুবীরের ঋণ শোধ করার নয়। ৪০-৪৫টি শিশুকে পড়িয়ে কোনো টাকা-পয়সা নেয় না ছেলেটা। তাকে বারবার টাকা দিতে চেয়েও কোনো অভিভাবক টাকা দিতে পারেননি।’
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাঠশালাটি দেখতে গিয়ে শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য তাকে দুই হাজার টাকা দিয়েছি।’ সুবীরের পাঠশালার জন্য একটি ঘরের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
http://www.prothom-alo.com/detail/da...28/news/253648
__________________
Think a lot, speak a little.
Reply With Quote
  #130  
Old May 10, 2012, 12:22 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

চায়ের দোকান করেও জিপিএ-৫ প্রিয়ার

----------------------------------------------

পা দিয়ে লিখে এসএসসি পাশ করলো আয়েশা

--------------------------------------------------------------------------------
জেলা প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম


গাইবান্ধা: আয়েশা আক্তার জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই।

হাত না থাকলেও মনের জোরের কমতি ছিল না আয়েশার। তাই তো এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে খাতায় উত্তর লিখেছে পা দিয়ে। পরীক্ষায় পাসও করেছে বি-গ্রেডে। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চায় সে।

আয়েশা আক্তার সাঘাটা উপজেলার যোগীপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল লতিফের মেয়ে। ৪ বোনের মধ্যে আয়েশা আক্তার তৃতীয়। জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। তার বাবা আব্দুল লতিফ বিভিন্ন স্থানে দিন মজুরের কাজ করে অতিকষ্টে সংসার চালান।

অভাব অনাটনের কারণে অন্যান্য বোনেরা পড়াশুনা করতে পারেনি। তবে ছোট থেকেই পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ ছিল আয়েশার। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও মনের জোর তার অসীম। ভর্তি হয় স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পা দিয়েই সে খাতায় লেখে। ৫ম শ্রেণী পাশ করার পর ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয় কচুয়াহাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সহায়তায় সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কচুয়াহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, আয়েশা আক্তারের দু’হাত না থাকলেও পা দিয়েই সে সুন্দরভাবে লিখতে পারে। বিদ্যালয়ের প্রতিটি পরীক্ষায়ও সে পা দিয়ে লিখেই উত্তীর্ণ হয়। সংসারের অন্যান্য কাজও সে পা দিয়ে করতে পারে।

আয়েশা আক্তার জানায়, তার এই ফলাফলে সে সন্তুষ্ট। প্রতিবন্ধী হলেও সে সমাজের বোঝা হয়ে বাঁচতে চায় না। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সে সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো বাঁচতে চায়।

বাংলাদেশ সময়: ২০০১ ঘণ্টা, মে ১০, ২০১২
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #131  
Old May 12, 2012, 05:15 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

শ্রম-ঘামের অর্জন

বিশাল বাংলা ডেস্ক | তারিখ: ১৩-০৫-২০১২


মো. হাসান মোল্লা, রুবেল আলম, আরিফুল ইসলাম, মেহেদী মাসুদ,ইমাম হোসেন ও শামীম আহমেদ

অন্যের জমিতে শ্রম দিত হাসান মোল্লা ও শামীম আহমেদ। নির্মাণশ্রমিক ছিল রুবেল। আরিফুল ইসলাম চালাত ভ্যান। ছাতার কারিগর ছিল মাসুদ রানা। রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করত ইমাম হোসেন। দরিদ্র পরিবারের এসব ছেলে কায়িক শ্রমের পাশাপাশি পড়াশোনা করে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এরা সবাই পেয়েছে জিপিএ-৫।

প্রসঙ্গত, জিপিএ-৫ পাওয়া এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৫০ জনকে ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী তহবিল থেকে শিক্ষাবৃত্তি দেবে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী, প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।

বাবার সঙ্গে দিনমজুরি করত হাসান: বাবা ছত্তার মোল্লা দিনমজুরি করেন। এ কাজ করে টেনেটুনে পাঁচ সদস্যের সংসার চালান। অভাব থাকায় প্রায়ই হাসানকে তাঁর বাবার সঙ্গে কাজে যেতে হতো। তাই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া হতো না তার। দিনের বেলা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে রাতে পড়তে বসত। সে কলাপাড়া উপজেলার তেগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার বাড়ি আজিমুদ্দিন গ্রামে।

ভালো ফলাফলের পরও হাসানের বাবা-মার মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। মা আমেনা বেগম বলেন, ‘মোরা খাইয়া না-খাইয়া দিন কাডাই। হেইয়ার মধ্যেও মোর পোলাডা কত কষ্ট কই র‌্যা ল্যাহাপড়া করছে। এত কষ্টের পরও হুনছি ও ভালো পাস করছে। এ্যাহন সামনে যে ক্যামনে অর ল্যাহাপড়া চলবে, হেই চিন্তায় ঘুম অয় না।’
নির্মাণশ্রমিকের কাজ করত রুবেল: বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভরনশাহী গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম রুবেল আলমের। বাবা শহিদুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক। ভ্যান চালিয়ে যা রোজগার হয়, তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই রুবেলকে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে। বিদ্যালয়ে না গিয়ে প্রায়ই এ কাজ করতে হতো তাকে। সে ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, রুবেল বেশ মেধাবী। উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে সে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।

ভ্যান চালানোর ফাঁকে পড়ত আরিফুল: রিকশাচালক বাবা আবদুল আলিমের আয়ে সংসার চলত না। সংসারের খরচ জোগাতে সেই ছোটবেলা থেকেই ভ্যান চালাতে শুরু করে। সুযোগ পেলে বিদ্যালয়ে যেত। তাদের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কুসুমসাড়া গ্রামে। সে এবার উপজেলার সমশিরা উচ্চবিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। সে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল।

বাবা আবদুল আলিম বলেন, ‘কেরোসিন কেনার টাকা ছিল না। রাতে বেশিক্ষণ সে পড়তেও পারত না। সকালে দুই ঘণ্টা ভ্যান চালিয়ে বিদ্যালয়ে যেত। বিকেলে বাড়ি ফিরে আবার ভ্যান নিয়ে বের হতো।’
ছাতা মেরামত করত মাসুদ: ভালো ফলাফল করার আনন্দে সবাই যখন বিভোর, তখন ছাতা মেরামতের কাজে ব্যস্ত ছিল মেহেদী মাসুদ। বাড়ি তার নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বর্ণাকান্দা গ্রামে। বাবার নাম নুরুল ইসলাম। মাসুদ পূর্বধলা জগৎ মণি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেকে ঠিকমতো খাওয়াতে ও জামা-কাপড় কিনে দিতে পারিনি। তার পরও এমন ভালো ফলাফল করে সমাজে সে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে।’

পূর্বধলা জগৎ মণি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু শেখর তালুকদার বলেন, ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও মেহেদী মাসুদকে সহায়তা করেছে। তার কাছ থেকে কোনো বেতন বা ফি নেওয়া হয়নি। ব্যক্তিগতভাবেও আমি তাকে সাহায্য করেছি। ভবিষ্যতে সহযোগিতা পেলে সে প্রাথমিক, নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিকের মতো উচ্চস্তরেও ভালো ফল করবে।’

রাজমিস্ত্রির জোগালি ছিল ইমাম: ইমামের বাবা দিনিয়ার আলী রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। কিন্তু তিনি যা আয় করতেন তা দিয়ে সংসার চলত না। মা-বাবার কষ্ট দূর করতে রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করে ইমাম হোসেন। বিদ্যালয়ের ছুটির দিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এ কাজ করত সে। এত সমস্যার মধ্যেও নিয়মিত লেখাপড়া করে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার জোবেদা সোহরাব মডেল একাডেমী থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

ইমামের বাবা যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা দিনিয়ার আলী জানান, ছোটবেলা থেকে ইমাম লেখাপড়ায় খুব ভালো। ওর শিক্ষকেরা বলেন, ইমাম অনেক বড় হবে। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে ইমাম লেখাপড়া না করে ঘুমাত না।

অন্যের জমিতে শ্রম দিত শামীম: বাবা অছিম উদ্দিন অন্যের জমিতে কাজ করেন। এ রকম একটি পরিবারে জন্ম হলেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে শামীম। বিদ্যালয় ছুটির দিন কৃষিশ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে তাকে। এমনকি ফল প্রকাশের দিনও মাঠে কাজ করতে হয়েছে তাকে। তাদের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পিপুলেশ্বর গ্রামে। সে নালিতাবাড়ীর উত্তর নাকশি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।

বাবা অছিম উদ্দিন জানান, তাঁর ছেলে পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করেছে। এখন তাকে কোনো কলেজে ভর্তি করতে হবে। কিন্তু তাকে লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য তাঁর নেই।

উত্তর নাকশী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শামীমের লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। সে অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও নিজে পরিশ্রম করে টাকা-পয়সা উপার্জন করে পড়াশুনা করেছে। আমরা তাকে স্কুলে বিনা বেতনে পড়িয়েছি।’

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নেছার উদ্দিন আহমেদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী); মাসুদ রানা, ধুনট (বগুড়া); আনোয়ার পারভেজ, কালাই (জয়পুরহাট); গোলাম মোস্তফা, পূর্বধলা (নেত্রকোনা); কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা; দেবাশীষ সাহা রায়, শেরপুর]
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #132  
Old May 14, 2012, 12:41 AM
mar umpire's Avatar
mar umpire mar umpire is offline
Test Cricketer
 
Join Date: March 22, 2010
Location: To Infinty and beyond-Gamma quadrant
Favorite Player: Buzz Lightyear
Posts: 1,173

Hope these guys more opportunities in the future
__________________
"Now all of you line up alphabetically according to height"-anonymous Rugby Union coach
Reply With Quote
  #133  
Old May 14, 2012, 12:52 AM
Navo's Avatar
Navo Navo is offline
Moderator
BC Editorial Team
 
Join Date: April 3, 2011
Location: Dhaka
Favorite Player: Shakib, M. Waugh, Bevan
Posts: 3,514

Ivy League school janitor graduates with honors



NEW YORK (AP) — For years, Gac Filipaj mopped floors, cleaned toilets and took out trash at Columbia University.

A refugee from war-torn Yugoslavia, he eked out a living working for the Ivy League school. But Sunday was payback time: The 52-year-old janitor donned a cap and gown to graduate with a bachelor's degree in classics.

As a Columbia employee, he didn't have to pay for the classes he took. His favorite subject was the Roman philosopher and statesman Seneca, the janitor said during a break from his work at Lerner Hall, the student union building he cleans.

"I love Seneca's letters because they're written in the spirit in which I was educated in my family — not to look for fame and fortune, but to have a simple, honest, honorable life," he said.

His graduation with honors capped a dozen years of studies, including readings in ancient Latin and Greek.

"This is a man with great pride, whether he's doing custodial work or academics," said Peter Awn, dean of Columbia's School of General Studies and professor of Islamic studies. "He is immensely humble and grateful, but he's one individual who makes his own future."

Filipaj was accepted at Columbia after first learning English; his mother tongue is Albanian.
For Filipaj, the degree comes after years of studying late into the night in his Bronx apartment, where he'd open his books after a 2:30-11 p.m. shift as a "heavy cleaner" — his job title. Before exam time or to finish a paper, he'd pull all-nighters, then go to class in the morning and then to work.

On Sunday morning in the sun-drenched grassy quad of Columbia's Manhattan campus, Filipaj flashed a huge smile and a thumbs-up as he walked off the podium after a handshake from Columbia President Lee Bollinger.

Later, Filipaj got a big hug from his boss, Donald Schlosser, Columbia's assistant vice president for campus operations.

Bollinger presided over a ceremony in which General Studies students received their graduation certificates. They also can attend Wednesday's commencement of all Columbia graduates, most of whom are in their 20s.

Filipaj wasn't much older in 1992 when he left Montenegro, then a Yugoslav republic facing a brutal civil war.

An ethnic Albanian and Roman Catholic, he left his family farm in the tiny village of Donja Klezna outside the city of Ulcinj because he was about to be drafted into the Yugoslav army led by Serbs, who considered many Albanians their enemy.

He fled after almost finishing law school in Belgrade, Yugoslavia's capital, where he commuted for years by train from Montenegro.

At first in New York, his uncle in the Bronx offered him shelter while he worked as a restaurant busboy.

"I asked people, which are the best schools in New York?" he says. Since Columbia topped his list, "I went there to see if I could get a job."

Part of his $22-an-hour janitor's pay still goes back to his brother, sister-in-law and two kids in Montenegro. Filipaj has no computer, but he bought one for the family, whose income comes mostly from selling milk.

Filipaj also saves by not paying for a cellphone; he can only be reached via landline.

He wishes his father were alive to enjoy his achievement. The elder Filipaj died in April, and the son flew over for the funeral, returning three days later for work and classes.

To relax at home, he enjoys an occasional cigarette and some "grappa" brandy.

"And if I have too much, I just go to sleep," he says, laughing.

During an interview with The Associated Press in a Lerner Hall conference room, Filipaj didn't show the slightest regret or bitterness about his tough life. Instead, he cheerfully described encounters with surprised younger students who wonder why their classmate is cleaning up after them.

"They say, 'Aren't you...?'" he said with a grin.

His ambition is to get a master's degree, maybe even a Ph.D., in Roman and Greek classics. Someday, he hopes to become a teacher, while translating his favorite classics into Albanian.

For now, he's trying to get "a better job," maybe as supervisor of custodians or something similar, at Columbia if possible.

He's not interested in furthering his studies to make more money.

"The richness is in me, in my heart and in my head, not in my pockets," said Filipaj, who is now an American citizen.

Soon after, the feisty, 5-foot-4 janitor picked up a broom and dustpan and went back to work.

Source
__________________
thebarnecessities.wordpress.com
Reply With Quote
  #134  
Old May 14, 2012, 01:20 AM
Rabz's Avatar
Rabz Rabz is offline
BanglaCricket Staff
BC - Bangladesh Representative
 
Join Date: February 28, 2005
Location: Here
Favorite Player: Father of BD Cricket
Posts: 20,464

^^ Thats remarkable. Very inspiring indeed.

"The richness is in me, in my heart and in my head, not in my pockets," said Filipaj,"

Thanks for sharing.
__________________
Verily, in the remembrance of Allah do hearts find rest [Al-Qur'an,13:28]
Reply With Quote
  #135  
Old May 22, 2012, 04:40 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

সফলদের স্বপ্নগাথা

শিখতে হবে সবখানে
সালমান খান | তারিখ: ২৩-০৫-২০১২


রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সালমান খান


শিক্ষার্থীদের মাঝে সালমান খান

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খানের জন্ম ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে। সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিন নির্বাচিত বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির মধ্যে স্থান পেয়েছেন সালমান। ১০ মে ২০১২ রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনি এই বক্তৃতা দেন।

আজ এখানে বক্তৃতা দিতে পারা আমার জন্য সত্যিই এক বিরাট সম্মানের ব্যাপার। আমি বেশ বুঝতে পারছি যে, এখানে দাঁড়ানোয় ৩৫ বছরের নিজেকে তোমাদের তুলনায় অনেক বয়স্ক দেখাচ্ছে! কিন্তু আমার নিজের কাছে মনে হচ্ছে, আমি যেন আমার ছোট ভাইবোনদের কিছু বলতে এসেছি। আজ আমি তোমাদের সঙ্গে কিছু চিন্তাভাবনা শেয়ার করতে চাই। এমন কিছু ব্যাপার, যা নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি, দেখতাম এবং এখনো দেখছি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমরা একটি বড় ডিগ্রি অর্জন করতে যাচ্ছো। নিঃসন্দেহে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্মান। এই সম্মান তোমাদের জীবনকে অনেকখানি এগিয়ে দেবে। তোমাদের এই অর্জন কাজে লাগিয়ে কীভাবে পৃথিবীর সামগ্রিক উন্নয়ন আরও বৃদ্ধি করা যায়, পৃথিবীটাকে আরেকটু সুন্দর করা যায়, সেটা নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে।

২০০৯ সালে আমি যখন খান একাডেমি শুরু করি তখন আমি একটা সাজানো-গোছানো, সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝপথে। আমার ভিডিওগুলো দেখে তখন পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে লোকজন ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লিখত। কিন্তু একদিকে চাকরি আরেকদিকে খান একাডেমি, দুটোকে একসঙ্গে সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আমি তখন আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমাদের হাতে কী পরিমাণ টাকা-পয়সা আছে তার হিসাব করতে বসলাম। আমি তাকে বোঝালাম কীভাবে খান একাডেমি দিয়ে শিক্ষার প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষের শেখার ধরনকেই আমূল বদলে ফেলা যাবে, কীভাবে পৃথিবীজুড়ে মানুষ ঘরে বসে বিনা খরচে শিখতে পারবে, সভ্যতাকে কত সহজে কতখানি এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। আর একবার এই সম্ভাবনা মানুষ বুঝতে পারলে এই মহৎ কাজে বিনিয়োগের অভাব হবে না। এমন এটাসেটা অনেক কিছু বুঝিয়ে আমি চাকরি ছেড়ে দিলাম! আর পুরোপুরি খান একাডেমির কাজে লেগে গেলাম। আস্তে আস্তে নয় মাস কেটে গেল, অনেক কিছু করতে চেষ্টা করলাম, অনেক লোকজনের সঙ্গে কথা বললাম, মিটিং করলাম। কিন্তু যা ভেবেছিলাম তার কিছুই হলো না।

সত্যি কথা বলতে কি, আজ যখন লোকে শোনে আমি হার্ভার্ড, এমআইটিতে পড়াশোনা করেছি, তারা মনে করে কত সহজেই না আমি ভিডিও বানানো শুরু করেছি আর রাতারাতি খান একাডেমি গড়ে তুলেছি। কিন্তু কেবল আমিই জানি সেই সময়গুলো কতটা কঠিন ছিল। দেয়ালে আমার পিঠ ঠেকে গিয়েছিল প্রায়। আমার তখন ৩২ বছর বয়স, একটি ছেলেও হয়েছে, বাড়ি কেনার জন্য ৩০-৪০ হাজার ডলার ডাউনপেমেন্ট দিতে হবে—এমন অনেক সমস্যা তখন আমাকে ঘিরে রেখেছে। সে সময় কেউ আমাকে দেখলে বলত আমি নির্ঘাত বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গেছি। আমি আমার পরিবার নিয়ে অনেক সুন্দর একটা জীবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম আর আমিই সবকিছু নিজের হাতে নষ্ট করে ফেলেছি। সেই সময় একটা জিনিসই আমাকে একটু আশার আলো দেখাত, আর তা হলো অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ভরা চিঠি।

কিন্তু তার পরও, একটা পর্যায়ে আর চালাতে না পেরে আমি হতাশার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেলাম। যখন প্রায় ঠিক করেই ফেলেছিলাম সবকিছু ছেড়ে দেব, ঠিক তখনই আমার কাছে খান একাডেমির নামে ১০ হাজার ডলারের অর্থ পুরস্কার আসে। এর আগে বেশির ভাগ লোক পাঁচ কিংবা ১০ ডলার করে পাঠাত। সেটাই ছিল তখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা। সেটি পাঠিয়েছিল এই রাইস বিশ্ববিদ্যালয়েরই ১৯৭৫ সালের ব্যাচের একজন, তার নাম অ্যান ডোয়ার। আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ই-মেইল করি। সে কাছেই থাকত, একদিন দুপুরে আমরা এক রেস্টুরেন্টে খেতে খেতে কথা বলছিলাম। অ্যান আমার কাছে জানতে চাইল আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী। আমি বললাম, এখনকার মতো আমি সারাজীবন ধরে ভিডিও বানিয়ে যেতে চাই! আমি বলেই যাচ্ছিলাম এটা নিয়ে আমার কত স্বপ্ন, কত কিছু করার আকাঙ্ক্ষা। কীভাবে খান একাডেমি সারা পৃথিবীর শিক্ষাব্যবস্থা বদলে দিতে পারে! সে বলল, ‘বুঝলাম তোমার অনেক বড় পরিকল্পনা! কিন্তু তুমি নিজে চলছ কীভাবে?’ আমি তখন বোধহয় একটু বেশি জোরেই বলে ফেলেছিলাম, ‘আমার তো চলছে না!’

যাই হোক, আমার কথা শুনে তিনি গম্ভীরভাবে মাথা নাড়লেন, আমরা বিদায় নিলাম। আমি যখন বাড়ির প্রায় কাছে পৌঁছে গেছি, তখন অ্যানের কাছ থেকে আমি একটি মেসেজ পাই। সেখানে লেখা, ‘তোমার নিজেরও তো চলতে হবে, তাই আমি টাকার অঙ্কটা বাড়িয়ে এক লাখ ডলার করে দিচ্ছি।’ আমি আরেকটু হলেই গাড়ি নিয়ে সোজা গ্যারেজে ধাক্কা খেতে যাচ্ছিলাম!

সেই মুহূর্তে টাকার অঙ্কের চেয়েও বেশি সাহায্য করেছিল খান একাডেমির সম্ভাবনার ওপর অ্যানের গভীর আস্থা। আজকে এসব শুনে অনেকেই বলবে, অ্যানের অঢেল টাকা ছিল, তাই সে সাহায্য করতে পেরেছে। আমার অত টাকা-পয়সা নেই যে, কাউকে এক লাখ ডলার দান করে দিতে পারি। এখানেই আমার দ্বিমত। আমি অন্তত এমন ৫০ জনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, যাদের আর্থিক অবস্থা অ্যানের চেয়েও অনেক ভালো ছিল। কিন্তু তারা তো এগিয়ে আসেনি!

একটা কথা আমি খুব জোর দিয়ে বলব, যদি কখনো এমন অবস্থানে থাকো, যেখানে তোমার একটু সাহায্যে অন্যের অনেক বড় কোনো উপকার হতে পারে, তবে কখনো তাকে উপেক্ষা করো না। আমি সব সময় যা করতে চেষ্টা করি এবং অন্যদেরও করতে বলি, তা হলো কখনো যদি দেখ কেউ অসাধারণ কোনো কিছু করছে কিংবা করার চেষ্টা করছে, চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থেকো না। তাকে প্রশংসা করো, ধন্যবাদ জানাও, তার কাজের স্বীকৃতি পেতে সাহায্য করো। তার বসকে জানাও কী সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে তার মধ্যে। তার পরিবারকে জানাও কত বড় কাজ করছে সে। তুমি কল্পনাও করতে পারবে না তোমার ছোট্ট একটি পদক্ষেপ, একটি প্রশংসা বাক্য কীভাবে একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। তোমার উৎসাহে কেউ হয়তো তার জীবনের লক্ষ্যই বদলে ফেলতে পারে। একজন ইতিবাচক চিন্তাধারার মানুষ তার চারপাশের অসংখ্য মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, তাই সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করো। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি তুমি তোমার স্বপ্ন সফল করতে চাও, সব সময়, সবকিছু থেকেই শিখতে চেষ্টা করো। নতুন কিছু শেখার জন্য নিজেকে সব সময় প্রস্তুত করে রাখা কতটা দরকার তা আমি বলে বোঝাতে পারব না। তোমাদের সামনে যে সময় অপেক্ষা করছে, তা তোমরা শেখার জন্য বিনিয়োগ করো। আমি খান একাডেমির সঙ্গে আছি বলে মানুষ কীভাবে শিখতে শিখতে জীবন বদলে ফেলে, এ ব্যাপারটা খুব ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করেছি। ২০০৮ সালে দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত একজন রোগীর কাছ থেকে আমি একটি চিঠি পাই। তখন তার জীবনের মেয়াদ আর মাত্র দুই মাস। কতখানি ইতিবাচক মনোভাব থাকলে মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষ লিখতে পারে, ‘আমার অনেক দিনের শখ ছিল ক্যালকুলাস শিখব, এখন খান একাডেমি আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আশা করি জীবনের শেষ দুই মাসের মধ্যেই আমি ক্যালকুলাস শিখে ফেলতে পারব!’ কী অসাধারণ মানসিক শক্তি, কতখানি তীব্র শেখার ইচ্ছা। সেই চিঠি দেখার পর আমি ঠিক করেছি, যতদিন বেঁচে থাকি, কখনো শেখা থামাব না।

১৯৯৮ সালে আমি যখন তোমাদের মতো গ্র্যাজুয়েশন করি, তখন আমার কিছু কাজ নিয়ে একটা কম্পিউটার ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ ছাপা হয়। আমার সেটা নিয়ে খুবই গর্ববোধ হয়েছিল। কিন্তু আমার তেমন কোনো লক্ষ্য ছিল না। নিজেকে নিয়ে কোনো পরিষ্কার ধারণাই ছিল না যে, আসলে আমি কী করতে চাই। একটা চাকরি শুরু করার দুই মাসের মধ্যেই আমি আরও বেশি বেতনে আরেকটা চাকরি পাই, আর সেখানে চলে যাই। সেখানে প্রথম তিন দিনেই বস আমাকে বেশ ভালো করে বুঝিয়ে দেন, আমি তাঁর চোখে কতটা অযোগ্য। ব্যাপারটা ভেবে দেখো! মাত্র ২৩ বছর বয়সে সবচেয়ে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রি, ম্যাগাজিনে ছাপানো প্রশংসা, সবকিছু নিয়ে রাতের বেলা আবিষ্কার করলাম আমি হোটেল রুমে বসে বসে কাঁদছি। আমি জীবনে আসলেই কী করতে চাই তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সেই রাতে মনে হচ্ছিল চোখের সামনে পৃথিবীটা দুলছে, সবকিছু অর্থহীন লাগছে। কিন্তু তার পরও পরদিন ভোরে উঠলাম, কাজ করলাম, গত রাতের চেয়ে একটু ভালো লাগল। এক সপ্তাহ পর আরেকটু মানিয়ে নিতে পারলাম, দুই মাসের মধ্যে আবার নতুন এক জায়গায় কাজ করা শুরু করলাম!

যখন সাফল্য আসবে, তাকে উপভোগ করো, কিন্তু এটাও খেয়াল রেখো, তুমি ঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছ কি না। যতই বড় হও না কেন, মনে রেখো সবকিছুরই একটা শেষ আছে। সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটিও জ্বলতে জ্বলতে একদিন নিভে যাবেই। তাই ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত থেকে সাফল্যকে উদ্যাপন করো। ছোট ছোট খুশির বিষয়কে অবহেলা করো না, আবার দু-একবার হোঁচট খেলেও হাল ছেড়ে দিয়ে বসে পোড়ো না। এখন থেকে ১০-১৫ বছর পর হয়তো এগুলো মনে করেই তুমি হাসবে, ভাববে কী ছেলেমানুষই না ছিলাম!

জীবনকে, এখনকার সময়কে একটা অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখো। সাফল্যের পেছনে যতই ছুটে চলো না কেন, এই মানবিক ব্যাপারগুলো ভুলে যেও না। প্রাণ খুলে হাসো। প্রিয়জনদের সময় দাও, তাদের বলো কতটা ভালোবাসো। চারপাশের মানুষের জন্য কিছু করো। মনে করো, এটা তোমার কল্পনা থেকে ফিরিয়ে আনা দ্বিতীয় জীবন। এ জীবন আফসোসের জন্য নয়।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: অঞ্জলি সরকার
সূত্র: ওয়েব সাইট

--------------------------------------------------


--------------------------------------------------

http://www.khanacademy.org

Be a Source of Positivity - Salman Khan
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #136  
Old May 22, 2012, 05:16 PM
Rifat's Avatar
Rifat Rifat is offline
Cricket Guru
 
Join Date: March 30, 2007
Location: Connecticut
Favorite Player: Hashim Amla
Posts: 10,528

Thanks for Sharing idrin Bro...
Reply With Quote
  #137  
Old May 25, 2012, 04:47 AM
Maysun's Avatar
Maysun Maysun is offline
MLC World Series I
 
Join Date: April 11, 2011
Location: Dhaka
Posts: 5,890

For all harassment the religious authorities have caused over the years in Saudi, this woman defied them and seeing this video has made my day! Well done.

Reply With Quote
  #138  
Old May 25, 2012, 08:59 AM
Purbasha T Purbasha T is offline
Cricket Legend
 
Join Date: November 26, 2008
Location: London
Favorite Player: Saudi Capital
Posts: 6,983

LOL. To those guys: to be able to spot the women doing something ''un-Islamic'' by your definition, you first have to look at them and that's directly going against the commandment ''lower your gaze''. Double standards much?!
__________________
Man is here.
Reply With Quote
  #139  
Old May 31, 2012, 10:30 AM
Maysun's Avatar
Maysun Maysun is offline
MLC World Series I
 
Join Date: April 11, 2011
Location: Dhaka
Posts: 5,890

Aww and how can you be not romantic about sports? Check this out, a 5yo kid comes on for his dad in his last game and scores a goal!

Reply With Quote
  #140  
Old June 3, 2012, 09:56 AM
zinatf's Avatar
zinatf zinatf is offline
Cricket Legend
 
Join Date: August 1, 2011
Location: Melbourne, Australia
Favorite Player: Shakib,Sangakkara,Lee
Posts: 4,663

http://ns.bdnews24.com/details.php?cid=2&id=225787&hb=3
__________________
jitsi jitsi jitsi
Reply With Quote
  #141  
Old June 26, 2012, 05:33 AM
cricheart's Avatar
cricheart cricheart is offline
Test Cricketer
 
Join Date: March 2, 2012
Location: Haowa Bhaban
Favorite Player: Any smart *** spot fixers
Posts: 1,592
Default তালিয়া বাজাও—জোরসে তালিয়া বাজাও


তালিয়া বাজাও—জোরসে তালিয়া বাজাও
সৈয়দ আবুল মকসুদ


ষাট-বাষট্টি বছর আগের সমাজ আর আজকের সমাজের মধ্যে বিরাট পার্থক্য। সেই ঢাকা শহরের সঙ্গে আজকের ঢাকা মহানগরের জীবনের তফাত পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তখন জীবনের গতি ছিল মন্থর ও নিস্তরঙ্গ। রাজনীতি তো নয়ই, সমাজও দুর্বৃত্তায়িত ছিল না। লোমহর্ষক অপরাধের মাত্রা ছিল খুবই কম। তবু বিচ্ছিন্ন অপরাধ সংঘটিত হতো। আইনের শাসন ছিল। অপরাধী যে-ই হোক, তার পার পাওয়ার উপায় ছিল না। এমপির ছেলে হলেও নয়, মন্ত্রীর ভাই হলেও নয়। পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসন ছিল দক্ষ ও নিরপেক্ষ।
পঞ্চাশ এমনকি ষাটের দশকেও ছেলেধরার ভয় ছিল না মা-বাবার। বাড়ির উঠানে, সামনের রাস্তায় বা পাড়ার মাঠে নির্ভয়ে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করত। অনেক দূরে স্কুলে যেত হেঁটে, একা অথবা দলবেঁধে। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের ব্যবস্থাও ছিল একেবারেই অন্যরকম। টেলিভিশনের নাম জানত না অধিকাংশ মানুষ। কম্পিউটারের নাম তো কেউই নয়। টিভি সিরিয়াল দেখা ও ভিডিও গেম ছিল অজানা। গেম বা খেলাধুলার মধ্যে ছিল ফুটবল, শীতকালে ভলিবল, ব্যান্ডমিন্টন প্রভৃতি। বাচ্চারা খেলত গোল্লাছুট, কানামাছি ও নানারকম খেলা।
রাস্তায় যানবাহন ছিল সামান্য। কোনো দিন ডুগডুগি বাজিয়ে আসত বান্দরনাচঅলা। বিচিত্র তার পোশাক। কখনো বানরেরও গায়ে থাকত রঙিন জামা। প্লাস্টিকের চশমাও শোভা পেত বানরের চোখে। বান্দরনাচ দেখাতে ডুগডুগি বাজিয়ে ঘোষণা দিতেই এবাড়ি-ওবাড়ি থেকে কিলবিল করে বাচ্চারা গিয়ে জড়ো হতো রাস্তায় বা মাঠের মধ্যে। শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে। গিয়ে আমরা গোল হয়ে দাঁড়াতাম।
খুব জোরে বাজানো হতো ডুগডুগি। প্রস্তুত হয়ে যেত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বানর।
বান্দরনাচঅলা ‘লাগ ভেলকি লাগ’ বলে হাঁক দিত। আমাদের উদ্দেশে বলত, ‘বাচ্চালোক, তালিয়া বাজাও।’ আমাদের পেয়ারাগাছের মরা ডালের মতো সরু হাত। পাতলা তালু। জোর কম। তালিতে আওয়াজ হতো অল্প। বান্দরনাচঅলা সন্তুষ্ট হতো না। রাগতভাবে বলত, ‘বাচ্চালোক, জোরসে তালিয়া বাজাও।’
সেকালে বান্দরনাচ দেখতে শিশু-কিশোরদের হাততালি দিতে হতো। এখন ভেলকি লাগার শেষ নেই এবং শিশুরা নয়, ষোলো কোটি মানুষ জোরসে তালিয়া বাজাচ্ছে প্রতিদিন।
বাংলাদেশে বহু নাগরিকের সাফল্য সত্যি সত্যি হাততালি দেওয়ার মতো। আমাদের নারীরা হিমালয়ের চূড়া জয় করেন রাষ্ট্রের আনুকূল্য ছাড়াই। তাঁদের সাফল্যের খুশিতে হাততালির রেশ মিইয়ে যেতে না যেতেই খবর এল ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের রোল নম্বর ২৯? রাষ্ট্রের ব্যর্থতায় ব্যক্তির সাফল্য চাপা পড়ে যায়।
দুর্নীতিতে বহু বছর আমরা সবার ওপরে ছিলাম, এখন নাকি কানের কাছে আছি। কান আর মাথা একই। মিথ্যাচারী ও চাপাবাজ রাষ্ট্রের তালিকা তৈরি করেনি এখনো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা। করলে এক নম্বর হওয়ার শিরোপা বাংলাদেশ ছাড়া যে আর কোনো দেশ পেতেই পারে না, তাদের আর যত দোষই থাকুক, তা হলফ করে বলা যায়। জনগণকে প্রতারিত করতে, ধোঁকা দিতে, কোন রাষ্ট্র সবচেয়ে দক্ষ? কোনো চিন্তা না করে যে কেউ জবাব দেবে: বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় ও লুণ্ঠনে কোন দেশের মানুষ দক্ষতার দিক থেকে পৃথিবীতে এক নম্বর?—বাংলাদেশ।
বাঙালি আজ কত বিষয়ে যে এক নম্বর, তা বলে শেষ করা যাবে না। কোন দেশে সবচেয়ে কম সময়ে সরকারি দলের লোকেরা সবচেয়ে বেশি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি পেয়েছে? সবাই হাত উঁচু করবে: বাংলাদেশ। কোন দেশে এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’ শুধু সরকারি দলের ধনকুবেরদের? তারস্বরে উত্তর আসবে: বাংলাদেশ। কোন দেশে জনপ্রশাসনে দলের সমর্থকদের হপ্তায় হপ্তায় প্রমোশন দেওয়া হয়? গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। কোন দেশে বসিয়ে বসিয়ে বেতন-ভাতা দেওয়া ওএসডি কর্মকর্তার সংখ্যা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি? এ প্রশ্নের উত্তর মানুষ তো দূরের কথা, তোপখানা রোড ও নবাব আবদুল গণি রোডের গাছগুলো পর্যন্ত জানে। কোন দেশের মানুষের দেশপ্রেম সীমাহীন এবং স্বাধীনতা শব্দটি মিনিটে লাখ লাখবার উচ্চারণ করে? এ প্রশ্নের উত্তর শুধু টিভির দর্শক-শ্রোতা নয়, দুগ্ধপোষ্য শিশুও জানে। সুতরাং জোরসে তালিয়া বাজানোর মতো উপলক্ষ আজ বাঙালির জীবনে অগণিত।
একটি সৎ, শিক্ষিত, দক্ষ, উন্নত জাতি মাটি ফুঁড়ে বের হয় না। তা বহু যুগের সাধনায় সৃষ্টি হয়। সে জন্য সবার আগে দরকার দেশের মানষকে যুগের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। দক্ষ প্রশাসনের জন্য দক্ষ জনশক্তি দরকার। দক্ষ জনশক্তির জন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। যেসব দেশ আজ উন্নত, তারা বহুকাল যাবৎ শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ব্যয় করে আসছে। বাজেটে বাংলাদেশে শিক্ষার স্থান তৃতীয়, সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় জনপ্রশাসনকে, যা সম্পূর্ণ অনুৎপাদনশীল। আগামী বছরের বাজেটে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের পেছনে রাষ্ট্র ব্যয় করবে সবচেয়ে বেশি অর্থ। জনশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব তিন নম্বরে।
যে সরকারি কর্মকর্তাদের পেছনে রাষ্ট্রের এত দরদ, সেই জনপ্রশাসনের অবস্থা শোচনীয়। একটি সময় বাংলাদেশের আমলারা দক্ষতায় ও যোগ্যতায় ছিলেন কমনওয়েলথ দেশগুলোর যে কারও সমকক্ষ, আজ তাঁরা খুব কম দেশের কর্মকর্তাদের পাশে দাঁড়ানোর যোগ্যতা রাখেন। স্বাধীনতার আগে যে তীব্র প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হতো, তা আর হয় না। মেধাবীরা আসতে চান না। অযোগ্য দলীয় ক্যাডারদের ধাক্কায় তাঁরা টিকতে পারেন না। তার পরও প্রতিযোগিতা ও যোগ্যতায় যাঁরা টিকে যান, তাঁদের উন্নতির পথ সহজ হয় না। তাঁরা দেখতে পান চোখের সামনে কীভাবে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার বা চাটুকারেরা তরতর করে তাঁদের ডিঙিয়ে ওপরে উঠে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রে অভিভাবকহীন যোগ্যদের পাশে দাঁড়ানোর নেই কেউ। ফলে প্রশাসনে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা।
দক্ষ ও সৎ প্রশাসন ছাড়া খুব নীতিবান ও যোগ্য রাজনীতিকেরাও দেশ চালাতে পারেন না। আজ যেসব দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে কার্যকর, সেসব দেশে সরকারি কর্মকর্তারা খুবই দক্ষ। রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের দুর্বলতা বা যেকোনো রকম ঘাটতি তাঁরা পূরণ করে দেন। বাংলাদেশে রাজনীতিকদের যোগ্যতার ঘাটতির সঙ্গে আমলাদের অদক্ষতা যোগ হয়ে এমন এক শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যার পরিণাম ব্যর্থ রাষ্ট্রের বেদিতে স্থান পাওয়া।
যাঁরা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন আরম্ভ করেন, তাঁরা প্রত্যাশা করেন মেধা ও যোগ্যতার বলে পদোন্নতি পেয়ে একদিন খুব উঁচু পদ পাবেন। সব সময় জ্যেষ্ঠতাই চাকরিতে পদোন্নতির মাপকাঠি নয়। কিন্তু সকল দেশের সেরা এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবো নাকো মোরা, যেখানে ১৭০ জন জ্যেষ্ঠ জেলা জজকে ডিঙিয়ে এক পরম ভাগ্যবান পদোন্নতি পেয়ে আইনসচিব নিযুক্ত হন। জেলা জজদের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তাঁর ক্রমিক নম্বর ৩৮৩। তাঁর নেই স্নাতকোত্তর আইনের ডিগ্রি। মহামান্য সরকার বলবেন, জ্যেষ্ঠতা নেই, ডিগ্রি নেই তো কী হয়েছে? তাঁর ওপরের ১৭০ জনই তো অযোগ্য ও অপদার্থ। তাঁদের মধ্যে তিনিই শুধু পদার্থ এবং রত্ন। তা ছাড়া ডিগ্রির কথা? রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ইসলামের কোন ডিগ্রিটা ছিল? এসএসসি পর্যন্ত তাঁরা পাস করেননি। পরীক্ষা দিলেও যে জিপিএ-৫ পেতেন, তা মনে করার কোনো কারণ নেই।
আইনসচিবের যিনি দায়িত্ব পেয়েছেন, জেলা জজ হিসেবে তাঁর যোগ্যতার একটি দৃষ্টান্ত সংবাদপত্রের লোকেরা উল্লেখ করেছেন। বিনা অপরাধে এক হতভাগ্যকে তিনি কলমের এক খোঁচায় দিন দশেক নয়, ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড বা ব্রিটেন হলে তাঁকেই জেল খাটতে হতো। অকারণে একটি লোককে ছয় বছর জেলের ভাত খাওয়ানো চাট্টিখানি কাজ নয়। মাস দুই আগে তিনি ছাড়া পেয়েছেন। ১৭০ জনকে পরাজিত করে এভারেস্ট বিজয়ী এই বীরের সুখবর শুনে নিশ্চয়ই সেই ‘আসামি’ খুশিতে তালিয়া বাজাবেন না।
খবরে জানা গেছে, তাঁকে নিয়োগের আগে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। ‘এই নিয়োগের ফলে প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের লঙ্ঘন ঘটেছে।’ এই সুযোগ্য অতি মেধাবীকে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ‘অদক্ষতার কারণে’ গত বছর ‘তিরস্কার’ করেছিলেন। তিনিই রাষ্ট্রকর্তৃক পুরস্কৃত হলেন। সুতরাং তাঁর নিয়োগে ‘বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার’ হলেও ভাগ্যবানের শ্বশুরবাড়ির লোকেরা খুশিতে জোরসে তালিয়া বাজাবেন।
মহাজোট সরকার সাড়ে তিন বছরে যত কর্মকর্তাকে প্রমোশন দিয়েছে, সেন ও পাল রাজাদের সময় থেকে আলিবর্দীর সময় পর্যন্ত কোনো সরকারের সময় অত কর্মকর্তা পদোন্নতি পাননি। পদ নাই তো কুচ পরোয়া নাই। পদোন্নতি দিয়ে ওএসডি করো। তাকে কাজ করতে হবে না। ভিজিটিং কার্ডটা শুধু নতুন করে ছাপলেই হবে। যুগ্ম থেকে অতিরিক্ত সচিব হলেন। বসে রইলেন একই চেয়ারে। একই পদে। তাঁর দায়িত্বের কোনো পরিবর্তন হলো না। শুধু নতুন কার্ডে স্বর্ণাক্ষরে মুদ্রিত হলো, যে পদেই আমি কাজ করি না কেন, আমি কিন্তু ‘অতিরিক্ত সচিব’। যার নাম রাষ্ট্রীয় অনাচার।
সরকারি কর্মকর্তাদের হতভাগ্য জনগণ ঘুষ দিতে বাধ্য, কিন্তু সরকার আমলাদের ঘুষ দেবে কেন? দলীয় বিবেচনায় প্রমোশন দেওয়া স্রেফ ঘুষ দেওয়া। এ-জাতীয় রাশি রাশি পদোন্নতির তাৎপর্য হলো এই: প্রমোশন দিয়ে বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়েছি, দুই বছরের মধ্যে উপসচিব থেকে সচিব করেছি, নির্বাচনের সময় যা যা করার তা করবে। মনে রেখো, যুগ্ম সচিবও হতে পারতে না, এখন ছেলেমেয়েরা বলবে, বাবা সচিব ছিলেন।
জনপ্রশাসনে যা ছিল না, থাকার কথা নয়, তা যোগ করা হয়েছে সংসদে কোনো রকম আলোচনা না করেই। জিয়াউর রহমান দেখলেন, মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে দরকার, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর পদটা তাঁর জন্য একটু বেশি হয়ে যায়। আবার কিছু না দিলেও চলে না। উপহার দিলেন একটি পদ: ‘সিনিয়র মিনিস্টার’। জিয়ার দৃষ্টান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে মহাজোট সরকার সৃষ্টি করেছে ‘সিনিয়র সচিব’-এর পদ। একটি নয়, আটটি। মহাজোটের আদর্শ অনুসরণ করে ১৮ দলীয় মেগাজোট ১৮টি দলীয় কর্মকর্তাকে ‘সিনিয়র সচিব’ বানাবে না, তা অবিশ্বাস করার মতো মূঢ় ও সংশয়বাদী আমি নই।
গত দেড় শ বছর মানুষ চিন্তাই করেনি, পুলিশের আইজির পদমর্যাদা কী? তিনি স্বরাষ্ট্রসচিবের ওপরে না অধীনে, নাকি সমপর্যায়ের, তা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয় জনগণের কাছে। তাঁর পদটি অত্যন্ত সম্মানের ও গুরুত্বপূর্ণ পদ। তাঁকে থ্রি-স্টার জেনারেলের ব্যাচ পরালেই তাঁর গুরুত্ব বাড়ে না।
এই বাংলার মাটিতে যে সরকারের হাতে যারা প্রমোশন পান, তাঁরা আমৃত্যু সেই সরকারের স্বার্থ রক্ষা করেন না। যখন যার, তখন তার। কারণ ‘নিমক হারাম’ শব্দটি মীরজাফর আর উমি চাঁদদের সময় থেকেই বহুল প্রচলিত। নিমক হারামের আদর্শ ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ আমলার সংখ্যা কী বিপুল, তা ১৫ আগস্ট সন্ধ্যাবেলা বঙ্গভবনে এবং ১৬ আগস্ট সকাল নয়টায় সচিবালয়ে দেখা গিয়েছিল।
আজ বাংলাদেশে ওএসডি কর্মকর্তার সংখ্যা যত, অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দীর সময় শুধু বাংলায় নয়, বাংলা, বিহার, উড়িষ্যায় সব কর্মকর্তার সংখ্যাও অত ছিল না। ওএসডি কর্মকর্তাদের অবস্থা ঘরজামাইদের মতো। ঘরজামাই যেমন শ্বশুরবাড়িতে খায়-দায় আর ঘুরে বেড়ায়, ওএসডি কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের তহবিল থেকে বেতন-ভাতা, গাড়িবাড়ি সব পান, কিন্তু কোনো কাজ নেই। শালীকে নিয়ে কক্সবাজার, রাঙামাটি, সেন্ট মার্টিন ঘুরে বেড়ান এবং জ্যৈষ্ঠ মাসে ঘুরে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুর।
আমাদের ৮০ লাখ শ্রমিক বিদেশে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন দেশের জন্য। পৃথিবীর যেসব দেশে কর্মকর্তার ঘাটতি আছে, সেখানে আমাদের ওএসডি বাহিনীকে ডেপুটেশনে পাঠানো যায় কি না, তা জনপ্রশাসন এবং শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ভেবে দেখতে পারে। জনগণের টাকায় ঘরজামাই পোষা যায় না।
বিধাতা জনগণকে দুখানা হাত দিয়েছেন কাজ করার জন্য, মোনাজাত করার জন্য এবং করতালি দেওয়ার জন্য। দেশটা ভালো চলুক সে জন্য হাত উঁচু করে জনগণ প্রার্থনা করে। সরকারের ভালো কাজে নিজের থেকেই জনগণ করতালি দেয়। কিন্তু সরকারের যেসব কাজ রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, জনগণের অমঙ্গল করে, সেসব কাজে জনগণ সমর্থনসূচক তালিয়া বাজাতে পারে না। যতই সন্ধ্যা সাতটায় টিভির পর্দা থেকে বলা হোক: তালিয়া বাজাও, জোরসে তালিয়া বাজাও।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।


http://www.prothom-alo.com/detail/da...26/news/268789
Reply With Quote
  #142  
Old September 16, 2012, 09:59 PM
Tintin Tintin is offline
Moderator
BC Editorial Team
 
Join Date: August 23, 2003
Posts: 3,490

While all that movie controversy is happening elsewhere, the final of the annual Moin ud Dowla cricket tournament was played in Hyderabad yesterday. Delhi's bowling was opened by Christ and Mohammed ( Mohammed S Mohammed, to be precise).

http://www.thehindu.com/sport/cricke...cle3904670.ece
Reply With Quote
  #143  
Old September 16, 2012, 10:24 PM
Zeeshan's Avatar
Zeeshan Zeeshan is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: March 9, 2008
Posts: 25,325

Tintin always makes the most bad S posts.

@Tin X2, was it your own find? Thought of submitting to CI?
Reply With Quote
  #144  
Old September 16, 2012, 11:06 PM
Zunaid Zunaid is offline
Administrator
 
Join Date: January 22, 2004
Posts: 21,737

Plus + the article is on the Hindu.

I hear John Lennon.
Reply With Quote
  #145  
Old September 17, 2012, 01:26 AM
Tintin Tintin is offline
Moderator
BC Editorial Team
 
Join Date: August 23, 2003
Posts: 3,490

Quote:
@Tin X2, was it your own find? Thought of submitting to CI?
No Someone in FB pointed it out.
Reply With Quote
  #146  
Old September 26, 2012, 10:07 PM
Naimul_Hd's Avatar
Naimul_Hd Naimul_Hd is offline
Cricket Guru
 
Join Date: October 18, 2008
Location: Global City of Australia
Favorite Player: Shakib, Mashrafe
Posts: 13,325



A crippled beggar has donated 10 bags of cement for a Mosque from his 40 years of savings. He spent most of the times of his life under the shed of that mosque. He had an intention to donate something to the mosque in the name Almighty God for his parents.
Reply With Quote
  #147  
Old September 26, 2012, 10:29 PM
Rifat's Avatar
Rifat Rifat is offline
Cricket Guru
 
Join Date: March 30, 2007
Location: Connecticut
Favorite Player: Hashim Amla
Posts: 10,528

Quote:
Originally Posted by Naimul_Hd


A crippled beggar has donated 10 bags of cement for a Mosque from his 40 years of savings. He spent most of the times of his life under the shed of that mosque. He had an intention to donate something to the mosque in the name Almighty God for his parents.
Thanks for this wonderful share Naimul bhai .

perchance Allah will grant him his shade in the Day of Judgement...
Reply With Quote
  #148  
Old September 26, 2012, 10:56 PM
Zunaid Zunaid is offline
Administrator
 
Join Date: January 22, 2004
Posts: 21,737

Quote:
Originally Posted by Naimul_Hd


A crippled beggar has donated 10 bags of cement for a Mosque from his 40 years of savings. He spent most of the times of his life under the shed of that mosque. He had an intention to donate something to the mosque in the name Almighty God for his parents.


This is why the world is not all dark and evil. Have I done anything even 1/100th of what he has done? No. But he inspires me and I hope I can give back to society.
Reply With Quote
Reply

Bookmarks


Currently Active Users Viewing This Thread: 1 (0 members and 1 guests)
 
Thread Tools
Display Modes

Posting Rules
You may not post new threads
You may not post replies
You may not post attachments
You may not edit your posts

BB code is On
Smilies are On
[IMG] code is On
HTML code is On



All times are GMT -5. The time now is 04:03 AM.


Powered by vBulletin® Version 3.8.7
Copyright ©2000 - 2014, vBulletin Solutions, Inc.
BanglaCricket.com
 

About Us | Contact Us | Privacy Policy | Partner Sites | Useful Links | Banners |

© BanglaCricket