| |
| Forget Cricket Talk about anything [within Board Rules, of course :) ] |

March 29, 2010, 08:11 PM
|
|
Banned
|
|
Join Date: October 16, 2006
Location: Doha, Qatar
Favorite Player: Mash,Shakib,Tamim
Posts: 7,046
|
|
Articles from Prothom Alo
No matter how much I bash Prothom Alo, the newspaper sometimes publishes top quality columns or some amazing personal stories. This is a thread where I intend to share such top quality articles that PA publishes from time to time:
Here is the first one:
সহজিয়া কড়চা
রাজায় যা বোঝে রাখালেও তা বোঝে
সৈয়দ আবুল মকসুদ | তারিখ: ৩০-০৩-২০১০
যখন ছোট ছিলাম, আমাদের বাড়িতে এক জ্ঞানবৃদ্ধ আসতেন। দু-চার দিন থাকতেন। আবার অনেক দিনের জন্য উধাও হতেন। বোধ হয় পারিবারিক কোনো বন্ধন তাঁর ছিল না। তাঁর বিদ্যাও বিশেষ ছিল না—বিত্ত তো নয়ই। কিন্তু তাঁর কথাবার্তা ছিল খুবই বুদ্ধিদীপ্ত। কথায় কথায় প্রাচীনকালের বাঙালি জ্ঞানীদের অনেক প্রবচন তিনি পুনঃপ্রচার করতেন। যেমন একদিন কী প্রসঙ্গে আমার বাবাকে বলছিলেন, ‘রাজায় যা বোঝে রাখালেও তা বোঝে।’ তাঁর ওই কথাটি আমার মনে খুব ধরেছিল। তাই এত কাল পরও তা মনে আছে।
এই যে রাজা ও রাখালের বোঝার বিষয়ের কথা বলা হয়েছে, তা মহাজাগতিক কোনো রহস্য নয়, দর্শনতত্ত্ব নয়, গ্রহ-নক্ষত্রবিষয়ক কোনো জ্যোতির্বিদ্যাও নয়। স্রেফ জগত্-সংসার বা রাজ্যের ভালো-মন্দের ব্যাপার। যে যুগের কোনো জ্ঞানী এই প্রবচনের প্রবর্তক, সে সময়টি ছিল রাজতন্ত্রের। রাজ্য শাসন করতেন রাজা। রাখাল বলতে খুব নগণ্য প্রজাকে বোঝানো হয়েছে, যার বিদ্যাবুদ্ধির দৌড় নিতান্ত কম।
আমরা এখন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের নাগরিক। গণতন্ত্রে নাগরিকদের আক্কেলবুদ্ধিকে অবহেলা করার উপায় নেই। কারণ, যে নাগরিক তার রায়ের দ্বারা কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে এবং কাউকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারে—তার ক্ষমতা কম কিসে। সে যে কিছুই বোঝে না, তা নয়। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতরা যা বোঝেন, একজন সাধারণ নাগরিকও তা-ই বোঝে। একজন ফিকশন বা কল্পকাহিনির লেখক যা বোঝেন, হয়তো একজন কলাম লেখক তাঁর চেয়ে সামান্য কম বোঝেন। অর্থাৎ সবাই কমবেশি বোঝেন।
ক্ষমতাসীন দলের নেতা, শীর্ষ আমলা, বুদ্ধিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নাটক ও সংগীতজগতের স্বনামধন্যরা, সংবাদপত্রের উপসম্পাদকীয় লেখকেরা দেশের ভালো-মন্দ ও ভবিষ্যত্ নিয়ে যা বোঝেন, সাধারণ নাগরিকেরাও যে তা বোঝে না, তা নয়। পিলখানার পাশবিকতার কারণ ও পরিণতি নিয়ে বিডিআরের মহাপরিচালকের বোঝাই পরম বোঝা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্র বা প্রতিমন্ত্রীর বিবেচনা আরও মূল্যবান। কিন্তু ওই বর্বরতায় যে সেনা কর্মকর্তা অথবা বিডিআর সদস্য নিহত হয়েছেন, তাঁর বৃদ্ধ বাবাও গ্রামের বাড়িতে আমগাছতলায় বসে বসে ভাবেন। অনেক ‘কেন’-র উত্তর তিনি খোঁজেন। উত্তর পানও। বাড়ির ভেতর থেকে খিটখিটে মেজাজের বুড়ি অথবা বিধবা বউমা ভাত খাওয়ার জন্য ডাকেন। নাতনি এসে হাত ধরে টানে। পুত্রহারা বৃদ্ধ যে চোখের কোনা মুছে উঠে দাঁড়িয়ে হেঁটে বাড়ির ভেতর যাবেন সে শক্তি তাঁর পায়ে নেই। পুত্রকে তিনি হারিয়েছেন, কিন্তু দেশের ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাবার শক্তি তিনি হারাননি।
স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের সমাজে যুক্তিশীল বিচার-বিবেচনার বিষয়টি লোপ পায়। তার জায়গাটি দখল করেছে পামপট্টি বা স্তাবকতা। আজ প্রত্যেকেই প্রত্যেককে পাম মারছে। মন্ত্রী-রাজনীতিকেরা পাম দিচ্ছেন তাঁদের ভোটারদের। আমলারা পামপট্টি দিচ্ছেন মন্ত্রীকে বা দাতা গোষ্ঠীর লোকদেরও শুধু নয়, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতা ও ক্যাডারদেরও। সংস্কৃতিজগতের কর্ণধারেরা তেল দিচ্ছেন ও পাম মারছেন সেই দপ্তরের আমলাদের, যারা বিদেশে ডেলিগেশন পাঠানোর তালিকা তৈরি করেন। প্রকাশক পাম মারছেন লেখককে, লেখক মারছেন প্রকাশককে। লেখা ছাপতে পত্রিকার সম্পাদককে পামপট্টি দিতে যান নতুন ও বুড়ো লেখকেরা। কেউ কাউকে তার ভুল ধরিয়ে না দিয়ে, তার ভুলের জন্য সমালোচনা না করে অযাচিতভাবে পাম দিচ্ছেন। পুরোনো প্রজন্মকে পাম দিচ্ছে নতুন প্রজন্মের চালাকেরা। অন্যদিকে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য শাসন না করে নতুন প্রজন্মকে পাম দিচ্ছেন প্রবীণেরা। এ অবস্থায় সমাজ ও রাষ্ট্রের গলদ দূর হবে কী করে?
নতুন প্রজন্ম নিয়ে আমাদের অনেক মন্ত্রী, রাজনীতিক ও লেখক ভয়াবহ আশাবাদী। ‘নতুন প্রজন্ম’ কথাটি এমনভাবে ব্যবহূত হচ্ছে, মনে হচ্ছে, বাঙালি জাতির আর যেন কোনো প্রজন্ম ছিল না। অন্তত পত্রিকা পড়ে তা-ই মনে হয়। ‘নতুন প্রজন্ম’কে মন-প্রাণ দিয়ে প্রশংসা করা হচ্ছে সম্ভবত এই জন্যও যে তারা মহাজোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। এবং ২০২১ সালের আগেই একটি শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশ তারা গঠন করে ফেলবে—সে ব্যাপারে আশাবাদী তো কেউ হতেই পারেন।
দুর্ভাগ্যবশত আমার অবস্থান তাদের বিপরীতে। আমি পরম হতাশাবাদী। নতুন প্রজন্মকে ফুলিয়ে গদগদভাবে লিখতে পারি না বলে নিজের ওপরই রাগ হয়। স্বার্থপরের মতো আমি আমার নিজের প্রজন্ম ও তার পূর্ববর্তী প্রজন্ম দিয়ে গর্বিত। আমি সেই প্রজন্ম নিয়ে গর্বিত যে প্রজন্মের যুবকেরা একটি ছেঁড়া শার্ট গায়ে দিয়ে অবাঙালি আধা-ঔপনিবেশিক শাসকদের বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকে বানচাল করে দেয়। যাঁরা পুলিশের রাইফেলের সামনে বায়ান্নতে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়েছেন। আমি সেই প্রজন্মকে সালাম করি, যে প্রজন্ম প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ১৯৬২তে দুর্জয় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেই প্রজন্মকে সম্মান করি, যারা ন্যায়সংগত দাবিতে রাজপথ উত্তাল করেছে, কিন্তু গাড়ি ভাঙচুর করে যন্ত্রাংশগুলো লুট করত না। আমি আমার সেই প্রজন্মের জন্য অহংকার করি, যে প্রজন্মের মানুষ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান বিচারকের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। সেই প্রজন্মের কথা বারবার স্মরণ করি, যে প্রজন্ম ঊনসত্তরে গণ-অভ্যুত্থান ঘটায়। সেই প্রজন্মের কাছে বারবার মাথা নত করি, যারা একাত্তরের স্রষ্টা।
দুই হাতে দুই কানে সেলফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হতে গিয়ে যে প্রজন্মের যুবক-যুবতী গাড়ির ধাক্কা খায়, সেই প্রজন্মকে নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখা আমার মতো ফোনহীন ও প্রেমহীন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের প্রজন্মের মানুষেরও হূদয় ছিল। তারাও প্রেম করেছে। ভালোবাসার ইতিবাচক সাড়া পেলেও প্রেয়সীকে ফুল দিয়েছে, প্রত্যাখ্যাত হলেও একটি গোলাপ ও একটি চিরকুট দিয়ে শরিফ মিয়ার দোকানের পাশের বাগানে ঝিম মেরে বসে থেকেছে। অথবা লাইব্রেরিতে গিয়ে যাযাবরের দৃষ্টিপাত সেলফ থেকে নিয়ে পাতা উল্টে বারবার আবৃত্তি করেছে: ‘মিনি সাহেব, আমি ইডিয়টই বটে, আমি উপহাসকে মনে করি প্রেম, খেলাকে ভেবেছি সত্য।...’ অথবা যেদিন বজ্রপাতের মতো শুনেছে, ‘তুমি আর আমার সাথে মেলামেশা করো না, আব্বা-আম্মা পছন্দ করেন না, ছোট চাচাও খুব রাগী।’ আসলে মেয়েটি নিজেই ওকে বাতিল করেছে। এবং বিয়েও ঠিক হয়েছে নীলফামারীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক সুদর্শন সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। সেকালে তারা এ ধরনের বজ্রাঘাতে আহত হয়ে সোজা চলে যেত গুলিস্তান বা নিশাত সিনেমা হলে। এক সপ্তাহে এগারবার দেখেছে দ্বীপ জ্বেলে যাই, মেঘে ঢাকা তারা অথবা হারানো সুর।
যে প্রজন্ম সহপাঠীকে প্রেম নিবেদন ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মুখে এসিড ছুড়ে দেয়, সে প্রজন্মের ভবিষ্যত্ নিয়ে তাদের স্নেহপ্রবণ শিক্ষকেরা আশাবাদী হতে পারেন, কিন্তু আমার মতো চিরকালের ছাত্র পারে না। যে প্রজন্ম পরীক্ষার তারিখ পছন্দমতো পেছানোর জন্য শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলে, সে প্রজন্ম নিয়ে ‘ভীষণ আশাবাদী’ কীভাবে হই? ভর্তি ফি কমানোর জন্য টিভি ক্যামেরার সামনে উপাচার্যের মুখের কাছে জুতা নাচায় যে প্রজন্মের মানবসন্তান সে প্রজন্মকে প্রশংসা করি কীভাবে?
কোনো মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া মাত্র ঝলসে উঠল প্রজন্মের পুরুষত্ব্ব। সহপাঠী বা পাড়ার মেয়েদের টান দিয়ে কামিজ ছিঁড়ে হায়েনার মতো গায়ে হাত দেয় যে প্রজন্ম, সে প্রজন্মের ২০২১ সালে সোনার বাংলা গড়ার সময় কোথায়? সেই প্রজন্ম নিয়ে প্রাচীনকালের সুফিদের মতো এত ‘স্বপ্ন’ দেখা কেন? যে প্রজন্ম সিট দখল করতে গিয়ে সহপাঠীর মাথা ফাটায় বা হাড্ডি গুঁড়া করে, টেন্ডারের বাক্স মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে নেতার বাড়িতে চলে যায়, ভর্তি-বাণিজ্যে কোটিপতি হয়, সে প্রজন্ম নিয়ে কি স্বপ্ন দেখা সম্ভব?
আমাদের প্রজন্মের ছাত্রনেতারা সবাই নির্মল ছিলেন তা বলব না। পরবর্তী জীবনে অনেকের পদস্খলন ঘটেছে। আমরা কোনো না কোনো সংগঠনের সমর্থক বা কর্মী ছিলাম। যে যে সংগঠনেরই হোন না কেন, নেতাদের আমরা সবাই শ্রদ্ধা করতাম। কারা ছিলেন আমাদের প্রজন্মের উজ্জ্বল ছাত্রনেতা যাঁদের ত্যাগ এখনো স্মরণ করি: কাজী জাফর আহমদ, সুরঞ্জিত্ সেনগুপ্ত, সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মণি, আবদুর রাজ্জাক, মতিয়া চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিক, পংকজ ভট্টাচার্য, মোস্তফা জামাল হায়দার, মাহবুবউল্লাহ, শামসুজ্জোহা, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, তোফায়েল আহমেদ, নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং একটু পরেই মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, শেখ শহীদুল ইসলাম, নূরে আলম সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব, শাজাহান সিরাজ, আব্দুল কাইয়ুম মুকুল, নূহ-উল আলম লেনিন প্রমুখ। ওই প্রজন্মের আরও পনেরোটি নাম উল্লেখ করলে শান্তি পেতাম।
ওই প্রজন্মের নেতা-কর্মীরা হলের সিট দখলে নেতৃত্ব দেননি, সারা রাত হলে হলে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়াও তাঁরা পছন্দ করতেন না। টেন্ডার নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো সময়ই ছিল না তাঁদের। ভর্তি-বাণিজ্য শব্দটি তখন আবিষ্কৃত হয়নি। উপাচার্য বা অধ্যক্ষকে তালা মেরে জানালা দিয়ে গালিগালাজ করার রেওয়াজ তখন ছিল না। শিক্ষককে জুতাপেটা করার কথা স্বপ্নেও কেউ ভাবেনি। চাঁদাবাজি তখন ছিল না—প্রয়োজনে সামান্য কয়েক টাকা চাঁদা তোলা হতো। আমাদের প্রজন্মে কোনো মেয়ের মুখে এসিড ছোড়া হতো না। গুলি করে কোনো মেয়ের চোখ কানা করা হতো না। প্রতিবেশী মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করে তার স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ করা হতো না বা তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হতো না। তারপর যেদিন ডাক এল, একটিমাত্র কাপড় নিয়ে গোটা প্রজন্মের মানুষ দেশের মুক্তির জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ল। তা হলে কোন প্রজন্ম অপেক্ষাকৃত ভালো?
আমি জানি, প্রজন্মের সবাই এসিড ছোড়ে না, নেশাও করে না, মেয়েদের উত্ত্যক্তও করে না, পাড়ার দোকানে চা-মিষ্টি খেয়ে পয়সা না দিয়ে চলে যায় না, টেন্ডারবাজিও করে না। ওসব শতকরা পাঁচজন করতে পারে। কিন্তু কষ্টটা ওখানে যে, দলবদ্ধ প্রতিরোধ নেই কেন। পঁচানব্বই জনের ভূমিকাটা কী? ভোট দিয়েছে বলে প্রজন্ম যা খুশি তা-ই করবে? আইনের শাসন থাকলে খুনখারাবি, ভর্তি-বাণিজ্য, টেন্ডার ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বখাটেপনা, ধর্ষণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মারামারি, ভাঙচুর প্রভৃতি হতে পারত না।
কোনো অবস্থার সুবিধাভোগী ও ভুক্তভোগীর একই অনুভূতি হতে পারে না। একটি রাষ্ট্রে ক্ষমতাসীনেরা সুবিধাভোগী আর সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী। বিএনপি ও তার সহযোগী দলগুলো কী বলল, তা যদি সরকার গ্রাহ্য নাও করে, ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা এবং বিখ্যাত গেরিলা যোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী কী বলছেন, তা তো মূল্যহীন নয়। তাঁরা বলছেন, দেশ ভালো চলছে না এবং অনেক স্বাধীনতাবিরোধী নবম জাতীয় সংসদে আছেন, রয়েছেন মন্ত্রিসভায়ও। ওদিকে সরকার ও সরকার-সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, সরকারের সমর্থনে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ।
অবিচারে নিমজ্জিত বাংলাদেশে ‘বিচার’ শব্দটি আজ খুবই উচ্চারিত। এবং বাংলাদেশে বিচার নয়, বিচারের রায়ই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বিচারের আগেই বিচারের রায় কী হবে তা জানা চাই। বিচারের রায়ের চেয়েও জরুরি বিচারের রায় কার্যকর করা। এখন শুধু বিচার নয়, ‘দ্রুত বিচার’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এক প্রতিমন্ত্রী বলতে লাগলেন, ‘ষোলোই ডিসেম্বরের মধ্যেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হবে।’
পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে গত কয়েক মাসে বিডিআরের মহাপরিচালক ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা অনেক রকমের বক্তব্য দিয়েছেন। এক প্রতিমন্ত্রী বলছেন, প্রতিটি গ্রামে ও ইউনিয়নে রাজাকারদের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হবে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় যারা শত্রুপক্ষের সহযোগিতা করেছে, খুনখারাবি করেছে তাদের বিচার ও শাস্তিই প্রাপ্য, তাদের নাম গ্রামের প্রবেশমুখে টাঙিয়ে দেওয়াটা সভ্যজগতের নিয়ম নয়। পৃথিবীর কোনো দেশে তা হয়নি। কোনো গণতান্ত্রিক সরকার তা করে না। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর প্রধান দায়িত্ব রাজাকারের নাম পাথরে খোদাই না করে যেসব স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার বিন্দুমাত্র সুফল পাননি, তাদের কিছু উপার্জনের ব্যবস্থা করে দেওয়া।
শত্রুমিত্র সকলের ক্ষেত্রে আইনের নিরপেক্ষ অনুশীলন ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয় না—আদর্শ রাষ্ট্র তো নয়ই। কোনো এক পত্রিকার জরিপে দেখেছি, আমাদের বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে শতকরা ৭৭ জন নাগরিক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। নিশ্চয়ই তাঁরা সবাই বিরোধী দলের নন। খুনখারাবি নয়, তুচ্ছ কোনো মন্তব্যের কারণে বিরোধী দলের লোকদের বিরুদ্ধে রাশি রাশি মামলা হচ্ছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন আদালতে। মহামান্য ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা সমন জারি করতে মুহূর্ত দেরি করছেন না। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত সরকারি লোকেরা নির্বিঘ্নে খালাস পাচ্ছেন প্রতিদিন। এর নাম আইনের শাসন নয়।
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি। এই নীরবতা অর্থহীন নয়। অন্যদিকে আমাদের ৪০তম স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন আমেরিকার কংগ্রেস এক বিশেষ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। কংগ্রেসের বাংলাদেশ ককাসের কো-চেয়ারম্যান জোসেফ ক্রাউলি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। ৩৮০-৭ ভোটে তা পাস হয়। প্রস্তাবে ‘তিক্ততা ভুলে রাজনৈতিক নেতাদের একত্রে কাজ চালিয়ে যেতে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক গভীর করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’ এই প্রস্তাব আমাদের সরকারের জন্য একটি বার্তা।
দেশে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস-সংকট এখন সর্বকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। মন্ত্রীরা অব্যাহতভাবে বলছেন, গত দুই সরকার ‘এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ’ ও ‘এক ফোঁটা পানি’র ব্যবস্থা করে যায়নি। তাই এই সংকট। সাধারণ মানুষের কাছে এর অর্থ: প্রত্যেক সরকার পরবর্তী সরকারের জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ ও প্রকাণ্ড পুষ্করিণীতে টলটলে পানি রেখে যাবে, পরবর্তী সরকার তা শুধু ঘড়ায় ঢেলে বাড়ি বাড়ি বিতরণ করবে। বিদ্যুতের অভাবে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাক, কৃষকের সেচের পাম্প বন্ধ থাক, সিএনজি পাম্পও বন্ধ থাক, ঘরের বাতি না জ্বলুক—কিন্তু মধ্যবিত্তের ঘরে পাখাটি যদি না ঘোরে তাদের চাঁদি গরম হবে এবং ঘুরতে থাকবে বনবন করে মাথা। মাথা গরম হলে ক্রোধের সৃষ্টি হয়।
সরকারের নীতি-নির্ধারকেরা কি এখনো বিশ্লেষণ করে দেখেননি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ফলাফল, জেলা বারগুলোর নির্বাচনী ফলাফল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের নির্বাচনের ফল, তারা কি কাগজেও পড়েননি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির শ্রমিক অসন্তোষের খবর, পল্লীবিদ্যুৎ অফিসগুলোর ঘেরাওয়ের সংবাদ। এ-জাতীয় অমঙ্গলের তালিকা দিলে তা হবে দীর্ঘ। রাখালেও বোঝে, এসব সরকারের জনপ্রিয়তার ব্যারোমিটার।
বাংলাদেশে মৌলবাদী তৎপরতা বাড়ায় আমেরিকা ও তার মিত্ররা, খালেদা জিয়ার থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে। এখন গণ-অসন্তোষের ফলে বাংলাদেশে উগ্র বাম বা মাওবাদী তৎপরতা বাড়লে আমেরিকা শুধু নয়, ভারতও শেখ হাসিনার সরকারের ওপর অপ্রসন্ন হবে। অন্ধ্র, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদী রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত এসেছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বাংলাদেশে ভারতের চেয়ে কম নয়। পরিস্থিতির কারণে মাওবাদী তৎপরতা শুরু হলে শুধু জঙ্গিবাদ জঙ্গিবাদ বলে পার পাওয়া যাবে না। উগ্র বাম রাজনীতি জনপ্রিয় হলে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ হাত গুটিয়ে নেবে। তখন ইসলামপন্থীদেরই পশ্চিমারা মদদ দেবে। চৌদ্দদলীয় মহাজোট তখন কী নিয়ে রাজনীতি করবে?
মানুষের দুর্দশা বাড়লে, বিদেশিদের সঙ্গে জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করলে, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উত্তরবঙ্গে কয়লা উত্তোলন করতে গেলে, সেই কয়লা পানির দামে বিদেশিদের কাছে রপ্তানি করলে চরমপন্থী বাম আন্দোলন মাথা চাড়া দেবে। ইসলামি মৌলবাদীদের চেয়ে মাওবাদী চরমপন্থীদের পশ্চিমা বিশ্ব বেশি ভয় করে।
শুরুতে যা বলেছি, তা একটু বদলে বলতে চাই। কখনো কখনো রাখালেও যা বোঝে রাজাও তা বোঝার চেষ্টা করেন না।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
|

March 29, 2010, 08:16 PM
|
|
Banned
|
|
Join Date: October 16, 2006
Location: Doha, Qatar
Favorite Player: Mash,Shakib,Tamim
Posts: 7,046
|
|
|

March 29, 2010, 09:53 PM
|
|
Moderator
|
|
Join Date: June 15, 2004
Location: Tokyo
Posts: 14,254
|
|
Good thread Shardul, I am also a fan of their columns especially written by Mizanur Rahman Khan, Prof. Zafar Iqbal, Anisul Haq and few more. Their constructive criticizing keeps my hope alive in such pathetic state of Bangladesh.
সরল গরল
আদালতের কৌটায় জামায়াতের প্রাণ
মিজানুর রহমান খান | তারিখ: ৩০-০৩-২০১০
পরের সংবাদ»
সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে আছে সংসদ ও সরকার। এত দিনে স্পষ্ট যে তারা সংবিধানের গণতন্ত্রায়ন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাসী নয়। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা হয়তো তারা মুখেও আনত না। পঞ্চম সংশোধনীর রায় নিয়েও তাদের মুখে খই ফুটত না। এখন ফুটেছে, কারণ, ক্ষমতার রাজনীতির প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উপাদান আছে এতে। তাই তারা আদালতের ওপর ভর করেছে। উদ্দেশ্য জামায়াত শিকার। রাজনৈতিক ফায়দা লোটার এত বড় সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে চায় না।
আইন ও বিচারমন্ত্রী শফিক আহমেদের বক্তব্য বেশ ধারালো। এটা বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়, জামায়াত ইতিমধ্যে কোমায় চলে গেছে। এখন তারা কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে। কোমায় যাওয়া রোগীরাও অবশ্য আশার সলতে জ্বালিয়ে রাখেন। কিন্তু জামায়াতের সামনে যেন সেটুকুও নেই। পঞ্চম সংশোধনী আপিল বিভাগেও বাতিল হয়েছে। সেই ভরসায় আইনমন্ত্রী বলছেন, তারা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। শুধু আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষা।
আইনমন্ত্রীকে প্রশ্ন রাখি, কী করে এমন নিশ্চিন্তে এ কথা বলছেন। আপিল বিভাগ তো পরিমার্জন বা মডিফিকেশনের কথা বলেছেন। এখন যদি তাঁরা হাইকোর্টের রায়ের এ অংশটি উল্টে দেন? আইনমন্ত্রী যুক্তি দেন, সেটা কেমন করে হবে? পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ের মূলনীতি তো এর ওপর দাঁড়িয়ে। পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায় প্রধানত দুটি ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো। প্রথমত, সামরিক শাসন জারি অবৈধ। তাই সামরিক শাসকদের সৃষ্ট পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ। দ্বিতীয়ত, জাতীয় সংসদও সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বদলাতে পারে না। উভয় যুক্তি আমরা মানি। কিন্তু হাইকোর্ট যোগ-বিয়োগের নীতি নিয়েছেন। কিছু বিষয় মার্জনা করেছেন। যেমন, জিয়াউর রহমানের সামরিক ফরমানের ফসল সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে টিকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু এই কাউন্সিল ব্যবস্থাটি তো সামরিক শাসনবান্ধব। তা ছাড়া এটি বিচারপতিদের প্রকারান্তরে সরকারি কর্মচারী বানিয়ে রেখেছে। সচিবদের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন (স্যাংশন) লাগত ও লাগবে। বিচারকদের ক্ষেত্রেও লাগে।
হাইকোর্টের রায়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে ক্ষমতার পৃথক্করণ (সেপারেশন অব পাওয়ার) ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে স্বীকার করা হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়নে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
ধর্মনিরপেক্ষতার মতো অনেক শক্তিশালী ও দরকারি মৌলিক কাঠামো হলো ক্ষমতার পৃথক্করণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানে না লিখেও ধর্মনিরপেক্ষ বা মুক্ত সমাজ গঠন করা চলে। ভারত তার জ্বলন্ত উদাহরণ। এখানে একটি পরিহাসও আছে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে বিচারপতি সায়েম ধর্মভিত্তিক দল চালু করতে ৩৮ অনুচ্ছেদের শর্তাংশ তুলে দেন। তখনো সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা টিকে ছিল। সেই বছরেই ভারত ৪২তম সংশোধনী আনে। এর মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটির সংযোজন ঘটে। সুতরাং, ২৯ বছর তারা ধর্মনিরপেক্ষ ‘না থেকেও’ ধর্মনিরপেক্ষ থেকেছে। বিজেপির জন্ম আরও চার বছর পর ১৯৮০ সালে। তারা প্রমাণ করেছে, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা লেখা থাকলেও ধর্মভিত্তিক দল সরকার গঠন করতে পারে।
সাধারণ আইন দিয়ে রাজনৈতিক দলের সংবিধান ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণযোগ্য। কিন্তু ক্ষমতার পৃথক্করণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রাষ্ট্র গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তা অবশ্যই সংবিধানে থাকতে হবে। প্রজাতন্ত্রের বিচারিক ক্ষমতা মার্কিন সংবিধানের মতো করে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকার কথা লিখে দিতে হবে। অথচ সরকারি দল ও তাদের ভক্তরা সভা-সেমিনারে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের কীর্তন গাইছেন। বাহাত্তরের সংবিধানে ফেরার কথা বলে গলা ফাটাচ্ছেন। কিন্তু এসব বিষয়ে তাঁদের মুখে যথারীতি কুলুপ আঁটা।
বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ে সংবিধানের ১০টি মৌলিক কাঠামো চিহ্নিত করেছেন। এতে তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার ঠাঁই দিয়েছেন সবশেষে। ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে শাসকগোষ্ঠী হয়তো একটুও মাথা ঘামাত না, যদি হাইকোর্টের রায়ে একটি বিশেষ জাদুমন্ত্র না থাকত। এই জাদুমন্ত্রই হলো আকর্ষণ। এটা হলো ৩৮ অনুচ্ছেদের শর্তাংশ। এই শর্তাংশ হলো রাক্ষসের প্রাণসংহারী সেই কৌটা।
জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর প্রাণভোমরা লুকানো এই কৌটায়। হাইকোর্ট কৌটার সন্ধান দিয়েছেন। এখন আপিল বিভাগ সেই কৌটা খুলবেন কি না, সেটাই প্রশ্ন। তাঁরা তা খুলে প্রাণভোমরা মারতে পারেন। মারলে জামায়াত বর্তমান রূপে লুপ্ত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠনও অচল হবে। তারা তখন অন্য রূপে আসবে। জঙ্গিবাদ মোকাবিলার জটিল পটভূমিতে সেই রূপটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য ভালো হবে কি না, সে প্রশ্ন খুব জোরালো।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মী নিহত হলে মন্ত্রীদের শূন্যগর্ভ চিত্কার ও আস্ফাালন আমরা শুনেছি। এ রকম ঘটনার সময় তাদের শিবির নিষিদ্ধের কথা মনে পড়ে। কিন্তু খুন তো খুন। যে যেভাবে সন্ত্রাস করুক, তার বিচার হতে হবে। কিন্তু তা প্রায় কখনো হয় না। এখন আদালতকে দিয়ে কৌটা খুলিয়ে জামায়াতের সঙ্গে শিবির বধ করার স্বপ্ন দেখছে ক্ষমতাসীন দল। অথচ তারা ঠিকই ছাত্রদের ব্যবহার করে যাবে। ছাত্রলীগকে তারা সামলাবে না। অঙ্গসংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করবে না।
জামায়াতের সঙ্গে রাজপথের ঐক্য গড়ে তোলা, কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গে গোপনে চুক্তি করা এবং জিয়া বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক নামকরণেও ধর্মের সূক্ষ্ম রাজনৈতিক ব্যবহারে আমরা ক্ষমতাসীনদের ম্যাকিয়াভেলীয় চরিত্র দেখতে পাই। মূল সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদের শর্তাংশ বলেছে, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী কোনো সাম্প্রদায়িক সমিতি বা সংঘ কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্যসম্পন্ন বা লক্ষ্যানুসারী ধর্মীয় নামযুক্ত বা ধর্মভিত্তিক অন্য কোনো সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার বা তাহার সদস্য হইবার বা অন্য কোনো প্রকারে তাহার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করিবার অধিকার কোনো ব্যক্তির থাকিবে না।’ সম্ভবত সে কারণেই আইনমন্ত্রী আমার প্রশ্নের জবাবে মত দেন যে এ বিধানটি জেগে উঠলেই হলো। ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ করতে সরকারকে নতুন কোনো আইন করতে হবে না। তবে প্রশ্ন হলো, বিশ্বের অন্যান্য গণতন্ত্র, যারা রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র অর্জন করেছে, তাদের সংবিধানে এমন বিধান কি রয়েছে? বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ রকম খাপ খোলা তলোয়ার দিয়ে কি ধর্মভিত্তিক রাজনীতির রাক্ষসপুরীকে স্তব্ধ করা সম্ভব? একটা গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা দিতে যদি শাসক দল সম্ভাবনাময় হয়ে উঠত, বা তাকে বিশ্বাস করা যেত, তখন না হয় একটা সান্ত্বনা মিলত।
সরকারি দলের সংকীর্ণ মনমানসিকতার আরেকটি পরিচয় হলো, তারা সংবিধান সংশোধনে ভালো প্রস্তুতি নিতে অনিচ্ছুক। একটা প্রতারণাপূর্ণ প্রচারণাও দেখেছি। সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরিতে আইন কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইন কমিশনের সদস্যরা হয়তো কিছু দিন আশায় ছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, বিরাট বড় একটা দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু কোথায় কী। এ সবই শঠতা। জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা ছাড়া তাঁদের মাথায় অন্য চিন্তা নেই। থাকলেও তার প্রমাণ পাই না। কেউ যদি প্রশ্ন করেন, ক্ষমতা পৃথক্করণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, না রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা—এর মধ্যে কোনটি আগে চান? আমি বলব, সবটাই একসঙ্গে। যদি বলা হয়, কোথায় অগ্রাধিকার? তাহলে বলব, ক্ষমতা পৃথক্করণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায়। জাতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় বিরাট শূন্যতা চলছে। মাসদার হোসেন মামলার কারণে আমরা বিচার বিভাগ পৃথক্করণ শিখেছি। এখনো ক্ষমতার পৃথক্করণ শিখিনি। বিচারপতি খায়রুল হক বর্ণিত ১০টি মৌলিক কাঠামো কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেওয়ার বিষয়। আদালত যখন রাজনৈতিক প্রশ্নের সুরাহা দেন, তখন তাঁরা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেন। তবে রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসায় আদালতকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়। সুপ্রিম কোর্ট পারতপক্ষে রাজনৈতিক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে চলেন। ১৮৫৭ সালে বিখ্যাত ড্রেড স্কট মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট দাসপ্রথাকে বৈধতা দিয়েছিলেন। কোর্ট বলেছিলেন, দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসের আইন তৈরির ক্ষমতা নেই। সেই টাইটানিক ভুলের অনুশোচনা তারা আজও করছেন।
আমরা পঞ্চম সংশোধনীর রায়কে স্বাগত জানিয়েছি। কারণ, এতে যথার্থই জিয়া, সায়েম, মোশতাককে জবরদখলকারী বলা হয়েছে। সামরিক শাসনকে অবৈধ বলা হয়েছে। আমরা আশায় ছিলাম, সংবিধানে গণমুখী পরিবর্তন আনা হবে। বাহাত্তরে তো ফিরবই। ঘাটতিও দূর হবে। সোনিয়া গান্ধী সংসদে নারীর জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ করছেন। রাজ্যসভায় বিল পাস হলো। বাংলাদেশে টুঁ শব্দ নেই। অথচ নারীর জন্য ১০০ আসন বাড়াতে স্পষ্ট নির্বাচনী ওয়াদা রয়েছে। এখন সন্দেহ হচ্ছে, আদালতের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া তারা আদৌ আর কিছু করবে কি না।
সংবিধানে তারা হাত দিতে পারে। কিন্তু দেখার বিষয়, তাতে জনগণের ক্ষমতায়ন ঘটছে কি না। প্রধানমন্ত্রীর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস কিংবা নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ কোনোভাবে ভারসাম্যপূর্ণ হচ্ছে কি না। এটা আদালত করে দেবে না। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদের শর্তাংশ সংসদ যেকোনো সময় ফিরিয়ে আনতে পারে। এ জন্য গণভোটও লাগবে না। সাধারণ একটা আইন দিয়ে যা সম্ভব, তা আদালতকে দিয়ে কেন। আমার তো মনে হয়, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও ৮ অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতাকে মৌলিক কাঠামো হিসেবে মান্য করা চলে। কিন্তু সেই কারণে ৩৮ অনুচ্ছেদের শর্তাংশ মৌলিক কাঠামো বলে গণ্য হতে পারে কি না, তা তলিয়ে দেখার দাবি রাখে।
সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা লেখার চেয়ে সংবিধানে ক্ষমতার পৃথক্করণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিফলন ঘটানো অনেক বেশি উপকারী ও আরাধ্য। এটা পেলে রাষ্ট্র গঠনের কাজ অনেকটা এগিয়ে যাবে। রাজনীতিতে কেবল ধর্মের অপব্যবহার কেন, কালো টাকা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধেও তা খুব কাজে আসবে।
এর আগের একটি লেখায় আমি জিয়াকে তথাকথিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক লিখেছিলাম। ই-মেইলে একজন পাঠক তার কারণ জানতে চান। প্রথমত, বাকশাল বিলোপ সায়েম করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, বহুদলীয় গণতন্ত্র বলতে পাশ্চাত্যের বহুত্ব (প্লুরালিজম) বোঝানো হয়। সেই বহুত্ব একটি সমন্বিত ধারণা। এতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্বাধীন সংসদ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হবে। এসব না থাকলে বহুদলীয় গণতন্ত্র পানসে। চতুর্থ সংশোধনীতে আসে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা। জিয়া একে সুরক্ষা দেন। তিনি তাতেই ক্ষান্ত থাকেননি। সংসদের অনুমতি ছাড়া যত খুশি অর্থ খরচে সংবিধানে নতুন বিধান আনেন। বিচারপতি খায়রুল হকের কথায় এভাবে তিনি মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের জেমস ও চার্লসদের লজ্জায় ফেলেন। কারণ, সংসদকে পদানত করার এমন ক্ষমতা মধ্যযুগের ওই নৃপতিরাও ভোগ করেননি।
কিন্তু কথা হলো এখন কী চলছে? বহুদলীয় বা সংসদীয় গণতন্ত্র বিদ্যমান। আসলে এটা ছদ্মবেশী রাজতন্ত্র বা ‘কতিপয়তন্ত্রে’র কাজে লাগছে। বর্তমানে বাকশাল নেই ঠিকই। কিন্তু বাকশালের মতো একটি ব্যবস্থায় আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি। মাতৃস্নেহে অন্ধ জননী তাঁর কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন রাখতে পারেন। বাংলাদেশের শাসকেরা হলেন সেই স্বৈর-স্নেহান্ধ জননী। পঁচাত্তরের ট্র্যাজেডির পর তাঁরা বলেছেন, এই নাও বহুদলীয় গণতন্ত্র। এরশাদের পতনের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মোলাকাত হয়েছিল। তখন তারা বলেছে, এই নাও সংসদীয় গণতন্ত্র। দুটোই মস্তবড় ধাপ্পা ও শঠতাপূর্ণ।
জামায়াতের প্রসঙ্গ টেনে শেষ করি। আদালত যদি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর দোহাই দেন, সরকারি দলের আপাতত কৌশলগত পছন্দনীয় বিষয় জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করেন, কিংবা তা না করলেও তাঁরা যেন সংবিধানের অধিক গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক কাঠামোবিনাশী বিষয়গুলোর দিকে সদয় হন। তাঁরা যেন শাসকগোষ্ঠীর ভীষণ পছন্দনীয় ব্যবস্থা, যেমন—অধস্তন আদালত নিয়ন্ত্রণ ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিলোপ করে মূল সংবিধানের অনুচ্ছেদগুলো ফিরিয়ে দেন। ডেনমার্কের রাজপুত্র ছাড়া হ্যামলেট মঞ্চায়ন সম্ভব নয়। চতুর্থ সংশোধনীতে মৌলিক কাঠামোর ধ্বংসযজ্ঞ পাশ কাটিয়ে বাহাত্তরের সংবিধানে ফেরাও সম্ভব নয়।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com
http://www.prothom-alo.com/detail/da...-30/news/52591
|

March 29, 2010, 10:38 PM
|
 |
BC Staff BC Editorial Team
|
|
Join Date: March 9, 2008
Location: Arkham
Favorite Player: V.Sehwag
Posts: 23,095
|
|
Anisal Huq as in OUR Anisul Huq? I mean our facebook friend. :wink wink:
__________________
I am chess!
|

March 30, 2010, 03:08 AM
|
 |
Cricket Legend
|
|
Join Date: October 7, 2008
Location: Dhaka
Favorite Player: Shakib,Ganguly,Vettori,
Posts: 2,338
|
|
Saiad Abul Maksud kicked some a$$ in his column. Excellent stuff.
__________________
Our deeds are for us and yours for you; peace be on to you. We do not desire the way of the ignorant
|

March 30, 2010, 04:29 AM
|
|
Banned
|
|
Join Date: October 16, 2006
Location: Doha, Qatar
Favorite Player: Mash,Shakib,Tamim
Posts: 7,046
|
|
Quote:
|
Originally Posted by PoorFan
Good thread Shardul, I am also a fan of their columns especially written by Mizanur Rahman Khan, Prof. Zafar Iqbal, Anisul Haq and few more. Their constructive criticizing keeps my hope alive in such pathetic state of Bangladesh.
|
Yep. Journalist Farouque Wasif also writes f*****g good columns.
|
|
Currently Active Users Viewing This Thread: 1 (0 members and 1 guests)
|
|
|
| Thread Tools |
|
|
| Display Modes |
Linear Mode
|
Posting Rules
|
You may not post new threads
You may not post replies
You may not post attachments
You may not edit your posts
HTML code is On
|
|
|
All times are GMT -5. The time now is 10:21 PM.
|
|