BanglaCricket.com: Article


Tuesday, September 02, 2014
Updated: Monday, September 12, 2011
"From the Gallery" - BCB Challenge Cup 2011 Match Review

Ehsan Ahmed
 

Discuss Here »

বেশ সাদামাটা ভাবেই শুরু হলো সদ্য আলোচিত বিসিবি কাপ ২০১১-১২ । কথিত ২৬ লাখ টাকার বাজেটের তুলনায় উদ্ভোদনী পর্বটি যেকোন ব্যক্তিগত জন্মোৎসবকেও লজ্জা পাইয়ে দেবার মতো। খেলার মধ্য বিরতিতে আগত দর্শকদের উদ্দ্যেশ্যে কোনরুপ বক্তব্য না রেখে জনাকয়েক কর্মকর্তার একগুচ্ছু বেলুন উড়িয়েই দেয়ার মধ্য দিয়েই দায় সাড়া হলো উদ্ভোদন অনুষ্টান। আহামরি কোন ব্যানার ফেস্টুন চোখে পরেনি কোথাও।

খেলার প্রথমার্ধে জিপি বিসিবি একাডেমী দল ব্যাটিং এ নামে। কিন্তু দুদলের শক্তিপার্থক্যের পরিচয় দিতেই যেন একাডেমী দলের একের পর এক ব্যাটসম্যান সাঝঘরে ফিরতে থাকে। মুহুর্তেই দলের স্কোর দাঁড়ায় ৪৫ রানে ৪ উইকেট। এর জন্য দায়ী অবশ্য জাতীয় দলের পেসার শফিউল ও রুবেল। দুজনের মারাত্বক বোলিংএর তোপে প্রথম স্পেলেই ভেঙ্গে যায় একাডেমীর উদীয়মান ব্যাটিংস্তম্ভ। প্রথম স্পেলে দুইজনেরই দুটি করে উইকেট। এরপর ধ্বংসযজ্ঞে যোগ দেন সোহরাওয়ার্দি শুভ। তার এক ওভারেই তিনটি উইকেট পরে। হ্যাটট্রিকের সম্ভবনা জাগিয়ে তা অর্জনে ব্যর্থ হন যদিও। অন্যপ্রান্তে তাকে যোগ্য সমর্থকের পরিচয় দিয়ে একাধারে রান আটকিয়ে একটি মাত্র উইকেট তুলে নেন রাজ্জাক। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে এসে একাডেমী দলের স্কোর ৭৫ রানেই গুটিয়ে দেন রুবেল। তার ব্যাক্তিগত মুল্যায়নের খাতায় যোগ হয় ৪টি উইকেট।

ব্যাটিং এ চিরচেনা সেই তামিমময় শুরু। চার ছয়ে ভালই খেলছিলেন।কিন্তু অপর প্রান্তে ইমরুল কায়েস তেমন সুবিধা করতে পারছিলেননা। আলাউদ্দিন বাবুর বলে একবার সহজ ক্যাচ মিস করেন উইকেটকিপার। পরে একটি ব্যাটের খোচালাগা ক্যাচ আউটের আবেদন নাকচ করে দেন আম্পায়ার। অবশ্য অনেক সময় নিয়ে সেই আবেদনটি ওয়াইড সিগনাল দেন আম্পায়ার মনি! কিন্তু ঠিক পরের বলেই আউট হয়ে যান ইমরুল। ততক্ষনে তামিম খেলছিলেন তামিমের মতই কিন্তু আলাউদ্দিন বাবুর বলে একটি দুর্দান্ত চার হাকানোর পরের বলে আবার জোরে মারতে গিয়ে ইনসাইড এড্জ এ বোল্ড হয়ে যান। এর পর ছোট্ট ধস নামে জাতীয় দলের। তিন নম্বরে নামা নাফিস বেশিক্ষন টিকতে পারেননি, তাকে অনুসরন করে ৫ এ নামা শুভাগত হোমস রান আউট হয়ে যান। গ্যালারির দর্শক দুয়োদ্ধনি দিতে থাকে তখন। কিন্তু সতর্ক মুশফিক ও বিচক্ষন অলক কাপালি ধৈর্য্যের সাথে লড়াই করে যান। এসময় অলকের আত্ববিশ্বাসী ৬ ও ৪ দর্শকদের আনন্দ দেয়। এভাবেই সহজেই জিতে নেন বিসিবি কাপের প্রথম ম্যাচটি। ম্যাচে আরেকটি রঙ্গাত্বক বিষয় ছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের পানি টানা। দর্শক এনিয়ে কিছুটা হাসাহাসি, তামাশা করেন।

একাডেমী দলের ব্যাটিং ব্যার্থতা চরম ভাবে ভাবিয়ে তুলছে দেশের ভবিস্যত ক্রিকেট মানের। তন্মধ্যে একমাত্র আলাউদ্দিন বাবু তার সুনিয়ন্ত্রিত বোলিং দ্বারা কিছুটা মান বজায় রাখতে সক্ষম হন।

সহজ জয় হলেও দুর্বল দলের বিপক্ষেও জাতীয় দলের ব্যাটিং এর চিরচেনা সেই ধসের পুনাবৃত্তি প্রশ্নের উদ্বেগ করছে। টার্গেট যদি ১৫০ বা ২০০+ হতো তাহলে বাকি ব্যাটসম্যানের কিভাবে ৫৪/৪ থেকে জয় অর্জন সম্ভব হতো? জাতীয় দলের ব্যাটিং এর সময় সাইডলাইনের কাছে থাকা একাডেমির কোচের সাথে আলোচনারত কোচ স্টুয়ার্ট ল-কে নিশ্চয় ভাবিয়ে তুলবে এ দিকটি। 

কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন চলছে কে হবেন জাতীয় দলের নতুন অধিনায়ক। অনেক নামের মধ্যে উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিমের নামটি আলোচনার শীর্ষে। এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে তার অধিনায়কত্বের ড্রেস রিহার্স্যাল হলো যেন কিছুটা। দলের জয় এবং সফলভাবে বোলার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রহিম এ পরীক্ষায় উতরে গেছে বলা যায়। এছাড়া ব্যাটিংএ ধ্বসের বিপরীতে উইকেট আগলে রেখে দায়িত্বশীল অধিনায়কময় ব্যাটিং নির্ভরতার উধাহরন রেখেছেন তিনি। এছাড়া সহ অধিনায়ক হিসেবে বোলারদের নিয়মিত উৎসাহ দিতে দেখা গেছে আব্দুর রাজ্জাককেও।

প্রথমেই যেটা নিয়ে কথা হচ্ছিল। লাখ টাকার এই গুরুত্বপুর্ন প্রতিযোগিতাও কেন এত উদাসীনতায় নিমজ্জিত? শুধুমাত্র খেলা উন্মুক্ত করে দিলেই হল? আইপিএল যেখানে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে প্রচারেই প্রসার বাড়ে সেখানে ক্রিকেটদর্শকদের নিরুতসাহিত করা কি যুক্তিযুক্ত হচ্ছে? বিসিবি যদি দেশীয় ক্রিকেটের বিভিন্ন উপায়ে প্রসার না ঘটায় তাহলে আর কে করবে? দর্শকদের জন্য কোন প্রকার সাউন্ড সিস্টেম সুবিধা ছিলনা। আজকাল পাড়ামহল্লার ছেলেরাও সামান্য টাকা দিয়ে ভালো মানের ডিজে তথা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিনোদন মাধ্যম ব্যবস্থা করে ফেলে, সেখানে এই ধরনের ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দর্শক বিনোদনের ব্যাপারটি আরো খেয়াল করার প্রয়োজন ছিল।