facebook Twitter RSS Feed YouTube StumbleUpon

Home | Forum | Chat | Tours | Articles | Pictures | News | Tools | History | Tourism | Search

 
 


Go Back   BanglaCricket Forum > Miscellaneous > Forget Cricket

Forget Cricket Talk about anything [within Board Rules, of course :) ]

Reply
 
Thread Tools Display Modes
  #51  
Old December 14, 2011, 11:27 PM
PoorFan PoorFan is offline
Moderator
 
Join Date: June 15, 2004
Location: Tokyo
Posts: 14,333


বিজয়ের ৪০ বছর: বিদেশি সহযোদ্ধা

ওডারল্যান্ড: বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা

আশীষ-উর-রহমান | তারিখ: ১৫-১২-২০১১


  • ১ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • ShareThis




« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»
এএস ওডারল্যান্ড



আর পাঁচজন বিদেশির মতোই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড চাকরি করতে এসেছিলেন এ দেশে। এ দেশ তখন পাকিস্তানের পূর্বাংশ। ১৯৭১ সাল। পরিস্থিতি সুবিধাজনক নয়। স্বাধিকারের দাবিতে দৃঢ়সংকল্প বাঙালির আন্দোলনে উত্তাল সমগ্র দেশ।
ওডারল্যান্ড ওই বছরের শুরুতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়ে যোগ দিয়েছেন বাটা শু কোম্পানিতে। টঙ্গীতে তাঁর কার্যালয়। দেশের পরিস্থিতি আঁচ করতে মোটেই অসুবিধা হয়নি তাঁর। অন্যের বিপদ-আপদে না জড়িয়ে নিরাপদে গা বাঁচিয়ে চলতে পারতেন। কিন্তু ওডারল্যান্ড সেই ধরনের মানুষ, যাঁরা আত্মপর বিবেচনা না করে মানবতার লাঞ্ছনা, বঞ্চনা, নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, প্রতিরোধ করা নিজের অনিবার্য কর্তব্য জ্ঞান করেন। তা থেকে পিছপা হন না। জীবন বিপন্ন হলেও সম্ভব সবটুকু সামর্থ্য নিয়ে এগিয়ে যান মানবতার মুক্তির আন্দোলন-সংগ্রামে।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৫ মার্চ বাঙালিদের গণহত্যা ওডারল্যান্ডকে অত্যন্ত বিচলিত করে তোলে। জঘন্য গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিকাণ্ড, নারী নির্যাতন ওডারল্যান্ডের মনে এক পুরোনো ক্ষতকেই যেন নতুন করে জাগিয়ে তোলে। রক্তের ভেতর আবার সেই পুরোনো ডাক অনুভব করেন তিনি যুদ্ধে যাওয়ার। বহুজাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্তা ৫৪ বছর বয়সী ওডারল্যান্ড আবার ঝাঁপিয়ে পড়েন যোদ্ধার ভূমিকায়।
বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হিসেবে যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে অবাধে চলাচলের সুযোগ ছিল তাঁর। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে হত্যা-নির্যাতনের ছবি তুলে সেসব ছবি গোপনে বিদেশের গণমাধ্যমে পাঠাতে থাকেন। সেই সঙ্গে চেষ্টা করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নীতিনির্ধারক পর্যায়ে যোগাযোগ সৃষ্টির। একটা পর্যায়ে তিনি গভর্নর লে. জে. টিক্কা খান ও পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জে. নিয়াজি, রাও ফরমান আলীসহ পাকিস্তানি সেনাদের মাথা-মুরব্বিদের সঙ্গে দহরম-মহরম গড়ে তোলেন। সেই সুবাদে তাদের অনেক গোপন পরিকল্পনা, নানা ধরনের সমর তথ্য জানার সুযোগ হয় তাঁর। ওডারল্যান্ড সেসব তথ্য নিয়মিত পাঠাতে থাকেন ২ নম্বর সেক্টরের মেজর এ টি এম হায়দার এবং জেড ফোর্সের কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের কাছে। যোগাযোগ রাখতেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানীর সঙ্গেও।
সমর তথ্য সংগ্রহের কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই করছিলেন তিনি, যেমন করেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনাশিবিরে গিয়ে। অস্ট্রেলিয়া ওডারল্যান্ডের পিতৃভূমি হলেও ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর তাঁর জন্ম হল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামে। জীবিকার তাগিদে ১৭ বছর বয়সে তিনি একটি ছোট প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন, পরে সেখান থেকে বাটা শু কোম্পানিতে। জার্মানির নাৎসি বাহিনী হল্যান্ড আক্রমণ করলে তিনি ডাচ সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট হিসেবে যোগ দেন। নাৎসিরা ১৯৪০ সালে বিমান হামলায় হল্যান্ডের রটারডাম শহর বিধ্বস্ত করে দেয়, হল্যান্ড চলে যায় তাদের দখলে। ওডারল্যান্ড বন্দী হন জার্মানদের হাতে। তবে কৌশলে তিনি বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে এসে যুদ্ধফেরত সৈনিকদের ক্যাম্পে কাজ করতে থাকেন। যোগ দেন ডাচ-প্রতিরোধ আন্দোলনে। ডাচদের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জার্মান ভাষা রপ্ত ছিল তাঁর। এই সুযোগ নিয়ে তিনি জার্মানদের গোপন আস্তানায় ঢুকে পড়েন। তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাতে থাকেন মিত্রবাহিনীর কাছে। ১৯৪৩ সালে তিনি কমান্ডো বাহিনীতে যোগ দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কমান্ডো সৈনিক ওডারল্যান্ড এই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগিয়েছেন ঢাকায় নানাভাবে। প্রথম পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করলেও শুধু এতেই সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি তিনি। পাকিস্তানিদের বর্বরোচিত হামলা তাঁকে এতটাই বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল যে সরাসরি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে। টঙ্গীর বাটা কারখানার ভেতরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন প্রশিক্ষণ শিবির। কমান্ডো হিসেবে অস্ত্র, গোলাবারুদ সম্পর্কে তাঁর পর্যাপ্ত জ্ঞান ছিল। নিজ হাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তিনি ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় গেরিলা যুদ্ধ চালান। ব্রিজ, কালভার্ট ধ্বংস করেন, রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। যুদ্ধের পাশাপাশি তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, তাঁদের নগদ অর্থ, খাদ্য ও কাপড়চোপড় দিয়ে নানাভাবে সহায়তা করেছেন।
দেশ স্বাধীন হলো। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত এখানে কাজ করে অবসর নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত যান বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড ‘বীর প্রতীক’। তিনিই একমাত্র বিদেশি, বাংলাদেশ সরকার যাঁকে এই খেতাবে ভূষিত করেছে। ২০০১ সালের ১৮ মে পার্থের একটি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তবে খুব গর্বভরে নামের সঙ্গে বীর প্রতীক খেতাবটি লিখেছেন আমৃত্যু।



Prothom Alo
Reply With Quote
  #52  
Old December 14, 2011, 11:30 PM
PoorFan PoorFan is offline
Moderator
 
Join Date: June 15, 2004
Location: Tokyo
Posts: 14,333


জ্যাক ফ্রেডেরিক রালফ জ্যাকব। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষে যেসব শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে শুধু তিনিই জীবিত। তাঁর সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় কিস্তি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিজানুর রহমান খান

একাত্তরে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফ লে. জেনারেল জ্যাক জ্যাকব প্রথম আলোকে আবারও বলেছেন, দিল্লিতে ভারতীয় সমর পরিকল্পনাবিদদের মাথায় ঢাকা দখলের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে সাবেক ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান পিসি লালের লেখা মাই ইয়ার্স ইন আইএএফ গ্রন্থের বরাত দেন। জ্যাকব বলেন, মি. লাল তাঁর ওই বইয়ে দুটো বিষয় উল্লেখ করেছেন। এক, ঢাকা দখলের লক্ষ্য অগ্রাধিকার পায়নি। দুই, সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় ছিল না। জ্যাকবের কথায়, ‘ঢাকায় আসতে আমরা ইচ্ছা করে শহরগুলো পাশ কাটিয়েছিলাম। খুলনা ও চট্টগ্রামের মতো শহর আমরা গ্রহণ করিনি। তদুপরি আমরা যুদ্ধ জয় করেছিলাম।’
১৬ ডিসেম্বর নিয়াজি যখন আত্মসমর্পণ করেন, তখন ৩০ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য ঢাকায় ছিল। প্রায় ৩০ মাইল দূরে ছিল ভারতের মাত্র তিন হাজার সৈন্য। অনুপাতের হিসাবে ১০:১। জ্যাকব বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, ওই সময় ঢাকায় নিয়াজির ২৫ হাজার সৈন্য রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, এই সংখ্যা ৩০ হাজার। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য সম্পর্কে তাঁর জানা ছিল না।
প্রথম আলো: আপনি কী করে নিয়াজিকে শর্ত মানতে রাজি করিয়েছিলেন? নিয়াজি বলেছেন, আপনি তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করেছিলেন।
জেনারেল জ্যাকব: ব্লাকমেইলের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ১৬ ডিসেম্বর সকালে আমি যখন তাঁর দপ্তরে আত্মসমর্পণ দলিলের খসড়া দেখিয়েছিলাম, তখন তাঁর চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল। নিয়াজি বললেন, কে বলেছে আমি আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছি? আপনি তো এসেছেন যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ কথাটিতে ফরমান আলী ঘোরতর আপত্তি তুললেন। অন্য জেনারেলরাও দলিল প্রত্যাখ্যান করলেন। তখন আমি নিয়াজিকে একপাশে ডেকে নিলাম। বললাম, যদি তিনি আত্মসমর্পণ করেন, তাহলে সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী, জাতিগত সংখ্যালঘু এবং তাদের পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করব। যদি আত্মসমর্পণ না করেন, তাহলে আমি তাদের নিরাপত্তার জন্য দায়ী থাকব না।
প্রথম আলো: ১৬ ডিসেম্বর আপনি কলকাতা থেকে যশোরে পৌঁছে কী দেখেছিলেন?
জ্যাকব: তখন সকাল সাড়ে নয়টা হবে। আমি কলকাতা ত্যাগ করি। সাড়ে ১০টায় একটি চপারে যশোরে পৌঁছাই। আমার সঙ্গে ছিলেন শুধু একজন স্টাফ অফিসার, আর ছিল আত্মসমর্পণ দলিলের খসড়া। ভারত সরকার তখনো এর অনুমোদন দেয়নি।
যশোরে অবতরণ করেছিলাম হেলিকপ্টার বদল করতে, যাতে জ্বালানি সমস্যায় না পড়ি। যাশোরে তখনো গোলাগুলির শব্দ শুনেছিলাম। নবম পদাতিক ডিভিশন খুলনার দিকে সক্রিয় ছিল। আমি তাদের অবিলম্বে গোলাবর্ষণ থামানোর নির্দেশ দিই। কারণ তখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়ে গেছে। ভারতের সেনা সদর দপ্তর থেকে একটি বার্তা পেয়ে একজন কর্মকর্তা আমার দিকে হন্তদন্ত হয়ে এলেন। আমি ভেবেছিলাম, আত্মসমর্পণের দলিল অনুমোদনের খবর হয়তো এসেছে। কিন্তু আদেশটি পড়ে আমি তাজ্জব। সেখানে লেখা, ভারত সরকার জেনারেল নিয়াজির সঙ্গে তাঁর মধ্যাহ্নভোজ অনুমোদন করেছেন। অথচ এ বিষয়ে আমি তাঁদের কাছে অনুমোদন চাইনি। আমি ঢাকার দিকে অগ্রসর হলাম।
প্রথম আলো: ঢাকার আকাশে অবতরণকালে আপনি আসলে কী ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করেছিলেন?
জ্যাকব: ঢাকায় নামার সময় দেখি, পাকিস্তানি পদাতিক বাহিনীর কামান তাক করা আছে। আমাকে বহনকারী চপারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর পুরুষোত্তম। ফাঁপরে পড়ে তিনি ফিরে যেতে চাইলেন। কিন্তু আমি তাঁকে অবতরণের নির্দেশ দিই। আমার নজরে এল, একটি পাকিস্তানি হেলিকপ্টার বার্মার পথে ঢাকা ছাড়ছে। বিমানবন্দরে ১৮টি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান টারমাকে সারিবদ্ধ, যা পরে শুনেছি গুলিবিদ্ধ বা অচল ছিল। প্রায় সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করি। সেখানে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদল এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া টিম আমাকে ঘিরে ধরে। সেখানে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হই।
প্রথম আলো: জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের কী ভূমিকা লক্ষ করেছিলেন?
জ্যাকব: জাতিসংঘের প্রতিনিধি মার্ক হেনরি ও জন কেলির সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো। তাঁরা আমার সঙ্গে থেকে সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণে এবং জাতিসংঘের তদারকিতে নিয়াজির যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখালেন। আমি তাঁদের বিনয়ের সঙ্গে ধন্যবাদ জানালাম। কথা বাড়ালাম না। আমার মনোভাবে তাঁরা অসন্তুষ্ট মনে হয়েছিল।
প্রথম আলো: বিমানবন্দরে নিয়াজির পক্ষের কাদের দেখলেন?
জ্যাকব: পাকিস্তানি ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার বকর সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটল। তাঁরা আমার জন্য একটি গাড়ি পাঠিয়েছিলেন। গাড়িতে বকর আমার সঙ্গী হলেন। তখনো কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সৈন্যদের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে গোলাগুলি চলছিল। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে কয়েক শ গজও যেতে পারিনি, আমাদের গাড়ি থামানো হলো। একদল মুক্তিবাহিনী আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ল। আমি গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নামলাম। চিৎকার করে বললাম, আমরা ভারতীয় সেনাবাহিনী। তারা আমার জলপাই রঙের উর্দি দেখতে পেল। গুলি বন্ধ করল। তারা পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ারকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আমি তাদের বললাম, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং জেনেভা কনভেনশন বলবৎ রয়েছে। সুতরাং তাদের উচিত গোলাগুলি থামানো। তারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাদের যেতে দিল। পরিহাস হচ্ছে, টাইম ম্যাগাজিনের সংবাদদাতা যিনি সেখানে ছিলেন, তিনি উল্লেখ করেছিলেন, আমি তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছিলাম। আমি বললাম, এমন তো কিছুই ঘটেনি। আমি যে গুলি করব, সে জন্য তো অস্ত্র লাগবে। আমার কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। ১২টার একটু পরে নিয়াজির সদর দপ্তরে আমরা পৌঁছালাম।
প্রথম আলো: সেখানে আপনি জেনারেল নাগরাকে দেখেছিলেন? তাঁর ভূমিকা কী ছিল?
জ্যাকব: মাত্র কিছুদিন আগে নাগরা নতুন দায়িত্ব পেয়েছিলেন। জামালপুরের যুদ্ধে জেনারেল গুর বক্স গিল আহত হলে জেনারেল নাগরা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। আমি দেখলাম, জেনারেল নাগরা একটি সোফায় বসে নিয়াজির সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ রসিকতায় লিপ্ত। নাগরা এর আগে পাকিস্তানে ভারতীয় হাইকমিশনে প্রতিরক্ষা অ্যাটাশের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সূত্রে নিয়াজির সঙ্গে তাঁর আলাপ ছিল। আমি নাগরাকে বাইরে ডেকে নিলাম এবং আমি তাঁকে তাঁর অবমাননাকর আচরণের জন্য ভর্ৎসনা করলাম। পরে জেনে আরও লজ্জিত হয়েছিলাম যে নাগরা ফরমান আলীর ব্যবহার করা একটি নতুন মার্সিডিজ গাড়ি সঙ্গে করে ভারতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠান সংগঠিত করতে আমি নাগরাকে দুটি চেয়ার, একটি টেবিল জোগাড় করতে এবং ঢাকা শহর বিমানবন্দর, ইন্টারকন্টিনেন্ট ল হোটেল ও একটি যৌথ গার্ড অব অনারের আয়োজন করতে বললাম। আমার শহরে পৌঁছার একটু আগে নাগরা তিনটি জিপে সাদা পতাকা উড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে মিরপুর থেকে নিয়াজির দপ্তরে পৌঁছেছিলেন। আমার ব্যবহারের জন্য আমি তাঁকে একটি জিপ দিতে বলেছিলাম। (চলবে)




Prothom Alo
Reply With Quote
  #53  
Old December 16, 2011, 12:13 AM
PoorFan PoorFan is offline
Moderator
 
Join Date: June 15, 2004
Location: Tokyo
Posts: 14,333


জেনারেল জ্যাকবের সাক্ষাৎকারের তৃতীয় ও শেষ কিস্তি আজ ছাপা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিজানুর রহমান খান।

জেনারেল জ্যাকব প্রথম আলোকে বলেন, ‘আত্মসমর্পণের জন্য কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, তার সবটাই ছিল আমার চিন্তাপ্রসূত। আমি দিল্লিতে যে খসড়া দলিল পাঠিয়েছিলাম, তার ভিত্তিতেই নিয়াজির সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছিলাম। চার ঘণ্টার মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতিকে রূপান্তর করা হয়েছিল প্রকাশ্য আত্মসমর্পণে। নিয়াজির আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা ছিল। হামুদুর রহমান কমিশনের সামনে নিয়াজিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি শুধু আত্মসমর্পণই নয়, তিনি এক লজ্জাজনক প্রকাশ্য আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে সম্মত হয়েছিলেন। এমনকি গার্ড অব অনার দিতেও তাঁকে রাজি হতে হয়েছিল।’
প্রথম আলো: ঢাকায় ওই সময় ১০ জন পাকিস্তানি সেনার বিপরীতে ঢাকার বাইরে মাত্র একজন ভারতীয় সেনা ছিল। সেটা আপনি নিয়াজিকে বুঝতে দেননি।
জেনারেল জ্যাকব: নিয়াজি সব সময় মুক্তিবাহিনীর হামলার ভয়ে শঙ্কিত ছিলেন। তাঁরা যখন আত্মসমর্পণে রাজি হচ্ছিলেন না, তখন একপর্যায়ে বললাম, এটা মানতে আপনাদের ৩০ মিনিট সময় দিলাম। এর মধ্যে যদি সিদ্ধান্ত না নিতে পারেন, তাহলে আমি পুনরায় যুদ্ধ শুরুর নির্দেশ দেব। ঢাকা সেনানিবাসে বোমা ফেলারও হুকুম দেব। এ কথা বলে আমি নিয়াজির কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলাম। এরপর আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। কারণ তখন আমার জানা ছিল না, আমার প্রস্তাব নিয়াজি নাকচ করলে আমি কী করব! তখন অরোরার এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছার কথা। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির সময় ফুরিয়ে আসতেও তখন আর বেশি বাকি নেই। আমি শুধু আশা করছিলাম, মানেকশর কাছে আমি যে খসড়া পাঠিয়েছিলাম, সেটাই যেন তিনি অনুমোদন করে নিয়ে আসেন। সেই বৈরী পরিস্থিতিতে আমি ছিলাম একা। বিবিসি এবং অন্য যারা ছিল, তারা ঘুরেফিরে আমাকে নানা প্রশ্ন করছিল। কিন্তু আমার কাছে উত্তর ছিল না।
প্রথম আলো: ওই ৩০ মিনিটে আপনি কী করেছিলেন?
জ্যাকব: আমি একজন পাকিস্তানি দ্বাররক্ষীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তাঁর ব্যক্তিগত ভালো-মন্দের খোঁজ নিয়েছিলাম। একপর্যায়ে তিনি কেঁদে ফেললেন। বললেন, তাঁর নিজের কর্মকর্তাদের কেউ তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন না। কিন্তু একজন ভারতীয় হয়ে তিনি তাঁর খোঁজখবর নিলেন। ৩০ মিনিট পর আমি কক্ষে ঢুকলাম, সেখানে তখন কবরের নিস্তব্ধতা।
কাগজটি টেবিলের ওপর পড়ে আছে। জেনারেল, আপনি কি এটা গ্রহণ করছেন? আমি তাঁকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করলাম, তিনি নীরব। আমি তাঁকে তৃতীয়বার একই প্রশ্ন করলাম, নিয়াজি নীরব। তখন আমি ছোঁ মেরে টেবিল থেকে কাগজটি তুলে নিলাম। গলার স্বর একটু উঁচু করে বললাম, আমি ধরে নিচ্ছি, আপনি এটা গ্রহণ করেছেন।
প্রথম আলো: নিয়াজি বলেছেন, আত্মসমর্পণ করাতে আপনি তাঁদের মুক্তিবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
জ্যাকব: একদম বাজে কথা। আত্মসমর্পণ না করলে তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছিলাম। এটা একটা চাপ ছিল। কিন্তু আমি বলিনি যে, তাঁদের হত্যার জন্য মুক্তিবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। আমি বলেছি, আমি দায়িত্ব নেব না।
প্রথম আলো: রেসকোর্সের ধারণাটি কী করে এল? নিয়াজির কী প্রতিক্রিয়া ছিল?
জ্যাকব: আমি চেয়েছিলাম, বাংলার জনগণকে তারা যে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও দুঃখ-কষ্ট দিয়েছে, তারা এর সাক্ষী থাকুক। আমি যখন বলেছিলাম, আত্মসমর্পণে আপনাদের সম্মতি আমি ধরে নিচ্ছি, তখন জেনারেলরা ঘোঁতঘাত শব্দ করলেন। আমি পুনরায় নিয়াজিকে একটু তফাতে ডাকলাম। বললাম, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হবে বাংলাদেশের জনগণের সামনে। রেসকোর্স ময়দানে এবং সেখানে তাঁকে তাঁর তরবারি সমর্পণ করতে হবে। তিনি জোরালোভাবে রেসকোর্সে যেতে আপত্তি তুললেন। নিয়াজি বললেন, আত্মসমর্পণ এখানেই হবে। আমি বললাম, আমি ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে ফেলেছি। এখন আর এটা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। শুনে তিনি বললেন, তাঁর কোনো তরবারি নেই। আমি বললাম, পিস্তল দিলেই চলবে। নিয়াজি তা-ই দিয়েছিলেন। অরোরার হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার সময় তাঁর চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল।
প্রথম আলো: সেই পিস্তলটি এখন কোথায়?
জ্যাকব: দেরাদুনে অবস্থিত ভারতীয় সামরিক একাডেমিতে।
প্রথম আলো: ওই অনুষ্ঠান কেমন হয়েছিল?
জ্যাকব: সাদামাটা অনুষ্ঠান ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। সইয়ের পরে নিয়াজি প্রায় গণপিটুনির শিকার হতে চলেছিলেন। আমরা তাঁকে আমাদের জিপে করে নিরাপদে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলাম। আমি তখন জেনারেল স্বাগত সিংকে নিয়ে বাকি পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় কলকাতার উদ্দেশে আগরতলা রওনা দিতে আমরা বিমানবন্দরে যাই। কলকাতায় যখন পৌঁছাই, তখন রাত ১০টা। রাত ১১টায় অফিসে গিয়ে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে বার্তা পাঠাই দিল্লিতে। তবে আমার বাসায় আমার জন্য তখনো এক বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। মধ্যরাতের কাছাকাছি আমি বাসায় গিয়ে দেখি, অপেক্ষা করছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক নিকোলাস টমালিন। তিনি ঢাকায় যেতে পারেননি। টমালিনের অনুরোধে আমি পুরো ঘটনা তাঁকে খুলে বলি।
প্রথম আলো: বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে নিয়ে ১৬ ডিসেম্বরে কী ঘটেছিল?
জ্যাকব: দুপুরের ভোজ শেষে নিয়াজির গাড়িতে চড়েই জেনারেল অরোরাকে অভ্যর্থনা জানাতে আমি বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। কারণ, নাগরা আমার জন্য কোনো জিপ রেখে যায়নি। পথে আমাদের গাড়িতে একদল মুক্তিযোদ্ধা লাফিয়ে উঠলেন। আমি তাঁদের অনুরোধ করলাম, যাতে আমাদের যেতে দেওয়া হয়। ঘুরপথে আমার নজরে এল, আমাদের দুজন ছত্রীসেনা একটি গাড়িতে করে টহল দিচ্ছে। আমি তাদের আমাদের গাড়ি অনুসরণ করতে বললাম। বেলা চারটা ১০ মিনিটে আমরা এয়ারফিল্ডে পৌঁছালাম। একটু পরই আমাদের মতোই জলপাই রঙের উর্দি পরা একজন এগিয়ে এলেন। তাঁর কাঁধে একজন ভারতীয় মেজর জেনারেলের ব্যাজ শোভা পাচ্ছে। তাঁর পেছনে দুজন সশস্ত্র ব্যক্তি। আমি তাঁকে বাঘা সিদ্দিকী হিসেবে শনাক্ত করি। এক ট্রাকবোঝাই মুক্তিবাহিনীও তাঁর পেছনে এল। তাঁর নেতৃত্বে থাকা ২০ হাজার যোদ্ধা টাঙ্গাইলে পাকিস্তানি সেনাদের হটাতে একটি বুলেটও খরচ করেনি। এমনকি ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে তিনি ঢাকা অভিমুখের যাত্রায় শামিল হননি। আমি বিপদের গন্ধ পেলাম। বুঝলাম, তিনি নিয়াজিকে হত্যা করতে এসেছেন। নিয়াজিকে তখন বাঁচিয়ে রাখতেই হবে, নইলে যে আত্মসমর্পণ ভেস্তে যাবে। তাঁকে হত্যা করা হলে আত্মসমর্পণ হতো না। আমি দুই ছত্রীসেনাকে বললাম সিদ্দিকীর দিকে রাইফেল তাক করে রাখতে। আমি প্রথমে বিনয়ের সঙ্গে তাঁকে যেতে বলি। তিনি তাতে সাড়া দেননি। আমি তখন চিৎকার করে তাঁকে এলাকা ত্যাগ করতে বলি। তিনি রাগ করে স্থান ত্যাগ করেন। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচি।
প্রথম আলো: একাত্তরের ভূমিকার জন্য আপনার স্বীকৃতি বিষয়ে বলুন।
জ্যাকব: ইহুদিদের প্রতি পাকিস্তানিদের কোনো প্রেম নেই। কিন্তু তাদের প্রতিরক্ষা কলেজের দলিল বলছে, ‘মূল কৃতিত্ব (১৬ ডিসেম্বরে বিজয়) স্পষ্টতই জ্যাকবের পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রস্তুতিকেই দিতে হবে।’
প্রথম আলো: ভারতের তরফে...
জ্যাকব: আমার প্রথম বই সারেন্ডার অ্যাট ঢাকা ১৯৯৭ সালে বেরোয়। তখন আমি মানেকশ ও অরোরাকে কপি দিয়েছিলাম। তাঁদের দ্বিমত করতে দেখিনি। পরে ইতিহাস লেখার জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি দল একটা দায়সারা সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। পরে শুনেছি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আমার বক্তব্য বাদ দিয়ে মানেকশর বয়ান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
প্রথম আলো: জনসমক্ষে ইতিহাসের প্রথম আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের রূপকার হিসেবে আপনি তাহলে যথাস্বীকৃতি পাননি।
জ্যাকব: না, আমি সেটা বলতে চাই না। একজন সৈনিক হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছিলাম। ওটা আমার চিন্তার বিষয় নয়। (শেষ)



Prothom Alo
Reply With Quote
  #54  
Old December 16, 2011, 07:08 AM
cricket_king's Avatar
cricket_king cricket_king is offline
Cricket Legend
 
Join Date: January 10, 2007
Location: Sydney, Australia
Posts: 5,269

I thank you guys for this thread. My mother often tells me about the war, and I kid you not, on every occasion there are tears in her eyes. My choto mama fought as a guerilla soldier, and my boro mama was to be killed as one of the "buddhi jibi", however he was in the U.S. at the time, and is now living here in Sydney, Australia.

My boro mama told me about a man who was a bihari, I think somewhere in the Narayanganj district (where my mother's side is from), who saved many, many lives in the region working as a simple neighbourhood guard. He'd travel from house to house, warning people if any Pakistani soldiers were approaching. He was a good man, and was apparently jumping around in joy on December 16th when independence was declared. The ridiculously sad part is, he was killed by our soldiers, who thought he was against us, on the same day. My boro mama cried quite a bit talking about.

I find it outrageous, that we killed this man, and let the razakars live. It sort of defines us as a nation really. I'm sure some of you have noticed that I'm extremely patriotic, and that's probably due to my upbringing, but when I look at the 40 years since independence, and the lack of patriotism and love for fellow Bangladeshis still hurts.
__________________
Learn from yesterday, live for today and hope for tomorrow

- Benjamin Franklin
Reply With Quote
  #55  
Old December 16, 2011, 01:52 PM
HereWeGo HereWeGo is offline
Cricket Legend
 
Join Date: March 7, 2006
Posts: 2,339

Not to forget the Brave Pakistani journalist Anthony Mascarenhas (he also later inteviewed the killers of Sheikh Mujib).

http://www.bbc.co.uk/news/world-asia-16207201
Reply With Quote
  #56  
Old December 16, 2011, 09:00 PM
Roni_uk's Avatar
Roni_uk Roni_uk is offline
Cricket Guru
 
Join Date: May 22, 2007
Location: Dhaka, London, Sydney
Favorite Player: Shakib, Nasir
Posts: 11,935

I only heard about these two heros today :/

Quote:
A 28-year-old French, Jean-Eugene Paul Kay, who took hijacked Karachi-bound Pakistan International Airlines flight at Orly airport demanding ransom of 20 tonnes of medicine and relief for the country’s people then staying in India  has been left out.

Belgian Mario Roymans, who stole a Vermeer masterpiece from the Palace of Fine Arts in Brussels in 1971, demanded 200 million Belgian francs for its return and asked the money be deposited for the benefit of the refugees from the war in East Pakistan (Bangladesh), has also been left out.
Source:
http://newagebd.com/newspaper1/frontpage/43657.html
Reply With Quote
  #57  
Old December 16, 2011, 10:15 PM
Neel Here's Avatar
Neel Here Neel Here is offline
Cricket Legend
 
Join Date: March 17, 2009
Favorite Player: Aravinda DeSilva, Lara
Posts: 2,765



Lt-Col (retd) Quazi Sajjad Ali Zahir, Bir Protik writes about Lance Naik Albert Ekka, 14th Battalion, Brigade of the Guards who lost his life while assaulting pakistani positions in Bangladesh. He received the Param Vir Chakra, India's highest gallantry award, one of 4 awarded in 1971.

http://week.manoramaonline.com/cgi-b...goryId=-167641
__________________
Anything can be sacrificed for truth,
nothing is too valuable to sacrifice truth instead.
-- Swami Vivekananda
Reply With Quote
  #58  
Old January 6, 2012, 04:24 PM
BANFAN's Avatar
BANFAN BANFAN is offline
Cricket Sage
 
Join Date: March 26, 2007
Favorite Player: Shak-Ash-Tam
Posts: 16,689

Quote:
Originally Posted by FagunerAgun
Where were the ME and other Muslim countries through our most difficult and important time?
My friend, forget about ME and OIC where was Ameria? We werent a member of OIC or a Islamic state and ME never championed for freedom & democracy. You must know what was americas position during the war.

Firstly, this war wasnt a freedom fight for Bngladeshis, for the rest of the world, it was a conflict between India and Pakistan. Where India was aligned with the Soviet Blocs and Pakistan was strongly aligned with USA & reluctantly to NATO. because despite Indias alignment with Soviet, they were able to maintain working relation with European NATO partners. And, Europe wasn't a US stooge in those days, like today.

Pakistan was an Islamic Country, member of OIC ... so ME and OIC was bounded by their charter to be aligned with Pakistan instead of India.

So under this political reality, i believe you can guess the positioning of the other countries of this world at that time and their role. And the sequence in which we received several recognition there after.

During the Mujibs rule, we were moving towards socialism with Bakshal and other things and our AWAMI leaders of that time used to visit Russia more often than any other country opf this world.

It was Ziaur Rahman, who started improving relatins with the Islamic world, joined the OIC, warmed up the Islamic world with his historical speach in OIC. The next OIC summit was held in Bangladesh for the first time and till now the last time. That ushered a new begining for Bangladesh with the Islamic world.

India, even today doesnt call it a war of Liberation for Bangladesh ... its officially "India Pak War 71". So, please dont go by rhetorics of todays world and jump on to make concludory comments about 71. Please know your history. There is no permanent friend or foe in this world. Some one who knows the fact and hides for benefit, is a bigger criminal than someone who doesnt know the fact and deprives you by mistake. Over the time, ME has benefitted us much much more than so called friends of the freedom fight, who even hijacked our biggest pride of winning the war.

[That was in short: if you have more questions, and reluctant to study, you may please ask, i will try my best. better than guessing according your current knowledge of world politics]
__________________
I'm with Shahbag for fair punishment of all war criminals. Im with Shahbag to stand for fair trials of all Corruption, all murders and social injustices occurred over last 40 years. I'm for a secular, corruption free & Just society in Bangladesh. Spirit of '71
Reply With Quote
  #59  
Old January 6, 2012, 04:55 PM
BANFAN's Avatar
BANFAN BANFAN is offline
Cricket Sage
 
Join Date: March 26, 2007
Favorite Player: Shak-Ash-Tam
Posts: 16,689

Quote:
Originally Posted by cricket_king
I thank you guys for this thread. My mother often tells me about the war, and I kid you not, on every occasion there are tears in her eyes. My choto mama fought as a guerilla soldier, and my boro mama was to be killed as one of the "buddhi jibi", however he was in the U.S. at the time, and is now living here in Sydney, Australia.

My boro mama told me about a man who was a bihari, I think somewhere in the Narayanganj district (where my mother's side is from), who saved many, many lives in the region working as a simple neighbourhood guard. He'd travel from house to house, warning people if any Pakistani soldiers were approaching. He was a good man, and was apparently jumping around in joy on December 16th when independence was declared. The ridiculously sad part is, he was killed by our soldiers, who thought he was against us, on the same day. My boro mama cried quite a bit talking about.

I find it outrageous, that we killed this man, and let the razakars live. It sort of defines us as a nation really. I'm sure some of you have noticed that I'm extremely patriotic, and that's probably due to my upbringing, but when I look at the 40 years since independence, and the lack of patriotism and love for fellow Bangladeshis still hurts.
i sympathize with you for this soul. But why the people of the area couldnt protect him from our own people, while he alone could protect all of the surviving people of the area? Did you ever ask this question to your uncles? Then you will get the real picture of our people.

I dont like to tell it, since you have more reliable sources to get the answer and that will convince you much faster than hearing that ugly story from me.

Many people ask, why we fail to respect the freedom fighters, but never think that why and how the freedom fighters lost their respect? I dont like to generalize, but some people have genuinely maintained their respect in his area by maintaining his morality after the war and some people are just victims due to those vast majority of FFs who are the cause of losing respect. Those FFs who are the reasons of losing FFs respect as a whole are also the reason for which we are still strugling as a nation.
__________________
I'm with Shahbag for fair punishment of all war criminals. Im with Shahbag to stand for fair trials of all Corruption, all murders and social injustices occurred over last 40 years. I'm for a secular, corruption free & Just society in Bangladesh. Spirit of '71
Reply With Quote
  #60  
Old January 7, 2012, 12:45 PM
Kabir's Avatar
Kabir Kabir is offline
Cricket Guru
 
Join Date: September 3, 2006
Location: Mississauga, Ontario
Favorite Player: Sakib - the real Tiger
Posts: 11,139

Quote:
Originally Posted by BANFAN
i sympathize with you for this soul. But why the people of the area couldnt protect him from our own people, while he alone could protect all of the surviving people of the area? Did you ever ask this question to your uncles? Then you will get the real picture of our people.

I dont like to tell it, since you have more reliable sources to get the answer and that will convince you much faster than hearing that ugly story from me.

Many people ask, why we fail to respect the freedom fighters, but never think that why and how the freedom fighters lost their respect? I dont like to generalize, but some people have genuinely maintained their respect in his area by maintaining his morality after the war and some people are just victims due to those vast majority of FFs who are the cause of losing respect. Those FFs who are the reasons of losing FFs respect as a whole are also the reason for which we are still strugling as a nation.

Or perhaps help anwer why a bihari man who had arranged and led mass protests against pak attack... was ultimately killed along with 4 other members of his family...a lawyer sonwho used to write bangla poetry, shot untail he stopped breathing in front of his own mother...then the mother herself...and then the seven year old son with his eleven year old daughter...all butchered...and all by our freedom fighters, in front of the whole village, all in the name of freedom and revenge...while the whole neighborhood didnt save any of them, but one best friend who was only 16 helped save the only one left to be butchered...

The only realistic answer i got was in themovie blood diamond. "Sometimes I wonder, will God ever forgive us for what we have done to each other...but I realized that God has left this place a long time ago".

I dont mind being hated for uttering this story...but i do mind when us as a whole nationality seek fairness and justice, when we ourselves failed to stand up for it.

The only likely answer i get to this
__________________
cricket is a PROCESS, not an EVENT or two. -- Sohel_NR
Fans need to stop DUI (Dreaming Under Influence)!
Reply With Quote
  #61  
Old January 9, 2012, 01:47 PM
mufi_02's Avatar
mufi_02 mufi_02 is offline
Cricket Legend
 
Join Date: August 2, 2011
Location: NY
Favorite Player: Lara, Shakib
Posts: 4,452

Quote:
Originally Posted by BANFAN
My friend, forget about ME and OIC where was Ameria? We werent a member of OIC or a Islamic state and ME never championed for freedom & democracy. You must know what was americas position during the war.

Firstly, this war wasnt a freedom fight for Bngladeshis, for the rest of the world, it was a conflict between India and Pakistan. Where India was aligned with the Soviet Blocs and Pakistan was strongly aligned with USA & reluctantly to NATO. because despite Indias alignment with Soviet, they were able to maintain working relation with European NATO partners. And, Europe wasn't a US stooge in those days, like today.

Pakistan was an Islamic Country, member of OIC ... so ME and OIC was bounded by their charter to be aligned with Pakistan instead of India.

So under this political reality, i believe you can guess the positioning of the other countries of this world at that time and their role. And the sequence in which we received several recognition there after.

During the Mujibs rule, we were moving towards socialism with Bakshal and other things and our AWAMI leaders of that time used to visit Russia more often than any other country opf this world.

It was Ziaur Rahman, who started improving relatins with the Islamic world, joined the OIC, warmed up the Islamic world with his historical speach in OIC. The next OIC summit was held in Bangladesh for the first time and till now the last time. That ushered a new begining for Bangladesh with the Islamic world.

India, even today doesnt call it a war of Liberation for Bangladesh ... its officially "India Pak War 71". So, please dont go by rhetorics of todays world and jump on to make concludory comments about 71. Please know your history. There is no permanent friend or foe in this world. Some one who knows the fact and hides for benefit, is a bigger criminal than someone who doesnt know the fact and deprives you by mistake. Over the time, ME has benefitted us much much more than so called friends of the freedom fight, who even hijacked our biggest pride of winning the war.

[That was in short: if you have more questions, and reluctant to study, you may please ask, i will try my best. better than guessing according your current knowledge of world politics]
Thanks for sharing all this historic information. I don't know much about our past history and most of my knowledge came from family members and friends.

If possible, can you explain more about Ziaur Rahman's historic speech at OIC. I have never heard anything about it. Thank You
Reply With Quote
  #62  
Old January 11, 2012, 02:43 PM
BANFAN's Avatar
BANFAN BANFAN is offline
Cricket Sage
 
Join Date: March 26, 2007
Favorite Player: Shak-Ash-Tam
Posts: 16,689

Quote:
Originally Posted by Kabir
Or perhaps help anwer why a bihari man who had arranged and led mass protests against pak attack... was ultimately killed along with 4 other members of his family...a lawyer sonwho used to write bangla poetry, shot untail he stopped breathing in front of his own mother...then the mother herself...and then the seven year old son with his eleven year old daughter...all butchered...and all by our freedom fighters, in front of the whole village, all in the name of freedom and revenge...while the whole neighborhood didnt save any of them, but one best friend who was only 16 helped save the only one left to be butchered...

The only realistic answer i got was in themovie blood diamond. "Sometimes I wonder, will God ever forgive us for what we have done to each other...but I realized that God has left this place a long time ago".

I dont mind being hated for uttering this story...but i do mind when us as a whole nationality seek fairness and justice, when we ourselves failed to stand up for it.

The only likely answer i get to this
Thanks Bhai, thats the point i was hinting at. You are absolutely right. We shout a lot of fairness but we have exceeded the level of brutality done by the pak army by many times. Well i can undrstand the emotions after the fight was over, but did that demand this level of brutality at the un armed people? it was insane and even the innocent unarmed Bangladeshis passed a period of nightmare.

I still shiver at the memory of some of those FF's brutalities i witnessed as a small child. And those were all after the war was over and with the people who surrendered, unarmed and their families. it wasnt simple killing ... much much more than that ...

To cut it short; Such events and the events following the indepence, was good enough for the FFs to lose respect so rapidly.
__________________
I'm with Shahbag for fair punishment of all war criminals. Im with Shahbag to stand for fair trials of all Corruption, all murders and social injustices occurred over last 40 years. I'm for a secular, corruption free & Just society in Bangladesh. Spirit of '71
Reply With Quote
Reply

Bookmarks


Currently Active Users Viewing This Thread: 1 (0 members and 1 guests)
 
Thread Tools
Display Modes

Posting Rules
You may not post new threads
You may not post replies
You may not post attachments
You may not edit your posts

BB code is On
Smilies are On
[IMG] code is On
HTML code is On



All times are GMT -5. The time now is 01:39 AM.


Powered by vBulletin® Version 3.8.7
Copyright ©2000 - 2014, vBulletin Solutions, Inc.
BanglaCricket.com
 

About Us | Contact Us | Privacy Policy | Partner Sites | Useful Links | Banners |

© BanglaCricket