facebook Twitter RSS Feed YouTube StumbleUpon

Home | Forum | Chat | Tours | Articles | Pictures | News | Tools | History | Tourism | Search

 
 


Go Back   BanglaCricket Forum > Miscellaneous > Forget Cricket

Forget Cricket Talk about anything [within Board Rules, of course :) ]

Reply
 
Thread Tools Display Modes
  #51  
Old November 4, 2011, 02:59 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

দীপ জ্বেলে যাই
শহীদুল ইসলাম, পঞ্চগড় | তারিখ: ১৭-০৯-২০১১


পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা গ্রামে জনির পাঠশালায় পাঠদান চলছে

ছেলে অসুস্থ। ওষুধ খাওয়াতে হবে। আশপাশে কেউ নেই যে সাহায্য নেবেন। গ্রামের নিরক্ষর মা ভেবে পাচ্ছিলেন না কী করবেন। একপর্যায়ে ওষুধ মনে করে ঘরে থাকা কীটনাশক ছেলের মুখে তুলে দিলেন। যখন বুঝতে পারলেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ছেলে চলে গেছে না ফেরার দেশে।
মর্মান্তিক এ ঘটনা প্রতিবেশী এক তরুণের মনে নাড়া দেয়। ওই তরুণ ভাবেন, ওই মা যদি লিখতে-পড়তে পারতেন, তবে হয়তো এমন ভুল করতেন না। এসব মানুষকে শিক্ষার আলো দেওয়ার ব্রত নেন তিনি। সেই ব্রত থেকেই গ্রামে একটি পাঠশালা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। গৃহশিক্ষকতা করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে যাত্রা শুরু সেই পাঠশালার, যেটি পরিচিতি পায় ‘জনির স্কুল’ নামে।

তরুণের নাম নজরুল ইসলাম জনি। পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা গ্রামে তাঁর বাড়ি। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। পড়াশোনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। এরপর ওই স্কুল নিয়েই ব্যস্ত।
শুরুর কথা: মন নাড়া দেওয়া ওই ঘটনাটি ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসের। এ ছাড়া লেখাপড়া না জানায় গ্রামের সাধারণ মানুষের নানাভাবে প্রতারণার শিকার হওয়া, শিশু ও নারী নির্যাতন, বাল্যবিয়ে, মাদকের ছোবল তো আছেই। বিষয়টি ভাবায় জনিকে। তিনি চিন্তা করেন, শিক্ষাই এর সমাধান। এসব নিয়ে আলোচনা করেন সহপাঠী একই গ্রামের একরামুল হাসানের সঙ্গে। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন পাঠশালা গড়বেন। দুই বন্ধু মিলে ঠিক করেন জনির বাড়ির পাশের সুপারির বাগানে গ্রামের নিরক্ষরদের পড়ানো হবে।

জনি ও একরামুল তাঁদের ইচ্ছার কথা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানান। নিরক্ষর নারী-পুরুষকে পড়তে আসার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু নারীদের ঘর থেকে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু তাঁরা হাল ছাড়েননি। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে খোলা আকাশের নিচে শুরু হয় লেখাপড়া। প্রথমদিকে সেখানে পড়তে আসত মাত্র ১৮ থেকে ২০ জন। দুটি পালায় পড়ানো শুরু হয়। বিকেলে পড়েন নারীরা, রাতে পুুরুষেরা। জনির প্রাইভেট পড়ানোর টাকায় কেনা তিনটি হারিকেন ও পাঁচ লিটার কেরোসিন তেল দিয়ে শুরু হয় রাতের পড়া।

দিনের পালায় পড়ানো ভালোমতো চললেও রাতের পালায় সমস্যা হতো। কারণ, কেরোসিন কেনার খরচ কম নয়। একপর্যায়ে একরামুলের সহায়তা আর পান না জনি।

জনির হার না মানা মানসিকতা দেখে এগিয়ে আসেন গ্রামের দিনার চৌধুরী। দুজনে মিলে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের বই, খাতা-কলম, চক-ডাস্টার, বসার চট, মোমবাতি-হারিকেনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করেন। তার পরও যেন এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছিল না। জনির উদ্যোগের কথা জানতে পেরে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা এগিয়ে আসেন।

জনির বাড়ির উঠানে টিনের চালা করে বানানো হয় পাঠশালা। বাড়তে থাকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বর্তমানে তিন পালায় চলছে পাঠদান। দুপুরের পালায় পড়ানো হয় শিশুদের। বর্তমানে এ পালায় সুবিধাবঞ্চিত ৩৬টি শিশু পড়াশোনা করছে। বিকেলের পালায় পড়ছেন ৩০ জন নারী। আর রাতের পালায় পড়েন ২৫ থেকে ৩০ জন পুরুষ। কাউকে বেতন দিতে হয় না।

পাঠশালার শিক্ষক বলতে জনি নিজেই। শিশুরা ছয় মাস এখানে পড়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্কুলে গিয়ে ভর্তি হয়। বয়সী নারী-পুরুষেরাও ছয় মাস এখানে পড়েন।

আরও কিছু: জনির পাঠশালায় লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিয়ে ও যৌতুক প্রথা রোধ, ঝগড়া-বিবাদ নিষ্পত্তি, মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বিপদে-আপদে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করা, সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে তোলা, বাড়িতে ছোটখাটো খামার তৈরি, শাকসবজির বাগান, হাঁস-মুরগি-কবুতর, গরু-ছাগল পালনেও উদ্বুদ্ধ করা হয়।

একদিন পাঠশালায়: জনির পাঠশালায় ঢুকে দেখা গেল, দুই সারিতে বসে শিশুশিক্ষার্থীরা বই নিয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার জানাল, সে আগে স্কুলে যেতে পারেনি। এখন জনির স্কুলে এসে বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক সব বিষয় পড়ছে।

কথা হলো বিকেলের পালায় পড়তে আসা গৃহবধূ আছিয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি বললেন, পড়তে না পারায় ওষুধ ভেবে ছেলেকে কীটনাশক খাইয়েছিলেন। সেই যন্ত্রণা এখনো ভোগ করছেন। এ স্কুলে এসে এখন পড়া ও লেখা দুটোই পারেন। ‘ছোটবেলায় পড়ালেখা করতে পারিনি। কম বয়সেই বিয়ে হয়। পড়াশোনার ইচ্ছা ছিল। এখন এই স্কুলে এসে পড়াশোনা করছি।’ বলছিলেন গৃহবধূ মমতাজ বেগম। গৃহবধূ সহিদা বেগম বললেন, প্রথম প্রথম পড়তে আসতে লজ্জা লাগত। কিন্তু এখন ভালোই লাগছে।
সারা দিন খাটা-খাটুনির পর রাতের পালায় পড়তে আসেন মনজুর রহমান (৪০)। ‘পড়াশোনা না জানলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এখন পড়তে ও লিখতে পারি।’ সরল উত্তর মনজুরের।
অন্যদের কথা: জনির সহযোগী দিনার বলেন, ‘জনির মহ ৎ উদ্যোগ আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। তাই ওঁর সঙ্গে যোগ দিই। এই উদ্যোগে সহযোগিতা করতে পেরে ভালোই লাগছে।’

জনির বাবা আবদুস ছাত্তার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আবদুস ছাত্তার বলেন, এ কাজকে প্রথমদিকে ছেলের পাগলামি মনে হতো। এখন সবাই ছেলের প্রশংসা করে। খুব গর্ব হয়।
পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ মো. মজাহারুল হক প্রধান এ উদ্যোগের প্রশংসা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। একই কথা বলেন পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলাম। তিনি স্কুলের উন্নয়নে সহযোগিতাও করেছেন।

জনির ইচ্ছা: এরই মধ্যে কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন জনি। সাক্ষরতাদানে বিশেষ অবদান রাখায় ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে জেলা প্রশাসন জনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সম্মাননা সনদ’ দিয়েছে।

জনি বলেন, ‘ইচ্ছা আছে পাঠশালার জন্য একটি পাকা ঘর তৈরি করার। সেখানে বিদ্যু ৎ, পানীয় জল এবং শৌচাগার থাকবে। এ ছাড়া সুযোগ পেলে এ এলাকার প্রতিটি গ্রামে এমন একটি করে পাঠশালা গড়ে তুলব।’

--------------------------------------------------------------
Comments:
২০১১.০৯.১৭ ০৩:১০ ''আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে''....... জনি অন্তরের অন্তস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই আপনাকে। আপনারাই আমাদের আশার আলো।
স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি সরকার একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর সুবিধার জন্য কাজ করে গেছে/ সুবিধা দিয়ে গেছে আর আপামর জনসাধারণ রয়ে গেছে অন্ধকারের অতল গহবরে সুবিধা বঞ্চিত হয়ে। এদেশ আমাদের তাই এর উন্নয়নে আমাদেরি এগিয়ে আসতে হবে ।
'' আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে
ভণ্ড নেতারা আর কতকাল
আমাদের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাবে ???''
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #52  
Old November 4, 2011, 03:03 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

‘এটা আমার ২০ বছরের স্বপ্ন’
ক্রীড়া প্রতিবেদক | তারিখ: ১৩-১০-২০১১


টমি মিয়া

ক্রিকেট ভালোবাসেন। সেটিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন মৌলভীবাজারে ক্রিকেট একাডেমি গড়ার মাধ্যমে। ‘রন্ধনশিল্পী’ এখন ক্রিকেটে মশগুল। এখানেও সফল হতে চান টমি মিয়া

 ক্রিকেট একাডেমি করার চিন্তা কীভাবে মাথায় এল?
টমি মিয়া: আমি ক্রিকেটের ফ্যান। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৬৯ সালে লন্ডনের বার্মিংহামে চলে গিয়েছিলাম। ওখানে ক্রিকেট-ফুটবল দুটোই জনপ্রিয়। যার যেটা ভালো লাগে। উদারহণস্বরূপ বলি, আমি শেফ। আমি এটা এনজয় করি। ক্রিকেটও আমি এনজয় করি।
 আপনার পরিকল্পনা কী?
টমি: পরিকল্পনা অনেক। বলতে পারেন, এটা আমার ২০ বছরের স্বপ্ন। ২০ বছর আগে সামর্থ্য ছিল না। ১০ বছর ধরে সিরিয়াস হয়েছি। আগামী পরশু (আগামীকাল) আমরা একাডেমি ভবন তৈরির কাজ শুরু করছি। ২০১৩ থেকে আশা করি যাত্রা করতে পারব।
 জমি কোথায় পেলেন। খরচই বা কেমন হবে?
টমি: মৌলভীবাজারের ওয়াপদা রোডে আমাদের পারিবারিক জমিতে একাডেমি হচ্ছে। এটা সব মিলিয়ে প্রায় এক শ কোটি টাকার প্রকল্প।
 কয়টা ভবন হচ্ছে? কত শিক্ষার্থী থাকবে একাডেমিতে?
টমি: গোটা পাঁচেক ভবন হবে। আমার লক্ষ্য ৩০০ শিক্ষার্থী। খেলার মাঠ সম্ভবত একটার বেশি হবে না। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার মিলে এটির নকশা করেছেন।
 আধুনিক একটা একাডেমিই তাহলে হচ্ছে?
টমি: হ্যাঁ, আধুনিক। আমরা ৫-৮ বছরের বাচ্চাদের ভর্তি করব। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল করব। ক্রিকেট এডুকেশনসহ সবকিছুই রাখব। ইংল্যান্ডে কিছু একাডেমি আছে, ওগুলোর সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হচ্ছি। ওদের সিলেবাস ফলো করব।
 ক্রিকেট ব্যক্তিত্বদের আনার চিন্তা আছে আপনার?
টমি: শেন বন্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি শিগগিরই আসবেন একাডেমির প্রমোশনাল কাজে। স্যার ইয়ান বোথাম নিশ্চয়তা দেননি। তবে এ মাসের ২৫-২৬ তারিখে আসতেও পারেন। ফারুক ইঞ্জিনিয়ার, আসিফ ইকবালের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁরাও আসতে পারেন।
 অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গেই আপনার পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা আছে শুনেছি...
টমি: একজনের কথা আলাদা করে বলতে পারি—রাহুল দ্রাবিড়। তাঁর স্কটল্যান্ডে খেলার সময় আমি তিন মাস তাঁর খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারটা দেখাশোনা করেছি। সুনীল গাভাস্কার, ইমরান খানসহ আরও অনেকের সঙ্গেও পরিচয় আছে। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে। নিরাপত্তার ব্যাপারটা বড় না হলে হয়তো আমার ডাকে চলেও আসতেন।
 মাদ্রিদে নাকি একটা অনুষ্ঠানেও যাচ্ছেন?
টমি: হ্যাঁ। আগামী এপ্রিলে মাদ্রিদ ক্রিকেট একাডেমির একটা টি- টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আছে। সেখানে দাওয়াত পেয়েছি। ২০০ লোকের রান্না করব।
 একাডেমি করার উদ্যোগ নিয়ে অনেকেই এগোতে পারেননি। আপনি কতটা এগোতে পারবেন বলে মনে করেন?
টমি: ১৪ বছর বয়স থেকে বিলাতে ডিশওয়াশ শুরু করি। লেখাপড়া করতে পারিনি। গ্রাম থেকে বিলাত গিয়েছি। মৌলভীবাজার শহরটাও দেখিনি। আর সেই আমি আজ বড় কোনো বাণিজ্যিক অ্যাসাইনমেন্টে ১০ লাখ টাকার নিচে যাই না। একাগ্রতা আর পরিশ্রমের কারণেই এত দূর এসেছি। কাজেই আমি পিছিয়ে যাওয়ার লোক নই।
 আপনার নামটা টমি মিয়া হলো কী করে?
টমি: আমার মূল নাম মোহাম্মদ আজমান মিয়া। যখন লন্ডনের স্কুলে গিয়েছি, এই অঞ্চলের আর কেউ ছিল না। ইংরেজি জানি না, ইনফ্যাক্ট কিছুই পারি না। তখন দ্রুত ইংরেজি শিখতে স্কুলে আমাকে নিক নেম দেওয়া হলো—টমি মিয়া (হাসি)। আমাকে নিয়ে প্রথম আলো কয়েক বছর আগে ফিচার লিখেছে—‘বাড়ন্তি টু বাকিংহাম প্যালেস।’ বাড়ন্তি হলো আমার গ্রামের নাম।
 পরিবার নিয়ে কিছু বলুন...
টমি: বাবা মারা গেছেন। মা আছে। দুই ভাই, দুই বোন। সবারই লন্ডনে জন্ম। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। দুটি নাতিনাতনি আছে (হাসি)। ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করেছি। এখন বয়স ৫২। বুঝতেই পারছেন, দীর্ঘ একটা পথ পেরিয়ে আজ আমি এখানে।
-----------------------------------------------------------------------------
comment:
২০১১.১০.১৩ ০৩:৩৮ ১০০কোটি টাকা দিয়ে শুধু সিলেটে একটি একাডেমি না বানিয়ে ২০ কোটি করে ৫টি বানান, দেশের ৫টি এলাকায়।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #53  
Old November 4, 2011, 03:06 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

তেতো করলায় জীবনের জয়গান
রহিদুল মিয়া, আলতাফ হোসেন, মিঠাপুকুর (রংপুর) থেকে | তারিখ: ০৮-১০-২০১১


রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে নিজের খেতে করলা তুলছেন শাহজাহান আলী

শাহজাহান আলীর বসতভিটা ছাড়া কোনো জমি ছিল না। অন্যের জমিতে কামলা খেটে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। এক বেলা খাবার জুটলেও আরেক বেলা জুটত না। ৩০ বছর আগে শাহজাহানের অবস্থা ছিল এ রকম। আর আজ?

আজ তিনি একজন সফল চাষি। করলা চাষে তাঁর সাফল্যের পথ ধরে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ঘটে গেছে এক নীরব বিপ্লব। শাহজাহান আলী (৬০) আজ শত শত কৃষকের পথপ্রদর্শকও। তাঁর গ্রাম থেকে শুরু হয়ে করলার চাষ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের দশ গ্রামে। মিঠাপুকুরের করলার সুনাম দূরদূরান্তেও ছড়িয়ে পড়েছে।

করলাপল্লিতে একদিন: মিঠাপুকুর উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার উত্তরে রানীপুকুর ইউনিয়নে নয়াপাড়া গ্রাম। এ গ্রামে শাহজাহানের বাড়ি। কাঁচা-পাকা পথ ধরে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই গ্রামে ঢুকেই অভাবিত দৃশ্য চোখে পড়ে। গ্রামের মাঠজুড়ে অসংখ্য করলাখেতের মাচা। গ্রামের নারী-পুরুষ কেউ খেত থেকে করলা তুলছেন, কেউ করছেন খেতের পরিচর্যা। প্রতিটি বাড়িতেই স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুতের আলোর ঝলকানি।

বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করতেই একজন দেখিয়ে দেন, ওই যে শাহাজাহান করলাখেতে কাজ করছেন। এই প্রতিবেদককে দেখে জমি থেকে আলে উঠে আসেন। শোনান করলার চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার গল্প।

কষ্টের অতীত: ১৯৫০ সালে দরিদ্র পরিবারে জন্ম শাহজাহানের। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি বড়। বাবার অভাবের সংসার, তাই লেখাপড়া করা হয়নি। দিনমজুরির কাজ পেলে খাবার জুটত, না পেলে অনাহার।

১৯৮০ সালের কথা, কাজ না পাওয়ায় শাহজাহান দুই দিনেও চাল জোটাতে পারেনি। তাই বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে বসে মনের দুঃখে কাঁদছিলেন। ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন একই গ্রামের সবজিবীজের বিক্রেতা হায়দার আলী। শাহজাহানের কষ্টের কথা শুনে তাঁর হাতে তিনি ১০০ টাকা আর ২০০ গ্রাম করলার বীজ তুলে দেন।

হায়দারের পরামর্শে এ বীজ শাহজাহান লাগান ৪ শতক বসতভিটার চারদিকে। ৬০ দিনের মাথায় খেতে করলা ধরে। ফলন দেখে শাহাজাহানের মুখে হাসি ফুটে। এ করলা বিক্রি করে আয়ও আসে ৮০০ টাকা। এরপর পুরোপুরি করলা চাষে লেগে পড়েন। প্রথম বছরের ৮০০ টাকা দিয়ে পরের বছর অন্যের ১৫ শতক জমি বর্গা নেন। এবারও তাঁর করলার ফলন ভালো হয়। বসতভিটাসহ ১৫ শতক জমির করলা বিক্রি করে আয় করেন ছয় হাজার টাকা।

এভাবে একপর্যায়ে চাষের জমি বাড়ে, আয় বাড়ে। করলা চাষের টাকায় কেনেন তিন একর জমি, বানান পাকা বাড়ি। মাছ চাষের জন্য খনন করেন পুকুর, সাতটি গরুর একটি খামারও করেছেন। দুই মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে বিয়ে দেন। তিন ছেলে রবিউল, রেজাউল ও শফিকুল লেগে আছেন করলা চাষে। এবারে দুই একরে করেছেন করলার চাষ। ইতিমধ্যে এক লাখ টাকার করলা বিক্রি করেছেন। এখনো খেতে যে পরিমাণ করলা আছে, তা বিক্রি করলে আয় হবে দেড় লাখ টাকা।

করলা ফুটাল হাসি: ১০ বছর আগে নয়াপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামকে সবাই দিনমজুর হিসেবে চিনত। আশ্বিন-কার্তিক মাসে তাঁর পরিবারকে প্রায় উপোস থাকতে হতো। কিন্তু এখন নজরুলের ঘরে সারা বছর চাল থাকে। কামলাও খাটতে হয় না। অন্যের ২৮ শতক জমি বর্গা নিয়ে করলা চাষ শুরু করে তিনি টিনের বাড়ি করেছেন। নিজের কেনা দুই একর জমিতে এবার করেছেন করলার চাষ। এ পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন তিনি।

বলদী পুকুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান বলেন, করলা চাষ তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। আগে এক বেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে দায় হয়ে যেত, সেখানে এখন খাওয়া-পরা বাদেও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ দিতে পারছেন তিনি।

বসতভিটাসহ ১০ শতক জমিতে চাষ শুরু করেন দুর্গাপুর গ্রামের দিনমজুর আবু বকর। এখন তার বাড়ির চারদিকে গাছ-গাছালি ও দেড় একর জমিতে করলা রয়েছে। দুই হাজার টাকা ধার করে আট বছর আগে করলার চাষ শুরু করেন তিনি। এখন করলা বিক্রি করে বছরে আয় করেন দুই লাখ টাকা।

লাভ দ্বিগুণ: রসুলপুর গ্রামের কৃষক কেচু মিয়া বলেন, ধানের চেয়ে করলা চাষে লাভ দ্বিগুণ। এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ব্যয় হয় ১০-১১ হাজার টাকা। উৎপাদিত ধান বিক্রি হয় ১৮-১৯ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় আট-নয় হাজার টাকা। কিন্তু এক বিঘায় করলা চাষ করতে ব্যয় হচ্ছে ১৪-১৫ হাজার টাকা। উৎপাদিত করলা বিক্রি হয় ৬৫-৭০ হাজার টাকা। এতে বিঘায় করলা চাষ করে আয় আসে ৫০-৫৫ হাজার টাকা। প্রায় সারা বছরই করলা চাষ করা যায়। লাগানোর ৬০ দিনের মধ্যে করলা পাওয়া যায়। ভাদ্র-কার্তিক মাসে করলার ফলন ভালো হয়। হাইব্রিড, নেপালি, রানীপুকুর, সোনামুখী, বউ সোহাগীসহ নানা জাতের করলার চাষ হয় মিঠাপুকুরে।

গড়ে উঠেছে বাজার: করলা চাষ ঘিরে গড়ে উঠেছে চারটি বাজার। রানীপুকুর, বলদী পুকুর, জায়গীরহাট, শঠিবাড়ির হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত করলা ছাড়াও নানা রকম সবজি বিক্রি হয়। এখান থেকে কেনা করলা ট্রাকে করে ঢাকার সাভার, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে যায়। অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী সরাসরি খেত থেকেও করলা কিনে থাকেন। স্থানীয় বাজারে বর্তমান প্রতি মণ করলা প্রকারভেদে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তাঁরা যা বললেন: রানীপুকুর ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বুলবুল মিয়া বলেন, শাহাজাহান সব কৃষকের মডেল। তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার কৃষকেরা করলা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি জেনেছেন শাহজাহান আলী এই অঞ্চলে করলা চাষের সূচনা করেছেন। তার আগে কেউ এভাবে করলা চাষ করেনি। তিনি বলেন, করলার চাষে খরচ কম, লাভ বেশি হওয়ায় শত শত কৃষক করলা চাষ করছেন। মিঠাপুকুরে এবারে এক হাজার ২২০ একর জমিতে করলার চাষ হয়েছে। চাষিদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এবং শাহজাহান: কষ্টে ধরে আসা গলায় শাহাজাহান আলী বলেন, ‘ঈদেও স্ত্রী-সন্তানদের কাপড় দিতে পারতাম না। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। করলা চাষ করে এত দূর এসেছি, করলা চাষ নিয়ে বাকি জীবন কাটাতে চাই।’

শাহজাহানের স্ত্রী রশিদা বেগম বলেন, ‘লোকটা সারা দিন করলাখেতে কাজ করে। আমি একটু দেখতে আসি। মাঝেমধ্যে নিজেও একটু হাত লাগাই।’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের যথেষ্ট সুখে রেখেছে, এভাবেই মরতে চাই।’
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #54  
Old November 4, 2011, 03:16 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

রিকশা চালিয়ে হাসপাতাল
কামরুজ্জামান, ময়মনসিংহ | তারিখ: ০২-০৭-২০১১
৩৩৪ মন্তব্য


ঢাকার রাস্তায় রিকশা চালাচ্ছেন জয়নাল আবেদিন


ময়মনসিংহে জয়নালের মমতাজ হাসপাতাল ষ ছবি: প্রথম আলো

ঢাকায় রিকশা চালান তিনি। রোদে পোড়েন। বৃষ্টিতে ভেজেন। কাঁপেন কনকনে শীতে। তবু থামে না রিকশার চাকা। এ যে তাঁর স্বপ্নেরও চাকা।

তিনি মো. জয়নাল আবেদিন। বয়স কত হবে? ৬০ কিংবা ৬১। চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেছে। কালো হয়ে গেছে দাঁত। দাড়ি শ্বেতশুভ্র। শরীর দুর্বল। রিকশার প্যাডেল চাপতে এখন পা ধরে আসে। পেশি টনটন করে। মাথা ঝিমঝিম করে। কিন্তু স্বপ্ন তাঁকে টেনে নিয়ে যায়।

ঢাকায় জয়নাল যখন কষ্টে কাতর, ময়মনসিংহে তখন তাঁর গড়া হাসপাতালে গরিব রোগীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। ঢাকার বালি-ধূলি-ভেঁপুর শোরগোল চাপা পড়ে যায় জয়নালের অন্তরে বাজা তাঁর গড়া বিদ্যালয়ের শিশুদের হিল্লোলের নিচে।

একজন জয়নাল শুধু রিকশা চালিয়ে নিজ গ্রামে একটি হাসপাতাল করেছেন। গড়েছেন একটি বিদ্যালয়। চালাচ্ছেন মক্তব। ছোট তাঁর সেই হাসপাতালে ছয়টি শয্যা আছে। আছেন একজন পল্লি চিকিৎসক, সার্বক্ষণিক। সপ্তাহে এক দিন সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এসে রোগী দেখেন।
শুধু রিকশা চালিয়ে একজন অক্ষরজ্ঞানহীন জয়নাল একটি বিদ্যালয় গড়েছেন। হোক সেখানে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা। তাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন ১২০। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সকালে মক্তব বসে। গ্রামের শিশুরা সকালে সেখানে আরবি পড়ে। সাধ্য নয়, স্বপ্ন একজন রিকশাচালককে দিয়ে কী না গড়িয়ে নেয়!

আঘাত থেকে অঙ্গীকার: ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের টানহাসাদিয়া গ্রামে জয়নাল আবেদিনের বাড়ি। বাবা মো. আবদুল গনি ছিলেন ভূমিহীন কৃষক। আবদুল গনির চার ছেলে ও ছয় মেয়ের মধ্যে জয়নাল সবার বড়। অভাব-অনটনের সংসারে পড়াশোনা করার সুযোগ হয়নি কারও।

প্রায় ৩০ বছর আগের কথা। দিনক্ষণ ঠিক মনে নেই জয়নালের। অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল। সন্ধ্যার দিকে বাবা আবদুল বুক চেপে ধরে কাতরাতে লাগলেন। বাবার কষ্টকাতর মুখ দেখে দিশেহারা হয়ে পড়লেন সন্তানেরা। জয়নাল ও তাঁর ভাইয়েরা বের হলেন চিকিৎসকের খোঁজে। সে যুগে কাছেপিঠে কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র বা ভালো চিকিৎসকও ছিল না। গুটিকয়েক নাম ভাঙানো চিকিৎসক ও ওষুধের দোকান ছিল ভরসা।

জয়নাল বললেন, ‘একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে বাবাকে নিয়ে দুই কিলোমিটার দূরে মীরকান্দাপাড়ায় যাই। সেখানে মেহছেন বেপারীর ওষুধের দোকান ছিল। মেহছেনের বাবা জসিমউদ্দিন ছিলেন এলাকার কুখ্যাত রাজাকার। অসুস্থ বাবাকে নিয়ে দোকানে পৌঁছালে মেহছেন তাচ্ছিল্য করে বলে, রাজাকারের দোকানে ওষুধ নিতে আইছো ক্যান? তোমরার কাছে ওষুধ বেচুম না।’

বিমুখ হয়ে মুমূর্ষু বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন ছেলেরা। রাত ১০টার দিকে বাবা মারা যান। এই মৃত্যু স্তব্ধ করে দেয় জয়নালকে। কষ্টের আগুনে পুড়তে থাকেন তিনি।

পেছনে চোখ ফেলেন জয়নাল। তাঁর এক মামা ময়মনসিংহের ব্যাংকে চাকরি করতেন। তাঁর সূত্রে ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় একদল মুক্তিযোদ্ধা আসেন তাঁদের বাড়িতে। তাঁর বাবা সেই মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েক দিন বাড়িতে রেখে খাইয়েছেন। সে ইতিহাস জয়নালরা ভুলে গেলেও স্থানীয় রাজাকার জসিমউদ্দিন বা তাঁর ছেলে তা ভোলেননি। দীর্ঘশ্বাস ফেলেন জয়নাল।

মনের আগুন থেকে অঙ্গীকার। একটি হাসপাতাল গড়ার পণ করেন জয়নাল। সেই হাসপাতালে বিনা মূল্যে গরিব মানুষের চিকিৎসা হবে। ঠিক করেন, ঢাকায় চলে যাবেন। গতর খেটেই হাসপাতাল গড়ার টাকা জোগাবেন।

বাবার কুলখানির পর গাঁয়ের কয়েকজন মুরব্বি নিয়ে বসলেন জয়নাল। তাঁদের বলেন, ‘এই রইল আমার মা আর ভাইবোনরা। ওগো সমস্যা হইলে আপনেরা দেইখেন। আমি চললাম।’ স্ত্রী লাল বানু ও দেড় বছরের মেয়ে মমতাজকে নিয়ে ট্রেনে ঢাকার পথে ছোটেন জয়নাল।

সাহসী যাত্রা: ঢাকায় পৌঁছে যেন গোলকধাঁধায় পড়ে যান জয়নাল। নতুন শহর। আপনজনহীন। নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। ট্রেন থেকে নেমে স্ত্রী ও শিশুকন্যা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটি বড় মাঠে গিয়ে পৌঁছেন তিনি। পরে জেনেছেন, এটি শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির মাঠ। ওই মাঠে পানির ট্যাংকের নিচে সপরিবারে আশ্রয় নেন জয়নাল। সেখানে কাটে দেড় দিন। কত সালে জানতে চাইলে বলেন, ‘তখন এরশাদের আমল।’

পরিবারটির ব্যাপারে কৌতূহলী হন স্থানীয় মোশাররফ (৪৫)। তাঁর বাড়ি বিক্রমপুরে। কয়েকটি রিকশা ভাড়া খাটাতেন তিনি। জয়নালের সব জেনে মায়া হয় তাঁর। খাওয়ার জন্য ৫০ টাকা দেন। মোশাররফ এক দিনেই রিকশা চালানো শিখিয়ে একটি রিকশাও দেন জয়নালকে। সঙ্গে কলোনির একটি বাসার বারান্দায় ১৫০ টাকা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থাও করে দেন।

জয়নাল স্মৃতিচারণা করেন, ‘প্রথম খেপে বাদামতলীতে গিয়ে ৩০ টাকা পাই। এভাবে এক দুপুর রিকশা চালিয়ে পাই ৯৫ টাকা। বাকি বেলায় জোটে ৫৫ টাকা। মোশাররফকে রিকশার জমা দেই ২০ টাকা। সপ্তাহ খানেক এভাবে চলে।’

অঙ্গীকার পালনের তাড়া আর স্বপ্নের হাতছানি জয়নালকে পরিকল্পনা শেখায়। হাসপাতাল গড়তে হলে তিল তিল করে করতে হবে বড় সঞ্চয়।

এক মনে সঞ্চয়: তত দিনে আপনজন হয়ে ওঠা মোশাররফকে অকপটে হাসপাতাল গড়ার স্বপ্নের কথা জানান জয়নাল। মোশাররফের পরামর্শে স্থানীয় এক মুদি দোকানির কাছে কিছু টাকা জমান জয়নাল। ওই টাকা নিয়ে ব্যাংকে হিসাব খুলতে গেলে শুরুতে কর্মকর্তারা পাত্তাই দেননি। অবজ্ঞাভরে বলেছেন, ‘রিকশাওয়ালা! কিছু টাকা জমিয়ে কয় দিন পর ঋণ চাইতে আসবে।’
কিন্তু দমেননি জয়নাল। বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে হিসাব খুলতে ধরনা দেন। শেষে সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখার ব্যবস্থাপক সালেহা আক্তার তাঁর আবেগের মূল্য দিলেন। তাঁর সহযোগিতায় ডিপিএস হিসাব খুলে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে জমাতে লাগলেন জয়নাল। একই ব্যাংকের দিলকুশা শাখায়ও একটি হিসাব খুললেন তিনি। সেখানে ডিপিএস করেন ৫০০ টাকার।

‘নিয়মিত টাকা জমাতে গিয়ে জান দিয়ে খাটতে হয়েছে। কখনো রাতদিন রিকশা চালিয়েছি। টাকা জমানোর কথা স্ত্রীকে জানাইনি। সংসারে যত কষ্টই হতো, কখনো জমানো টাকায় হাত দেইনি।’ বললেন জয়নাল।

এর মধ্যে সংসারে ছেলে জাহিদ হাসানের আগমন ঘটেছে। মগবাজারের উদয়ন ক্লিনিকে আয়ার কাজ নিয়েছেন স্ত্রী লাল বানু। চিকিৎসক জাহাঙ্গীর কবির একদিন জয়নালের রিকশায় করে যাচ্ছিলেন। কথায় কথায় জয়নাল চিকিৎসককে তাঁর সংকল্পের কথা জানান। ওই চিকিৎসকই জয়নালের স্ত্রীকে কাজটি পাইয়ে দেন। দীর্ঘদিনের চর্চায় প্রসূতি নারীর আনুষঙ্গিক সহযোগিতার কাজে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন লাল বানু।

কায়ক্লেশে প্রায় ২০ বছর রাজধানীতে কেটে যায় জয়নাল পরিবারের। এতগুলো বছর গোপনে জমা হয়েছে জয়নালের রক্তমাংস নিংড়ানো টাকা।

ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। মেয়ে মমতাজের বিয়ে হয়েছে ময়মনসিংহে। ছেলে জাহিদ হাসান এইচএসচি পাস করে এখন মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে মোবাইল ফোনসেট মেরামতের দোকান দিয়েছেন। তিনিও দুই সন্তানের জনক।

স্বপ্নের খুঁটি গাড়া: ২০০১ সালে স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন জয়নাল। সব সঞ্চয় এক করে পান এক লাখ ৮৪ হাজার টাকা। তা নিয়ে গ্রামে ফেরেন তিনি। বাড়ির কাছে ৪০ হাজার টাকায় ২৪ শতাংশ জমি কেনেন। এক শুক্রবারে গাঁয়ের মানুষ ডেকে হাসপাতাল গড়ার ঘোষণা দেন জয়নাল—‘এইহানে বিনা মূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হইব।’

লাল বানু বললেন, ‘লোকজন খুশি হবে কি, হেসেই উড়িয়ে দিল। হাসপাতাল গড়বে রিকশাচালক জয়নাল আবেদিন!’ আরও যোগ করলেন, ‘মাইনসের কতা কি কমু, আমার নিজেরই তহন তাঁরে পাগল মনে অইত। এহন হেই কথা ভাবলে কষ্ট লাগে।’

আপনজনরা টাকা অপচয় হবে বলে জয়নালকে নিরুৎসাহিত করেছেন। কিন্তু জয়নাল স্বপ্ন জয় না করে ছাড়বেন না। নতুন কেনা জমিতে দোতলার ভিত্তি দিয়ে একটি বড় আধাপাকা ঘর তৈরি করেন। এই নির্মাণকাজে সঞ্চয়ের প্রায় পুরো টাকা চলে যায়। মেয়ের নামে হাসপাতালের নাম দিলেন তিনি ‘মমতাজ হাসপাতাল’।

হাসপাতালে একদিন: সম্প্রতি ময়মনসিংহ শহর থেকে নৌকায় ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে মোটরসাইকেলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছি সিরতা বাজার। মনিহারি দোকানে কয়েকজন লোক বসা। উদ্দেশ্য জানালে এক যুবক নিয়ে গেলেন জয়নালের বাড়ি। বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে।

বাড়ির সামনে বাঁশের খুঁটিতে একটি সাইনবোর্ড। তাতে লেখা মমতাজ হাসপাতাল। পেছনে প্রায় ২৫ ফুট দীর্ঘ একটি টিনশেড ঘর। এটাই জয়নালের হাসপাতাল ভবন।
উঠানে গাভির পরিচর্যা করছিলেন জয়নাল। আগন্তুক দেখে কাছে এসে দাঁড়ালেন দীর্ঘদেহী সৌম্যকান্ত জয়নাল। মৃদু হেসে পরিচয় জানতে চাইলেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সোৎসাহে দেখাতে লাগলেন তাঁর হাসপাতাল।

হাসপাতাল বলতে প্রচলিত অর্থে যা বোঝায়, জয়নালের আয়োজন তা নয়। তবে জয়নাল তাঁর ক্ষুদ্র সামর্থ্য দিয়ে যেভাবে তিন দশক ধরে লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন, তার মাহাত্ম্য অনেক বড়। এ মাহাত্ম্য একটি হাসপাতাল গড়ার চেয়েও বিশাল।

ঘরটি দুটি কক্ষে বিভক্ত। একটি কক্ষে রোগীদের জন্য ছয়টি শয্যা। অন্য ঘরে একপাশে চিকিৎসক ও রোগীর বসার ব্যবস্থা। অন্য পাশে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষায় নানা বয়সী ১০-১২ জন নারী-পুরুষ। বেশভুষায় দারিদ্র্য। সময় গড়াচ্ছে, রোগীও বাড়ছে। সকাল নয়টার দিকে মোটরসাইকেলে চেপে হাসপাতালে এলেন পল্লি চিকিৎসক মো. আলী হোসেন। বারান্দায় টেবিল পেতে শুরু করলেন রোগী দেখা। পাশে বসে খাতায় রোগীর নাম-পরিচয় লিখছে জয়নালের নাতনি মমতাজের মেয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী আল্পনা। জয়নালের পুত্রবধূ এসএসসি পাস তামান্না ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বিনা মূল্যে ওষুধ দিচ্ছিলেন রোগীদের। ভেতরে একটি শয্যায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত একজনকে স্যালাইন নেওয়ায় সহযোগিতা করছেন লাল বানু, জয়নালের স্ত্রী। জয়নাল ঘুরে ঘুরে রোগীদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন।

নয়াপাড়ার কৃষিশ্রমিক মজিবর (৩৫) বলেন, ‘মাইনসের খেতে কাম কইরা খাই। জ্বরে পইড়া কাইল আইছিলাম। আইজ একটু ভালা। এহানে ডাক্তার দেহাইতে টেহা লাগে না। ওষুধও মাগনা।’
পাশের হইল্লাবাড়ি গ্রামের আমেনা খাতুন (৬০) বলেন, ‘আগে অসুখ অইলে চাইর-পাঁচ মাইল হাইট্টা পরানগঞ্জ যাইতে হইত। এহন কাছেই চিকিৎসা। এইহানে চিকিৎসা করাইতে টেহা লাগে না। ডাক্তারও ভালা।’ উপস্থিত অন্য রোগীরা তাঁর কথায় সায় দিলেন।

পল্লি চিকিৎসক আলী হোসেন শুক্রবার বাদে প্রতিদিনই আসেন। সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত রোগী দেখেন। প্রতিমাসে তিনি দেড় হাজার টাকা বেতন পান।

আলী হোসেন বলেন, ‘শুরুতে এই চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে গাঁয়ের লোকজন হাসাহাসি করত। এখন আর তা নেই। প্রতিদিন এখানে ২৫-৩০ জন রোগী আসে। জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, কাটাছেঁড়ার রোগী আর গর্ভবতী মারা আসেন এখানে। তাদের আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা ও ওষুধ দেই। হাসপাতালের যাবতীয় খয়খরচা জয়নাল কাকা চালান। কাকি (লাল বানু) ধাত্রীবিদ্যার কৌশল জানেন বলে এখানে অন্তঃসত্ত্বা নারীর স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের ব্যবস্থাও আছে।’

প্রতি বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালের বক্ষব্যাধির চিকিৎসক হেফজুল বারী আসেন মমতাজ হাসপাতালে রোগী দেখতে। ওই দিন রোগী হয় সবচেয়ে বেশি।
যেভাবে ব্যয় নির্বাহ: জয়নাল জানান, বর্তমানে ঢাকায় প্রতিদিন দুই বেলা রিকশা চালিয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পান। সপ্তাহে তিন-চার দিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তার সিংহভাহ দিয়ে ওষুধ কিনেন হাসপাতালের জন্য। বাকি টাকায় বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাড়ি ফেরেন। দিন দুয়েক বাড়িতে থেকে আবার ছোটেন ঢাকায়। এভাবে চলে এখন জয়নালের দিনকাল।
জয়নাল জানান, গ্রামে কিছু জমি বর্গা নিয়ে ধান, মরিচ ও সবজি চাষ করছেন। বাড়িতে একটি দুধেল গাই বর্গায় পালন করছেন। একটি ছোট পুকুরে মাছ চাষও করছেন। এসবের আয় দিয়ে এখন কোনো মতে চলে যায় তাঁর।

জয়নাল জানেন, তাঁর শারীরিক শক্তি যত দিন আছে তত দিন চলবে এই হাসপাতাল। কিন্তু তারপর কী হবে? সহায়তার জন্য অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ধরনা দিতে শুরু করেছেন জয়নাল। বিমুখ হয়েছেন, হয়েছেন প্রতারিতও।

২০০৫ সালে তাঁর হাসপাতালের কথা জানতে পেরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রব সী শাহনাজ পারভীন এক হাজার ডলার পাঠান। যার কাছে সেই টাকা পাঠানো হয়েছিল তিনি তাঁর বড় অংশই মেরে দেন। কিছু টাকা অনেক কষ্টে উদ্ধার করে হাসপাতালের জন্য কিছু আসবাব কেনেন জয়নাল। কাটান একটি ছোট পুকুর।

এই প্রতিবেদকের কাছে জয়নালের হাসপাতাল সম্পর্কে জেনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান বললেন, ‘আমি সংগঠনের মাধ্যমে সেখানে সপ্তাহে অন্তত একজন চিকিৎসক পাঠানোর ব্যবস্থা করব।’

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) এ বি এম মোজাহারুল ইসলাম বললেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন আমি আমার সাধ্যমতো সহযোগিতা করব।’

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘ওই হাসপাতালের জন্য ওরস্যালাইনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব, তার ব্যবস্থা আমি নেব।’
বিদ্যালয়: হাসপাতালের পাশে একটি ছোট দোচালা ঘর। এখানেই বিদ্যালয় ও মক্তব চালু করেছেন জয়নাল। সকালে মক্তবে শিশুরা এসে আরবি শেখে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত চলে প্রথম শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান।

বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের একজন ফলিয়ামারীর এসএসসি পাস যুবক মো. আইয়ুব আলী জানান, বিদ্যালয়ে এখন ১২০ জন শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে ৭০ জনের মতো ছাত্রী। তাদের বিনা মূল্যে বই-খাতা দেওয়া হয়। কোনো ফি নেওয়া হয় না।

সরকারি বই পান কি না জানতে চাইলে জয়নাল বলেন, ‘না। আমি বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে পুরোনো বই চেয়ে আনি। সামান্য কিছু লাগলে কিনে নিই। খাতা-কলম-চক-পেনসিল কিনে দেই।’
তৃতীয় শ্রেণী পাস করে শিক্ষার্থীরা কোথায় যায়—জানতে চাইলে শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, সিরতা-নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এক মাইল দূরের ফলিয়ামারী রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।

যা কিছু প্রাপ্তি: জয়নাল গরিব, কিন্তু তাঁর হাসিটা কোটি টাকা দামের! হাসিতে থাকে তৃপ্তির আলোকছটা। স্বপ্নের হাসপাতাল তাঁকে এই তৃপ্তি দিয়েছে। এই মানুষটি মনের দিক থেকে কেমন? ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২৮ জুন ‘এসো বাংলাদেশ গড়ি’ শীর্ষক রোড শো চলাকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘সাদা মনের মানুষ’ হিসেবে সনদ ও পদক দেওয়া হয়।

জয়নাল বলেন, ‘শেষ বয়সে আমি আর কী চাইব? এলাকার মানুষ যে আমার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন, এটাই আমার বড় পাওয়া।’অসম্ভবকে জয় করা জয়নাল পড়ন্ত বয়সেও কারও আশায় বসে থাকতে রাজি নন। জীবিকার পথে এখনো সচল তিনি। রিকশা চালিয়ে যে টাকা পান, তা দিয়েই চালান হাসপাতাল, বিদ্যালয় ও মক্তব। এতেই তাঁর সুখ।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #55  
Old November 4, 2011, 03:18 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

কড়াইল বস্তিতে শিশুদের অন্যরকম দিন



ঢাকা: রাজধানীর গুলশান এলাকার কড়াইল বস্তির সহরাধিক শিশু পুরো দিনটি কাটালো আনন্দের মধ্য দিয়ে। ‘কালারিং লিটল স্মাইলস’ (সিএলএস) ঈদ আনন্দ আয়োজনের তিন দিনব্যাপী কার্যক্রমের শুক্রবার ছিল দ্বিতীয় দিন।

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে এ আয়োজনে প্রায় এক হাজার ৪০০ শিশুকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান, হাত ধোয়া, নখ কাটা, হাতে মেহেদী লাগানো, শিশুদের খাবার আপ্যায়ন ও হাওয়াই মিঠা প্রদান করা হয়।

সিএলএস’র স্বেচ্ছাসেবীরা দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে অংশ নেন। শনিবার সমাপনী দিনে উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে রানাভোলা বটতলা বস্তির শিশুদের মাঝে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ঈদ, পূজা ও ক্রিসমাস ডেসহ বিভিন্ন উৎসবের আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে নিয়ে উদযাপন করার অংশ হিসেবেই সিএলএস এর এ আয়োজন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৪, ২০১১
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #56  
Old November 9, 2011, 02:35 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Where there's a will, there's a way!
--------------------------------------------------------------------------------------------------

নাড়ির টানে বাইসাইকেলে ঢাকা থেকে নীলফামারী
নুর আলম, জেলা সংবাদদাতা



নীলফামারী: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মায়ের ডাকে ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাতের অন্ধকারে পাড়ি দিয়েছিলেন দামোদর নদী। সেটা আজ থেকে প্রায় পৌনে দুশো বছর আগের কথা।

দারিদ্র্যকে উপেক্ষা করে একবিংশ শতাব্দীর উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার এ যুগে নাড়ির টানে বাইসাইকেল দীর্ঘ ৫০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে যাওয়া দামোদর নদী পাড়ি দেওয়ার চেয়ে কি কম কিছু? না বোধ হয়।

দারিদ্র্য পরাভূত হয় স্বজনের সঙ্গলাভের ইচ্ছা আর দৃঢ় মনোবলের কাছে।

বাইসাইকেলে ৩৩ ঘণ্টায় প্রায় ৫শ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সেটাই প্রমাণ করেছেন নীফামারীর দুই সহোদর। যেন একালের বিদ্যাসাগর তারা।

ঢাকা থেকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের চানসাপাড়া গ্রামের বাড়িতে এসে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছেন দুই ভাই।

চানসাপাড়ার আব্দুল হাইয়ের পুত্র সফিয়ার রহমান (৩৫) ও আনিছার রহমান (২৫)। বেশ কয়েক বছর ধরে তারা ঢাকায় থাকেন। বড়ভাই একটি ফুড প্রডাক্ট কোম্পানিতে চাকরি করেন আর ছোটভাই রিকশা চালান।

দুই সহোদর বাড়িতে ঈদ উদযাপন ইচ্ছা পোষণ করলেও কাল হয়ে দাঁড়ায় গাড়ি ভাড়া। দুজনের নীলফামারী আসতে ভাড়ার টাকা লাগে দেড় হাজার। কিন্তু তাদের সে সামর্থ্য ছিল না। তবে অর্থসঙ্কট দুই সহোদরের বাড়ি ফেরার ইচ্ছাকে দমাতে পারেনি। তাদের সঙ্গে থাকা একটি বাইসাইকেলেই ঢাকার রামপুরা থেকে ৫ নভেম্বর রাত ৮টায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন দুই ভাই।

রাস্তায় পালা করে তারা ৩৩ ঘণ্টা বাইসাইকেল চালিয়ে ঈদের দিন ভোর ৫টায় বাড়িতে পৌঁছেন তারা।

সফিয়ার রহমান বাংলানিউজকে বলেন, ঢাকায় কাজ করে যে অর্থ উপার্জন করি তা দিয়ে সংসারই চলে না। এর ওপর এতো বেশি ভাড়া দেওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। তাই বাধ্য হয়ে আমরা এ পথ বেছে নিয়েছি।

রাস্তায় কোনো অসুবিধা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পথে কোনো সমস্যা হয়নি। বরং যানজট এড়ানো গেছে। আর দুই রাত যাপন করেছি পেট্রোল পাম্পে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪২ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৯, ২০১১
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #57  
Old November 9, 2011, 02:37 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

You can achieve anything you want in life if you have the courage to dream it, the intelligence to make a realistic plan, and the will to see that plan through to the end.

- Sidney A. Friedman
-----------------------------------------------------------------------------------------------------

আলোকিত দেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: আবুল মকসুদ

লেখক-সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘আলোকিত দেশ গড়তে আলোকিত মানুষ হতে হবে। আর আলোকিত দেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। এ জাতির একমাত্র ভরসা তরুণরা। প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হবে। সাধনা করতে হবে, ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তরুণরাই একদিন এই দেশ পরিচালনা করবে।’
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #58  
Old November 9, 2011, 02:41 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Some of my favorite quotes!
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #59  
Old November 10, 2011, 02:48 AM
nakedzero's Avatar
nakedzero nakedzero is offline
Cricket Legend
 
Join Date: February 3, 2011
Favorite Player: ShakTikMashNasir(ShakV2)
Posts: 2,024

Quote:
Originally Posted by idrinkh2O
Where there's a will, there's a way!
--------------------------------------------------------------------------------------------------

নাড়ির টানে বাইসাইকেলে ঢাকা থেকে নীলফামারী
নুর আলম, জেলা সংবাদদাতা



দুই সহোদর বাড়িতে ঈদ উদযাপন ইচ্ছা পোষণ করলেও কাল হয়ে দাঁড়ায় গাড়ি ভাড়া। দুজনের নীলফামারী আসতে ভাড়ার টাকা লাগে দেড় হাজার। কিন্তু তাদের সে সামর্থ্য ছিল না। তবে অর্থসঙ্কট দুই সহোদরের বাড়ি ফেরার ইচ্ছাকে দমাতে পারেনি। তাদের সঙ্গে থাকা একটি বাইসাইকেলেই ঢাকার রামপুরা থেকে ৫ নভেম্বর রাত ৮টায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন দুই ভাই।

রাস্তায় পালা করে তারা ৩৩ ঘণ্টা বাইসাইকেল চালিয়ে ঈদের দিন ভোর ৫টায় বাড়িতে পৌঁছেন তারা।
Speechless! Chokh a pani ashar moto, manush er je koto koshto!
Reply With Quote
  #60  
Old November 10, 2011, 04:39 AM
Rabz's Avatar
Rabz Rabz is offline
BanglaCricket Staff
BC - Bangladesh Representative
 
Join Date: February 28, 2005
Location: Here
Favorite Player: Father of BD Cricket
Posts: 20,465

^^ Speechless !!
Hats off to them.
__________________
Verily, in the remembrance of Allah do hearts find rest [Al-Qur'an,13:28]
Reply With Quote
  #61  
Old November 10, 2011, 09:30 AM
mufi_02's Avatar
mufi_02 mufi_02 is offline
Cricket Legend
 
Join Date: August 2, 2011
Location: NY
Favorite Player: Lara, Shakib
Posts: 4,280

Heart-touching stuff. Nilfamari is very far and I was surprised to see that it costs Tk.1500 to get there
Reply With Quote
  #62  
Old November 10, 2011, 09:34 AM
Ajfar's Avatar
Ajfar Ajfar is offline
Cricket Sage
 
Join Date: February 27, 2006
Location: Connecticut
Favorite Player: Nirala
Posts: 17,347

Quote:
Originally Posted by idrinkh2O
Where there's a will, there's a way!
--------------------------------------------------------------------------------------------------

নাড়ির টানে বাইসাইকেলে ঢাকা থেকে নীলফামারী
নুর আলম, জেলা সংবাদদাতা



Wow. talk about determination
__________________
"I was the happiest man in the world, happier than Bill Gates"- Tamim Iqbal
Reply With Quote
  #63  
Old November 10, 2011, 09:38 AM
nakedzero's Avatar
nakedzero nakedzero is offline
Cricket Legend
 
Join Date: February 3, 2011
Favorite Player: ShakTikMashNasir(ShakV2)
Posts: 2,024

Quote:
Originally Posted by mufi_02
Heart-touching stuff. Nilfamari is very far and I was surprised to see that it costs Tk.1500 to get there
Probably they meant 1500 tk for two persons and both way fare.
Reply With Quote
  #64  
Old November 10, 2011, 09:48 AM
mufi_02's Avatar
mufi_02 mufi_02 is offline
Cricket Legend
 
Join Date: August 2, 2011
Location: NY
Favorite Player: Lara, Shakib
Posts: 4,280

Ok yes that makes sense. Its still a lot for them. I wish I could do something for my people one day.
Reply With Quote
  #65  
Old November 10, 2011, 10:54 AM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

‘আমার লগে যতক্ষণ আছিল, হে বাঁইচা আছিল’
ফজলুল বারী, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর



তখন বিচিন্তা’য়। রিপোর্টিংয়ে নতুন। রাজপথ রিপোর্টিংয়ের সব গ্রামারও জানা নেই। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনরত দলগুলোর ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে টান টান উত্তেজনা চারদিকে। ঢাকা অবরোধের পর কী? কেউ তখনও কিছুই বলছে না।

এর আগে ‘এরশাদের অধীনে যে নির্বাচনে যাবে সে হবে `জাতীয় বেঈমান’ এই ঘোষণা দিয়ে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে গেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির নির্বাচনে যাবার কথা থাকলেও নারায়ণগঞ্জের মতো শেষ মুহূর্তে যায়নি। এ নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পনের দল (কার্যত সেটি তখন ৮ দলীয় জোট), বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সাত দলের মাঝে প্রায়ই কাইজ্যা লাগে। সেই কাইজ্যাকে কেন্দ্র করে আরামে নিজস্ব শাসনকে দীর্ঘ করে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার। আন্দোলনের পাশাপাশি এই দুই জোটের কাইজ্যা থামিয়ে তাদেরকে ঘষামজা রেফারিং’র কাজ করে বামপন্থী পাঁচদল।

পাঁচদলের অন্যতম তাত্ত্বিক, তৎকালীন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা হায়দার আকবর খান রনো ভাই’র (আজকের সিপিবির নেতা) ধানমন্ডির পিত্রালয়ে প্রায় যেতাম এক্সক্লুসিভের ধান্ধায়। রিটায়ার্ড প্রকৌশলী পিতার সন্তান রনো ভাই আর তার তৎকালীন স্ত্রী হাজেরা সুলতানা তথা হাজেরা আপা প্রতিদিন সকালে মায়ের হাত থেকে রিকশা ভাড়া, হাত খরচা নিয়ে আন্দোলন তথা সাম্রাজ্যবাদের এজেন্টদের পরাস্ত করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম-মিশনে(!) বেরোন। ১০ নভেম্বর ঢাকা অবরোধের পর কী জানতে চাইলে রনো ভাই কৌশলী জবাব দিয়ে বলেন, আমরা সবাই পরীক্ষার আগের রাতে পড়াশুনা করে পাশ করা ছাত্র। কাজেই কর্মসূচি নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। সময় আর ঘটনা ঠিক করে দেবে পরবর্তী কর্মসূচি।

১০ নভেম্বর সকাল সকাল তৈরি হয়ে চলে আসি জিরো পয়েন্ট এলাকায়। আজকাল দেশে সাংবাদিকতা করতে সবার আগে নাকি একটা আইডি তথা প্রেসকার্ড লাগে! কিন্তু পকেটে তেমন কিছু নেই বা কর্তৃপক্ষ তখনো ওসব ছাপেওনি। সচিবালয়ের চারপাশ ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্বৈরাচারী বাহিনী। এর আগে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সচিবালয় ঘেরাও’র এক কর্মসূচির দিন দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিল সচিবালয়ের। এরপর থেকে যে কোন কর্মসূচির আগে সচিবালয়ের দেয়াল রক্ষা যেন এরশাদের মূল টার্গেট! সচিবালয়ের দেয়াল থাকলেই যেন তার গদি-পিঠ নিরাপদ থাকে!

সেই সকালে জিরো পয়েন্ট এলাকাতেই নূর হোসেনের সঙ্গে প্রথম দেখা। তখনও তার নাম-সাকিন কারও জানা নেই। তামাটে পেটানো শরীর। খালি গা। পুরনো জিন্সের একটা প্যান্ট পরনে। খালি পা। বুকে ‘স্বৈরাচার নীপাত যাক’, বুকে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা (নিপাত বানানটি ‘নীপাত’ লেখা ছিল তার পিঠে)। এমনই এক জীবন্ত রাজপথের পোস্টার হয়ে মিছিলে এসেছিলেন যুবক। রোদের অক্ষরে লেখা নামে। ঢাকার কোন মিছিলে এর আগে এমন আর কাউকে দেখার অভিজ্ঞতা নেই। তাই সারা সময় সবার চোখে চোখে নূর হোসেন! নূর হোসেন! সারাক্ষণ তাকে দেখায় ভীষন অস্থির ব্যস্ত।

এই জিরো পয়েন্টেতো একটু পরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’র আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে! একটু পরেই হয়তো গোলাপশাহ’র মাজারের কাছে। একসময় শেখ হাসিনা পৌঁছেন সেখানে। তিনি তখন বিরোধীদলের নেত্রী। তার গাড়িকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মিছিল স্লোগান মুখরিত। নূর হোসেনও সেখানে! তাকে মাথায় হাত বুলিয়ে জামা পরতে বলেন শেখ হাসিনা। সতর্ক করে বলেন নইলে স্বৈরাচার বাহিনী তাকে টার্গেট করে গুলি চালাতে পারে। কিন্তু শোনেননি নূর হোসেন। উল্টো শেখ হাসিনাকে বলেন, না আপা স্বৈরাচাররে যাইতেই অইব আইজ!

এর কিছু সময়ের মধ্যে টিয়ারগ্যাস ছুঁড়তে ছুঁড়তে জনতার ওপর হামলা শুরু করে স্বৈরাচার বাহনী। লাঠিচার্যে ছত্রভঙ্গ করে দেয় মিছিল। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে জনতার সঙ্গে চলে যাই বায়তুল মোকাররম এলাকায়। জার্নালিজমে নতুন হওয়াতে ভুলটি হয় সেখানেই। ফটোসাংবাদিকরা সাধারণত পুলিশ বেস্টনির আশেপাশে থাকেন। কিন্তু তরুণ একজন ক্যামেরা হাতে তাদের সঙ্গে দৌড়াচ্ছে দেখে আন্দোলনের কর্মীরা সন্দেহ করে। কিছু শোনার আগে কয়েকজন ধরে ক্যামেরা থেকে কেড়ে নেয় ফিল্ম। এভাবে পিঠ বাঁচলেও থামে না চোখ ভরে আসা জলের কান্না! কারণ নূর হোসেনের অনেক ছবি তোলা হয়েছিল সে ক্যামেরায়। ফিল্মটি যাবার সঙ্গে সব যায়।

পরের দিনের পত্রিকায় এক ছবি দেখে শুরু হয় নতুন অনুসন্ধান। গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে রিকশায় টেনে তুলছেন এক কিশোর। সে কিশোরকে খুঁজে বের করার টার্গেট হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির তৎকালীন যুবনেতা নুরুল ইসলাম ছোটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে এ মিশনটিও সহজ হয়ে যায়। ছোটন ভাই জানান ছেলেটির নাম সুমন। ক্লাস এইটে পড়ে। তাদেরই ছাত্র সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্র ইউনিয়ন করে’এমন একজনের ছোটভাই। খিলগাঁও’র তিলপাপাড়ায় বাসা।

সুমনের সন্ধানে প্রথমে গোড়ানে ছোটন ভাই’র বাসায়। সেখান থেকে তিলপা পাড়ায় সুমনদের বাসায়। গোলাপশাহ মাজার এলাকার রাস্তায় কাটা মুরগির মতো কাতরাচ্ছিলেন গুলিবিদ্ধ নূর হোসেন। একটা রিকশা ডেকে তাকে সেটিতে টেনে তুলেন সুমন। তাকে টেনে তুলতে তার কষ্ট হচ্ছিল। রিকশা চালক সাহায্য করেন। এরপর চালক ছুটে চলা শুরু করেন ঢাকা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সির উদ্দেশে। নূর হোসেনের রক্তে ভিজে আসে সুমনের সারা শরীর । এই যুবকই যে নূর হোসেন তা সুমন তখনও জানেন না। পরের দিন পত্রিকায় তার সঙ্গে ছবি দেখে তিনি জেনেছেন।

নূর হোসেন কী কিছু বলছিলেন তখন? মাথা নাড়েন সুমন। হ্যাঁ বলছিলেন। বিড়বিড় করে বলছিলেন, `আমার কিছু অয় নাই। স্বৈরাচাররে আইজ যাইতেই অইব।` ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সিতে পৌঁছবার আগেই রিকশার পথ আটকে গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। সুমনকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। বন্দুক উঁচিয়ে গুলি করার ভয় দেখায়। এরপর কিশোর সেখান থেকে চলে আসে। ‘আমার লগে যতক্ষণ আছিল, হে বাঁইচা আছিল। পুলিশ নিয়া যাওয়ার পর আর কিচ্চু জানিনা’ বলতে বলতে তার চোখ অশ্রু সজল হয়। সুমনের বক্তব্যের পর খটকা লাগে মনে। গুলিবিদ্ধ নূর হোসেনকে কী কোনও চিকিৎসা দেবার চেষ্টা করেছে স্বৈরাচারের পুলিশ? না অপেক্ষা করেছে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার?

এমন এক প্রত্যক্ষদর্শীর জবানিতে গণতন্ত্রের অমর শহীদের শেষ কথাগুলোর সেটিই ছিল প্রথম মিডিয়া রিপোর্ট। আজকের মতো এত পত্রিকা তখন ছিল না। দৈনিক পত্রিকাগুলো সমঝে চলত এরশাদকে। নূর হোসেনের শেষ কথা ছিল, `স্বৈরাচাররে আইজ যাইতেই অইব।`। কিন্তু রাজনৈতিক বিভাজনে স্বৈরাচার তখনই যায়নি। লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে চুপিসারে শহীদ নূর হোসেনকে গোড়ান গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। সে গোরস্থানে একদিন গিয়ে দেখা যায় পুলিশের পাহারা। সেখানে কাছাকাছি কাউকে যেতে দেয় না পুলিশ। ১৯৮৭’র ১০ নভেম্বরের কিছু পরেই কোরবানির ঈদের ছুটি হয়ে যায়। বাংলাদেশে ঈদের ছুটি মানে আন্দোলনের ছুটি। সরকারের স্বস্তির সময়। এসব নিয়ে বিচিন্তায় ছাপা রিপোর্টের শিরোনাম ছিল, ‘গোড়ানে বিরোধীদলের লাশ, রেফারির ভূমিকায় পাঁচদল এবং আন্দোলনের ঈদ ভ্যাকেশন’।

শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে অনুসন্ধান চলতে থাকে। পুরনো ঢাকার বনগ্রামের বাড়ি খুঁজে তার পিতার ইন্টারভ্যু করে জানার চেষ্টা করি নূর হোসেনের জীবন। যুবক ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশুনা করেছিলেন। বনগ্রামের ছোট ঘুঁপচির মতো ঘরটিতে গাদাগাদি করে পরিবারটি থাকত। ছোট চৌকির ওপরে নিচে পরিবারের সদস্যরা ঘুমাতেন। যুবলীগের সদস্য নূর হোসেনের স্থায়ী কোন চাকরি ছিল না। কোনও কাজ পেলে পরিবারকে সহায়তা করতেন। নূর হোসেন শহীদ হবার পর তার ভাই আলী হোসেনকে নিজের গাড়ি চালকের কাজ দেন শেখ হাসিনা। এরপর পরিবারটির অর্থনেতিক অবস্থা কিছুটা বদলাতে থাকে ।

এরশাদের পতনের পর সাপ্তাহিক প্রিয় প্রজন্ম বেরুলে সেখানে কাজ শুরু করেন একঝাঁক নতুন সাংবাদিক। ১৯৯২ সালের নভেম্বরে প্রিয় প্রজন্মের প্রথম সংখ্যায় এক্সক্লুসিভ ইন্টারভ্যু ছাপা হয় সেই শিল্পীর। যিনি নূর হোসেনের বুকে পিঠে কালজয়ী কবিতার সেই কথাগুলো লিখে দিয়েছিলেন, “স্বৈরাচার নিপাক যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক”। বঙ্গবন্ধু’র অমর কবিতা “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ এরপর এমন কালজয়ী কবিতা আর কেউ কী কখনো লিখেছে?

স্বৈরাচারীর জমানায় চুপচাপ থাকা সেই সাইনবোর্ডশিল্পীক খুঁজে বের করে ইন্টারভ্যুটি করেন পল্লব মোহাইমেন। এরপর শিল্পীকে প্রিয় প্রজন্ম অফিসে চায়ের দাওয়াতে ডেকে এনে মূল প্রশ্ন ছিল একটাই, নূর হোসেনের বুকে লেখা স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এর নিপাত বানানটি কেন ভুল লেখা হয়েছিল? জবাবে শিল্পী বলেন তার সাইনবোর্ডের দোকানের লাগোয়া দেয়ালে নিপাত বানানটি নূর হোসেন যেভাবে লিখে দিয়েছিলেন, রংতুলিতে সেভাবে তিনি লিখেছেন।

ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশুনা করা নূর হোসেন বানানটি ভুল লিখতেই পারেন। কিন্তু লক্ষ্য তথা স্বৈরাচারের পতনের শপথে তার কোনও ভুল ছিল না। ভুল করেছেন তারা। যারা বানান শুদ্ধ লিখতে পারার দাবি করেন আর শর্টকাট রাজনৈতিক ক্ষমতায় যাওয়া-থাকার লোভে পতিত স্বৈরাচারকে টেনে নেন বুকে। চারদলীয় জোটের অন্যতম রূপকার সেই স্বৈরাচারী এরশাদ এখন মহাজোটের নেতা! তাকে সঙ্গে রেখেই এবার দলের সকল ইউনিটকে নূর হোসেন দিবস পালনের আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম!

নূর হোসেন রিপোর্টিং’এর আরেকটি তথ্য। নূর হোসেনের ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা পিঠের ছবিটি পাভেল রহমানের হলেও বুকের ছবিটি কিন্তু সৌখিন আলোকচিত্রী দিনু আলমের। ইশ্বরদীর যুবক দিনু আলম এখন কানাডায় থাকেন। সৌখিন আলোকচিত্রীরা অনেক সময় তাদের তোলা এক্সক্লুসিভ ছবি প্রকাশের জন্য মিডিয়াকে দেন। মিডিয়ার কেউ কেউ পরে সেটিকে দাবি করেন নিজের ছবি বলে। নূর হোসেনের ছবিকে কেন্দ্র করে তেমন একটি ঘটনার আমি নিজে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #66  
Old November 11, 2011, 05:20 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

ড. ইউনূসের বইটি ঘুরে এল মহাকাশ
শওকত হোসেন, ভিয়েনা থেকে | তারিখ: ১২-১১-২০১১


ভিয়েনায় সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনে নাসার নভোচারী রন গারেনের সঙ্গে ড. ইউনূস

ছবি: নাসির আলী মামুন
নাসার নভোচারী রন গারান ছয় মাস মহাকাশে থেকে পৃথিবীতে নেমেছেন গত ২২ এপ্রিল। স্পেস স্টেশনে থাকার সময়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে এসেছিলেন তিনি ভিয়েনায়। বড় পর্দায় সেটি দেখানো হলো।
পৃথিবীটাকে রন দেখেছেন অবশ্য একটু ভিন্নভাবে। ওপর থেকে তোলা অনেকগুলো দেশ দেখালেন রন। সঙ্গে বর্ণনা দিলেন পৃথিবীজুড়ে থাকা নানা সমস্যার কথা। মিলনায়তনভর্তি মানুষ পিনপতন নীরবতায় তাঁর কথা শুনলেন।

তবে রন গারান আসল চমকটি দিলেন শেষ মুহূর্তে। স্পেসশিপের যে জানালা দিয়ে সারা বিশ্ব দেখেছেন, দেখা গেল সেখানে একটা বই রাখা। বইটার নাম ক্রিয়েটিং এ ওয়ার্ল্ড উইদাউট পোভার্টি। সে বইটিই উপহার দিলেন তিনি বইটির লেখক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে।
বইটিতে রন গারান লিখলেন: ‘এই ভঙ্গুর পৃথিবীর মানুষের জন্য আপনি যা করেছেন, সে জন্য আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। এ বইটি আমার সঙ্গে স্পেস স্টেশন মিশনে ভ্রমণ করেছে। বইটি পৃথিবীর কক্ষপথে দুই হাজার ৬২৪ বার পরিভ্রমণ করেছে। ঘণ্টায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল বেগে বইটি গেছে ছয় কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ মাইল।’ এরপর রন সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রচেষ্টায় নিজের সমর্থন জানালেন।

রন গারান ছিলেন তৃতীয় সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনের গণবক্তৃতা পর্বের অন্যতম বক্তা। প্রথম দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ভিয়েনা সময় রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় রাত একটা) কংগ্রেস সেন্টারে এ পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। রন ছাড়াও বক্তা ছিলেন জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) অ্যাডভোকেট, ইউএনটিআইডির প্রধান ফিলিপ ডউসে-ব্লেজি এবং অধ্যাপক ইউনূস। এ পর্বটি ছিল উন্মুক্ত। ভিয়েনার অনেকেই এসেছিলেন কথা শুনতে।

শুরুতেই ফিলিপ ডউসে-ব্লেজি এইডস-পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। সতর্ক করেন সবাইকে। একই সঙ্গে তিনি দারিদ্র্য দূর করা এবং এমডিজি পূরণ নিয়ে কথা বলেন। এর পরই বক্তব্য দেন রন গারান।
অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তৃতায় গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। সামাজিক ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বড় ধরনের সামাজিক ব্যবসা করা সম্ভব। তিনি বলেন, গল্পের আলাদিনের সেই দৈত্য এখন সবার হাতের মধ্যে। আলাদিনের প্রদীপের দৈত্য আসত হাতের স্পর্শে। এখনকার দৈত্যও আসে হাতের স্পর্শে। এখনকার দৈত্যের নাম ইন্টারনেট সংযোগসহ মোবাইল ফোন।

ড. ইউনূস বলেন, মোবাইল ফোনকে শুধু অর্থ আয়ের উপকরণ না ভেবে এর মাধ্যমে অনেক সমস্যা সমাধানের কথা ভাবতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে একজন গর্ভবতী মা জানতে পারবেন, তাঁর সন্তান জন্ম দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে কি না।
চার দিনের এ সম্মেলনে মূল পর্ব দুই দিনের। গতকাল শুক্রবার ছিল সম্মেলনের মূল পর্বের দ্বিতীয় দিন। দিনের শুরুতে এরই মধ্যে সামাজিক ব্যবসায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন কোম্পানি তাদের সাফল্য ও প্রকল্পের বর্ণনা দেয়। কোম্পানিগুলো হলো: ইন্টেল, ভিওলিয়া, মাম্মু, ভিলেজ বুম, বিএএসএফ, গুড বি এবং গ্রামীণ ক্রিয়েটিভ ক্লাব। এই পর্বে হলিউড তারকা হিউ জ্যাকম্যান একটি ভিডিওবার্তার মাধ্যমে সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন।

ড. ইউনূস এরপর জানান কীভাবে এই হলিউড তারকা তাঁকে খুঁজে বের করে তাঁর কাজের সঙ্গী হতে চেয়েছেন। হিউ জ্যাকম্যানের বাবা বিশ্বব্যাংকে কাজ করতেন। তিনিই পড়তে দিয়েছিলেন ড. ইউনূসের বই ব্যাংকার্স টু দ্য পুওর। সেই বই পড়ে হিউ জ্যাকম্যান অনুসারী হন অধ্যাপক ইউনূসের।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুটি প্যানেল আলোচনা। যেমন: সামাজিক ব্যবসা ও বিশ্বায়ন এবং সামাজিক ব্যবসার জন্য সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক কাঠামো।
-------------------------------------------

Expand social business with the help of IT
Prof Yunus tells Vienna Summit


Nobel Laureate Prof Muhammad Yunus holds his book Creating a World Without Poverty while posing with Nasa astronaut Ronald John Garan at the Global Social Business Summit in Vienna yesterday. The book has travelled 6,53,37,600 miles in the space with Garan. Photo: Nasir Ali Mamun

Shawkat Hossain from Vienna Nobel laureate Prof Muhammad Yunus yesterday said information technology should be used to expand social business.

He made the observation in a public speech at the third Global Social Business Summit in Vienna, Austria.

Prof Yunus also emphasised social business and urged different companies to come forward in this respect.

“Nowadays everybody holds the genie of Aladdin in his hand. In the story, the genie emerges with the touch of the hand… The genie is the cell phone having internet connection,” said Dr Yunus.

Citing an example, he noted that a cell phone enables a pregnant woman to know about the condition of her unborn child only by answering some questions through it.

“The cell phone should not be considered only as a medium of income but an opportunity to solve many problems,” said Prof Yunus.

Nasa astronaut Ronald John Garan, who returned to earth last April after a six-month stay in space, also expressed his support for social business during his speech.

“I extend my thanks to you [Yunus] for what you have done for the people of this fragile world. This book has travelled with me on the space mission. It rotated around the axis of the earth 2,624 times. The book has travelled 6,53,37,600 miles at a pace of 17,500 miles per hour,” Ronald wrote in the book before presenting it to its writer Prof Yunus.

The activities on the second day of the conference were followed by the presentation of success stories and projects of different companies involved in social business.

The companies are Intel, Violia, Mammu, Village Boom, BASF, Good B and Grameen Creative Club.

The presentation was followed by a video message sent by Hollywood star Hugh Jackman wishing the conference a success.

Prof Yunus also explained how Jackman became a Yunus-follower after reading his book 'Banker to the Poor'.

UNTID Chief Philip Dousey Beji spoke on the occasion, focusing on poverty alleviation and Millennium Development Goal.

Two panel discussions--'Social Business and Globalization' and 'Civil Society and Political Structure for Social Business'--were included on the second day's schedule of the summit.
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #67  
Old November 11, 2011, 05:24 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

রঙিন শিমে রাঙা জীবন
শাহ আলম, চুয়াডাঙ্গা | তারিখ: ১২-১১-২০১১


চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুকিয়া চাঁদপুুর গ্রামে একটি খেত থেকে শিম তোলায় ব্যস্ত নারী-পুরুষ

শীতকালে আমাদের দেশে হরেক রকম সবজি মেলে। এর মধ্যে অন্যতম শিম। মোটামুটি সবার কাছেই সবজি হিসেবে শিমের বেশ কদর রয়েছে। গ্রামবাংলার অনেক বাড়িতে শিম চাষ করে মূলত পরিবারের চাহিদা মেটানো হয়। তবে অনেক এলাকায় শিমের বাণিজ্যিক চাষও হয়।

বাণিজ্যিক শিম চাষের একটি গ্রাম হলো চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুকিয়া চাঁদপুর। এই গ্রামে শিমের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয় বছর পনেরো আগে আশরাফুল হকের হাত ধরে। এরপর তা পুরো গ্রাম হয়ে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

একসময় এই গ্রামের কৃষকদের চাষাবাদ চলত প্রকৃতির খেয়ালের ওপর নির্ভর করে। ঠিকমতো তিন বেলা খাবার জুটত না অনেকের। পরিকল্পিত পদ্ধতিতে রঙিন শিম (পারফুল কালার জাতের) চাষ করে তাঁরা এখন ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। অভাবকে জয় করেছেন। রঙিন শিমে জীবন রাঙিয়েছেন।
যেভাবে শুরু: কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামের কৃষক আশরাফুল। নিজের তিন বিঘা জমিতে ধান-পাটসহ প্রচলিত ফসল আবাদ করতেন তিনি। এসব ফসলে কখনো কিছুটা লাভ হতো, কখনো খরচের টাকাই উঠত না। ঘটনাক্রমে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, যশোরের একজন কর্মকর্তার। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই একদিন যশোরের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে যান আশরাফুল। সেখানে রঙিন শিম চাষের পরীক্ষামূলক এক খণ্ড জমি তাঁর দৃষ্টি কাড়ে। পরে ওই কর্মকর্তার পরামর্শে নিজের তিন বিঘা জমিতেই পরিকল্পিত পদ্ধতিতে রঙিন শিম চাষ করেন। সেই শিমগাছে ফুল আসে, কিছুদিন পর থোকায় থোকায় শিম ধরে। সেই শিম দেখে আশরাফুল বিশ্বাস করতে শুরু করেন, চাষাবাদ করে লোকসানের দিন এবার শেষ হবে।

প্রথম বছর শিম চাষে আশরাফুলের খরচ হয় মাত্র ১৫ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাভ হয় ৭৫ হাজার টাকা। এ সাফল্য দেখে পরের বছর স্থানীয় স্কুলশিক্ষক গৌতম চন্দ্র সাহাও শিম চাষ করলেন। তিনিও সফল হলেন। ধীরে ধীরে গ্রামজুড়ে কৃষকেরা শিম চাষে ঝুঁকে পড়েন। এখন এই গ্রামের অন্তত দুই শ পরিবার সরাসরি শিম চাষের সঙ্গে জড়িত। পরোক্ষভাবে জড়িত আরও অনেকে।
শিমের গ্রামে এক দিন: উপজেলা সদর থেকে পাকা, আধা পাকা ও কাঁচা রাস্তা মিলিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে যেতে হয় কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামে। গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে সড়কের দুই পাশে রঙিন শিমের অসংখ্য মাচা। সাদা ও বেগুনি রঙের ফুল আর থোকায় থোকায় রঙিন শিম দেখে মন জুড়িয়ে যায়। সবুজ, বেগুনি ও লাল রঙের সংমিশ্রিত এই শিম স্থানীয়ভাবে ‘রঙিন রূপবান’ বলে পরিচিত। অসংখ্য ফুলে ভরা মাচায় মাঝে মাঝে বাতাস লেগে ঢেউ খেলে যায়। অসাধারণ এই দৃশ্য দেখে প্রাণোচ্ছল অনেকেই গেয়ে ওঠেন জনপ্রিয় সেই গানের কলি ‘রূপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া’।

গ্রামে ঢুকে দেখা গেল, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও দল বেঁধে শিমখেতে কাজ করছে। কেউ শিম তুলছে। কেউ সেই শিম ঝুড়িতে করে রাস্তার পাশে জড়ো করছে। সেখানেই এগুলো বস্তায় ভরা হচ্ছে বিক্রির জন্য। গ্রামজুড়ে প্রায় দুই মাস ধরে চলছে এই কর্মযজ্ঞ। এই গ্রাম থেকে প্রতিদিন এক ট্রাক করে শিম ঢাকায় পাঠানো হয়। গ্রামবাসী জানান, আরও প্রায় আড়াই মাস এই কর্মচাঞ্চল্য থাকবে।
কথা হলো সেই আশরাফুলের সঙ্গেও। তিনি জানালেন, চারা রোপণের সময় আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় চলতি বছরে তিনি দুই বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছেন। মে মাসের প্রথম দিকে চারা রোপণ করে আগস্ট মাস থেকে শিম তোলা শুরু করেন। গত ঈদের আগে ঢাকার বাজারে তিনি প্রতি কেজি শিম ১২২ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। সর্বশেষ বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ৫৫ টাকা দরে। আশা করছেন, এ বছরও তিনি খরচ বাদে দুই লাখ টাকা লাভ করবেন।

দিন বদলিয়েছেন তাঁরা: কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামের একসময়ের ভূমিহীন দিনমজুর শহিদুল ইসলাম। সাত বছর আগেও অন্যের জমিতে ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনোরকমে দিন কাটাতেন। তিন বেলা ঠিকমতো খাবারও জুটত না। সেই শহিদুলই এখন সফল শিমচাষিদের একজন।

শহিদুলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, আশরাফুলের কাছে পরামর্শ নিয়ে তিনি এক বিঘা জমি ইজারা নেন। সেই জমিতে শিমের আবাদ শুরু করেন। প্রথম বছরই খরচ বাদে এক লাখ টাকা লাভ ঘরে তোলেন। এরপর প্রতিবছর শিমের আবাদ করছেন। শিমের লাভ থেকেই চার কাঠা জমি কিনে সেখানে আধা পাকা বাড়ি করেছেন। করেছেন শৌখিন আসবাবও।

একই গ্রামের ইদ্রিস আলী চলতি বছর আড়াই বিঘা জমিতে শিমের চাষ করেছেন। খরচ বাদে এ পর্যন্ত এক লাখ ৬০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। আরও অন্তত তিন লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। শহিদুল ও ইদ্রিসের মতোই শিম চাষ করে সানোয়ার হোসেন, রমজান আলী, আনোয়ার হোসেন, হুরমত আলী, মাহাবুল হোসেনসহ অনেকেই রঙিন শিমে ভাগ্য বদলিয়েছেন।

শিমের বাজার: স্থানীয় বাজারে শিম বিক্রি করা হয়। পাঠানো হয় ঢাকার পাইকারি বাজারেও। গ্রামের শিমচাষিরা মিলে একটি সমিতি গঠন করেছেন। এই সমিতি সম্মিলিতভাবে শিম বাজারজাত করছে। প্রতিবছরের মতো এবারও শিমের মৌসুম শুরুর পর থেকেই কুকিয়া চাঁদপুর কমিউনিটি ক্লিনিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রতিদিনই শিমের বাজার বসে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা শিম কিনতে আসেন এখানে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বেশির ভাগ শিমই এই বাজার থেকে ট্রাকে ভর্তি করে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও মিরপুরের কাঁচাবাজারের আড়তে পাঠানো হয়।

তবুও দুঃখ: শিম চাষে কুকিয়া চাঁদপুরবাসী অভাবকে জয় করলেও যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের দুঃখের শেষ নেই। এই গ্রামটির চারটি সংযোগ সড়কের সব কটিই কাঁচা। সামান্য বৃষ্টি হলেই গ্রামে আর ট্রাক ঢুকতে পারে না। এমন পরিস্থিতি হলে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ গরুর গাড়ি বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থায় শিম নিয়ে পাকা সড়কে যেতে হয়। সেখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় পাঠানো হয়। গ্রামবাসীর দাবি, অন্তত একটি সংযোগ সড়ক দ্রুত পাকা করা হোক।

তাঁরা যা বলেন: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার উপপরিচালক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে জানান, কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামের আশরাফুল হকই এ জেলায় প্রথম পারফুল কালার শিমের আবাদ শুরু করেন, যা এখন প্রায় সারা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছর ৬৬০ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ হয়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী উৎপাদিত শিমের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, আশরাফুলের নেতৃত্বে শিম চাষের যে বিপ্লব ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। এর সুফল পেতে শুরু করেছে আশপাশের এলাকার জনগণ।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #68  
Old November 11, 2011, 05:36 PM
Zeeshan's Avatar
Zeeshan Zeeshan is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: March 9, 2008
Posts: 25,334

Love the Younis story although I think should be under Younis thread and not under idrinkblood's blog.
__________________

Reply With Quote
  #69  
Old November 14, 2011, 06:02 PM
Zeeshan's Avatar
Zeeshan Zeeshan is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: March 9, 2008
Posts: 25,334

Quote:
Originally Posted by Zeeshan
Love the Younis story although I think should be under Younis thread and not under idrinkblood's blog.
Wanted to delete it. Please do contribute idrinkh20. This is one of my favorite thread.
Reply With Quote
  #70  
Old November 15, 2011, 06:41 PM
bujhee kom's Avatar
bujhee kom bujhee kom is offline
Cricket Sage
 
Join Date: June 27, 2007
Location: Dhaka Mental Hospital
Favorite Player: Mo Chow = Chow Mo
Posts: 21,440

I also must say to IdrinkH2o bro, this is one of the greatest of threads and I really like reading it! Very Good thread!
__________________
T20 WC-e duto assoc team-ke hariye ekti darun bissucup upohar debar jonno BD team-er dui galey shikto chumbon...
Reply With Quote
  #71  
Old November 17, 2011, 01:43 AM
zinatf's Avatar
zinatf zinatf is offline
Cricket Legend
 
Join Date: August 1, 2011
Location: Melbourne, Australia
Favorite Player: Shakib,Sangakkara,Lee
Posts: 4,663

This story has indeed made my day...HATS OFF TO HER!!

http://opinion.bdnews24.com/2011/11/...ana%E2%80%99s/
__________________
jitsi jitsi jitsi
Reply With Quote
  #72  
Old November 17, 2011, 02:10 AM
Rabz's Avatar
Rabz Rabz is offline
BanglaCricket Staff
BC - Bangladesh Representative
 
Join Date: February 28, 2005
Location: Here
Favorite Player: Father of BD Cricket
Posts: 20,465

I've always read Idrinkh20 as
Idrin Khan 20 !!
__________________
Verily, in the remembrance of Allah do hearts find rest [Al-Qur'an,13:28]
Reply With Quote
  #73  
Old November 17, 2011, 07:08 AM
simon's Avatar
simon simon is offline
Cricket Sage
 
Join Date: February 20, 2008
Favorite Player: Tam,Sak,Nasa,Mash
Posts: 19,465

Quote:
Originally Posted by Rabz
I've always read Idrinkh20 as
Idrin Khan 20 !!
me also too ,but more like Idrin K. H20
__________________
Tea20 is just not our cup of tea.
Reply With Quote
  #74  
Old November 18, 2011, 04:41 PM
Zeeshan's Avatar
Zeeshan Zeeshan is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: March 9, 2008
Posts: 25,334

Quote:
Originally Posted by zinatf
This story has indeed made my day...HATS OFF TO HER!!

http://opinion.bdnews24.com/2011/11/...ana%E2%80%99s/


Looks like more sugar in the sherbet for the two
journalists... :p

It kinda deserve an unique thread for it's rarity.
Reply With Quote
  #75  
Old November 18, 2011, 04:49 PM
Zeeshan's Avatar
Zeeshan Zeeshan is offline
BC Staff
BC Editorial Team
 
Join Date: March 9, 2008
Posts: 25,334

jeenaaaat ailsha ekta... :p
Quote:
Afsan Chowdhury

When is divorce good news? In incidents like Farzana’s


November 16, 2011




Photo: bdnews24.com



The recent news about a Bangladeshi woman, Farzana, who divorced her husband at the wedding ceremony after he and his family asked for dowry is a strange piece of good news for many of us. This woman showed guts and moral strength and did what millions have failed to do and many don’t do even now in other part of their life. In a world of cowards and moral collapse particularly of our social-political leadership, Farzana stands taller than them all.
Congratulations Farzana! You are the kind of people who stand up and become role model for many and remind us that this country is made up of fine people.
* * *
Farzana Yasmin, a first class graduate from Eden College and a job holder in a local company was married for a few hours to Shawkat Ali Hiron, a school headmaster in Patuakhali. At the wedding ceremony, the groom’s aunt, Tahmina Begum, demanded dowry from Farzana’s family. When the groom too supported his aunt’s demand, Farzana dumped the guy officially. She has commented that “It is below my taste to have such a person as my husband.”
Looks like more sugar in the sherbet for the two — aunt and nephew — after the humiliation by the honourable bride.
* * *
What makes this event newsworthy and unusual? Firstly, it is a divorce at the wedding ceremony. It probably will get a prize of sort for being one of the shortest weddings in history.
It is also interesting because girls rarely do initiate divorce in our culture but in this case this is what has happened.
Farzana not only divorced in such a dramatic manner but also on the grounds that the groom’s family had asked for dowry, the lubricator of so many weddings in our culture.
Each can be a narrative on its own.
* * *
The 1961 Muslim Family Law Ordinance greatly reformed social practices of Islamic law by making institutions of marriage and inheritance much better and friendlier to women. It not only introduced liberal interpretations of Islamic law but it also popularised the concept of talak-e-tafweez — or deferred right of the bride to end marriage using this right which is given by her contract by her husband.
When this law was enacted in 1962, Ayub Khan, dictator of Pakistan faced the wrath of the Pakistani mullah force and there were actual confrontations between the police and the Islam-pasand bahini including in East Pakistan. But the law has prevailed.
We in Bangladesh have also inherited this law and made it even better. While in the earlier version, various clauses were inserted for seeking this right and the right was given only if asked for, in Bangladesh this is now automatically given in the nikah-nama. We should thank activists like the late Barrister Salma Sobhan and the Ain-O-Salish Kendra and others for much of the work that has gone in making marriage laws more equitable than anywhere else in the Muslim world.
* * *
Like many, I consider divorce very hurtful for all concerned but when I look at some marriages around me, my heart longs to divorce them on their behalf.
In one case the male sleeps around with as many women ready to sleep with him and that implies many women are ready to do the same but the point is not that. The point is his wife, takes it. She is lovely in every way but he regularly humiliates her and maybe makes it up with material comforts but his actions are no secret and it hurts her. Yet the marriage if you will goes on.
The second case is about a couple whose marriage has broken down. They stay in the same house but in separate bedrooms, never see each other as they have different time schedules and do not spend time with their children together who because of the stress have both come out hugely maladjusted. When asked why they don’t divorce, the answer was, “there is no divorce in our family.”
The third case was in Canada where the woman used to be brutally abused along with her infant by the husband and ended up in hospital and ultimately the court which separated them. But she refused to divorce and her parents also supported her decision. Later she started to meet her husband again and one day he came in, stole all her papers and then divorced her.
All three cases are known to me personally and I am sure all of you will know a few cases yourselves. Divorce is horrible but like a limb cutting surgery may become essential to save the rest of the body.
* * *
Most people against any divorce or a liberal divorce environment say that it is misused and will upset society and break it apart. But bad marriages do it anyway. Nobody says that marriages or relationships should become as casual as it has become in the West but it shouldn’t be as rigid as it is in our society. It is the search for the golden mean that we should encourage, the middle point between the two extremes of super rigidity and super slack.
* * *
Dowry is a terrible practice that continues to blight our world. Although there are laws forbidding it, in reality it goes on. This is partly because there are very few Farzanas amongst us and even less people like her parents who have stood by her. It is obvious that dowry and the right to divorce are both related to vulnerabilities of women and it is not practiced in isolation. In South Asia, dowry is a social tool to take advantage of the marriage system .Where it is thought that an unmarried girl is a burden upon all and it doesn’t matter how she is married off even with large dowries to despicable males as long as she is married off.
Dowry is an indicator of social and gender vulnerability rooted in values that we nurture where a married woman however unhappy must be married to survive socially. Farzana through her action has challenged both notions.
* * *
In case the post has become a little sombre, let me end why I think Farzana may have brought us international fame by mentioning a couple of other short marriages. Here is what the net cites as the shortest marriage. It happened in Germany to a Polish couple.
“Soon after the ceremony, a 50-year-old groom decided to cut his 34 year old bride’s hair with a kitchen knife. She objected vehemently of course, and an irreconcilable screaming match ensued. Police responded and separated the pair, permanently. Both agreed to an immediate annulment and the marriage ended quickly. Total marriage time was 3 hours.”
Farzana was probably quicker and so she should be in the Guinness Book of Records for her action.
* * *
Meanwhile, let’s celebrate Farzana’s courage and her mental strength, not her divorce. It is not the break-up but the fact that she didn’t take the **** from her ‘husband’ should be applauded. She can ask for anyone’s respect and get it. Bangladesh may not have politicians, leaders and such like people who make us proud but one Farzana has made us feel much better and generates self-respect as a people.

Farzana, salute!

http://opinion.bdnews24.com/2011/11/...ana%E2%80%99s/
Reply With Quote
Reply

Bookmarks


Currently Active Users Viewing This Thread: 1 (0 members and 1 guests)
 
Thread Tools
Display Modes

Posting Rules
You may not post new threads
You may not post replies
You may not post attachments
You may not edit your posts

BB code is On
Smilies are On
[IMG] code is On
HTML code is On



All times are GMT -5. The time now is 05:31 AM.


Powered by vBulletin® Version 3.8.7
Copyright ©2000 - 2014, vBulletin Solutions, Inc.
BanglaCricket.com
 

About Us | Contact Us | Privacy Policy | Partner Sites | Useful Links | Banners |

© BanglaCricket