facebook Twitter RSS Feed YouTube StumbleUpon

Home | Forum | Chat | Tours | Articles | Pictures | News | Tools | History | Tourism | Search

 
 


Go Back   BanglaCricket Forum > Miscellaneous > Forget Cricket

Forget Cricket Talk about anything [within Board Rules, of course :) ]

Reply
 
Thread Tools Display Modes
  #101  
Old December 16, 2011, 04:21 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Dear Head-master Bijoy Kumar, thank you so very much for your amazing work and dedication. We salute you. Tumi-e Bangladesh-er sujoggo sontan. Everyone should follow this in Bangladesh!

"Amader deshe hobe sei chele kobe
kothay na boro hoye kaje boro hobe"

- Well, amra ekta peye gechi...aro onek laghbe...
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
শ নি বা রে র বিশেষ প্রতিবেদন
মফস্বলে দেশসেরা বিদ্যালয়!
মজিবর রহমান খান, ঠাকুরগাঁও | তারিখ: ১৭-১২-২০১১


শারীরিক কসরতে ব্যস্ত ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আমাদের দেশে শহর বা শহরতলির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই দেশসেরা হবে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাই হবে সেরা মেধাবী—এটা যেন ধরেই নেওয়া হয়। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও আছে। সেই ব্যতিক্রমী একটি
বিদ্যালয় হলো ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

২০০৮ সালে দেশসেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে বিদ্যালয়টি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর স্থানীয়দের চেষ্টার ফসল এই অর্জন।

বিদ্যালয়ে এক দিন:
সম্প্রতি এক সকালে বিদ্যালয়ের চত্বরে ঢুকতেই নজর কাড়ে বিদ্যালয় মাঠের ঝকঝকে পরিবেশ। পতাকা দণ্ডে পতপত করে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা। পাশেই স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ। বিদ্যালয় ভবনের বারান্দায় সাজানো হরেক রকম ফুলগাছের টব।

বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষগুলোর নাম রাখা হয়েছে বিভিন্ন মনীষীর নামে। কক্ষের দেয়ালে তাঁদের ছবিও আঁকা। ছবির পাশে মনীষীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী। মনীষীদের মধ্যে আছেন জাতীয় নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, ভাষাশহীদ বরকত, রফিক, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, কবি সুফিয়া কামাল, নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া, পল্লিকবি জসীমউদ্দীন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। শিশুদের ছোট থেকেই দেশের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত করানোর জন্য আঁকা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিষয়ক নানা ছবি। রয়েছে মনীষীদের বাণী।

বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ কম্পিউটার ল্যাব হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেখানে রয়েছে তিনটি কম্পিউটার। তৃতীয় শ্রেণী থেকেই এখানে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক।

পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে ই-বুকের মাধ্যমে গণিত বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা আক্তার। ‘আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করতে নিয়মিত মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হয়। এতে অমনোযোগী শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।’ জানালেন তিনি।

বিদ্যালয়ের কার্যালয় কক্ষটি সাজানো বিভিন্ন স্মারক ও পুরস্কার দিয়ে। তিনটি আলমারিতে শিশুমানস বই ও শিক্ষা উপকরণ। দেয়ালে সেঁটে দেওয়া তথ্যবোর্ড। সেখানে দেওয়া তথ্যমতে, বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী ৮৩৭ জন। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ২০১০ সাল পর্যন্ত এই বিদ্যালয়ের ২৩৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। ২০১০ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ১৪২ জন শিশু অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে।

বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণীতে মোট ১১টি শাখা। প্রতিটি শাখায় ন্যূনতম ৫০ জন শিক্ষার্থী। সবগুলো শাখায় আছে একজন করে ক্যাপ্টেন। শিক্ষার্থীদের খাওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে রয়েছে একটি ক্যানটিন। প্রতিটি শ্রেণীকক্ষেই আছে পানি খাওয়ার ব্যবস্থা।

প্রতিষ্ঠাকালের কথা:
১৯৩০ সালের দিকে রানীশংকৈলের পালপাড়া গ্রামের চন্দ্র হরিপাল নিজ বাড়িতে একটি পাঠশালা খোলেন। নাম দেন ‘চন্দ্র হরির পাঠশালা’। তাঁর মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে যায় পাঠশালাটি। ১৯৩৫ সালে ওই গ্রামের সহোদর চিকিৎসক ধীরেন্দ্রনাথ রক্ষিত ও সুরেন্দ্রনাথ রক্ষিতের দান করা এক একর পাঁচ শতক জমিতে বিদ্যালয় করা হয়। তবে নাম দেওয়া হয় রানীশংকৈল প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৯২ সালে উপজেলার মডেল বিদ্যালয় করা হয়।

বদলের শুরু:
বিদ্যালয়ের বয়োজ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা রেবা রানী রায় জানালেন, ১৯৯২ সালে বর্তমান প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার যোগ দেন। তখন বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে তাঁর মন খারাপ হয়ে যেত। পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ নেই, মাঠের নোংরা আবর্জনার দুর্গন্ধ। একদিন স্কুলের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ডেকে প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘বিদ্যালয়টি কার?’ উত্তরে শিক্ষার্থীরা সমস্বরে বলল, ‘আমাদের’। তিনি জানতে চাইলেন, তাহলে বিদ্যালয়ের মাঠ এত নোংরা কেন? এরপর প্রধান শিক্ষক নিজেই বললেন, ‘আজ আমরা মাঠের মাত্র চার হাত জায়গা পরিষ্কার করব।’ এই বলে তিনি মাঠ পরিষ্কার শুরু করলেন। তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই। সেই শুরু বিদ্যালয়ের বদলে যাওয়া।

এরপর প্রধান শিক্ষক এলাকার সুধীজনদের নিয়ে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা চাইলেন। সেদিনই সুধী সমাজের সহায়তায় বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়। পরে সবার সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয় দুটি শ্রেণীকক্ষ। প্রধান শিক্ষকের পরিকল্পনায় শিক্ষকেরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর বাড়ি পরিদর্শন করে কথা বলেন অভিভাবকদের সঙ্গে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত ‘মা’ সমাবেশ শুরু হলো। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ বাস্তবায়িত হলো বিদ্যালয়ে। উপজেলার সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ে সর্বজনীন একটি কমিটি করা হলো। সবার সহযোগিতায় শিক্ষার চমৎকার পরিবেশ নিশ্চিত হলো, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়ে গেল, ফলও ভালো হতে থাকল।

অন্য বিদ্যালয় থেকে আলাদা:
বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে কল্যাণ সমিতি ও শিক্ষক-অভিভাবক সমিতি।

২০০৮ সালে প্রতিটি অভিভাবকের কাছ থেকে মাথাপিছু অতিরিক্ত দুই টাকা করে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কল্যাণ সমিতির তহবিল। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের জমিতে ভাড়া দেওয়া চারটি দোকান থেকে ভাড়া ও প্রতি মাসে কিছু অনুদান এই তহবিলে জমা হয়। সেই তহবিল থেকে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ওই তহবিল থেকে চলতি মাসে ১৩৩ জন শিক্ষার্থীকে নতুন পোশাক ও একজনকে চিকিৎসা-সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দরিদ্রদের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে বই-খাতা ও কলম।

বিদ্যালয়ে কম্পিউটার, শরীরচর্চা ও নাচ-গানের জন্য তিন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাখা হয়েছে নৈশপ্রহরী, অফিস সহকারী ও দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য রাতে আড়াই ঘণ্টা পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আছে জেনারেটর। রাতে অতিরিক্ত চারজন শিক্ষক এই শিক্ষার্থীদের পড়ান। এসব খরচ মেটানো হয় কল্যাণ তহবিল থেকেই।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের মুঠোফোন নম্বর বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। উপস্থিতি বাড়াতে পরীক্ষায় উপস্থিতির ওপর সংরক্ষিত রাখা হয়েছে ৫০ নম্বর।


বিদ্যালয়ের অর্জন:
রানীশংকৈল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উকিল চন্দ্র রায় জানান, ২০০৮ সালে রানীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দেশের সেরা বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া বিদ্যালয়টি ২০১০ সালে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ক্যাটাগরিতে রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করে।

শিক্ষার্থীদের কথা:
চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া জান্নাতি বলে, ‘বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষকদের ব্যবহার সব সময় আমাদের আকৃষ্ট করে। পড়া না বুঝলে স্যার-আপারা কখনোই বিরক্ত বোধ করেন না, বারবার বুঝিয়ে দেন।’ পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রাফি তোরাব বলে, ‘আমি ঠাকুরগাঁও শহর ছেড়ে এখানে পড়তে এসেছি। বিদ্যালয়টি ভালো বলে বাবা আমাকে এখানে পাঠিয়েছে।’

প্রধান শিক্ষক যা বলেন:
প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার এই সাফল্য সম্পর্কে বলেন, ‘নিজের কাজটুকু সব সময় যত্ন দিয়ে করতে হয়। একজন মানুষের পেশা ও নেশার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে ভালো কিছু করতে পারে না। আমি পেশাকে নেশা হিসেবে নিয়েছি। আর এত সাড়া দিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার সুধীজন। সবার সহায়তায় এ সাফল্য।’

তাঁদের কথা:
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও রানীশংকৈল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সইদুল হক বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আমি গর্বিত। যেকোনো ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষা ধরে রাখতে চাই।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম তৌফিকুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়টি সারা দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #102  
Old December 21, 2011, 02:55 PM
simon's Avatar
simon simon is offline
Cricket Sage
 
Join Date: February 20, 2008
Favorite Player: Tam,Sak,Nasa,Mash
Posts: 19,462

Sakib is the n°1 Test AR now
http://www.relianceiccrankings.com/r...t/all-rounder/
__________________
Tea20 is just not our cup of tea.
Reply With Quote
  #103  
Old December 22, 2011, 01:23 AM
nakedzero's Avatar
nakedzero nakedzero is offline
Cricket Legend
 
Join Date: February 3, 2011
Favorite Player: ShakTikMashNasir(ShakV2)
Posts: 2,024

Quote:
Originally Posted by simon
Sakib is the n°1 Test AR now
http://www.relianceiccrankings.com/r...t/all-rounder/
Feeling really really great awesome, it has made my day, truly
Reply With Quote
  #104  
Old January 10, 2012, 07:17 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Tourism in Bangladesh: problems and prospects
by Ziaul Haque Howlader



Forty years has elapsed of Bangladesh’s tourism industry, yet we still see it in a nascent position in comparison to our neighbouring countries. Despite having all the potential to flourish, tourism in this country has been growing at a very slow pace. Bangladesh is not known as a tourist destination in the international tourism market. Only 3 lacs foreign tourists came to Bangladesh in 2010, of which more than 70 percent came for business and official purposes. The contribution of the earning from tourism to the country’s GDP is less than 1 percent. The sector got recognition as an industry in 1999. But it never received attention from the government to become a vibrant industry. Whereas many countries which started much later than Bangladesh, for example – Maldives, Malaysia, Vietnam, Cambodia, Laos PDR - have developed their tourism industry much faster than this country. In 1998 Bangladesh received 171,961 tourists and Cambodia received only 96,000 tourists. After 11 years in 2009, Bangladesh could attract only 267,000 tourists and Cambodia more than 2 million tourists. This comparison indicates discrepancy in the degree of initiative by two different countries within a same span of time.

The lack of development of the tourism industry of Bangladesh can be attributed to multiple reasons like less-prioritisation of tourism by all previous governments, lack of budgetary allocation and scarcity of trained people in the industry. There is also a lack of publicity and marketing activities. We lag behind in projecting our attractions to international tourists through advertisements in international print and electronic media, as our neighbouring countries do. We have to do this for enhancing the positive image of our country and for introducing our prime tourist attractions as well as our vibrant culture. But, there is a lack of sufficient budgetary allocation. We need to develop an effective brand name for tourism. We have never tried to understand that branding not only helps tourism of the country, it encourages foreign investment as well. A tourism branding campaign called ‘Beautiful Bangladesh’ has been developed, but according to the tourism stakeholders of the country it does not wholly reflect the tourist attractions of the country. Tour operators who bring foreign tourists are raising demands to mend it. Bangladesh, which has so many positive aspects, needs to rebuild its brand as a country. Apart from the meagre budgetary allocation of the government, appropriate plans and programmes for tourism development - short term, long term and medium term - was absent before 90’s. Furthermore, in the planning process there were lots of discrepancies. Due to the absence of proper planning, even some infrastructure developments that require a small budget could not be accomplished. For attracting more foreign tourists, we need to turn tourist attractions into tourism products i.e. finished products to sell. Appropriate infrastructural development, super-structure development, introduction of waste management systems and sustainability of the tourist attractions for our future posterity are most essential.

We name Cox’s Bazar as our tourist capital but recreational activities on the beach are very scanty. Tourists do not find any night-life activities, after spending the day at the beach, but to sleep in hotel rooms. We should understand that tourists do not come here to sleep idly in a hotel. They love to remain busy through experiencing different memorable activities. We need to make the tourists busy in different activities all the time and bring out money from their pockets. Tourists come to spend money not take it back. On the other hand, whatever development has taken place at Cox’s Bazar is unplanned and uncontrolled. Appropriate regulation is absent there. Still there is no proper water and sewerage system; gas connection is absent; only a limited number of flights land there. Kuakata – a second priority beach for tourists – cannot be reached very easily. Though road communication has improved from before, tourists tend to avoid going there more than once, due to the lack of standard facilities. The archaeological sites in the north-west of Bangladesh are also popular with tourists. But, due to the absence of interpreters and facilities, tourists do not make overnight stays. Every year many domestic and foreign tourists visit Paharpur – a world heritage site. They can reach Paharpur in the late afternoon by starting very early from Dhaka. But after a short while at Paharpur, the sun sets. So they become worried where to make a night halt, because there are no hotels at Naogaon or Joypurhat district town. At the other famous archaeological sites, proper interpretation signage and educated guides are not found. Sufficient numbers of litter bins are not installed along the sites.

Infrastructure development is sine-quo-non for the sustainable tourism development of any country and Bangladesh is also no exception. Tourism friendly infrastructure is required for smooth and free movement of tourists of all ages, and even for the physically challenged tourists. In view of this, Bangladesh needs to develop accommodations, eateries, good communication and transportation systems, toilet facilities, parking facilities etc. near the tourist spots of the country. It needs to develop international standard facilities at all the tourist spots of Bangladesh.

For promotional campaigns and the marketing of Bangladesh tourism abroad, we need to provide guidelines to the

economic councillors and visa officers of the foreign missions of Bangladesh so that they can encourage foreign tourists to visit Bangladesh. Or, we can establish tourism offices in the tourist generating countries like China, UK, USA, Japan, Australia, because these countries produce more than 70 percent of the world’s outbound tourists. We lack a marketing strategy which causes the absence of proper marketing initiatives for tourism products of the country.

We need to diversify our tourism products to attract tourists and encourage them to make repeated visits. We can segment our tourism regions in different categories, so that tourists can be interested to visit many different places. We need to develop tourism products based on archaeology, culture and monument, river, tea garden, indigenous culture etc. We may develop MICE tourism as has been developed by Singapore, Korea, China and other countries of Asia. Many multinational companies of Bangladesh hold their AGM and other meetings in those countries, as well as organise recreational activities there. In this regard, we need to develop many condominiums, international convention centres etc in Dhaka and Cox’s Bazar. If we can ensure them these facilities, they won’t fly to other countries.

There is a great potential to promote sports tourism in Bangladesh. We can develop venues and infrastructure in the country. Some cricket venues have already been developed. But, more venues need to be established in various places of the country like Cox’s Bazar (the world’s longest sea beach), Kuakata, Comilla, Barisal, Dinjapur etc. For the development of sports tourism we can seek both local and foreign investment. This way we shall be able to reap benefits. Also, by developing sports tourism we can help develop many backward linkage sectors in the country. Besides, this will help the creation of many informal jobs like tea vendors, food corners, betel shops, hawkers etc. A policy framework is necessary to be developed, and strong coordination amongst the concerned departments is required.

We should also emphasise on domestic tourism. Without the development of domestic tourism it is hard to attract foreign tourists. When local people movements start from one place to another, confidence of investors will grow.

Bangladesh should also take initiatives for eco-tourism development in the country especially in the naturally and culturally rich areas. Sylhet and Chittagong Hill Tract (CHT) regions of Bangladesh are paradises for eco-tourism activities. On the other hand, Sundarbans is the gold mine for eco-tourism. It is the single largest mangrove forest in the world. It has been designated as a world heritage site since 1997. The world’s second largest mangrove forest is Mastang in Malaysia, which is only one-tenth the size of the Sundarbans. To develop eco-tourism in the Sundarbans, we can install some world class cruise vessels to take tourists to the forest. But we should keep in mind that the eco-system of the Subdarbans is not disturbed. We can also develop eco-tourism at St. Martin’s island which will help protection of the island. Eco-tourism development will help us preserve our rich cultural heritage for the benefit of our future generations. Different policy approaches are required in this regard. Controls of visitors, enforcement of tourist movement guidelines and waste management facilities are required for eco-tourism development.

Safety and security of the tourists should be given the utmost priority. Forming only tourist police cannot solve the problem. Proper orientation should be given to police so that they can behave properly with tourists. The local people have to be involved in this process. When local people would find benefits from tourist activities, they would safeguard the tourists as well as the tourist attractions. Local people at tourist sites have always been neglected. We see that local people get little benefit from the tourism activities in their own areas. For instance, the indigenous and ethnic minority people of Rangamati or Bandarban get very little trickle down benefits from the tourism activities over there. They were never included in the tourism planning and development processes. They have not been properly informed of the value of the tourism resources or to take pride in their own areas. When local people get involved with tourism activities in their localities, a sense of ownership of the tourist attractions grows in them. They become aware of the need to protect and conserve the attractions.

Bangladesh also needs to change its visa policy. It may go for visa waivers for the top tourist generating countries and introduce visa on arrival systems for tourist groups. Nepal provides us visa on arrival but we don’t reciprocate, which hinders tourist to come from Nepal. Immigration formalities at the land ports should also be simplified for foreign tourists.

The foreign currency earning goods of Bangladesh like RMG, shrimp, jute items are now facing stiff competition from other countries. In response, tourism can be an export item to support earning foreign currency for the country. We must know that, in this era of economic globalisation, tourism is considered to be one of the fastest growing and ever-expanding industries and also demonstrates a resilient character. It is a labour-intensive industry that creates hundreds of jobs every year across the world. Tourism is a great tool for poverty alleviation. It helps reduce poverty to a great extent by involving local people and creating job opportunities. Tourism jobs and businesses are usually created in the most underdeveloped regions of a country which helps to equalise economic opportunities throughout a nation, providing an incentive for residents to remain in rural areas rather than move to overcrowded cities. The tourism industry provides the government with hundreds of millions of dollars in tax revenues each year, through accommodation and restaurant taxes, airport users’ fees, sales taxes, park entrances fees, employees’ income tax and many other fiscal measures.

Bangladesh Parjatan Corporation, since its inception in 1972, has created some tourist facilities in different tourist attractions of the country, and has been carrying out some promotional and marketing activities. BPC currently provides tourist facilities to domestic and international tourists in the form of hotels, motels, restaurants, cottages etc. But, this is not enough. There are a lot of things to do. Creation of hotels, motels is not the only aspect of tourism development. We need to do more, including the creation of public awareness. We need proper planning. And for proper planning, extensive research is necessary. Continuous research on tourist trends, market segments and diversification and vulnerability of tourism products is required. We should be vigilant so that ugly tourism can not flourish here. Exploitation, prostitution and child abuse in tourism should be checked constantly. We should follow the Global Code of Ethics for Tourism set by the UNWTO. We should move forward with a holistic approach for tourist satisfaction as well as preservation and conservation of the tourism products of the country. Only a single ministry or department cannot accomplish all these tasks. Cooperation from other departments is necessary.

The writer is Deputy Manager, Planning and Training Department of Bangladesh Parjatan Corporation
-------------------------------------------------------------------------------

Problems and prospects of archaeological tourism in Bangladesh
by Md Kashedul Wahab Tuhin



With the growth of world tourism, Bangladesh is becoming a new destination in the world tourist map. According to UNWTO, the top 15 destinations absorbed 98 percent of all international tourist arrivals in 1950. In 1970 the proportion was 75 percent, which fell further to 57 percent in 2007. This reflects on the emergence of new destinations, many of them in developing countries. Bangladesh has ample opportunity of becoming a tourist nation as it has archaeological, natural, ecological, cultural and other tourism products to attract tourists. National Tourism Policy 1992 of Bangladesh has addressed the issue of the contribution of tourism in poverty reduction. Considering its potential significance in the national economy, Industrial Policy of 1999 has also included tourism as a thrust sector. Archaeological tourism in Bangladesh, as a segment of the larger tourism industry, can be the major contributor to total tourism earnings. Foreign tourists coming to Bangladesh choose to see archaeological and historical places first, while their second choice is scenic beauty.*


What is archaeological tourism?

Archaeological tourism has been developed throughout the world as an important segment of the tourism industry. According to Wikipedia, ‘Archaeotourism or Archaeological tourism is a form of cultural tourism, which aims to promote public interest in archaeology and the conservation of historical sites’. Archaeological tourism (sometimes labelled ‘archaeotourism’) is travel that focuses on visiting and experiencing ancient sites and historical places. There is a fine line between promoting an area’s cultural heritage through archaeological sites and the risk of becoming invasive tourism causing more damage to them. It may include visits to museums, places of historical significance, historically and archaeologically focused parks, and even attendance at traditional dances, festivals and other events. The scope of archaeological tourism has grown dramatically in recent years. It is often incorporated into the field of ecological tourism, geotourism and heritage tourism.


Reasons for archaeological tourism:

Hundreds of thousands of tourists now visit archaeological sites annually and archaeological tourism has become a lucrative business. The motivating forces behind archaeological tourism are a passion for the past and an interest in learning about the ancient or historical cultures that inhabited the area being visited. People are fascinated with ancient and historical remains. Archaeological tourism lets visitors experience the past and allows them to share the thrill of

discovery. ‘Archaeotourists’ are also attracted by the exotic (and often hard to access) nature of the locations in which many archaeological sites are found, as they desire unique experiences.

Archeological tourism is also education and research based tourism. The, sometimes inaccessible, nature of archaeological sites often adds to the sense of adventure and knowledge. It may be a means for tourists to satisfy their curiosity regarding ancient sites or it may be for the purpose of educating tourists who may be students and scholars.


Archaeological tourist attractions of Bangladesh:

Bangladesh is a country considerably rich in archaeological wealth, especially from the medieval period, both during the Muslim and pre-Muslim rules. Most of it is still unexplored and unknown. The earlier history of Bangladesh reveals that Buddhism received royal patronage from some important ruling dynasties like the great Pala rulers, the Chandras and the Deva Kings. Under their royal patronage numerous well-organized, self-contained monasteries sprang up all over the region. The major archaeological sites are described below.


Paharpur:

Paharpur is a small village 5 km west of Jamalganj in the greater Rajshahi district. This 7th century archaeological find covers an area of approximately 27 acres of land. The entire establishment, occupying a quadrangular court and measuring more than 900 ft externally on each side, has high enclosure-walls about 16 ft in thickness and between12 ft and 15 ft in height. With an elaborate gateway complex to the north, there are 45 cells on the north and 44 in each of the other three sides, totalling to 177 rooms.


Mahasthangor:

Mahasthangor, the oldest archaeological site in Bangladesh is on the western bank of river Karatoa, 18 km north of Bogra town, beside Bogra-Rangpur Road. The spectacular site is an imposing landmark in the area with a fortified oblong enclosure measuring 5000 ft by 4500 ft, with an average height of 15 ft from the surrounding paddy fields. Beyond the fortified area, other ancient ruins are scattered within a semicircle of about five miles radius. Several isolated mounds, the local names of which are Govinda Bhita Temple, Khodai Pathar Mound, Mankalir Kunda, Parasuramer Bedi, Jiyat Kunda etc surround the fortified city.


Mainamati:

An isolated, low and dimpled range of hills dotted with more than 50 ancient Buddhist settlements from the 8th to 12th century AD, known as Mainamati-Lalmai range, extend through the centre of the district of Comilla. Salban Vihara, almost in the middle of the Mainamati-Lalmai hills, consists of 115 cells built around a spacious courtyard with a cruciform temple in the centre facing its only gateway complex to the north, resembling that of the Paharpur monastery. Kotila Mura, situated on a flattened hillock about 5 km north of Salban Vihara inside the Comilla Cantonment area, is a picturesque Buddhist establishment. Here three stupas are found side by side representing the Buddhist ‘Trinity’ or three jewels i.e. the Buddha, Dharma and Sangha. Charpatra Mura is a small isolated oblong shrine situated about 2.5 km north-west of the Kotila Mura stupas. The only approach to the shrine is from the east through a gateway which leads to a spacious hall. The Mainamati site museum has a rich and varied collection of copper plates, gold and silver coins and 86 bronze objects. Over 150 bronze statues (mostly from the monastic cells), bronze stupas, stone sculptures and hundreds of terra-cotta plaques have been recovered, each measuring an average height of 9 ft and width of 8 to 12 ft.


Shait-Gumbad Mosque, Bagherhat:

In the mid-15th century, a Muslim colony was founded in the inhospitable mangrove forests of the Sundarbans, near the sea coast in Bagherhat district, by an obscure saint-general named Khan Jahan Ali. He was the earliest torch bearer of Islam in the south who laid the nucleus of an affluent city during the reign of Sultan Nasiruddin Mahmud Shah (1442-59), in a place then known as ‘Khalifatabad’ (presently Bagherhat). Khan Jahan adorned his city with numerous mosques, tanks, roads and other public buildings, the spectacular ruins of which are focused around the most imposing and largest multi-domed mosque in Bangladesh, known as the

Shait-Gumbad Masjid (160ft x 108ft). The mosque is roofed over with 77 squat domes, including 7 chauchala or four-sided pitched Bengali domes in the middle row. The vast prayer hall, although provided with 11 arched doorways to the east and 7 each to the north and south for ventilation and light, presents a dark and sombre appearance inside. It is divided into 7 longitudinal aisles and 11 deep bays by a forest of slender stone columns from which spring rows of endless arches supporting the domes.


Kantanagar Temple, Dinajpur:

The most ornate among the late medieval temples of Bangladesh is the Kantanagar temple near Dinajpur town. It was built in 1752 by Maharaja Pran Nath of Dinajpur. The temple, a 50 square ft three storied edifice rests on a slightly curved and raised plinth of sandstone blocks, believed to have been quarried from the ruins of the ancient city of Bangarh near Gangarampur in West Bengal. It was originally a navaratna temple, crowned with four richly ornamental corner towers on two floors and a central one over the third floor. Unfortunately these ornate towers collapsed during an earthquake at the end of the 19th Century. In spite of this, the monument rightly claims to be the finest extant example of its type in brick and terra-cotta built by Bengali artisans.


Sonargaon:

About 27 km from Dhaka, Sonargaon is one of the oldest capitals of Bengal. It was the seat of Deva Dynasty until the 13th century. From then onward till the advent of the Mughals, Sonargaon was the subsidiary capital of the Sultanate of Bengal. Among the ancient monuments still intact is the Tomb of Sultan Ghiasuddin (1399-l 409 AD) the shrines of Panjpirs and Shah Abdul Alla and a beautiful mosque in Goaldi village.

Problems of archaeological tourism:

Archaeological sites are fragile resources susceptible to damage caused by changes to their environment. When tourism is unregulated, sites can be damaged. People interested in visiting the sites must be made aware of the fragility of these resources.

Looting and vandalism is another problem of archaeological tourism. Increased awareness of a site could attract looters and vandals. Good site-management plans should provide for site security.

Maintaining quality and authenticity of archaeological sites is an important aspect of archaeological tourism. Archaeological sites represent the contributions of previous generations and the history and culture of a community, which should be presented as it is. Bangladesh is facing scarcity in proper excavation, planning and budget allocation in this regard. Incorrect and inadequate interpretation of a site detracts from the overall enjoyment for visitors. Proper interpretation involves training tour guides and using appropriate and accurate signage, which must be integrated into archaeological tourism programs.

An educated community is essential for preserving archaeological sites, which is really rare in Bangladesh. A community that values and protects its archaeological infrastructure will contribute to the successful development of a project with funds, volunteers and political support.

As a major segment of the tourism industry, archaeological tourism is becoming popular and the number of people engaged in it continues to grow. The government should come up with the necessary policy statements and accompanying guidelines. Proper guidelines and ‘good practice’ will minimize the adverse impact and encourage the creation of comprehensive tourism plans that take into consideration the archaeological sites, the environment and the community around it. New strategies and integrated tourism marketing efforts are required. In order to compete with world tourism, archaeological sites of Bangladesh should be represented with authenticity and quality, along with offering support, facilities and augmented products and services.

The writer is lecturer in Department of Marketing, Comilla University

Reference:
Muhammad Mahboob Ali and Rehana Parvin (2010), ‘Strategic Management of tourism sector in Bangladesh to raise gross Domestic Product: An Analysis’, Office of Research and Publications (ORP) American International University-Bangladesh (AIUB), Working Paper No. AIUB-BUS-ECON-2010-04.
-----------------------------------------------------------------------------------------------

The land of beauty
by Mahfuzul Haque

Bangladesh, a South-Asian country wrapped up with great streaming rivers, is indeed a land of green and natural beauty. The land possesses the longest sea beach and is home to the Royal Bengal Tiger. Sundarbans is also the biggest mangrove forest in the world. The country, once part of undivided Bengal, is proud of her beautiful heritage and historical relics. Having a population of diverse religions along with tribal people, the land has rich culture and deep-rooted traditions.

Bangladesh has a long past of peace and turmoil, prosperity and destitution. Evidence shows that the country experienced the presence of different nations, like the Mongolians. Then the Aryans came from Central Asia and the Dravidians from Western India in the fifth and sixth centuries BC. The Guptas, Palas, Senas who were Buddhists and Hindus came later to this land. In the 13th century Muslim invaders came and started to reign. After almost 200 years, Europeans such as Portuguese, Dutch, French and British traders came and exerted influence over the region. The British ruled the nation for almost two centuries and in 1947 the country divided into India and Pakistan. After a nine month long liberation war with Pakistan, Bangladesh emerged as an independent nation on the world map in 1971. To experience the diversity of the land anyone is welcome to simply step in.


How to come in Bangladesh

Bangladesh is connected to the international network through services of different national and international airlines. Some of these airlines also have domestic services in the periphery of the country as well.


Qatar Airways

Qatar Airways, a Qatar-based company, flies to over 100 destinations across six different continents, and is currently operating 11 flights every week from Bangladesh to its hub in Doha.


Regent Airways

In the domestic network Regent Airways operates five flights daily to Chittagong, twice daily to Jessore, and once daily to Cox’s Bazar and Sylhet. They are also planning to expand into international operations.


Jet Airways

Bangladesh is also connected with services by Jet Airways that connects 24 international destinations. Jet Airways is currently operating 21 flights every week from Dhaka to different international destinations.


Saudi Arabia Airlines

Saudi Arabia Airlines is also operating 11 passenger flights a week between Dhaka and the Kingdom of Saudi Arabia (KSA). During the Hajj season, the airlines generally add extra flights to transport pilgrims from Bangladesh.


United Airways

A tourist can also come to Bangladesh with United Airways. It has flights in both international and domestic routes. In the international routes it has flights to London, Dubai, Jeddah, Kuala Lumpur, Kathmandu, Kolkata and Bangkok. In the domestic routes it has flights from Dhaka to Chittagong, Sylhet, Jessore, Cox’s Bazar, Rajshahi and Saidpur.


RAK Airways

RAK Airways has flight services in Kozhikode, Jeddah, Dhaka, Chittagong, Cairo, Doha, Lahore, Peshawar, Kuwait and Khartoum. The airline offers free parking for passengers who wish to drive to RAK International Airport, 30 minutes away from Sharjah and 45 minutes away from Dubai.


Biman Bangladesh

Biman Bangladesh, the national airlines of Bangladesh, has connections to 18 international destinations in Asia and Europe. It also has domestic connections from Dhaka to Chittagong, Sylhet and Cox’s Bazar.


Etihad Airways

Etihad Airways, the national airline of the United Arab Emirates, offers splendid hospitality. It offers direct flights to Bangladesh in addition to indirect flights on a daily basis.


Where to stay in the city

The city has some splendid hotels where a guest can find spectacular arrangements and hospitality.


Pan Pacific Sonargaon Dhaka

The Pan Pacific Sonargaon, a five-star hotel, is located in the centre of Dhaka just 18 kilometres from the airport. The hotel offers world-class hospitality for business and leisure travellers. It has a fully equipped gymnasium, sauna, steam room and massage treatments. It also has an impressive swimming pool. The hotel offers food for different tastes with its food and beverage outlets including Café Bazar, Ciao Bistro, Oriental Jharna, Pool Café and a meeting place Lobby Lounge. It also has an extensive modern hall which can accommodate 1500 guests at a time, dine 800 guests in one sitting and can be divided into three equal parts.


Dhaka Regency

Dhaka Regency is a new-generation business class hotel located on airport road in the capital. It is only a three-minute drive away from the airport. Along with the splendid hospitality, the hotel offers a host of other attractions such as 24-hour multi-cuisine dining, live performance bar lounge, Thai spa centre, health club and a Mediterranean hookah lounge. Dhaka Regency also has a limousine facility, business centre and swimming pool etc.

Ruposi Bangla

Ruposi Bangla (formerly Dhaka Sheraton Hotel) is a five-star hotel located in the centre of the capital, just 18 kilometres from Hazrat Shahjalal International Airport. It offers magnificent hospitality with facilities of shopping, recreation, entertainment and transportation.


Radisson Blu Water Garden Hotel

Radisson Blu Water Garden Hotel Dhaka has a comprehensive range of facilities and amenities. With its magnificent atmosphere the hotel provides guests wireless internet access in public areas, a business centre with board rooms and secretarial services. The hotel also has a pool area and health club.


The Westin Dhaka

Just eight kilometres far from the airport, The Westin Dhaka is a five-star hotel that offers guests homely hospitality. It has the facilities of transportation, business services, entertainment and high speed internet.


Hotel Sarina Dhaka

Hotel Sarina Dhaka is located in Banani of the capital. The hotel features 201 rooms and suites with impressive decoration. Dining outlets include Italian, Indian and international food items. The business centre is available to guests all the time and includes private meeting rooms, satellite video conferencing etc.


Platinum Suites

Platinum Suites, is located in Banani in the city, only ten kilometres from Shah Jalal International Airport and offers guest splendid hospitality, management and design. In addition to its varied flavour of foods the hotel offers access to fitness centre, limousine service on rental basis etc.



Arunima Countryside & Golf Resort

Arunima Countryside & Golf Resort,

an agro-eco-sports & riverine resort, is located in Narail. The resort provides residences with traditional comfort. The beds of this resort are made of wood, bamboo or cane. There are some cottages made of wood known as Chalet. These south faced cottages that have a portion extended on a pond are adventurous places. The resort also has some floating cottages known as ‘Boat House’. It also provides a variety of delicious local and foreign foods. Horse and cart riding facilities are also available, along with a golf course, tennis court and other sports facilities.


The places a tourist can visit

To enjoy the beauty of the land, a tourist can visit places in Dhaka as well as other locations in the country.


Dhaka

Dhaka, the capital of Bangladesh, has a long history, heritage and culture of 400 years. Lalbagh Fort, Ahsan Manjil, National Botanical Gardens, Central Shaheed Minar and National Martyr’s Memorial are symbols of some of the history. Muslin is another historical pride of the city. Tourists can buy muslin from Narayangong, an hour drive from the heart of Dhaka. In the city there are some modern entertainment hubs like Nandan Park and Fantasy Kingdom. Nandan Park offers rides like cable car, water coaster, tilt-a-whirl, ice land, musical dancing fountain, wave pool etc.


Sonargaon

Sonargaon, the old capital of Bengal, is near Dhaka city and can be visited to relish the history of Bangladesh. It was the subsidiary capital of the Sultanate of Bengal. The tomb of Sultan Ghiasuddin (1399-l409 AD), the shrines of Panjpirs and Shah Abdul Alla and a beautiful mosque in Goaldi village are some of the ancient monuments which are still undamaged.


Mainamati

Mainamati, a place with remnants of Buddhist civilisation, is located in Comilla, 114 kilometres southeast of Dhaka. The place is a treasure trove of early Buddhist culture. It bears the existence of more than 50 ancient Buddhist settlements from the 8th to 12th century AD. The Mainamati site museum has a rich and varied collection of copper plates, gold and silver coins and 86 bronze objects. Over 150 bronze statues (mostly from the monastic cells), bronze stupas, stone sculptures and hundreds of terracotta plaques have been recovered, each measuring an average height of 9 ft and width of 8 to 12 ft.


Cox’s Bazar

Cox’s Bazar, the tourist capital of Bangladesh, has the longest unbroken sea beach sloping down to the blue waters of the Bay of Bengal, and is indeed a place to enjoy the spectacular beauty of nature. One can visit a number of other fascinating spots in Cox’s Bazar like Himchhari, Teknaf, Inani beach, Buddhist temple at Ramu and islands such as Sonadia, St Martin and Moheskhali.


Sundarbans

Located about 320 kilometres south-west of Dhaka, Sundarbans, the biggest mangrove forest in the world, are criss-crossed by rivers and creeks. Tides flow in two directions within the same creek in this forest, which is also home of the Royal Bengal Tiger. Deer, monkeys and snakes are among other wildlife in this forest.


Bandarban

Ninety two kilometres away from the port city Chittagong, Bandarban is surrounded by green hills, and is the home of tribes like Mogh, Murang, Marma who are famous for their own rituals and culture. The highest peak of Bangladesh Tajingdong is also located in this district.


Rangamati

Rangamati , the other hilly district of Bangladesh, is famous for its beautiful landscape. The tribal life, tribal museum, homespun textile products, hanging bridge are the unique attractions of the place.


Patuakhali

In Patuakhali, also known as sea queen, there is a beach where one can enjoy the unique opportunity of seeing both the sun rise and sun set. The beach is located at a distance of 70 km, from the district headquarters.


Kantanagar temple, Dinajpur

The century old Kantanagar temple is located near Dinajpur town, which was built by maharaja Pran Nath of Dinajpur in 1752. The temple is still considered the finest of its type of terracotta, built by local artisans.


Rajshahi

Rajshahi, the northern city of Bangladesh, bears the debris of glorious periods of Bengal’s Pala dynasty. It is famous for pure silk and mangoes. Verandra Research Museum at the heart of the city is a home of rich archaeological finds. There are also a number of ancient mosques, shrines and temples in and around Rajshahi.


Mahasthangarh

Mahasthangarh, 18 kilometres north of Bogra town, is the oldest archaeological site of Bangladesh established in 3rd century BC. The historical site is equipped with a fortified oblong enclosure measuring 5000 ft by 4500 ft, with an average height of 15 ft from the surrounding paddy fields. Beyond the fortified area there are several isolated mounds where there are Govinda Bhita Temple, Khodia Pathar Mound, Mankalir Kunda, Parasuramer Bedi and Jiyat Kunda surrounding the fortified city.


Paharpur

Paharpur is an archaeological site located in the greater Rajshahi district. Known as Somapura Mahavira, it was built by the Pala emperor Dharmapala (AD 770-810). The monastery is quadrangular, with a colossal temple with a cross-shaped floor plan in the centre of the courtyard and an elaborate gateway complex on the north. There are 45 cells on the north and 44 in each of the other three sides, making a total number of 177 monastic cells along the enclosure walls on the four sides.


Sylhet

Sylhet, the district of natural beauty, is famous for its tea gardens, orange groves and hills covered with tropical forests and beautiful landscapes. Srimangal in Sylhet, is the main tea centre of the area. The tea gardens are like green carpet over the hilly plains. Sylhet is also known as the land of the famous Muslim saint Hazrat Shah Jalal, the great torch bearer of Islam in the region. The shrine of this great saint is located in Sylhet town. Monipuri, Khasia and Garo tribes live in Sylhet. Sylhet is also well known for its wide variety of exquisite handicrafts of cane and bamboo. Jaflong is also a scenic spot nearby amidst tea gardens and the rare beauty of rolling stones down hills. Other places of interest in Sylhet include Moulvibazar, Janitipur, Madhabakunda and Haripur gas field.


The service providers

Guide Tours Ltd.

The Guide Tours Limited is a tour operator in Bangladesh that provides services to tourists to visit famous places across the country like in Dhaka city and around places like Mainamati in Comilla, Sonargaon, Manikgong, Munshigonj. It also arranges river cruise on the Shitalakkhya river. It offers tours in Sundarbans through its boats which takes tourists to different fascinating points of the forest. It also provides tour packages to tourist places in North Bengal, Sylhet, Srimongol, Bandarban and to the beaches and islands of the country, through different packages that include food, transport and lodging.


Galaxy Holidays Ltd.

Galaxy Holidays Ltd, a tour operating company, provides services to both inbound and outbound travellers. The operator arranges package tours in famous places in and around Dhaka and tourist spots of North Bengal. It also provides tours to different tourist places in Chittagong, Bandarban, Rangamati. It arranges river cruises in Padma, Meghna and Shitalakkhya rivers. It also arranges tours to Cox’s Bazarh, St Martin, Sonadia, and Moheshkhali island. To enjoy the beauty of Sundarbans, Galaxy Tours arranges visits through its boats to different points of the forest.

Bengal Tours Ltd.

This operator arranges trips to Sundarbans through its boats. Boarding on the boats it is possible to visit Kotka, a wildlife sanctuary of Sundarbans, through small creeks and canals to see the wildlife and feel the forest from very close.
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #105  
Old January 10, 2012, 07:21 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Eco-entrepreneurship in Jessore
by Kristin Boekhoff



As I bound my breasts and put on men’s clothes, I remember thinking how crazy I was. In two years, I went from being an executive in the ‘c-suite’ of a large real estate finance company in New York to disguising myself as a Bangladeshi man so that I could go look for land in the rural areas of southern Bangladesh. So what made me give up a high-paying job at the top of the corporate ladder, donate everything I owned to charity, and move to a developing country that few people can locate on a map? In a word: passion.

I was making money in New York, but I wasn’t making a difference. I had reached the top of my chosen career field by age thirty and was bored. I wanted to change my life so I could do something I loved, and make more of an impact on the world. But it was a lecture that I attended at the Cornell Club that really sounded the clarion call for me. Stuart Hart, a professor at the Cornell Johnson Business School, gave a lecture about alternative energy in developing countries; he threw out a statistic that I could not believe when I heard it: he said that of the 6 billion people in the world, 4 billion live in poverty. It shocked me to the core of my being. I considered myself a well-educated and well-travelled individual, and for me to not have known how most of the people in the world live made me question everything that I knew.

That talk set in motion a series of events that led me to apply for a Fulbright Fellowship to Bangladesh where I did a year of service and spent some time examining my priorities. When my Fulbright ended, I realized that I could no longer return to my old life and that the time had finally come to spread my wings and jump. I had the idea to create sustainable boutique resorts before I left New York (it combined my interests in environmentalism, real estate, design, and travel), but I certainly never thought that I would start in Bangladesh! After living in the country for a year, however, I realized that there was a demand, among the foreigners and Bangladeshis already living in Dhaka, for the kind of high-end socially and environmentally responsible product that I wanted to create.

While working on my Fulbright project I connected with German architect Anna Heringer who built an award-winning school from mud in the northern part of Bangladesh. I was inspired by her work and decided to create a resort out of mud and bamboo that showcased Bangladeshi culture and heritage.

I strategically chose the location for my resort and then started looking for a site. I flew to Jessore, put on a sari, and hired a rickshaw to take me around the countryside. Village tea stalls were the best source of information about the local area. Normally the exclusive domain of men, I was invited to sit, take tea, and share information about my country, my family, and what I was doing in Bangladesh. After the local leader had determined that my quest was worthwhile, he would take me around and show me several pieces of land that might be available. While the search was fun and the scenery breathtaking, I soon realized that I was getting the bideshir dam (foreigner’s price quote) for the land.

On my fourth trip down to Jessore, I hooked up with a local named Koli. I liked Koli from the start – he was friendly, enthusiastic, and I instantly felt that I could trust him. Koli wasn’t a broker, but he knew the area and offered to show me some land. I had originally planned to fly back to Dhaka that same evening, but Koli said that he could show me some more land the next day, so I decided to stay. Koli invited me to spend the night with him and his family. Normally I would have turned down an invitation to come home with a strange man, but Koli explained that he lived with his wife and two children and his brothers and their families, so I took a chance and followed him.

That night I got to experience the amazing hospitality of the Bangladeshi people. With just an hour’s notice, his family had prepared a huge feast for me of traditional Bangladeshi food. I didn’t have any clothes for the next day, so they bought me a shalwar kameez and a nightgown. When I left the next morning they gave me fruit and presents and made me promise to come back soon.

Over the next year and a half Koli and I worked together to find the perfect land for the resort. We lost a few pieces along the way -- one for title issues and two because they found out it was a foreigner that was buying the land. Consequently, when we found our current site, I was not initially allowed to go down and see it. I told Koli that I couldn’t buy land without seeing it first, so we came up with the idea of disguising me as a Bangladeshi man and driving by on Koli’s motorcycle (a woman on the back of a motorcycle, even in a burka, would draw too much attention). So I bound my breasts, put on men’s clothes (which also hid my white arms and legs!), donned a motorcycle helmet, and drove to the project site. The disguise worked and I was able to check out the property.

Koli spent the next six months talking to the villagers, forming relationships, and negotiating a price. He explained that we are trying to develop a socially responsible resort that will improve the lives of the people in the local community by bringing new businesses and jobs to the area. He told them that we wanted to revive some of the arts and crafts of Bangladesh that are being lost and that we would work with the villagers to create products that could be used in the resort and maybe even sold abroad. In the end, the villagers got together and agreed to sell. Today many of them (and their children) are Panigram employees.

While Koli worked to build a support network in the village community, I used my connections to assemble a team of some of the top hoteliers, designers and engineers in the world. I was fortunate to find an inspirational group of creative thinkers who shared my vision of creating a luxury boutique spa resort that protects the natural and cultural heritage of Bangladesh, provides authentic and distinctive travel experiences to discerning travellers, promotes sustainable development, and improves the quality of life in the host community. At the same time I managed to attract a group of like-minded Bangladeshi investors who were able to see the potential of environmental tourism in Bangladesh, even though at the time only a couple of low-end eco lodges existed in the country.

When I first started talking about my project, most people didn’t get it. They wondered why I wasn’t developing in Cox’s Bazar and couldn’t believe that I wasn’t going to put televisions in my rooms. The idea of creating a quiet place by a river where families could go, relax, reflect, and enjoy each other’s company was as foreign as I was. At the time the posters advertising tourism in Bangladesh were covered with photos of the Jamuna

Bridge. Everyone was talking about ‘the world’s longest sea beach’ without realizing that the while the beach in Cox’s Bazar may be the biggest, it is not the prettiest, nor is it attractive to foreigners who would prefer to spend their holidays taking photographs instead of being photographed themselves. I went to meetings with government officials and potential investors and tried to explain that the real draw of Bangladesh to a foreigner isn’t its beach or its few small archaeological sites, but the fact that it is the world’s largest river delta and that the people who have built homes and families on the banks of these byzantine waterways are some of the most naturally hospitable people in the world. In Bangladesh a foreigner can still have an authentic travel experience because the people here are authentic. They still live in mud homes, use water buffalo to plant their fields, and grind spices by hand.

Fortunately, in the past five years more Bangladeshis have realized the potential of the natural beauty of their country and the value of relaxation. As the traffic in Dhaka has gotten worse, the demand for yoga classes, spas, and nature hikes have increased. Several new eco-resorts are under development and many non-profit organizations have been created to protect the country’s natural heritage.

The pastoral countryside will ultimately be a draw for foreign visitors, but Bangladesh’s first tourist market will be the people who already live here, primarily the burgeoning middle-class. These educated people of increasing means are also seeking safe, clean places to take their families. While trips abroad are attractive to them, higher costs, difficulties in obtaining visas, and a desire to give their city-born children a ‘gramer bari’ (‘village home’) experience will make local destinations attractive to them.

Though my target market is affluent travellers, they too will primarily be Bangladeshis and the expatriates who live in Dhaka. I have seen grown Bangladeshi men in business suits strip down to lungis and jump in my river. There is something about returning to the countryside that restores the joy of youth and the excitement of discovery. Complex problems and technological distractions fade away and are replaced by the simple pleasures of evening boat rides, great conversation, and the amazement of spotting a rare butterfly. While the city of Dhaka is harsh and chaotic with the sights, sounds, and smells of a developing industrial city, Bangladesh’s countryside is a tropical haven that even many of the native city-dwellers have forgotten about.

It is here, in the lush paddy fields of rural Bangladesh, that tourism which is most in harmony with Bangladeshi culture and values will develop. While some entrepreneurs aspire to turn Bangladesh into the next Bangkok with flashy discotheques, all-night bars, and casinos, there are others who see the power in the quiet beauty of the gram. Bangladeshi tourism is in a nascent stage of development; Bangladesh can become another hub for people who are addicted to gambling, sex, and alcohol, or it can become a new model for sustainable tourism. Bangladeshis can take the things that are initially seen as threats (poverty, a large population, climate change) and turn them into opportunities (a large workforce eager to learn, a resort that creates its own power) and solutions that inspire the rest of the world.

One of the most amazing things that I have learned in the five years that I have been here in Bangladesh is that most Bangladeshis believe that anything produced in Bangladesh is of poor quality and foreign products are better. With Panigram, I would like to reverse that message. Though I have an amazing team of foreign advisors and I am a foreigner myself, the resort is being designed, built, run, and financed by Bangladeshis. Most of the items in the resort – from the tiles to the light fixtures – will be designed and made in Bangladesh. I want my guests to have an authentic Bangladeshi experience from the amazing hospitality of my staff, to the savoury Bangladeshi food, to the Tagore music we will play in the evenings. Bangladesh is Asia’s best-kept secret, and I can’t wait for the rest of the world to discover it.


The writer is a Fullbright Scholar and the founder and Managing Director of Panigram Resort, a socially and environmentally responsible boutique spa resort in Jessore. Panigram is currently under development and anticipates opening in December 2012.
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #106  
Old January 31, 2012, 05:23 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

টমেটো চাষে সফল শাকেরা
রুহুল বয়ান, মহেশখালী (কক্সবাজার) | তারিখ: ০১-০২-২০১২


শাকেরা আক্তার

পাহাড়ের ঢালে টমেটো চাষ করে লাখপতি হলেন শাকেরা আক্তার। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার পাহাড়ের ঢালে ২০ শতক জমিতে টমেটো চাষে করেন তিনি। ফলন হয় বাম্পার। লাভবান হওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে শাকেরার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের চারপাশে পাহাড়ঘেরা দুটি গ্রামের নাম উত্তরকুল ও দক্ষিণকুল। এ দুই গ্রামের লোকজন পাহাড়ের ভেতরে পানের বরজ ও ধান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু পাহাড়ের ঢালে গিয়ে সবজির চাষ করার মতো এ গ্রামের কারও চিন্তাভাবনা ছিল না। ১০ বছর আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসে উত্তরকুলের বাসিন্দা আবদুর রশিদ নামের একজন যুবক পাহাড়ের ঢালে টমেটো চাষ শুরু করেন। টমেটো চাষ করে লাভবান হন রশিদ। তাঁর কাছ থেকে টমেটো চাষের অভিজ্ঞতা নিয়ে শাকেরা আক্তারসহ অন্যরাও পাহাড়ের ঢালে গিয়ে টমেটো চাষ শুরু করেন। এখন উত্তর ও দক্ষিণকুল এই দুই গ্রাম সবজি গ্রাম হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। এ ছাড়া টমেটোর পাশাপাশি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, তরমুজসহ নানা ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। আর এসব কাঁচা তরিতরকারি খেত থেকে তুলে নিয়ে চাষিরা পৌর এলাকার গোরকঘাটা বাজার, ছোট মহেশখালী লম্বাঘোনা বাজার ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নের নতুন বাজারে আড়তদারদের কাছে পাইকারি দামে বিক্রি করছেন। ফলে দুই গ্রামের ১০ হাজার মানুষ কাঁচা তরিতরকারি ও সবজি চাষ করে এখন জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়েদেখা গেল, উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের দক্ষিণকুল পাহাড়ের চড়াইয়ে টমেটো বাগান থেকে বাজারে বিক্রি করার জন্য টমেটো তুলছেন শাকেরা। সপ্তাহে তিন দিন খেত থেকে টমেটো তুলে বাজারে নিয়ে আড়তদারের কাছে বিক্রি করে থাকেন। এ থেকে প্রতি সপ্তাহে একেকজন চাষি তিন থেকে হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেন।

দক্ষিণকুলের টমেটো চাষি শাকেরা আক্তার বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবারের টমেটোর ফলন ভালো হওয়ায় খরচ বাদে দেড় লাখ টাকা লাভ হবে। কিন্তু সময়মতো সার প্রয়োগ করতে পারলে আরও ফলন ভালো হতো। ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল মোস্তফা বলেন, একসময় পাহাড়ের ঢালে কোনো চাষ না হলেও কয়েক বছর ধরে উত্তর ও দক্ষিণকুল এ দুই গ্রামে টমেটো চাষ হচ্ছে। ফলে এ দুই গ্রামের উৎপাদিত কাঁচা তরকারি ও সবজি উপজেলার সদরের আশপাশে ছোট-বড় পাঁচটি বাজারের তরিতরকারির চাহিদা মেটাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা

আমিরুল বাহরাইন বলেন, এ বছর পুরো এলাকায় ৩০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। তার মধ্যে ওই দুই গ্রামে সবচেয়ে বেশি। পাহাড় ব্যবহার করে স্থানীয় লোকজন এ চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। তবে চাষিদের সার না পাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ছোট মহেশখালী ইউনিয়নে সার ডিলার থাকলেও তিনি বরাদ্দ করা সার তোলেননি। এ কারণে ছোট মহেশখালী এলাকায় সারসংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #107  
Old January 31, 2012, 05:29 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

বয়স আমার হার মেনেছে
মুজিবুর রহমান, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) | তারিখ: ০১-০২-২০১২


৭৮ বছর বয়সে ছোটদের পড়াচ্ছেন আঙ্গুরবালা

আঙ্গুরবালা বয়সের ভারে খানিকটা ন্যুব্জ। ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না। বয়স ৭৮ পেরিয়ে গেছে। পান না বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা। বেঁচে থাকার কাছে বয়সকে হার মানিয়েছেন। জীবিকা নির্বাহে তিনি এ বয়সে প্রতিদিন টিউশনি (ছাত্র পড়িয়ে) করে চলেছেন। কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের জনতা নার্সারিতে বসবাসরত বৃদ্ধ আঙ্গুরবালার জীবনসংগ্রামের চিত্র এটি।
আবেগাপ্লুত আঙ্গুরবালার কথায়, তিনি ব্রিটিশ আমলে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন। পৈতৃক বাড়ি ছিল হবিগঞ্জ জেলার একটি গ্রামে। গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে তিনি। ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল একই জেলার রিচি গ্রামের অশ্বিনীকুমার রায়ের সঙ্গে। স্বামী শ্রীমঙ্গলে তখনকার মাড়োয়ারি দোকানে চাকরির সুবাদে এলাকা ছেড়ে চলে আসেন। ১৫-১৬ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র মেয়ে শিবানী রায়ের সঙ্গে শমশেরনগর জনতা নার্সারিতে চলে আসেন।

শিবানীকে সেখানের নিতাই বৈদ্যের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হলেও বছর তিন-চার ধরে তাঁর স্বামী অসুস্থ। শিবানী শমশেরনগর থেকে পার্শ্ববর্তী পতনউষার ইউনিয়নে জনতা নার্সারিতে ১২ বছর ধরে কাজ করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়ের সঙ্গে ১২ বছর ধরে আঙ্গুরবালাও ওই নার্সারিতে বসবাস করে শ্রীসূর্য ধোপাটিলা গ্রামে তিনটি টিউশনি করে কিছু আয় করে মেয়েকে সাহায্য করছেন। আঙ্গুরবালা বলেন, তিনটি টিউশনি করে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন।

বৃদ্ধ হয়েও বয়স্কভাতা না পাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে ভাতা পাইনি। বর্তমান মেম্বর দুবার ত্রাণের চাল ও একটি স্যানিটেশন ল্যাট্রিন দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সামনে সুযোগ এলে বয়স্ক ভাতায় নাম নিবন্ধন করে দেবেন।’

শিবানী রায় বলেন, মায়ের বয়স্ক ভাতা ও স্বামীর সহযোগিতার জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আবদুল করিম জানান, যখন বয়স্কভাতার তালিকা চাওয়া হবে, তখন সর্বপ্রথম আঙ্গুরবালার নাম দেওয়া হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুরজিৎকুমার পাল আশ্বাস দিয়ে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব বৃদ্ধ আঙ্গুরবালাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রকাশকান্তি চৌধুরী বলেন, সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে তিনি আঙ্গুরবালার জীবনসংগ্রামের কথা শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #108  
Old January 31, 2012, 05:38 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

৫৮ বছর বয়সে কম্পিউটার শিক্ষা
শেখার কোনো বয়স নেই
সুমেল সারাফাত, মংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি | তারিখ: ০১-০২-২০১২


কম্পিউটারে কাজ করছেন হোসনে আরা


হোসনে আরা

বয়স ৫৮ বছর। সেই বয়সে গ্রামের একজন নারী কম্পিউটার শিখছেন। বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার মিঠেখালী গ্রামের একজন হোসনে আরা। হোসনে আরার মুখ থেকেই শোনা যাক তাঁর কম্পিউটার শেখার গল্প...

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা থেকে এই গ্রামেরই মেয়ে সাদেকা হাসান তাঁদের বাড়িতে ‘আমার দেশ আমার গ্রাম’ নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের নিয়ে কাজ শুরু করলেন। আমাদের গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের প্রায় ১০০ জন মহিলা উপস্থিত হয়েছিলেন সেদিন। সবার মধ্যে আমিই ছিলাম সবচেয়ে বয়স্ক। সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি গ্রামের মেয়েরা বাড়িতে বসে কীভাবে উপার্জন করে ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন, সেই পরামর্শ চলছিল। গ্রামের বাজারে বা দোকানে না গিয়েও তাঁদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য যেমন নকশিকাঁথা, বিছানার চাদর, সালোয়ার-কামিজসহ বিভিন্ন হস্তজাত পণ্য কীভাবে কম্পিউটারের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন, সেগুলো দেখানো হচ্ছিল। আমি সেদিন প্রথম সরাসরি কম্পিউটার দেখলাম। এর আগে টেলিভিশনে দেখেছি। এ যন্ত্রটা কীভাবে কাজ করে, সেটা শেখার জন্য আমার অসম্ভব কৌতূহল হলো।

এরপর কাজ শুরু হলো। গ্রামের অনেক মেয়ে ও মহিলা তাঁদের হাতের কাজ নিয়ে নিয়মিত আসতেন। এরপর এ সেন্টারের সহযোগিতায় তাঁদের পণ্যের ছবি তুলে অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা করে দিত। ২০০৯ সালের শেষের দিকে এ সেন্টারে শুরু হলো কম্পিউটার শেখানো। কিন্তু কম্পিউটার শিখতে এল অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা। ফলে প্রতিদিন একবার করে ওই সেন্টারে গিয়ে বসে থাকলেও লোকলজ্জার ভয়ে বলতে পারলাম না যে আমারও কম্পিউটার শিখতে খুব ইচ্ছা করে।

একদিন আমার স্বপ্ন পূরণ হলো। সাদেকা হাসান ঢাকা থেকে তাঁর সেন্টার দেখতে এলেন। সেটা ২০১০ সালের ২৫ ডিসেম্বরের কথা। কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সময় আমাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে হঠাৎ করে বললেন, আপনি কি কম্পিউটার শিখতে চান? আমি একবাক্যে রাজি হয়ে গেলাম। কারণ গত একটি বছর তো আমি এ দিনটির অপেক্ষাতেই ছিলাম!

শেখার শুরুতে আমার অজানা একটা ভয় ও সংকোচ কাজ করত। সবার অনুপ্রেরণায় আমি এখন নিয়মিত কম্পিউটার শিখছি। এখানকার নারী সদস্যদের কম্পিউটার শেখানোর জন্য অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছি। এখন আমি বাংলায় কম্পোজ করতে পারি। যেহেতু ছোটবেলায় পড়াশোনা করতে পারিনি, তাই ইংরেজিতে টাইপ করা একটু কঠিন লাগে। তার পরও আমি শিখছি।

আমার দেশ আমার গ্রামের ব্যবস্থাপক ও শিরিয়া বেগম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের নারীরা এমনিতেই পিছিয়ে, গ্রামের নারীরা তো আরও বেশি। সেখানে হোসনে আরা নারীদের জন্য হয়ে উঠতে পারেন উজ্জ্বল উদাহরণ।

এফএসবি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদেকা হাসান বলেন, সুযোগ পেলে গ্রামের নারীরাও যে সামনে এগিয়ে যেতে পারেন, তার বাস্তব উদাহরণ হোসনে আরা। আমরা চাই সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জন্য সত্যিকার অর্থেই কাজ করে যেতে। যাতে বাংলাদেশে অজস্র হোসনে আরার জন্ম হয়। সরকার ও বেসরকারিভাবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা খুবই জরুরি।

হোসনে আরার চারটি সন্তান। তিন মেয়ে আর একটি ছেলে। তিন মেয়েই বিবাহিত। ছোট দুই মেয়েকেই তিনি এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়েছেন। ছেলে ঢাকায় উচ্চমাধ্যমিকে পড়ছে। তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য ছিলেন। স্বামী আবদুর রশিদ কৃষিকাজ করেন। কম্পিউটার শিখে হোসনে আরা এই সেন্টারের অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এ ছাড়া হস্তজাত শিল্প অনলাইনে তিনি বিক্রি করেন। এভাবে তিনি এখন মাসে প্রায় চার হাজার টাকার মতো আয় করেন।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #109  
Old February 3, 2012, 11:48 AM
roman's Avatar
roman roman is offline
Cricket Guru
 
Join Date: July 18, 2004
Location: New York
Favorite Player: Shakib, Tamim, Mash
Posts: 10,689

ভারতকে আমি ‘না’ বলছি, আপনি?


শাখাওয়াৎ নয়ন, অতিথি লেখক
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম


বিদেশে থাকি আট বছর। দেশে থাকাকালীন একটা পত্রিকা পড়তাম, ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন কয়েকটা পত্রিকা পড়ি। ফেইসবুকে, ব্লগে চোখ রাখি। কারণ একটাই। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য মনটা কাঁদে। কয়েকদিন হল ইউটিউবের একটি লিংক ফেইসবুকে ভাইরাল ভিডিওতে (যে সব ভিডিও দ্রুততম সময়ে সর্বাধিক প্রদর্শিত হয়) রূপ নিয়েছে। ভিডিওটি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক একজন বাংলাদেশিকে পাশবিক নির্যাতনের।

সাধারনত: সহিংসতা, খুনাখুনি, রক্তারক্তি জাতীয় ভিডিও কিংবা ফটো দেখি না। আমার ভীষণ খারাপ লাগে। সেই খারাপ লাগা কয়েকদিন পর্যন্ত চলতে থাকে। কিন্তু গতকাল কবি, ঔপন্যাসিক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের ফেইসবুক স্ট্যাটাস পড়ে আমার টনক নড়ল। তারপর বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কমের সাংবাদিক জাকিয়া আহমেদের ফেইসবুকে দেখলাম ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহবান। শেষ পর্যন্ত ছোট ভাই রোমেলের ফেইসবুক থেকে ভিডিওটি দেখলাম। না, পুরো ভিডিওটি দেখতে পারিনি। কিভাবে দেখবো? কোনো সভ্য মানুষ এতটা নীচে নামতে পারে। বাকরুদ্ধ, নির্বাক কেটে গেল অনেকক্ষণ।

এমনিতেই দেশের সংঘাতময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা রকম খবরে মনটা বিষিয়ে থাকে। তার ওপরে ভারতীয়দের নানা রকম বৈষম্য, অন্যায়, নব্য উপনিবেশিকতা, সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতা, সীমান্তে ইতর প্রাণীর মত বাংলাদেশিদের হত্যা, পুশ ইন-পুশ ব্যাক, ফারাক্কা, তিস্তার পানি ডাকাতি, টিপাইমুখের বাঁধ আরো কত কী। সবদিক থেকেই যেন বাংলাদেশকে হাতের পুতুল এবং বাংলাদেশের মানুষকে পশু গণ্য করা হয়। ইচ্ছে হলেই গুলি করে, মানুষ মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে, মানুষকে নগ্ন করে ভয়ঙ্কর পাশবিক নির্যাতন করে, তালপট্টি দখল করে নেয়াসহ এমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই যাতে ভারতকে বন্ধু রাষ্ট্র মনে হতে পারে। এত কিছুর পরেও যারা ভারতকে বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশি দেশ মনে করার যুক্তি একটাই ‘মুক্তিযুদ্ধকালী ভূমিকা।’ তাদের জন্য বলতে চাই, আমরা যেমন স্বাধীনতা চেয়েছি, ভারতও তেমনি পাকিস্তানের বিভক্তি চেয়েছে।

সুতরাং ১৯৭১ সালে উভয়েরই স্বার্থ ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছে, তারাও কম পায়নি। বিগত ৪০ বছরে ভারত বাংলাদেশের ওপর যেভাবে জেঁকে বসেছে, তাতে ভারত ক্রমবর্ধমানভাবে লাভবান হচ্ছে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ভয়াবহ। বাংলাদেশ ভারতের লাভের বাজারে পরিণত হয়েছে। ঔপনিবেশিকতা ছাড়া এতখানি লাভের বাজার পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুর্লভ।

এত গেল দেশের কথা। অস্ট্রেলিয়াতে বিভিন্ন সময় ভারতীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়। বিশেষ করে অধিকাংশ ভারতীয়দের বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা খুবই অদ্ভুত। তারা কেউ মনে করে আমাদের মাতৃভাষা হিন্দি, কেউ মনে করে উর্দু। দেখা হলে হিন্দিতে কথা বলা শুরু করে। ইংরেজিতে উত্তর দিলে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, জিজ্ঞেস করে- কেন হিন্দিতে কথা বলছি না? নিজেদেরকে ‘কী জানি কি (!) গণ্য করে।’ বাংলাদেশিদেরকে তুচ্ছজ্ঞান করার প্রবণতা পাকিস্তানিদের মধ্যেও দেখেছি। কিন্তু এমন হামবরা ভাব অস্ট্রেলিয়ান কিংবা অন্য কোনো জাতির মধ্যে কখনই দেখিনি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ে ভারতের প্রতি যতখানি ইতিবাচক হয়েছিলাম, এতসব দেখে দেখে ততখানিই বীতশ্রদ্ধ হয়েছি। কেউ যদি এই লেখা পড়ে আমাকে কোনো রাজনৈতিক দলের লোক মনে করেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি বিশ্বাস করি, ২০১২ সালের বাংলাদেশে আমার মত লাখো-কোটি তরুণ আছে। তারা কারো দালালী, কারো তাঁবেদারী পছন্দ করে না। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। তারা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, ভারত-পাকিস্তান প্রীতি পছন্দ করে না। জঙ্গিবাদের বিনাশ চায়। দুর্নীতিসহ সকল রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরোধী। তারা একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, প্রযুক্তিতে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। নিজের দেশকে নিয়ে তারা স্বপ্ন দেখে। তারা কেউ অবিভক্ত পাকিস্তানে কিংবা বৃটিশ ভারতে জন্মগ্রহণ করেনি। তারা স্বাধীন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী। এই নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের ভাষা, প্রত্যাশা আপনাদের বুঝতে হবে।’

নতুন প্রজন্ম মনে করে, নিজের দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার সময় এসেছে। বাংলাদেশ এখন আর তৃতীয় বিশ্বের মহাসংকটাপন্ন, ভিখিরির দেশ তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। মাথা পিছু আয় দ্রুত হারে বাড়ছে। বেকারত্ব, দারিদ্র্য কমছে। তরুণ প্রজন্ম কম্পিউটার প্রশিক্ষিত হচ্ছে। আগামী দশ বছরে বাংলাদেশের প্রধান আয়ের খাত হবে কম্পিউটার প্রশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের মেধা। আউটসোর্সিং ইতিমধ্যেই ঈর্ষণীয় সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছে। ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেই বাংলাদেশ হতে পারে পৃথিবীর ইতিহাসে একটি উদাহরণ।

সুতরাং প্রতিবাদেরও সময় এসেছে। আমরা ভারতের তুলনায় সামরিক শক্তিতে দুর্বল হতে পারি কিন্তু মানসিক এবং মানবিক শক্তিতে দুর্বল নই। বিগত চল্লিশ বছরে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারগুলো ভারতীয় ব্যানার্জী, মুখার্জিদেরকে ‘জ্বি’ বলতে বলতে কিভাবে ‘না’ বলতে হয় তা ভুলে গেছে। ভারতীয়দের ব্যাপারে সরকারের কোনো উদ্বেগ উৎকণ্ঠা নেই। যেহেতু সব সরকারই ভারতের কম-বেশি তাঁবেদারি করে কিংবা করতে চায়, তাই যা কিছু করার দেশের সচেতন জনগণকেই করতে হবে। এই মুহুর্তে ভারতীয় পণ্য বর্জনের যে আওয়াজ তোলা হয়েছে, আমাদের সকলেরই তাতে সমর্থন জানানো, অংশগ্রহণ করা নাগরিক এবং নৈতিক দায়িত্ব। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উচিৎ বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয়দের পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক ফোরামে প্রতিবাদ করা। তারা এসব বিষয়ে নীরব কেন? আমি বুঝতে পারছি না।

আমরা হয়তো সকল ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নই। কিন্তু তাতে কী? আমরা যেভাবে পারি সেভাবেই প্রতিবাদ করব। এই মুহুর্তে অন্যতম উপায় হচ্ছে, ভারতীয় পণ্য বর্জণ করা। এই ব্যবস্থায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা হারাবে। আর তখন ওই ব্যবসায়ীরাই ভারতীয় সরকারকে বোঝাবে, বাংলাদেশীদের সাথে কী আচরণ করা উচিৎ? তিস্তার পানি দিবে কি দিবে না? টিপাইমুখে বাঁধ দিবে কিনা? সীমান্তে মানুষ মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখবে কিনা? এই সভ্যযুগেও একজন মানুষকে উলঙ্গ করে নিষ্ঠুরতম পাশবিক নির্যাতন করবে কিনা?

প্রিয় পাঠক, আমি অস্ট্রেলিয়ায় থাকি। এখানে বাংলাদেশ থেকে কোনো চাল আসে না। তাই এতদিন ভারতীয় চাল কিনে খেতাম। আজ আমি ভারতীয় চাল কিনি নাই, থাইল্যান্ডের চাল কিনেছি। আমি সকল ক্ষেত্রেই তাই করবো। আপনি?


http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=b3c164f720095d930d6acd5473eb5 26f&nttl=2012012910454384782

__________________
The mind is like a parachute, it only works when open.....Thomas Dewey
Reply With Quote
  #110  
Old February 11, 2012, 12:58 AM
PoorFan PoorFan is offline
Moderator
 
Join Date: June 15, 2004
Location: Tokyo
Posts: 14,333

When I saw her first time live on TV in 1991 in Tokyo, and several time later on TV, never thought of she going such life threatening straggle! I was fully aware of Algerian situation at that time, but yet thought still they are allowing women athelets in sports or Olympic! I guess i was completely wrong.

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------

11 February 2012 Last updated at 00:58 GMT
Share this page
Share this page


33Hassiba Boulmerka: Defying death threats to win gold

By Chloe Arnold BBC News, Algiers

Continue reading the main story In today's Magazine
Twenty years ago this summer, Algeria's Hassiba Boulmerka ran to victory at the Barcelona Olympics. Her achievement wasn't just her country's first Olympic gold - she showed women everywhere how they could overcome prejudice to achieve their goals.

On the shelves of her spacious office near the capital, Algiers, are dozens of trophies that Hassiba Boulmerka won during her sporting days.
Above them hang photographs of her with sporting legends - the Ethiopian long-distance runner Haile Gebrselassie, the British athlete Jonathan Edwards - and world statesmen, including Nelson Mandela.

In Algeria, Boulmerka is hailed as the country's greatest athlete. She took the gold medal for the 1500m at the World Championships in 1991 and Olympic gold the following year.
But this was at a time when Islamist militancy was on the rise in Algeria, and some radicals thought the racetrack was not the right place for a woman.
Continue reading the main story “Start Quote
There were police everywhere... they even came with me to the bathroom!”
End Quote Hassiba Boulmerka
She received death threats and in the run-up to the Barcelona Olympics it became too dangerous for her to train in her own country.
"That year I didn't run a single race [in Algeria]," she remembers. "It was simply too risky. I could have been killed at any moment."
Boulmerka's story begins in Constantine, a tumbledown city built by the Romans in the east of Algeria.

The fourth of seven children, she began running seriously at the age of 10, in 1978, and soon she was picking up medals at regional, national and international levels.
Her big breakthrough came in Tokyo in 1991, when the Constantine gazelle, as she had been dubbed, won the 1500m at the World Championships.
"Arriving back in Algiers, we were met by thousands of supporters," Boulmerka says.
She and fellow athlete Noureddine Morceli were driven through the capital in an open-topped car through streets thronged with well-wishers. "The atmosphere was electric," she says.
Fist of victory

But Algeria was changing. A botched election in 1992 saw the beginnings of a civil war in Algeria that was to claim more than 250,000 lives.
Continue reading the main story Find Out More



  • Hassiba Boulmerka was interviewed for Sporting Witness on BBC World Service
As government security forces battled Islamist militants, Boulmerka, too, became a target.

"I remember it well," she says. "It was Friday prayers at our local mosque, and the imam said that I was not a Muslim, because I had run in shorts, shown my arms and my legs. He said I was anti-Muslim."
Boulmerka and her family started to receive death threats, graffiti appeared denouncing her as a traitor and she was forced to move to Berlin to continue her training.
In the weeks before the Olympic Games, she severed all ties with her family in order to focus on the race.
In fact, she says, it wasn't that difficult to do: the militants had blown up the central telegraph office in Constantine, and all the telephone lines were cut.
Twenty years on, Hassiba Boulmerka is now a successful businesswoman
Boulmerka arrived in Barcelona only on the eve of her races. She had taken a circuitous route via Oslo. The next day she was escorted to the stadium under armed guard.

"There were police everywhere," she says. "In the stadium, in the changing rooms - they even came with me to the bathroom!"
The 1500m final began at dusk on 8 August 1992. To start with, Boulmerka hung back in second place. But with half a lap to go she strode ahead of her rival, Lyudmila Rogacheva, easily beating the astonished Soviet athlete to the finishing line.

"As I crossed the line, I thrust a fist into the air," Boulmerka recalls. "It was a symbol of victory, of defiance. It was to say: 'I did it! I won! And now, if you kill me, it'll be too late. I've made history!'"
Standing on the podium later that evening to receive Algeria's first ever Olympic gold medal, she tried hard not to cry.
"I tried to hold myself together, to be brave," she says, "but the tears just started to fall. They were tears of sacrifice, for all the people I loved that I had abandoned for this race."

Making history
Her return from Barcelona was nothing like the victory tour she had received the previous year. The country was in the grip of war. She also learned that her father had suffered a stroke and slipped into a coma.
Boulmerka continued running, despite the danger

"My father worried a lot about me - it was an enormous stress for him," she says. "I knew that what I was doing was an incredible burden for him."
Boulmerka won a bronze medal at the World Championships in 1993, and gold again in 1995.
But she never repeated her Olympic victory. For a while she moved to Cuba to escape the threat to her life, but later she returned to Algeria.

"I never thought of leaving for good," she says. "Algeria is my life, my roots, my family, my friends. I could never give those things up."
But eventually she did give up running, and today she is a successful businesswoman. These days, there's little sign of the Constantine gazelle. "I like to eat well!" she says.

She spends a lot of time with her father, who made a slow but full recovery from his stroke.
But her sporting achievements will never be forgotten in Algeria. As she sees it, her victory in Barcelona wasn't just the first Olympic gold for her country.
"It was a triumph for women all over the world to stand up to their enemies," she says. "That's what made me really proud."

Source BBC
Reply With Quote
  #111  
Old February 14, 2012, 01:01 AM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869


স্কুল থেকে জানিয়েছে পড়ালেখায় অমনোযোগিতার কারণে ফালানীকে আর রাখা হবে না। এ কথায় যেন বাজ পড়ে মায়ের মাথায়। নিজে লেখাপড়া না করলেও কাজ ফেলে ফুটপাতের ধারে ফালানীকে লেখানোর চেষ্টা করছেন এই মা। ছবিটি রাজধানীর পান্থপথের ফুটপাত থেকে তোলা।
ছবি: জাহিদুল করিম
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #112  
Old February 14, 2012, 01:04 AM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

যীহিক্সেল বালার চাতাল স্কুল
--------------------------------------------------------------------------------
একরামুল কবীর, জেলা প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম



গোপালগঞ্জ: সিমেন্ট বাঁধানো ধানের চাতাল। সন্ধ্যা নামলেই শহরের নানা প্রান্ত থেকে শিশুরা সেখানে জড়ো হয়। ওদের কল-কাকলীতে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। এ যেন অন্ধকার রাতে তারার মেলা।

দারিদ্র্যের কারণে ওদের জামা-কাপড় অপরিচ্ছন্ন, চেহারা মলিন। কিন্তু শিক্ষার আলোয় ক্রমেই উজ্জ্বল হয়ে উঠছে মেধা ও মনন।

যীহিক্সেল বালার নৈশ চাতাল স্কুল ‘পথশিশু নিকেতন’ তাদের জীবনকে এভাবে পরিবর্তন করছে। গোপালগঞ্জ শহরের টোকাই শিশুদের স্বাস্থ্য-শিক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্কুলটি।

এ স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী চাতাল শ্রমিক পরিবারেরর সন্তান। শুক্রবার বাদে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় বসে এ স্কুল। চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। জাতীয় সংগীত ও স্কুল সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পাঠদান।

যীহিক্সেল বালা সামান্য টেম্পুচালক। কিন্তু তিনি স্থাপন করেছেন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ২০১০ সালের ৪ অক্টোবর শহরের বেদগ্রামের ফায়ার সার্ভিস রোডের বিসিক শিল্প নগরীর কাছে লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামের ধানের চাতালে স্কুলটির কার্যক্রম শুরু করেন।

৪৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। ২ বছরের ব্যবধানে বর্তমানে ১৫৩টি টোকাই শিশু এখানে পড়ালেখা শিখছে। এর মধ্যে শিশু শ্রেণীতে ৩৭ জন, প্রথম শ্রেণীতে ৫৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১৯ জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ১৭ জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ১৭ জন, পঞ্চম শ্রেণীতে ৭ জন এবং ষষ্ঠ শ্রেণীতে ১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

তবে স্কুলটির নেই কোনো ঘর। চট বিছিয়ে একটি মাত্র লাইটের আলোয় এসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা যীহিক্সেল বালা নিজে টেম্পু চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি নিজে এবং সামান্য বেতনে ২ জন শিক্ষক দিয়ে মহৎ কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি বা ঘন কুয়াশায় বন্ধ রাখতে হয় স্কুলটি।

যীহিক্সেল বালা বাংলানিউজকে জানান, প্রথমে চাতাল শ্রমিকদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এ স্কুল শুরু করেন। পরে আশপাশের দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়ে ও টোকাইয়ের কাজ করতো এমন শিশুদের বুঝিয়ে স্কুলে আনা হয়েছে।


এতে শহরের টোকাই অনেকটা কমে গেছে। টোকাই কমার কারণে ছোট-খাটো চুরিও কমেছে। স্কুলটিতে সরকারি-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান করা হয়।

তিনি জানান, জেলা শিক্ষা অফিস থেকে সরকারি পাঠ্য বই দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। পাঠদান শেষে স্কুলে শিক্ষার্থীদের টিফিন দেওয়া হয়। প্রতিমাসে একবার শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হয়।

এ স্কুলে পড়ে অনেক ছেলে-মেয়ে এখন টোকাইয়ের কাজ ছেড়ে বিভিন্ন ছোট-খাটো ব্যবসায় নেমেছে। টেম্পু চালকের আয়ের টাকায় এ স্কুলের কার্যক্রম চলছে। তিনি আয়ের অর্ধেক টাকা ব্যয় করেন স্কুলে। তার নিজের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়।

যীহিক্সেল বালার স্ত্রী একটি খ্রিস্টান মিশনারিজ স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দুইজনের আয়ে চলে তাদের সংসার। স্কুলটি চালাতে এ মানুষটিকে খুব কষ্ট পোহাতে হয়। তারপরও তিনি মহান ব্রত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

স্কুলটির শিক্ষার্থী আলী আকবর, মামুন, ফাতেমা, খায়রুল বললো, ‘আগে আমরা শুধু টোকাইয়ের কাজ করতাম। সবাই আমাদের টোকাই বলতো। লেখা-পড়া জানতাম না। সারা শহর টুকিয়ে ৪০-৫০ টাকা আয় হতো’।

ওদের ভাষায়, ‘চাতালে স্কুল হওয়ায় আমরা পড়া লেখা শিখছি। এখন আমরা নাম-ঠিকানা লিখতে পারি। আর এটা সম্ভব হয়েছে যীহিক্সেল স্যারের আশীর্বাদে’।


অভিভাবক মমতাজ বেগম, দিপু দত্ত, লাভলী বেগম, রেহানা বেগম, নাজমা বেগম ও রিপন মোল্যা বলেন, ‘চাতালে কাজ করে সন্তানদের তিন বেলা খাবার দিতে কষ্ট হয়। তাই ওরা যা আয় করে, সব মিলিয়ে কষ্টে দিন চলে যায়। এতোদিন বাচ্চাদের পড়া-লেখা শেখাতে পারিনি। যীহিক্সেল স্যার আমাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে একটি নৈশ স্কুল করেছেন। এখন সবারই বাচ্চা ওই স্কুলে পড়ে। এখন ওরা দেশের জন্য কিছু করতে পারবে’।

প্রতিষ্ঠাতা যীহিক্সেল বালা বললেন, ‘অনেক ছোট ছোট শিশু বাজার, রাস্তা-ঘাট ও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সবজি, কাগজ, পলিথিন, পুরনো জিনিসসহ অন্যান্য মালামাল কুড়িয়ে নিয়ে ভাঙ্গাড়ির (পুরনো মালামালের আড়ত) দোকানে বিক্রি করে। এভাবে সারাদিন পরিশ্রম শেষে ৩০৪০ টাকা আয় করে’।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় তারা ছোট-খাট চুরির সঙ্গে জড়িয়ে মারপিটের শিকার হয়। এ সব ঘটনা অনেক বার আমার সামনে ঘটেছে। তখন থেকেই আমার চিন্তা ছিল এসব শিশুর জন্য কিছু করার। তাই ২০১০ সালে টোকাই শিশুদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পথশিশু নিকেতন নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করি’।


‘তখন শুধু টোকাই শিশুরা পড়াশোনা করলেও বর্তমানে কিছু হতদরিদ্র পরিবারের শিশুও এখানে পড়াশোনা করছেন। এখন আমি অনুভব করছি ওদের জন্য একটি স্থায়ী স্কুল দরকার। এ কাজে আমি সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছি’।

গোপালগঞ্জর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাস বাংলানিউজকে বলেন, ‘ছিন্নমূল পরিবারের শিশুরা টোকাই। অনেকের বাবা-মা তাদের খোঁজ-খবর রাখেন না। অনেকের বাবা-মার বিচ্ছেদ হয়েছে। তারা আবার বিয়ে করেছেন। তাদের দেখার কেউ নেই’।

তিনি জানান, এসব শিশুদের নিয়ে একটি স্কুল করেছেন যীহিস্কেল বালা। প্রথমে তিনি একাই উদ্যোগ নিলেও পরে কিছু লোক তাকে সামান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর (শুক্রবার ব্যতীত) এদের ২ ঘণ্টা শিক্ষা দেওয়া হয়। চলে পড়া-শোনা ও গান-বাজনা ও গল্প।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এদের মধ্যে যারা ভালো, তাদের বিকেলে সরকার পরিচালিত শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট স্কুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। যাতে তারা সম্পূর্ণভাবে প্রাতিষ্ঠান শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে’।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১২
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #113  
Old February 14, 2012, 02:13 AM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

হূদয়ের ‘চকলেট পাঠশালা’
সুমন মোল্লা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) থেকে ফিরে | তারিখ: ১০-০২-২০১২


বাড়ির পাশে গাছতলায় শিশুদের পাঠদান করছেন হূদয়
ছবি: প্রথম আলো

গণ্ডগ্রামটির অধিকাংশ মানুষই জুতার কারিগর! পড়াশোনার চল এখানে নেই বললেই চলে। প্রাথমিকের পাট চুকিয়ে মাধ্যমিকে গেছে এমন লোক এখানে খুঁজে পাওয়া কঠিন। যে বয়সে শিশুদের হাতেখড়ি ওঠে, সে বয়সি শিশুদের জুতার কারিগর বানাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় ভোমর (জুতা সেলাইয়ের সুঁইবিশেষ)। কান্দিগ্রামের মানুষগুলো তাই দারিদ্র্য ও অশিক্ষার নিগড়ে বাঁধা পড়েছিল। এটি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া একটি গ্রাম।

গ্রামের মানুষকে আলোর পথ দেখাতে এগিয়ে আসেন এক তরুণ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বোঝালেন। শিশুদের নিয়ে এলেন খোলা আকাশের নিচে, গাছতলায়। ব্ল্যাক বোর্ডে অ, আ, ক, খ, লিখে শেখানো শুরু করলেন। ২৫ জন শিশু নিয়ে গাছতলার সেই পাঠশালার যাত্রা শুরু বছর ছয় আগে। আজ সেই পাঠশালায় ছাত্রছাত্রী ১০৮ জন। রোজ দুই ঘণ্টা করে শিশুদের পড়ান সেই তরুণ। শুধু পড়িয়েই ক্ষান্ত হননি। শিশুদের পাঠশালামুখী করতে তাদের হাতে তুলে দেন চকলেট। সবই করেন নিজ খরচায়। নাম তাঁর হূদয়, পুরো নাম মোবারক হোসেন (২৩)। শিশুদের তো বটেই, গ্রামবাসীর হূদয়েও আলাদা ঠাঁই করে নিয়েছেন কান্দিগ্রামের হূদয়।

সাত ভাইবোনের মধ্যে হূদয় চতুর্থ। বড় ভাইদের মতো তাঁকেও জুতার কারিগর বানাতে চেয়েছিলেন মা-বাবা। তা না হয়ে নিজ চেষ্টায় পড়াশোনা করেন। আর্থিক অনটনে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া হয়নি হূদয়ের। মনে গোপন একটা দুঃখ রয়ে যায়। সেই দুঃখবোধ থেকেই পাঠশালার জন্ম।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে কুলিয়ারচরের ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ডের দূরত্ব সাত কিলোমিটার। ছয়সূতি থেকে ডুমুরকান্দা বাজার সড়ক ধরে সামনে এগোলেই হূদয়ের পাঠশালার দেখা মিলবে। নিজ বাড়ির পাশে গাছতলায় শিশুদের পড়ানোয় মগ্ন দেখা গেল হূদয়কে। তিনি বলছেন, ‘অ-তে অজগর, আ-তে আম, ক-তে কলা, খ-তে খেলা।’ শিশুরাও সুর করে শিক্ষকের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছে।

হূদয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কান্দিগ্রাম ও এর লাগোয়া শ্যামাকান্দি, মাইজপাড়া গ্রামের ছেলেমেয়েরাও তাঁর এখানে পড়তে আসে। এখান থেকে অক্ষরজ্ঞান লাভের পর অভিভাবকেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করান। প্রাথমিক বিদ্যালয় এখান থেকে দুই-আড়াই কিলোমিটার দূরের পথ। শিশুদের ভর্তি করানোর কাজটি তিনি নিজেও করেন। সরকারি ছুটি ও অসুস্থতা ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঠদান চলে এখানে। শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকে পাঠশালা। পাঠদান চলে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত। রোজ কম করে হলেও ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী পাঠশালায় আসে।
প্রতিদিন নাম ডাকা, কয়েক মাস অন্তর পরীক্ষা নেওয়া—সবই হয় এখানে। বিনিময়ে কোনো টাকা-পয়সা নেন না হূদয়। উল্টো প্রতি বৃহস্পতিবার শিশুদের মধ্যে চকলেট দেন। এসব করতে গিয়ে প্রতি মাসে তাঁর পকেট থেকে সাত-আট শ টাকা বেরিয়ে যায়। ওই টাকা তিনি গৃহশিক্ষকতার কাজ করে জোগান।


তরুণ এই শিক্ষকটি শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সাড়ে চার বছর বয়সী শিক্ষার্থী পান্না বলে, ‘হূদয় স্যার ভালা। চকলেট দেয়। আদর করে।’ আবেদ ও কেয়া বলে, ‘মেঘ আইলে ভিজে যাই। তখন স্যার স্কুল ছুটি দিয়া দেয়।’

হূদয়ের মা নাহুদা খাতুন বলেন, ‘শুরুতে পাগলামি মনে অইছে। এখন গ্রামের লোকজন ভালোই তো কয়।’

স্থানীয় ছয়সূতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলে এলাহী বলেন, ‘কিছু দিন আগে হূদয়কে নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের এক সভায় আলোচনা হয়েছে। ইউএনওর পরামর্শে পাঠশালাটি দেখতে গিয়েছিলাম। সব দেখে ভালো লাগল। তার এই কাজে সমাজের লোকজনের এগিয়ে আসা জরুরি।’


গ্রামের বয়োবৃদ্ধ আবদুল হাসিম বলেন, ‘অশিক্ষিত মানুষ হইল পচা হামুকের (শামুক) মতো। পচা হামুক যেমন আশও (হাঁস) খায় না, তেমনি অশিক্ষিত মানুষ রে কেউ দাম দিতে চায় না। আমরার হূদয় গেরামের পোলাপাইন রে বিদ্যা শিখাইয়াতেছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হূদয়ের পাঠশালাটি সম্পর্কে শুনেছি, তবে দেখা হয়নি।’

মানুষের হূদয়ে থাকা হূদয়ের কষ্ট অবশ্য অন্য জায়গায়। প্রকৃতির কাছে হার মানতে হয় তাঁকে। কারণ, তাঁর পাঠশালাটি যে গাছতলায়। বৃষ্টিকে আটকানোর সাধ্য যে তাঁর নেই।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #114  
Old February 14, 2012, 02:17 AM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

তাহেরুলের ‘বিনা পয়সার পাঠশালা’
--------------------------------------------------------------------------------
সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম


ঈশ্বরদী: সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যান মানুষের জন্য, কাজ করে যান আপন উদ্যোগে। বিবেকের তাড়নায় কাজ করে যান সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য। একমাত্র মৃত্যুই রুখে দিতে পারে তাদের এ পথচলা, অন্য কেউ নয়। এমনই একজন সাদা মনের মানুষ তাহেরুল ইসলাম।

ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ‘বিনা পয়সার পাঠশালা’। তার এ প্রচেষ্টায় হতদরিদ্র ৩০ পরিবারের শিক্ষাবঞ্চিত শিশুরা এখন পড়ালেখা করতে পারছে বিভিন্ন স্কুলে। শিক্ষার আলোবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে আলো ছড়াচ্ছে তার পাঠশালা।

ঈশ্বরদীর সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা তাহেরুল ইসলাম। স্ত্রী তাহেরা খাতুন, পেশায় তিনিও শিক্ষক। দেশের বিভিন্ন স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ ৩৯ বছর। বছর দুয়েক আগে অবসর নেন দু’জনই। কিন্তু শিক্ষকতার নেশা কাটে না সাদা মনের এ তাহেরুলের।

অবসর জীবনে অযথা বসে না থেকে পাড়ায় বেরিয়ে পড়েন সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র শিশুদের খোঁজে। মাস কয়েক এভাবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে খুঁজে বের করেন সুবিধাবঞ্চিত ৩০ শিশুকে। যারা স্কুলে ভর্তি তো দূরের কথা এমনকি বাড়িতে পড়ালেখা করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত।

নিজের পেনশনের টাকা ব্যয় করে এদের বই, খাতা-কলম কিনে দেওয়া, লেখাপড়া শেখানো এবং স্কুলে ভর্তি করার ব্যবস্থা নেন তিনি।

তাহেরুল দম্পতির সন্তান সংখ্যা ছিল পাঁচ। পাঁচটিই মেয়ে। এদের মধ্যে এক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৪ মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই।

বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ থাকেন না। তার বসবাড়িকে পরোপকারে কাজে লাগাতেই বাড়ির ছাদে ওই শিশুদের পড়ালেখা শেখানোর ব্যবস্থা নেন তিনি।

তাহেরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, প্রথম দিকে গ্রামের যেসব পরিবারের শিশু স্কুলে যায় না, লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের বাড়িতে গিয়ে লেখাপড়ার উৎসাহ দিতেন। এতে তেমন একটা কাজ হতো না।

এরপর তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের একটা-দু’টো বই যোগাড় করে দিয়ে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যেতো তারা তেমন একটা আগ্রহী হচ্ছে না।

পরে তিনি ওই শিশুদের নিজের বাড়িতে ডেকে ডেকে সকাল-বিকেল পড়ানো শুরু করেন।

সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিশুদের জন্য পুরোনো বই যোগাড় করা শুরু করেন তিনি। গড়ে তোলেন স্কুলের আদলে নিয়মমাফিক পড়ালেখা শেখানোর একটি প্রতিষ্ঠান।

পরে পেনশনের টাকা তুলে সেই টাকায় সবার জন্য বই-খাতা কিনে ক্লাস নেওয়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে এদের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন তিনি।

এখন তারা প্রথম শ্রেণী থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে বিভিন্ন স্কুলে।

স্কুলে যাওয়ার আগে এরা সবাই তাহেরুল স্যারের কাছে ক্লাস করে তারপর স্কুলে যায়। আবার স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে তাহেরুল স্যারের কাছে পরের দিনের পড়া তৈরী করে বাড়ি ফেরে।

এই শিশুদের কারো বই ছিঁড়ে গেলে তিনি নিজেই সেলাই করে দেন। কখনোবা সাইকেল চালিয়ে শহরের কোন বাঁধাই ঘরে গিয়ে নিজের টাকায় বইটি বাঁধাই করে দেন।

এভাবেই চলছে তাহেরুলে স্যারের পাঠশালা।

দিনের বেলায় তিনি বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে পরখ করেন- এই অবহেলিত শিশুরা স্কুলে ঠিকমতো উপস্থিত হচ্ছে কিনা কিংবা স্কুলে লেখায়পড়ায় ফাঁকি দিচ্ছে কিনা।

তার স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাহেরা খাতুন বাংলানিউজকে জনান, ‘আমাদের কোনো ছেলে নেই। মেয়েরাও সবাই শ্বশুর বাড়ি থাকে। তাই বাড়িতে এসব অবহেলিত শিশুরা যখন পড়াশোনার পাশাপাশি দুষ্টুমি করে তখন এদের দেখে মনে হয় এরা আমাদেরই সন্তান।’

স্বামীর মহৎ কাজে সবসময় সহযোগিতা করেন তিনি। বিশেষ করে এসব শিশুকে মাঝে মধ্যে খাওয়ানো, বাড়ির বিভিন্ন গাছের ফল পেড়ে দেওয়া, ঈদের সময় নতুন কাপড় কিনে দেওয়াসহ নানা কাজ করে অনেক আনন্দ পান বলে জানান তাহেরা খাতুন।

সাদা মনের মানুষ তাহেরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘১৯৭৩ সালে সাঁড়া গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু আমার। এরপর বিভিন্ন স্কুল ঘুরে রুপপুর সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালের ২৮ এপ্রিল অবসর নিই। তখন আমার বুক ভেঙে কান্না এসেছিল। ভাবতাম, অবসর জীবন কাটবে কীভাবে। এখন শিশুদের লেখাপড়া করাতে গিয়ে মনে হয় আরও আগে অবসর নিলেই ভালো হতো।’

ঈশ্বরদী এক নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া বাংলানিউজকে জানায়, তার বাবা সকিম উদ্দিন বেবিট্যাক্সি চালক। মেয়ে হওয়ায় তার বাবা তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেননি। তাহেরুল স্যার এটা জানতে পেরে তাকে স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। এখন পড়ালেখা করতে পেরে খুব খুশি সুমাইয়া।

একইভাবে, পাতিবিল এলাকার রেলের জমিতে বসবাসকারী রওশন আরার ছেলে সাঁড়া গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র রুবেল।

রুবেল বাংলানিউজকে জানায়, বাবা আব্দুল আজিজ দীর্ঘদিন ধরে জেলে থাকায় মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এ অবস্থায় তাকে স্কুলে পাঠাতে না পারলে তাহেরুল স্যার তাকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন।

রিকশাচালক আকরাম হোসেনের মেয়ে পাখি এবার সাঁড়া গোপালপুর স্কুলে ১ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে।

আকরাম বাংলানিউজকে বলেন, ‘মেয়েকে যে স্কুলে ভর্তি করতে হবে একথা আমার মনেই আসেনি।’ তাহেরুল স্যারের উদ্যোগে মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

এলাকার মুরুব্বি আজমত হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এসব ছেলেমেয়ে তাহেরুলের আদর্শে পড়ালেখা শিখে প্রত্যেকেই এখন স্কুলের শিক্ষকদের কাছে ভালো ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে পরিচিত।

প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, তাহের স্যার উদ্যোগ না নিলে হয়তো এসব শিশুদের পড়ালেখা কিংবা স্কুলে যাওয়াই হতো না।

সবাই তাহেরুল স্যারের এই মহতি উদ্যোগকে স্যালুট করেন বলে জানান এলাকাবাসী।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #115  
Old February 14, 2012, 06:20 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Tomato brings them fortune
Tale of lucky 35 Lalmonirhat growers
S Dilip Roy, Lalmonirhat

Farmers at Karnopur village under Mogholhat union in the Sadar upazila are happy as they are getting good profit from tomato farming this season. All the 35 growers in the village also got a better output than the last years.

Abul Hossain,52, of the village said,” I have cultivated only one bigha this season and harvested around 20 maunds of tomato a week. I got Tk 18 thousand from selling tomato last week. Each maund was sold at Tk 1000 to 800.”

“I hope I will get more 10 to 12 maunds of tomato a day from my land for the next 20 days,” he said.

Tomato grower Mozammel Haque,47, said he spent aroundTk 4 thousand for cultivating tomato on one bigha of land. He himself, his wife and two sons took care of the field.

“I cultivated paddy on the land last year and got only one thousand taka profit. But the same land gave me an unexpected profit this year,” he said.

Monsur Ali,42, another tomato grower at Karnopur village said that his family members hope to purchase cropland with the profit money this season.

“We cultivated tomato on two bighas and we now plan to cultivate it on more land," he said.

Abdul Mazid,42, said all the 35 tomato farmers at Karnopur village cultivated tomato this year and all of them got high profit from the winter vegetable.

A few who did not cultivate tomato at the village came to meet me and learn about tomato farming in their land, he said.

Around 250 bighas of land saw tomato farming in the district this year. Of those, 110 bighas are at Karnopur village, an agriculture official said.

Mohammad Nuruzzaman, Lalmonirhat Sadar upazila agriculture officer said the farmers got bumper yield of tomato this year due to favourable weather condition and good seeds.

“All the 35 tomato growers of Karnopur village always kept in touch of my office. I myself and other field level officials of the department always gave them necessary advice."

Karnopur villagers have been cultivating some common vegetables in the last few years. But the farmers here have changed their mind this year which brought them fortune.
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #116  
Old February 14, 2012, 06:23 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Wednesday, February 15, 2012
Nothing can shatter dreams of Dipak


Physically challenged Dipak Hawlader writing answer scripts for the SSC examinations at Dumki AK High School centre in Patuakhali district. Photo: STAR
Sohrab Hossain, Patuakhali

When Dipak was born, many around him -- relatives, neighbours and even his parents -- felt sorry. The baby was born without hands.

Fifteen years later, a ray of hope flashed through the parents' minds that their son will be a breadwinner of the family.

Dipak Howlader is appearing in the SSC examinations this year. He wants to be a judge of the High Court.

But he still has to go a long way for either becoming breadwinner or a judge.

While talking to this correspondent a few days ago at AK High School, where the SSC examination is being held, signs of firmness were clear in the voice and face of the boy.

“If my dream comes true I will work for the poor and physically challenged people.”

Dipak, the second son of Satish Howlader, a resident of Baniakathe village in Patuakhali Sadar upazila, is taking the examination from Mamotaz Uddin High School under Barisal Education Board.

“My father was the lone bread earner of our family. But he became paralysed after an accident a few years back," he said.

The five-member family of Dipak is now dependent on the earnings of his elder brother who is a carpenter.

Poverty of the family hit his education, but it could not defeat him. To continue the education, he decided to stay at his maternal grandfather's home at Pangashia village in Dumki upazila.

“I also got all possible support from my classmates and teachers,” he said.

Abdus Salam Sikder, headmaster of Mamotaz Uddin High School, said Dipak is a talented student.

“Despite physical challenges, his academic results were quite good from class six to ten.”

“If he gets necessary help including financial support to continue study, he will definitely do good,” the headmaster added.

Alamgir Hossain, secretary at the examination centre at AK High School, said that they are extending all possible help to Dipak to take the examinations.
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #117  
Old February 20, 2012, 11:12 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Mohammad Khokon, apanake Salamer Sohit Ghovir Shrodda janachi !
-----------------

আপনারা এপাড়ে আসবেন না আমি আসমু?আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর
--------------------------------------------------------------------------------
বাংলানিউজটোয়েন্ট ফোর.কম









রাত তখন ১২টা বেজে গেছে। স্ত্রীসহ ২ মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরছি। অসুস্থ বড় মেয়েটি বেশ অসুস্থ। সাড়ে নয়টায় ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। কিন্তু ডাক্তার সাহেবের ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে মাঝখানে তিনি বাড়ি চলে যান। তবে ফিরে এসে আবার রোগী দেখেন। সে সূত্রে সপরিবারে আমার এত রাতে বাড়ি ফেরা।

ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়ে দেখি রাস্তা প্রায় ফাঁকা। সাতমসজিদ রোড ধরে লম্বা বিরতিতে যে ক’টা রিক্সা যাচ্ছে কেউ আমার গন্তব্যে যেতে রাজি না। এসময় শুনি রাস্তার ওপাশ থেকে কে যেন ডাকছে, কই যাইবেন স্যার?

আমি গন্তব্য জানাতেই জবাব আসে- আপনারা এপাড়ে আসবেন না আমি আসমু?


ঢাকার হিসেবে সাত মসজিদ রোড মোটামুটি চওড়া রাস্তা। মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া আর বেড়ার সঙ্গে ছোটছোট ফুলগাছ লাগানো। তাই সোডিয়াম লাইটের ভৌতিক রহস্যময় আলোয় আর আঁধারিতে দেখতে পেলাম না কণ্ঠস্বরধারীকে। তবে বুঝলাম তিনি একজন রিক্সাচালক। মনটা ভাল হয়ে গেল। বললাম, আপনি দাঁড়ান। আমরা আসছি। একটু বাঁয়ে ঘুরে ইউটার্নটার দিকে এগিয়ে গেলাম। ইউটার্নটার মুখে আসতেই দেখি রিক্সাটি চলে এসেছে সে পর্যন্ত। তাড়াতাড়ি উঠতে গিয়ে দেখলাম, হাল্কাপাতলা গড়নের ড্রাইভারের বাম পায়ের পাতাটি নেই। ঘোড়ার খুড়ের মত সেই পাতাটি প্যাডেলে রাখা।

রিক্সা চলতে শুরু করতেই দেখি ড্রাইভার কেমন যেন লাফিয়ে লাফিয়ে প্যাডেল চালাচ্ছে। মনে হয় ডান পায়ের পাতাটি না থাকার কারণে এমন হচ্ছে। একটু খারাপ লাগলেও অসময়ে রিক্সাটি পেয়েছি সেই স্বস্তিতে চুপ করে থাকি।

কিন্তু সামনে নিয়ন সাইনের একটু জোড়ালো আলোতে যা দেখলাম তাতে আমি বিমূঢ় হয়ে গেলাম এবং সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠি- ‘এই রিক্সা! থামাও। আমাকে নামিয়ে দাও!’

আমার বাচ্চারা আর স্ত্রীও বিষয়টি এবার দেখতে পেয়ে অস্বস্তিতে পড়ে গেছে। এ দৃশ্য দেখে রিক্সায় থাকা যায় না। তার ওপরে পাশ দিয়ে মাঝেমধ্যেই তীরবেগে ছুটে যাচ্ছে রাতের ফাঁকা রাস্তা পাওয়ার উল্লাসে নিজেদেরকে ফর্মুলা-ওয়ান মনে করা নিশাচর গাড়িগুলো। যে কোনও সময় একটু ডান-বাও হলেই যে কোনও একটি যন্ত্রদানবের ধাক্কায় পুরো চালকসহ পরিবার চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

আমার বিস্ময়াহত আর ভীতসন্ত্রস্ত নির্দেশের জবাবে বেঁচে থাকার পাগল করা নেশায় বুঁদ অকুতোভয়, বেপরোয়া আর অপরাজেয় অমানবিক প্রচেষ্টায় রত এই দুঃসাহসী বীর প্রাণখোলা হাসি হাসলেন। এ যেন নজরুলের সেই ‘আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি’র চিত্ররূপ দেখলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম এই সারথীর রথেই আমি গন্তব্যে ফিরবো।

এরপর তার বেদনা-বিমূঢ় রূপকথার বয়ান শুনলাম। নাম মোহাম্মদ খোকন(৩২)। ১৪ বছর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দু’টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে উভয় ট্রাকের ড্রাইভার-হেলপার মিলিয়ে মোট ৫ জনের ৪ জনই নিহত হন। এদের মধ্যে একমাত্র বেঁচে যাওয়া ভাগ্যবান ব্যক্তিটি হচ্ছেন খোকন। তিনি ছিলেন ট্রাক হেল্পার। ওই দুর্ঘটনায় একটি পা ও অপর পায়ের পাতাটি হারাতে হয় তাকে।

খুশীমনে বললেন, আল্লাহ আমারে ওই অবস্থায়ও বাঁচায়া দিছে, এটাই বড় কথা!

মনে পড়লো প্রথম এভারেস্ট জয়ী হিলারী-তেনজিং জুটির একজন শেরপা তেনজিং খোঁড়া ছিলেন। ধারণা করলাম, মানসিক দিক দিয়ে আমাদের খোকন সাহেব সেই গোত্রীয় হবেন।

বললাম- আপনার চেয়ে ভাল অবস্থায় থাকা অনেকেই তো ভিক্ষা করে। আপনি...(ভিক্ষাবৃত্ত আমিও অপছন্দ করি। তারপরেও আমি প্রকারান্তরে তাকে ভিক্ষার পরামর্শ দিচ্ছিলাম) ওদিকে, অনিবার্য নির্মম শারীরিক অক্ষমতার বিরুদ্ধে মানসিক সক্ষমতার অসম লড়াইয়ে বিজয়ী খোকন জবাব দিলেন-

‘যার যা পেশা! আমি কাজ কইরাই খাইতে চাই!’

এভাবে এত কষ্ট করে রিক্সা না চালিয়ে অন্য কোনও কাজ করতে পারেন না?

সবজি বিক্রি করতাম। কিন্তু ছিনতাইকারীরা একদিন সব পুঁজি লয়া গেল...


জানা গেল, বিয়ে করেছেন। তিন সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি কন্যারত্মও আছে।

মোবাইল ফোন নাম্বার চাইলাম। নাই।

যখন বাসার সামনে এসে আমার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তার ছবি তুলছিলাম তখন এত রাতেও আশপাশে বেশকিছু লোক জমা হয়েছেন। সব খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। সবাই নানান প্রশ্ন করছে। এরমধ্যে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে কে যেন একজন খোকনকে উদ্দেশ্য করে খামোখাই বাজে মন্তব্য করে গেল। ছোটখাট সমাবেশটা একসঙ্গে হই হই করে উঠলো বিবেকহীন মন্তব্যকারীর উদ্দেশে। চললো অশ্রাব্য গালি-গালাজও। খোকন তাদের কাছে হিরো। কারণ এইমাত্র ৪জন মানুষকে সে পাতাবিহীন ওই একটিমাত্র পা দিয়ে টেনে নিয়ে এসেছে তার রিক্সায়! সেই নায়কের অসম্মান তারা হতে দিবে না।

দীর্ঘদিন পর ওই গভীর রাতে রাস্তায় দাঁড়ানো অবস্থায় আমার মনটা অসীম আনন্দে ভরপুর হয়ে গেল। ক্রিকেটে আশরাফুলদের বারবার যুক্তিহীন হার, খাবারে ফর্মালীন, প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রায় অসম যুদ্ধজয়ী জাতির স্বাধীনতার পর থেকে গত ৪০ বছরে সরকারগুলোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমাহীন ব্যর্থতা, একাত্তরেরর নরাধম-পিশাচ স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারগুলোর গাড়িতে জাতীয় পতাকা, সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানীর লাশ, ট্রাফিক জ্যামের যন্ত্রণা, বিশ্বজুড়ে মার্কিনি যথেচ্ছাচার, প্রিয়জনের প্রতারণা বা বিশ্বস্ত বন্ধুর কলিজা এফোঁড়-ওফোড় করে দেওয়া মীরজাফরি- আমার এ যাবতকালের জাতীয়, আন্তর্জাতিক আর একান্ত ব্যক্তিগত সব বিদঘুটে দুঃখগুলো যাদেরকে কোনওভাবেই কবর দিতে পারছিলাম না অ্যাদ্দিন- মুছে যেতে যাকে যেন পরম নিরাময়কারী কোনও তালিশমানের ছোঁয়ায়।

খোকনদের মত মানুষ যেদেশে আছেন- সেখানে মানুষ পিছিয়ে থাকতে পারে না। আমি দীর্ঘদিন ধরে মনে মনে একটি অংক করতাম- আজ এখানে আপনাদের সঙ্গে তা শেয়ার করি। আচ্ছঅ, গণিতের-সংখ্যার যাদুকরি অনেক খেলা তো আমরা খেলি। কখনো কি ৫২ আর ৭১ যোগ করে দেখেছেন কত হয়? যোগফলটা খুবই চমকপ্রদ। ৫২ আর ৭১ যোগ করলে হয়-১২৩ অর্থাৎ ১, এরপর দুই এবং এরপর ৩। কি অসাধারাণ ধারবাহিকতার প্রতীক! ১ হচ্ছে সবকিছুর শুরু (কেউ কেউ বলেন শূন্য থেকেই শূরু), এরপর ২...৩... অসীম সম্ভাবনার পথে শতকরা ১০০ভাগ সাফল্যের পথে এগিয়ে চলা।

প্রায় দু’টি পা’ই যার নেই- সেই রিক্সাচালক খোকনের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, সম্পদ নেই, মামু-খালু নেই, নেই তেমন কোন মেধাও, তারপরেও তিনি যেভাবে জীবনযুদ্ধে অপরাজেয় বিদ্রোহী বীরের মত লড়ে যাচ্ছেন- স্রেফ মনের জোরটাকে সম্বল করে- দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমার অনেক ক্ষেত্রেই অনেক অনেক সক্ষম মানুষগুলো কি তার থেকে কিছুটা অনুপ্রাণিত হবেন।

বিবেক-অনুভূতির চামড়ার পুরুত্ব গণ্ডারকেও হার মানানো নেতা-মন্ত্রী-আমলা-সচিবরা না শুনুন- আমি অনুরোধ করছি ছাত্রলীগ-ছাত্রদলসহ জাতির অগণন যুবক-তরুণদেরকে- আসুন আমরা সব বিষন্নতা-ক্লান্তি-হতাশা আর অক্ষমতা ঝেড়ে ফেলি, ৫২ আর একাত্তরের যোগফল যে ১২৩ এর ধারাবাহিকতা তৈরি করে- তাকে স্বার্থক করে একবার একখান লড়াই দিয়ে ফেলি খোকনের দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে- ভাষা শহীদ দিবসের আজকের এই অসাধাণ দিনটিতে আসুন সেই শপথ নেই!

সবশেষে- খোকন, আপনাকে সশ্রদ্ধ সালাম!
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #118  
Old February 23, 2012, 01:56 AM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Part 1: রিকশা চালিয়ে হাসপাতাল

----------------------------------------------------------------------------------------------------------

Part 2: জয়নালের জন্য ভালোবাসা


১৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা এফডিআর ও চেকে হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৩-০২-২০১২


জয়নাল আবেদিন


প্রথম আলো ট্রাস্ট/মমতাজ হাসপাতালের তহবিলে জমা পড়েছে ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৬৬ টাকা ৮৫ পয়সা। গতকাল বুধবার ঢাকায় প্রথম আলোর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়নাল আবেদিনের হাতে এ অর্থের এফডিআর ও চেক তুলে দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম (ডানে)। বার্তা সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলীসহ (বঁায়ে) প্রথম আলো ট্রাস্টের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন
ছবি: প্রথম আলো


ময়মনসিংহের রিকশা-চালক মো. জয়নাল আবেদিনের মমতাজ হাসপাতালের জন্য গঠিত তহবিলে জমা পড়া ১৫ লাখ ৯২ হাজার ৬৬৬ টাকা ৮৫ পয়সা গতকাল বুধবার হস্তান্তর করা হয়ছে। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৭২ হাজার ৬৬৬ টাকা ৮৫ পয়সা জয়নাল আবেদিনের নামে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) করে দেওয়া হয়।

এফডিআর করার পর আসা ২০ হাজার টাকার চেক জয়নাল আবেদিনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

গত বছরের ২ জুলাই প্রথম আলোর শেষের পাতায় ‘রিকশা চালিয়ে হাসপাতাল’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়। ক্ষয়িষ্ণু এই সমাজে একজন রিকশাচালকের নিষ্ঠা ও একাগ্রতা এবং মানুষের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার এই গল্প পড়ে প্রথম আলোর পাঠকেরা অভিভূত, আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পাঠকদের অনুরোধে ওই বছরে ৪ জুলাই প্রথম আলো ট্রাস্ট/মমতাজ হাসপাতাল নামে তহবিল গঠন করা হয় (হিসাব নম্বর: ২০৭১০০৭৯৫৯, ঢাকা ব্যাংক, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা)। প্রথম আলোর সুহূদ পাঠকেরা মমতাজ হাসপাতালের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

এই অর্থ দিয়ে সহায়তাকারীদের ইচ্ছা অনুযায়ী মমতাজ হাসপাতালের প্রয়োজনীয় এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অর্থ ব্যয়ের হিসাবও পত্রিকার মাধ্যমে জানানো হবে।

গতকাল সব অর্থ হস্তান্তরের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জয়নাল আবেদিন। তিনি বলেন, ‘একসময় রিকশার প্যাডেল চাপতে চাপতে এই হাসপাতাল তৈরির স্বপ্ন দেখতাম। তখন পকেটে ১০০ টাকার একটি নোট আসলে সংসারের চাপ সামলাব, না জমা করার লোভ সামলাব—তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যেতাম। আর এখন আমার হাতে কত টাকা! কিন্তু এ টাকার প্রতি আমার কোনো লোভ লাগে না। আমি শুধু দেখে যেতে চাই, আমার হাসপাতালটা হয়েছে।’

আমাদের ময়মনসিংহ অফিস জানায়, এই তহবিলের বাইরেও জয়নাল আবেদিনের হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের জন্য হাত বাড়িয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। তাঁদের দেওয়া সরাসরি আর্থিক সহায়তায় মমতাজ হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের জন্য নতুন করে কেনা হয়েছে ৫৯ শতক জমি। বায়না করা হয়েছে আরও ১২১ শতক জমি। সব জমিই কেনা হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটির নামে।

ঢাকার এক ব্যক্তি দুটি বিদেশি গাভি দিয়েছেন জয়নাল আবেদিনকে। দুধ বিক্রির টাকায় হাসপাতালে আসা রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি ওষুধ কোম্পানি প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকার ওষুধ ও নগদ পাঁচ হাজার করে টাকা দিচ্ছে। চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি কয়েক সপ্তাহ পরপর হাসপাতালের জন্য জরুরি কিছু ওষুধ পাঠান।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে হাসপাতালের জন্য একটি ভবন করে দিতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। একটি স্থায়ী ভবনের জন্য সিলেটর এক ব্যক্তি পাঁচ হাজার ইট কিনে দিয়েছেন।

জয়নাল আবেদিনের বিদ্যালয়টির জন্য নতুন করে টিন দিয়ে আরও দুটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা-কার্যক্রম তৃতীয় থেকে উন্নীত করে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত করা হয়েছে। আরও দুজন শিক্ষক নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব ক্লাসে সরকারি বই সরবরাহ করা হয়েছে। বিদ্যালয়টিকে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় করার জন্য প্রচেষ্টা শুরু করেছে উপজেলা শিক্ষা দপ্তর।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিদ্যালয়টির জন্য একটি ভবন নির্মাণ করতে মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ করেছে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘গত বছরের ২ নভেম্বর বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী পরিদর্শনে এসে হাসপাতাল ও বিদ্যালয়টির উন্নয়নে কিছু নির্দেশনা দেন। তার আলোকেই আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করছি।’

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুল ইসলাম জানান, মমতাজ হাসপাতালের একটি ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এসব অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘দেশের অনেক মানুষ এখন আমার স্বপ্নের সঙ্গে আছে। প্রথম আলোর উদ্যোগে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া টাকায় এবং মন্ত্রী মহোদয়ের সহায়তায় হাসপাতাল ও বিদ্যালয় বড় হবে, মানুষ সেবা পাবে, গরিবের বাচ্চারা পড়ালেখা শিখবে—এর চেয়ে বড় আনন্দ আমার জীবনে আর কী হতে পারে।’
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #119  
Old March 15, 2012, 04:19 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

বাংলায় প্রথম কোরআন শরিফ!!!
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #120  
Old March 31, 2012, 02:27 AM
zinatf's Avatar
zinatf zinatf is offline
Cricket Legend
 
Join Date: August 1, 2011
Location: Melbourne, Australia
Favorite Player: Shakib,Sangakkara,Lee
Posts: 4,663

BRAVO Haowa
Best of luck for her exams


__________________
jitsi jitsi jitsi
Reply With Quote
  #121  
Old March 31, 2012, 08:36 PM
zsayeed zsayeed is offline
Cricket Legend
 
Join Date: April 19, 2007
Posts: 4,906

Prothom Alo:
__________________
I Want to Believe
Reply With Quote
  #122  
Old April 5, 2012, 08:37 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

শ নি বা রের বিশেষ প্রতিবেদন

সবার প্রিয় ঝরণা দিদিপলাশ বড়ুয়া, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) | তারিখ: ০৩-০৩-২০১২


খাগড়াছড়ির দীঘিনালার আলীনগর গ্রামের নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণে কাপড় কাটার নিয়ম এঁকে দেখাচ্ছেন ঝরণা রানী
ছবি: প্রথম আলো

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার নিভৃত পল্লি আলীনগর। একদিকে দারিদ্র্যের কশাঘাত, অন্যদিকে অশিক্ষা-কুসংস্কারের বৃত্তে বন্দী ছিল গ্রামটি। গত কয়েক বছরে কিছুটা হলেও গ্রামটিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে।
গ্রামটি আলোকিত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন এক নারী। তাঁর নাম ঝরণা রানী রায়। সবাই তাঁকে ঝরণা দিদি নামেই চেনে। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুদের বিনা পয়সায় পড়ানো, নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন তিনি।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাটবিটা গ্রামে জন্ম ঝরণার। ঘটনাক্রমে আলীনগর গ্রামের ছোট্ট একটি ঘরই তাঁর ঠিকানা।

শুরুর কথা: দুই মেয়ে ও এক ছেলের সংসার ছিল ঝরণার। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল। যশোরের অভয়নগরে নিজের বাড়িতে তাঁর চোখের সামনেই স্বামী মনি শংকর রায়কে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মে মনি শংকর মারা যান। এ ঘটনায় মামলা হয়। ঝরণা হন প্রধান সাক্ষী। সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয়, সাক্ষ্য দিলে একমাত্র ছেলেকে মেরে ফেলা হবে।

স্বামী হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে ছেলেকে হারাতে চাইলেন না ঝরণা। তাই সাক্ষ্য না দিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে ২০০৬ সালে দীঘিনালার আলীনগরে চলে আসেন। তাঁর দীঘিনালায় আসার কারণ, এই উপজেলার কবাখালী গ্রামে ঝরণার বড় মেয়ের বিয়ে হয়। আলীনগর থেকে কবাখালীর দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার।

স্বামীকে হারানো এবং স্বামীর ভিটা ছেড়ে দূরে থাকার দুঃখ ভুলে থাকতে আলীনগরের মানুষগুলোকে আপন করে নিতে কাজ শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে ২০০৭ সালে শুরু করেন ঝরণা ধারা বিদ্যানিকেতনের কাজ।

আলীনগরে এক দিন: সম্প্রতি ঝরণা দিদির সম্পর্কে জানতে আলীনগরে ঢুকতেই স্থানীয় কয়েকজনের প্রশ্ন, আপনি নিশ্চয়ই ঝরণা দিদির কাছে এসেছেন? তাদের কাছে পথ চিনে গিয়ে ঝরণাকে পাওয়া গেল ওই বিদ্যানিকেতনে। বিদ্যানিকেতন বলতে ছোট্ট একটি টিনের ঘর। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ঘরের ভেতর নিয়ে গেলেন। ঘরে কোনো আসবাব চোখে পড়ল না। কথা বলার এক ফাঁকে ঝরণা হাঁক দিলেন, ‘এই রহিমা, মণিষা, নাছিমা ছেলেমেয়েদের পড়তে পাঠাও।’ কিছুক্ষণের মধ্যে ছেলেমেয়েরা চটের বস্তা আর বই নিয়ে হাজির। চটের বস্তাই ওদের পাঠশালার একমাত্র আসবাব! শুরু হলো পড়াশোনা। পাশাপাশি আবৃত্তি ও গান।
কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সুমন মিয়া, সুরুজ মিয়া, মাইনুর ইসলাম, রামিছা আক্তার ও কুলছুম আক্তারের মতো অনেকেই এই পাঠশালায় পড়ে। তারা জানাল, এখানে পড়ার কারণে তাদের আলাদা করে প্রাইভেট পড়তে হয় না। সোমানা আক্তার পড়ার এক ফাঁকে আবৃত্তি করে শোনাল, ‘ওখানে কে রে?/ আমি খোকা।/ মাথায় কী রে?/ আমের ঝাঁকা।/ খাসনে কেন?/ দাঁতে পোকা।’

অষ্টম শ্রেণী পাস ঝরণা দিদি জানালেন, তিনি ২০০৭ সালে খোলা আকাশের নিচে শিশুদের পড়ানো শুরু করেন। প্রথম দিকে শিশুরা পাঠশালায় আসতে চাইত না। এখন সময়মতো সবাই হাজির হয়। দীঘিনালা সেনা জোন থেকে একটি টিনের ঘর তুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই শিশুদের পড়ানো হচ্ছে।
বিদ্যানিকেতনে বয়স্ক নিরক্ষর ব্যক্তিদেরও পড়ানো হয়। গ্রামের ইউছুফ আলী ও বাচ্চু মিয়া জানালেন, শিশু-বয়স্ক সবাই ঝরণা দিদির পাঠশালায় পড়তে পারেন। এ জন্য কাউকে কোনো টাকা-পয়সা দিতে হয় না।
জানা গেল, বিনা পারিশ্রমিকে ঝরণা দিদি এ পর্যন্ত শতাধিক ছেলেমেয়েকে গান শিখিয়েছেন। এবার কবাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের গান শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

পরে ঝরণা দিদি দেখালেন, তাঁর ‘বহত ঝরণা ধারা’ সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্র দেখা গেল, সেলাইয়ের সরঞ্জাম নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জন নারী বসে আছেন। দিদিকে দেখে তাঁদের অপেক্ষার পালা শেষ হলো। দিদি সেলাই শেখানোর কাজ শুরু করলেন। বিনা পয়সায় তাঁদের প্রশিক্ষণ দেন। তিনি জানালেন, এই সেলাই শেখানোর কাজও শুরু করেন ২০০৭ সালে। একসময় মহিলা অধিদপ্তরের অধীনে নেওয়া সেলাই প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা থেকে নারীদের সেলাই শেখানোর উদ্যোগ নেন।

ঝরণা দিদি এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৩৬ জন নারীকে সেলাই ও নকশিকাঁথা তৈরি করা শিখিয়েছেন। ‘আমি পড়ালেখার পাশাপাশি সেলাই শিখছি। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।’ বলছিল সেলাই শিখতে আসা চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী নাজমিন আক্তার।

আলীনগরের কোহিনুর আক্তার বললেন, ‘দিদির কাছে সেলাই শিখে এখন মাসে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় করছি।’ কবাখালী মুসলিমপাড়া গ্রামের আকলিমা আক্তার, সেলিনা আক্তার ও হেডম্যানপাড়ার খায়রুন নাহার জানালেন, ঝরণা দিদি অনেক যত্ন করে তাঁদের সেলাইয়ের কাজ শিখিয়েছেন।

আলীনগর গ্রামের লোকজনকে সচেতন করতেও কাজ করছেন ঝরণা। বাল্যবিবাহ, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য গ্রামে মাঝেমধ্যে উঠান বৈঠক হয়। গ্রামের নূরুন্নাহার, রহিমা বেগম ও সালমা বেগম জানালেন, তাঁরা ঝরণা দিদির কাছ থেকেই টিকা নেওয়া, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় জেনেছেন। এসব ব্যাপারে সচেতন হয়েছেন।
কী বলেন তিনি: ‘এই গ্রামের সবাই আমার স্বজনের মতো। আমার স্বপ্ন, গ্রামের প্রতিটি শিশু শিক্ষার পাশাপাশি গান ও আবৃত্তিতে পারদর্শী হবে, প্রতিটি নারী তার অধিকার পাবে।’
ঝরণা জানালেন, সেনাবাহিনী বিদ্যানিকেতনের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। আর সবজির চাষ করে অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা তাঁকে যৎসামান্য সহায়তা দিচ্ছে। এ দিয়েই তিনি এ খরচগুলো চালাচ্ছেন।

মানুষের কথা: ‘ঝরণা রানীর সামাজিক কাজ দেখে অবাক হতে হয়। মানুষ টাকার জন্য কত কিছুই না করছে, অথচ উনি বিনা পারিশ্রমিকে সমাজ বদলে দেওয়ার সংগ্রাম করছেন।’ বলছিলেন দীঘিনালা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। ঝরণার বড় মেয়ে লিলি রায় বলেন, ‘ছোটকাল থেকেই দেখছি মা সংসার সামলে গ্রামের মেয়েদের সেলাই শেখাতেন, পড়াতেন। মায়ের জন্য আমরা গর্বিত।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবুল বাশার বলেন, ঝরণা রানী সমাজ বদলে দিতে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছেন। তিনি যেন এই এলাকার অভিভাবক।

ঝরণা রানীর কাজের এলাকা পরিদর্শন করে সরকারিভাবে কোনো সাহায্য করা যায় কি না, তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল করিম।
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #123  
Old April 5, 2012, 08:44 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

ইতিহাসের পথ ধরে

হরিকেল থেকে চট্টগ্রাম
| তারিখ: ০৬-০৪-২০১২


১৮৭২ সালে নির্মিত বেঙ্গল রেলওয়ের কার্যালয়


হরিকেল যুগের মূর্তি


পুরাতন সার্কিট হাউস
কত পুরনো আজকের চট্টগ্রাম? অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস বলছে, চৌদ্দ শ বছরের প্রাচীন শহরের নাম চট্টগ্রাম। ‘অদম্য চট্টগ্রাম উৎসব’ শিরোনামে ডেইলি স্টার আয়োজিত প্রদর্শনী আলোকে এই রচনা। লিখেছেন বিশ্বজিৎ চৌধুরী

অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস বলছে, চৌদ্দ শ বছরের এক প্রাচীন শহরের নাম চট্টগ্রাম। আমরা জানি, ৯০০ বছরের প্রবীণ নগর লন্ডন, আমাদের রাজধানী ঢাকার রয়েছে ৪০০ বছরের ইতিহাস; আর বছর কয়েক আগে ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণময় উৎসবের আয়োজন হয়েছিল কলকাতা নগরে। চট্টগ্রামের ইতিহাস এই প্রসিদ্ধ নগরগুলোর চেয়েও দীর্ঘ।

সপ্তদশ শতাব্দীতে ইৎসিঙ নামের একজন চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষু প্রথম উল্লেখ করেন ভারতের পূর্ব-দক্ষিণ অঞ্চলে হরিকেল নামে একটি রাজ্য আছে। এই ‘হরিকেল’ই যে চট্টগ্রাম, এই তথ্য উঠে আসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর বিএন মুখার্জির গবেষণায়। এই খ্যাতিমান মুদ্রাবিশারদ হরিকেল রাজ্যে প্রচলিত মুদ্রা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন, সমৃদ্ধ এই রাজ্য ছিল কর্ণফুলী নদীর তীরে, যা কালক্রমে চট্টগ্রাম নামে পরিচিতি পায়। বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের জার্নালে এ তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।

আরাকান, ত্রিপুরা ও মোগল—এই তিন রাজশক্তির লড়াইয়ের ক্ষেত্র ছিল চট্টগ্রাম। বহুকাল চলেছে এই দখল প্রতিষ্ঠার লড়াই। মোগল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মুনিম খান ১৫৭৫ সালের ৩ মার্চ আফগান শাসক দাউদ খার কররানীকে পরাজিত করলে মোগল সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে বাংলা। কিন্তু এরপর আরও প্রায় ৮০ বছর পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে যায় অধরা। অবশেষে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জানুয়ারি ‘কর্ণফুলীর যুদ্ধে’ মোগল নৌবাহিনী জয়লাভ করে। আসলে এই লড়াই ও জয়ের মধ্য দিয়েই বঙ্গ বা বাংলার সঙ্গে যুক্ত হয় চট্টগ্রাম। ‘কর্ণফুলীর যুদ্ধে’ মোগলদের জয় নৌ-বাণিজ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে, পাশাপাশি এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতাও প্রতিষ্ঠিত হয়।

মোগলেরা চট্টগ্রামের নাম দেয় ‘ইসলামাবাদ’। চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, চন্দনপুরা, জামাল খাঁ, ঘাটফরহাদবেগ, বকশীর হাট, সদরঘাট, বিবিরহাট প্রভৃতি এলাকার নামের মধ্যে যেমন মোগল প্রভাব দেখা যায়, তেমনি এ এলাকাগুলোর প্রকৃত পরিচর্যাও হয়েছে মোগল আমলে। এভাবেই আধুনিক চেহারা পাচ্ছিল একটি শহর।

১৭৬০ সালে মীর কাশিম আলী খানের কাছ থেকে এ অঞ্চলটি অধিগ্রহণ করে ব্রিটিশরা এর নাম দেয় ‘চিটাগাং’, সাধারণের কাছে যা চট্টগ্রাম বা চাটিগাঁও নামে পরিচিতি পায়।

বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলটি আরাকানি, ত্রিপুরি, পর্তুগিজ, মোগল, পাঠান ও ইংরেজদের হাতে শাসিত হওয়ায় এখানকার কৃষ্টি, শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতির মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে আলাদা। অনেকেই বলেন, বাংলার চিরায়ত লোকশিল্পের নিদর্শন নকশি কাঁথার ঐতিহ্য যেমন এ অঞ্চলে ছিল না, তেমনি এখানকার মানুষের প্রিয় খাদ্য শুঁটকিও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের খাদ্যতালিকায় যুক্ত হয়েছে অনেক পরে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পিঠাপুলির ঐতিহ্যও এখানে ছিল না, বরং চট্টগ্রামের মানুষ বেলা বিস্কুটের স্বাদে মজে ছিল দীর্ঘদিন।

আরাকানের রাজসভায় বাংলা সাহিত্যের যে খুব কদর হয়েছিল, তার পেছনে ছিল চট্টগ্রাম থেকে কবিদের সেখানে যাতায়াত। কোরেশী মাগন ঠাকুর বা দৌলত কাজীর মতো কবি, যাঁরা আরাকান রাজসভা আলোকিত করেছিলেন, তাঁদের আদিবাস চট্টগ্রামে। মহাকবি আলাওলের জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে তিনি যে দীর্ঘকাল চট্টগ্রামে ছিলেন, তাতে সন্দেহ নেই। তাই তাঁর পদ্মাবতী কাব্যের পটভূমি যদিও সিংহল, কিন্তু প্রকৃতির বর্ণনায় কবি যেসব স্থান ও দৃশ্যের কথা তুলে ধরেছেন, তাতে চট্টগ্রামের রূপই যেন ভেসে ওঠে পাঠকের চোখে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাস আরও দীর্ঘ। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বন্দর চট্টগ্রামের উত্থান। সপ্তম শতাব্দীর পর থেকে বাংলার (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ) আরেকটি বন্দর তমলুক বা তাম্রলিপি বিলুপ্ত হয়েছে। কিন্তু হরিকেল রাজ্যটির ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও এর সমুদ্রবন্দর দিয়ে ব্যাপক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা প্রসারিত হওয়ায় আরব ভূগোলবিদেরা তখন এর মাটি ছুঁয়ে থাকা বঙ্গোপসাগরকে ‘বহর-এ-হরকন্দ’ (হরিকেলের সমুদ্র) নাম দিয়েছিলেন। সেই বহর-এ-হরকন্দই দীর্ঘ ইতিহাস পাড়ি দিয়ে টিকে আছে চট্টগ্রাম বন্দর নামে।

পেছনে ফেলে আসা পায়ের চিহ্নগুলো না চিনে সামনের পথ পাড়ি দেওয়া যেমন কঠিন, তেমনি অতীত না জেনে ভবিষ্যতের দিকে এগোলে ইতিহাস হয়তো প্রশ্ন করবে, ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?’

প্রাচীন এই নগরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরে এর সম্ভাবনার বিষয়ে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার এক অসাধারণ উদ্যোগ নিয়েছে সম্প্রতি ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার। ‘অদম্য চট্টগ্রাম উৎসব’ শিরোনামে ডেইলি স্টার-এর এই নানা মাত্রিক আয়োজনের মধ্যে ‘ইতিহাস ঐতিহ্য’ অংশে ছিল এক চমৎকার প্রদর্শনী। চট্টগ্রাম জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত চিরায়ত চট্টগ্রাম নামের এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে প্রায় ৭৭টি দুর্লভ আলোকচিত্র, যা দেখতে দেখতে দর্শনার্থীরা ঘুরে আসবে ইতিহাসের দীর্ঘ পথ হরিকেল থেকে চট্টগ্রাম। আরও আছে এ অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক জীবনের ওপর শিল্পী কাজল দেবনাথের তৈরি একটি ত্রিমাত্রিক মডেল, শিল্পী আলপ্তগীন তুষারের চিত্রকর্ম ‘কর্ণফুলীর যুদ্ধ’ এবং মোগল আমলা হামজা খাঁর সমাধিসৌধের একটি মডেল।

প্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগে চট্টগ্রামের ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়েছিল ‘জার্নি টু হেরিটেজ’-এ। শাহি জামে মসজিদসহ আন্দরকিল্লার ঐতিহাসিক নগর কেন্দ্র ঘুরে দেখে শিক্ষার্থীরা। দক্ষ গাইডের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় তাদের চোখের সামনে তখন ভাসছিল: ‘কর্ণফুলী নদীতীরে দুটি দুর্গ ছিল—একটি নদীর মোহনার বাঁ দিকে দেয়াং পাহাড়ে, অন্যটি ডান পাশে রংমহল পাহাড় ও তার আশপাশে বর্তমান চট্টগ্রাম শহরের আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে...।’

বিস্ময়াভিভূত একটি কিশোর হয়তো তখন ভাবছে, ক-ত দূর থেকে এসেছি আমরা, যেতে হবে আরও ক-ত দূর!
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!
Reply With Quote
  #124  
Old April 5, 2012, 10:17 PM
nakedzero's Avatar
nakedzero nakedzero is offline
Cricket Legend
 
Join Date: February 3, 2011
Favorite Player: ShakTikMashNasir(ShakV2)
Posts: 2,024
Default বন্ধু পুলিশ






ছেলেটির নাম নির্মল। বয়স সাতের কাছাকাছি। বারবার খিঁচুনি দিচ্ছে আর বলছে, ‘কাকা একটু ঘুমাবো।’

যাত্রাবাড়ী থানার পাশে অসুস্থ এই শিশুটিকে খুঁজে পান উপ-পরিদর্শক কাওসার আলী। একটি অপমৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ রিপোর্ট করতে তিনি এসেছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নির্মলকে।

নিজের কাজ শেষ করে যখন নির্মলকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তখন উৎসুক মানুষজন ভিড় করে তার কাছে। জরুরি বিভাগে যখন টিকিট কটছিলেন কাওসার তখন বারবারই শিশুটি বলছিলো, ‘কাকা ঘুমাবো।’ উত্তরে কাওসার বলেন, ‘এইতো বাবা চলো। উপরে গিয়ে ঘুমাবা।’

ডাক্তারের কাছে নির্মলকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাংলানিউজের সঙ্গে কথা হয় এ পুলিশ কর্মকর্তার। সঙ্গে দুই জন কনসটেবল। কাওসার বলেন, ‘থানার পাশে ছেলেটিকে পেয়েছি। থেকে থেকে খিঁচুনি দিচ্ছিলো। হাসপাতালে আসছিলাম বলে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। ওর চিকিৎসা দরকার।’

এরপর নির্মলকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে নিজেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন কাওসার। আর কথা হয় না তার সঙ্গে। সঙ্গের দুই কনসটেবলও স্নেহের স্বরে কথা বলছিলো শিশুটির সঙ্গে।

এসময় পাশ থেকে মানুষজন বলছিলো, ‘পুলিশের এমনই হওয়া উচিত। শিশুটিকে পুলিশ যেভাবে যত্ন করে ডাক্তারে কাছে নিয়ে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে ভালো মানুষ এখনো আছে।’

দিনে-রাতে অসংখ্য পথশিশুকে দেখা যায় মহানগরীতে। সচরাচর এসব শিশুর খোঁজ নেয় না কেউ। তবে পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ আরো একবার স্মরণ করিয়ে দিলো, পুলিশই পারে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হতে।



SOURCE
Reply With Quote
  #125  
Old April 10, 2012, 02:50 PM
idrinkh2O's Avatar
idrinkh2O idrinkh2O is offline
Test Cricketer
 
Join Date: April 9, 2011
Favorite Player: Performing Tigers
Posts: 1,869

Sad but true...a wonderful piece of writing.
--------------------
কাছ থেকে দেখা আরব
‘হায় আল্লাহ! এরাও বিড়ি খায়!!

--------------------------------------------------------------------------------
তামীম রায়হান, অতিথি লেখক
বাংলানিউজটোয়েন্ িফোর.কম


রাতের দুবাই, দুবাই সফরে কিম কারদাশিয়ান

আমরা সাধারণত ভেবে থাকি, আরব মানেই ইসলাম। আরব মানেই ইসলামের একনিষ্ঠ খাদেম ও অনুসারী। আরবদের কোনো অনাচার দেখলে আমরা হায় হায় করে বলি, গেল গেল, ইসলাম গেল। আরবদের মুখে সিগারেট দেখলে অনেক সরলপ্রাণ বাংলাদেশি জিভে কামড় দিয়ে বলে, হায় আল্লাহ! আরবরাও বিড়ি খায়!!

আদৌ কি ব্যাপারটি এমন?
আল্লাহ পাকের অপার মহিমার একটি নিদর্শন হল আরব ভূখণ্ডে শেষ নবীর আগমন। মহানবীর আত্মপ্রকাশের আগে আশপাশের রোম ও পারস্যবাসীর চেয়ে আরবরা যেমন ছিল অশিক্ষিত বর্বর তেমন ছিল কিছু অনন্য গুণ আর বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন আল্লাহ পাক ইসলামের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করে শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে পরিচিতি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন- তাদের এ সম্মান ও উন্নতি কেবল ইসলামেরই বদৌলতে। শূন্য থেকে উঠে এসে তারা একসময় শাসন করেছিল প্রায় গোটা বিশ্ব।

পৃথিবীর কোনো ধর্ম কিংবা মতবাদ বা জাতি-সভ্যতা কখনো এক অবস্থায় স্থায়ী হয়নি। এটাই নিয়তি। উত্থান, উন্নতি ও অবনতি- এ তিনটি পর্যায়ের ভাগ্য সবাইকে বরণ করতে হয়। সে হিসেব করলে আরবদের অবস্থান খুব সহজেই বিবেচনা করা যায়।

শেখ মুহাম্মদ আল আরিফী আরবদেশের বর্তমান মশহুর ও জনপ্রিয় বক্তাদের একজন। সৌদি আরবের এ আলেম তরুণসমাজের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তরুণদের এক সমাবেশে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, রাসুল এর সহধর্মিনীদের নাম কে কে বলতে পারো? একজনও সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। রাসুল এর কন্যা কয়জন ছিলেন, তাদের নামগুলো বলতে বলা হলেও কেউ তা পুরো বলতে পারেনি।

এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বার্সেলোনার খেলোয়াড় কতজন ও কে কে? এবার সবাই প্রায় দাঁড়িয়ে গেল, কার আগে কে জবাব দেবে তা নিয়ে রীতিমত হৈ হুল্লোড় লেগে গেল। তিনি ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ পড়ে সবাইকে বসতে বললেন। এরপর আক্ষেপ করে বললেন, ‘তরুণ বন্ধুরা, এ আরব সীমানার বাইরের লোকেরা তোমাদের সাহাবিদের সন্তান বলে ভাবে, তোমাদের চেহারা দেখে নিজেদের সৌভাগ্যবান বলে মনে করে, আর তোমাদের এ দশা? নিজের রাসুলের সন্তান সম্পর্কে, তার পরিবার সম্পর্কে তোমরা কিছুই জানো না?’

এমনই অপর একজন প্রসিদ্ধ বক্তা আয়েয আল কারনি। তার বই এখানে বর্তমানে বিক্রয়ের শীর্ষ তালিকায়। তিনি এক সমাবেশে বলছিলেন, ইউরোপিয়ানরা এক সন্তানের জন্ম দিয়ে তাকে ভালো করে মানুষ করে, শিক্ষা-দীক্ষায় তাকে দক্ষ করে মহাকাশে পাঠায় গবেষণার জন্য। আর আমরা গণহারে সন্তান জন্ম দিচ্ছি রাসুলের উম্মত বৃদ্ধির জন্য, কিন্তু পরিচর্যা করছি না। ফলে এক এক বাবার দশ পনেরটি সন্তান, কেউ চুইঙ্গাম মুখে, কেউ আইপড নিয়ে ঘোরে, কেউ হুক্কা ফুঁকে আর রিয়াল উড়িয়ে বেড়ায়।

আরবদের বর্তমান সামাজিক অবস্থার কিছুটা অনুমান হয়তো এখান থেকে করা যায়। সম্পদ, প্রাচুর্য আর বিলাসিতা আরবদের বদলে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। বিশ্ব মানচিত্রে আরবদেশগুলোর সংখ্যা বিশ-একুশটি হলেও নিজেদের স্বকীয়তা তারা ভুলে যাচ্ছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের ছয়টি দেশ ভাসছে ভোগ ও অপচয়ের সাগরে। ইসলাম পালন তাদের কাছে নেহায়েত কিছু আচার আর রীতিনীতির নাম। তরুণ প্রজন্ম চরম মাত্রায় আসক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন ভোগসামগ্রী ব্যবহার ও পাশ্চাত্য বিনোদনে। এ দেশগুলোর অধিবাসীরা আমোদ প্রমোদে এতই ব্যস্ত যে, রাজনীতি কিংবা শাসকদের নিয়ে তাদের ভাবার সময় নেই। তাই তুলনামূলকভাবে উপসাগর অঞ্চল অনেকটা উদাসীন হয়ে আছে রাজনীতি থেকে। কুয়েত ও বাহরাইনে কিছুটা ‘গোলযোগ’ রয়েছে, তাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব দেশে মদ ও নেশার জোগান তেমন অসাধ্য কিছু নয়। ঝাঁকে ঝাঁকে এখানে আসছে মার্কিন ও ইউরোপিয়ান পর্যটক ও পেশাজীবীরা, তাদের বিনোদন ও মনোরঞ্জনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সব কিছুর রয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। এ আয়োজনে দলে দলে ভিড়ছে আরব মুসলিম তরুণরাও।’

এ ছয়টি দেশের বাইরে মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় যে আরব দেশগুলো রয়েছে, তারা এখনও ঔপনিবেশিক সংস্কৃতিতে নাক ডুবিয়ে আছে। আলজেরিয়া, মরক্কো অঞ্চলের তরুণরা আরবির চেয়ে ফরাসী ভাষা ও সংস্কৃতিতে দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে জীবনযাত্রার মান এখানে নিম্নমানের হওয়ায় উন্নত জীবনের স্বপ্ন চোখে তারা পাড়ি জমাচ্ছে দলে দলে ফ্রান্সে ও আশেপাশের ইউরোপ-অঞ্চলে।

ওদিকে মিশর, সিরিয়া, লেবানন অঞ্চলের প্রজন্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন কালচারে বেড়ে উঠছে। খোলামেলা সংস্কৃতি ও আচার পরিবেশে সেখানে অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে। গোটা আরব অঞ্চলে পারিবারিক বন্ধন এখনও মজবুত হলেও যারা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে তারা এ বন্ধন ভুলে যায়। ফিলিস্তিন গোটা আরব অঞ্চলে আবেগের প্রতীক। এতদিন ধরে চলা সংঘাতে নিরাশ হয়ে ফিলিস্তিন ছেড়ে আশপাশের দেশগুলোতে স্থায়ী হয়েছেন অনেকে, দেশত্যাগী এদের সংখ্যা ফিলিস্তিনে বর্তমান বসবাসরতদের প্রায় দ্বিগুণ। যারা এখনও সেখানে রয়ে গেছেন, তাদের চোখে মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছায়া। আরব শাসকদের মনে এ নিয়ে দুঃখবোধ থাকলেও মার্কিন বন্ধুদের চোখরাঙানির ভয়ে তারা অনেক উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে যান।

ইতিহাস সাক্ষী, আরবরা যখন জেগেছে তখনই ইসলামের বৃক্ষ নতুন করে সতেজ হয়েছে। আর সেজন্যই ইসলামের চিরপ্রতিদ্বন্দ্ব বা বৈরি পশ্চিমা শক্তি নিত্যনতুন ভোগ ও আয়েশী সামগ্রীর জোগান দিয়ে মোহগ্রস্ত করে রেখেছে তাদের।
এসবের ছোঁয়ায় দিনদিন পশ্চিমমুখী হচ্ছে আরবরা। গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে ইউরোপ আমেরিকায় বাগানবাড়ি কিনছেন শেখরা। রঙিন কাচঘেরা গাড়িতে বিদেশি ললনাদের নিয়ে ঘুরে বেড়ায় যুবরাজরা।

অন্যান্য আরব অঞ্চল তো বটেই, সৌদি আরব ও আশপাশের দেশগুলোতেও বিকৃতি ঘটছে আরবি ভাষার। ইংরেজির সাথে মিশ্রণ তো বটেই, উচ্চারণভঙ্গির নতুনত্বে হারিয়ে যাচ্ছে বিশুদ্ধ আরবির চর্চা ও কথোপকথন। যাদের রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে মরুর বুকজুড়ে পিচঢালা রাজপথ, আকাশচুম্বী দালান, বালুভূমিতে যারা পানির ঝর্ণার কারিগর, সেইসব সাধারণ শ্রমিকদের অনেক আরব মানুষ হিসেবেও গণ্য করতে ইতস্তত করে, তাদের পাওনা নিয়েও চলে হাজার রকমের টালবাহানা। অথচ নিজেদের ভেতর দশজনের জন্য একশ’ জনের খাবার নিয়ে বসে সেসবের অপচয় দেখলে চোখে পানি চলে আসে গরীব দেশ থেকে আসা ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর।

এতকিছুর পরও ইসলামের যেটুকু এদের মধ্যে বাকি আছে, তাও নেহায়েত কম নয়। বিশুদ্ধ আকিদা বিশ্বাস এদের সবচেয়ে প্রশংসনীয় বিষয়। পীরপূজা, মাজারপূজা, ভণ্ডামি থেকে এখনও এ অঞ্চলের লোকজন অনেক দূরে।

সাম্প্রতিককালের আরব বসন্ত নাড়া দিয়েছে অনেককে। কিন্তু এরপরও যদি তাদের ভাগ্যে সুদিন ফিরে না আসে, তবে পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ। কারণ এসব বিপ্লব ও প্রতিবাদের নামে আরব তরুণদের হাতে চলে এসেছে অস্ত্রের ভাণ্ডার। নিছক সামান্য বিষয় নিয়ে গোত্রে গোত্রে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ইতিহাস তারা এখনও কিন্তু ভোলেনি।

কেউ একজন বলেছিলেন, ইসলাম যদি কোনও গাড়ি হয়, তবে আরবরা এর পেট্রল-ডিজেল।’ কিন্তু আজ ভাবার বিষয়, ইসলামের এ জ্বালানিতেই যদি ভেজাল ছড়িয়ে পড়ে তবে আর আশার বাণী কে শোনাবে আমাদের? চারিদিকে উঁচু উঁচু টাওয়ার আর প্রাসাদের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে আরবদের মূল পরিচয়, তবু এ নিয়ে ভাবছেনা কেউ, এটাই আশ্চর্যের!
তামীম রায়হান: ছাত্র, কাতার ইউনিভার্সিটি, দোহা, কাতার
tamimraihan@yahoo.com

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৬ ঘণ্টা, ০৯ এপ্রিল, ২০১২
সম্পাদনা: আহ্সান কবীর, আউটপুট এডিটর
__________________
-- Alwayz with !!! Champions are made from something they have deep inside them - a desire, a dream, and a vision!
-- Bangladesh are the Runners-up in the 2012 ASIA Cup!

Last edited by idrinkh2O; April 10, 2012 at 04:31 PM..
Reply With Quote
Reply

Bookmarks


Currently Active Users Viewing This Thread: 1 (0 members and 1 guests)
 
Thread Tools
Display Modes

Posting Rules
You may not post new threads
You may not post replies
You may not post attachments
You may not edit your posts

BB code is On
Smilies are On
[IMG] code is On
HTML code is On



All times are GMT -5. The time now is 02:30 PM.


Powered by vBulletin® Version 3.8.7
Copyright ©2000 - 2014, vBulletin Solutions, Inc.
BanglaCricket.com
 

About Us | Contact Us | Privacy Policy | Partner Sites | Useful Links | Banners |

© BanglaCricket