Prathom Alo
http://www.prothom-alo.com/detail/da...16/news/131805
ফিল্ডিং আর স্পিন নিয়ে দুশ্চিন্তা
ক্রীড়া প্রতিবেদক |
তারিখ: ১৬-০২-২০১১
বল হাতে সফল রাজ্জাক-সাকিবের হাই-ফাইভের এই আনন্দ মিলিয়ে গেছে দিনশেষে
প্রস্তুতি ম্যাচ যদি নিজেকে দেখার আয়না হয়, সে আয়নায় কাল অন্তত দুটি খুঁত খুঁজে পেল বাংলাদেশ দল। নিজেদের কন্ডিশনে যে স্পিন বোলিংটাকে ধরা হচ্ছে দলের বড় শক্তি, পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই অস্ত্রটাই কাজ করল না ঠিকভাবে! সঙ্গে যোগ হলো ফিল্ডিং দুশ্চিন্তাও। তিন তিনটি ক্যাচ ফেলা আর যা-ই হোক স্বস্তির কারণ হতে পারে না প্রাক-বিশ্বকাপ ম্যাচে।
জুলিয়েন ফাউন্টেন আসার পর ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতিটা ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশি ফিল্ডারদের দুর্বলতা ধরে ধরে কাজ করেছেন এই ব্রিটিশ কোচ। যেসব জায়গায় আগে থেকেই ভালো ছিলেন ফিল্ডাররা, সেসব জায়গায় করেছেন কিছু ‘ফাইন টিউনিং’। গত নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সিরিজে সেটির সুফলও পাওয়া গেছে। কিন্তু বিশ্বকাপের আগের ম্যাচে যেন হিসাবে গন্ডগোল হয়ে গেল একটু। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল তিন তিনটি ক্যাচ ফেলার দৃশ্য বড় দৃষ্টিকটু লাগল।
প্রথম ক্যাচটা ফেলেছেন জুনায়েদ সিদ্দিক। রুবেল হোসেনের বলে মিড উইকেটে যাওয়া ক্যাচটা একেবারে হাতে না এলেও এই পর্যায়ের ক্রিকেটে তালুবন্দী করা উচিত ছিল। ব্যক্তিগত ১৬ রানের সময় জীবন পেয়েও ২১ রান করেই ফিরে গেছেন মোহাম্মদ হাফিজ। জুনায়েদের ক্যাচ মিস তাই পোড়ায়নি বাংলাদেশকে।
কিন্তু মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী ও আবদুর রাজ্জাকের ‘ক্যাচ মিস বিনিময়’ বাংলাদেশ দলকে ডুবিয়েই দিল বলতে পারেন। প্রথমে রাজ্জাকের বলে লং অনে আহমেদ শেহজাদের সহজ ক্যাচ হাত থেকে ফসকে গেল সোহরাওয়ার্দীর। পরে লং অফে একই ব্যাটসম্যানের একই রকম আরেকটি ক্যাচ ফেলে একই ‘উপহার’ রাজ্জাক ফিরিয়ে দিলেন সোহরাওয়ার্দীকে। ‘লাইফ’ দুটি পাওয়ার সময় শেহজাদের রান ছিল ৪২ ও ৫৬। বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনেও পাকিস্তানকে বড় রান এনে দিয়েছে এই শেহজাদ আর মিসবাহর সেঞ্চুরিই। বাকি সব ব্যাটসম্যানের রানের যোগফল যখন মাত্র ৭২, তখন এই দুজন মিলেই করে দিলেন ২০৩!
ফিল্ডিংটা তবু ‘আজ ভালো কাল খারাপ’ হতে পারে। কিন্তু এক সাকিব আল হাসান ছাড়া বাকি স্পিনারদের নিষ্প্রভতা চিন্তার কারণ বৈকি। ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট—একদিকে সাকিবের এই বোলিং, অন্যদিকে বাকি স্পিনারদের হাহাকার! সবচেয়ে অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার রাজ্জাকও ভয় ধরাতে পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে, তাঁর সান্ত্বনা একটা উইকেট। এ ছাড়া সোহরাওয়ার্দী-নাঈম-মাহমুদউল্লাহ-আশরাফুল, কারও ওপরই খুব বেশি ভরসা রাখতে পারেননি অধিনায়ক। দুই ওভার তিন ওভার পরই তাই বোলার বদল হয়েছে। সে তুলনায় দুই পেসার বরং ভালো করলেন। ৫ ওভারে ১৯ রানে ১ মেডেনসহ ১ উইকেট নিয়ে শফিউল ইসলাম তো আগের ম্যাচের মতোই দুর্দান্ত, লাইন-লেংথ অসাধারণ, ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকা মাশরাফি বিন মুর্তজার চোখে তো বিশ্বকাপে এই পেসারই হবেন বাংলাদেশ দলের বড় চমক! লাইন-লেংথে সমস্যা ছিল, রানও একটু বেশি দিয়ে ফেলেছেন। তবে শেষ দিকে উইকেট ফেলার কাজটা অন্তত করতে পেরেছেন রুবেল।
প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে কোনো উপসংহারে আসা যাবে না। তবে উদ্বোধনী ম্যাচের আগের এই দুই দিনে নিশ্চয়ই ফিল্ডিং আর স্পিন বোলিং নিয়েই বাংলাদেশ শিবিরে আলোচনাটা বেশি হবে। উদ্বোধনী ম্যাচটা ভারতের বিপক্ষে, আর স্পিনের বিপক্ষে তারা কতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেটা কে না জানে!